নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে
সাপ্তাহিক ২০২০ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাপ্তাহিক ২০২০ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সম্পাদকীয় কলমে - শোভন অধিকারী

 

সম্পাদকীয় কলম:

শোভন অধিকারী

জন্ম, মৃত্যু, জরা, ব্যাধি এই চারটি প্রকারভেদের বিবর্তনেই ঘুরপাক খাচ্ছে গোটা জীব জগত। চাইলেও আমরা এটাকে এড়াতে পারব না, শেষের তিনটি বাস্তব অনেকটাই রুঢ়  যা ঘড়ির ঘন্টা সেকেন্ডের কাঁটা, হাসি- কান্না, ধনী – গরীব  কোনো পরিস্থিতি ই সে মানে না গর্জাতে না পারলেও নিয়তি মাফিক সে বর্ষাতে জানে। কালের নিয়মে বিনা মেঘে নামিয়ে আনে বজ্রপাতের ঘন্টা না আমরা সমাজের উন্নতম জীব হয়েও তাকে রুখতে পারিনা শত চেষ্টা করেও।তবে যেটা পারি সেটা হলো কম সময়ে রঙ্গ মঞ্চে নিজেকে ভালো রাখা সকলকে ভালোবাসা জীবনের চক্রবূহ্যে একটা পরিপূর্ণতার ছাপ রেখে যাওয়া। 




সাপ্তাহিক কলমে - সুনন্দ মন্ডল



  ত্রিতাপ ক্লেশ

  সুনন্দ মন্ডল


ক্লেশ মানেই জীবনের জাগতিক প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত। 

এক হস্তী শাবক

যার বড় বড় দাঁত, বিশাল দেহ কিংবা ঐ মোটা মোটা পায়ের ছাপ,

তবুও কিছু একটা থেকে বঞ্চিত!

তারও দুঃখ আছে, ক্লেশ আছে।


ভাষা জানি না, তাই ওদের কষ্ট বুঝিও না।

অবশ্য সব প্রাণীদেরই একই অবস্থা।

আসলে কথায় আছে না!

যে যা পায়, তা চায় না! 

আর যে যা চায়, তা পায় না।


আমরা তো নিমিত্ত মানুষ

কেবলই আত্মসুখে মগ্ন

একটু এদিক ওদিক হলেই 

বিস্বাদে ডুবিয়ে রাখি নিজেদের।


আমরা বুঝতেই চায় না, এই সমাজ ও প্রকৃতির সুখ পেতে গেলে স্বল্পতায় আবদ্ধ রাখতে হবে।

কোনোরকম অন্তহীন উচ্চাশা মানেই বঞ্চনা, হতাশা!


প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত দুঃখ হোক,

আর অন্য জীবের দ্বারা প্রাপ্ত অবহেলা

কিংবা নিজস্ব মন ও শরীর জাত কষ্টই হোক!

সবকিছুর মূলে আত্মদর্শন।


এই জরা থেকে মুক্তি পেতে গেলে বিলিয়ে দিতে হবে  সমাজদর্শনে, 

সবার মাঝে বিশ্বপ্রকৃতির সবুজ দোলনায়।

ভালোবাসতে হবে, দুঃখীদেরও আপন করতে হবে!

তখনই ত্রিতাপ ক্লেশ নয়, জাগতিক সুখটুকুই থেকে যাবে আমৃত্যু।

               





সাপ্তাহিক কলমে - পাখি পাল


"দুঃখের কিছু দাগ"

  পাখি পাল


আমি বলি দুঃখ,তুমি বলো কষ্ট,

সে বলে যন্ত্রনা, সত্যি এগুলো

ছাড়া জীবন ভাবাই যায় না,

প্রতিটা দিন মানুষ তো বাঁচতেই চায় নিজের মতো করে, কিন্তু কষ্ট-দুঃখ গুলো

তার পায়ে বেড়ির মতোই 

জড়িয়ে থাকে, পিছুটানে,

শিকলের দাগ যেমন লেগে

থাকে হাতে-পায়ে,ঠিক তেমনি

অদৃশ্যভাবে দুঃখের দাগ গুলো লেগে থাকে স্মৃতির গালিচায়, 

যেন প্রতিবার তারা আঘাত করে আমাদের মনোবল ভাঙতে চায়,

মনের গায়ে শত শত চাবুকের দাগ..দগদগে ক্ষত,

চোখ দুটো বুজে আসে, তবু ফুসফুস শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা চালায় অবিরত,

