নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে
স্বাধীনতার স্বাদ ২০২০ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্বাধীনতার স্বাদ ২০২০ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০

সম্পাদকীয় কলম

 

সম্পাদকীয় কলম

৭৪তম স্বাধীনতা দিবসে একটা প্রশ্ন বার বার আমাকে বিব্রত করছে আমরা কি সত্যি স্বাধীন। সত্যি কি স্বাধীন হতে পেরেছি বেরোতে  পেরেছে কুসংস্কারচ্ছন্ন শেঁকলের বেড়ি ছেড়ে।এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে বহুবার যেবার শেষবার চড়েছিলাম স্বাধীনতার নৌকা, পুষেছিলাম শখ করে টিয়া পুড়েছিলাম খাঁচায় ওর সম্মতি আছে কিনা না জেনেই।মর্জির মালিক হয়েছিলাম সেইদিনও একই প্রশ্ন এসেছিল ঊড়ে। আমরা কি আদৌ স্বাধীন?  উত্তরে বলবো কোথাও হ্যাঁ আর কোথাও না। আমরা শারীরিক ভাবে হলেও মানসিক ভাবে নই।চিন্তা চিন্তনে বার বার আবদ্ধ হয়ে পড়ি পরনির্ভরশীলতায়।নিজস্ব চিন্তাভাবনার যেদিন সঠিক বিকাশ ঘটবে সেদিন হব স্বাধীন।



কলমে - রৌদ্রাস্য চক্রবর্তী

 কমলার দেশ-দর্শন

রৌদ্রাস্য চক্রবর্তী


ঘনান্ধকার স্থানটি নির্ঝঞ্ঝাট-তুল্য এবং নিরিবিলি দেখিয়া কমলাকান্ত আফিঙ্গ সেবনাবস্থায় প্রসন্ন প্রদত্ত মঙ্গলার দুগ্ধ-পূর্ণ পাত্রটি রাখিয়া উপবেশন পূর্বক কিঞ্চিৎ ঝিমাইতেছিলেন, বলিতে হইলে নির্জনে বিশ্রাম করিবার উপক্রম করিতেছিলেন। কিন্তু আফিঙ্গর নেশাবস্থাতেও তিনি যেন সুস্পষ্ট দেখিতে পাইলেন যে কোনো একটি সজীব বস্তুর স্পর্শে দুগ্ধপাত্র আন্দোলিত হইলো। ক্ষণমাত্র বিলম্ব না করিয়া তিনি দক্ষিণ হস্ত দ্বারা উক্ত সজীব বস্তুটিকে চাপিয়া ধরিতে ধরিতেই বলিলেন, ‘ওহে মার্জারী, তুমি পুনরায় আসিয়াছ? সেদিন আমার ভাগের সম্পূর্ণ দুগ্ধটুকুই নিঃশেষ করিয়াছিলে। সেদিন সমাজধর্মের নিকট নতিস্বীকার করিয়া একপ্রকার নিরস্ত্র হইয়াছিলাম ঠিকই।  তথাপি বারংবার তাহা সওয়া যায়না। পুনরায় অদ্য তোমায় আমি দুগ্ধ ছাড়িব না। কিছুতেই না।’

কিন্তু এমন সময় আফিঙ্গর নেশা অতিক্রম করিয়াও তাঁহার কর্ণে এক কামিনীর ক্রন্দন-স্বর প্রবেশ করিল যেন। তাহার উৎসাভিমুখে দৃষ্টিপাত করিয়া  তিনি দেখিলেন এক সধবার চিহ্নযুক্ত রমণী আলুলাইত কেশে আনত-বদনে বসিয়া রোদন করিতেছে। পরনে একটি রক্তিম-পাড়যুক্ত শুভ্র বস্ত্র বিশেষ, কিন্তু তাহা মলীনতার স্পর্শযুক্ত। দুগ্ধ-পাত্র উপরিস্থিত তাহারই দক্ষিণ হস্তটি কমলাকান্ত স্বহস্তে চাপিয়া ধরিয়া আছেন।  বোধকরি চুরির দায়ে ধরা পড়িয়া সলজ্জ হইয়া ক্রন্দনে রত হইয়াছে। যথারীতি কমলাকান্ত রোদনের কারণ জিজ্ঞাসিলে সে রমণী উত্তর প্রদানে বিরতই থাকে। তথাপি কমলা পরোপকারজনিত মোহাবেশেও তাহাকে দুগ্ধপাত্রের প্রতি অধিকার অর্জন হইতে বিরত রাখিলেন। বেশ কয়েকবার ক্রন্দনের কারণ জানিতে চাহিয়াও উত্তর না পাইয়া কমলাকান্ত একাকিত্বকেই রমণীর দুঃখের কারণ জ্ঞান করিয়া আপন মনেই বলিতে থাকিলেন

