নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে
কবিতা উৎসব ২০১৯ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা উৎসব ২০১৯ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০১৯




নৈশ উলগুলান ।

অরূপ ।


ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদ ঘোমটা টেনে দাঁড়িয়েছে,

শেষ রাতে পেঁচার ডাক মন খারাপের সুর দিয়ে যায় ।

আধো আলো আধো অন্ধকারে মায়াময় গল্প বলে হাওয়া ।

জেগে ওঠে কবেকার সেই না পাওয়ার হাহাকার,

সীমান্তে কবে থেকে পড়ে থাকা  আবেগ; অবহেলায় পোড়ে থাকে  ধুলো মেখে,

ব্যস্ত সভ্যতার  তির্যক ভঙ্গি সহ্য করে তারা ।

সকলের রোদ লেগে মূর্ত হয় আবেগেরা,

পুরোনো সময়ের জীর্ণতা ঢাকে নতুনের আহ্বাণ

শুরু।
#আলোকলতা'র গর্ভপাতের পর
-------------------সুদীপ্ত সেন

গায়ে তোর নাম লিখে যাবো
ভেবেছিল সেই পিতামাতা।

তাই তারা কাছে আসে রোজ
শরীরে ভালোবাসা পাতা।

তবু তাও গুমরয় মেঘ
দিন গেলে ফিরে যেতে চায়

কি এমন ঘটে গেল তাদের
পাশে নেই ঘুম বিছানায়।

একদিন ফিরে গেল মেয়ে
মন বসে ভাঙা শশ্মানে।

ছেলে বলে কেন গেলে তুমি
উত্তরে ভালো থাকা নেই।

দমকানো হাওয়া এসে বলে
তুমি ছিলে পেয়েছিলে কাকে

ও'তো আগে দুমরানো ছিল
ভালোবেসে ছিল আগে যাকে।

তাই পরে ঠিক হলো তারা
নাম খানা ফেলে পিতামাতা

এটা তো তুমি চেয়েছিলে, আমি চাই--
আলোকের গায়ে দিও লতা।
বিচ্ছিন্ন


বীতশোকগ্রস্থ জীবন.......সবারই
একে 'জীবন ' বলা কেন?
কেন স্থবিরতা নয়?
মৃত মেঘের সাদা পালকের ডানায় ভাসমান জীবন-----
এ কি স্থবির নয়?
বড় নিঃসঙ্গ আর একাকী নয়?
শিশিরস্নাত জোনাকির মত.....

নাগরিক যন্ত্রণাই তো আসলে বিচ্ছিন্নতা----
ছেঁড়া চিত্রকল্পের মতো,যার কাটা হাত....
একটা কাশ্মীরে তো অন্যটা আন্দামানে
পরস্পর স্পর্শহীন,স্পর্শকাতরতাহীন আর বিচ্ছিন্ন।
বন্ধ্যা হৃদয় তবে কিভাবে বাঁচবে?
কতটা বিষ সেবনে আরো---
আরো---আরো-----আরো----
বিষ ভোক্তা নীলকন্ঠ হবে......
অনন্ত অন্ধকারের কাছে,
নীরবে নীরবে ঢলে পরবে---
চিরকালীন প্রশান্তির কাছে........


 ...............  -------------------- অর্ঘ্য কমল পাত্র
স্ফুলিঙ্গ
স্নেহা সরকার
অনেকটা বিপত্তি পেড়িয়ে একটা চারাগাছ মাটি ফুরে সবে বেড়ল , কেউ যত্ন করে টবে সাজায়নি,বা উচ্চফলনশীলতার আশায় সার দেয় নি গাছে তবুও সে সবার আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ফুটে উঠেছে।  ঠিক তোমার মতোন, যেমন করে প্রতি মুহূর্তে তোমাকে ভেঙে পড়তে হয়, কখনো তোমার কদাকার চেহারার কাছে বা, অর্থ গতির হীনমন্যতায়। তবুও কখনো, বন্ধু বা পরিবার শুধু বেঁচে থাকার সান্তনা দিচ্ছে বা প্রধান প্রামাণ্যে কিছু সংকীর্ণ মনের দয়া।। সকাল বিকেল সমাজ তোমার নিরহতার ওপর পাথর চাপিয়ে চলেছে তুমি মেনে নিচ্ছ তবুও,,,। তোমার মনের প্রতিবাদ থাকলেও মুখে একটা শ্লদ অবুর্দ আছে,, হয়তো সেখানেই প্রতিবাদের বারুদ টা  জলে ডুবে ড্যাম ধরে গেছে।। বার বার তোমার না পারা গুলো দুর্বলতার মতো অসামান্য বা সামান্য কে ছাড়িয়ে হয়েছে নিকৃষ্ট,, ঠিক ওই গাছ টার মতো।।।

