নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে
ARTICLE'S CLUSTER লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ARTICLE'S CLUSTER লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯

কবি জয়দীপ রায়ের কবিতা পড়ুন




১.)
তৃতীয় কামরা

ল্যাম্পপোস্টের গা বেয়ে তখন নেমেছে সন্ধ্যে
হাতল ধরে ভিড় ঠেলছে
ঘামে ভেজা ক্লান্ত জামা
আর জামার ভিতর ছুটতে থাকা একটা শরীর
নট-রিচেবেলের ভিড়ে বেজে চলেছে
বোবা টেলিফোনেরা
খুব চেনা রিংটোন
পাশের কলিকের বাসি হয়ে যাওয়া
খবর গুলোকে বিরক্ত করা
শব্দ গুলো স্পষ্ট এবার
প্ল্যাটফর্মের নীচে নামা সন্ধ্যে যেন
মৃদঙ্গের তালে তারই ছবি আঁকছে
ভিড়ের মাঝে ফিরে আসা বার্তা গুলো
বিড় বিড় করে
কি যেন বলে চলেছে
জানলার ওপারে চেয়ে দেখ
কেউ তোর অপেক্ষা করছে
শেষ লাইনে বানান ভুলের
প্রহর গুনছে কামরারা
ক্রমে কমে আসা ভিড়
ভেপারের নীচে তখন জোৎস্নার হাতছানি
তারপর খুব অন্ধকার
ধীরে ধীরে নামছে তৃতীয়  ঘরে।


২.)
শেষ চুমুক

চায়ের কাপের এঁটো ভাড়ে
লেগে থাকা ঠোঁটের শেষ চুমুক টা
যত্ন করে তুলেছিলাম ক্যানভাসে
ভেবেছিলাম নাছোড়বান্দা ছেলেটার
হাত ধরে উপহার দেব তোমায়,
তুলির আঁচড়ে সুক্ষ কিছু টান থাকুক
কুয়াশায় আমার আবছা ফ্রেমে বন্ধী হয়ে,
কোন গোসা ঘরে ফুঁপিয়ে
কাঁদুক ঠোঁট ফুলিয়ে
তোমার রুমালের অপেক্ষায়
ফ্যাকাশে জানলায় নামুক সন্ধ্যে
ভগ্নাংশ ভেঙে থাক বিকেল গুলির প্রতিটা শেডে
লেগে থাকুক শুধু গন্ধগুলো
আমার বাড়ন্ত নখের ডগায়
ভালোলাগা গুলো ভালোবাসি হয়ে।



৩.)
কিছুটা কাল্পনিক

কাঞ্চনজঙ্গার বুকে চেরা রোদ খুঁজি না
খুঁজি বৃষ্টি বুকের ঝাপসা জানলা
ছাতা হাতে চেরাপুঞ্জের রাস্তা
বৃষ্টি বিভোর রোমাঞ্চ
মেঘের বুকে ক্ষুধিতের পাষান
সরযুর ধার ধরে মেহের আলির
গলা ফাঁটা চিৎকার
মিথ্যের হাতে ধরা পড়ার ভয় ছিল
অপ্রতিরোধ্য না বলা শব্দগুলোর
চুন সুড়কির দেওয়ালে ধাক্কা খাচ্ছে
অজস্র ঘাম বিন্দু হাজার বছর ধরে
সমব্যাথী শুধু নিয়তির বুকে
সমান্তরাল  কাল্পনিক চরিত্রগুলোকে।





রবিবার, ২৩ জুন, ২০১৯

কবি রিফাত ফাতিমা তানসির কবিতা পড়ুন


১.)
  প্রতিচ্ছায়া

তোমার আঁখিতে ভেসে বেড়ায় উপচে পড়া এককৌটো জল
তোমার আঁখিতে উড়ে চলে গোধূলী বিকেলের সোনালি রোদ্দুর,,

তোমার হাসিতে উঁকি মারে হিন্দুস্থানী সুর মেঘমল্লার
তোমার হাসিতে বাঁধে বাসা গোফওয়ালা হ্যাটম্যান যাদুকর...

তোমার গ্রীবায় উঠে যায় অশরীরী রূপ রক্তাক্ত মারমুখো তেজওয়ালা শঙ্কু
তোমার গ্রীবায় ভর করে বাজি ধরে নরম তুলতুলে আদুরে লন্ঠন,,

তোমার ললাটে  মসৃন গালিচা অরুণ
তোমার ললাটে ধূসর আবেগী স্মৃতি রোমন্থন...

তোমার চাউনি দূর থেকে ছুড়ে মারা ঝকমকে লিটমাস পেপার
তোমার চাউনি ঘুম পালিয়ে কবিতা পড়া,,

তোমার ঘ্রাণেতে অসহ্য সুন্দর শাদা জাফরান শিউলি
তোমার ঘ্রাণেতে টলমল মাতাল চুরুট মাতোয়ারা...

তোমার আবদারে
মায়াবী মনোহারী আহ্লাদের বৃষ্টিবিলাস:

তোমার আবদারে
স্বপ্নপুরীর
নীলপরীটি আমি,,

তোমার রোমাঞ্চে-

বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের
একটি চাঁদের দেশ;

তোমার আমিতে
খেলা করে ক্ষণতরে
শুধু
আমার তুমি!


   


২.)
আবার একটা মিছিল হই

আমার বড় সাধ জাগে আবার একটা মিছিলে যোগ দেই,
আবার একটা মিছিল হই!
আর সমস্ত অন্যায়ের মস্তিষ্কে আগুনগরম পানি ঢেলে ঢেলে তাকে ভোঁতা থোঁতা বানিয়ে দেই!

আমার বড় সাধ জাগে আবার একটা মিছিলে যোগ দেই,
আবার একটা মিছিল হই!
আর দূর্নীতির হাত পায়ের শিরা-উপশিরাগুলো তার দিয়ে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে শক্ত বেঁধে বস্তায় ঢুকিয়ে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে চৌদ্দশিকের মোটা চালের ভাত খাওয়ায়!

আমার বড় সাধ জাগে আবার একটা মিছিলে যোগ দেই,
আবার একটা মিছিল হই!
আর লোভী লালায়িতদের লকলকে জিভটাতে ১০ নং সুঁই দিয়ে এফোঁড়-ওফোঁড় করে নির্লোভের এমব্রয়ডারি করে দেই!

আমার বড় সাধ জাগে আবার একটা মিছিলে যোগ দেই,
আবার একটা মিছিল হই!
আর চরিত্রহীনদের ভ্রষ্ট প্রগলভ চোখেতে প্রখর রোদে পোড়া কচকচে বালি ঢুকিয়ে তাকে অনন্ত অন্ধ করে দেই!

আমার বড় সাধ জাগে একটা মিছিলে যোগ দেই,
আবার একটা মিছিল হই!
আর ভন্ডদের ভণ্ডামো ভরা বুকের ওপর দৌঁড়ে উঠে গিয়ে বুটজুতো দিয়ে লাথি মারতে মারতে তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াটাই বন্ধ করে দেই!

আবার একটা মিছিল হই!




৩.)
সেদিন

প্রথম কবে কোথায় দেখা হয়েছিল মনে করতে পারো?
দাঁড়াও, বলছি আমি..

কোনো এক শীতের আলো ঝলমলে বিকেলে...
মনমাতানো পরিবেশে জানা- অজানা পাখিরাও হঠাৎ তোমায় দেখে ভড়কে গিয়ে পালাতে লাগল আড়ালে..

ফুটন্ত কুঁড়িগুলো চুপসে গেল ফাটা বেলুনের মতো সব
প্রজাপতির দল অস্ফুটস্বরে বিড়বিড় করে আওড়াতে লাগল কল্পনাস্তব...

আর আমার কথা!
কী বলব!
মাথা থেকে পা পর্যন্ত আপাদমস্তক কথা কইছিল যেন তোমার আগমনের উত্তেজনায়..
চোখে চোখ, হাতে হাত, একটু পর তোমার কাঁধে মাথা রেখে অদ্ভুত স্বস্তির নিশ্বাস; পরম ভালোবাসায়...

তোমার সাথে জুড়ে থাকার ইচ্ছে ছিল যে খুব;
যেমনি করে প্রসূন
সাথে পাতা,
তেমনি করে বাঁধতে চাইলুম
রঙিন স্বপ্নগাঁথা...

সেভাবে রেখেছিলুম তো-
যেভাবে বিছিয়ে রাখে মাকড়সা জাল;
কিন্তু তুমি বোধহয় ভালোবাসার মানেটাই ধরতে পারোনি,
পারোনি বুঝতে অতল আমিটিকে..
বিভীষিকার অন্ধকারে তাইতো
পালিয়ে গিয়েছিলে চুপটি করে;
ফিরে দেখনি পেছনটা একটিবারও
কোথাকার হলো কী হাল!


বুধবার, ১২ জুন, ২০১৯

সন্দীপের কলম পড়ুন


১.)
অভ্যাস

ধুলোমাখা স্মৃতিগুলো যখনি ফিরে পাই
দলা পাকিয়ে রাত নেমে আসে নিঝুম উপত্যকায়
ঘরে জ্বলতে থাকা রাতবাতি থেকে
আদুরে বেহাগ ঝরে পড়ে নরম ঘুমে
টুপ করে ঝিনুকটি ডুব দিলো
 নীলপরীর ডানায় ।

কিন্তু সকাল হলে আর এই স্বপ্নের কথা মনে থাকে না ।

২.)
জোনাকির গান 

তুমি ধানসিঁড়ির ঘাটে কাপড় শুকোবে বলেছিলে না ।

নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে সূর্যের ঢেউ
কেউ জানবে না অথচ তুমি আর
রাস্তার কুকুরগুলো অচেতন হয়ে ঘুমোবে এক বিছানায়।

বলোনা “ শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা ” ?

