নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে
কবি বিকাস দাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবি বিকাস দাস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২০ মে, ২০১৯

ঈশ্বরের সাক্ষাৎ
বিকাশ দাস (বিল্টু
(03-05-19)

ঈশ্বরের কথা শুনে বড্ড ছ্যাত  করে উঠে বুকটা
ফেনীতে বাড়ি ছিল,গোছালো সংসার
ফনীতে মিলিয়ে গেলো মুখাবয়ব......
ঈশ্বরের মুখ রুগ্ন, উদাসী চোখ পরিজন খোঁজে.....

প্রাণচঞ্চল ঈশ্বর হারিয়া খেয়ে উদ্দাম নাচে ছুটে আসে মধু গরানের দেশে
অভিমান ফুঁসলিয়ে উঠে, তান্ডব লীলায় খৈ হয় ত্রাণ তহবিলের গুদামে.....

ঈশ্বর তো অবলা, নির্ভেজাল।
ভেজাল হারিয়া খাইয়ে উদ্দাম নাচ দেখতে -- এনাউন্সমেন্ট শুনতে কি বেশ লাগে?
নীরব আর্তনাদ দেখনি? দেখনি ঈশ্বরের সারা শরীরে যখন কেমিকেলের আস্তরণ দিয়ে ওর বুকের ক্ষত দূর করো...

তখন কি অসহায় হয়ে তাকিয়ে ছিলো তোমার আমার মুখের দিকে
করুণ চোখ জলে টলমল করছিলো
শুনিনি কেউ, অবহেলা !

আজ অবাক লাগে বাস্তবের মাটিতে ঈশ্বরকে কাঁদতে দেখে --

বাস্তবে আজ দেখি :

জানালার ও পাশে ঈশ্বর ঘুমায় -খিড়কি দিয়ে ঈশ্বরের গান আসে --
ঈশ্বর হাত বাড়িয়ে দু টাকা চায়
"ঈশ্বর" ডাকি জপে-তপে; ঈশ্বরের মুখে শুন্যতা -

প্ল্যাটফর্মে  আমি আর ঈশ্বর মুখোমুখি
ঈশ্বর কথা বলে আমার সাথে
আমি  ঈশ্বরকে  ডাকি
ঈশ্বর বড়োই পথভোলা, মিলিয়ে গেলো ভিড়ে.....

       

শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৯

ইমাজিনেশন যখন ইলুউশন
বিকাশ দাস (বিল্টু )
(18-04-19)

ইমাজিনেশন য্খন ইলুউশন  হয় তখনি পেইন্টিং হয় দার্শনিক ভাবধারার

ভাবের বহিঃপ্রকাশ হয় পোড়খাওয়া  রাজনৈতিক বিশ্লেষকের, সাহসিকতা এভারেস্ট বিজয়ী বাচেন্দ্রি  পালের

কলমের আঁচড়গুলো  বুকের ভিতরের আবদ্ধ পিঞ্জরায় বিঁধতে থাকে, দংশনে দংশিত বিষ হজম করে বেরিয়ে আসে অবয়ব, কিংবা মানসরুপী মূর্তি, ভাসতে থাকে মূর্তমান  এক বাস্তব ও বীভৎস  রূপী

কথার বুলেট কিংবা প্রতিশ্রুতির বন্যা বিঁধে গাণ্ডীব তীরের ফলার ন্যায়, শিহরিত কানের স্নায়ুর সাথে চোখের যোগ সূত্র !

 চোখে ঝাপসা  প্রতিচ্ছবি আঁকে ,ইমাজিনেশন  এর কথা আসতেই আবার ইলুউশন হওয়ার ভয়ে বুকটা আর্তনাদ করে কাচ ভাঙার বেদনায়

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমার আমি কে প্রশ্ন করতেই দুচোখে বন্যার জল গড়িয়ে আসে, আয়না দেখে  ফেলে এই ভয়ে আয়নাকে  বলেই দেই  আমি আমার বেশ

মুচকি হেসে আয়না বুঝে নেয় হৃদয়তীরের শোকানল
কি যে খেলা খেলছে তা শুধু মন আর মনেই জানে.....
       