সাতরঙা রঙধনু ভাসে অল্পের জন্য,

জীবন-আকাশে রোদ-বৃষ্টির খেলায়,

এভাবেই চলে প্রতিনিয়ত বাঁচার লড়াই,

আর একটু..আর একটু..করে মনবলের চেষ্টায় ।





সাপ্তাহিক কলমে - শ্রেয়া রায়

 

অনুগল্প:-

শিরোনাম:-"ফিরে পাওয়া"

শ্রেয়া রায়



চার বছরের একটি ছোট্ট মেয়ে..গীত তার মায়ের সাথে দীঘার সমুদ্রের কাছে একটি ছোট্ট কুটিরে বাস করত। তার মা সমুদ্র থেকে মাছ ধরে তা বাজারে গিয়ে বিক্রি করতো এবং তা দিয়েই কোনো রকমে তাদের  দুজনের পেট চলত। মা আর মেয়ের দুনিয়াটা ছিল ভীষণ ছোট। আপনজন বলতে কেউই ছিল না। মায়ের সাথে সারাদিন গীত থাকতো, মা যেখানে যেখানে যেত গীতও মায়ের সাথে সাথে সেখানে যেত। সারাদিন কাজকর্মের পর সন্ধ্যা বেলা বাড়ি ফিরে আসত এবং রাতে ছোট্ট গীত মায়ের সাথে সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে বিভিন্ন গল্পে মেতে থাকতো। এই ভাবেই কেটে যেত তাদের সময়।


হঠাৎ একদিন এক ঝড় উঠল এবং তছনছ হয়ে গেল তাদের সাজানো জগৎ... স্বপ্নগুলো টুকরো টুকরো হয়ে গেল... বিচ্ছিন্ন করে দিলো তাদের এক দস্যু ঢেউ... ঘরবাড়ি তলিয়ে গেল জলের তলায়। মা আগলে রাখতে পারলেন না তাঁর ছোট্ট সন্তানটিকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেড়ে নিল সন্তানকে মায়ের কাছ থেকে। দিশেহারা মা পাগলের মত ঢেউয়ের সাথে লড়তে লড়তে সন্তানকে খুঁজে বেড়াতে লাগলেন... কিন্তু বারংবার চেষ্টার সত্বেও পেলেন না ছোট্ট শিশুটিকে খুঁজে। অবশেষে জ্ঞান হারিয়ে মা পড়ে রইলেন সমুদ্রের এক পাড়ে। এই ভাবেই কেটে গেল সেই দুর্যোগের দিনটা।


পরের দিন সকাল হতেই প্রথম সূর্যের কিরণে চোখ খুললেন মা.. চোখ খুলতেই সমুদ্রের চারপাশে তাকিয়ে দেখেন, তছনছ হয়ে গেছে সমস্ত কিছু, সবকিছুর ধ্বংসাবশেষ পড়ে রয়েছে সমুদ্রের পাড়ে। তার মধ্যেই মা আবার অক্লান্ত ভাবে খুঁজে চলেছেন তার ছোট্ট শিশুটিকে। হঠাৎ এক পাশে দেখতে পেলেন তার শিশুটি অবচেতন ভাবে পড়ে রয়েছে। মা হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলেন শিশুটিকে দেখে এবং চিৎকার করে ডাকতে থাকলেন..জাগাতে থাকলেন তার সন্তানকে।অবশেষে মায়ের ডাকে চোখ খুলল ছোট্ট গীত এবং মা সন্তানটিকে বুকে আঁকড়ে ধরে হাউ হাউ করে কেঁদে উঠে বললেন...

"শুনেছিলাম সমুদ্র যা কিছু নেয় তা সবই আবার ফিরিয়ে দিয়ে যায়... আজ তা স্বচক্ষে উপলব্ধি করতে পারলাম।"





সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০

সাপ্তাহিক কলমে - প্রীতম

 