তবুও,
  তুমি বেঁচে ওঠো মাটি ফুরে আবার জন্ম নাও,  যেভাবে সবার অমতেও গাছ টা উঠে দাঁড়িয়েছে নিজের জন্য।।  এতো দিনে গাছটাতে অনেক ফুল হয়েছে,,  শক্ত কিছু ডাল পালাও।। আর যারা তোমাকে একদিন নিচু করে তুলতো তারা এখন গাছ টার নিচে বসে থাকে ছায়া পেতে।।।
প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির খতিয়ান
---------------------------------
সোনালী নাগ


যদি বলি ওর কপালে লাল টিপ ছিলো না বলে আমার মন খারাপ হতো কতবার
যদি বলি ঘরের এক কোণে বসে, পাশের খালি চেয়ারটা তে ওর বসার অপেক্ষা করেছি কতো হাজার বার
যদি বলি কিশোর প্রেমের স্বপ্নের নায়িকাকে হটাৎ সহকর্মী হিসাবে মেনে নেওয়া সহজ ছিলো না সেদিন,
যদি বলি তার বৈধব্য সাজ আমাকে তোলপাড় করেছিলো ভিতর থেকে,
আটকে গেছিলাম কোথায় জানো, আমার সহধর্মীণীর কপালের গণগণ লাল আভাতে,
যদি বলি সেদিন রাত জেগেছিলাম, মন আর মস্তিষ্কের বিরোধিতা খুঁজেছিল, ভালোবাসা নাকি বৈধতা,
এগিয়ে এসে হাত টা ধরতে পারি নি বলেই হয়তো ছায়া সঙ্গী হয়ে হেঁটে গেছি করিডোর.
ভাগ্যের হাতে পরাজিত সৈনিক হিসেবে, ভাগ্যের সাথেই লরেছি আপামর.
তোমরা সেদিন ফিসফিস করে বলেছিলে কথা, কতো উপহাস সেদিন, কতো কবিতা,
নিরবতা ভেঙে প্রতিবাদ জেনো তা শুধু তোমাদের পোশাকি প্রেমের বিরুদ্ধে,
বুঝিয়ে দিতে চাই কতটা অসহায় তোমার প্রেম হিসাব নিকাশের খতিয়ান এ, ঠিক কতটা প্রেমিক তুমি ব্যর্থ,
কতটা তোমার সাজানো প্রেমের ব্যর্থতা!!

কাজের ফাঁকে চোখের ইশারায় শুধুই টিফিন বাক্স বিনিময়,
তোমরা কি এটাকে প্রেম বলে মনে নেবে এসময়?
আচ্ছা ধরো বাংলা ক্লাসে ওকে দেখিনি বলে যদি ভুল হয়ে যায় আমার ইতিহাসে?
তুমি কি মানবে বলো , আমার অজান্তে আমার মন তাঁকে ভালোবাসে,
যদি শুধু করিডোর এ পাশাপাশি হেঁটে কাটিয়ে দিই জীবনের চল্লিশটা বছর,
যদি বলি সে আমার জীবনসঙ্গী ছিলো না, আমি সাজাই নিয়ে কোনোদিন তাকে নিয়ে ফুলবাসর,
তোমরা কি ব্যাখ্যা খুঁজতে বসবে, নাকি উন্মুক্ত বাহু তে করবে আলিঙ্গন,
উদাত্ত গলায় বলবে, নিস্বার্থ প্রেমই তো শাশ্বত চিরন্তন!!

