নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে
কবি শিল্পা মন্ডল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবি শিল্পা মন্ডল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০১৯

মনখারাপি মেঘ//

আকাশটা কেমন থমকে আছে দেখো।
সারা সময় বৃষ্টি মাখছে গা'য় ।
জ্বরে যখন পুড়বে শরীরখানা
ধরতে ঠিক আসবে কবির পা'য়।

মনখারাপি দু-এক ফোঁটা
আমার কপাল ছুঁয়ে বুকের ওপর গড়িয়ে পড়বে।
রবিরশ্মি নিস্তেজ তবুও রুক্ষ লাগবে দুপুরটা।
আর অভিমানে ভাঙবো-গড়বো নিজেকে।

সকাল গড়িয়ে দুপুর
                                দুপুর থেকে বিকাল,
লাল আভাময় আকাশজুড়ে
সন্ধ্যে নামার তাড়া লাগবে।

অদ্ভুতভাবে আকাশের সেই জ্বরটা ছড়িয়ে পড়বে মনের ভেতর,
বাড়তে থাকবে অভিমান।
কেন??
সে বোঝেনি বলে তাই?
কি জানি।
হয়তো...

একাজে ওকাজে ব্যস্ত হবো
এক প্রকার জোরবশত বলতে পারো।
স্তব্ধ তবুও মনখারাপি ঘড়ি,
কাটতেই চাইবে না ব্যর্থ মুহূর্ত।

আকাশের কোল জুড়ে থোকা থোকা মেঘ যেমন
তার জন্যে প্রেমের বৃষ্টি ঝরায়,
আমিও তেমন অপেক্ষা সাজাবো,
অপেক্ষা করবো আসবে কখন সে,
অপেক্ষা করবো ভালোবাসবে কখন সে।
অপেক্ষা করবো।।

                                          ____শিল্পা মণ্ডল

(গুগল ইস্যু)
[30/07, 21:05] shilpa mandal. jholfhoring: //গোপন প্রেম//

অভিমানে অভিমানে সরে যাবো বহুদূরে,
চায়লেও পাবে না তখন তোমার প্রেমের সুরে।

চাইনি তো এত্ত আদর, রাশি রাশি ভালোবাসা,
চাইনি কখনো তোমার জমিয়ে রাখা গুচ্ছ সময়,
শুধু একটু,
কেবল একটু মনে কোরো প্রিয়
খোঁজ নেওয়াতে টুকরো মুহূর্ত কোরো ব্যয়।

কি চাই বলো ছোট্ট মন আরেকটি মনের থেকে!
দূরে থেকেও কাজের মাঝে যাতে একটু মনে রাখে।
পারবে না কো রাখতে মনে!
পারবে না কো বাসতে এমন!
তোমার বুকে উঠলে ঝড়, আমারও যে হয় মন কেমন।
কতটুকু বোঝ তুমি! না বোঝারই সংখ্যা বেশি,
ভাসবো না জেনেও আমি চুপিচুপি ভালোবাসি।
সময়ের কাঁটা ধরে ভিক্টোরিয়ার প্রাঙ্গণে
বা গঙ্গার ধারে হেঁটে বেড়ানোর অঙ্গীকার করিনি,
তবুও ফাঁকা রাস্তা হোক কিংবা সে কল্লোলিনী কলকাতা,
বলো কোথায় তোমায় মনে রাখিনি!!
তবুও বোঝ না। খোঁজো না প্রেম চোখের মাঝে,
তোমার আমার রাগ-অভিমান বুকের মধ্যে বড্ড বাজে।
আর না হয় নাহি বা বললাম "ভালোবাসি"
"ভালোবাসি"।
স্বপ্নতে না হয় হাঁটবো দুজন হাত ধরে
পাশাপাশি।।
     
