নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে
জন্মে জন্ম এক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জন্মে জন্ম এক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮

                         "জন্মে জন্ম এক"
           
                        ::::সূচিপত্র::::

(ক)জলফড়িং এ বিখ্যাত/স্মরণীয় কবিরা:-

১) আত্মবিলাপ--         মধুসূদন দত্ত
২) ১৪০০ সাল--          রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৩) অভিযান --           কাজী নজরুল ইসলাম
৪) ১লা মে-র কবিতা--- সুকান্ত ভট্টাচার্য
৫) অঘ্রান--                  জীবনানন্দ দাশ
৬) আসমানী--              জসীমউদ্দীন
৭) মাষ্টারদার হাতঘড়ি-- শামসুর রহমান
৮) উত্তরাধিকার--         সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
৯) মালতীবালা বালিকা বিদ্যালয়-- জয় গোস্বামী
১০) মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে-- শঙ্খ ঘোষ
১১) যেতে পারি কিন্তু কেন যাব-- শক্তি চট্টোপাধ্যায়
১২) ফুল ফুটুক না ফুটুক-- সুভাষ মুখোপাধ্যায়

(খ)আমন্ত্রিত লেখক/কবি কলম:-

১) স্বপ্নের রঙ             দেবার্ঘ চ্যাটার্জী(কবিতার ছন্দ)
২) শাখা                    মৌসুমী ভৌমিক(কবিতার ছন্দ)
৩) অপরাজিতা        কৌশিক কোনার(কবিতার ছন্দ)
৪) সময়টা হারিয়ে যায়
       কত সহজে!               রীতা রায়(কবিতার ছন্দ)
৫) চিলে কোঠার আড়ালে   অমল দাস(আলাপি মন)
৬) স্বপ্নের উজানে               রুদ্রপ্রসাদ(আলাপি মন)
৭) আপন খেয়ালে          রীনা চ্যাটার্জী(আলাপি মন)
৮) নতুন বিজ্ঞাপন                     তৈমুর খান
৯) প্রভাতকিরণ    আরিফুল ইসলাম সাহাজি(নোঙর)
১০) তুমিও বোঝ                         নীলমেঘ(সপ্তাশ্ব)
১১) গণতন্ত্রের গ্রিনল্যান্ড             শ্রীনীল(সপ্তাশ্ব)
১২) ধুলোর মানুষ   হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়(কাটুম কুটুম)
১৩) ভাবনা                        বিধান সাহা(সবুজ সাথী)
১৩.) উন্মনা লিটিল ম্যাগ
১৪.) পদক্ষেপ লিটিল ন্যাগ
১৫.) সবুজ সাথি
১৭.) সূর্য্য সেনগুপ্ত
১৮.)ধীরেন্দ্র নাথ বাঙ্গাল

(গ)জলফড়িং এর সদস্য কলম:-

১) জলফড়িংয়ে সূর্যোদয়--- সুনন্দ মন্ডল
২) সঞ্চয়ন---                      জয়দীপ রায়
৩) The subtle thief of
         a happy youth--- উইলিয়াম
৪) জন্মান্তর---                   অরূপ সরকার
৫) বন্ধুর মৃত্যু(গল্প) ----     সুদীপ্ত দেবনাথ
৬) অপেক্ষা----                  অমিয়া গড়াই
৭) বলো?----                     সুদীপ্ত সেন

(ঘ)নির্বাচিত কবিতা/গল্প:-

১) চেনা অচেনার তীরে           তপনকান্তি মুখার্জী
২) বুড়ো আর বুড়ি                রাজশ্রী রাহা চক্রবর্তী
৩) কবি'তার জন্মদিন'                চঞ্চল ভট্টাচার্য
৪) মনি                                       আশীষ হাজরা
৫) বিস্মৃতি                                   সায়ন মোহন্ত
৬) মাকে লেখা অর্গান                বিশ্বজিৎ মন্ডল
৭) ঢের হয়েছে                            সুজান মিঠি
৮) রাতের কোলাজ               কুমারেশ তেওয়ারী
৯) শব্দ জন্ম                            তমঘ্ন নস্কর
১০) হাঁড়িতে চাল বাড়ন্ত            বিশ্বজিৎ মৈত্র
১১)   ভাইফোঁটা                       অভিজিৎ দত্ত
১২) জোড়া শালিক                   সুহৃদ মন্ডল
১৩) প্রয়োজনীয়তা                     প্রীতি মান
১৪) উষ্ণস্পর্শ                         আদিত্য বর্মন
১৫) নারী ও ভালোবাসা              অপর্ণা নাথ
১৬) কবিতার রেখা থেকে           জগদানন্দ বর্মন
১৭) মঙ্গল অভিযান               নারায়ণ প্রসাদ জানা
১৮) প্রতিদান                             সমরেশ পর্বত
১৯) বিমোহন                              কান্তিলাল দাস
২০) আলো হয়ে জ্বলে                     তপময়
২১) আবার আসব ফিরে           অপূর্ব কর্মকার
২২) জন্মদিনের চিঠি                  পিনাকী বোস
২৩) প্রতিশ্রুতি                               লিটন দাস
২৪) বয়ঃসন্ধির দাগ                  কৌশিক চক্রবর্তী
২৫) আমার প্রভু                       রাজেশ প্রামানিক
২৬) জন্মদিন                             অমরেশ বিশ্বাস
২৭) এই ছেলেটা                      বটু কৃষ্ণ হালদার
২৮) তুমি ও আমি                  শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়    
২৯) উমা আর মেনকা               অঞ্জলি দেনন্দী
৩০) সামনের পথ                   পারমিতা চ্যাটার্জী
৩১) অক্ষর চাষি                  আব্দুল লতিফ মন্ডল
৩২) কে বলেছে এটা অনিয়ম         বলাই দাস
৩৩) সিগারেট                              সৌরভ ঘোষ
৩৫) কবিতার দিন                    অমিতাভ দাস
৩৪) কবিতা বৃষ্টি তুমি               বাবলু বাউরি
৩৫) এই মেয়ে তুই কি জানিস    মৌসুমী চ্যাটার্জী

                            অনুকবিতা
                            ‎
৩৬) আরোগ্য                               বিনয় হাজরা
৩৭) মরুদ্যান                              নেহা কুমারী মন্ডল
৩৮) ভালোবাসার বীজ                নেহা কুমারী মন্ডল

                         গল্প/অনুগল্প
৩৯) নিমন্ত্রণ                                     মলয়
৪০) বসন্তের পলাশ                       মৈনাক চক্রবর্তী

               সিনেমা থেকে

৪১)শ্রীহিট নাকি ওশিট!                       চিরঞ্জিত সাহা

এছাড়াও থাকছে.......

পছন্দ হওয়া কলম ফেসবুকের পাতা থেকে
১.সুতৃষ্ণা সামন্ত

রিভিউ কলম
১.লেখক জি.কে নাথের কলমে কবি অংশুমান কর।
২. কবি সুনন্দ মন্ডলের "এবং আমি"- আলোচনায় ডট.পেন(সুদীপ্ত সেন)

এবং

সাক্ষাৎকার
১.) এক্সক্লুসিভ সৌমিত্র
             
         --------------:----------------

"জন্মে জন্ম এক" সংখ্যা






আজ আর সম্পাদকীয় নয় শুভেচ্ছা দিয়ে শুরু
================================

ভালবাসা নিয়ে নিজে তুমি, ভালবাসো সব সৃষ্টিকে
তোমার পাতায় পাতায় কত নবীনের লেখা
ঝরে যাও তুমি সকলের কাছে কাব্য কবিতা বৃষ্টিতে।


আর একদিন পর রাত পোহালেই সেই পত্রিকার প্রথম জন্মদিন। কী করে দেখতে দেখতে এতটা দিন চলে গেল আর জলফড়িং -এর সঙ্গে একটা গভীর সম্পর্ক হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি। জলফড়িং এর পথ চলা কী ভাবে শুরু হলো আমার ঠিক জানা নেই, তবে জলফড়িং যে ভাবে উড়ে চলেছে তার কাছে কোনো কাঁটাতার ই কোনো বাধা নয়।
মাস টা সম্ভবত এপ্রিল কিম্বা জুন হবে তার আরো এক-দুমাস আগে লেখিকা মৌসুমী ভৌমিক দির সাথে ফেসবুকে কোনো ভাবে যোগাযোগ আর উনি পরিচয় করান আমাদের প্রিয় প্রধান সম্পাদক সুদীপ্ত ভাইএর সাথে আর ওটাও ছিল ফেসবুক। আর ফেসবুকে
 দু–চার দিন আমাদের hi-hello দিয়েই কেটে যায়, তখনো আমি জানতাম না জলফড়িং--এর সম্পাদক সুদীপ্ত। তারপর যদি আমি খুব ভুল না করি মনে হয় সুদীপ্তর মেসেজ টা ছিল –আর কী কথা এগোবে না ? আমি তখন ট্রেনে বাড়ি থেকে কলকাতা যাচ্ছিলাম , আর তখন পত্রিকা নিয়ে কথা হয় ।
আর তার কিছু দিন পর আমার উপর ব্লগ ডিজাইন এর ভার ছেড়ে দেয় আমি কাজ শুরু করি , করে চলেছি .... আর দেখতে দেখতে  ছয়–সাত মাস চলে গেল অনেক সংখা বেরোলো, অনেক সাক্ষাৎকার হলো , আমরা ব্লগ থেকে .in এ নুতুন ঠিকানা পেলাম। আর এখন আমি আপনি আরো অনেকে জলফড়িং কে ভালোবেসে মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসার এর বুকমার্ক একটা লিংক দখল দিয়েছেন।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে কতটা কী দিতে পরেছি আমার জানা নেই তবে  জলফড়িং-এর লেখক , লেখিকা , ও আমাদের প্রিয় পাঠক বৃন্দর অফুরন্ত ভালবাসায় আমি চির কৃতজ্ঞ থাকব ।
জলফড়িং-এর জন্মদিনে এর প্রধান সম্পাদক সুদীপ্ত ভাই ও জলফড়িং-এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে এবং সকল লেখক ও পাঠক দের অভিনন্দন জানাচ্ছি। কোনো কিছুর সঙ্গে আপস না করে জলফড়িং যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা সত্যিই অতুলনীয় আমার কাছে।

