নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে
কবি সুমন কুমার দত্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবি সুমন কুমার দত্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৮ জুলাই, ২০১৯

বুঝতে পারি নি , সরি

অর্পনের ফ্লাটের দরজায় কলিং বেল টা বাজিয়ে কিছুক্ষন অপেক্ষা করলো সুদেষ্ণা। কিছুক্ষন বাদে অর্পনের কাজের দিদি মানুদা মাসি দরজা খুলে বললো , "বাবু স্নানে গেছে, তুমি বসো।" সুদেষ্ণা বসার ঘরের সোফায় বসে কিছুক্ষন বাদে অর্পনের ঘরে ঢুকে পড়লো। ঢুকতেই একটা চেনা গন্ধ তাকে আকৃষ্ট করলো যেন।
            অর্পনের ফ্ল্যাটের এই ঘরটা সুদেষ্ণার খুব পরিচিত। একই অফিসে চাকরি করতে করতে ওদের বন্ধুত্ব। একটা সময় এমন ছিল যে দুজন একে অপরের সাথে কথা না বলতে পারলে কারুরই মুড ভালো থাকতো না। দিনে অন্তত একবার করে অফিস থেকে ফিরে ফোনে কথা হতোই। সুদেষ্ণার বাড়ি পার্ক সার্কাস। অর্পণ উত্তরবঙ্গ থেকে এসে ফ্ল্যাট নিয়েছিল টেকনোপলিসের কাছেই। তবে রাজারহাটে অফিস শেষ হওয়ার পর দুজনেই করুণাময়ী অবধি মুড়ি খেতে খেতে ইভনিং ওয়াক করতো। তারপর সুদেষ্ণাকে শাটল গাড়িতে তুলে দিয়ে অর্পণ একটা বাসে করে ফ্ল্যাটে ফিরত। সুদেষ্ণা জানতো যে অর্পণ ওকে খুব পছন্দ করে। কিন্তু সে কখনোই অর্পণকে বোঝাতে দ্যায়নি যে সে জানে। অর্পণ কখনো কখনো আকারে ইঙ্গিতে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল। সুদেষ্ণা হাবভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে সে বন্ধুত্বে এই ব্যাপারগুলো পছন্দ করে না। একদিন অর্পণ যখন মেসেজে বলেছিল "তোকে আমার ভালো লাগে", সুদেষ্ণা রিপ্লাই দিয়েছিল যে , "বন্ধুত্ব রাখার হলে এই মেসেজ গুলো মোবাইলে যেন না আসে, নাহলে বাধ্য হবো বন্ধুত্ব নষ্ট করতে।"
             তারপর থেকে অর্পনের দিক থেকে ওরকম মেসেজ সত্যিই আসেনি। বন্ধুত্বে ছেদও পড়েনি। শুধু অর্পণ একটু সামান্য শান্ত হয়ে গেছিলো। সুদেষ্ণা পরে ভেবেছিল যে ওরকম ভাবে বলা উচিত হয়নি, কিন্তু সে অবশ্য এসব নিয়ে বেশি ভাবেনি। সে ভেবেছিল ছেলেদের স্বাভাবিক গুন,মেয়ে বন্ধু দেখলেই ভালো লাগা , সেটারই একটা বহিঃপ্রকাশ মাত্র। এটাকে বেশি পাত্তা দেওয়া উচিত না, আস্তে আস্তে আবেগ কমবে। ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যায়। অর্পণ কিছুদিন বাদে অন্য অফিসে চাকরি পেয়ে চলে যায়, ফ্ল্যাট টা রেখেই দেয়, কিন্তু যোগাযোগ কমে। অন্যদিকে সুদেষ্ণা নতুন প্রজেক্টের টিম লিড সৌম্য দা র সাথে কাজ করতে করতে তারই প্রেমে পড়ে ধীরে ধীরে রিলেশনে চলে যায়। সামনের মাসে ওদের বিয়ে। তারই কার্ড দিতে অর্পনের ফ্ল্যাটে আসা।
         সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে হটাৎ সুদেষ্ণার চোখ যায় অর্পনের ড্রয়িং খাতায়। চিত্রশিল্পী হিসাবে অর্পনের নামডাক ভালো ছিল। অর্পনের খাতা ওল্টাতে ওল্টাতে হটাৎ একটা পাতা ও নিচে কয়েকটা লাইন দেখে শিহরিত হয়ে যায় সে, হ্যাঁ এটা তো তারই ছবি, অর্পনের নিজের হাতে আঁকা। নিচে লেখা পেন্সিলের কটা লাইন "যেটা ছিলোনা ছিলোনা, সেটা না পাওয়াই থাক, সব পেলে নষ্ট জীবন। " এটুকু দেখে সুদেষ্ণার সব গুলিয়ে যেতে লাগল। এই ছবি আঁকা, তারপর লাইন গুলো, এগুলোতো শুধু ভালোলাগা না, কখনোই না। তড়িঘড়ি উঠে অর্পনের রোজনামচা লেখার ডাইরি টার গত বছরের সংখ্যাটা সে আলমারির পাশে সেলফ থেকে নিল। 20 মে ছিল সেই দিন যেদিন সে অর্পণ কে তিরস্কার করেছিল। হ্যাঁ, খুলে দেখলো লেখা আছে , "আজ আমি হয়তো তোর মেসেজ পড়ে অল্প কেঁদেছিলাম, কিন্তু বিশ্বাস কর, আমার রাগ হয়নি, আমি তোর যোগ্য না আমি জানি, কিন্তু তুই আমার কাছে সেরাই থাকবি, তোকে পাইনি, কিন্তু একটা এত ভালো বন্ধু পেয়েছি সেটাই আসল, ভালো থাকিস সুদেষ্ণা, আর আমি একাই থাকবো, তোর মতো কাউকে তো পাব না, তাই আমি এমন কারুর সাথে রিলেশনে যেতে পারব না, যেখানে সারাক্ষন তোর কথা, ওই ইভনিং ওয়াক, মুড়ি খাওয়া, তোর আমায় লেগ পুলিং করা মনে পড়বে, তাই একাই থাকি, সব কিছু সবার জন্য না।"