আজ গোলাপ ফুলের পাপড়ি সাজানো সে, ধূপ চন্দনে আজও সে অপরূপা,
আজও আমার সাথে কথা হয় রোজ, আজও গল্প গুলো হেঁটে চলে যাই, উল্টো ই স্মৃতির মোড়ক.
ভালোবাসার সমীকরণ এ কে বলেছে পোশাকি প্রাপ্তি আবশ্যক.
বন্ধ খিড়কির দায় (২)

*******************


কখনো মুহূর্ত চুপ !
অন্ধকার, অন্ধকার ভালো লাগে শুধু

বাবলু, তোর চোখে কত ঘুম―
এত ঘুম রাখা ছিল, জানাসনি কেন এতদিন
প্রতিবেশী কালে?
বাবলু তোর মুখ চেয়ে
ছেঁড়া খামে বিবর্ণ কালির নীল,
ওষুধ পাতায় ক্লিন্ন দাগ..

কী হয় অক্ষরবীজে!
কবিতা বাড়ানো কেন অসহ্য রকম!

মিয়োনো মুড়ির মত যন্ত্রণা ঠোঁট, আহ্..

তবু ওই রোদ দেখে,শিকড়ে শিকড়ে আলো
গুচ্ছমূলসমূহ সবুজ..

************************

পারমিতা ভট্টাচার্য, উত্তরপাড়া।
হোমে দেবো , যজ্ঞে দেবো
অমিত পাটোয়ারী

আমরা যেসব বালিকার শীতঘুমে আটকে গেছি
আমরা যেসব বিনুনি , কমলা আর নীল রঙের স্কার্ট
আমরা যেসব সাইকেল আর রিকশার যুদ্ধে মেতেছি বিকেলে
সবটুকু হোমে দেবো , সবটুকু যজ্ঞে দেবো।

চাদরের সঙ্গে আদর আর বালিশের সঙ্গে নালিশ
মেলাতে মেলাতে আমরা যেসব কবিতা লিখিনি
বেঞ্চের নিচে মন – ঠাকুর সইবে কতক্ষন , ভাবিনি
বেঞ্চটাকে হোমে দেবো , বেঞ্চটাকে যজ্ঞে দেবো।

আমরা যেসব ভুল মানুষের মিছিল করেছি , করবো ব’লে
ভুলের পাহাড়ের নাম দিয়েছি ছোটনাগপুর
মানুষকে মানুষ আর গোরুকে গোরু বলেছি সযত্নে
মানুষটাকে হোমে দেবো , গোরুটাকে বাঁচিয়ে দেবো।

সুমনের গান আর সুনীলের সুনীল পড়ে আমরা যেসব
রক্তের পি.এইচ. , প্লাজ়মা আর কণিকা নিয়েছি বদলে
বন্ধুনিকে বলেছি , দাঁড়ালে দাঁড়াও – দেরি হবে
গানগুলো হোমে দেবো , পাগলামি যজ্ঞে দেবো।

আমরা যেসব আমি আমরা, কেউ নয় , আমি আমরা
তেইশোর্ধের প্রেমে পড়েছি বিষ্ফারিত স্বপ্নে
নাহিদা আর একবিংশেই থেমে পড়েছি স্বপ্নে
প্রেমটাকে হোমে দেবো , স্বপ্নটাকে যজ্ঞে দেবো।

ব্যবধান
------------
হৃদয়ের ডাকবাক্সটায়  ধুলোর আস্তরণ।
মন-পিওন বহুদিন খোঁজ করে নি চিঠির!
সে জানে, রঙীন আবেগে মুড়ে,
ভালোবাসার বার্তারা  আর আসবে না।

মৃত সম্পর্কের স্মৃতিস্তম্ভরা প্রশ্নচিহ্নখচিত।
কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তর তুমি জানতে।
আবার কিছু প্রশ্নেরা, প্রশ্ন হতে চায় নি!
যেমন কোনো উত্তরও অন্তরালেই স্বস্তি খোঁজে।