[কলমে মানস খাঁড়া]
১.)  ১৪০০ সাল


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর



আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি
    কৌতূহলভরে--
 আজি হতে শতবর্ষ পরে।


আজি নববসন্তের প্রভাতের আনন্দের
    লেশমাত্র ভাগ--
আজিকার কোনো ফুল, বিহঙ্গের কোনো গান,
 আজিকার কোনো রক্তরাগ


অনুরাগে সিক্ত করি পারিব না পাঠাইতে
    তোমাদের করে
 আজি হতে শতবর্ষ পরে।


তবু তুমি একবার খুলিয়া দক্ষিণদ্বার
    বসি বাতায়নে
সুদূর দিগন্তে চাহি কল্পনায় অবগাহি
    ভেবে দেখো মনে--
 একদিন শতবর্ষ আগে


চঞ্চল পুলকরাশি কোন্‌ স্বর্গ হতে ভাসি
 নিখিলের মর্মে আসি লাগে--
নবীন ফাল্গুনদিন সকল বন্ধনহীন
    উন্মত্ত অধীর--


উড়ায়ে চঞ্চল পাখা পুষ্পরেণুগন্ধমাখা
    দক্ষিণসমীর--
সহসা আসিয়া ত্বরা রাঙায়ে দিয়েছে ধরা
    যৌবনের রাগে
 তোমাদের শতবর্ষ আগে।


সেদিন উতলা প্রাণে, হৃদয় মগন গানে,
    কবি এক জাগে--
কত কথা পুষ্পপ্রায় বিকশি তুলিতে চায়
    কত অনুরাগে
 একদিন শতবর্ষ আগে।
 আজি হতে শতবর্ষ পরে


এখন করিছে গান সে কোন্‌ নূতন কবি
    তোমাদের ঘরে?
আজিকার বসন্তের আনন্দ-অভিবাদন
 পাঠায়ে দিলাম তাঁর করে।
আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে
 ধ্বনিত হউক ক্ষণতরে


হৃদয়স্পন্দনে তব ভ্রমরগুঞ্জনে নব
    পল্লবমর্মরে
 আজি হতে শতবর্ষ পরে।
            ------------------



২)  অভিযান

কাজী নজরুল ইসলাম



নতুন পথের যাত্রা-পথিক
চালাও অভিযান !
উচ্চ কণ্ঠে উচ্চার আজ -
“মানুষ মহীয়ান !”

চারদিকে আজ ভীরুর মেলা ,
খেলবি কে আর নতুন খেলা ?
জোয়ার জলে ভাসিয়ে ভেলা
বাইবি কি উজান ?
পাতাল ফেড়ে চলবি মাতাল
স্বর্গে দিবি টান্ ।।

সরল সাজের নাইরে সময়
বেরিয়ে তোরা আয় ,
আজ বিপদের পরশ নেব
নাঙ্গা আদুল গায় ।

আসবে রণ-সজ্জা করে ,
সেই আশায়ই রইলি সবে !
রাত পোহাবে প্রভাত হবে
গাইবে পাখি গান ।
আয় বেরিয়, সেই প্রভাতে
ধরবি যারা তান ।।

আঁধার ঘোরে আত্নঘাতী
যাত্র-পথিক সব
এ উহারে হানছে আঘাত
করছে কলরব !
অভিযানে বীর সেনাদল !
জ্বালাও মশাল, চল্ আগে চল্ ।
কুচকাওয়াজের বাজাও মাদল ,
গাও প্রভাতের গান !

ঊষার দ্বারে পৌছে গাবি
‘জয় নব উত্থান !’
              -----------

৩.)  আত্মবিলাপ

মাইকেল মধুসূদন দত্ত



আশার ছলনে ভুলি কী ফল লভিনু,হায়,
তাই ভাবী মনে?

জীবন-প্রবাহ বহি কাল-সিন্ধু পানে যায়,
ফিরাব কেমনে?

দিন দিন আয়ুহীন হীনবল দিন দিন ,--
তবু এ আশার নেশা ছুটিল না? এ কি দায়!

রে প্রমত্ত মন মম! কবে পোহাইবে রাতি?
জাগিবি রে কবে?

জীবন-উদ্যানে তোর যৌবন-কুসুম-ভাতি
কত দিন রবে?

নীর বিন্ধু, দূর্বাদলে,নিত্য কিরে ঝলঝলে?
কে না জানে অম্বুবিম্ব অম্বুমুখে সদ্যঃপাতি?

নিশার স্বপন-সুখে সুখী যে কী সুখ তার?
জাগে সে কাঁদিতে!

ক্ষণপ্রভা প্রভা -দানে বাড়ায় মাত্ত আঁধার
পথিকে ধাঁদিতে!

মরীচিকা মরুদেশে,নাশে প্রাণ তৃষাক্লেশে--
এ তিনের ছল সম ছল রে এ কু-আশার।

প্রেমের নিগড় গড়ি পরিলি চরণে সাদে
কী ফল লভিলি?

জ্বলন্ত-পাবক-শিখা-লোভে তুই কাল ফাঁদে
উড়িয়া পড়িলি

পতঙ্গ যে রঙ্গে ধায়,ধাইলি,অবোধ,হায়
না দেখলি না শুনিলি,এবে রে পরাণ কাঁদে

বাকি কি রাখিলি তুই বৃথা অর্থ-অন্বেষণে,
সে সাধ সাধিতে?

ক্ষত মাত্ত হাত তোর মৃণাল-কণ্টকগণে
কমল তুলিতে

নারিলি হরিতে মণি, দঃশিল কেবল ফণী
এ বিষম বিষজ্বালা ভুলিবি, মন,কেমনে!

যশোলাভ লোভে আয়ু কত যে ব্যয়িলি হায়,
কব তা কাহারে?

সুগন্ধ কুসুম-গন্ধে অন্ধ কীট যথা ধায়,
কাটিতে তাহারে?

মাৎসর্য-বিষদশন, কামড়ে রে অনুক্ষণ!
এই কি লভিলি লাভ,অনাহারে,অনিদ্রায়?

মুকুতা-ফলের লোভে,ডুবে রে অতল জলে
যতনে ধীবর,

শতমুক্তাধিক আয়ু কালসিন্ধু জলতলে
ফেলিস,পামড়!

ফিরি দিবি হারাধন,কে তোরে,অবোধ মন,
হায় রে,ভুলিবি কত আশার কুহক-ছলে!



৪)     ১লা মে-র কবিতা


                        সুকান্ত ভট্টাচার্য



লাল আগুন ছড়িয়ে পড়েছে দিগন্ত থেকে দিগন্তে,
কী হবে আর কুকুরের মতো বেঁচে থাকায়?


কতদিন তুষ্ট থাকবে আর
অপরের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট হাড়ে?


মনের কথা ব্যক্ত করবে
ক্ষীণ অস্পষ্ট কেঁউ-কেঁউ শব্দে?
ক্ষুদিত পেটে ধুঁকে ধুঁকে চলবে কতদিন?


ঝুলে পড়া তোমার জিভ,
শ্বাসে প্রশ্বাসে ক্লান্তি টেনে কাঁপতে থাকবে কত কাল?


মাথায় মৃদু চাপড় আর পিঠে হাতের স্পর্শে
কতক্ষণ ভুলে থাকবে পেটের ক্ষুদা আর গলার শিকলকে?
কতক্ষণ নাড়তে থাকবে লেজ?


তার চেয়ে পোষমানাকে অস্বীকার করো,
অস্বীকার করো বশ্যতাকে।


চলো, শুকনো হাড়ের বদলে
সন্ধান করি তাজা রক্তের,
তৈরী হোক লাল আগুনে ঝল্সানো আমাদের খাদ্য।


শিকলের দাগ ঢেকে দিয়ে গজিয়ে উঠুক
সিংহের কেশর প্রত্যেকের ঘাড়ে।।
                --------------         

৫)   অঘ্রাণ


জীবনানন্দ দাশ

 আমি এই অঘ্রাণেরে ভালোবাসি- বিকেলের এই রঙ- রঙের শূন্যতা
রোদের নরম রোম- ঢালু মাঠ- বিবর্ণ বাদামি পাখি- হলুদ বিচালি
পাতা কুড়াবার দিন ঘাসে-ঘাসে- কুড়ুনির মুখে তাই নাই কোনো কথা,

ধানের সোনার কাজ ফুরায়েছে- জীবনেরে জেনেছে সে- কুয়াশায় খালি
তাই তার ঘুম পায়- খেত ছেড়ে দিয়ে যাবে এখনি সে- খেতের ভিতর
এখনি সে নেই যেন- ঝ'রে পড়ে অঘ্রাণের এই শেষ বিষণ্ণ সোনালি

তুলিটুকু;- মুছে যায়;- কেউ ছবি আঁকিবে না মাঠে-মাঠে যেন তারপর,
আঁকিতে চায় না কেউ,- এখন অঘ্রাণ এসে পৃথিবীর ধরেছে হৃদয়;
একদিন নীল ডিম দেখিনি কি?- দুটো পাখি তাদের নীড়ের মৃদু খড়