- কেহ একা থাকিও না। যদি অন্য কেহ তোমার প্রণয়ভাগী না হইল, তবে তোমার মনুষ্যজন্ম বৃথা।… পুষ্প আপনার জন্য ফুটে না। পরের জন্য তোমার হৃদয়-কুসুমকে প্রস্ফুটিত করিও।…ওহে কামিনী-পুষ্প তুমি পরের জন্য তোমার হৃদয়-কুসুমকে প্রস্ফুটিত করনা কেন?

এইবারে রমণী ক্রন্দন সম্বরণপূর্বক বলিলেন, ‘পরের জন্য ভাবিতে ভাবিতেই তো আমি যে নিঃস্ব হইলাম ঠাকুর! আমার জন্য কে ভাবে! জন্ম-লগ্ন হইতেই যে আমায় মন্দার-পর্বত করিয়া গোষ্ঠীর পর গোষ্ঠী, শক্তির পর শক্তি নিজেদের ভাবনাই, আত্ম-স্বার্থ পূরণ করিয়া চলিতেছে। কিন্তু আমি-’ বক্তব্য অসমাপ্ত রাখিয়াই সে ক্লান্তি জুড়াইয়া লইলেন কিয়ৎক্ষণ। 

এমন সময় কমলাকান্ত নেশার ঘোরে যেন দেখিতে পাইলেন তাঁহার তিন দিক হইতে যথাক্রমে গেরুয়া, সাদা ও সবুজ বস্ত্র পরিহিত তিন মনুষ্য-গোষ্ঠী আসিতেছে। সকলের মুখে সেই কত বৎসর পূর্বে শ্রীযুক্ত বাবু বঙ্কিমচন্দ্র নামক জনৈক ব্যক্তি রচিত একটি অতীব জনপ্রিয় শ্লোক- ‘বন্দেমাতরম, বন্দেমাতরম, বন্দেমাতরম’। 

এবার কমলাকান্ত রমণীর সমস্যা সমাধান করিয়া তাহার ক্রন্দন জনিত উপদ্রব কাটাইতে তৎপর হইয়া বলিলেন, ‘নাও হে, তোমায় দেখিবার নিমিত্ত ত্যাগী, শান্তিকামী ও বীর সন্তান আসিয়াছে। এবার তুমি ক্রন্দনে বিরতি দিয়া আমার বিশ্রামে যথাসাধ্য সাহায্য করো হে বামা।’ বলিয়া কমলাকান্ত রমণীর প্রতি বিদায়-জ্ঞাপন জনিত করজোর করিলেন।

তথাপি রমণী গেরুয়া বসনের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া বলিলেন, ‘উহারা? উহারা আমায় মাধ্যম করিয়া নিজেরাই ক্ষমতার স্বার্থ পূরণ করিতে তৎপর যে। উহারা আমায় কি সঙ্গ দিবে!’ সবুজের দিকে নির্দেশ পূর্বক কহিলেন, ‘ইহারা ও অনুরূপ। আমায় সাক্ষী রাখিয়া নিজেরা যথেচ্ছাচার করে চলে! আর শুভ্র বেশধারী? ইহারা এতটাই শান্তিপ্রিয় যে, কাহারো কিছুতেই কোনো চিন্তা নাই। ইহারা নিজেরা উদরপূর্তি-পূর্বক গ্রাসাচ্ছাদনেই মগ্ন। নিজেদের জন্মদাত্রীর প্রতিও ইহাদের দৃষ্টি-করিবার সময় বোধ করি নাই। ইহার সকলেই যে একা। কেবলমাত্র কিছু লভ্যাংশের স্বার্থে পরস্পর প্রকাশ্যে মিত্রতা বজায় রেখে চলে। দেখিতেছ না ঠাকুর, আজ প্রভাত হইতে আমায় লইয়া কত হাঁক-ডাক, কত ভক্তি, কত উচ্চ-বক্তৃতা, সংগীত, নৃত্য হইবার পরেও আঁধার ঘনাইয়া আসার সঙ্গে সঙ্গেই এখানেই আমায় ফেলিয়া রাখিয়া উহারা ভোঁ-ভাঁ! কল্য হইতে আমার কথা ভাবিতে ইহাদের সময় কই?’