কৃতকর্ম

প্রীতম রায় 


না না ভেবো না 

আজ আমি অভিযোগ জানাতে আসি নি।

বরং স্বস্তি পেয়েছি হুজুরের রায়ে।

জানি আমি দোষ করেছি, 

প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে দেখিয়েছি

বহু নিয়ম কে বুড়ো আঙুল। 

বহু বছরের শয্যা ত্যাগের পর ইচ্ছে হলো 

অন্ধকার টা ছেড়ে এবার একটু আলোর মুখোমুখি হই।

জানি তুমি সেই সুযোগ আমায় দেবে না

বহুদিনেএ আলোর বিপরীতে যাপন করা আমিটা 

এখন ও বোধ হয় যায় নি।

তাই হয়তো এখন ও স্বপ্ন দেখি সেই একদিনের।

আচ্ছা বলতে পারো আমার বয়স টা কত হবে।

বলতে পারো কুঁচকে যাওয়া চামড়ার পিছনে,

আমি কি তরুন না অর্ধমৃত 

এক বয়স্ক রোগ গ্রস্ত কঙ্কাল।

যে তোমার নিকট মৃত্যুর ভিক্ষা চাইছে

আর তুমি পাপ – পূন্যের দাড়ি পাল্লায় মাপছো

কৃতকর্মের দোষ গুন গুলো কে। 






রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২০

সাপ্তাহিক কলমে - জি কে নাথ

 

সন্ধান    

জি কে নাথ 


হলুদ পাখির মুখে ওড়ে জন্ডিসের হলদেটে আকাশ, খুদকুঁড়ো

 তামাটে সবুজ গড়নে আধখানা আর্তনাদ টুপটাপ এক ঢেউয়ে

বুক পেতে শুয়ে আছে মূর্ত শালুকপাতায় নিহিত বিষণ্নতা

 নিজের ভেতরে থৈ থৈ জল


এ মৃদু জলের তরঙ্গশব্দে বাঁধা আজন্ম সেতারভাঙা ছেঁড়া তারে বন্দি চেতনা,

আর্দ্র হয়ে আছে ঘুম

লোহিত সাগর পার হয়ে আসা সমুদ্রস্বর বিষাদ গম্ভীর বিরাট ছায়া ফেলে আলোড়িত নাগরিক সত্তায়

ক্রমে অক্ষর সরে গেলে , ফুরিয়ে যাওয়া খাতার পাশে কলতলার এঁটোবাসনগুলো জেগে ওঠে মৃত শব্দের শাদা জোছনায় 

তলে তলে পোড়ে শহর উল্লাস, তা ধিন ধিন মুখোশ নাচে ,

পুতুলের নিবিড় ছায়া নামে ক্ষেতে

হ্যাজাক জ্বেলে নীল পিকনিক 

আঠাশটা বছর হারিয়ে গেছে, একলা রয়েছি জীবন নির্মাণে 

সদ্য পাতী শীতলার মতন মুখরতায় উৎকীর্ণ পোড়ামাটির মুখ ফেটে গঙ্গা যমুনার মতো কবিতায় মিশে যাচ্ছে স্বদেশ

 এ শরীরের গাঢ় মনস্তাপে ঝলসে ওঠে 

ধিকি ধিকি বেগুনি আঁচে এখন  অন্ধকারের সেলাই করা সুতহীন শয্যা 

চোখের সামনে নামের আড়ালে স্বপ্নপূরণের বেদনামাখা ভাঙা ডানা মেলে ধূসর শব্দ ভেদ করি ক্রমে

নিবিড় বিরহের অভিমুখে ঘুরতে থাকে হাওয়াহীন বাতাসে ভরা ভাদরের পদধ্বনি, 

কুকুরে কুকুরে মৌতাত ,আঁতাত

চিহ্নে ভরে ওঠে ডোবা শরীরের সুলুকসন্ধান, চিহ্নে ডোবে চিহ্ন

এখন অবিরল ছায়ার স্রোত ভেঙে ভেসে পড়তে চায় বৃত্তের চাকভাঙা কথা

নিশ্চুপ আঁধারে বুকের সরীসৃপ বাড়ে সুদীর্ঘ ইতিহাস পরিক্রমার মতো 

 বিড়িপোড়া মুখে ধূসর আস্ট্রে উল্টে গেলে বিবেক হয়ে ওঠে মন্দার বাজারে সস্তার রেশন চাল! ....ফোটে রাতের তারায় তারায় উজ্জ্বল দানায়

শীতে হারিয়ে যাওয়া অস্পষ্ট ঘুমের ভিতর এখন মানুষ খুঁজতে বেরোই ।





                          


সাপ্তাহিক কলমে - রাজা অধিকারী

 