সেইখানে চুপে চুপে বিছায়েছে;- তবু নীড়- তবু ডিম,- ভালোবাসা
সাধ শেষ হয়

তারপর কেউ তাহা চায় নাকো- জীবনের অনেক দেয়- তবুও জীবন
আমাদের ছুটি দেয় তারপর- একখানা আধখানা লুকানো বিস্ময়

অথবা বিস্ময় নয়- শুধু শান্তি- শুধু হিম কোথায় যে রয়েছে গোপন
অঘ্রাণ খুলেছে তারে- আমার মনের থেকে কুড়ায়ে করেছে আহরণ।
                      -------------

৬)  আসমানী


জসীমউদ্দীন



আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।

একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে,
তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে।
পেটটি ভরে পায় না খেতে, বুকের ক-খান হাড়,
সাক্ষী দিছে অনাহারে কদিন গেছে তার।

মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ-রাশি
থাপড়েতে নিবিয়ে দেছে দারুণ অভাব আসি।
পরনে তার শতেক তালির শতেক ছেঁড়া বাস,
সোনালি তার গা বরণের করছে উপহাস।

ভোমর-কালো চোখ দুটিতে নাই কৌতুক-হাসি,
সেখান দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু রাশি রাশি।
বাঁশির মতো সুরটি গলায় ক্ষয় হল তাই কেঁদে,
হয় নি সুযোগ লয় যে সে-সুর গানের সুরে বেঁধে।

আসমানীদের বাড়ির ধারে পদ্ম-পুকুর ভরে
ব্যাঙের ছানা শ্যাওলা-পানা কিল্-বিল্-বিল করে।
ম্যালেরিয়ার মশক সেথা বিষ গুলিছে জলে,
সেই জলেতে রান্না-খাওয়া আসমানীদের চলে।

পেটটি তাহার দুলছে পিলেয়, নিতুই যে জ্বর তার,
বৈদ্য ডেকে ওষুধ করে পয়সা নাহি আর।
               ----------------

৭)  মাস্টারদার হাতঘড়ি
–
            শামসুর রাহমান

মাস্টারদা, আপনি কি হাতঘড়ি পরতেন কখনো?
এই প্রশ্ন আমাকে ঠোকর মেরেছে
অনেকবার। মাস্টারদা, আপনার বিষয়ে
অনেক কিছুই জানা আছে আমার।
আপনার শরীরের গড়ন, মূল্যবান রত্নের মতো
চোখের দীপ্তি, জীবন-যাপনের
ধরন-এরকম

বহুবিধ খুঁটিনাটির আলো আমি পেয়েছি
গ্রন্থের কালো অক্ষরের মধ্যে ভ্রমণ করতে করতে।
কিন্তু মাস্টারদা, আপনি কখনো
হাতঘড়ি পরতেন কিনা আজ অব্দি আমার জানা হয়নি।
তবে আপনি যে মাঝে-মধ্যে ঘড়ির দিকে
তাকাতেন, তা ধরে নেয়া যেতে পারে।
যিনি নিজে সময়কে শাসন করেন,
সময়ের শাসনও তাকে মেনে নিতে হয়
কখনো সখনো। যখন আপনি পিস্তলের
ট্রিগার টিপেছেন কিংবা মেতেছেন
গোরা সেনাদের অস্ত্রাগার লুণ্ঠনে
অথবা পায়চারি করেছেন চট্রগ্রাম জেলের
নীরন্ধ্র সেলের ভেতর,
তখন সময়ের ধ্বনির প্রতি আপনি কি
উদাসীন ছিলেন?

মাস্টারদা, সেই যে মাঝে-মাঝে
আপনার কণ্ঠে উচ্চারিত হতো একগুচ্ছ শব্দ,
সেই অনুসারে আপনি নিজে
চোখেও শুনতেন, কানেও দেখতেন।
ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকী, বীর আশফাকউল্লাহ্‌ অপরূপ
অগ্নিবলয়ের মতো এক মহামাল্যের মণিরত্ন,-
ওদের ঝলকানিতে গান গেয়ে উঠতো
আপনার চেতনা, যখন আপনি ব’সে থাকতেন
চুপচাপ, নীল নকশা আঁকতেন প্রতিরোধের
কিংবা সহযাত্রীদের উদ্বুদ্ধ করতেন
সামনে পা চালিয়ে যাওয়ার জন্যে।
মাস্টারদা, যখন আপনার মাথার ওপর
ঝুলছিলো ফাঁসির দড়ি, তখন
আপনার ঋজু মেরুদণ্ড কি শিরশিরিয়ে উঠেছিলো
শীতার্ত ডালের মতো? আপনার হৃৎপিণ্ডের
স্পন্দন কি থেমে গিয়েছিলো
ক্ষণিকের জন্যে? মাস্টারদা, আপনার
ব্যক্তিগত মৃত্যু এক লহমায়
হয়ে উঠেছিলো বিপুল জনগোষ্ঠীর যুগপৎ
মৃত্যু এবং জীবন।

মাস্টারদা, আপনি কখনো
হাতঘড়ি পরতেন কিনা জানি না; জানবার
প্রয়োজনও নেই তেমন। অমরতা
জ্যোতির্বলয়ের মতো রাখী পরিয়ে দিয়েছে
আপনার কব্জিতে।

আপনার হাত সূর্যোদয়ের প্রসন্নতা নিয়ে
প্রসারিত হয়ে আছে সেই বিশাল ভূখণ্ডের দিকে,
ভাবীকাল যার ডাকনাম।

এবং একটি অলৌকিক হাতঘড়ি, যা আপনি
হয়তো পরেননি, অথচ আপনারই নামাঙ্কিত
ক্রমাগত বেজে চলেছে
আমাদের হৃৎপিণ্ডে অনন্তের রৌদ্র-নিঃসীম ঝালরে
                   --------------

৮)  উত্তরাধিকার –

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

নবীন কিশোর, তোমায় দিলাম ভূবনডাঙার মেঘলা আকাশ
তোমাকে দিলাম বোতামবিহীন ছেঁড়া শার্ট আর
ফুসফুস-ভরা হাসি
দুপুর রৌদ্রে পায়ে পায়ে ঘোরা, রাত্রির মাঠে চিৎ হ’য়ে শুয়ে থাকা
এসব এখন তোমারই, তোমার হাত ভ’রে নাও আমার অবেলা
আমার দুঃখবিহীন দুঃখ ক্রোধ শিহরণ
নবীন কিশোর, তোমাকে দিলাম আমার যা-কিছু ছুল আভরণ
জ্বলন্ত বুকে কফির চুমুক, সিগারেট চুরি, জানালার পাশে
বালিকার প্রতি বারবার ভুল
পরুষ বাক্য, কবিতার কাছে হাঁটু মুড়ে বসা, ছুরির ঝলক
অভিমানে মানুষ কিংবা মানুষের মত আর যা-কিছুর
বুক চিরে দেখা
আত্মহনন, শহরের পিঠ তোলপাড় করা অহংকারের দ্রুত পদপাত
একখানা নদী, দু’তিনটে দেশ, কয়েকটি নারী —
এ-সবই আমার পুরোনো পোষাক, বড় প্রিয় ছিল, এখন শরীরে
আঁট হয়ে বসে, মানায় না আর
তোমাকে দিলাম, নবীন কিশোর, ইচ্ছে হয় তো অঙ্গে জড়াও
অথবা ঘৃণায় দূরে ফেলে দাও, যা খুশি তোমার
তোমাকে আমার তোমার বয়সী সব কিছু দিতে বড় সাধ হয়।
                      -------------

৯)  মালতীবালা বালিকা বিদ্যালয় – জয় গোস্বামী


বেণীমাধব, বেণীমাধব, তোমার বাড়ি যাবো
বেণীমাধব, তুমি কি আর আমার কথা ভাবো?
বেণীমাধব, মোহনবাঁশি তমাল তরুমূলে
বাজিয়েছিলে, আমি তখন মালতী ইস্কুলে
ডেস্কে বসে অঙ্ক করি, ছোট্ট ক্লাসঘর
বাইরে দিদিমণির পাশে দিদিমণির বর
আমি তখন নবম শ্রেণী, আমি তখন শাড়ি
আলাপ হলো, বেণীমাধব, সুলেখাদের বাড়ি

বেণীমাধব, বেণীমাধব, লেখাপড়ায় ভালো
শহর থেকে বেড়াতে এলে, আমার রঙ কালো
তোমায় দেখে এক দৌড়ে পালিয়ে গেছি ঘরে
বেণীমাধব, আমার বাবা দোকানে কাজ করে
কুঞ্জে অলি গুঞ্জে তবু, ফুটেছে মঞ্জরী
সন্ধেবেলা পড়তে বসে অঙ্কে ভুল করি
আমি তখন নবম শ্রেণী, আমি তখন ষোল
ব্রীজের ধারে, বেণীমাধব, লুকিয়ে দেখা হলো

বেণীমাধব, বেণীমাধব, এতদিনের পরে
সত্যি বলো, সে সব কথা এখনো মনে পড়ে?
সে সব কথা বলেছো তুমি তোমার প্রেমিকাকে?
আমি কেবল একটি দিন তোমার পাশে তাকে
দেখেছিলাম আলোর নীচে; অপূর্ব সে আলো!
স্বীকার করি, দুজনকেই মানিয়েছিল ভালো
জুড়িয়ে দিলো চোখ আমার, পুড়িয়ে দিলো চেখ
বাড়িতে এসে বলেছিলাম, ওদের ভালো হোক।

