নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে
যে বসন্ত কখনো আসেনি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
যে বসন্ত কখনো আসেনি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯

কবিতা



 আজ ও ধরা আছে 
  চৈতালী রায়

তোমার আর আমার মাঝে সম্পর্কের যে সেতুটা ঝুলছিল
খুব অনায়াসেই তার বিনিময়ে একটা গোটা নদী কেনা যেত। 
আমাদের তৈরি করা শব্দের হাত ধরে আমরা পৌঁছে গেছিলাম 
শব্দের শেষ নীলিমায় নীল হয়ে যাওয়া তলে। 
তুমি হৃদয়ে ঠুসে ভরেছিলে বারুদ 
আমার ছিল আবেগ, উচ্ছ্বাস, ভালোবাসা। 
কাঁচের স্বচ্ছ দেওয়ালে শ্যাওলা জমেছিল 
উত্তাল ঢেউয়ে বিকৃত কীটপতঙ্গ। 
চোরা স্রোতে তোমার হৃদয়ে অসুখ বেঁধেছিল ক্ষয়ে যাওয়ার
পায়ের পাতায় ক্লান্তির গাঁথুনি। 
একটার পর একটা দেওয়াল আমি ভাঙছিলাম 
তোমার কাছে আরও কাছে পৌঁছানোর জন্য। 
নৈকট্য কিংবা নৈঃশব্দ্য যতবার ছুঁতে গেছি অবলীলায় হাত বাড়িয়ে 
সামনের থেকে সরে গিয়ে সেগুলো রাস্তার দু'পাশে ভিড় করেছিল। 
তোমার বিপন্ন, অস্থির মানসিকতায় 
কাঁচের দেওয়াল ভেঙে খান খান হয়েছে। 
নৈঃশব্দ্য আজও ধরা আছে 
তোমার আর আমার ঠিক মাঝখানটিতে

শুক্রবার, ২২ মার্চ, ২০১৯

এখানে বসন্ত নীল

হিরেফুল কানের লতিতে, রাধিকার কদম ভূষণ !
কলাপাতা শাড়িটির পাড় ছুঁয়ে – তিরতিরে নদী। মোহনবাঁশিটি হাতে নীল ছেলে, বাঁধের ওপর
ডাক দিলে ;
ভেসে যাবো আজও !
গুঁড়ো ঢেউ চাঁদের আলোয়,
সাঁতারু স্বপ্ন খেলে যায় ―

যে বসন্ত আসেনি কখনো,
তার নীল রাতমোহনায়...

পারমিতা ভট্টাচার্য ।

রাত্রির তলপেটে
উজান উপাধ্যায়

আমার বৃষ্টির কাছে দাঁড়িও না এসে
আমার দুঃখের কাছে হাঁটু মুড়ে বসোনা কিছুতে
আমার কবরের পাশে বসে তোমার দুচোখে জল এলে
পাক্কা মরে যাবো

মেঘেদের শরীর খুব বেশি খারাপ হলেও
হাওয়াদের ভিতরে গাছের ঋতুস্রাবে
যদি খুব তৃষ্ণার্ত হয় কবরের উপরে ছড়ানো শুকনো অলিভ

যদি খুব বেশি সবুজের ছোঁয়া লেগে ছটফট করে ওঠে শ্মশানের ছাই

নগরের ল্যাম্পপোস্ট বেয়ে রাত্রির তলপেটে গড়িয়েছে কামুক নিয়ন, খুব বেশি নেশাতুর
হয়োনা তখনও

বৃষ্টির খুব কাছে দাঁড়িও না যেন
ঘাসের উপরে নীল সাঁকো বেঁধে
যদি ভাবো ফিরিয়ে আনবে নকল তাজমহল

খবরদার আসলটায় বাদামের খোসা, পুরনো চিঠির খোপকাটা ঘর, উল কাঁটা-
তোমার সমস্ত ভুল আর একটি সিগারেট
তোমার সমস্ত প্রতিজ্ঞা আর নগ্নতার গোপন ফটোগ্রাফ
এদের বেমালুম হাইড্রেনে ফেলে আসবার কথা
ঘোড়সওয়ার রাত্রির কাছে বলতে যেওনা

এখন চুপটি করে নিজেকে স্নান করিয়ে
চন্দন গন্ধ মেখেছো হৃদয়ে

এবার নিশ্চিত দেখো
তোমার বোতাম গুলো পটপট করে খুলে যাচ্ছে

দূরে সঙ্গমের চোখ খোলা আছে নাগরিক একটি রূপসী মেয়ের টসটসে পাহাড়ি মুদ্রায়

মরে যেতে গেলে নাও মানতে পারো
ওপরের একটি নিয়মও


#প্রেম_অপ্রেম
#নম্রতা_নাহা

রূপকথার চিরায়ত সুখে থাকাথেকে

রবিঠাকুরের ছোটো গল্প বেঁয়ে

মন হঠাৎ উদাস যখন

শেষের কবিতার অমিত, লাবণ্যতে.....

ঠিক তখনি প্রেম আসে

সরস্বতী পুজোর প্যান্ডেলে অঞ্জলীর ফাঁকে.....

প্রেম তখন ফ্রক পরা ত্রয়োদশীরমন কাঁপায়....