কিছুক্ষন হতভম্ব হয়ে বসে রইলো সুদেষ্ণা, তারপর কার্ড টা টেবিলের উপর রেখে জলদি তাড়াহুড়ো করে প্রায় দৌড়ে বেরিয়ে গেল অর্পনের ফ্ল্যাট থেকে। পিছনে তখন মানুদা মাসি চেঁচাচ্ছে "কি গো, চা টা খেয়ে যাও।" আজ আর অর্পণকে মুখ দেখানোর অবস্থায় নেই সুদেষ্ণা। একটা দমবন্ধ করা পরিবেশ তাকে ঘিরে ধরেছে, এখান থেকে তাকে পালাতে হবে। অর্পণ তাকে সত্যি ভালোবাসতো, এটা ও বোঝেনি। সৌম্য দা সত্যি একজন দায়িত্ববান ও ভালো স্বামী, কিন্তু অর্পনের মতো আগে ভালো বন্ধু ও তাকে সম্পূর্ণ বোঝাটা সেখানে একটু মিসিং, কারণ প্রথমত বয়সের গ্যাপ, দ্বিতীয়ত ওরা বন্ধুত্ব থেকে প্রেম করেনি, প্রেমের ইচ্ছায় প্রেম করেছে, আর অর্পনের মতো সৌম্য দার অতো সময় নেই সারাক্ষন ওর যত্ন নেওয়ার। এক লহমায় অনেক কিছু গোলমাল হয়ে যায় সুদেষ্ণার। ট্যাক্সিতে ওঠার আগে একবার বাড়িটার দিকে তাকিয়ে সে বলে উঠলো, "বুঝতে পারিনি অর্পণ, সরি।"
বারাণসী ও এলাহাবাদ দর্শন