রাতে এখন ঘুমাতে যাই একতলার ঘরে
মেঝের উপর বিছানা পাতা, জ্যো‍‍‌ৎস্না এসে পড়ে
আমার পরে যে বোন ছিলো চোরাপথের বাঁকে
মিলিয়ে গেছে, জানি না আজ কার সঙ্গে থাকে
আজ জুটেছে, কাল কী হবে? – কালের ঘরে শনি
আমি এখন এই পাড়ায় সেলাই দিদিমণি
তবু আগুন, বেণীমাধব, আগুন জ্বলে কই?
কেমন হবে, আমিও যদি নষ্ট মেয়ে হই?
                 --------------

১০)   মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে –


শঙ্খ ঘোষ

একলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি
… তোমার জন্যে গলির কোণে
ভাবি আমার মুখ দেখাব
মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে।

একটা দুটো সহজ কথা
….বলব ভাবি চোখের আড়ে
জৌলুশে তা ঝলসে ওঠে
বিজ্ঞাপনে,রংবাহারে।

কে কাকে ঠিক কেমন দেখে
…. বুঝতে পারা শক্ত খুবই
হা রে আমার বাড়িয়ে বলা
হা রে আমার জন্ম ভূমি।

বিকিয়ে গেছে চোখের চাওয়া
…. তোমার সাথে ওতপ্রত
নিয়ন আলোয় পণ্য হলো
যা কিছু আজ ব্যাক্তিগত।

মুখের কথা একলা হয়ে
…. রইলো পড়ে গলির কোণে
ক্লান্ত আমার মুখোশ শুধু
ঝুলতে থাকে বিজ্ঞাপনে।
            -----------

১১)  যেতে পারি, কিন্তু কেন যাব – শক্তি চট্টোপাধ্যায়


ভাবছি, ঘুরে দাঁড়ানোই ভাল
এত কালো মেখেছি দু হাতে
এত কাল ধরে।
কখনো তোমার করে, তোমাকে ভাবিনি।

এখন খাদের পাশে রাত্তিরে দাঁড়ালে
চাঁদ্ ডাকে আয়, আয়, আয়।
এখন গঙ্গার তীরে ঘুমন্ত দাঁড়ালে
চিতা কাঠ ডাকে আয়, আয়, আয়।

যেতে পারি,
যেকোনো দিকেই আমি চলে যেতে পারি
কিন্তু, কেন যাবো?

সন্তানের মুখ ধরে একটি চুমো খাবো
যাবো
কিন্তু, এখনি যাবো না
তোমাদেরও সঙ্গে নিয়ে যাবো
একাকী যাবো না অসময়ে।
             -------------

১২) ফুল ফুটুক না ফুটুক –

সুভাষ মুখোপাধ্যায়

ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত।

শান-বাঁধানো ফুটপাথে
পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ
কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে
হাসছে।

ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত।

আলোর চোখে কালো ঠুলি পরিয়ে
তারপর খুলে –
মৃত্যুর কোলে মানুষকে শুইয়ে দিয়ে
তারপর তুলে –
যে দিনগুলো রাস্তা দিয়ে চলে গেছে
যেন না ফেরে।

গায়ে হলুদ দেওয়া বিকেলে
একটা দুটো পয়সা পেলে
যে হরবোলা ছেলেটা
কোকিল ডাকতে ডাকতে যেত–তাকে ডেকে নিয়ে গেছে দিনগুলো।

লাল কালিতে ছাপা হলদে চিঠির মত আকাশটাকে মাথায় নিয়ে
এ-গলির এক কালোকুচ্ছিত আইবুড়ো মেয়ে
রেলিঙে বুক চেপে ধ’রে
এই সব সাত-পাঁচ ভাবছিল –

ঠিক সেই সময় চোখের
মাথা খেয়ে গায়ে উড়ে এসে বসল;
আ মরণ ! পোড়ারমুখ
লক্ষ্মীছাড়া প্রজাপতি !

তারপর দড়াম করে দরজা বন্ধ হবার শব্দ।
অন্ধকারে মুখ চাপা দিয়ে
দড়িপাকানো সেই গাছ
তখন ও হাসছে।
                -------------

জলফড়িং-র আমরা


১.)
______জলফড়িংয়ে সূর্যোদয়
                    সুনন্দ মন্ডল

প্রতিদিনই সূর্য ওঠে.....
প্রতিদিনের ঢঙেই সকাল আসে
আলোকরশ্মির পসরা সাজায়।
পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়ে,
ভায়া মাধ্যম মাথার উপর আকাশ!

সূর্য একই আবহে মাতে রোজ
কিন্তু সকালটা সবার এক নয়!
সবার জীবনে আলাদা আলাদা সকাল
আলাদা আলাদা রঙ
কিংবা বেরঙিন জীবন।

জলফড়িং এর জন্মলগ্নে ছিল চোখ আর মুখ
ক্রমশ ডানা ঝাপটানো শুরু দিনে দিনে।
বেড়েছে পরিধি, বেড়েছে পরিচয়
নতুন সকালের মতোই নতুন আপনজন ঘেঁষে।
       
 


২.)
সঞ্চয়ন
জয়দীপ রায়

পাথুরে রাস্তায় মেঘের কুন্ঠাবোধ
রেলিঙের দাড় বেয়ে সারিবদ্ধ বৃষ্টিরেখা
আমি সূর্যদয় দেখিনি
বিপ্রতীপ কোনের সঞ্চিত কুহেলিকায়
প্রহর শেষের বিকেল দেখেছিল রুদ্রছায়া
মহাকালের বিস্তীর্ন পটভূমি বুকে জন্মেছিল
একালের ধ্রুবক
স্বপ্নিল মেঘের মাঝে অবলীলায় বলা যায়
আমি মৃত্যুর চেয়েও বড়
ভস্মীভূতের ছাই মেখে নির্দ্ধিধায় বলতে পারি
আমি হোরিখেলা দেখিনি
তবে হে গৃহবাসী আমি খেলতে চাই
সহজিয়া রত রঙে
ঘনীভূত মেঘে এঁকে দেব পুংলিঙ্গ সুর
বিনম্র জ্ঞাপনে।



৩.)
*The subtle thief of a happy youth*
--------------------William Wss
When my day is of sorrow --- a heavy day!
You are steadily idle to leave me.
You sympathize me? You pity me?
Or you chide me or rejoice at my poor day?
What kind are you of --- you impish?
Whatever:
You cannot be noble enough.
For, when my day is of complacency --- light day!
You steal it on your wing and then disappear
You are the subtle thief of a happy youth.
 
                         


                           
৪.)
জন্মান্তর  ।
অরূপ সরকার।

এক চেনার অনেক জন্মে
ঠাই পেয়েছে পান্ডুলিপী
অনামি রা ভিন্ন থাকে কে যেন তাদের একক করে ।
এই তো চেনা সেদিনের
চলছি সমান্তরাল;
কিছু নামি অনামি কিছু রাখিনি তার আড়াল।
ফড়িং পাখায়  রঙ ধরেছে ,
উড়ছে কেমন বেশ ।
আজ সকলের সঙ্গে আছে জন্মদিনের রেশ।
ছিলাম সবাই ব্যার্থ শ্রমিক ,
তুমিই দিয়েছ দাম ;
জন্মদিনের প্রথম ক্ষণে ,
সবাই একক হলাম
এই যে দেখো হাত ধরেছি
সন্ধি করেছি মনে ,
তোমায় কেবল শুভেচ্ছা জানাই ,
জন্মদিনের ক্ষণে।


৫.)
"বন্ধুর মৃত্যু''
         - সুদীপ্ত দেবনাথ

     লালুকে দেখতে অসংখ্য লোকের ভিড় ৷ লালু কোনো সেলিব্রেটি নয় ৷ লালু একটা কুকুর ৷ আজ তার মৃত্যু হয়েছে ৷ তার মৃত্যুতে অসংখ্য মানুষ কানছে ৷ কিন্তু একটা কুকুরের মৃত্যুতে সবাই কানছে কেন ? বিষয়টা বেশ আশ্চর্যের ৷ তাহলে গল্পটা প্রথম থেকে বলি ৷

    সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠাটা আমার স্বভাব নয় ৷ কিন্তু আজ ঘুম ভেঙে গিয়েছিল ৷ একটা দুঃস্বপ্ন আমাকে জাগিয়ে তুলেছিল ৷ স্বপ্নটা কী ছিল , তা কিছুতেই মনে করতে পারছিলাম না ৷ জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই কিছু একটা বিপদের আভাস পেয়েছিলাম ৷ আমি ছুটে গিয়েছিলাম একটি স্থানে ৷ যেখানে আমার বন্ধু লালু থাকে ৷ কেন জানি না , আমার মন আর অন্য কোথাও নয় , সেখানেই ছুটে চলল ৷
   