এবার কমলাকান্ত কামিনীর প্রতি বিশেষ মনোযোগ যুক্ত দৃষ্টি প্রেরণ করিয়া জিজ্ঞাসিলেন, ‘তোমার প্রকৃত পরিচয় কি কামিনী?’

   -আমি? আমি ভারতী।

রমণীর পরিচয় জানিয়া ইস্তক কমলাকান্ত নেশার ঝিমুনিতে বুঁদ হয়ে আফিঙ্গের কৃপা উপভোগ করিতে লাগিলেন। কিছুকাল এইরূপে অতিবাহিত হইবার পরে স্বপার্শ ও পশ্চাৎআদি চারিদিকে চাহিয়া দেখিলেন কিছু ত্রিবর্ণ রঞ্জিত ধ্বজা বিশেষ ছিন্নবস্থায় ভূলুণ্ঠিত, তাঁহার পার্শেই একটি উল্লম্ব দণ্ডাগ্রে বৃহদাকার অনুরূপ একটি ধ্বজা বিশেষ এবং কিঞ্চিৎ দূরত্বে কোন এক প্রতিকৃতি অযত্নে পড়িয়া আছে। প্রতিকৃতিটির প্রতি প্রবলভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করিয়া বার কয়েক ‘ভারতী’ শব্দটি মৃদু স্বরে আবৃত্তি করিতে করিতেই কি জানি কি মনে করিয়া কমলাকান্ত রমণীর প্রতি শ্রদ্ধাবনত হইলেন।

সম্মুখে স্বয়ং দেশমাতৃকা-দর্শনের সৌভাগ্য বিষয়ে কমলাকান্ত বিশেষ আবেগবিহ্বল। ক্ষণকালের মধ্যে করজোড়ে ‘সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে, শিবে, আমার সর্বার্থসাধিকে! অসংখ্যসন্তানকুলপালিকে! ধর্ম, অর্থ, সুখ, দুঃখদায়িকে! আমার পুষ্পাঞ্জলি গ্রহণ কর।’ বলিতে বলিতে মাতৃ-চরণে প্রণত হইলেন।

এরপর দেশ-মাতৃকাকে প্রত্যয় প্রদান-পূর্বক বলিলেন, ‘যাঁহার প্রায় একশত আটত্রিশ কোটি সন্তান- তাঁহার ভাবনা কি?’

- ভাবনা নয় বাবা। ভাবনা নয়। ক্ষুধা। এই একশত আটত্রিশ কোটিই বৎসরে প্রায় বার তিনেক এমনি করিয়া কতনা পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করে, টানা-হ্যাঁচড়া করে, কতনা উচ্চাদর্শের বাণী আওড়ায়! কিন্তু আত্ম-স্বার্থ মিটিলেই সমাপ্তি। আমায় যে কেউই খাইতে দেয় না, আমার হিতার্থে কাহারো বিন্দুমাত্র ভাবনা নাই! আমার প্রতি ভাবনার মুখোশে ইহারা আপনাদের ভাবনাই পূর্ণ করে। তাই এই ক্ষুধার্ত-দুঃখী মা ভাবিয়াছিল তাঁর এক সন্তানের সম্মুখে রক্ষিত এই দুগ্ধটুকু দিয়া যদি সাময়িক ক্ষুধা টুকুও নিবৃত্তি করিয়া সন্তানকে পরোপকারের পুণ্যার্জনের সুযোগ করিয়া দিই! কিন্তু বাবা, এই সন্তানটিও ব্যতিক্রম নয় দেখিলাম-’ মা কে আর বাক্যব্যায় করিবার সুযোগ না দিয়া কমলাকান্ত অবশ্য কর্তব্য বোধে

- লও মা। গ্রহণ করো। সবল হও। 

বলিয়া দুগ্ধ-পাত্র দেশমাতৃকার হস্তে অর্পণ করিয়া আফিঙ্গের নেশায় কিঞ্চিৎ ঝিমাইয়া পরিলেন। পুনরায় মুখ তুলিয়া তিনি দেখিলেন কোথায় দেশ-মা! এ যে এক অস্থি-সার বিশিষ্ট অভুক্ত ও অপুষ্ট শিশু তাহার দুগ্ধ-পাত্র হস্তে দুগ্ধপান করিতেছে। 