অফিসের একঘেয়েমির  চাপ ও ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে হটাৎ করে ঠিক হলো বারাণসী ও এলাহাবাদ ভ্রমণ করা হবে। সেই মতো প্ল্যান বানিয়ে কলকাতা স্টেশন থেকে শব্দভেদী এক্সপ্রেসে চড়লাম এক শুক্রবার রাত 10 টা 35 মিনিটে। বারাণসী পৌছালাম পরেরদিন সকাল 10 টায়। অটো নিয়ে গেলাম 3 কিমি দূরে হোটেল জানকী ইন্টারন্যাশনাল । আগে থেকে রুম বুক করা ছিল। ফ্রেশ হয়ে অল্প খাওয়া দাওয়া করে একটা গাড়ি নিয়ে প্রথমে গেলাম কোতোয়ালিতে কালভৈরব মন্দিরে। সেখান থেকে 13 কিলোমিটার দূরে সারনাথ গেলাম। বোধগয়ায় 'বোধি' লাভের পর বুদ্ধদেব সারনাথে এসে এখানকার মৃগ উদ্যানে ধর্মীয় উপদেশ দান করেন 5 জন শিষ্যের কাছে । বৌদ্ধদের কাছে এই ঘটনা 'ধর্মচক্র প্রবর্তন' নামে খ্যাত। সারনাথ নামটা এসেছে সারঙ্গনাথ (সারঙ্গ শব্দের অর্থ মৃগ) থেকে। সারনাথের প্রবেশের পথেই বাদিকে চৌখন্ডি স্তূপকে ছোটখাটো টিলা বললেও অত্যুক্তি হায় না। সম্রাট অশোক ২৩৪ খ্রি: পূর্বাব্দে এখানে এসেছিলেন। উনি এই সুবিশাল স্তূপটি নির্মাণ করান। সারনাথের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দ্রষ্টব্য চোঙ্গাকৃতি সাড়ে তেতাল্লিশ মিটার উচু ধামেক স্তূপ। ভূমির কাছে এই স্তূপের ব্যাস ২৮ মিটার এবং নিচের অংশে দেখবেন গুপ্তযুগের স্থাপত্য নিদর্শন। সারনাথের অপর আকর্ষণ মহাবোধি সোসাইটি নির্মিত বুদ্ধমন্দির। এই মন্দিরে মূর্তিটি তৈরি করেন রাজা ধর্মপাল। সারনাথের সংগ্রহশালায় অসংখ্য বুদ্ধ মূর্তির সংগ্রহ বিস্ময় উদ্রেক করে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো বৌদ্ধ শিল্প ও ভাস্কর্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শনগুলো এবং অশোকস্তম্ভের শীর্ষদেশের চারটে পরস্পর সংলগ্ন সিংহমূর্তি। শুক্রবার মিউজিয়াম বন্ধ থাকে। অন্য দিন খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে ৫টা। এরপর আমরা গেলাম অন্নপূর্ণা মন্দির। পেশোয়া বাজিরাও ১৭২৫ সালে এই মন্দিরটি নির্মান করেন। এরপর লাল রঙের দূর্গা মন্দির ও কুন্ড দর্শন করলাম। মন্দিরটি অষ্টাদশ শতকের। গর্ভাগৃহে দেবীর বিগ্রহ খুব জাগ্রত। দূর্গা মন্দির থেকে আরও কিছুটা এগিয়ে বাঁ হাতে পড়ে সাদা রঙের সুবিশাল তুলসী মানস মন্দির। মন্দিরে শ্রীরামের বিগ্রহ ছাড়াও আকর্ষনীয় এখানকার দেওয়াল, যেখানে খোদাই করা আছে রামচরিতমানসের বিভিন্ন পদ। এরপর গেলাম বেনারস হিন্দু বিশ্ব বিদ্যালয়। পণ্ডিত মদনমোহন মঙ্গল কাব্যের সক্রিয় উদ্যোগে গড়া বেনারস ইউনিভার্সিটি কমপ্লেক্সের মধ্যেই রয়েছে ভারত কলা ভবন নামক মিউজিয়াম এবং বিড়লাদের তেরি  সুউচ্চ নব বিশ্বনাথ মন্দির। সেখান থেকে সংকোটমোচন মন্দির দর্শন করে চলে এলাম দশাশ্বমেধ ঘাট অঞ্চলে। অসাধারণ গঙ্গা আরতি দর্শন করে রাস্তায় বারাণসী স্পেশাল ডিনার করে টোটো ধরে ক্লান্ত শরীরে হোটেল ফিরলাম ।