    লালু আমার বন্ধু ৷ মানুষ নয় , কুকুর ৷ লালু একদিন আমার তৈরী মাটির একটি মূর্তি ভেঙে দিয়েছিল ৷ সেই রাগে রোজ আমি লালুকে দেখলেই পাথর ছুড়ে মারতাম ৷ কিছুই করত না সে ৷ শুধু পালিয়ে যেতো ৷ একদিন আমার টিউশন থেকে বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যায় ৷ এমন সময় পথে লালু আমার সঙ্গ নেয় ৷ আমি লালুকে তাড়তে থাকি ৷ তবুও সে আমার পেছন পেছন আসতে থাকে ৷ বিরক্ত হয়ে আমি তাকে পাথর ছুড়ে মারি ৷ লালু আঘাত পেয়ে চলে যায় ৷ আমি বাড়ির দিকে রওনা দি ৷ হঠাৎ আমার সামনে হাজির হয় কিছু লম্বা ও ভয়ঙ্কর চেহাড়ার তিনটে মানুষ ৷ আমি তো তাদের দেখা মাত্রই ভয়ে থমকে গিয়েছিলাম ৷ শিতের রাতে আমার শরীর দিয়ে রীতিমত ঘাম ঝরছিল ৷ বয়সটা কম হলে হইত আমার প্যান্টও ভিজে যেত ৷ কারন টাক মাথা লোকগুলোর হাতে ছিল একটি করে ধারালো অস্ত্র ৷ একটি লোক আমার ঘারে হাত দিয়ে জিজ্ঞাসা করল 'কোথায় ?'
আমি কাঁপো কাঁপো শরীরে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলেও ভয়ে গলা দিয়ে স্বর বেড়োলো না ৷
এমন সময় লালুর আওয়াজ ! পেছনে তাকাতেই দেখতে পেলাম , লালু ছুটতে ছুটতে আসছে ৷ লোকগুলো লালুকে তারানোর চেষ্টা করলেও লালু যে পরিমানে তাদের কামরে ছিল , তা তারা জীবনেও ভুলতে পারবে না ৷ লোকগুলো লালুর ভয়ে অস্ত্র ফেলে দিয়ে প্রাণপনে ছুটে পালিয়ে ছিল ৷

    এই ভাবে লালু আমাকে বহু বিপদ থেকে রক্ষা করেছে ৷ তাই লালু আমার খুব কাছের বন্ধু ৷ লালু যেখানে থাকে , জায়গাটা একটা বাগান ৷ আমি সেখানে যেতেই দেখতে পেলাম অনেক লোকজনের ভিড় ৷ ভিড় ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই আমার হৃদয়ে বজ্রপাত হল ৷ কারন আমার চোখ দর্শন করল লালুর মৃতদেহ ৷ কান্নায় ভেঙে পরলাম আমি ৷ আমার কান্না দেখে সেখানে থাকা সকলেই কানতে শুরু করল ৷ আমি আশ্চর্য হয়ে উঠলাম ৷ আমার নাহয় বন্ধু ছিল ,  কিন্তু সবাই কানছে কেন একটা কুকুরের মৃত্যুর জন্য ?
আমি তাদের জিজ্ঞাসা করলাম ৷
তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ উত্তর দিল ''আমি যখন অ্যাক্সিডেন্ট করছিলাম , তখন লালু আমায় বাঁচিয়ে ছিল৷"
কেউ বলল ''আমার চুরি যাওয়া জিনিস লালু ফিরিয়ে দিয়েছিল , আর চোরকেও ধরে ছিল৷"
কেউ আবার বলল ''আমাকে খুনের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল লালু৷"
এই ভাবেই বিভিন্ন লোক সাহায্যের বিভিন্ন বর্ণনা দিতে লাগল ৷ সেখানে মানুষ ছারাও অন্যান্য কুকুর , ছাগল , হাঁস , মুরগি সহ কয়েকটি পশু পাখিও ছিল ৷ তারাও কিছু বলার চেষ্টা করল ৷ কিন্তু তাদের ভাষা আমি বুঝতে পারলাম না ৷ কিন্তু এটুকু বুঝতে পারলাম , তারাও লালুর সাহায্যপার্থি৷
আমি আশ্চর্য হয়ে উঠলাম ৷ কারন আমি ভাবতাম , লালু হইত শুধু আমারই উপকার করত , শুধু আমারই বন্ধু ছিল ৷ কিন্তু লালু তো অসংখ্য মানুষের পাশে থেকেছে , অসংখ্য মানুষকে বিপদ থেকে বাঁচিয়েছে ৷ যা মানুষরাও করে না ৷ কিন্তু লালু একটা পশু হয়েও সবার সাহায্য করেছে ৷ সেই দিন থেকে আমি স্থির করলাম , যদি কেও আমাকে কুকুর বলে ডাকে ৷ তবে সেটাকে আমি অপমান নয় , প্রশংসা মনে করব ৷



৬.)
অপেক্ষা                                  
  -------অমিয়া গড়াই

ক্লান্ত  দুপুরের হাতছানি  পেরিয়ে দূর পথে শব্দরত
ট্রেন ৷
                                           
অবসন্ন  মুখে   গুটিকয়েক   যাত্রী   অপেক্ষারত ৷
                                         
আমরাও   অপেক্ষায়  বসে  সেই    পথে৷

হঠাৎ বিষন্নতা কাটিয়ে  এক করূন শিশুকন্ঠ৷

সেও যেন অবসন্ন  মুখগুলোর প্রতিরূপ ৷

কন্ঠে  তার  একটাই সুর  "বাবু -সকাল থেকে কিছু  খাইনি"

অপেক্ষায় সেও ছিল  অপেক্ষায় আমরাও
কিন্তু   উদ্দেশ্যের অভিমুখ  ভিন্ন৷৷
 
   
                                         
                                               
৭.)
বলো?
---------সুদীপ্ত সেন

যদি অতটা উঁচু হই আকাশ যতটা
যদি ততটা নীচু হই মাটির মতো করে,
তাহলে তোমাকে স্পর্শ করবনা।

স্পর্শ না করে কীভাবে থাকব
আমি তো নিরুপায়, আমি যে ভালোবাসি
তোমার লেখাকে!

তাই এক কাল ঘুমোতে পারিনি,
খুঁজেছি শুধু আমি অনেক তুমি গুলো
যাদের স্পর্শ না করে থাকা যায়?

তাই তো আজ সব জমিয়ে রেখেছি
তোমার সৃষ্টি আর সৃষ্টি শ্রষ্ঠাদের
এবার বলোনা স্পর্শ না করে কীভাবে
থাকা যায়?

বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

ফিনিক্স
-মধুমিতা নস্কর

জ্যোৎস্না ভেজা পথ পেরিয়ে
সত্যিই যদি আবার কখনও
ফিরে আসতে ইচ্ছে হয়,
অলৌকিক রাতের হাত ধরে,
আমাকে পাবে কি খুঁজে,
সেদিনের ফেলে যাওয়া
দগ্ধ নিঃশেষ জতুগৃহে!

অশ্রুপ্রপাতে ভাসমান জীবন্ত আগুন
রেখাচিত্রে আঁকছি
মাখছি কঙ্কালে।
30°মাইনাস শীতে ঘামে ভিজে পুরো শরীর
হাতপাখার খোঁজ অনন্ত বরফে।
অদূরে দাঁড়িয়ে কোন শুভাকাঙ্ক্ষী,
না তুমি নও,এক মলীন আত্মার ছায়া!
অসুখী ফুল ভোর খোঁজে বালিশের ভাঁজে,
হটাৎ জ্যোৎস্নার ফাঁকফোকর পেরিয়ে
উড়ে যায় হলুদ অক্ষয় ফিনিক্সের সাথে।

ভুমিকম্পে ধ্বসছে জতুগৃহের দক্ষিন দেওয়াল,
ধুলোঝড়,উড়ছে ধুমকেতু,নীহারিকার দল।
ওই আসছে হড়পাবাণ,অন্ধকার।
আসতেই,ওইতো দেখা যাচ্ছে,
অন্ধকারের টুঁটি চেপে ধরছে
তোমার অশ্লীল কনীনিকা,
মৃত্যুরা ছারখার!

কর্নিয়াতে আবদ্ধ অন্ধকার,
রেটিনা ঢালছে রক্তজ্যোৎস্না!
পথ ভিজছে!
দূরে ঘনীভূত রহস্য,বুঝতে চাইনা।
শুধু বুঝতে চাই আমায় না পাওয়ার বেদনা,
জ্যোৎস্না,তোমার হৃদয়!!

Review pen

জি কে নাথের কলমে কবি অংশুমান কর

আবেগ,অনুভূতি,বোধ,কল্পনা সর্বোপরি অভিজ্ঞতাকে সফল ভাবে পাঠক সমাজের কাছে তুলে দেওয়াই হলো কবিদের প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য।স্বল্প পরিসরে সময়ের সাথে পরিবর্তিত নানা বিষয়ের বৈচিত্রকে কবি তাঁর ভাবনায় বহতা জীবনের মধ্য দিয়ে গভীর অভিব্যক্তিকে নিংড়ে বের করে আনে।কঠোর বাস্তবের পাথরের চাঁই ভেঙে বয়ে যাওয়া কবিতার স্রোতে ভাসমান পাঠকের চিন্তাকে বহুমুখী খাতে প্রবাহিত করে কবি খুবই সুনিপুণ ভাবে।সেদিক থেকে দেখতে গেলে কবি ও সমাজ দুটো ভিন্ন হলেও কোথাও যেন একসূত্রে গাঁথা কারণ কবি তো সমাজে থেকেই সমাজের বিভিন্ন আঙ্গিক কে তুলে ধরে তাঁর কলমে।
এতো কথা বলছি তার পিছনে কিন্তু এক কবির নিঃশব্দে পদচারণ লক্ষ্য করি ।তিনি আর কেউ নন আমাদের অত্যন্ত প্রিয় কবি অংশুমান কর।কবির কলমে আমরা প্রতিবার চক্রাকার ও ঘূর্ণায়মান সমাজ ও নাগরিক জীবনবৃত্তের একটা সুস্পষ্ট দিককে খুঁজে পাই।তিনি এক অদৃশ্য কবিতার মালা গাঁথার কাজ করে চলেছেন নিরন্তর।তাঁর কবিতার মধ্যে তাঁকে আমরা মানুষের জীবনের টানাপোড়েন, সুখ,দুঃখ, প্রেম,প্রতিবাদ সবকিছুকে এক এক করে গেঁথে পূর্ন জীবনের একটা মালা তৈরি করে পাঠকদের হাতে তুলে দিতে দেখেছি।মুগ্ধ পাঠকগণ সানন্দে ও সাগ্রহে তা গ্রহণ করেছে প্রতিবার।
পরিশেষে বলি,কোনো কিছুকেই সীমাবদ্ধ কিংবা গন্ডিবদ্ধ রাখতে চাননি কবি ।মুক্ত করেছেন প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর ভাবনাকে ওই অনন্ত অসীমের দিকে শুধুমাত্র কবিতার জন্য।
ভালো আছো কবি?
কোটি কোটি বছর অচেনা গ্যালাক্সির পথে পড়ে থাকা বিষয় বৈচিত্রের সম্ভারে
শিকড় ছিন্ন যান্ত্রিক জীবনের অভিযাত্রী ভাবনার তরী ভাসিয়ে
খুব একা অথচ সকলের মাঝে উঠে দাঁড়িয়ে
কখনো বা নিজের কাছে নিজের ধরা দেওয়া কল্পনা অনুভূতি শব্দে
আবার কখনো সৃষ্টির মধ্য দিয়ে যাওয়া অন্ধ দেওয়াল ডিঙিয়ে ভবিষ্য পথের প্রবাহিত বাতাসের তোড়ে
তুমি তো অমর কবি
বেঁচে থাকবে চিরকাল সকল হৃদয়ের আঁকড়ে ধরা খড়কুটো ধরে
ঘুরতে থাকবে অবিরত সৃষ্টিচক্র ,সৃষ্টির ভিতর সমাপ্তিচক্র
জগতের সকল আলো নিভে যাওয়ার পরও তুমি অন্ধকার ভেঙে বেরিয়ে আসবে নবসৃষ্টির আলোর বাতি হাতে ।।