প্রেম তখন গোলাপি জ্যাকেটে গ্রীসিয়ান ছাঁদের পাড়াতুতো দাদায়,

প্রেম তখন নিছকই মোহময় কিছু ভাবাবেগ

হঠাৎ এসে হঠাৎই চলে যাওয়া যেন শরতের মেঘ,

তারপর ...... আসে সেই কাব্যময় সন্ধ্যে ,

প্রেম এসে দাঁড়ায় লজ্জ্যাহীন

বলে ওঠে তোমার মতো কেউ চোখে পরে নি কোনোদিন

.......আর তারপর ...

আবারও আসে প্রেম পাগল হাওয়ায় দ্বিধাহীন

ওলোট পালট উথাল পাথাল আনন্দময় নিত্যদিন

......সেরমই সে চলেও যায় দীর্ণ হৃদয় ছাওয়া দীর্ঘশ্বাসের ভার ফেলে

প্রেম যেন তখন পাখি , সুদূর আকাশে দেয় ডানা মেলে ...

প্রেম আসে যায় .....নিরুচ্চার তার ভঙ্গি

পথের বাঁকে খুঁজে নেয় পথ চলার সঙ্গী

কখনো প্রেম হাত ধরে হাঁটে নন্দন চত্বরে ...

কখনো গঙ্গার পাড়ে হাওয়া খায় হঠাৎ পাওয়া অবকাশে ..

একই আইসক্রিমে কামড় বসিয়ে আপ্লুত প্রেম বলে ওঠে

“তোমায় দিলাম আমার হৃদয় ”

সেই প্রেমই হাত ছাড়ায় ভীষণ রকম নির্দ্দ্বিধায় ....

প্রেম এরপর ঘরণী হয়ে গড়ে তোলে সংসার ,

বানিয়ে দেয় টিফিন, খুঁজে দেয় রুমাল, বুনে দেয় সোয়েটার...

হাসি, গল্পেই কেটে যায় কিছু দিন ...

ঝগড়া, খুনসুটিতে, প্রেম তখন অনেকটাই সাবলীল

সেই প্রেমও এসে দাঁড়ায় মাসের হিসেবের খাতায়

একই শয্যায় রাত্রি যাপন, কিছু চাওয়া কিছু না পাওয়ায়....

প্রেম তবু চিরায়ত ...এটাই সত্যি

খুঁজতে যেয়ো না তার সত্বা..দেখবে সবটাই অপ্রেমে ভর্তি ...

প্রেমে ভালো থেকো, ভালো রেখো.....সেটাই পরিশেষ

সেটাই বেঁচে থাকা

ভাবো না কেন ?

এই তো আছি বেশ !


অবনী
স্নেহা সরকার
পাহারে এখন শীত কাঁথা মুড়ি দিয়ে মিশে গেছে পাইন বনের ধারে,,, তোমার জন্য নুন জলের স্রোত আমি গুনে রেখেছিলাম ঝড়নার কাছ থেকে ধার করে।,,, বছর ২ এক আগে বসন্তে সিথি রাঙিয়ে দেওয়া আবির এর লাল কালচে ডগায় মুছে গিয়েছে।। পাহারে এখন রোদ্দুর আসার সময় কুয়াশার পাশে মুখ রাখলে তোমাকে আবার  করে মনে করতে ইচ্ছে করে,,
অরনি,,
ভোর বেলার কুরিয়ে দেওয়া পলাশ ফুলের মালাটা খুজে পেয়েছি গতো রাত্রে।।  তুমি চলে যাওয়ার পর ওটা তুলে রেখেছিলাম আজ যেনো তা বসন্তবিলাপ হয়ে ওঠে অভ্যন্তরীণ চাহিদার মতোন।। প্রিয় মানুষের ফেলে যাওয়া স্মৃতি গুলোকে পুড়িয়ে ফেলতে পারলেও চোখের সামনে দিয়ে ছুড়ে ফেলতে কেউ পারেনা।।
পাহারি মেয়ে গুলোর হাত ধরে বসন্তের বিহু আমায় নাচিছে,  কোকিল এর কলরব কিংম্বা, পাহারের গায়ে নুয়ে পরা রোদ্দুর আমি প্রেমে পড়েছিলাম বার বার।।
তবুও জানো
অরনি,,
তোমার মতো করে এমন ভালো কেউ বাসেনি।
তাই হয়তো ছেড়ে যাওয়ার পরে আমার মনে বসন্ত আর আসেনি।।
কাব্যিক হোরিখেলা
জয়দীপ রায়
দূর দেশ হয়ে ফিরে আসা
মেঘ গুলোর বুক চিরে
এক আলসেমি রোদ জেঁকে বসেছে
বহু দিনের আড়ি করে দেওয়া সিঁড়িটার বুকে

এক বিস্তীর্ন ব্যবধান মুছে যাওয়া রঙ
কেঁদে ওঠা মাঝরাতের আয়না
তোমার মনে পড়ে রোদ
মনে পড়ে রঙ যে আমার বারন
নিষেধ সিঁড়ি গুলোতে চড়া
দোতারার সুরে পা মেলাবে সকাল
একলা দুপুর খু্ঁজবে তখন ঘর
খুঁজে নেবে রঙ পৃষ্ঠা নম্বর ঘেঁটে
থাকবে মাঝে রঙ রাঙিয়ে যাওয়া আকাশ
খুঁজে নেবো রঙিন পাঞ্জাবীটাও
কাব্যিক হোরিখেলায়।