                 পরেরদিন সকালে উঠে গেলাম কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে পুজো দিতে। প্রাচীন মন্দির ধবংস হয়ে যাবার পর বর্তমান মন্দিরটি নির্মান করেন ইন্দোরের মহারানি অহল্যাবাঈ হোলকার (১৭৭৭) সাল। পাঞ্জাবের মহারাজা রঞ্জিত সিং প্রায় সাড়ে আটশো কেজি ওজনের সোনার পাতে মন্দিরের উপরের অংশ মুড়ে দেন। মন্দিরের মধ্যেই রয়েছে আওরঙ্গজেবের তৈরি জ্ঞানবাপী মসজিদ। 3 ঘন্টা লাইন দিয়ে দ্বাদশ জ্যোতিলিঙ্গের অন্যতম বিশ্বনাথ দর্শন হলো। এরপর কিছু খাওয়া দাওয়া করে গেলাম চুনার দুর্গ। বারাণসী থেকে ৩৫ কিমি দুরে চুনারের প্রধান আকর্ষণ গঙ্গার ধারে সুবিশাল দুর্গ। পুরানমতে বামন অবতারে ভগবান বিষ্ণু তার প্রথম চরণ স্থাপন করেন এখানকার পবিত্র ভূমিখন্ডে তাই এর নাম হয় চরনাদ্রি। উজ্জয়িনীর শাসক মহারাজা বিক্রমাদিত্যের ভাই ভতৃহরি এখানে কঠিন তপস্যা করার পর জীবন্ত সমাধি নিয়েছিলেন। চুনার দুর্গের ইতিহাসও সুপ্রাচীন। অনেক ঐতিহাসিকের মতে রাজা সহদেব ১০২৯ সালে বর্তমান দুর্গটি নির্মান করেন। প্রথম মুঘল সম্রাট বাবর ১৫২৫ সালে এই দুর্গের অধিকার নেন। মাঝে শেরশাহের হাতে চলে যাবার পর আকবর পুনরায় দুর্গ জয় করেন ১৫৭৪ সালে। এরপর টানা প্রায় দুশো বছর মোঘলদের অধীনে থাকার পর ১৭৭২-এ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দখল করে ঐতিহাসিক চুনার ফোর্ট। জনশ্রুতি আছে এই দুর্গ থেকে একটি ঐতিহাসিক গোপন সুরঙ্গ পথ গঙ্গায় নেমে গেছে। বর্তমানে ভারত সরকার এখানে গড়ে তুলেছে প্যাকের (প্রভিনশিয়াল আমর্ড কোর) ট্রেনিং সেন্টার। তাই কেবলমাত্র সোনহা মন্ডপ ও ভতৃহরির সমাধি ছাড়া দুর্গের অভ্যন্তরে সাধারন পর্যটকদের প্রবেশ অধিকার নেই। দুর্গ ছাড়াও চুনারে দেখবেন হজরত সুলেমানের সমাধি  ও প্রায় ২ কিমি দূরে দূর্গামন্দির ও কালীমন্দির। দুর্গের কুঁয়া টি বিশাল । এরপর গেলাম পূর্বের বারাণসীর  রাজাদের দুর্গ  রামনগর ফোর্ট। এখানে দেখবেন - রাজাদের ব্যবহত বিভিন্ন আমলের ঘোড়ার গাড়ি,  পালকি , কারুকার্যমন্ডিত হাওদা , পোশাক পরিচ্ছদ ,অভিনব ঘড়ি , প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র।
দুর্গের একটা অংশে দেখবেন রামনগরের বিখ্যাত রামলীলার কিছু দৃশ্যের  ফটোগ্রাফ।  দুর্গের প্রবেশমূল্য 25 টাকা। এরপর গেলাম বারাণসী থেকে ৭০ কিমি দুরে ৫১ সতীপীঠের অন্যতম বিন্ধ্যাচলের প্রধান দ্রষ্টব্য বিন্ধ্যাবাসিনী মন্দির। এই স্থানে সতীর বাম পায়ের আঙুল পড়েছিল। পুরানমতে এই সেই স্থান যেখানে দেবী স্বহস্তে শুম্ভ নিশুম্ভকে বধ করেন। বিন্ধ্যবাসিনী মন্দির থেকে ৩ কিমি দুরে বিন্ধ্যপবর্তের ওপর দেবী অষ্টভুজা মন্দির। সংকীর্ণ গুহাপথে ভেতরে গিয়ে মূর্তি দর্শন করতে হয়। এরপর ফিরে এসে অসি ঘাট থেকে নৌকো  নিয়ে দর্শন করলাম দশাশ্বমেধ ঘাট,