                            জিকে নাথ

আমন্ত্রিত লেখক

তোমাকে –
         সূর্য সেনগুপ্ত

আমি যে ভালবাসি
অনেক, অশেষ
এই তো বেশ –
হৃদয়ের সব কটা জানালা খুলে দিয়ে
উড়িয়ে দাও প্রেয়সীর কেশ।
বাসনার পতাকার মত,
ছুঁড়ে দাও আবেগে সিক্ত চুম্বনের যত –
বকুল ফুলের সুবাসে
ওরা হেসে ফিরিয়ে দেবে সেই চুম্বন প্রিয়তমার ঠোঁটে
তখনই তো চাঁদ ওঠে,
ফুল ফোটে।

তখনই তো কোন এক খাত বুজে যাওয়া নদী
ভেসে যাবে সাঁড়াসাঁড়ি বানে,
তার টানে ভেসে যাবে আর সব কিছু,
যাহা আছে কম কিম্বা অনেক বেশী

শুধু বাকি রবে প্রেয়সীর হাসি
আমি যে ভালবাসি।




আমন্ত্রিত লেখক

হৃদাকাশে ভাসছে যে ওই
সৃষ্টি মেঘের ভেলা
আকুল হয়ে দিলাম জুড়ে
বরষ আনা খেলা
স্রষ্টার কাছে নেই হেমন্ত
সদা বরষ মাস
রেখেছি খোলা বক্ষ আমার
ঝরাও অভিলাষ
দাও ভরিয়ে সকল পাতা
হৃদসাগর দলে
জয়ের মালা আনবো ঠিক পরাবো তব গলে
আঁধার ফুঁড়ে পড়ুক ঝরে
আলোক রাশি রাশি
মিঠে রোদের কিরণ মেখে
হাসুক তৃপ্ত হাসি
নামটি তব পাখির গানে
ছড়াক ঘরে ঘরে
জলফড়িংয়ের আমন্ত্রণ
রইলো সবার পরে

ধীরেন্দ্র নাথ বাঙ্গাল



আমন্ত্রিত লেখক

নতুন বিজ্ঞাপন
তৈমুর খান
🌸
এই ভোরবেলা বিনয়ী হব না বিদ্রোহী?
দূর্বাঘাসের কাছে বসেছি
এখানে আমার বিবাহের ঘ্রাণ লেগে আছে

আকাশ রক্তাক্ত কেন রোজ?
কার তবে রক্তমাখা শাড়ি?
সমস্ত স্নেহের হাতে ঝলসে ওঠে রোদের তরবারি

জলের কল্লোল এসো
আর সব উল্লাসের পাখি
দুর্বার গার্হস্থ্যে নৌকা বাঁধি
ময়ূরেরা পেখম মেলুক
সমস্ত ঈর্ষার দিনে চুম্বন বিছিয়ে বসি চলো
আমাদের বিজ্ঞাপনে গোলাপ ফুটুক….
                

আমন্ত্রিত

কাটুম কুটুম থেকে

 ধুলোর মানুষ
---------হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

ধুলোয় বসে যে মানুষটা ভাত খায়
সে-ই একমাত্র ভাতকে চেনে

ধুলোর মানুষের কাছে দু'টো পা
হাঁটা ছাড়া কোনো রাস্তা নেই

আমাদের হাঁটায় ডাক্তারের নির্দেশ -----
" রোজ সকালে একটু হাঁটুন "
বাকি সময় ইচ্ছাযানে চড়ে
যখন তখন যেখানে খুশি

আমন্ত্রিত

সবুজ সাথি থেকে

ভাবনা // বিধান সাহা

এভাবে ভাবতে চাই নি
তবু ভাবনার উপর
ভর দিয়ে দাঁড়ালো
প্রাণের সৌন্দর্য
নতুন প্রেরণার
আলম্ব বিন্দু হয়ে
চেতনার রঙিন
উচ্ছ্বাস ভেসে গেল
আরও রঙ ছড়িয়ে
জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত
মোহময় হয়ে উঠলো
অতি উৎসাহিত
আবেগের সচল হাত ধরে ......

আমন্ত্রিত

সপ্তাশ্ব পত্রিকা থেকে

1.)
তুমিও বোঝো🌿
     ----নীলমেঘ

নারী, তুমি অবলা নও।
তোমার পরাধীনতা-তোমার অনুভূতি-তোমার আবেগ--- আমি বুঝি।
মানি তোমায়, স্বীকার করি তোমার না বলা কথা।

তিতলির মত তোমার ইচ্ছেগুলো ছুঁতে চায় না ফোটা ফুলের গভীরতা।
জোর করে তা খাঁচায় বন্ধ করব! --- না না তেমন পুরুষ আমি নই।

টুপ টুপ করে ঝরে পড়া সজনে ফুলের মত তোমার দুঃখগুলো---
ভাসিয়ে দেব, --- ওই দূরের নদীটাতে।

সকালের শিশির ধোওয়া শালিকের ডানার মতো তোমার খুশীতে---
গোধূলির বুক চিরে আনা একগুচ্ছ গোলাপের গন্ধ, --- মিশিয়ে দেব।

তোমার পদ্মপাপড়ি বুকে জমে থাকা প্রেমে---
খুঁজে নেব, --- আমার শান্তি, সুখের ঠিকানা।

তোমার ইচ্ছে-তোমার দুঃখ- তোমার খুশী- তোমার প্রেম--একান্তই আমার।

নারী, তুমি মেয়ে- তুমি প্রিয়া- তুমি স্ত্রী-তুমিই মা!
আমি তোমায় বুঝি।
আমি পুরুষ--- তুমিও আমায় বোঝো।
                 -------------
2.)
গনতন্ত্রের গ্রীণল্যান্ড

---- শ্রীনীল


একটা এশিয়া- আমার দুঃখ
একটা প্রশান্ত- আমার স্বপ্ন
একটা কাস্পিয়ান-আমার কান্না

একটাই গ্রীণল্যান্ড ---
পামিরের আকাশ থেকে,
গড়তে গড়তে শত সহস্রবার ভেঙে পড়া চাঁদ
আবারো মুখ তুলে চায়, প্রতিরাত
আবার ভেঙে পড়া ......
হাইড্রোজেন ভালোবাসা নিয়ে
কাস্পিয়ানের বাষ্পায়ন হয় না কোনোদিন,
তাই আমার চাঁদ রঙীন বোতলে ডুব দিয়ে
আকাশে ছড়িয়ে দেয় সুগন্ধি অ্যালকোহল

আমার চাঁদ কঙ্গোর মাটি দিয়ে গড়ে
মানুষ খেকো মনুষ্যত্বের মূর্তি।
আমার চাঁদ মেরু বরফের শাড়ীতে
বাঁচাতে পারে ইয়েতি মেয়ের ইজ্জত।
অ্যাঞ্জেলের জলধারায় পা ভিজিয়ে
কখনো এঁকে দেয় গনতন্ত্রের গ্রীণল্যান্ড।

তাই চাঁদের লোভে, বারবার
টিকটিকি জীবনের প্রসূক্তা আত্মহত্যাই ---
একটা এশিয়া, একটা প্রশান্ত
একটা কাস্পিয়ান  ...