                                             ____শিল্পা মণ্ডল

বুধবার, ৫ জুন, ২০১৯

//আমি এখনও সেই অভিমানী//

আমাদের সম্পর্কটা ছিল এক্কেবারে আলাদা,
হয়তো বা অনেকের মতই কিন্তু আমার চোখে একেবারেই আলাদা।
যাকে এককথায় বলতাম, না দেখেও এতোটা ভালোবাসা যায়!
কেউ কিভাবে পারে এত ভালোবাসতে!
পড়ন্ত এক বিকেল বেলায় সেই যেদিন হাতে হাত রেখে বলেছিলে,
"ভালোবাসো"
আমি একটু যেন অবাকই হয়েছিলাম,
তারপর সেই খোলা হাওয়ায়,একলা প্রান্তরে
অবনমিত মুখেই বলে উঠেছিলাম, "আমিও"
তারপর কত দিনের অপেক্ষা...
আমাদের সম্পর্কটা ছিল এক অপেক্ষার সম্পর্ক,
আসবে আসবে করেও অনেকটা দিন পেরিয়ে যেত,
দীর্ঘ বিকেলগুলো আর কাটতেই চাইতো না,
তবুও দূর থেকেই অনুভব করতাম তোমায়,
একসাথে কাটানো সময়গুলোকে বার বার মনে করতাম,
আর এভাবেই আমার মধ্যে বেঁচে থাকতে
তুমি, তোমার ভালোবাসা,আমাদের ভালোবাসা।
রোজ রোজ নতুন করে প্রেমে পড়তাম,
নতুন এক তুমিকে খুঁজে পেতাম,
তবে অভিমানও হতো খুব,
কিন্তু অভিমানগুলো কত্ত সহজে তোমার গলার স্বরে গলে যেত, আমি বুঝতেই পারতাম না।
ভেবেছিলাম দীর্ঘ এই অপেক্ষার অবসান ঘটবে কোনও একদিন,
আর ঘটেও ছিল শীঘ্রই।
তবে, এই দীর্ঘ অপেক্ষার বিকেলগুলোর মতো
ফিকে হয়েছিল সেই পুরনো প্রেম,
সেই পুরনো তুমি!
প্রথমে ভ্রম বলেই মনে হয়েছিল,
কিন্তু পরে মনে হলো না সবটাই সত্যি।
পরিমাণ বাড়ল সবকিছুর,দেখা করার,কথা বলার
আর কড়াপাকের ঝগড়ার..
অভিমানগুলোও কেমন যেন জেদী হয়ে গেল,
তোমার গলার স্বরে কিছুতেই ভুলতে চায়লো না আর,
নতুন করে চিনতে শেখালো তোমায়।
তবুও নিজেকে বোঝাতাম, একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে,
সময়কেও দিয়ে ছিলাম অনেকটা সময়,
কিন্তু তারাও কেমন যেন অচেনা অতিথির মত ধরা দিল না,
দিনের সাথে যত ঠিক ছিল সব ভুল হতে লাগল,
চেনা মানুষকে খুঁজে পেলাম অচেনার গাম্ভীর্যে।
যে তুমিটা ভীষণভাবে আপন ছিলে,
যে তুমিটা প্রত্যেকবার দূর থেকেই এই হাতে হাত রেখেছিলে,
যে তুমিটা মান ভাঙাতে গলার স্বরে আদর করে,
যে তুমিটা বেধে ছিলে পাশে থাকার অঙ্গীকারে,
সেই তুমি অচেনা হয়ে গেলে, কেমন করে যেন বদলে গেলে,
দূর থেকেই যাকে বুঝতাম, বুঝিনা আজ তার কাছে এলে।
তারপর একদিন শেষ সিদ্ধান্তটা নিয়েই নিয়েছিলে,
একবার জানতেও চায়লে না আমি কি চাই?
আর মনের মধ্যে চরম অভিমান পুষে,
আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে
অনেক দূরে চলে গেলে,
যেখান থেকে চায়লেও আর ফেরা যায় না কোনোদিন,
যদিও তুমি চাইবে না জানি,
তোমার সুখ আজ মধ্যগগনে,
আমি এখনও সেই অভিমানী...