                     ##c@biltu@##
সম্পর্কের ইতিকথা
বিকাশ দাস (বিল্টু )
(12-04-19)

হাড়গুলি কি আজও আছে? তা তো চৈত্রের  এক দাবদাহ  দিনে ক্যালসিয়াম শেষে ছাই !

পাললিক  শিলার জীবাশ্মে  আমি হাড়  খুঁজি, খুঁজে বের করি একটি  একটি হাড়ের মধ্যে রয়েছে কেমন আমার নিখাদ সম্পর্ক !
আর অস্থি  মজ্জায় লেপ্টে থাকা ডিএনএ তে আমার  ভালোবাসার পরশ কতটুকু

কার্বন  ডেটিং প্রয়োগ করে হারিয়ে যাওয়া মানুষের সম্পর্ক খুঁজি

সম্পর্কে  কি একবন্ধন আছে? আমার তো দ্বিবন্ধন.... তবুও সাধারণ হাইড্রোজেন

মাটিতে তো ছাই , বিয়োজিত  জৈব সারে হাড় গুলিও মাটি, আমার দেহের মাটি খনন করলেও পাই শুধুই ছাই

সম্পর্কের বন্ধনের স্নেহলতা  সেখানেই লুকিয়ে?

একটি  কালো কয়লা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে গভীর সম্পর্কের সমুদ্রের তলদেশ থেকে পান্নাগুলো মনের অলঙ্কার হয়ে সম্পর্কের বুদ্ বুদ্ কে ফুটিয়ে তোলে আর উষ্ণপ্রস্রবণ জল আরও ফুটতে থাকে

বিনিদ্র রাতে চোখে কালশিটে  দাগের পরেও
আমার সম্পর্কের ইতি টানতে পারিনি

হয়তবা সম্ভবও নয়.....এ যে নিবিড় সম্পর্ক

             

শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৯

গল্প (06)
 মিলনসুখ
বিকাশ দাস (বিল্টু )
(11-04-19)


রগচটা স্বভাবটা আর গেলো না তিন্নির ।কথায় কথায় রেগে যাওয়া ।আরে বাবা এটার নাম কি জীবন? সকাল বিকাল সন্ধ্যা নেই, রাত নেই শুধুই কাজ আর কাজ ।নিজের আর কি আলাদা জগৎ থাকতে পারে না? আর পাঁচ সাতটা মেয়ের মতোই ওরও তো সাধ জাগে চুল টা ভালো করে বেঁধে, ঠোঁটে একটা হালকা লিপস্টিক মেখে বেরিয়ে আসা কোথা থেকে ।
   এই তো সেদিনও না ভবেশ আর তার স্ত্রীকে দেখলাম কত সুন্দর ওরা সিনেমা দেখে ফিরছে ।সত্যি জীবনটা কত সুন্দর ওদের ।আর আমার বেলাই ঈশ্বর শুধুই ছক বাঁধা গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে রেখেছেন ।
   তিন্নি বিবাহিতা, বেশ কিছুদিন হলো স্বামীর সাথে বনিবনা নেই।তাই শহরের পাশেই ফ্ল্যাটে থাকে একা। একটা অফিসে কাজ নিয়েছে ।তাই ছুটি খুব কম মেলে ।মনটাও তাই রগচটা ।
ফোনটা বেজে উঠলো তিন্নির --
"আবারও বিরক্ত, আর ভালো লাগেনা ।"
হ্যা ,হ্যালো, কে? তিন্নি কিছুটা কর্কশ হয়েই বললো ।
অনেকক্ষণ চুপ। ও পাশ থেকে কোনো সাড়া নেই ।তিন্নি রেগে ফোনটা কেটে দেয়। এই ফাঁকে রাগে গজগজ করে বলতে থাকে ,"মানুষও পারে যতসব ।কথা তো বল বাবা! তা না, চুপ ।ভনিতা পেয়েছে আমায় ।সার্কাস পেয়েছে ।"
বাথরুম থেকে ফিরে এসে দেখলো স্ক্রিনের আলোটা জ্বলে আছে.... মেসেজ ।সুমনের মেসেজ ।হ্যা সুমনের সাথেই তন্নীর বিয়ে হয়েছিল ।সুমন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার কিন্তু হঠাৎ তাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয় দুজন দুজকে সন্দেহ কড়া শুরু করলো। আদতে দুজনের মধ্যেই তেমন কিছুই হয়নি ,ইচ্ছে করলেই মেঠাতে পারতো। কিন্তু কে কার কাছে ছোটো হবে ?
  মেসেজটা এক ঝলক দেখে তন্নী আবার রেগে গজগজ করে বলতে লাগলো," ইস !কি সাধ বাবুর মেসেজ করেছেন,উনি ক্ষমা চাইছেন। যত সব! না বাবা ।আর না !"
    "উত্তর দাও প্লিজ! "
         কিছুক্ষন পরে আরও মেসেজ
   