আমি কৌটো ভরে বিস্কুট এনে রাখবো ।।


৩.)
শেষ বেলায়

আসবে বলেছিলে তাই আমি ঘর গুছিয়ে রেখেছি
বইয়ের তাকে পরিপাটি সজ্জা  ।

তোমার পছন্দের রুম ফ্রেশনারের গন্ধে
দেওয়ালের গায়ে যেন ফুল ফুটেছে ।

মন দিয়ে জল দিচ্ছিলাম টবের চারাগাছে
বা সেকেন্ড গুনছিলাম এক এক করে  ।

শুধু বারান্দার আলো জ্বালাতে ভুলে গেছি বলেই
তুমি রাস্তা বদলে ফেলেছো  ।।


৪.)
এই বড়ো ক্লান্তির দিন 

এই ব্রহ্মাণ্ডের আমি কিছুটা জানি

যেমন – গরম চায়ে ফুঁ দিয়ে চুমুক দিতে হয়
প্রেমিকার মুখের উপর চুল উড়ে এলে
তাকে কানের পাশে সরিয়ে দিলেই হলো

খুসখুসে কাশিতে আদা তুলসীপাতা উপকারী
স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য আট ঘণ্টা ঘুমাতে হয়।

আর লেখা ফুরোনোর আগেই একদিন মরে যেতে হয়

এটুকই  ।



লেখিকা রাসমণি সাহা দেবনাথের কবিতা পড়ুন


১.)
সাম্যের জয় গান

সাম্যের বাণী উৎসারিত যুগ-যুগান্ত ধরে।

সাম্যরব হয়েছে প্রতিধ্বনিত বিশ্বের দরবারে।।


নবী হজরত প্রেমের বাণী বিলোলেন অকাতরে....

খোদার দুনিয়ায় সবাই সমান, ভিন্ন কেহ তো নহে?

জেরুজালেমের কুমারী মা মেরির ছোট্ট শিশু,

'ক্ষমা'-ই পরম ধর্ম শোনালেন ক্রুশবিদ্ধ যীশু!

মানবতার পূজারী তথাগত বুদ্ধ গাইলেন সাম্যের গান।

সন্ন্যাসী নিমাই উদার কণ্ঠে করলেন মানুষের জয়গান।।

রামকৃষ্ণ পরম হংসদেব দেখিয়েছেন ' জীব জ্ঞানে শিব সেবা '- র পথ।

স্বামী বিবেকানন্দ শিকাগোতে বলিষ্ঠ কণ্ঠে বিশ্ববাসীকে দিলেন সাম্যের শপথ।।


কবি চণ্ডীদাস গেয়েছেন তাই...

' সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই '।

বিদ্রোহী কবি নজরুল তাঁর কলমে দিয়েছেন শান।

' গাহি সাম্যের গান,

যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা ব্যবধান '।।


তাহলে আজ কেন এত ছড়ানো হিংসার বীজ? কেন এত রক্তক্ষয় !

সুন্দর পৃথিবীর বুকে ক্রমশ বাড়ছে মূল্যবোধের অবক্ষয়।।

অবশেষে এটাই কি ছিল কাম্য ?

হায় রে মনুষ্য জাতি !! এরই নাম 'সাম্য' ?

অনেক পুণ্যের ফলে লাভ করেছি এ'মানব জনম।

এই নাকি আমরা বুদ্ধিমান জীব ? নেই কোন অনুতাপ, শরম !

ধর্মের নামে কেন হানাহানি, কেন এত বিদ্বেষ ?

জীবন একটাই, এসো হাতে হাত ধরে ভুলি সকল ক্লেশ।


সাম্য মানে,

মানুষে মানুষে সকল প্রকার বৈষম্যের অবসান।

সাম্য মানে,

মানুষের মধ্যে পারস্পরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সমান সমান।।

সাম্য মানে তো তুল্যতা, সাম্য মানে সমতা।

সাম্য মানে দৃঢ় মানব বন্ধন, সাম্য হল একতা।।


২.)


মান বনাম হুঁশ 

প্রতিটা সংবাদ পত্রে এখন একটাই শিরোনাম।

বাদ যাইনি এফ এম রেডিও, টেলিভিশন।।

কম্পিটিশানের চক্র বূহ্যে

প্রথম স্থান দখলের যেন অ-ঘোষিত লড়াই!

ইঁদুর দৌড়ে অভ্যস্ত যান্ত্রিক নরকঙ্কাল গুলোকে টেনে

দল ভারী করতে রয়েছে

অভিনব কায়দায় এস. এম. এস - এর বড়াই।।


আশ্চর্য ! যারা জানতো না, তারাও

জেনে গেল, বলা ভালো

আলোড়ন জাগিয়ে দিল মিডিয়ার ফলাও।।

কিন্তু কী এমন ঘটল?

যার ফলে বিরাট একটা ঝড় বয়ে গেল !!


আজকের যান্ত্রিক সমাজে কেউ পাইলট, কেউ বা আইনজ্ঞ,

আবার কেউ ডাক্তার কিম্বা ইঞ্জিনিয়ার.....

সংকীর্ণ জীবনের দোলায় চড়ে,

অধিকাংশই যে মানবিকতায় একেবারেই অনভিজ্ঞ।।

তাই তো বুদ্ধিজীবীরা করলেন অর্থের বিনিময়ে স্থাপন,

আদর্শ মনুষ্যত্ব শিক্ষা - নিকেতন।

পঠিত হবে মানবিক গুণাবলী।।


ইতিমধ্যেই ব্যস্ত অভিভাবকগণ,

সন্তানদের জন্য ঢেলেছেন বিপুল ডোনেশন।।

ইন্টারনেটে করেছেন অগ্রিম বুকিং..

এ যেন বৈদিক যুগের উপনিষদের রি-মেকিং !!






৩.)
 মানবতার পূজারী 

হিমালয়ের পাদদেশে কপিলাবস্তু নগরে,

খ্রীঃ পূঃ ৫৬৭ অব্দে জন্ম নিলেন সিদ্ধার্থ, রাজা শুদ্ধোদনের ঘরে।

বিমাতা গৌতমীর স্নেহের পরশে...

বড় হলেন সিদ্ধার্থ প্রাচুর্যে, ঐশ্বর্যে।

মানব জীবনের দুঃখে যুবক সিদ্ধার্থ হলেন কাতর...

দুঃখময় জীবন রহস্য উন্মোচনে অগ্রগামী হলেন অতঃপর।


" বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি "...

নিরঞ্জনা নদীর সন্নিকটে প্রদ্যোষ কালে,

পরিব্রাজক সিদ্ধার্থ উপবিষ্ট হলেন অশথ্থ বৃক্ষ তলে।

ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও সর্বজনবিদিত  'বোধি বৃক্ষ ' নামে।।

একাগ্র চিন্তায় তিনি হলেন নিমগ্ন, হারালেন বাহ্য জ্ঞান...!!

ঘটল তাঁর সত্যোপলব্ধি, পেলেন জগৎ ও জীবন রহস্যের সমাধান।।


" বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি "....

" ধর্মং শরণং গচ্ছামি "....

মনস্থির করলেন, আত্মোপলব্ধির করবেন প্রচার।

তপুসা ও ভল্লুক বণিক দ্বয় প্রথম গৃহী শিষ্য তাঁর।।

সারনাথ নামক স্থানে বৌদ্ধ মতে পঞ্চ সন্ন্যাসী হলেন দীক্ষিত।

বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাসে যা 'ধর্ম চক্র প্রবর্ত্তন ' নামে খ্যাত।।

গভীর তপস্যার দ্বারা লব্ধ জ্ঞানই হল ' চত্বারি আর্য সত্য'।

বৌদ্ধ ধর্মে ' নির্বাণ ' লাভই মানব জীবনের চরম লক্ষ্য।।

রোগ, শোক, ব্যধি, জরা থেকে পরিত্রাণের পথ ' অষ্টাঙ্গিক মার্গ '।

পঞ্চ শীল, সমাধি, প্রজ্ঞা বৌদ্ধ ধর্মের তিনটি অঙ্গ।।


" বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি ".....

" ধর্মং শরণং গচ্ছামি "......

" সঙঘং শরণং গচ্ছামি "....

ব্রাহ্মণ্য ধর্মের অত্যাচারে সাধারণ মানুষের প্রাণ যখন ওষ্ঠাগত....!!

পরিত্রাতা রূপে আবির্ভূত হলেন তথাগত।

দিকে দিকে ছড়িয়ে দিলেন  'শান্তির ললিত বাণী'.....

উদার জাতিভেদহীন বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হলেন বিদ্বান, দরিদ্র, ধনী।।

তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেন শ্রাবস্তীর মহাশ্রেষ্ঠী অনাথ পিণ্ডিক,,

ধনী বিশাখা, গণিকা আম্রপালী, চিকিৎসক জীবক, রাজা প্রসেনজিৎ।।


" বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি ".....

একবিংশ শতাব্দীতে আজও সমান ভাবে প্রাসঙ্গিক ভগবান বুদ্ধ।

মানবতাবাদের মাধ্যমে বন্ধ হোক হানাহানি, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।।

সমগ্র বিশ্বে ধ্বনিত হোক উদার বাণী...

" বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি "....।।





মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০১৯

লেখিকা চয়নিকা যশের কবিতা


১.)
তোমায় দেখবো বলে

প্রতি রাতে আমি
তোমার ঘুমিয়ে যাওয়া অব্দি
অপেক্ষা করি।
ঘুমন্ত মুখটা অন্ধকারে স্বচ্ছতোয়া নদীর মতো টলটল করে,
আমি স্পষ্ট দেখতে পাই।
একটা নিষ্পাপ, ভাঁজহীন মুখ।

জেগে থাকলে মানুষ বড় নিজের কথা ভাবে,
বড্ড স্বার্থপর হয়ে যায়।
আমি তাই ঘুমন্ত তুমিকে রাত জেগে
স্বার্থপরের মতো একা একা দেখি।
তুমি তখন আকাশ হয়ে যাও,
আর আমি সামান্য চাতক।

২.)
সময় পেরোলে

একটা সময়ের পরে
রাগ অভিমান এগুলো ফুরিয়ে আসে।
যেমন এক নাগাড়ে জ্বলতে থাকা
প্রদীপ কিংবা বাতি,
শেষ হওয়ার আগে দাউদাউ আগুন হয়ে,
একটা সময় হঠাৎই ঝুপ করে নিভে যায়।
আসলে যে অনুভূতি যত প্রবল,
যত দুর্নিবার,
যার তীব্রতা যত বেশি,
সে হয়তো ততই ক্ষণস্থায়ী।
তাই একটা সময় পরে
সব নিভে যায়,
প্রদীপ, ঘৃণা অথবা ভালোবাসা।

৩.)
ভালোবাসার দিব্যি

আমি তোমায় মিথ্যে বলেছি।
সেই শুরু থেকে মিথ্যে বলে গেছি।

এই যে বারবার বলেছি,
তুমি যেতে চাইলে চলে যেও,
আটকাবো না কখনো,
এ যে কি সাংঘাতিক মিথ্যে জানো!
প্রতিটা মুহূর্তে আমি ভেবেছি,
তোমায় কী করে আটকে রাখা যায়,
বেঁধে রাখা যায়।

কতবার বলেছি, অন্য কাউকে ভালোবাসলে আমায় বলো।
মনে মনে আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছি
গোটা পৃথিবীর থেকে তোমায় লুকিয়ে রাখার।

বারবার বলেছি তুমি দূরে গেলে
আমি দূর থেকেই ভালোবেসে যাবো।
কিন্তু আকুল হয়ে কাছে থাকার
প্রতিটা সম্ভাবনাকে হাতড়ে গেছি নিঃশব্দে।

আরও কত টুকরো টুকরো মিথ্যে দিয়ে
ভালোবাসার তাসের ঘরটা বানিয়েছি।
যেখানে ভালোবাসা বাদে
বাকি সবটা মিথ্যে, প্রবল মিথ্যে।



লেখিকা সুস্মিতা সিং এর কবিতা পড়ুন


১.)
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা

ও স্বপ্নের ফেরিওয়ালা একরাতে আসবি স্বপ্ন বেঁচতে?
কিনে নেব আমি স্বপ্ন ঝুড়ি ভরা,

ও স্বপ্নের ফেরিওয়ালা লুকায়ে আসিস তবে
নজর যেন না দিতে পারে কেউ আমার স্বপ্নের ঘরে,

ও ফেরিওয়ালা ওই যে অন্ধকার গলি সেখানে আমার বাসা,
স্ট্রিট লাইট জ্বলেনা ওধারে,তুই আসবি তো স্বপ্নের বেলুন নিয়ে?

ভর্তি থাকবে স্বপ্ন,খুশি, যত ফিরে আসবে আমার কাছে ততই,

আসিস তবে একরাতে স্বপ্নের বেলুনখানা কয়েক গুচ্ছ নিয়ে ছড়িয়ে দেব গোটা শহর জুড়ে 

হাসবে,খেলবে,আনন্দে মাতবে সকলে,স্বপ্ন দেখা শুরু হবে আবার নুতন করে।

ও ফেরিওয়ালা আসিস তবে কোন এক নিরিবিলি রাতে।


২.)
পথের শেষ

পথ চলা শেষ হয়না আর
আশে পাশে চেয়ে দেখি হাজারো জনে চলছে ডানা মেলে,
কোথাও ট্রাফিক জ্যাম, কোথাও বা মানুষের কোলাহল
আমার অপেক্ষা হয়না শেষ তবু, ফিরে যায় মায়ায়,
যত দেখি ততই শিখি,তবু মন চায় আরও,
ভাগ্যের উপর ভরসা করে বসবি কত আরও
চল যায় এগিয়ে কোথাও, যেথায় নেই হিংসে, হানাহানি,
সেই স্নিগ্ধ শীতলা মাটির তলায় নিদ্রাসঙ্গীত গেয়ে যায়
দেহ আত্মা এক হয়ে যেথায় পড়ে রবে শুধুই নিথর শরীর।

৩.)
পর্বত শিখা

শোনো মেয়ে,
তুমি মনে রেখো
যখন ঘরের চৌকাঠ পেরোবে
লোকে তোমায় আড়চোখে দেখবে,
তুমি গলি ধরে হাঁটতে থাকবে
লোকে তোমার পিছু নেবে, শিস দেবে।
তুমি গলি পেরিয়ে বড় রাস্তায় উঠবে
লোকে তোমাকে চরিত্রহীন বলবে
দোকান হাটে দূর থেকে দেখে তোমার  যোনির মাপ নেবে হীনবীর্যের দল,
তুমি পিছু ফিরবে না মেয়ে
যাচ্ছ যেভাবে মাইল পার করবে
পথ ছাড়িয়ে যখন পৌছবে পর্বতের শিখরে
জ্বলবে তারা শিখার আগুনে,
তুমি হাসবে অট্টহাসি তাদের ছাই দেখেই।






শনিবার, ১ জুন, ২০১৯

লেখক রাফাতুল ইসলাম আরাফাতের কবিতা পড়ুন




১.)
আমি মাঝেমাঝে ঈশ্বর হই


মধ্যরাতের পর ঘড়ির কাঁটা একটা স্পর্শ করার পরপরই
আমার ভাবনারা, চিন্তারা -
সব এলোমেলো হয়ে যায়।
সম্পূর্ণ এক অন্য জগতে প্রবেশ করি আমি।
যেখানে ঈশ্বর নেই কোন,
আমিই ঈশ্বর।

অদ্ভুত সব খেলায় মাতি মধ্যরাতের পর
কখনো পুতুল খেলা শুরু করি।
বেশ মনে আছে-একদিন বড় মামার বিয়ে দিয়েছিলাম
এর আগে পিসির বিয়েও দিয়েছিলাম এক অচেনা লোকের সাথে।

মধ্যরাতের পর, আমি ঈশ্বর হই
মাঝেমাঝে সময়ের সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হই
কখনো দাঁড়িয়ে দেখি, শুকরের প্রসব বেদনা।

মাঝেমাঝে আমি পিশাচ হই
অমানুষও হই মাঝেমাঝে।
কখনো মরা ইঁদুরের মতো আঙিনায় পড়ে থাকি।
কখনো পুড়িয়ে দেই আকাশের সমস্ত নীল।

মাঝেমাঝে আমি ঈশ্বর হই
মানুষ হই
অমানুষ হই।


২.)
স্বর্গের পারিজাত


আপনাকে পেয়েছি-
স্বর্গের লোভ নেই আর।

কিছু চাওয়ার থাকলে-
আর পরজন্ম বলে যদি কিছু থাকে
আমি আবার আপনাকেই চাইবো!


৩.)
চোখ পাঠ


যেকোন লম্বা জার্নিতে সাথে বই নিয়ে যাওয়া আমার অভ্যেস
কিন্তু কখনোই সে বই খুলে পড়া হয়না।

তোমার চোখদুটোকে আমার হাজার পৃষ্ঠার উপন্যাস মনে হয়
আমি বোদ্ধা  পাঠকের মতো পাঠ করে যাই,
পুরো জার্নিতে!


৪.)
বিষাদ



তোমার দেয়া বিষাদগুলোকে আমার পবিত্র মনে হয়
আমি তা থেকে বেরতে চাই না
আরো বেশি নিমজ্জিত হতে চাই।




৫.)
একটি কবিতা,আমার বিদ্রোহ
(পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে)
---------------------------------

শহরের রাস্তায় রক্তের মতো কান্নার নোনা জল
বৃদ্ধ পিতার শ্রমিক হাতে উঠুক বিদ্রোহের প্ল্যাকার্ড!

এ রাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে আমি বিদ্রোহ করলাম
আমার বিদ্রোহ আমি ছড়িয়ে দিলাম
অশোক আর কৃষ্ণচূড়ার লালে।

শ্রমিকের শ্রমের মূল্যের জন্যে যেখানে রাস্তায় দাঁড়াতে হয়-
সে শাসনের বিরুদ্ধে আমি আমার শাণিত তরবারি উঁচু করলাম।

আমার এ কবিতা আমার তরবারি
আমার এ কবিতা আমার বিদ্রোহ।

দিগবিদিক থেকে শব্দ করে ছুটে আসছে বিপ্লব,
আমি চোখ বন্ধ করে অপেক্ষা করছি
একটি শব্দের জন্যে-
মুক্তি!




কবির ঠিকানাঃ
মাগুরা,খুলনা



শুক্রবার, ৩১ মে, ২০১৯

লেখিকা পিয়ালী দাসের কবিতা




১.)
বৈপ্লবিক দামামা

তুমি কি নীরব দৃষ্টিতে শুধু দেখেই যাবে নারী জাতির এই লাঞ্ছনা।
করবে না এর প্রতিবাদ? হে মহামানব ওঠো , জাগো,থেকো না বোবা হয়ে,বাঁচাও নারী জাতির সম্মান।
লোলুপ দৃষ্টির গোচরে প্রতিনিয়ত ধর্ষিত হচ্ছে নারী,আবার লোকচক্ষুর অগোচরেই পাচার হচ্ছে সেই নারী, হে মহামানব তোমারই তো সৃষ্ট এই নারী,সৌন্দর্যের শিখরে অধিষ্ঠান তার,ভয়াল ভয়ঙ্কর নখের আচরে সেই সৌন্দর্য হয়েছে ম্লান,নারীর রূপবত্তাকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে নিয়ে এসেছে কদর্য কদাকার রূপে, নারীকে স্থান দিয়েছে ভোগ লালসার বস্তুর স্তরে,নারীকে করেছে অসম্মান।
যে নারী তোমার আশীষে প্রাণ প্রতিষ্ঠার ভূমি,সেই নারীকেই করেছে বঞ্চনা,নিপীড়িত নিঃশেষিত নারী আজ বাকরুদ্ধ,প্রতিবাদের ভাষা হারিয়েছে।
সময় এসেছে হে মহামানব ,তোমার শিঙ্গায় দাও ফুত্কার,বাজাও যুদ্ধের দামামা,উড়িয়ে জয়ের ধ্বজা ভেঙে দাও শৃঙ্খলের বেড়াজাল,গুড়িয়ে দাও তাদের পৈশাচিক হাত,অবসান ঘটাও নারী জাতির অপমান।

