নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে
কবি রুন্না ভাওয়াল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবি রুন্না ভাওয়াল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৯

চিরন্তন আলো

আলো দেখলে ভয় হয়,গা শিউরায়;
আলোর প্রহেলিকায় বিমর্ষ হয়ে যাই।
আলোর রঙীন গোলকধাঁধার চক্রব‍্যূহে-
প্রতিনিয়ত সমাপ্তির সমান্তরালে পৌঁছাই।
এই তো সেদিন আলোর লোভে-
এক বুক পাহাড় নিয়ে সূর্যের কাছে গেছিলাম।
সূর্য একরাশ উষ্ণতা ছুড়ে দিল!
গা ঝলসে সমুদ্রের শীতলতায় স্নান করলাম।
কিন্তু সমুদ্রের আলোয় অন্তরালের আঘাত!
কী ভীষণ কষ্টদায়ক! ক্ষয়ে গেল আমার শরীর।
পরে আঁকিবুকি পথে গেলাম:গাছের সাথে দেখা;
গাছ বলল-তোমায় আমি প্রাণ দেব।
গাছের আলোর লোভে ধীরে ধীরে পা বাড়ালাম:
বুঝতেই পারিনি বুকের ভিতর শিকড় গজাচ্ছে।
হৃৎপিণ্ড ফুঁড়ে উঠল এক অজানা বিষবৃক্ষ!
কই সে তো আমায় আলো দেয় না!
সে তো ছায়া দেয়,সেই ছায়া যে অন্ধকারে
আমার শরীরে নিমেষে মুখ লুকোয়।
বরং ফিরে যাই সেই আলো ঝলমলে অতীতে!
যেথায় রয়েছে প্রকৃতির রচিত নিষ্কলুষ কাব‍্য,
সেথায় সাদামাটায় নাকি চিরন্তন লুকিয়ে থাকে!

                            -রুন্না ভাওয়াল


                      অপ্রকাশিত খুশি

খুশির রক্তিমাভার অগোছালো রূপ আছে
স্বাভাবিক নিশ্চল পথে পরিস্ফুটন কম হয়,
আবহমানকালে তাঁর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ভাসে;
বিবর্ণ আনন্দগুলো নীলাভ নিস্ক্রিয় হয়।
শ‍্যাওলার স‍্যাঁতস‍্যাঁতে জমা জলে যখন-
পাট গুলো স্বয়ংক্রিয় ভাবে পচে ওঠে!
আমি খুশির উষ্ণতা দেখতে পাই তাঁর মুখে।
পিতৃ পরিচয়হীন মেয়েটা যখন টিউশন পড়িয়ে-
একটা মোটা কাপড় ওই অবৈধনীর গায়ে জড়িয়ে দেয়!
চিলেকোঠার কোনঠাসা 'মা'র মুখে খুশি দেখি।
একলা আকাশে নিস্প্রভ চাঁদ কামুক হয়ে ওঠে;
হঠাৎই যখন পারিপার্শ্বিক 'তারা'দের সমাগম হয়-
'খুশি'টা আমি তার দীপ্তির ঝলকে দেখতে পাই।
বাঞ্ছিত খুশি গুলো বঞ্চিত না হওয়াই থাক।
মিশে যাক অন্তরের 'অপ্রকাশিত খুশি'।

                        -রুন্না ভাওয়াল।

সোমবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৯

সীমন্তিনী
                          -রুন্না ভাওয়াল
এক কাপ চা হাতে বারান্দায় এলাম,
সূর্যের লাল আভাটাও যেন গনগনে মনে হচ্ছে।
তাতে অস্বস্তি বোধটা খুব একটাও বাড়ল না!
গরম কাপের ছ্যাঁকাটাও যেন গায়ে লাগলো না।
ততক্ষণে আবোল তাবোল চিন্তা ভাবনারা রাজত্ব করছে।
আমি কিন্তু রানী বা রাজকুমারী নই। কেবলই নর্তকী!
এখনো মনে আছে সেই দিনের কথা...
যেদিন বিকেলে রামধনু উঠেছিল আকাশছোঁয়া;
তখনও আমার সীমন্তিনী হওয়ার ইচ্ছে জাঁকিয়ে বসেনি।
জলসায় ঘুঙুর বেঁধে নাচতাম বইকী!
দ্বিধাবোধ গুলোকে মুষড়ে সিন্দুকে ভরে রাখতাম।
আর মন্ত্রী তুমি? তুমি তো আমার বাবার মতো ছিলে...
সেই তুমি আমায় নিংড়ে শুষে নিতে।
পারলে হয়তো দাঁত দিয়ে আমার শরিরটাও ছেঁড়ো!
কায়ক্লেশে দিনের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে হঠাৎ...
বাহমানী রাজ্য আক্রমণ করলো;
তারপর ঠিক কী যে হল মনেই আসছে না।
নিজেকে পেলাম সিন্দুকে,যেখানে দ্বিধা গুলো গুটিশুটি মেরে ছিল।
দেখলাম এক কাপুরুষ সবার আড়ালে আমায় নিতে এসেছে!
সে-ই তো আমায় সীমন্তিনী হওয়ার ইচ্ছে জোগালো।
ঠিক আমাদের বিয়ের দিন: সে নেই!
ওরা যজ্ঞে ওর হাড় গুলো আহুতি দিল।
আমার পায়ে বেজে উঠল তাঁর সুপুরুষ হওয়ার ছন্দ।
সীমন্তিনী?সীমন্তিনী?.........
হঠাৎ দেখি মা ডাকছে গা-য়ে হাত দিয়ে!
বুঝলাম, ঘুঙুরের বিষবৃক্ষ পুঁতে ছিলো সীমন্তিনী।

সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০১৯

Google issue



কবি রুন্না ভাওয়াল ১৫ জুলাই ১৯৯৮ সালে বর্ধমান জেলার বেলেরহাটের যঙ্গেশ্বরপুর নামে এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা শ্রী প্রদীপ ভাওয়াল,মাতা শ্রীমতি কাজল ভাওয়াল।
লেখার জগতে আসা মা ও প্রিয় বান্ধবীর হাত ধরে। লেখার হাতে খড়ি তাঁর বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক আব্দুল বারুন মহাশয়ের কাছ থেকে। লেখাকে জীবনের একটি অন্যতম অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন ২০১৩ সাল থেকে। লেখিকার কাছে লেখা অন্ধকার কে আলোর গন্ধে মাতিয়ে তোলা।পাশাপাশি আঁকাও চলে। এখন এম এ (ইংরেজি) এর প্রথম বর্ষের ছাত্রী।