                                  শিল্পা মণ্ডল





//মুক্তি//

ভালোবেসে শিকল দেবে না বলেছিলে,
শুধু আলগা সুতোয় বেঁধে রাখবে,
আমি যখন গোটা আকাশ ঘুরে এসে ক্লান্ত হব, শ্রান্ত হব,
আদর দিয়ে সব ক্লান্তি মুছে দেবে।
আর যদি না ফিরে আসি সে প্রশ্নও রেখেছিলাম,
বলেছিলে_
আলগা বাঁধন খুলে স্বাধীনতা দেবে,
দূর থেকেই ভালোবাসবে,
বড়ো প্রেম শুধু কাছে টানে না, দূরেও করে!!
আচ্ছা,
তবে এই যাওয়ার কালে কেন এত পিছু ডাকো?
পুরনো সেই ডাকনামে কেন শুধু বেঁধে রাখো?
আজকে কেন আপন স্বার্থে পাল্টে গেছে ভালোবাসা?
এসব বুঝি কথার কথা, বাহানা মনের কাছে আসার?
     
                                                __শিল্পা মন্ডল





কেউ কোনোদিন আমারে তো কথা দিল না..//

কোনো লেকের ধার কিংবা সেই যে ভিক্টোরিয়ার প্রাঙ্গন
বা ধরো পড়ন্ত বিকেল বেলায় নির্জন কোনো রাস্তা,
না, আমাদের দেখা হওয়ার সাক্ষী হবে না আর এরা।
আসলে ওগুলো সব কল্পনার জগৎ, আমি বাঁচি বাস্তবে।
ঘেমো জামা, রুক্ষ চুল, শুকনো মুখ, আর অফিস ফিরতি সেই তুমি,
ওয়াচের কাঁটায় ট্রেন ধরার তাড়া লেগে,
হঠাৎ চোখ পড়ল,
এনামেল করা কালো দুটি চোখের ওপর,

মাঝে আটটা বছরের খরা,

গঙ্গা, যমুনা কিংবা ভাগীরথী কিছুই চোখে বয়ে যাবে না,
না, বুকের ভিতরটাও হঠাৎ করে প্লাবিত হবে না,
শুধু ওষ্ঠে ফুটবে জুঁই, চাঁপা কিংবা সূর্যমুখী,
তুমি মুখ ফিরিয়ে চলে যেতে চাইলেও
আমি লজ্জার ভূষণ ত্যাগ করে তোমার কাছে এগিয়ে যাব,
যে সহজে কুমারীত্বের ভূষণ ছাড়তে পারে
তার কাছে এটা নেহাত কিছু নয়,
"কেমন আছো? কি করো এখন? বিয়ে করলে কবে?"
__এসব প্রশ্ন করে বিব্রত করব না,
শুধু বলবো, "আমি ভালো আছি, খুব ভালো। জানো,
তোমার দেখা সেই অযোগ্য মেয়েটার কাঁধে আজ একটা গোটা বাড়ির দায়িত্ব,
তিন ভাই থাকা সত্ত্বেও বাবা-মা তার কাছেই থাকে,
শুধু বাড়ি না সমাজেও সে একজন প্রতিষ্ঠিত নারী।"
তুমি কিছুই জানতে চাওনি হয়তো,
তবুও আমি জোর করেই জানাবো,
কারণ, সবার সব প্রাপ্তির পিছনে অনেকেরই ভূমিকা থাকে,
আর আমার জীবনে সেই ভূমিকা একমাত্র তোমার,
সেদিন যদি অযোগ্য বলে আমাকে ফিরিয়ে না দিতে জানতেই পারতাম না আমিও আমি হতে পারি।
উত্তরের অপেক্ষা না করেই ফিরে যাব বিপরীতে স্রোতে,
লোকাল ট্রেনের কু-ঝিক-ঝিক শব্দে হারিয়ে যাবে সেই দেখা হওয়ার গল্প,
দূর থেকে ভেসে আসবে পুরনো গানের কলি-
"কেউ কোনদিন আমারে তো কথা দিল না,
বিনিসুতার মালাখানি গাঁথা হইলো না..."
     