সমাপ্ত

(বঙ্কিমচন্দ্র সৃষ্ট ‘কমলাকান্ত’ চরিত্রাবলম্বনে)

২৮/৪/১৪২৭




কলমে - ব্রতীন বসু

 

স্বাধীনতা দিবস 

 ব্রতীন বসু


কোন এক জন্মে আমি

তোমার মত মুক্ত হতে চাই

তোমার মত  হাসতে চাই

ছুটে যেতে চাই

রোজ 

জন্মদিন,

সামার ভেকেসান

পুজো,ক্রিসমাস,

তুমি যেভাবে 

সেভাবে কাটাতে চাই

কোন এক জন্মে

সকাল বিকেল গোলাপ ফুল খেলনা টুকিটাকি

আর স্বাধীনতার আগে কাগজের তেরঙা নিয়ে যেভাবে গাড়িতে গাড়িতে বিক্রি কর

হাসিতে খিদেতে,

হতে চাই তোমার মত 

আমি স্বাধীনতা দিবস

তুমি স্কুলে যাবে

আমি মুক্তি পাবো পনেরোই অগাস্টের বেড়াজাল থেকে।



কলমে - শোভন অধিকারী

ভারত আমার দেশ

শোভন অধিকারী


শত শত শহীদের রক্তে গড়া মোর ভারতভূমি!

বিন্দু বিন্দু গড়া শহীদভূমি।

শান্তি এই ভারতের বাণী,

অহিংসা যার মূল মহামন্ত্র ধ্বনি।

হিন্দু,মুসলিম,বৌদ্ধ,জৈনের বাসভূমি মোদের ভারতভূমি।

হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী ,

বৈচিত্র্যের দেশ এই ভারতভূমি,

নদী নালা, মাঠ ঘাট, পথ প্রান্তর, বন জঙ্গল, পর্বত ও মালভূমি এসব নিয়েই মোদের মাতৃভূমি।অতীতের পরাধীনতার ভারতবর্ষ আজ বন্ধন মুক্ত।

ভারতে আজ নেই ইংরেজ মোঘল, শক ও পাঠান।

নেতাজী, ক্ষুদিরাম,গান্ধীজী ও ভগৎ সিং আজ হয়ে গেছে ইতিহাস।

বর্তমান ভারত আজ পরিচিত দেশ।

জ্ঞান বিজ্ঞানে, শিল্পে ও প্রযুক্তিতে ভারতের ঘটছে উন্নতি।

খাঁ খাঁ মাঠ,ধূ-ধূ প্রান্তরে আজ শোনা যায়

কলের শব্দ,দেখা যায় চিমনির কালো ধোঁয়া।

উন্নত বীজ,সার,কীটনাশক প্রয়োগে কৃষি হচ্ছে সমৃদ্ধ।

অট্টালিকা,ট্রেন, বিমান শহরে হয়েছে উদ্ভব।

অতীতের ভারত আজ অলংঙ্কারে সুসজ্জিত।

ভারত তুমি ধন্য! লুন্ঠন ও উৎপাতের মধ্যে দিয়েও বিদ্যমান তোমার ঐতিহ্য।

গরীব হলেও আমরা সবাই ভারতবাসী,

আমাদের মধ্যে মিশে আছে,

ভারতীয় ঐক্যে ভারতের জয় কামনা,ভারতীয় রক্তের টান। 

তাই ঈশ্বরের কাছে মোর প্রার্থনা--

নদী নালা,পথ ঘাট,বন জঙ্গল,পর্বত ও মালভূমি,

ভারতের একবিন্দু মাটিতে 

যেন আবার জন্মগ্রহণ করি।



চিঠি ও কলমে - অর্পণ বসাক

 

নেতাজী কে চিঠি 

অর্পণ বসাক 


প্রিয় নেতাজী,

              অনেকদিন ধরেই তোমায় লিখবো লিখবো করেছিলাম।কিন্তু লেখাটা আর হয়ে ওঠে নি। কি করেই বা লিখতাম বলো,আজ যখন তোমায় লিখবো বলে স্থির করলাম,হঠাৎ ই মনে হলো তোমায় লিখব কোন ঠিকানায়? কটকের সেই বাড়িতে তো তুমি আর ফেরো নি। তাই আমার এই চিঠি বাতাস কে দিয়ে পাঠালাম।ও হয়ত নিশ্চয় কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী যেখানেই থাকো তোমায় নিশ্চয় পৌঁছে দেবে,নিশ্চয়।