২.)
                     মাতৃদিবস

জানিস মা,বলছে সবাই আজকে মায়ের দিবস,
মায়ের দিবস জিনিসটা কি বলিস নি তো আমায় কিছু।।
ও পাড়ার বড়ো দিদি মাকে জড়িয়ে ধরে,বললে হেসে,জানিস ছোটু তুলবো ছবি মায়ের সাথে সব কাজ ফেলে।
শুধাই তাকে কি হবে গো এতো ছবি তুলে,
বললে দিদি দিনটা আজ মায়ের দিবস ওরে বোকা ছেলে।
আমি তো মা তোমার ছোট্ট ছোটু ওতো কিছু বুঝি?
আমি জানি মা,তুমি আমার,জড়িয়ে তোমায় ভালোবাসা খুজি।
জানো মা,দিদির মা শুয়ে বিছানায়জলের জন্য আকুল,
দিদি তো শুধু মায়ের সাথে ছবি তুলতে ব্যাকুল।
এইটাই কি বলে মায়ের দিবস , বলো না মা আমায় সবকিছু।
এমন দিবস চাই না মাগো,কেন এমন হয়,
মায়ের চেয়ে আপন কেউ আছে কি কেউ এই ধরায়?
তাই তো মাগো,লাগছে ভয়,জড়িয়ে ধরো আমায়,
পুত্রদিবস বলে বর্ষেতে কোন দিন যেন না হয়।
তুমি আমার সবকিছু,তুমি না জল দিলে,
ছোট্ট ছোটু মরেই যাবে সবার অবহেলে।।

৩.)
                      অনুভূতি

হৃদয়ের অনুভূতি নীরবে ছুটে বেড়ায় শিরা উপশিরায় ,
চোখের ভাষাতে উজ্জ্বল তার উপস্থিতি,বাধা পায় সামাজিকতায়।।
চায় যে মিলন , মনের নিশীথে অবিরাম বয়ে চলে তারই আবেশ,
ছুটে চলে ফল্গুধারার ন্যায় প্রকাশের তাড়নায়,
আছে উদ্যম,নেই সাহস ,প্রাপ্তি বিন্দু জল।
সমাপ্তি জেনে ও বাচিয়ে রাখার তাগিদ,
অলীক বাসনা ,কালের মিলনের হাতছানি।
চোখের দীপ্তি পুনরায় উজ্জ্বল ,প্রকাশের আশায়।
হায় রে হায় ,কালের নিয়মে যায় সে চলে অতল গহ্বরে,
পাথর চাপা পরে যায় অনুভূতির তীব্র বাসনা।
মৌনবেশে রয়ে থাকে জেগে স্মৃতির ঘেরাটোপে,
বেচে থাকে ভালোলাগার পুরানো অনুভূতি মনের মিলনতলে।।
৪.)
              সুন্দরের পিয়াসী

সুন্দর বলে চেয়ে থাকি তোমা পানে,
তাই তুমি দিয়েছো মোরে অপবাদ।
তুমি ভেবেছো এই চেয়ে থাকার মাঝে আছে শুধু পরমাদ।
না গো না নেই তাতে কালিমা-
এ ভাবনা শুধুই অলীক-
যে চেয়ে থাকে তার এ শুধু সুন্দরের সাধনা।
কঠিন পাথরের ফাটলে
যে লাল গোলাপটি আছে ফুটে
সে চেয়ে আছে নীলাকাশে,
ঊষার স্নিগ্ধ বাতাসে
দোল দিয়ে যায় হিল্লোলে সুখের পরশে,
আবার মধ্যাহ্নের খর প্রদাহে
সেই তাকিয়ে থাকে দীপ্ত দীপকের পানে তেজের আস্বাদনে,
সেই আবার চন্দ্রমার জোছনায়
তাকিয়ে থাকে অনিমেষ নয়নে মনের সুখেতে,
সে মেটায় তার সুন্দরের পিয়াসা।
আমি ও মেটাই আমার পিয়াসা দেখে তোমায় দুনয়নে।
   
৫.)
তোমাকে হারিয়ে

চোখেতে হারিয়েছি তোমাকে, সে কথা সত্য-
তোমাকে হারিয়ে হারিয়েছি আরো অনেক কিছু-
হারিয়েছি সেই ভোরের শিশিরে ভেজা ফুলের গন্ধের মাদকতা-
হারিয়েছি মাদলের সনে মেঠো সুরের মিলনের উন্মাদনা-
হারিয়েছি সেই গাছের ডালে বসা কোকিলের কুহু কুহু রব-
হারিয়েছি অপলক দৃষ্টিতে তোমার দিকে চেয়ে থাকা-
শুধু কি তাই,হারিয়েছি হঠাত্ করে চোখের মিলনে ভয় পেয়ে চোখ নামিয়ে নেওয়া।
হারিয়েছি পাশাপাশি বসে পুরানো স্মৃতি রোমন্থন করা, প্রাকৃতিক দৃশ্য অনুভব করা।
হ্যাঁ হ্যাঁ বলবে পাগল আমি জানি,
সত্যি পাগল হয়েছি তোমার রূপের কাছে,
তোমার মায়াবি দু-নয়নের দৃষ্টি আমার সযত্নে গড়ে তোলা মনের মনিকোঠায় প্রেমের সঞ্চার করেছে,ডুবিয়েছে প্রেমের সাগরে ,করেছে প্রেমের নেশায় উন্মাদ।
প্রেমহীন মানুষকে তোমার ছোয়ায় করেছো প্রেমময়,
কঠোর বাস্তব থেকে তাকে তুলে এনেছো মায়াবী রূপকথার দেশে- সেখানে সব আছে - আছে সেই গাছ,আছে ফুলের গন্ধ,আছে কোকিলের কুহু কুহু রব, শুধু নেই তুমি,নেই তোমার ভালোবাসা,নেই সেই ভালোলাগার অনুভূতি, নেই সেই মাদকতা, সব কিছু থেকে ও শূণ্যতা চারধারে তোমাকে হারিয়ে।
                                              
লেখিকার ঠিকানা:
100 J Jaigirghat Road ,
Thakurpukur,kolkata -700061

বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০১৯

লেখিকা স্নেহা সরকারের কবিতা





১.)
 উপকথা


স্বপ্ন বুনি উপকথার মতো
হাল ছেড়ে দি ছোট্ট ছোট্ট ভুলে,
ইনসোম্যানিক শরীরে অক্ষত,
হাসতে পারি ঝড়ো হাওয়া ছুঁলে।

কপাল বেয়ে চিন্তা নামে পায়ে,
হাঁটতে থাকি ছায়াপথের দিকে।
যেমন করে গোধূলী নামার গায়ে,
মেঘের আলো নিম্নমানের ফিঁকে।

রক্ত পানে রপ্ত জীবন দশায়,
ইচ্ছে বিকই ভবিৎষতের দায়ে।
অক্ষম হই জাপটানো প্রত্যাশায়।
বুকের পাঁজর সেলাই করা বাঁয়ে।

তবুও মনে আরশি নগর খুঁজি।
পরশিরা আজ বড্ডই একঘেয়ে,
মিলিয়ে যাব এমন ভাবেই বুঝি?
আরো একবার ভালোবাসতে চেয়ে।।




২.)
অ যুক্ত মানুষ


স্পর্শ করে হাত গুটিয়ে এলে
বিরুদ্ধতার দায় বেড়ে যায় খুব।
তোমায় মনে সংশয় ঠাঁই পেলে
তার প্রতিদান আসন্ন নিশ্চুপ।

যারা শুধু সত্যি সত্যি খেলে,
হাসির কোপে ঝড়ায় অভিশাপ।
এগুলো সব জনগনের ভুল।
ভাষন শুধু, কেউ পাবেনা মাপ।

শহর জুরে কঠিন কঠিন রব,
ধুলোর ওপর ছড়াচ্ছে নিশ্বাস।
গাছেরা শুধু রুপকথা হতে বাকি,
স্ট্যাটাসে ঘোরে মানুষের উচ্ছাস।

আপন হতে যারা হঠাৎ আসে,
ভালোবাসে, ভালো বাসায় খুব।
তারাও আবার অন্তবিহীন হয়ে,
পাঠিয়ে দেবে বিষন্ন চিরকূট।

বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহী হয়ে উঠে,
পিছন থেকে কথা বলাই স্বভাব।
এসো তবে মানুষের কথা বলি।
যাদের বড্ড মানুষ হওয়ার অভাব।।

সোমবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৮

ARTICLE'S CLUSTER-এ কবি ধীরেন্দ্র নাথ বাঙ্গালের লেখা





লেখক ধীরেন্দ্র নাথ বাঙ্গালের জন্ম বাঁকুড়া জেলার আমলা তোড়া গ্রামে এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে 1365 সালের 12ই কার্তিক .এক প্রতিকূল সামাজিক পরিবেশে শুরু হয়েছিল তার বেড়ে উঠা ও শিক্ষাজীবন .ছাত্রাবস্থাতে পড়াশুনার সাথে কৃষিজীবী বাবাকে কৃষিকাজে সাহায্য করতে হত .ছয় কিলোমিটার আলপথ পায়ে হেঁটে পড়তে যেতে হাত হাইস্কুলে .তবু বরাবর ক্লাসের প্রথম স্থানাধিকারী ছিলেন .তখনকার দিনে ভালো রেজাল্ট করে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন হায়ারসেকেন্ডারি .ইকনোমিক্সে অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজে .পার্ট ওয়ান পরীক্ষার আগের মুহূর্তে কর্মঠ বাবার অকাল প্রয়াণ ঘটে গেলে জীবনে নেমে আসে গহন আঁধার .বাবা মার্ বড় সন্তান হিসাবে মাথায় তুলে নিতে হয় পাঁচ ভাইবোন ও মায়ের ভরনপোষনের দায়িত্ব .শুরু দারিদ্রের সঙ্গে কঠিন সংগ্রাম .বাধ্য হয়ে অনার্স ছেড়ে দিয়ে পাসকোর্সে স্নাতক ডিগ্রী সম্পূর্ণ করেন .সংসার টি বাঁচিয়ে রাখতে একমাত্র আয়ের উৎস কৃষিকাজে জড়িয়ে পড়তে হয় .ভয়ঙ্কর প্রতিকূলতার মাঝেই সংস্কৃতি ও সাহিত্যকে ধরে থাকেন .বাঁকুড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার যাত্রা ক্লাবে সুনামের সঙ্গে অভিনয় ও নির্দেশনায় যুক্ত থাকেন .লিখেন সংবাদ পত্রে  পাঠকের ভাবনা কলমে .স্থানীয় পত্রিকায় ছোটগল্প ও কবিতা .নিয়মিত লেখেন আকাশবাণীর পত্রসাহিত্য বিভাগ প্রাত্যহিকী মহিলামহল মাননীয়েষু বুধসকালে .আকাশবাণী (অল ইন্ডিয়া রেডিও )এর সেরা পত্রকার হিসাবে সংবর্ধিতও হয়েছেন .লিখেছেন দুখানি যাত্রাপালা .বর্তমানে দুই ছেলে বৌমা নাতি নাতনি ও নব্বই ছুঁইছুঁই মাকে নিয়ে এক বড় পরিবার .অভ্যাসমত চাপের মাঝেও চলছে লেখালেখি .সঙ্গে যোগ হয়েছে আড্ডা ও ভ্রমন নেশা .মানুষের ভালবাসা তার পরম কাঙ্খিত ধন
1.)
কবিতা
সে জীবন
বৃথাই বুনো স্বার্থের জাল
হৃদয় স্বপ্ন নীড়ে
মিথ্যা খোঁজা সোনার হরিণ
আশা নিরাশা র . ভিড়ে
পাবে না সুখ .শীতল ছোঁয়া
পুড়বে দুখ দহনে
আলেয়াকে ভাব যদি আলো
ডুববে আঁধার গহনে
যাদের তুমি ভাব আপন
তারা শুধু সুখপাখি
মিলবে না প্রতিদান কনা
অশ্রু তব ভরাবে আঁখি
তবে কেন এত তৃষ্ণা বুকে ?
কেন এত মোহ মায়া ?
এতো শুধু নির্মম বিবর্ণতা
মিথ্যা মরীচিকার কায়া
নাও খুঁজে সেই অন্য জীব
যা চির সুন্দর সত্য
যেথায় নেই হীন দীনতা
সঙ্কীর্ণতার বৃত্ত
চাও কি বরের চরম দান ?
তবে বুঝহ সত্ত্বর
জীবিকার চেয়ে জীবন খোঁজা
অনেক মহত্তর
মুছে ফেল সব দ্বিধা দ্বন্দ্ব
বাড়াও তোমার হাত
নাও খুঁজে সেই অন্য জীবন
চেনাও মানব জাত
2.)
কবিতা
আহ্বান..
শ্রেষ্ঠজীব মানুষ তুমি ভাই নিজমাঝে নিজেকে খোঁজো
সসীমের মাঝে অসীম তুমি
কেন সার নাহি বোঝো
ধ্বংসের পড় জাগে সৃষ্টি
রাত্রি আসে দিবাশেষে
মৃত্যুতে থাকে নবজীবন
ভয় কেন অমানুষে
পাষান ক্ষয়ে শতধারায়
বরফ গলে রবির তাপে
হৃদয় মাঝে উষ্ণতার পারদ
নিম্নমুখী কার শাপে
লোভ স্বার্থপরতা হিংস্রতায়
বাঁচা আজ খান খান
অমানবিক ঘৃণার স্রোতে
ভেসে যায় তাজা প্রাণ
বিকৃতকামী বর্বর দংশন
দহে ধর্ষিতা তনু
হিংসাঘাতে কাঁদে মানবাত্মা
বিবেক নতজানু
আনাচে কানাচে বঞ্চনা ক্ষোভ
চেতনা দিশাহারা
রক্তপিয়াসী হায়নার দাপটে
ক্ষতবিক্ষত ধরা
জাগো দুরন্ত দামাল তারুণ্য
ফেটে পড় রুদ্ররোষে
জ্বালাও বিদ্রোহ আগুন
মস্তিষ্কের কোষে কোষে
ঝেড়ে ফেল হতাশা বেদনা
জাগাও পৌরুষ
মুছে দাও ধূসর বিবর্ণতা
ফিরুক জৌলুস
3.)কবিতা
আজব লীলা
অনাদিকাল চলছে ভবে
ভাঙা গড়ার খেলা
লীলাবিলাসী বাজিকরের
এ এক আজব লীলা
কেউ বোনে ধংসের বীজ
কেউ করে সৃষ্টি
কেউ তুলে কালবৈশাখী ঝড়
কেউ স্বস্তির বৃষ্টি
কেউ ছড়ায় হিংসার বিষ
বিলায় প্রেম কেহ
কেউ মারে ঘৃনার চাবুক
কেউ বা করে স্নেহ
কেউ সমাজের বিভীষিকা
অমানিশার কালো
কারো মহানুভবতার সূর্য
জগতে দেয় আলো
কারো নিঠুর বর্বরতায়
ঝরে যায় প্রাণ
কারো উদার মানবিকতা
জীবন করে দান
লীলাময়ের করুনা ধারায়
অমঙ্গলই হারে
যুগে যুগে সুন্দরের জয়
দেখেছে সংসারে
4.)কবিতা
প্রতীক্ষার আলো
সেটা ছিল সুস্বপ্নের রাত
সান্ত্বনার ঘুম ভাঙে মোরগের ডাকে
সকাল তখনো বেশ বাকি
শুধু ভোরের আবছা আভা জানালার ফাঁকে
সন্দিগ্দ্ধ মনে তাকাই বাহিরে
ভেসে যায় হালকা সাদা মেঘ নির্মল আকাশে
নেই মাঝ রাতের তারার ভিড়
শুধু দিগন্তে ঢলে পড়া মায়াবী ম্লান চাঁদ ভাসে
চারপাশের নিস্তব্ধতার ঘোর
ফুটন্ত রহস্যময় নৈসর্গিক ছবি ধরণীর বুকে
মন ভালো লাগা স্নিগধতা
টেনে নিই একবুক বিশুদ্ধ বাতাস প্রানভরে সুখে ফিসফাস ভাঙ্গায় আড়ষ্টতা নিঝুম গাছগাছালি
তোলে জাগরণী মৃদু মূর্ছনা যত পাখ পাখালি ফুলবন ভাষায় তার সুগন্ধি নির্যাস
বিলায় মিথি স্বাদ হালকা বাতাস
অপূর্ব মুহূর্ত ফুটে মনের দর্পনে
ডুবি মুগধ আবেশে অতি সন্তর্পনে
জীবন হারায় যত তাপ উত্তাপ
বিশ্বাস বৃন্তে ফোটে প্রত্যাশা গোলাপ
যায় উবে দীনতা বিষাদ যাপন
জাগে হৃদয়ে ভালোর মাতন
কুয়াশার চাদর ঠেলে আসে প্রতীক্ষার আলো
ভাসা মেঘ আর না যেন ঢাকে এটুকু ভালো
5.)কবিতা
দেশমাতা ও তার ডাক
স্বপ্ন মাঝে হলো সে আবির্ভুতা
অবিন্যস্ত এলো কেশ
ক্ষতবিক্ষত রুক্ষ শরীর
জীর্ন মলিন বেশ
আঁধার ফুঁড়ে উঠল ঝরে
আলোক রাশি রাশি
এক চোখেতে ঝরছে বারি
আর এক চোখে হাসি
মমতাময়ী রূপের মাঝে
ঠিকরে পড়া জ্যোতি
ভস্মমাখা কাঞ্চনকনা
সাক্ষাৎ মাতৃমূর্তি
ক্লান্ত মুখের এমন মায়ায়
জাগালে কেমন টান
কোন গায়ের মাইয়া গো বলো
কার বা আম্মাজান
মধুর হাসির ঝর্ণা ঝড়ায়ে
বললে অভিমানী
নির্যাতিতা দেশমাতা গো আমি
সবার অভাগা রানী
দ্বীন মেহনতির সোহাগী মেয়ে আমি
স্বত্তভোগীর মা জান
কেবলি বাপ্ মা করে যত্ন লালন
পোলারা মোর শয়তান
তস্কর লোভীরা খুঁচিয়ে মারে
নীরবে আমি কাঁদি
শ্রমজীবীর লালনে এখনো
আশাতে বুক বাঁধি
স্থলে জলে শূন্যে উড়ে ধ্বজা
শ্রমজীবীর রক্ত ঘামে
লুটেরারা শুধু লুটতে থাকে
আমার সেবক নামে
ভন্ডরআ শোষণ করে ব্যাথা বাড়ায়
সম্ভ্রম কাড়ে রক্ত ঝরায়
অস্থির করে শান্তি সরায়
বারুদের গন্ধে বাতাস ভরায়
পাপীর পাপে পুন্য পালায়
সুখ নাই কারো ওদের জ্বালায়
তাই যাদের জীবনবাজি উপহারে
টিকে আছে মোর প্রাণ
সেই চির উপেক্ষিত দধীচিদের
করি আকুল আহ্বান..
ওগো পালক পিতা শ্রমিক মজুর
তোমরা দাঁড়াও ঘুরে
বজ্রনাডে লও কেড়ে সম্মান
ভন্ডদের হটাও দূরে
6.)কবিতা
তুমি আসবে বলে
তুমি আসবে বলে .যতনি কৌশলে
সাজায়েছি এ কুটির মোর
পথপানে চেয়ে .আগমনী গেয়ে
বিনিদ্র রজনী হলো ভোর
নব স্বপ্ন ঘোরে .পাতার মর্মরে
বারে বারে চাহি চমকি চোখে
আশা পিছে ঘুরি .আঁখি হলো ভারি
তবু কাটি কাল শঙ্কিত বুকে
নভ নীল মেঘ .বাড়ায় উদ্বেগ
বায়ু হলো বিষের আগার
পাতকের তাপে .দীল উঠে কেঁপে
আঁখি পাশে নেমেছে আঁধার
মাতৃ স্নেহ ধারা .হলো মূল্যহারা
কাঁদিছে দুঃখে জনক জননী
আত্মসুখ তরে .ফাঁকি দিয়া হ' রে
হাসিছে পামর সহোদরে হানি
রক্ত মাংস স্বাদে .হিংস্র উন্মাদে
ক্ষতবিক্ষত রমণিরতন
ধ্বংসের ছলে .মারণাস্ত্র বলে
রক্ত পিয়াসীরা কৰিছে যত্যান
বৈরিতায় ভরা .থরথর ধরা
প্রমাদ গণিছে সাধের পৃথিবী
উপেক্ষা বঞ্চনা .বাড়ায় যন্ত্রনা
ছড়াছড়ি ঘৃণ্য অকল্যাণ ছবি
নেই প্রতিবাদ .নেই শঙ্খনাদ
চেতনা বাঁধা স্বার্থের ফাঁদে
হিংসা রাজত্বে .শোষণ কশাঘাতে
জর্জরিত মানবাত্মা কাঁদে
প্রেম প্রীতি মায়া .হারায়েছে কায়া
লোভ লালসার তীক্ষ্ন বাণে
সত্য ন্যায় ধর্মে .ঢেকে মিথ্যা বর্মে
অত্যাচার মুঠি ধরে টানে
বিবেক গর্জন .হয়েছে বর্জন
তৃণসম শক্তিহীন হয়ে
বেদনার্ত মনে .শুধু তোমা পানে
প্রতীক্ষায় কাটে দিন ভয়ে
পাপাচারে হরি লয়ে শান্তি বারি
পুন্ হাসাবে জীবে এ ভূমন্ডলে
আঁধার টুটিবে .আলোক ফুটিবে
মহাকাল তুমি আসবে বলে
ধীরেন্দ্র নাথ বাঙাল
7.)
কবিতা
শিক্ষক
আপনি আদর্শ শিক্ষক এ সমাজের
উজ্জ্বল ভাস্কর
আপনি বরেণ্য নিষ্ঠাবান
সেরা মান্যবর
আপনি জ্ঞানের আলোক বর্তিকা
ব্রতী পন্ডিত প্রবর
যাহার কিরণ ছটায় আলোময়
আঁধার চরাচর
আপনি সংবেদী স্নেহশীল
সোহাগী সুন্দর
নবজীবন রূপকার আপনি
দক্ষ কারিগর
অনাড়ম্বর জীবন কান্ডারি আপনি
নিপুন প্রতিভাধর
দেশ জাতির মেরুদন্ড আপনারই
আদর্শ নির্ভর
সেই সম্মানীয় শিক্ষক আপনি
ভাবুন তৎপর
সমাজের আকাশে কেন উঠেছে
কালবৈশাখী ঝড় ?
আয়নার সামনে দাঁড়ান একটু
নিন নিজেকে দেখে
লোভ লালসার ছাপ কি রয়েছে
সেই নির্মল মুখে ?
শুভ্র সমুজ্জ্বল চরিত্রে কেন পড়ছে
অশ্লীলতার চিন্হ ?
নিরহংকার হৃদ সরোবরে কেন
বিকৃত প্রতিবিম্ব ?
শিক্ষক আপনি তাকান ফিরে
স্মরি নিজ গৌরব
আজকের শপথে হোক উদ্ভাসিত
শ্রদ্ধাঞ্জলি সৌরভ
8.)কবিতা
বিশ্বায়নের সভ্যতা
ছুটছে সভ্যতা বিশ্বায়নের ধ্বজা হাতে
বদলাচ্ছে জীবন নব্য ধারার প্রতি ভাতে
চিমনির ধোঁয়া ঢাকিছে স্বচ্ছ নীলাকাশ
হারাচ্ছে বিশুদ্ধতা জল মাটি বাতাস
হারাচ্ছে সবুজতা গুল্ম গাছ গাছালি
হারাচ্ছে জিন কত পশু পাখ পাখালি
হারায়েছে শান্তিনীড় সুশীতল ছায়া
হারায়েছে এ জীবন প্রেম প্রীতি মায়া
হারায়েছে লোকগাথা রাখালিয়া বাঁশি
হারায়েছে মজলিশ বাঁধভাঙা হাসি
হারায়েছে মাঝিকন্ঠে ভাটিয়ালি সুর
চাঁদের মায়ায় মন হয় না বিভোর
উঠে না চমকি মন জ্যোতিষ্ক ঝলকে
নদীর ছলাতে মন মাতে না পুলকে
হারায়েছে বিবেক বোধ মানবিক মনে
যাচিছে ভালোবাসা অর্থের ওজনে
নকল ভালোবাসায় প্রেমহীন ছাপ
মিথ্যার ভিতে ক্ষীণ অতি আন্তরিক ধাপ
হারায়েছে সভ্যতায় আবেগ অনুভূতি
আছে শুধু হাহাকার অ সুখ অতৃপ্তি
9.)কবিতা
রাখিবন্ধন
রাখি পূর্ণিমার পুন্য লগনে
সাদা মেঘ আকাশে ভাসে
বাঁধবে রাখি প্রেরণা প্রীতি
ভালবাসা ফুল ফোটানো আশে
পরাবে রাখি সুজন ভাইয়ের
বিশ্বস্ত সেই হাতে
যে হাত দেবে সোহাগ আশীষ
রক্ক্ষিবে অপঘাতে
যে হাত অপূর্বের দীপ জ্বেলে মনে
খুলে দেবে রুদ্ধ দ্বার আলোর অঙ্গনে
ভ্রাতৃত্বের স্নেহসুধা ছড়াবে অন্তরে
পুজিবে অনন্তে সাদা পবিত্র মন্দিরে
বজ্র কঠিন হবে কর্তব্যের টানে
বিতাড়িবে দুর্যোধন ও দস্যু দশাননএ
যোগাবে সবল সাহস নারী ও দুর্বলে
হানবে আঘাত হিংসা প্রতিহিংসা মুলে
সরাবে কদর্য জঞ্জাল ঘোচাবে অশ্রুজল
হীনতার পঙ্কে ফোটাবে প্রেম শতদল
মুছে দেবে বিস্বাদ নিরানন্দ প্রাণে
ভরাবে জীবন আনন্দে আলো বরিষণে
যে হস্ত পরশে হবে মানবাত্মা ধন্য
বিচরিবে হৃদ মাঝে বিবেক চৈতন্য
সেই হাত গড়ে উঠুক মানবের অঙ্গে
পুন্য হোক এ বন্ধন সুন্দরের সঙ্গে
১০.)
কবিতা
আমার মা
ঝাঁ চকচকে বাড়িটার পাশে
ছোট্ট টালির ঘরে
শীর্ণকায় ফোকলা বুড়ি
ময়লা কাপড় পরে
মাদুর পাতা ছেঁড়া বিছানায়
বসে সে চিন্ময় মুর্তি
পুটুর পুটুর তাকাই নিজের
সাজানো বাগানের প্রতি
কোন অভিযোগ খাটে না তার সবে আত্মসুখে ভাসে
মাতৃত্ব তার পায় না কদর 
তা জানায় দীর্ঘশ্বাসে
তবু মমতাময়ী রূপটি তার
হয় না মোতে বদল
নাড়িছেঁড়া ধনে নিংড়ে দেয় তার
স্নেহমাখা শেষ সম্বল
রাতবিরেতে যখনই আমি
বাড়িতে রাখি পা
ক্ষীণস্বরে উঠে সে জিজ্ঞাসি
এলিরে তুই খোকা ?
আমার পদশব্দ মুখের ভাষা
সবই যে তার জানা
সেই উপেক্ষিতা অশীতিপর
আমার জন্মদাত্রী মা
কালের স্রোতে দিয়ে পাড়ি মা
পেল বার্ধক্য চড়া
বেদখল হল সাধের সৌধ
স্বপ্ন ফুলে গড়া
হারালো সে চালিকা আসন
পেল কাঙালপনা
ফুটো চাল টালির ঘরে
কাটে দিন আনমনা
পায় কারো একটু খাতির
খায় অবজ্ঞার ভাত
আকাশ পানে তাকায়ে বলে কোথা তুমি নাথ ?
দেখো মোদের সাধের ধন
রেখেছে কেমন সুখে
সইতে আর পারি না ওগো
নাও এবে ডেকে
সকাতরে মা আমায় বলে
দিসনে ব্যথা ওরে
প্রতিটি ভোরের আসে বিকেল
জানাই আমি তোরে
কালের নিয়ম বড়ই নির্মম
শুধরে নে তুই বাছা
ভক্তিভরে বলরে অবুঝ
ক্ষমা করো গো মা

বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৮

ARTICLE'S CLUSTER এর কলমে কবি শুভদীপ পাপলু

কবি-পরিচিতি :
--------------------

শুভদীপ পাপলু-র জন্ম ১৮ নভেম্বর ১৯৮২ , হুগলী জেলার চুঁচুড়ায়। বাবা পেশায় ব্যবসায়ী,মা গৃহবধূ।কবিতার আবহেই বড় হয়ে ওঠা।
লেখালেখির সূচনা ছোট থাকতেই। প্রথম যৌথ কাব্যগ্রন্থ 'প্রতীক্ষা' প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে। সে সময় থাকলেও,বর্তমানে পদবীশূন্য।২০১৮ সালে শব্দসাঁকো থেকে যৌথ কবিতাপুস্তিকা 'কড়ি বরগায় প্রশান্ত ঢেউ-সমাপ্তিকা' বের হয় কোলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলায়। বর্তমানে শহর কলকাতা,মফঃস্বল ও গ্রামাঞ্চল থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা এবং ব্লগজিনে লেখালেখির সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। বিয়ে ২০১৩ সালে,স্ত্রী শিক্ষকতার সহিত যুক্ত।



**************************************
১। বেলা, বোস নয়
     *************

সিঁদুর দান সমাপ্ত;লগ্নভ্রষ্টায়
এবার মালকোষ রাগ ধরো।

জানি,ডুবে যাব জলোচ্ছ্বাসেই।
তবু,যদি পরাগমিলনের নিগূঢ়
ইতিহাসে,হয়ে যায় কণ্যা বিদায়-

বা,বিধবা হয় নারী-সমগোত্রীয়...