   "না আর পাড়া যায় না.. কি করবো উত্তর দিবো? "তিন্নি ভাবতে লাগলো ।
না থাক, বরং অফ থাকুক ফোন ।
  কয়েকদিন হলো আর যোগাযোগ নেই ।সুমন খুব ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। বাধ্য হয়ে তন্নীর অফিসে গিয়ে খবর নিলাম।
  " তন্নী তো অফিস আসছেনা দাদা ।"
   "  তন্নীর ঠিকানাটা দিন তো "-তন্নীর অফিসে গিয়ে ঠিকানাটা সংগ্রহ করলো সুমন ।
বিকেলেই বেরিয়ে পড়লো তন্নীর ঠিকানায় ।
ঘরের কলিং বেল বেজে উঠলো ।আবারও বেল দিল সুমন ।
  "বাবু কাকে চান?"
   তন্নীর ফাইফরমাশ খাটার জন্য বয়স্ক একটা লোক সুমনকে জিজ্ঞাসা করলো ।
"আমি তন্নীর ---"
 " ও বুঝেছি ।আসলে তন্নী ম্যাডাম সব বলেছেন ।
একটা কথা বলছি বেয়াদপি মনে করবেন না ।
আসলে উপরে যতটা খারাপ ও কিন্ত ততটা নয় ,ভিতের ভিতরে ঘুমরে মরে ।জানেন সেদিনও পায়েস রেঁধে খুব কেঁদেছিলো ।আর জানেন আপনাদের বিবাহবার্ষিকী পালন করলো ,কি দিয়ে জানেন? আপনার ফোটো দিয়ে --"
সুমনের চোখ জলে ভরে গেল ।
"কোথায় তন্নী?"
   কদিন থেকে ম্যাডাম খুব অসুস্থ ,আর শুনলাম বুকের ব্যথাটাও খুব বেড়েছে সাথে খুব কাশি ।শুয়ে আছেন ভিতরে ।
"আমি গেলে খারাপ পাবেনাতো? "
 " এই ভোলা কার সাথে কথা বলছিস রে? "..উপর থেকেতন্নীর গলা ।
    --না ম্যাডাম ।
    হু
বলতে বলতে সামনের দিকে আসল তন্নি ।এ যে সুমন! প্ৰথমে খুব রাগ হয়েছিল পরে ভাবলো বেশ তো ভালোই হলো, আমি যে আর বাচবনা সেটা বলেই যাই....
   তিন্নির চোখ জলে টলমল করছে ।কি করবে না করবে কিছুই ভাবতে পারছিলো ।না খুব কষ্ট করে বললো
    "এসো ভিতরে ।"
   তন্নী --
আমি সব শুনেছি ভোলার কাছে ।সব ভুল আমার। আমায় ক্ষমা করে দিও প্লিজ। আর ভুল বুঝবনা প্রমিজ ,খুব কষ্ট হয়েছে জানো আমারও। দম বন্ধ হয়ে আসছিলো ,প্লিজ আর একবার আপন করে নাও --
খুব দেরি হয়ে গেছে মনে হয় সুমন ।আমার যে খুব অসুখ...
কিচ্ছু হবে না তোমার ।আমি আছি না ?
তিন্নিকে জড়িয়ে ধরে সুমন অঝোরে কাঁদতে লাগলো ।
এই সুখের স্মৃতির ভাগিদার হয়ে ভোলারও চোখে জল এসে গেলো ।