       জানতো দেখতে দেখতে স্বাধীনতার সত্তর টা বছর পার করে এলাম।তুমি যে ভারত দেখতে চেয়েছিলে সেই ভারতে আজ ব্রিটিশ রা নেই,পরাধীনতার নাগপাশ নেই, ইংরেজ বাবুদের অত্যাচার নেই।তোমার ভারত স্বাধীন!

      তোমার স্বপ্নের ভারতের লোকেরা আজকেও খুব সকাল করে ওঠে ,পতাকায় মালা চড়ায়, তোমার ছবি রাখে ।দেশাত্ববোধক গায়।আর একটা ছুটির দিন কাটায়।

        না !এসব বলতে তোমায় লিখছি না। যেটা বলার ছিল, জানো নেতাজী, তোমার স্বাদের ভারতবর্ষের মাটিতেই আজ কাঁটাতার পড়েছে হিন্দু আর মুসলিমের মাঝে। যে মেয়েটা মা কে বলে গেছিলো মা !এবার তুমি দেখে নিও, আমি মস্ত বড় টিচার হবো। আর আমার দেশ কে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করব।সন্ধ্যার পরে সে আর ফেরেনি টিউশন ক্লাস থেকে। পরদিন খবরের কাগজে তার রক্তাক্ত দেহের ছবি  খুঁজে পেয়েছি আমরা।

        একটা রুটির জন্য ছেলেটার খিচুড়ির স্কুল দেখা হয় নি। দুদিন পরেই সমাজ যাদের গড়ার কথা তারাই আজ গড়ার বদলে শুধু ভেঙেই চলেছে ইটের স্তূপ,একেকটা সভ্যতার স্তুপ। ওরা হয়ত সত্যি জানে না স্বাধীনতা আর স্ব-দীনতার তফাৎ টা।

        মানবতার মাঝে কাঁটাতার টেনে তোমার প্রিয় মাতৃভূমি টা কে কতটা মানচিত্রের স্কেল ঠিক রাখা হয়েছে আমার জানা নেই। তবে এ দেশের মানুষ তোমার মত করে প্রতিবাদ করা টা ভুলে যাচ্ছে,ভুলে যাচ্ছে উলঙ্গ রাজা কবিতার সেই শিশুর মত বলতে-"এই রাজা তোর কাপড় কোথায়?" কাঁটাতারের ওপারে থাকা শয়তান গুলোকে  জওয়ানরা দেখে নেয় জীবনের বিনিময়ে কিন্তু কাঁটাতারের মধ্যে থাকা মুখোশধারী মীরজাফর দের কে পাহারা দেয় বলতো? 

     নেতাজী এবার তোমার ফেরার সময় এসেছে, তুমি এবারটি ফিরে এসো। আবার তুমি তোমার দীপ্ত কণ্ঠে বলে উঠবে "তোমরা আমায় রক্ত দাও,আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব" এবারে পরাধীনতার অধীন থেকে স্বাধীন করতে নয়। এবার না হয় তুমি ডাক দিও একটা মুক্তমনা স্বাধীনতার, একটা মানবতার স্বাধীনতার, একটা সত্যি বলার সাহসের স্বাধীনতার।

        আর বেশি  কিছু লিখলাম না। সবশেষে আমার প্রণাম নিও নেতাজী।

©অর্পণ বসাক 



                           


কলমে - আমিমোন ইসলাম

 

শুভেচ্ছা

আমিমোন ইসলাম

একমাত্র মেয়ের কোনো স্বাধীনতা নেই

বিয়ে না পড়াশোনা ঠিক করার।

ছোটো ছেলের কোনো স্বাধীনতা নেই

সাইন্স না আর্টস পড়বে, বলার।

আমাদের কোনো স্বাধীনতা নেই,

চায়ের দোকানে মনের কথা খোলার।


এখনও ভারতবর্ষে, অর্ধেক মানুষ,

দুবেলা আধপেটা খায়।

এখনও নেতাজি মোড়ে, দিনদাহারে

গুলি চলে রক্ত বয়ে যায়।

স্বাধীন শুধু বইয়ের পাতায়,

আসলে আমরা পরাধীন সবাই।

তবুও, ভারতবর্ষ তোমাকে

জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই।



কলমে - জয়ীতা চ্যাটার্জী

হত্যা:

জয়ীতা চ্যাটার্জী

দেখিনি এমন কোনো আশ্চর্য সকাল , 

যেখানে কোনো হত্যা হয়নি গতকাল। 

দেখিনি এমন কোনো নিস্পাপ মুখ, 

 হত্যাকাণ্ড লুকোয়নি যেখানে মিথ্যে সুখ। 

তন্নতন্ন করে খুঁজেছি নিজের ভেতর, 

একটা একটা করে খুন হয়েছে খুনের ওপর। 

শেষ মুহূর্তে মনে পড়ে আমার টিকিট নেই, 

যে শহর থেকে জঙ্গলে আমায় ফেরাবেই।



কলমে - পাখি পাল



স্বাধীনতার খোঁজে

পাখি পাল

স্বাধীনতা বলতে তুমি কি বোঝো..

পরাধীনতা থেকে চিরতরে মুক্তি,

নাকি দাসত্ব মোচন করার শক্তি,

স্বাধীনতার মানে তো হরেকরকম..

আজাদি,স্বাচ্ছন্দ্য, নাগরিক সম্মান,

যা অর্জনে আজও স্মরণীয় বিপ্লবী তাজা প্রাণ,

তবে স্বেচ্ছাচারিতা তো আর স্বাধীনতা নয়..

স্বাধীনতা তো সুস্থ চিন্তার বিকাশ,

যার মধ্যে থাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়াস,

স্ব-এর অধীনতা যদি স্বাধীনতা হয়..

তাহলে তার অর্থগুলো বড্ড যে যার মতো,

সুখ,শান্তি'টুকুতেই আমরা স্বাধীনতা খুঁজি কত্ত।



অনুগল্পে - অর্পিতা ঘোষ


স্বাধীন হবো কবে

অর্পিতা ঘোষ


   সবে ঘুম এসেছে রানীর, মাইকের আওয়াজে তা ভেঙে গেল। এই সাত-সকালে জোরে মাইক চালিয়ে ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দিলো দেখছি– আপন মনে বকবক করতে করতে জানালা বন্ধ করতে উঠলো রানী; আওয়াজ যাতে একটু কম আসে সেজন্য।

            জানালা বন্ধ করতে গিয়ে দেখে ওদের বাড়ির পাশে যে বড় মাঠ আছে তার উল্টো দিকে মাইক বাজছে। পুরো মাঠটাকে ছোট ছোট পতাকার মালা দিয়ে সাজিয়েছে। কোনায় একটা স্টেজ করেছে, স্টেজটাও তেরঙা দিয়ে সাজানো। মনে হচ্ছে যেন সাদা, গেরুয়া আর সবুজের মেলা বসেছে।

            রানীর মনে পড়লো আজ স্বাধীনতা দিবস। এই দিনে নাকি আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছিল। রানী গত দু- বছর ধরে দেখে আসছে  আজকের দিনে সকালে একজন পতাকা উত্তোলন করে; তারপর জ্ঞান গম্ভীর বক্তৃতা চলে বেশ কিছুক্ষণ। দেশটা যেন হটাৎ সততায় ভরে ওঠে। সারাদিন খেলা আর গান বাজনা হয়। দুপুরে সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করে।

           রানীদের বাড়ির কারোর অধিকার নেই ওখানে অংশ গ্রহণ করার, এমনকি কেউ দেখতেও যেতে পারবে না। ওরা যেন অস্পৃশ্য। অথচ ওই সব ভদ্র লোকেরাই রাতের আঁধারে কিছু অর্থের বিনিময়ে ওদের কাছে জ্যোৎস্না মাখতে আসে।

             রানীর একটু একটু মনে পড়ছে ছোট বেলার কথা। ওদের গ্রামের স্কুল বাড়ির মাঠেও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান হোতো, এতো বড় করে হোতো না, ছোট করে হোতো। খুব আনন্দ হোতো তখন।

             বাবা মারা যাবার পরে সৎমা রানীকে ওর এক পাতানো কাকার কাছে বেচে দিলো। সেই কাকা কিছুদিন হায়না হয়ে রক্ত চুষে খেয়ে অন্য আর একজনকে বেচে দিলো। তিন বাড়ি বদল করে দু- বছর হলো রানীর এ বাড়িতে ঠাঁই হয়েছে।

