নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে
দুজন কলম একসাথে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দুজন কলম একসাথে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৮ মার্চ, ২০১৯

দুজন কলম একসাথে


| অজ্ঞাতবাসী প্রেম |

গভীর থেকে গভীরতম শোকে,
মজ্জায় মজ্জায় শিরায় শিরায় তুমি আমার।
রক্তশুন্য প্রায় শরীরের ব্লাডসেল ভেঙ্গে―
আজ সেখানে তুমি নামের কোষপ্রাচীর।
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ইতিহাস তুলে এনে
সিন্ধু সভ্যতার প্রাচীন প্রাচুর্য তোমার বুকে গেঁথেছি।
ধ্বংস চাইনি আমি, চাইনি ইউরেকা,জ্বলন্ত ফসফরাস।
ভুট্টার ক্ষেতে তিনশোবার হাঁটলেই ভালোবাসা হবে;
এমনটা কখনও ভাবনায় নেই তা তুমি জানো।
চিল্কার গর্ভে অগ্নুৎপাত কখনো যদি হয়;
সবার আগে আমি তোমায় নিয়ে ঝাঁপ দেবো।
তলিয়ে যেতে যেতে মাইলপথ জড়িয়ে ধরে কাঁদবো ভীষণ।
কেউ তো নেই পিছে। কেউ না। অজ্ঞাতবাসী প্রেম।
এসো চাদরে মুখ ঢেকে বন্দি জানালার বাইরে এসো।
কথা দেওয়ার পরেও যে কথা রাখা সম্ভব হয়নি
তাই পূরণের দাবি জানিয়ে ছিনিয়ে নাও অধিকার।
তদিদং হৃদয়ং তব স্তুতিবাক্যেই যে নিবিড় শান্তি আমাদের।

                         -- দিব্যেন্দু হালদার





প্রত্যুত্তরে লিখেছে ----

সেই সুদূর সুমেরু থেকে কুমেরু,
আস্ত একটা পৃথিবী তোমার নামে লিখে দিইনি আমি ...
শুধু দিনের শুরুতে ভোরের গন্ধ থেকে রাতের নির্জনতা ;
রঙিন ক্যালেণ্ডারের বছর মাস দিনের হিসেবের বাইরে
প্রতিটা সেকেণ্ড তোমার নামে লিখেছি ।
ধমনী জুড়ে রক্ত লসিকায় তোমায় মিশিয়েছি
মিশিয়েছি ক্রমশ সারা লোমকূপ জুড়ে ।
সেদিনের সেই স্টেশন চত্বর জানে তোমার-আমার কথা ...
যেখানে আদিম বর্বরতার মতো কোনো খিদে জমে নেই
দুচোখ ভর্তি ঠাসা বারুদ নেই,
ওই দুচোখে চিলেকোঠা ভর্তি ভরসার নিবিড় আশ্রয় দেখেছি ।
হিমবাহের মতো প্রেম গলে গেলে ক্রমে
আলেয়ার ফসফরাস জ্বলে উঠেও নিভে যায় রাতারাতি ...

         -- ঈপ্সিতা অধিকারী

দুজন কলম একসাথে


কবিতা - তাহাদের গাথা

১..  বর্ণালী মুখার্জী

কি লিখবো কবি?
সুচারু প্রস্তাবে
এসেছে বসন্তদিন
            পল্লবহীন
পলাশের ডাল
প্রবালে তোলপাড়।
দূরে একা চাঁদ
আবিল জোছনা
কবি ,তার কথা
কখনও ভাবো না।
মেয়েটি জেনেছে।

মেয়ে মানে নদী
বসতি অবধি
ঢেউ ভাঙে রোজ
ঝিনুকের খোঁজ
তুমিও করেছো?

২.. নিলয় নন্দী

মেয়ে মানে নদী
চাঁদ নির্বাসন
বিপন্নতা দিগন্ত অবধি।

কবি তো ভবঘুরে
নিবিড় যোগাযোগ
বালি তো ডুবে যায়
ঢেউ ও ভাঙে রোজ।

মেয়েটি জেনেছে
প্রবাল এপিটাফ
কবিও লিখে চলে
চিঠি বা প্রস্তাব

নদীর নাম সুবর্ণ
কবির নাম অন্তরীপ

সব মায়াই কি প্রপঞ্চ?

৩.. বর্ণালী মুখার্জী           

কি লিখবো কবি!
আজ
দোসরা ফাল্গুন?
অথবা তেসরা
সরে যায় দিন
স্তিমিত আগুন,
শেষ শীতে কারা
জ্বালিয়েছে পুঁজি
তোমাকেই খুঁজি
ফিরে গেল কারা?
আজ কি দোসরা??

৪.. নিলয় নন্দী

ফিরে গেছে তারা
কবিতা প্রহরা
তারিখ উদাসীন
আজই দোসরা?

এভাবে চিরায়ত
নদী বা মেঘদল
কবি ও ছুঁয়ে যায়
কবিতা সম্বল।

দুজন কলম একসাথে


""সেই তুমি""
               -অতনু মন্দাকিনী হালদার,
               

যা কিছু আমার ছিলো,যা কিছু আপন
একেবারে ব্যক্তিগত মৃগয়া ভূমি,
যা কিছু আমার আছে, যা কিছু আলো
তুমি সেই- "সেই তুমি"!
সেই তুমি,
কোনো এক ধ্রুবতারার নীলাভ সুখস্বপ্ন
যা দেখেছিলাম একদিন
রক্তে ভেজা গোলাপে শুয়ে ৷
সেই তুমি,
কোনো এক বালিশ ভেজা কান্না
চার দেওয়ালের ঘেরাটোপে
যা ভিজিয়েছিলো বিবাগী আবেগ ৷




হ্যা-"সেই আমি"!
------------বনানী পাল
সেই আমি,
তোমার অন্তরাত্মার অন্তর্যামী,
সেই আমি,
যে সমস্ত জগৎ পিছনে ফেলে
আঁড়াই হাত মাটির তলায়
ঘর বাঁধতে রাজি-"শুধু তোমার সাথে"!
"শুধু তোমায় ভালোবেসে"!
সেই আমি,
সরল,মায়াবী,জ্যোৎস্না স্নাত,
একান্ত তোমার !
শুধুই তোমার "লীনা"!!'