                                         _শিল্পা মন্ডল




ভালোবাসা কি এতটাই সুন্দর হয়?//

দু চোখের পাতায় ঘুম নামেনি তার,
জেগে কাটিয়েছে সে সারারাত,
এতদিন যার ছবি কল্পনায় এঁকেছে,
তাকে নিজের হাতে স্পর্শ করবে,
অতল স্পর্শে  ভিজিয়ে দেবে তার শরীর-মন,
ছিটিয়ে দেবে গভীর ভালোবাসার আতর।
ভেবে কেমন মনটা ফুরফুরিয়ে উঠল,
হয়তো ভালোবাসার অনুভূতি এমনটাই হয়।
চাঁদটাকে আজ আশ্চর্য সুন্দর লাগছে,
এমনভাবে তো কোনোদিন তার আলো গায়ে এসে পড়েনি।
রাত্রির অন্ধকারে একটা গন্ধ  ছড়িয়ে আছে,
ভাবতে ভাবতেই ঘড়িতে কাটল রাত,
এইতো বেশ কয়েকবার পাখিদের শব্দ শোনা গেল,
তাহলে নিশ্চয় ভোরের আলো ফুটেছে বাইরে,
কোনদিন সে ভোর দেখেনি।
ভোরের বাতাস কেমন হয় তার অপরিচিত,
গল্পে বহুবার পড়েছে তবে অনুভব করেনি কোনদিন।
এ যেন এক আশ্চর্য অনুভুতি!
নিজের অপছন্দসই কাজগুলো কেমন সুন্দর হয়ে যাচ্ছে।

ওই দূরের আকাশ তার চিরপরিচিত,
কিন্তু এমন গাঢ়তা এমন গভীরতা সে কোনদিনও খুঁজে পায়নি,
এই আলো তার ভালোবাসার মতই স্নিগ্ধ, কিন্তু কই আগে তো চোখ পড়েনি ঐদিকে,
তবে আজকে কেন গোটা পৃথিবীটা হঠাৎ করে এত সুন্দর হয়ে গেল!
সবকিছুতে কেমন একটা মাদকতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে,
মনটাকে বসন্তের রঙের মতই যেন ছড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে,
তবে কি ভালোবাসা এতটাই সুন্দর হয়?
প্রেমের পৃথিবী এমনই মুগ্ধ হয়?

                                               ___শিল্পা মন্ডল

রবিবার, ১২ মে, ২০১৯

//মুক্তি//

ভালোবেসে শিকল দেবে না বলেছিলে,
শুধু আলগা সুতোয় বেঁধে রাখবে,
আমি যখন গোটা আকাশ ঘুরে এসে ক্লান্ত হব, শ্রান্ত হব,
আদর দিয়ে সব ক্লান্তি মুছে দেবে।
আর যদি না ফিরে আসি সে প্রশ্নও রেখেছিলাম,
বলেছিলে_
আলগা বাঁধন খুলে স্বাধীনতা দেবে,
দূর থেকেই ভালোবাসবে,
বড়ো প্রেম শুধু কাছে টানে না, দূরেও করে!!
আচ্ছা,
তবে এই যাওয়ার কালে কেন এত পিছু ডাকো?
পুরনো সেই ডাকনামে কেন শুধু বেঁধে রাখো?
আজকে কেন আপন স্বার্থে পাল্টে গেছে ভালোবাসা?
এসব বুঝি কথার কথা, বাহানা মনের কাছে আসার?
     