মনিকর্নিকা ঘাট, হরিশ্চন্দ্র ঘাট, তুলসী ঘাট,
মানমন্দির ঘাট, কেদার ঘাট প্রভৃতি। এরপর একটু কেনাকাটা করে হোটেলে ফিরে ডিনার করে শুয়ে পড়লাম।।
                  পরেরদিন সকালে 9.40 ঘটিকায় বিভূতি এক্সপ্রেসে চেপে বারাণসী স্টেশন থেকে রওয়ানা দিয়ে 12.30 এ পৌছালাম এলাহাবাদ স্টেশনে। রিকশ করে গেলাম আমাদের গন্তব্য হোটেল কাশীতে। এরপর লাঞ্চ করে একটা গাড়ি নিয়ে  চললাম শহর দর্শনে। প্রথমে গেলাম আনন্দ ভবন।  নেহরুর পৈতৃক বাসভবন বর্তমানে জাতীয় সংগ্রহশালা। পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত জিনিসপত্র এখানে খুব সুন্দর করে সাজানো আছে। এখানে আরও দেখবেন , স্বরাজভবন ও জহর প্ল্যানেটোরিয়াম। এরপর দেখলাম এলাহাবাদ  মিউজিয়াম ও চন্দ্রশেখর আজাদ গার্ডেন যেখানে উনি পিস্তলের গুলিতে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন ব্রিটিশ পুলিশের হাত থেকে অব্যাহতি পেতে। এরপর  গেলাম ত্রিবেণী সঙ্গমে যা প্রয়াগ নামে পরিচিত। এখানে  উত্তর ভারতের প্রাণদায়ী দুটি প্রধান নদী গঙ্গা ও যমুনার সঙ্গমস্থলে সরস্বতী মিশেছে।  ত্রিবেণীকে ঘিরে প্রতি বছর মাঘমাসে বসে মকরসংক্রান্তি মেলা। ছয় বছর অন্তর অর্ধকুম্ভ  আর বারো বছর অন্তর বসে পূর্ণকুম্ভ মেলা। পিতামহ ব্রহ্মা 'প্রকৃস্ট যজ্ঞ' করে এই স্থানের নাম রাখেন 'তীর্থরাজ'। নৌকা করে সঙ্গম দর্শন ও পুজো দেওয়ার ব্যাবস্থা আছে। সঙ্গমের কাছে আকবরের তৈরি সুবিশাল এলাহাবাদ কেল্লা যার অধিক অংশ মিলিটারিদের দখলে। সামনের অংশে পাতালপুরী মন্দির ও অক্ষয়বট দেখতে পারেন। পাশেই রয়েছে হনুমান মন্দির। অভিনব মন্দিরে দেখবেন পবনপুত্র হনুমানের বেশ বড় আকারে শায়িত মূর্তি। বলা হয় বছরে একবার হলেও সঙ্গমের জল ফুলে উঠে পবনপুত্রের চরণ ধুইয়ে দেয়। এর পর গেলাম শঙ্কর বিমান মণ্ডপম। সঙ্গমের কাছে হাল আমলে তৈরি ১৩০ ফুট উঁচু চারতলা মন্দিরের বিভিন্ন তলায় দেখবেন তিরুপতি বালাজি, কমক্ষাদেবী, শিবলিঙ্গ সহ জগৎ গুরু শঙ্করা চার্যের বিগ্রহ। এরপর এলাহাবাদ হাই কোর্ট ও চার্চ দেখে চলে গেলাম খুসরুবাগ। সুসজ্জিত উদ্যানের মাঝে জাহাঙ্গিরের বড়ছেলে খুসরুর এই সমাধি সৌধ মোগল স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত। বেলে পাথরের এই সৌধের পাশে যুবরাজের মা শাহ বেগমকে সমাহিত করা হয়েছে। এরপর হোটেলে ফিরে ডিনার করে রাত 11.40 এ রাজধানী এক্সপ্রেসে চড়ে পরেরদিন সকাল 10 টায় হাওড়া পৌছালাম। স্বল্প সময়ের এই ট্রিপে দর্শন করলাম ইতিহাসের কিছু মনোমুগ্ধকর দলিল।।


বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:

1) জানকী হোটেলের ফোন নম্বর 8067616761. রুম ভাড়া 2000 টাকা সর্বনিম্ন।

2) হোটেল কাশীর ফোন নম্বর 5322400812. সর্বনিম্ন রুম ভাড়া 1900.এখানে লাঞ্চ ও ডিনারে 200 টাকায় নিরামিষ আনলিমিটেড থালির সুব্যবস্থা আছে।।

3) সারনাথের পবিত্র ভূমিতে একরাত কাটাতে চাইলে পাবেন পর্যটন বিভাগের-রাহী ট্যুরিস্ট বাংলো। ফোন নম্বর 5822595965 ।

4) বারাণসীতে স্বল্প দামের অনেক ধর্মশালা আছে যেখানে থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা আছে।

5) ট্রেন ছাড়াও বারাণসী থেকে এলাহাবাদ যাওয়ার বাস ছাড়ে টার্মিনাস থেকে।।

6) নৌকাবিহারের জন্যে অনেক টাকা বেশি চায়। দরাদরি করা অবশ্যকর্তব্য। শেয়ারে 100 টাকা করে নৌকা ভ্রমণে নেয়। তবে ভালো করে ঘুরতে চাইলে আলাদা নৌকা ভাড়া করা ভালো।।