দুজন কলম একসাথে


ভালোবাসার ব্যবচ্ছেদ
***********

ভালোবাসার মৃত্যু হয় না/
 পাপিয়া মণ্ডল
 ‎------
একদিন  অবজ্ঞায় ফিরিয়েছিলে ভালোবাসাকে।
তোমার দেমাকি মন, মুছেছিল তার  সব রঙ।
ভেবেছিলে সব শেষ করছো খুব সহজেই,
ভালোবাসার মায়াজাল  বাঁধতেও পারে নি তোমায়!

কিন্তু, কোন এক একলা দুপুরে কিংবা নিদ্রাহীন রাতে
গোধূলি -রঙা, দুফোঁটা অশ্রু আলটপকা ঝরে পড়বে,
তোমার কোঁচকানে গালে উষ্ণতার পরশ ছুঁইয়ে।
তখন বুঝবে তুমি, "ভালোবাসার মৃত্যু হয় না!"
                       
     
     


     

কে বলে ভালোবাসার মৃত্যু হয় না?/
      ‎শ্রাবণী নায়েক
      ‎-------

     ‎আমি রাস্তার ধারে ভালোবাসার লাশ পড়ে থাকতে দেখেছি,
দেখেছি নিথর শরীর, আধখোলা চোখ ;
উর্দ্ধে স্থির।
অগণিত মাছির শোক জ্ঞাপন,
পিঁপড়ের ভোজসভা পচা লাশ ঘিরে।
নেই কোনো ফুল সাজানো গাড়ি, মালা, চন্দন, নেই ক্রন্দন, নেই স্তব্ধতা,
নেই অন্তেষ্টিক্রিয়ার বাহার।
হয়তো অনিবার্য পরিণতি তার,
ঠাঁই পায় প্রকৃতির অন্দরে ; নিশ্চুপ, নীরবে।
অমরতার আশির্বাদ মিথ্যা হয়ে যায়,
বিশ্বাসহীন খঞ্জরের তীব্র আঘাতে।
মৃত্যুর কোলে শায়িত হয় ভালোবাসা।

ওই দিকে,
জয়ের দামামা বাজে উৎসবের আবেশে,
ফুল, চন্দন বর্ষিত হয়-
অপ্রেমের আঁতুড় ঘরে।                       ‎

দুজন কলম একসাথে


1.
নীল খাম
~~আঁখি সরকার রাই
তুমি বলনি ভালোবাসো,
এই চোখের নীচে কতো তুমি জমেছে?
না বলা কথাগুলো তোমায় ছুঁতে
বন্দি হবার নীল খামে কতো বার গেছে?
যদি ভালোই বাসবে না
কেন চোঁখের কোণে জল দেখে তুমিও কেঁদেছো মিছে,
তোমার কি ইচ্ছে করে নি!
এই বুকে জমানো স্বপ্নগুলোকে আঁকি নীল খামের পিছে?
সফেদ জোৎস্নার ঢেউয়ে ভাঙা পূর্ণিমা
দেখে কি আমার কথা পরে না মনে?
প্রিয়ার উষ্ণ পরশে জুড়ছো নতুন ভাবে-
সেই উতলা নেই যেন সুপ্ত হৃদয় কোণে?
নীল খামের সেই চিঠি'টা বুঝি আছে পরে
ডাক বাক্সে বেনামী,
ইচ্ছে করলে বাক্সটা ভেঙে,
সেই নীল খামে আঁকা স্বপ্ন গুলো পড়ে নিও তুমি।






ফ্লাস
জয়দেব মহন্ত
তুমি তাই ভবো?
দেখো নি কি ,এই চোখের দিকে চেয়ে;
বিকেলের নিকেল কতোটা জড়ো করেছি
ঠিকানায় শুধু শুন্য রেখেছি ছেয়ে?
তোমার জন্য কতো জ্যোৎস্না মুঠো করে
দেবো বলে নক্ষত্র পতনে পা রাখি বারবার;
মার কাছে রাজকুমারীর গল্পোচ্ছলে তোমাকে বলেছি
না! আঁকাতে পারি না,তুলিও যে প্রেমিক তোমার।
তাই মনেই রেখেছি ছায়ানট হয়ে
বৃহস্পতি গন্ধ গা ছম ছম করলে
মোম থেকে সব নীল তুলে নিয়েছি।
শুধু এই চোখের কোণে কাজল আঁকবো বলে
তোমার ঠোঁট বেয়ে যে হাসি নামে তা স্বপ্নে আটকে রাখবো বলেই বৈষ্ণবী বিকেলে তুলসী রেখেছি।

তুমি ব্লক করলেও বাবার একাউন্ট থেকে
তোমার ওই হাসি খুঁজি রোজ ঘুমোনোর আগে
তবুও এই বেয়ারা হবার নেশা
তোমায় পেতে পথ পেড়িয়ে পথের পিছন ভাগে।