                                                __শিল্পা মন্ডল

সোমবার, ৬ মে, ২০১৯

//আমি এখনও সেই অভিমানী//

আমাদের সম্পর্কটা ছিল এক্কেবারে আলাদা,
হয়তো বা অনেকের মতই কিন্তু আমার চোখে একেবারেই আলাদা।
যাকে এককথায় বলতাম, না দেখেও এতোটা ভালোবাসা যায়!
কেউ কিভাবে পারে এত ভালোবাসতে!
পড়ন্ত এক বিকেল বেলায় সেই যেদিন হাতে হাত রেখে বলেছিলে,
"ভালোবাসো"
আমি একটু যেন অবাকই হয়েছিলাম,
তারপর সেই খোলা হাওয়ায়,একলা প্রান্তরে
অবনমিত মুখেই বলে উঠেছিলাম, "আমিও"
তারপর কত দিনের অপেক্ষা...
আমাদের সম্পর্কটা ছিল এক অপেক্ষার সম্পর্ক,
আসবে আসবে করেও অনেকটা দিন পেরিয়ে যেত,
দীর্ঘ বিকেলগুলো আর কাটতেই চাইতো না,
তবুও দূর থেকেই অনুভব করতাম তোমায়,
একসাথে কাটানো সময়গুলোকে বার বার মনে করতাম,
আর এভাবেই আমার মধ্যে বেঁচে থাকতে
তুমি, তোমার ভালোবাসা,আমাদের ভালোবাসা।
রোজ রোজ নতুন করে প্রেমে পড়তাম,
নতুন এক তুমিকে খুঁজে পেতাম,
তবে অভিমানও হতো খুব,
কিন্তু অভিমানগুলো কত্ত সহজে তোমার গলার স্বরে গলে যেত, আমি বুঝতেই পারতাম না।
ভেবেছিলাম দীর্ঘ এই অপেক্ষার অবসান ঘটবে কোনও একদিন,
আর ঘটেও ছিল শীঘ্রই।
তবে, এই দীর্ঘ অপেক্ষার বিকেলগুলোর মতো
ফিকে হয়েছিল সেই পুরনো প্রেম,
সেই পুরনো তুমি!
প্রথমে ভ্রম বলেই মনে হয়েছিল,
কিন্তু পরে মনে হলো না সবটাই সত্যি।
পরিমাণ বাড়ল সবকিছুর,দেখা করার,কথা বলার
আর কড়াপাকের ঝগড়ার..
অভিমানগুলোও কেমন যেন জেদী হয়ে গেল,
তোমার গলার স্বরে কিছুতেই ভুলতে চায়লো না আর,
নতুন করে চিনতে শেখালো তোমায়।
তবুও নিজেকে বোঝাতাম, একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে,
সময়কেও দিয়ে ছিলাম অনেকটা সময়,
কিন্তু তারাও কেমন যেন অচেনা অতিথির মত ধরা দিল না,
দিনের সাথে যত ঠিক ছিল সব ভুল হতে লাগল,
চেনা মানুষকে খুঁজে পেলাম অচেনার গাম্ভীর্যে।
যে তুমিটা ভীষণভাবে আপন ছিলে,
যে তুমিটা প্রত্যেকবার দূর থেকেই এই হাতে হাত রেখেছিলে,
যে তুমিটা মান ভাঙাতে গলার স্বরে আদর করে,
যে তুমিটা বেধে ছিলে পাশে থাকার অঙ্গীকারে,
সেই তুমি অচেনা হয়ে গেলে, কেমন করে যেন বদলে গেলে,
দূর থেকেই যাকে বুঝতাম, বুঝিনা আজ তার কাছে এলে।
তারপর একদিন শেষ সিদ্ধান্তটা নিয়েই নিয়েছিলে,
একবার জানতেও চায়লে না আমি কি চাই?
আর মনের মধ্যে চরম অভিমান পুষে,
আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে
অনেক দূরে চলে গেলে,
যেখান থেকে চায়লেও আর ফেরা যায় না কোনোদিন,
যদিও তুমি চাইবে না জানি,
তোমার সুখ আজ মধ্যগগনে,
আমি এখনও সেই অভিমানী...

                                  শিল্পা মণ্ডল

(গুগল ইস্যু)

রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯

//নারীকে নারী বলেই সন্মান দিও..//

এইতো সেদিন ভিড়ের মাঝে আঁকড়ে ধরতে যাকে,
হঠাৎ কেন, কিসের ভুলে পর করলে তাকে?
নিশ্বাসে যার ঘুম আসত, বালিশ ভিজতো আবেগে,
এখন কেন সারাটা রাত কাটাও তুমি একলা জেগে?
যে দুটি হাত পরস্পর ছুঁতো তাদের আঙুলখানি,
আজকে প্রেমে হঠাৎ করে কিসের এত রাহাজানি?
একদিন তো ভালো বেসেই করেছিলে অনেক শপথ,
কিসের এত তাড়ার ছলে পাল্টে নিলে পুরানো পথ?
আজকে তাকে প্রেমিকা বলে পরিচয় দিতে সত্যি বাঁধে?
এদ্দিন তো রূপে-গুনে মুগ্ধ হয়ে, ডুবে ছিলে তারই স্বাদে।
"ভালোবাসা" অনুভূতি, "ভালোবাসা"য় সব ছিল,
আজকে দেখো রিয়েলিটি কত কিছু বদলে দিল।
যে "তুমি" টা ভীষণ চেনা, আজকে কেমন পাল্টি খেলে,
ভাবো তো,
আমিও যদি পাল্টে যেতাম, তোমার সাথে এমন হলে!!
আমায় নিয়ে চললে পথে শুনতে হবে অনেক কথা,
তাই তো তোমার পুরুষ সাজে আজ সেজেছে নীরবতা।
কোথায় ছিল সমাজ জ্ঞান? কোথায় তখন পরিবার?
যখন তুমি আমার সাথে মুহূর্তদের করতে পার।
আসলে কি বলোতো,
যার কাঁধে মাথা রেখে কাটত তোমার দিন,
সেই মেয়েটা অন্যরকম, নির্ভেজাল ভার্জিন।
তার বদলে ধর্ষিতা?
ভাবনি কখনো এমন হবে! তাই তো ঝুড়িঝুড়ি প্রতিশ্রুতি,
আগে যদি জানতে, তবে বাহানায় কবেই ঘটে যেত বিচ্যুতি।
আমিও আজ সত্যি জানলাম,
ভালোবাসা আর সম্পর্কের তফাৎ
সব চেয়ে বড়ো বেইমান বুঝেছি
বিশ্বাসের সেই দুটি হাত।
আচ্ছা, তোমার বোনের সাথেও এমন হলে?
বলছি না হবেই, তবে হতেও তো পারতো,
মেনে নিতে কেমন করে?
যখন সমাজ, প্রতিবেশী তাকেও পিষে পিষে মারতো?
সব নিয়মই বদলে যায় নিজের নিজের স্বার্থে,
হয়তো অন্য পরিকল্পনা ফিক্সড হয়েছে আমার পরিবর্তে।
তবে কি জানো তো, সময় সব ফিরিয়ে দেয়,
আগে হোক বা পরে,
যাকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখছো,
হয়তো সেও রেখেছে অন্ধকারে।
হঠাৎ যদি জানতে পারো, তারও একজন এক্স ছিল,
আর গভীর ছিল সম্পর্ক তাদেরও,
সেদিনও তাকে ডিভোর্স দিয়ে
সমাজ সেবার আরও একধাপ পদ না হয় এগিও,
আজকে যাকে ত্যাগ করলে,
তার যোগ্য তুমি নও,
মাথা তুলে কজনে বা বলতে পারে নিজের কথা?
একদিন সে এঞ্জেল হবেই লিখবে নিজের রূপকথা।
সেদিন না হয় কষ্ট করে একবারটি পড়ে নিও,
প্রেমিকা নয়, স্ত্রী নয়, বোন নয়,
শুধু নারীকে নারী বলেই সন্মান দিও...

                                        _শিল্পা মণ্ডল

বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৯

//অন্য পরিচয়//


কতটা খারাপ হলে কাউকে খারাপ বলা যায়?
কতটা বোকা হলে কাউকে নিঃসন্দেহে ঠকিয়ে মজা পাওয়া যায়?
আচ্ছা,
        কতটুকু ভালবাসলে তাকে ভাসিয়ে দেওয়া যায়,
        অপমানের নদীতে,কুৎসিত উপত্যকায়?
       কতটুকু ক্ষমতা থাকলে অতীতকে "প্রাক্তন" নাম দেওয়া যায়?
গভীরতা!
           ভালবাসায় ছিল না, তবে প্রেমে ছিল খানিক।
          তা নাহলে কীভাবে নাগাল পেতে পুরুষ বুকের খাঁজে?
         শরীর ভেদ করে নরম মনের কানাগলিতে?

খোদাই করার খেলায় বেশ তো ছিলে মেতে,
তবে কি বলো তো?
বেশ্যা মনও যে চায় ভালোবাসা পেতে...
সংসার বাঁধতে তারও জাগে সাধ
শুধু পরিস্থিতির টানে, পিছুটান ভুলে
সয়ে যায় পরিচয়ের তীব্র অপরাধ।

অভিমানের মেঘ তার বুকেও জমে,
তোমার দেওয়া শেষ চিঠি
আজও গোপন খামে,
তবে খুলে দেখে না আর,
যে ভালোবাসা ছিল তারা আজ হয়েছে যাযাবর।
তবুও তোমায় বাঁচিয়ে রাখে তীব্র ঘৃণার চূড়ায়,
পুরুষ, নারীর অভিমান পাহাড় সমান,
বোঝা তোমার কম্ম নয়!