নির্ঘুম রাতের আকাশে তাকিয়ে দেখি,
নক্ষত্ররা উত্থান-পতনের কাহিনি বোনে।
তারাখসা জীবনের মতোই  ভালো আছি,
তোমার আমার ভালো থাকার ব্যবধানে!
                 ********
           পাপিয়া মণ্ডল
মৃত‍্যুঞ্জয়ী মহানায়ক

                       বিপ্লব গোস্বামী
                       ৮ মাঘ ১৪২৫

মৃত‍্যুতো মানুষের হয়
দেবতার নয় ,
মানব হয়ে তুমিই কেবল
মৃত‍্যু করিলে জয়।
প্রণাম মৃত‍্যুঞ্জয়।।

এক নয়, এগারো বার
করলে কারাবাস ;
আপোস বিহীন করলে লড়াই
হয়নি কভু দাস।

বলেছিলে স্বাধীনতা দেব
আমায় দাও রক্ত ;
স্বার্থান্বেষী সব দেয়নি সাড়া
ফিরিঙ্গীর যত ভক্ত।

অকুতোভয়ে গড়লে তুমি
আজাদ সেনার দল ;
অস্ত্র হাতে বজ্র নাদে
চলরে দিল্লী চল।

তোমার ভয়ে ফিরিঙ্গী সব
ছাড়লো ভারত ভূমি ;
তুমি কেবল ফিরলে না আর
বড্ড অভিমানী।

তিন খণ্ড আজ ভারত ভূমি
এই অভিমান মনে ;
আড়াল হতে দেখছো সবই
ঘরে না ফিরার পণে।


শ্রেষ্ঠচুম্বন

একটা দৃশ্যয়মান ঘুম
তারপর...
স্বপ্নে জাবর কাটতে থাকা...
তুমি বহুদিন ভেবেছ ,
ঠিক আমারই মতো।
তন্দ্রাচ্ছন্ন শান্ত শরীর
কতবার অজ্ঞানে আঁকড়ে ধরেছ,
আলতো করে ছাড়িয়ে দিতে গিয়ে
আটকে গেছে হাত।
শান্ত শিশুর মতোই সরল
দু'টো ঠোঁট ছুঁয়ে গেছে কপাল
যেন পরমপুরুষ
উন্মাদ করেনি তো তারা।
জানান দেয়নি, দিতে নেই যে
আগলে রাখা শুধুই
মোহময়, কী নিবিড় করে তোলে
বারবার...
তাই গুনে দেখিনি আজও
আজও আমাদের শ্রেষ্ঠ চুম্বনগুলি!

------------বৈশাখী গোস্বামী
*মুখোমুখি বনলতা*
একটা শীতের সন্ধ্যায় ভেবেছিলাম মুখোমুখি বসা যায়...
যদি ভালোবাসা ভারী হয় 
তবে আর শীত করবে না বোধয় 
কিন্তু যদি অভিমানের পাল্লা ঝুলে যায়
তবে একহাতের দূরত্বে বরফ পড়বে ঠিকই.......
বুকের ভিতর টা ঠান্ডা প্রদেশ বলে গণ্য  হতেই হবে....
কেউ কারো হাত ধরবো না
চোখে চোখ রাখবো না....
     চোখের জল ও বরফ হবে বটে

ওই যে ছেলেটা সে তো তোমার উপযুক্ত আছে
মা এর সোনার চাঁদের কণা
 তবে  যাও না কেন চলে
যাও ....
ওঠো ....
উঠতে পারছো না কেনো?
 ও
 আমার প্রতি বেশি ভালোবাসার দয়া 
নাকি ওই ছেলেকে ঠিক বুঝে উঠোনি?

আসলে তুমি তুষার পাত এ অভ্যস্ত নও.....
আসলে আমার ভিতরের ফকিরিকে ভালোবাসো নি, 
বাসনি অসমাপ্ত খাপছাড়া কবিতা
তারপর কিছু পর্ণমোচী সকালে
শহরের তলপেট চুঁইয়ে পড়েছিলো লক্ষ লক্ষ কুয়াশা ঘাম......