সোমবার, ২০ মে, ২০১৯

এই বেশ ভালো আছি

সুমন কুমার দত্ত

আজ সায়কের 28 তম জন্মদিন। খুব হৈ হুল্লোড় বাড়িতে। পুরানো অনেক বন্ধুই উপস্থিত। কেক কেটে জন্মদিন সেলিব্রেট করে হালকা ডিনার করে সবাই শুভেচ্ছা জানিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। এখন শুধু প্রিয়াঙ্কা রয়ে গেছে অফিস সংক্রান্ত কিছু কথা শেয়ার করার জন্যে। প্রিয়াঙ্কা, সায়কের কলেজ কাম অফিসের বেস্ট ফ্রেন্ড। একসাথেই ক্যাম্পাসিংয়ে চাকরি পেয়ে দুজন ট্রেনিংয়ে গেছিলো। কলেজ লাইফে সায়কের প্রিয়াঙ্কা কে ভালো লাগতো, কিন্তু বয়ফ্রেন্ড থাকার কারণে সম্পর্কটা বেস্ট ফ্রেন্ড হয়েই রয়ে গেছিলো। যাইহোক, ডিনারের পর দোতলায় সায়কের বেডরুম সংলগ্ন ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে দুজনের কথা হচ্ছিল। প্রিয়াঙ্কা বলে যে "বিয়ের পাত্রী দেখছিস ?", সায়কের উত্তর "ধুস,পছন্দ হচ্ছে না"। প্রিয়াঙ্কা বললো "আমি ছাড়া আর কাউকে মনে ধরবে না,শয়নে স্বপনে তো আমিই আছি।" সায়ক তখন প্রিয়াঙ্কাকে বলে যে "জানিস, আমাদের অফিসের রিয়া, কমিটেড ছিল, ট্রেনিংয়ে ব্যাঙ্গালোর গিয়ে একটা নতুন ছেলের সাথে আলাপ হলো, ওর আগের বয়ফ্রেন্ড একটু ডমিনেটিং ছিল, তাই ওর সাথে সম্পর্ক চুকিয়ে এই নতুন ছেলেটার সাথে রিলেশানে চলে গেল, আমার জীবনে আমি এরকম কাউকে পাইনি যে এই সাহস টা নিতে পেরেছে, বরঞ্চ আমি কত ঝগড়া নিজের চোখের সামনে দেখেছি, ভাবিনি যে কেউ কাউকে ছেড়ে আমার কাছে আসবে।" প্রিয়াঙ্কা -"তুই কি আমার কথা বলছিস নাকি রিয়া কে ভালোবাসতিস, ভাগ্যিস ওর সাথে ট্রেনিং পড়েনি, নাহলে আমায় ভুলে যেতিস।" কপট রাগ দেখিয়ে সায়ক বললো যে "মোটেও না, তুই যে সঞ্জয়কে ছেড়ে আসিসনি এটা প্রমান করে তুই কতটা ভালোবাসিস ওকে।" নির্লিপ্ত ভাবে প্রিয়াঙ্কা উত্তর দিল " আমি ওকে ছেড়ে আসিনি কারণ এটা নয় সায়ক যে আমি ওকে পাগলের মতো ভালোবাসি, আমাদের ঝগড়ার সময় হয়তো তুই চেষ্টা করলে আমায় পেয়ে যেতিস যেটা তুই কখনো করিসনি। ওকে না ছাড়ার কারণ এটা যে, আমার জেদ আমায় বলেছিল এতদিন ধরে যে রিলেশান ছিল সেটাকে ধরে রাখবো, তাকে যেতে দেবনা, এটা আমার ইগো, আমার আত্মসম্মানবোধ, আর তোকে আমি ওই জায়গায় কেন বসাইনি জানিস? কারণ ভয় লাগে, তুই আমায় পেয়ে যদি নিজেকে চেঞ্জ করে ফেলিস, কিছু জিনিস না পাওয়াই ভালো, সম্পর্ক মজবুত থাকে, অনেকে পেয়ে ভুলে যায় আসল মানুষের আত্মাটাকে, রিয়া ভালো করেছে, নিজের সুখ নিজে খুঁজে নিয়েছে, বেশ করেছে। একটা কথা মনে রাখবি সায়ক, মানসিক বা শারীরিক, সুখ ও সম্পর্ক তোর নিজের, একটা মানুষ একের বেশি মানুষকে মন দিতে পারে, এটা হিউম্যান নেচার, তুই এটাকে ডিনাই করতে পারবি না, যতই তোর প্রেমিক বা প্রেমিকা থাক, যতই ভালোবাসিস তাকে, সে যদি দূরে থাকে আর বিপরীত সেক্সের কেউ যদি ভালো বন্ধু হিসাবে তোর কাছে থাকে, তোর ভালো লাগবেই, যদি মনের মিল হয়, সেটাই নরম্যাল, সেটাই সম্পর্কের সংজ্ঞা, আমরা এই বেশ ভালো আছি, এরকমই থাকি, আর জলদি একটা লাল টুকটুকে বউ আন।"
দেয়ালের টিকটিকিটা যেন শুনে সমর্থন করে উঠলো "টিক টিক টিক"।

শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৯

বেশ্যা না দেবী

নতুন স্যালারির মেসেজ টা মোবাইলে ঢুকতেই অর্ঘ্য একটু নড়েচড়ে বসলো। ব্যাঙ্গালোরে চাকরি করতে এসে জীবনের প্রথম স্যালারি । তাও আবার বেশ মোটা টাকা বোনাস । জলদি অফিস টা শেষ করে চলে গেল চার্চ স্ট্রিটের একটি বার কাম রেস্টুরেন্টে। বিয়ারের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে হটাৎ মনে পড়লো রোশনির কথা । নাঃ , মাথাটা ধরে যাচ্ছে । জলদি বিয়ারের গ্লাস টা শেষ করে বেরিয়ে পড়লো রাতের রোশনাই দেয়া কর্ণাটকের সবথেকে অভিজাত রাস্তায় রাতপরী দের ভিড় যেখানে সদাব্যস্তময়। হটাৎ দূর থেকে একজনকে আসতে দেখে একটু চমকে উঠলো অর্ঘ্য। কাছে এসে মেয়েটি বললো "যাবে নাকি ?"....অর্ঘ্যর গলাটা বুজে আসছে। না না বলতে গিয়ে হটাৎ রোশনির কথা, নেশা, ভালোবাসায় ধাক্কা সব মিলিয়ে অন্ধকার দেখে দাঁতে দাঁত চেপে বললো " চলো"।

দুঘন্টা বাদে , কোনো এক তিনতারা হোটেলের এক ঘরে দুজনের নিভৃত কথোপকথন

"তোমার নাম কি গো ?"
"সোফিয়া সাহেব , সোফিয়া পারভীন , তোমার কি ধর্ম গেল নাকি গো দাদা , জাত খোয়ালে তো নাকি একদম ", অট্টহাসি করে উঠলো বিপরীত নারীকণ্ঠ।
"কেন?কি পরিবর্তন দেখলে আমার মধ্যে", দৃঢ়স্বরে বলে উঠলো অর্ঘ্য।
সোফিয়া উত্তর দিল " বিধর্মী বেশ্যার সাথে একটা রাত কাটিয়ে দিলে, আর কিছু পরিবর্তন হয়নি ?"
পোশাক পরিবর্তন করে উঠে দাঁড়ালো অর্ঘ্য, আজকের দিনে থুড়ি রাতটা তাকে অনেক শিক্ষা দিলো , যাওয়ার আগে সোফিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়ে সে বলে উঠলো "যার সাথে সময়ে কাটানোর পর জাত, ধর্ম ,বর্ণ, অফিস, জীবন ও হতাশা চলে যায় তাকে বেশ্যা বলে না ম্যাডাম, তারা তাদের আদর্শ ও নৈতিকতার সাথে আপোষ করে না, বেশ্যা তাদের বলে যারা লোভ ও লালসার ফাঁদে পা দিয়ে নিজের 8 বছরের ভালোবাসা কে দুপায়ে মাড়িয়ে দিয়ে অধিক ক্ষমতা ও টাকার লোভে অফিসে বিবাহিত বসের হাত ধরতে দুবার ভাবে না, আর সেই খবর তার প্রেমিককে জানতে হয়ে তারই কোনো সিনিয়রের থেকে গোপনে । তাই একটু ভেবে নিও নিজেকে বেশ্যা বলবে নাকি বলবে একজন দেবী যে নিজের শরীর কে উৎসর্গ করেছে সমাজের কিছু প্রেমহীন মানুষের নিঃস্বঙ্গতা ও একাকিত্ব মেটাতে।"

সোফিয়ার চোখের কোলেও কি একটু জল এলো না তার ঘর ছাড়ার কারণ টা মনে পড়ে ,যেদিন বিয়ের অছিলায় ইমরান তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে বিক্রি করে দেয় এক নিষিদ্ধপল্লীতে, যেদিন থেকে তার কাছে ভালোবাসা কথাটার অর্থই হয়ে গেছিলো অন্ধকার, সেটা সময় বলুক।

সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০১৯

Google issue



কবি সুমন কুমার দত্ত, একজন  অঙ্কন শিল্পীও বটে। হাওড়া নিবাসী। বর্তমানে কলকাতা রেল মেল সার্ভিসে কর্মরত। শিবপুর বি ই কলেজ থেকে কারিগরি বিভাগে মাস্টার ডিগ্রি পাস। অবসর সময় পেলে কোলাজে দেবদেবীর মূর্তি অঙ্কন এবং ছোট গল্প, প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনী লেখেন। এছাড়া কবির ছোটদের অঙ্ক শেখানোর বিষয় সাহায্য করতে ভালো লাগে। জীবনের আদর্শ স্বামী বিবেকানন্দ।