বলো, কি দোষ ছিল তার? কেবল বেসেছিল ভালো,
নাইবা হতে প্রেমিক,
তাই বলে কেড়ে নিলে জীবনের সব আলো!
কি নিদারুণ খেলায় মাতিয়ে তুলে
প্রেমের জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে
বেচে দিলে অন্য হাতে!

কেড়ে নিল তারা এক ঝটকায় দেহের সব আবরণ,
স্ট্যাম্প দিয়েছে কপালে সেঁটে,
মালিকানা ফলায় রোজ রাতে,
আচ্ছা দেহে বেশ্যা হলেই পরে বেশ্যা কি হয় মন?

তোমার দেওয়া নতুন পরিচয়ে সে আজ দিব্যি আছে,
সেই বদনামের আঁচে প্রতি মুহূর্তে নতুন করে বাঁচে।
বিকিয়েছি শরীর ঠিকই মনটা তবুও তাজা,
মেনে নাও প্রেমিক,
প্রেমিকা হওয়া নয় অতটাও সোজা...


                                              _শিল্পা মন্ডল

সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০১৯

//প্রেম_অপ্রেমের গল্প//

ট্রাম লাইন ধরে হেঁটে যাওয়া বিকেল গুলো স্মৃতির পাতায় জমা,
সেই যে আমাদের প্রথম দেখা মনে পরে রমা?
পরনে তোর সাদা সালোয়ার, এলোকেশে অপরূপা,
কুয়াশায় ভিজে যেত আস্তিন,
গলার স্বরে অভিমানী সুর,
বেশ ভালোই মানাতো;
ইচ্ছে হতো হাত ধরবো,
আঙুলে আঙুল ছুঁইয়ে দিয়ে হেঁটে যাবো বহুদূর।
চেনা অচেনার গল্পগুলো থামিয়ে দিয়ে,
ব্যস্ত থাকবো শুধু এক মুঠো অভিমান নিয়ে।
রাঙা চোখে ঠোঁট ফুলিয়ে থাকা মেয়েটা,
কবে যে বদলে গেলি!
পাড়ার মোড়ে ঝালমুড়ি দেখে গলে যাওয়া অভিমানগুলো,
কবে যে লাল হয়েছিল,
টেরই পাইনি!!

তারপর, কত খুঁজেছি
লিখেছি কত-শত কথা তোর ঠিকানায়,
তবে তারাও আজ যাযাবর জানিস, 
খোলা আকাশে আজও উড়ে বেড়ায়,
আর বয়ে নিয়ে যায় আমাদের সেই
প্রেম অপ্রেমের গল্পকে..

প্রাচীন প্রেমের সংকেত আবার পিছুটানে নিয়ে যায়,
অতীত প্রেমের স্মৃতিচারণ করতে করতে
               নতুন করে তোকে আবার যেন খুঁজে পাই।
কল্পনাতে দাঁড়িয়ে থাকি ছ্যাৎলা পরা সেই খেয়াঘাটের পারে,
যে মনে বসন্তের আধিপত্য ছিল,
                       সেই মনে আজ হেমন্ত দোলে অন্ধকারে..

                   সময়ের ডাকে বারে বারে
                   মনের কারবারে
               প্রেম অপ্রেমের গল্প রোজ মনে পড়ে..

                                                    __শিল্পা মন্ডল

সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০১৯

Google issue



কবি শিল্পা মন্ডল এখন বেথুন কলেজে বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়ছেন।
ডাইরি লেখা ছোটো থেকেই অভ্যাস,
মূলত নিজের ভালো-লাগা,মন্দ-লাগাকে আকার দিতেই লেখালেখি করে থাকেন তিনি।
একটা তরবারির থেকে কলমের জোর অনেক বেশি তাই চলার পথে কলমকে আশ্রয় করেই চলতে চান লেখিকা শিল্পা মন্ডল।

যোগাযোগঃ

ঠিকানা : কামদুনী, রাজারহাট, উত্তর ২৪ পরগণা।

ইমেল আইডি: emaletosilpa@gmail.com