         ##@c@biltu@##

বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৯

বেচারা ফেস্টুন
বিকাশ দাস (বিল্টু )
(01-04-19)

ফেস্টুন  আজ গুলি খায়, ফেস্টুন পাথর খায়

গলির মোড়ে, লটারি কাউন্টারে পাশে বড়ো বড়ো লেখা ফেস্টুনের গায়ে ভোট দিন, ভোট দিন....
চোখ তো পড়বেই, পড়বেই বা না  কেন? চোখ তো আছে চোখের উপরে চোখ

ফেস্টুন বৃষ্টিতে ভিজে, লেখা আবছায়া হয়ে প্রতীক বিবর্ন  হয়, মাটিতে মিশে অজৈব উপাদানের তকমা জোটে

বসির বিছানায় হিসু করে, ছোট ছেলে ।বৃষ্টি খুব। তোষক স্যাঁতস্যাতে --
বসিররের উলঙ্গ শরীর ফেস্টুনের  উপরে

মাথা গোঁজার স্থান যাও ছিল তাও নিলো কেড়ে কালবৈশাখীর  ঝরে
নেতাদের প্রতিশ্রুতিতে জল তো বিশুর ঘরে পড়ে না ? বিশু মিছিলে যায়, লাইনে দাঁড়ায়...
নেতা মন্ত্রী হয়ে বস্ত্রদান  শিবিরের  ভাষণ দেয়, ট্রিপলটা  খুব ফুটো আর চলেনা....

বসির হাঁটতে পারে, কথা বলে

বসির ভাষণ শোনে, ফেস্টুন দেখে, নেতার ছবিটা অনেক বড়ো
ওটা যদি ঘরের ছাদ হতো !

ফেস্টুনের কি রমরমা, লোহার বেড়িতে আবৃত
তবুও ফেস্টুন পাথর খায়,আঠাতে  লেপ্টে থেকে চোখ রাঙানি দেখে

   

সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০১৯

Google issue


কবি বিকাশ দাসের (বিল্টু ) জন্ম কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা মহকুমার প্রান্তিক গ্রামে বোচাগাড়ীতে ৩'রা এপ্রিল ১৯৯৪ সালে।
পিতা স্বর্গীয় নরেশ চন্দ্র দাস, মাতা প্রিয়বালা দাস।
শিবপুর হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ২০০৯ সালে, উচ্চমাধ্যমিক মাথাভাঙ্গা হাই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০১১ সালে  ।আর্থিক অনটনের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং এ চান্স পাওয়া সত্ত্বেও মাথাভাঙ্গা কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ২০১৪ সালে।কবির লেখা লেখির অনুপ্রেরণা বাস্তবকে দেখে নিজের প্রতি উপলব্ধি হয়ে। এখন গৃহ শিক্ষকতার সাথে  যুক্ত । এর সাথে নিয়মিত অনলাইন অফলাইন পত্র পত্রিকায় লেখা লেখি এবং মানসাই নিউজের "সাহিত্য বিভাগের "সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি ।

যোগাযোগ:

নাম :বিকাশ দাস (বিল্টু )
গ্রাম :বোচাগাড়ী
পো :শিবপুর
থানা :মাথাভাঙ্গা
জেলা :কোচবিহার
পিন :736172
মোবাইল :7478971395
ইমেইল :biltu03041994@gmail.com