(সপ্তাশ্ব )



আমন্ত্রিত

পদক্ষেপ লিটিল ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে

১.)
পাখিটা
শ্রী আশীষ মুখোপাধ্যায় ।

আমার হৃদয়ের যত খবর রাখে
গোপনবাসী একটি পাখি
নিশুতি সূপ্তিতে ও একা জেগে থাকে
আপন জগতে স্বাধীন সুখী ।
আমার হিয়ার ঝর্ণাধারায় পুষ্টি খোঁজে
পিপাসায় জল ,ক্ষুধার দানা
হৃদয় আকাশে পাখা মেলে দিতে ওড়ে
শেকল খাঁচার নেইকো মানা ।
আমার হৃদয়ের নির্ধুম আকাশ খোলা
ওখানেই বনচ্ছায়ার শীতল ঘর ,
কখনো জাগায় , ঘুমদেশে নিয়ে যায়
শিশে তোলে সুরসঙ্গীতে আসর ।
গোপন পাখিটা আমাকেই দেখে বোঝে
নেয় নাকো অন‍্য কারোর দর্পণ
নিজের আবেগে আবেশে গড়ে পৃথিবী
সে যে তার একান্ত নিজস্ব দর্শন ।
যত সুখ দুঃখের ইতিহাস নখদর্পণে তার
জানে  বুকের স্পন্দন প্রতিটা
কোজাগরী পৃথিবীর খবর এনে দেয় সে
মন্বন্তরের খবর ও দেয় পাখিটা ।।

২.)
যন্ত্রণা সুখ
এস এম দাউদ আলি

যন্ত্রণা গুলো ফাঁসজাল হয়ে
নৌকায় বাঁধা
ফাঁক দিয়ে তার
বয়ে যায় সময় নদী
এ তীরে ভিড়েনা বসন্ত বায়ু
যন্ত্রণা সুখ মেখে
পথ চলা!

আমন্ত্রিত

নোঙর ওয়েব ম্যাগ থেকে

প্রভাতকিরণ
আরিফুল ইসলাম সাহাজি

ক্ষুব্ধ প্রশ্নবিদ্ধ হৃদয় নিস্তব্ধ সন্ধ্যা পেরিয়ে

ঘন আঁধার রাতে একগুচ্ছ বুনিত স্বপ্ন হাতড়ায়

ঘুম  আসবে না ! চেতনার গলিত অন্ধকার

খেয়ে নিয়েছে বাঁচার সব রসদ , শরীরী ঘ্রান
গুমরে মরে লাশকাটা ঘরে । আহত প্রজাপতির জবানবন্দীতে বিশুদ্ধ স্বপ্ন দেখবো বলে চৌরাস্তায় এসে দাঁড়ায় । গুপ্তঘাতক ওঁতপেতে ছিল আগেই , ঘুমাতে পারছে না হয়ত সেও । এগিয়ে আসছে  সে ! ভয় পাচ্ছি এবার ।
সময়ের গাঢ় অন্ধকারে হারিয়ে যাবো , কেমন রাক্ষস একটা সময় ! সময়ের পেটে কি ভয়ঙ্কর ক্ষুধা । সাক্ষী থাকুক জোস্না । হাঁটু গেড়ে বসেছি এখন , এই চৌরাস্তায় অভিনীত হোক আমার মৃত্যুপালা ।একটা আলোর কিরণ এসে পড়ল চোখে , দেখলাম কিছু নেই আর  । ।
          ---------

আমন্ত্রিত

উন্মনা লিটিল ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে

১.জলফড়িং এর জন্মদিনে
              ভারতী ধর
জলফড়িং এর প্রথম জন্ম জয়ন্তী বাসরে
    উৎসাহের অভিনন্দন অভিসার,
শেকড়ে শেকড়ে শিরায় শিরায় আত্মীয়বৎ যারা
এনেছে শুশ্রুষার উপহার ।
কেউ বা এনেছে ছন্দে ছন্দে
 কেউ বা আবার গদ্যে আনন্দে,
আশার কমনীয় অনুসন্ধানের পথে
  প্রবল প্রণয়ের আকর্ষণ ।
বিচিত্রগামী সর্বত্রগামী পথের
যতই বৈচিত্র‍্য থাক না
সবই মালিন্য তাড়ানো,অন্তর মেশানো
    অন্তরের নিঃসংকোচ আভরণ ।
চড়াই উৎরাই পথ,গলিপথ হলে হোক না
তক্তাপোষ বিশ্বাসের আখড়ার উপবন,
আস্বাদে ,শ্রদ্ধায়,হৃদ্যতায়, আলিঙ্গনে
মহামিলনের ঐক্যবন্ধন।
 আজ জন্মদিনের শুভলগ্নে জলফড়িং এর
     প্রেরণার ইচ্ছাপূরণ
দিনে দিনে বেড়ে চলুক জলফড়িং এর
স্বপ্নের উৎসের উদ্যান ।

২.)

আরোগ্য  #  বিনয় হাজরা

আমার একটা পুরনো রোগ আছে
                 অনেক দিনের ।
একটা কলম একটু কাগজ
আর মাঝে মাঝে হাফ কাপ চা
এসবই ওষুধ আর কিছু উপাহার ।

আরোগ্যে ভূমিষ্ঠ হয় কবিতা আমার ।

(উন্মনা)

আমন্ত্রিত

আলাপী মন ওয়েব ম্যাগ থেকে

১.)চিলে কোঠার আড়ালে
   অমল দাস

তারা তুই মেঘে ঢেকে গেলি এতই!
আমি নিরালায়, চিলেকোঠার আড়ালে;
একবার দেখার ফুরসত নেই!
মাঠে দূর দিগন্তে আকাশ মিশে যায়,
একরাশ ক্ষোভ উগরে সন্ধ্যা ঘনায়।
পাখিরা ডানা মেলে নিজ ঘরে ফেরে,
আমায় জানায় বিদায়, হয়তো ফের কাল!
ব্যস্ত রাস্তার ভিড়ে, ট্রেনে বাসে, সমাবেশে
নিজেকে খুঁজি মিছে আলেয়ায়।
গ্রামের মেঠো গলিপথে সেই বাঁশঝাড়েরা -
আজও আমায় দেখে অট্টহাসি হাসে।
শতাব্দী প্রাচীন জীর্ণতা ঘিরে আমায়,
এখনো আছি! ইতিহাস হতে বাকি!
সূর্যের মোকাবিলা করে দিনের আলোয় খুঁজি তোকে,
রাতে হারিয়ে যাই অজস্র আলোর ভিড়ে।
উত্তাল সমুদ্রে জাল ফেলি ।
শুনেছি সেখানেও তারামাছ থাকে!
বড্ড ইচ্ছে হয়, জানতে সেও কি তোর মত?
*************************

2.)
স্বপ্নের উজানে
(✍ রুদ্র প্রসাদ ।)

রঙিন, বাহারী কষ্টে কল্পিত সাগরের উপকূলে,
অবদমিত কামনা অকারণে অহরহ ঢেউ তুলে;
ভেতরে দহন জ্বালা ঈর্ষাপরায়ণতার তাড়নায়,
বাইরে? নেহাতই দেখানো, বিনিময় শুভেচ্ছায়।
ভেঙে দোর বেরিয়েছে হিংস্র সব শ্বাপদ ‘আশ’,
সুলুকসন্ধান ছাড়াই ফুঁসছে বিপুল সুখোচ্ছাস!
আশা নিরাশার বৈতরণীর বুকে অলীক ঝাঁজে,
অবচেতনে সংজ্ঞাহীনতা, ফেনিল সুখের মাঝে।
জোটে রোজের নিষ্কাম হতাশায় আঁধার প্রাপ্তি,
নিষ্ফল আক্রোশেই কদর্য নির্ধারিত প্রতিলিপি!
লাভের লোভেই রূপোর কড়িটা সমানে লাফায়,
আলোর সোনায় ক্ষুধার্ত গাঙচিল ডানা মেলায়।
সময়ের আবর্তনে হারিয়ে যায় লক্ষ তারা, চাঁদ,
অরুণালোকে উষ্ণতা ছাড়া যেন সবই বরবাদ!
নিত্য পরিবেষ্টিত, বড়ই নিষ্ঠুর জীবন নাগপাশ,
সকাশে অনাহূত, একাই গুমরে মরে অবকাশ!
অসীমের সীমানার খোঁজে চেয়ে আকাশ পানে,
দিগন্তের সীমারেখা ছুঁয়ে, অস্ফুটে কানে কানে;
অশান্ত নিথরতায় রহস্যাবৃত, অজানার অতলে,
মনের খাঁচায় বন্দী পাখিটা কতই না কথা বলে।
প্রতিকূল পরিবেশেই সঙ্গমের অনুলিপি প্রদান,
সুন্দর কল্পনার প্রতিভাসে নিরন্তর প্রয়াসী প্রাণ;
চড়াই উতরাই পেরিয়ে সাকার হবে প্রতিবেদনে,
মিলন একদিন নিশ্চিত, সেই কাঙ্ক্ষিত উজানে ।।
*************************

 3.)
 আপন খেয়ালে
 রীণা চ্যাটার্জী

পথিক তুমি চলতে পারো খেয়াল খুশীর সাঁঝে,
পথ তোমায় বাঁধবে না  তোমার খেয়াল মাঝে।
জীবন তুমি বইতে পারো প্রশ্ন নদীর গায়ে;
উত্তর তুমি পাবে না জেনো কেউ নেবে না দায়।
মন তুমি সাজতে পারো নিজের খুশীর রঙে,
কেউ দেবে না আবীর জেনো তোমার মনের রঙে।
ভালোবাসার রঙে তুমি রাঙাও নিজের প্রাণ,
মান চেয়ো না, তা পাবে না, দেবে না এই ভূবন।

পৃথিবী আজ বড়ো অসহায় রোদনে ভারাক্রান্ত;
স্বার্থ সিদ্ধি খোঁজের নেশায় দিন যে অতিক্রান্ত।
পথিক তুমি ভাবছো বুঝি কেউ বাড়াবে হাত,
কাছে থেকে তোমার ব্যথায় জাগবে সারারাত?
কে ডাকবে? কে ভাববে? কে বাড়াবে হাত?
ব্যস্ত যে আজ সবাই, দেবে না তো কেউ সাথ,
একলা চলো নীতি যে আজ জীবনেরই মানে;
এই আপ্তবাক্য বরণ করো জীবনের এই ক্ষণে।
*************************

# 'আলাপী মন' দৈনিক ই-ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে "জল ফড়িং"-এর শুভ জন্মক্ষণের শুভেচ্ছা...💐
              -------------





শ্রাবণের রাত
জাফর সাদিক

শ্রাবণের রাত
পথ হারিয়ে পথের সন্ধানে
পথচারী
থেকে থেকে দমকা হাওয়ার তালে
জীর্ণ ছাতাটি
ঝুলন্ত বাদুড়ের মতো নত জানু
মাঝে মাঝে বিদ্যুতের চমকানি
থমকে যেয়ে আবার চলা
কিন্তু কোথে?
গন্তব্যের নাম? """""

আমন্ত্রিত

কবিতার ছন্দ থেকে

১.)