স্টেশনের কয়েকটা ভোরের ট্রেন ছাড়ার পর 
ওপাশ ফিরে শুয়েছে চাঁদ--
বিচ্ছেদ এর আসল কারণ কি জানো?
আসলে
তুমি বেহেস্তের গানের সুর চেনো না
কবরের আজানকেই ভীষণ ভালোবাসো....
© তমোঘ্ন
আলো-অবকাশে

তোমার শরীরী ভাঁজ কবিতা হয়ে ধরা দেয়
আঁচলের ইতিহাস স্নিগ্ধতা মাখে
চোখ দুটো যেন গভীর , খুব গভীর
রাতও দুঃসাহসীক হয়
গভীরতাকে খণ্ডাতে ।

চোখের স্থিরতায় শব্দ  চঞ্চল
দমকা হাওয়ায়  ছারখার 
সর্বনাশের আগুন অবিরাম জ্বলছে  দাউ দাউ...

যৌবন উপন্যাসের অপ্রেমিক
ঠোঁটের নিস্তব্ধতা ভাঙার চেষ্টাই  ,

যেন আগ্নেয়গিরির জ্বলন্ত লাভা
জ্যোৎস্নার আলো ছড়িয়ে
উপত্যকার  উপর প্রেম রচনা করছে
বয়ে চলা অক্লান্ত নদীর মতো ।

প্রশ্বাসে শল্কমোচনের মত ভাঙছে স্থিরতা
আমি ঝড় দেখতে চাই ,
আকাশের এক প্রান্তে বিদ্যুতের ঝলকানি
অন্য প্রান্তে নিম্নচাপের মেঘ সরিয়ে
বাঁকা চাঁদের মৃদু আলো-অবকাশে...

#স্নেহা ঘোষ
                          মিলন


তোমার সৃষ্টির নির্যাসের প্রতিটি ফোঁটা
হোক
আমার সৃষ্টি রসের উল্লাস!
তুমি আমি এক,
আর
এই একের মাঝে আছে
আমাদের সৃষ্টি--
সারা পৃথিবীর রহস্য।
তোমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশুক
আমার নিগূঢ় অস্তিত্ব,
আমার নির্ভেদ্য ঘরের দেওয়ালে আসুক
অসংখ্য ফাটল,
আমার রক্তে মিশুক তোমার
অসংখ্য সৃষ্টি বীজ— তোমার
এ সৃষ্টি অনাদিকালের,
সময়ের আগে, সময়ের পরে
ছায়াপথ ধরে হেঁটেছে
অনন্তকাল!


আমি ভাঙতে চাই
তোমার সৃষ্টির প্রখরতার কাছে।
আমাকে বন্দি রাখো
সেই আদিম মুক্তোর মতো
তোমার নীল পানীয়ের কাপে, কিংবা
নীল নদের বুকে অন্ধকারে আটকে থাকা
তারার ঝাঁকের মতো!
তুমি আর আমি মিশে যেতে পারি —
তোমার সৃষ্টির আনন্দ
আমাকে ভেঙে আনুক
নতুন নক্ষত্র.....


           কস্তুরী
নদী প্রেমিক
দীপশিখা চক্রবর্তী

সে ভীষণ নদী প্রেমিক,

জলের স্পর্শকাতর ভাষায় তাকে অস্থির হতে দেখেছি বহুবার;

চোখে বন্দী করতে দেখেছি পরিযায়ী পাখিদের স্বস্তির নিঃশ্বাস,

হারিয়ে যাই-
নীল-সাদা রঙের বর্ণমালায় আঁকা ক্যানভাসে,

ছুঁতে চাই দূর থেকেই,

কখনো জল শব্দ ঝরিয়ে চলে একমনে;

শিউরে ওঠে সংযম;

হঠাৎ অনভ্যস্ত বাতাসের মাত্রাহীন নেশা ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়,

বেশি কিছুই বুঝি না,

শুধু এক নীরব আচ্ছন্নতা হস্তাক্ষর করে যায় আমার চিলেকোঠার একলাঘরে;