           না ঘুমিয়ে জানালায় দাঁড়িয়ে হা করে কি দেখছিস মহারানী; খদ্দের এলে রাতে ঢুলবি নাকি ?আজ রাতে অনেক বেশি খাটতে হবে--- মাসি জানালার সামনের বারান্দা দিয়ে যেতে যেতে রানীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললো।

রানী– আমি শুয়েই ছিলাম মাসি, মাইকের আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল, তাই জানালা বন্ধ করতে উঠেছি।

              জানালা বন্ধ করে রানী বিছানায় শুয়ে ভাবলো… ও নিজে কবে স্বাধীন হবে, ওতো অন্যের হাতে বন্দি। কেউ কি আসবে না ওকে বন্ধন থেকে মুক্ত করতে।



কলমে - সুনন্দ মন্ডল


 এ এক অন্য স্বাধীনতার গল্প 

 সুনন্দ মন্ডল


চুয়াত্তর পেরিয়ে এসেছি,

সমাজ দেখেছি, সংস্কৃতি ছুঁয়েছি

পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক সভ্যতার গালমন্দ মেখেছি!


শুধু পারিনি নিজেকে সংকুচিত করতে,

নিজের কাপড়ে দাগ লাগাতে!


আজ সেই দাগ লেগেছে,

কালিমাময় সমাজ চূর্ণ আভিজাত্যের দাপটে।

চুনরঙের প্রলেপ দেওয়া সভ্যতায় প্রত্যেক ব্যক্তি

স্বধর্মে ও স্বচিন্তায় স্বাধীন।


বাঘ বনাকীর্ণ ঘর ছেড়েছে, অন্য পশুরাও বিপন্ন!

গাছের মূল উপরে ফেলে নিধন করা হচ্ছে বংশ।


নির্ধন হয়ে উঠছে সবুজ।


সবুজের আকালে মানববাগানে ঢুকে পড়েছে অসুখ,

আরোগ্যের ন্যূনতম উপায় না খুঁজে

শুধুই বাড়িয়ে তুলছি সম্পদ!

আর সম্পদে বাড়াচ্ছি স্বাধীন সুখে স্বাদ হীন গল্প।



             

কলমে - বিশ্বজিৎ হালদার

 স্বাধীনতা উপহার

বিশ্বজিৎ হালদার  


আমার সাধের স্বদেশভূমি,

 নিমেষে দেখি 

ভাঙ্গনের উঠোন!

 উদ্বাস্তুদের পোক্ত উপনিবেশ,

 আমরা বন্দি পরিচিত কারাগারে!


নতুন শাসক মেতেছে

অচেনা অত্যাচারে খেলায়, 

শিশুর ফোঁপানো কান্না থামাতে

এক ঝিনুক দুধের জোগান নেই! 

চাবুকের শব্দে কেঁপে ওঠে হৃদ যন্ত্র,


তরুনের রক্তে যে উদ্দোম 

রানারের মতো ছুটে, 

খুঁজতে চেয়েছে অরুণ আলো। 

টুকটুকে রাঙা বুকে তাজা রক্তক্ষরণ, 

লাল রঙে এঁকেছে এলোমেলো আলপনা 

ভারত ভৃধরে।


নোনা জলে ভিজেছে 

কত না মায়ের সাদা আঁচল, 

ভয় হয় প্রদীপ যখন নিভে যায়, 

বোধির দৃষ্টির বুড়িমার দুয়ারে পায় 

পুরনো রক্তের গন্ধ! 

খোকা সেই যে গেল মুখের খাবার খেলে 

আরতো এলো না? 


বড়ো উপহার দেবে বলেছিল-” স্বাধীনতা ”

সে আবার কেমন দেখতে?

 রক্ত ক্ষরণের নতুন নিয়োম না 

নতুন অন্ধকারে বন্দি? 


মন খারাপের বারান্দায়

এসেছে বিহান বেলা

আকাশ ভরা সেই পরিচিত 

চাঁদ, সূর্য, তারা ফুটেছে শিউলি। 

শেষ ডংকারে বাজে আমাদের জয়গান "বন্দেমাতরাম" 

সবার খোকা বলে গেল 

মাগো তোমায় স্বাধীনতা দিলেম উপহার।