হৈমন্তিক শীতলতায় জন্মদিন এলে
          নেচে ওঠে জলফড়িং।
ছটফটে তারুণ্যের খোঁজে
       নেচে ওঠে তিড়িং বিড়িং।
সদ্য শরৎ পেরোনো দিন গুনে গুনে
        এখন তার মহা আনন্দ
জন্ম মোড়কে স্পন্দিত মুখোশে
            কত না রঙিন ছন্দ!
এভাবেই এগোক, উড়ুক ডানা
                     মেলুক পাখা
দেশ বিদেশের ওয়েবে সহাস্য কলতানে
        বিস্তৃত হোক--তার শাখা।

____শুভ জন্মদিন জলফড়িং_____

                মৌসুমী ভৌমিক
               
সম্পাদক কবিতার ছন্দ ব্লগ
         ------------


২.)অপরাজিতা.
কৌশিক কোনার
................................................

অপরাজিতা....
সব শেষে তুমিই জিতে গেলে।
আমার জন্য হেরে যাওয়াই ঠিক,
এতেই আমি অভ্যস্ত।
হেরে যাওয়ার মাঝেও অনন্য সুখ আছে,
অবশ্য যারা জিতে যায় এই সুখ তাদের জন্য নয়।
অপরাজিতা...
আমি জানি তুমি হারতে ভালবাসোনা,
জয়তিলক তোমার কপালের টিপ হয়ে থাকে আজন্ম।
আর আমি কোনদিন জিততেই পারিনি,
নিন্দুকেরা বলে ব্যর্থ মানুষ।
যদিও আমার আফশোস নেই কনামাত্র,
কিছু মানুষ হেরে যাবার জন্যই জন্ম নেয়।
আর আমি সেই পাড়াতেই থাকি,
যদিও তোমার অন্যপাড়ায় বাড়ি।

অপরাজিতা.....
তোমার বিজয়বানী লোক মুখে শুনি,
আমার হিংসা হয়টা মোটেও।
যা কিছু ভালো তোমার হোক ক্ষিতি কি?
তোমার জন্য ফুল মালা,
আমার জন্য না হয় কাঁটার আঁচড়।
তোমার জন্য কোজাগরী,
আর আমি অমাবস্যার অন্ধকারে সুখ খুঁজি।
তোমার জন্য ঝলমল প্রাচুর্য্যের বৃত্ত্য,
আমি নিতান্ত সমান্তরাল পথে হাঁটি।

অপরাজিতা....
এমন ভাবেই দুজনে ভালো থাকি,
এক জীবনে ভালো থাকাটা জরুরি।
কে কিভাবে ভালো থাকে তার ধ্রুব নিয়ম বোধহয় নেই,
দ্বীপান্তরে কেউ সুখী আবার কেউ মনমরা।
তুমি জয়মাল্যে উচ্ছ্বল,
আর আমি পরাজয়ের কলঙ্কে সাবলীল।

এই ভালো,
 বৈপরীত্যেও  জীবন খুঁজে নেয় নিজের মতন পূর্ণতা,
দূরত্বেই বেঁচে থাকো পরবাশী অপরাজিতা।
                   -----------

৩.)
সময়টা হারিয়ে যায় কত সহজে.....
  রীতা রায়

সময়টা হারিয়ে যায় কত সহজে!

যখন গভীর রাতে হঠাৎ ডেকে ওঠা
অচিন পাখির মতো সুর ভেসে আসতো,  দূরদূরান্তের ছায়াপথ ধরে.

কখনো সন্ধার ঘরফেরা বলাকার    নিভৃতে খসে পড়া একটি পালক,
বুলিয়ে দিয়ে যেত মনের আশপাশ
স্নিগ্ধতার পরশে...

কখনো দ্বৈপ্রহরিক নিঃঝুমতার
ঝাঁঝমাখা রোদ্দুর,দগ্ধ ক্ষত শুকিয়ে
হেঁটে আসা একান্তের অপরাহ্ন...

আবার কখনো, ঊষষীর প্রথম   তির্যক রশ্মিমালা,স্বরের বিচ্ছুরনে
অলক্ষ্যে হয়ে ওঠা হৃদয়ের মানুষী...।

সহস্র মূল্যের সেই আমিকে আজ
হোয়াট্স অ্যাপ,ফেসবুকের সাধারন মেসেন্জারের মতোই দেখাচ্ছে...,
অচেনার আনন্দ খুঁজতে গিয়ে
পথ হারানো বালিকা.....

সময়টা হারিয়ে যায় কত সহজে!
যখন একটা রিংটোনে লেখা হত
রূপকথার  গোটা একটা গল্প,
মিসড্ কলে বাবুই বাসার সুখ....।

 ধূপের ধোঁয়ায় ঘর ছিল পরিপূর্ণ,
উদ্বেলিত একটাই অনুভূতি !
এখন অগুণিত ধূপকাঠির সৌরভে
ক্ষণেকের স্বস্তি...

ঘিয়ে ভাজা লুচির আস্বাদ মুছিয়ে,
হাজারো বনস্পতির ব্র্যান্ডনেমে
ফুটপাতের ফুচকার স্বাদ,
মুখে দিলেই যা মিলিয়ে যায় ...

থেকে থেকে ওঠে টক্ ঝাল মিষ্টির
চোঁয়া ঢেকুর...
ওদিকে,স্মৃতির কিনারে বেজে ওঠে
পুরোনো সেই সব সুর...
একটানা...ফাঁকা ফাঁকা সুর...।

সময়টা হারিয়ে যায় কত সহজে!

*******************************

৪.)স্বপ্নের রঙ _____
দেবার্ঘ্য চ্যাটার্জী
***************
আজও স্বপ্ন জাগে নিদ্রাহীন নয়নে,
বৃষ্টিভেজা প্রাতে স্বপ্নহীন অজানা তৃণে ।
আকাশ রঙিন হয়েছে কালো মেঘে,
যে রঙ শুধু আমাকে ভালোবাসে ।
তাইতো বারবার ধরা দিয়েছো স্বপ্নে,
হয়েছি ম্লান কালো কাজল নয়নে ।
মৃত্যুর আগুন কখনো পারে নি ছুঁতে,
তোমার পরশে ভিজেছি নিশিতে ।
সাগর হয়েছে উচ্ছলিত ভরা বর্ষণে,
নদী মিশেছে পথ ভুলে স্বপ্নের রঙে ।
মাতাল হয়েছি মুক্ত পাখিদের কলহে,
তোমার রঙ উজ্জ্বলিত স্বপ্ন কাননে ।
আজও ভোরকে জাগিয়ে দেয় রবির আলো --
স্বপ্নরা জাগে না, আকাশ আজ নেই কালো ।
তবুও স্বপ্ন জাগ্রত হয় তোমার পরশে,
মৃত্যহীন প্রাণ শিহরিত মলিন হরষে ।
আকাশ ভরা তারার মাঝে আঁকি চিত্র,
স্বপ্নের রঙ করেছে হরণ তোমার চিত্ত ।
              -----------
বিভাগ : কবিতা


আলো হয়ে জ্বলে
-------------------------
-------------------------
@ তপময়

জীবনের বেড়ে চলা বছরের ভিড়ে-
বন্ধুরা আজো ঠিক ছুঁয়ে ছুঁয়ে চলে...
মনে আছে রূপকথা, রোদেলা দুপুর,-
মনে আছে মাঠ আর স্কুলবাড়ি,
আত্মজ আজ সেই ক্লাসরুমে যায়;
মন সেই কৈশোরে দিতে চায় পাড়ি..

মাঝবয়েসের এই হিসেব খাতায়,
চাওয়া-পাওয়া গরমিল সালতামামী,
শুধু সেই বন্ধুতা আজো ডাক দেয়-
ছুটে ফিরি স্কুলঘরে কৈশোর  "আমি"..

ফিরে যেতে চাইলেই ফেরা যায় বুঝি?
কত পথ হাঁটা হল,কত পথ বাকি
শুধু জানি একা নই তোরাও আছিস
ক্যানভাস জুড়ে তাই "বন্ধুতা" আঁকি।

বয়ঃসন্ধির দাগ
কৌশিক চক্রবর্ত্তী

আমি এখনো রাস্তায় শুয়ে আছি
বুকের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে বুলডোজার
আমিও ক্রমশ অন্ধত্ব থেকে ফিরে আসছি আসক্তির কাছে...

যারা চিরকাল মানুষ সেজেছে,
সারা শরীরে আবর্জনা লাগিয়ে
তরতরিয়ে উঠে গেছে মন্দিরের ছাদে...
আমি আর তাদের দলে নেই...

যদি পারো তবে আমার দুচোখে বুলডোজার চালাও
আমিও দেখে নিই ঈশ্বর হতে গেলে আর কত ধুলো মাখতে হয়;

আমি এখনো রাস্তাতেই শুয়ে আছি
বুলডোজার সরে গেছে-
এখন শুধু আমার চওড়া গালে স্পষ্ট লেগে রয়েছে