আর আমি,

আনমনা হয়ে লিখে যাই -

কলম আর ছবির রোদ-ঝরানো জলকাব্য।

আমার আমি

লেখিকাঃ-মুনমুন মুখার্জ্জী


আমি স্বাধীন, আমি মুক্ত,
      কিন্তু লোহার মত অতি শক্ত।
               আমি সহজ, আমি মি‌শুকে,
                      কিন্তু সুযোগ দিই না কাউকে।
               আমি চঞ্চল, আমি হাসিমুখ,
      কিন্তু ভুলি না অপমানের দুখ।
আমি দুর্জয়, আমি দুর্বার,
      কিন্তু ভুল স্বীকার করি শ'বার।
               আমি খোলা পাতা, বলি কত কথা,
                       কিন্তু লুকাবো যত মনের ব্যথা।
               আমি দিলখোলা, আমি মনভোলা,
       কিন্তু মনের সাথে করি না খেলা।
আমি ভালোবাসি, নেই সংশয়,
       কিন্তু হতে পারি আমি নির্দয়।
               আমি ধীর, আমি শান্ত,
                       কিন্তু বিপদে আমি অশান্ত।
               আমি বিনয়ী, আমি ভদ্র
        কিন্তু অন্যায় দেখলে অভদ্র।
আমি হাসি, আবার হাসাই,
        কিন্তু আমাকে কাঁদালে কাঁদাই।
               আমি বুঝি, অন্যকে বোঝাই
                        কিন্তু নিজেই ধৈর্য্য হারাই।


অবনী  বাড়ি নেই
-শ্রেয়া স্বপ্ননীল মুখার্জী

দুয়ার এঁটে ঘুমিয়ে আছে পাড়া
কারন মানুষ হারিয়েছে বিবেকবোধ
রাতে যতই কড়া নাড়ো কেউ দেবেনা সাড়া
পাশের বাড়ির কেউ জানেনা কোথায় সে
রাতদুপুরে কাজ নেই কড়া নেড়ে
অবনী বাড়ি নেই

এখানে বৃষ্টি পরে বারোমাস
এখানে মানে বালিশে
মেঘ আজ আকাশে নয় জমে চোখে
সত্যি অবনী দুয়ার ধরে নেই
ওই দুয়ার আর খুলবেনা কোনোদিন
তাই কড়া নেড়ে কেঁদোনা
অবনী বাড়ি নেই

তোমার হৃদয় দূরগামী
ব্যাথা শুধু তোমার বুকে না, ছিল অবনীর বুকেও
ও ভালোবেসেছিল তোমাকে
কিন্তু তখন তুমি অন্য কারোর সাথে
তাই পৃথিবী থেকে অনেক দূরে সে
সহসা আর যেন না শুনি রাতের  কড়া নাড়া
অবনী বাড়ি নেই।।

তুমি আছো !

তুমি আছো ! দেখি কিন্তু অনুভব করতে পারি না।
আমি তোমাকে অক্সিজেনের মতো চাই, যেন প্রতিটা মূহুর্ত তোমার অনুভূতি আমার শরীরের শিরায় উপশিরায় উত্তেজনার সৃষ্টি করে।

তুমি আছো ! তোমায় ছুঁতে পারি, কিন্তু অনুভব করতে পারি না।
আমি তোমার বুকে মাথা রেখে তোমার প্রতিটা হৃদস্পন্দনের ধ্বনিতে কার নাম উচ্চারিত হয় সেটা শুনতে চাই।

তুমি আছো ! তোমায় খুঁজে পাই, কিন্তু ফিরে পাইনা।
আমি তোমাকে বসন্তের বিকেলে হলুদ শাড়ি আর খোলা চুলে কৃষ্ণচূড়ার নীচে একাকী ফিরে পেতে চাই।

তুমি আছো ! তোমাকে দেখে, শুনে, খুঁজে প্রতিনিয়তই পাই ঠিকই,
কিন্তু একান্তই নিজের করে, শিরায়-উপশিরায়, হৃদয়ের হৃদস্পন্দনে, বসন্তের হলুদ শাড়িতে আজও ফিরে পেলাম না তোমায়।