তবে তাকে সন্ধিবিচ্ছেদ শিখিও;
যেহেতু,পুষ্পসজ্জিত এই তদ্ভব মূর্তি
হতে ক্ষরিত ' শ্রী শ্রী দুর্গায় নমঃ'।

সমকামে নিশ্চিহ্ন যত ছেদ-যতি,
তার চেয়ে অধিক কামাতুর,ধর্মও।

অনবদ্য তুমি;মূর্ত দৈহিক চলাচলে
যেন,হঠাৎ মৃত্যুর মতো,চোখ খোলা...

এই রূপ অর্জন করেছে বহু সুখ্যাতি।
কখনও জঙ্গলে,কখনও বা দাবানলে,
কারণ পা'দুটো দাঁড়িয়ে গেছে,বেলা!

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^


২। লোপামুদ্রার মুদ্রাদোষ
     *******************

দুর্গা'কে উপভোগ করেছি,শখে
যুবক বেশে পাথরপ্রতিমা'তে-
মধ্যবয়সে তা ধরা পড়ে গেল।

বয়ঃসন্ধি ভিন্ন সুযোগ ফস্কালেও
সর্বদা থেকেছে আমারই পক্ষে...

শ্বেতবস্ত্রে ঢাকা সন্তান-সন্ততিতে।

পরিচারিকার ঠোঁটে মৃদুমন্দ তিল।

এ পরীক্ষা,প্রস্তাবিত কাঁচা টাকা,
কখনও ছুঁইনি ভগ্নাংশে,বা খরচে।
এখন লাল তারিখও সুবীর্যবান...
লোকগানের ধুন,কক্ষপথে অমিল

নিশ্চিন্তে চাঁদ নামে হাওড়া ব্রিজে
জলের প্রকোষ্ঠে জাগে নীহারিকা।

মনুসংহিতায় পরিযায়ী স্লোগান...

শুস্ক স্তন লোপামুদ্রার;শঙ্খচিল
ডানা ঝাপটায়,প্রযত্নে জনসমীক্ষা।

^^^^^^^^^^^^^^^


৩। সংলাপ
     ******

...অথচ বিপ্র সম্ভাষণে ধর্ম হয়,ধার্মিক বিচ্ছিন্না।
প্রব্রজ্যিকা;সুতরাং নিরুক্ত প্রজ্ঞা-পারমিতা
অক্লেশ বক্ষে নিমজ্জিত,হত শৃঙ্খলমোচন।
লোলুপ হরষে 'শ্রী শ্রী পুরুষোত্তম চন্দ্রিকা'য়
ও,পক্ষান্তরে শরণাপন্ন মন্ত্রে সন্তান জন্মায় শর্বরীর।
দিনান্তে,এই হল সুকর্ম;যে উচ্ছিষ্টে ক্লান্ত,গণদেবতা।
তবুও বর্ণমালা,তীব্র রহস্যময়ী এই শালগ্রাম শিলায়
নীরা'র বিপন্ন প্রত্নতত্ত্ব,কেন করেছো পাঠ্যসূচি?

বছরভর শয্যাসুখ রচিত হয় একাকিত্বে,সন্ন্যাসে।
তোমার বধ্যভূমি হতে উত্থিত আঁচলে,বর্ণমালা-
রামধনু সৃষ্টি হয়,অস্ফুটে।
তীক্ষ্ণ সেই-ই রশ্মিগুচ্ছ-অজুহাতছিন্ন,নবকলেবরের
অমোঘ শর্তাবলী,লিপিবদ্ধ করি,তৃষিত নয়নে।

বর্ণমালা,আমাকে প্রসবযন্ত্রণার উদাহরণে রেখো।

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^


৪। স্তর
    ****

কবিতা'র দুর্গ উদ্ধার,সংকোচে।
সম্বল অভিনেত্রী,পরমুখাপেক্ষী-
'ব্যোমকেশ গোত্র' সত্য খুঁজছে
রহস্য যেন প্রায় শংঙ্কিত,সাবেকি।

শুক্রাণু খরচ তো নিঃশর্ত খাজনা।
শরীর শুনেছে,প্রভাতী আগমনী-
সহমরণ পুড়ছে,যেন অগ্নির প্ররোচনা
পেয়ে,নারী সেজেছে যুদ্ধের ধমনী।

অপরিচিত আজ সমস্ত শব্দার্থ।
ব্যর্থতা নেই একাদশী সৎকারে।
শুনেছি,পৃথিবী ঘুরে চলেছে অনবরত
অবরুদ্ধ স্নান,মানস সরোবরে...

প্রাচ্য অনেকাংশে গর্ভস্থ,প্রবন্ধে।
স্ত্রী' তো জন্মান্তরেই,দেহাতি ঝর্ণা-
বীতশ্রদ্ধ,বিষাক্ত,যোণিপথের মধ্যে
তুমি আয়ুস্মতী হও,মৃত্যু যন্ত্রণা...

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^


৫। চলতে চলতে,একলা
     ******************

ভাত বেড়ে এনেছে,বাঙাল ভাষা।

দূর সম্পর্কে ছোট'দ্যাওর,মনোবিদ।

ঘামে,অবিশ্বাসে,কেবল সর্বনাশ-
বিপদসীমা ঘেঁষে বয়ে চলে নেশা।
আর,শবদেহ কাটে,প্রণয়ের সিঁধ।

এসো প্রেম,নব্য স্বৈরাচারী ভূমিকায়,
আত্মহত্যার প্রজন্মে হও স্বয়ংসম্পূর্ণা,
ভ্রম স্বয়ং ব্যর্থ হোক,সংশোধন ছাড়া।

লাখ টাকা উপেক্ষিত,বিচ্ছিন্ন কর্তায়-
যেন ধ্বংসের বিবিধ পিয়ানো শোনা
সরু কর্মফলে ত্রস্ত,ছদ্মবেশী মারিচ!

ঘুম থেকে রাত গড়িয়ে গেলে,ওরা
নাম রাখে প্রথম মেয়ের,'সম্ভাবনা'।

তবু,কবি'র রোদে পড়েছে,দু'টো স্টিচ।

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^


৬। মৃগয়া,ও একটি সঞ্চারী রাগ
    *************************

কোষ্ঠী ও আনারকলি'র পৃথক দেহ ছুঁয়ে,অগ্রগামী
বিকৃতি যেদিন গুনেছে জনসংখ্যা,সেদিন অনাদরে
বুঝতে শিখেছি,হত্যার শিরোচ্ছেদ আমার জন্মভূমি
যে,নর-নারী রূপে পালিত হয়,অন্তঃস্বত্ত্বার জঠরে।

মৌলবাদী তাস ধ্বংসতর,পরমানু যুদ্ধ অপেক্ষায়
অথচ,এ দোষ সর্বগ্রাসী,রূপকার্থের দ্রাঘিমাংশে।
প্রণামী দিয়েছি যে মুহূর্তেই,নিচু হইনি ব্যর্থ ভিক্ষায়
শুধু,সঙ্গম সুখের লোভে,স্নান করেছি অগ্নি বেশে।

উদ্ধত মহাপ্রলয়ের তাল,পঞ্চবিংশতি দগ্ধ পরাধীন
এবং যাজ্ঞসেনী বৈদুর্য রহস্যে বস্ত্রহারা;নিয়ম মতো
আতংকিত ডানায় উপবাস;দিবানিশি বরফ কঠিন
হস্তাক্ষরে,নারী অভিশাপ নজরবন্দী,তবু উচ্চারিত।

সে তুমি বন্য গুপ্তচর,ওঁত পেতে জরায়ুর জ্বালামুখে
দুর্ধর্ষ অলস মিলনে রোজ জন্মাচ্ছি,উপন্যাস লিখে।

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^


৭। স্বভাবী
     ******

ব্যূহে,যারা-স্বভাবী'র দু'পায়ে
হৃদপিন্ড সঁপেছে,তারা পৌরুষ
পরিত্যাগে,অনাদি দুস্থ বিগ্রহ।

মায়াধীন মোহধীন ভগ্ন সন্দেহে
ওদের সম্বল জরাগ্রস্ত মানুষ...

যেমন ভরসা হারিয়ে,উপকূলে
জন্মায়,জলোচ্ছ্বাসের আগ্রহ-
মৃত্যুর আশ্বাস। তোমার নির্দেশ
ডেকে পাঠায়,ক্ষুধার্ত গুরুগৃহে।

তারা খসে অগ্রভাগে,তারপরে
মিছিলে হয়েছিল গল্প ছাপা।

তাই,এ নাব্যতার অন্দরমহলে
হৃত সংকোচে,লিঙ্গের ত্রিশূল।

তুমি চুরি করে আনো দেবকৃপা...

জনগন দেখুক পলাশি প্রান্তরে
স্বভাবী গুনছে,যুদ্ধের মাশুল।

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^


৮। শরম্
    *****

...অন্যথায়,ফিরে এসো স্বমহিমায়।

মনে পড়ে তাকে,সেই স্কটিশ মেষপালক!
যার,উদ্বাস্তু সঙ্গীত ছিল ক্রীতদাস,
তাঁর কন্ঠেই নাগরিক সমাজ,হোক
গৃহযুদ্ধের অন্তিম পরিণয়।

বেদুঈন,তুমি পুনরায় নাও কারাবাস।

বাদামী পেন্সিলে আঁকা অনুভূতি,
বিসর্জনের চাঁদে,মাননীয়-
যেহেতু ছন্দ মিলে গেছে,অনেকক্ষণ...