 _জাহাঙ্গীর হোসেন_

বসন্তউৎসব

রঙ মাখো ছাদ কার্নিশ,
মাখো রঙ আমার দেওয়াল
রঙ দেবো সাইকেল কাকু-
দেবো রঙ বসন্তকাল।

রঙ দেবো চুপিচুপি তাকে
লুকিয়ে রাঙাবো তার গাল
চিনবে না কেউ আজ তোকে-
ওড়ে রঙ বসন্তকাল।

রঙ দেবো রাস্তার ধুলো
ভেঙে যাক নিয়মের জাল
কচিঘাস মুখ হাতে হাত-
রঙ দিক বসন্তকাল।

দেবো রঙ একলা যে বসে
রঙ দাও ছোট-বড় গাল
রঙ দেবো বোন-মাসি-পিসি-
মাখো রঙ বসন্তকাল।

©সৌরভ চক্রবর্ত্তী

বন্ধ খিড়কির দায়

*******************


কখনো মুহূর্ত চুপ !
অন্ধকার, অন্ধকার ভালো লাগে শুধু

বাবলু, তোর চোখে কত ঘুম―
এত ঘুম রাখা ছিল, জানাসনি কেন এতদিন
প্রতিবেশী কালে?
বাবলু তোর মুখ চেয়ে
ছেঁড়া খামে বিবর্ণ কালির নীল,
ওষুধ পাতায় ক্লিন্ন দাগ..

কী হয় অক্ষরবীজে!
কবিতা বাড়ানো কেন অসহ্য রকম!

মিয়োনো মুড়ির মত যন্ত্রণা ঠোঁট, আহ্..

তবু ওই রোদ দেখে,শিকড়ে শিকড়ে আলো
গুচ্ছমূলসমূহ সবুজ..

************************

পারমিতা ভট্টাচার্য, উত্তরপাড়া।

মৃত আমায় 

লেখিকাঃ- মৌমন মিত্র 

প্রায় একুশ বছর পর আবার  সোনাঝুরির  সেই জঙ্গলে ;
ভেবেছিলাম জানিস? আর কখনো যাবো না   দূর থেকে তোর আর্তনাদ : আমায় ছেড়ে যাস না লক্ষীটি প্লিজ ; 
এক একটা গাছের বাকল ভেদ করে আমার কানে আসছে ।
আমি অসহায়! তুই বুঝিস নি, বুঝতে চাস ও তো নি 
তোর কাছে পৃথিবীটা ভীষণ সাদা কালো  আমার কাছে ছাইরঙা ;
সেদিন তোর পাঞ্জাবীতে একটা বড় ফুটো করলি? সিগারেটে : ইচ্ছে করে ! এখনো তুই কাঁদতে কাঁদতে ঠোঁটে সিগারেট ধরাস ? তারপর বিষাক্ত তোর জিভের লালায় ভরাট আমার সারা শরীর !
উফ্! আবার সেই মাদল !  যেন তোর সব কটা সেদিনের কষ্ট এক এক করে ঢাক পিটিয়ে আমায় বলে যাচ্ছে! তুই আর ফিরবি না তাই না?
তোর রং তুলির পাশে আমার মৃতদেহ ; বলা না বলা তোর অনেক আক্ষেপ জমানো ওই মৃতদেহটায়
হাটের ওই পাড়ে জংলা মেয়েটা দেখবে কিন্তু ; আমার দেহে সেদিন লাল পেড়ে শাড়ি পড়াবি তো? আর কপালে এক গাদা সিঁদুর ! ঠিক যতটা তোর মন চায়।
সেদিন একশোটা চুমু খেয়েছিলাম নীল আকাশের পেঁজা ভেলায় ; আর আকাশকে বলেছিলাম : নে ,এই একশোটা চুমু ।
আগামী একশো বছরে একটা একটা করে ওকে দিবি  ও মরতে ভয় পায় আকাশ !! ও মরতে ভয় পায়।  বরাবর ভয় পায়।
তাই তুলি দিয়ে আমায় মেরে ফেলে ও হাসছে,
না না কাঁপছে বোধহয়  দুঃখ জ্বরে না হুতাশনের বিদ্বেষে !
অতি ইচ্ছা দুজনার ফের এই নীরব সমীকরণে।