খোলা চুল ধরে,ধেয়ে আসে প্রতিশ্রুতি
কালের শেকলে,বাঁধা নগ্ন ছায়া-ও।

সুদে-আসলে মৃত,আপনজন-
প্রজা উদ্ধার,রাজকোষ সম্পূর্ন পরাস্ত।

তবু অনেকাংশে,এ অর্থ,সমোচ্চারিত...

এসো ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে,এসো নিরীহ
সিংহাসন;এসো শরশয্যা,করো অস্ত্রসংবরণ।

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^


৯। বর্ণমালা
    ********

ধুলো জমে যাওয়া সেই অসুখ,
পরাধীন জাতীয় পতাকা...

কোন বাস্তুদোষে তাকে নিয়ে ঘর করি?

তবু আজ ধর্মান্তরিত,ফারুক।
বিজ্ঞাপনে একাই সে,মুখ্য ভূমিকা-
সরীসৃপের ন্যায় বোবা মড়কে
সে আসে জন্মান্তরের সংসারে;এখন
তাই,অগ্ন্যুৎপাতের মুখ,বন্য। যার
সমীকরণ ছুঁয়ে দগ্ধ প্রকোষ্ঠে
স্থির,'কুমোর পাড়ার গরু'র গাড়ি'।

তুমি অদ্ভুত শিবরঞ্জিনী সুরে
পুঁতে দাও নিষিক্ত দেবালয়-
যার সমস্ত বাহন,মৃত পাঠকের পাওনা।

প্রতিশব্দের ঠোঁট কেঁপে ওঠে আদরে...

বলো,কোন পুরুষ আমি,বর্ণমালা?
স্পর্শ কি সকল কে করা যায়!

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^


১০। শোধ
       ****

এ-ভেলায় ভাসে না একটুও
বেহুলা'র অসুস্থ মেয়েবেলা।

ইন্দ্রের সুরা পান শেষ হলে,
ভিনগোত্রের অন্য কোনও
মেয়ে,সাজায় পুজোর থালা।

রোদ ছিল তোমারই করতলে।

বামিয়ান দিয়েছে সন্ত্রাসের দোহাই।
শিখেছি,বিপরীত গন্তব্য-ও
লেখার জন্য উপযুক্ত,কবিমহলে...

মা অভুক্ত মাতৃত্বের কাছেই।

আছে পার্থক্য,প্রশ্বাসে আর প্রবাদে?

ঘূর্ণাবর্তে মেশে ঈশ্বর বিরোধ।
কথা বলে ওঠে,পোড়ো মন্দিরটাও।

যেমন চাঁদ সওদাগরের ক্রোধে,
আগুন লাগায়,মৃত্যুর প্রতিশোধ...

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^


১১। আশাবরী
        ********

শিয়রে ধূপধুনো জ্বলবে,আহা কেঁদে উঠবে কত শ্রী-
বিনিদ্র অলিগলি দিয়ে কাঁধে কাঁধ,ঠান্ডা হরিদ্বার
একদিন ডানা মেলো মাছরাঙা,নিখুঁত হোয়ো শর্বরী
সব দ্বন্দ্ব মিটে গেছে হত্যা আদায়ে,'উলঙ্গ রাজা'র!

চিতা নেভে না হাল্কা সুখে;উক্তি ধৃত আবৃত মৃতের।
যে চরিত্র উপস্থিত,সে কোন দুর্যোগে রাত কাটাবে?
নিথর সুগন্ধী উপভোগে ছোটাছুটি বুদ্ধিজীবিগণের-
অস্ত্রোদ্ধারের উপায় শিখিও,ইতিহাসখচিত স্বভাবে।

এ দেহ নিয়েছে পরিতাপ,ফলাফলে ভস্ম দো-টানা।
সংহার অনুমোদিত নিম্নচাপে,অথর্ব নিরুদ্দেশ যাত্রা
পরস্পরের অভিমুখ;দহনে এনো বান্ধবীর কুমন্ত্রণা-
আর,সন্তুষ্টি জাগ্রত হলে,সূর্যাস্ত পায় উদ্ধারকর্মীরা।

বিসর্জনের উত্থিত শর্তে হৃত ক্লান্তি,ধর্ষিতা কুমারী-
পাঞ্চজন্যের তর্পণে,সদ্যোজাত দেখেছে,আশাবরী।

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

১২। এহ্সান
       *******

স্বপ্নের নেশা অপবিত্র,ভিক্ষায় অর্জিত তহবিল-
লাঞ্ছনাতেই উধাও সংসার,অতিভুজে শঙ্খচিল।
উপলক্ষ্যের ভাঁজে অতিথি এল,গান্ধার নক্সায়।
দুর্বল হেসে কামরাঙা ঠোঁট ফিরে যাক,হতাশায়।

মহামারী'র কোজাগরী ধন,সাতরঙা এহ্সান ...
সলতে জ্বলা বৌঠান!মেরে পাস্ আও,মেহেরবান।
ভাষার কাঁধে,কবিতা'র দেহ চিরাচরিত নির্লীপ্ত-
অবশিষ্ট জ্যামিতি,যেন আপেক্ষিক উপদ্রব বেষ্টিত।

অনেকটা এক্স-রে'র মতো দেখতে নখের সোহাগ,
অকস্মাৎ জাতীয়তাবাদী শব্দ,'ভাগ মিলখা ভাগ',
সম্পাদ্যের মিলনে দো-ফসলি বিন্দুর কাতর আর্জি
শাস্তি পাওয়াই তো একান্ত অধিকার,প্রিয়তম মর্জি।

কামরাঙা ওই ঠোঁট'ই,পড়ন্ত বারবেলা'র ঋণ মকুব।
ওই যৌণতাই তিন তালাক,সংখ্যালঘু'র শেষ ডুব-
পদার্থবিদ্যায়;আদর্শ বিবেক জন্মান্ধ,আংশিক মুক্ত,
শহরতলির অনশনেই চাপা পড়ে যায়,ভগবৎ তত্ত্ব।

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^


১৩। নিবিড়
       ******

উর্বর ব্যস্ত ভূগোলে যেভাবে বিভিন্ন শরীর ক্ষয়ে যায়
সেভাবে অন্তর্বাস রোদে সাক্ষী রাখি কুমারী মা'কে,
আটচালা মহিলা'র বিপক্ষে নব্য ধর্মগ্রন্থ;জিজ্ঞাসায়
উদভ্রান্ত পরিযায়ী বেশে স্বাভাবিক,ধূর্ত পরলোকে।

এখন আইন-কানুনে অণুকবিতার চতুর সংগ্রহ
হাঁক দিচ্ছে,'অক্ষরের সঙ্গীত বাজাবে বিদ্রোহী,সুর'-
উচ্চারণের নিচে লীনতাপ খসিয়ে,বিদুষী মোহ,
ব্যাকরণে ধ্বংস হচ্ছে;মন তাই অপরিচিত,রোদ্দুর।

তবু জনৈক সুন্দরি কণ্যার তারিখে শিখি,একাগ্রতা।
স্বেচ্ছায় অন্তর্যামী বিচ্ছিন্ন মতান্তর,ব্যূহে আক্রান্ত।
মৃত্যু'র অজানা,দুর্দিনে কোথায় শুয়েছিল পতিব্রতা!
বনেদি ষোড়শী'ও সেদিন শুদ্ধ ছিলো;আজ বিগত।

যতোটুকু বিশল্যকরণী,উদ্ভবে শুধুই বংশের ধারা-
জরায়ু'তে রাত কাটিয়ে সহ্যে পৃথক,পাওনাদার'রা।

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^


১৪। স্বয়ংবরা
       ********

আজ তোমাকে বলতেই হবে,অন্তঃসলিলা-

বিকলাঙ্গ রাষ্ট্রের মতো এক সন্তানসম্ভবা'কে
কি উদ্দেশ্যে শুনিয়েছো,গীতবিতান?

সৃষ্টিকর্তা'ও স্বেচ্ছাবসরের প্রাক্কালে,ধার্মিক।
জানি নুয়ে পড়বে,জল জমবে;জবাবী বিতর্কে
বীতশ্রদ্ধ,'নিগ্রো ভাই আমার,পল রবসান'।

আজ আমাকে করতেই হবে,রিপুসংযম-
ছেঁড়া নামতার সংখ্যালঘু শূন্যেই।

কিংবা অদৃষ্ট পোষিত অবাধ্য 'সঞ্চয়িতা'য়
পরিকল্পনাপ্রসূত মদনভস্মের ছাড়পত্র'কে
মৃত্যু অবধি বদনাম করে,গ্রহদোষেই
চাঁদ ঝরাব;গোপন কক্ষে দেবো প্রতিমা ভাসান।

নত,তোমার দাবি মতো;শুধু অপচয় বিহীন
দেওয়াললিখনে দাগানো,শিল্পী'র শেষ টান।

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^


১৫। মহীয়ান
       *******

আজও বিজ্ঞান ভেজে জনশ্রুতিতে
আজও রক্ত মেপে চলেছে দৈর্ঘ্যপ্রস্থ
আজও মা,ভাত বেড়েছে গণসঙ্গীতে
পোড়ো কথায় মিথ্যেরা অনুমোদিত।

ধরা পড়েছিল শ্রেণি সংগ্রামের খুঁত
তোমার দৃষ্টি কাজললতা বিহীন...
অমাবস্যার দেহে বৃষ্টির ছোপ অদ্ভুত
সুপারহিট,মহানায়িকা'ও পরাধীন-

খুন করেও জামিনযোগ্য,এ স্বদেশে।
মরে যেতেও জীবনবীমা দরকার।
ধরা যাক আজ মহাসমুদ্রের অবকাশে
রবীন্দ্রনাথই,শব কবিতা'র সৎকার।

আয়ুরেখা ছেঁড়া,মেজো রাজার প্রস্থানে।
ছন্দ নিহত উৎসব সংখ্যার পদবাচ্যে-
সন্ন্যাস নিয়েছি মাঝবয়স্কার নাচ গানে,
শিল্পীর মতো দেবীর স্তনে,নিঃসংকোচে।