আজ আকাশটা দুঃখের

 রাজা অধিকারী


বৃষ্টি পড়ছে মাটিতে, করছে মৃদু শব্দ।

প্রতিদিন আমার একইরকম কাটছে, 

আমি যে আজও বাড়িতে আবদ্ধ।

চিন্তায় মগ্ন থাকি সারাক্ষণ,

এই জরাজীর্ণ শরীরে জমছে মনের কষ্ট, হচ্ছে রুক্ষ্ম।

সুখের পিছনে দৌড়াতে গিয়ে মিলেছে

শুধু অশেষ দুঃখ।

রাতদিন জেগে জেগে স্বপ্ন দেখি,

বারে বারে ফিরে পেতে চায় ,

সেই ফেলা আসা দিন,

যেখানে রামধনুর মতো মিলিত ছিল সমস্ত স্মৃতিরা।

আজ মনের মধ্যে নেমে আশে দুঃখের ঢেউ।

অক্লান্ত পরিশ্রমের পরেও মুখে ছিল হাসি,

মনে হত মেঘের ভেলায় চড়ে আকাশেই শুধু ভাসি।

কিন্তু আজ সেই আগের আকাশটা নেই,

আজ আকাশটা শুধুই দুঃখের।




সাপ্তাহিক কলমে - জয়ীতা চ্যাটার্জী


 সীমান্তে

জয়ীতা চ্যাটার্জী


আজ বুঝি একা বসে আছি মহাশিলার ওপর, 

শরীরে ভরেছে বাতাস মন যেনো সাদা আস্তরণ কাপড়। 

সমুদ্র ফেনা ঘিরে থাকে বৃত্তাকারে আমায়, 

মনে পড়ে সে পরিচিত ধ্বনি, বারংবার আমাকে কাঁদায়

ভালোবাসি  বলে মুখে তাও এতো দীন ঘরে ঘরে, 

সমস্ত সত্তা জুড়ে সেই স্বর ভর করে

ভুলে গেছি চেনা নাম, যা ভোলার কথা ছিল না কখনো, 

সব ছাপিয়ে জেগে আছে  সেই ধ্বনি সরব এখনো

কে যেনো জিজ্ঞেস করে এ জীবন দিয়ে দিলি কাকে? 

হৃদয় ও হারিয়েছে সন্ন্যাস কি জানি কার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে? 

আজ ছড়িয়ে দিয়েছে পাতা প্রতিটা পথের বাঁকে বাঁকে, 

কে যেনো ডেকে যায় বারোমাস, কার ছবি আঁকে। 

হয়তো শোনে না কেউ তবু সে ডাক ভিতরে জীবিত থাকে, 

বুকের ভেতর হাহুতাশ দেশ কি জানি কাকে একমনে ডাকে?





শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

সাপ্তাহিক কলমে :- সুদীপ নীল তন্তুবায়

 

সম্পর্ক ও শ্রাবন 

সুদীপ তন্তুবায় নীল 


একটা শ্রাবন শেষ হয়ে গেলেই 

অধ্যায় জুড়ে উপসংহার লেখে স্বাস্থ্যবতী বৃষ্টি।

ভাদ্রের মোহময়ী শরীর জুড়ে লেখা হয় 

স্থানান্তরের গল্প। 

পথের বৃত্তে মুখোমুখি দুটো যৌবন 

আবেগের ক্যানভাসে ষোড়শী নদীটির ছবি আঁকে।

এক একটি নিস্তারের লোভ 

অনিহার কচি হাতে তুলে দেয় 

পূর্ণচ্ছেদ ভালোবাসার দলিল।

সম্পর্ক বড্ড সহজাত।

একটা শ্রাবন শেষ হয়ে গেলেই সম্পর্ক শেষ হয় না।






সাপ্তাহিক কলমে : - শ্রেয়া রায়

শ্রাবণের শেষ বেলায় বিষাদের শ্রাবণধারা

শ্রেয়া রায়

সকাল থেকেই অঝোড়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, আকাশে কালো মেঘ ঘিরে চারিদিকে আঁধার নেমে এসেছে। রাস্তা ঘাটে জলে থৈ থৈ। তবুও কাজকর্ম তো আর থেমে থাকলে চলবে না। রোজের মত পেখম বেরিয়ে পড়ল অফিসের উদ্দেশ্যে। মুষলধারার বৃষ্টিতে অর্ধ ভিজে অবস্থায় পৌঁছালো অফিসে। 

অফিসে হাজার কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও পেখমের উদাসীন মন বারে বারে অতীত স্মৃতির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে। মনে পড়ে যাচ্ছে শ্রাবণের শেষ বেলায় হারিয়েছিল অভির চোখের প্রথমবার। 

মন গুনগুন করে উঠেছিল কবি গুরুর গানে..

"কেবল আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে,

হৃদয় দিয়ে হৃদি অনুভব..."

প্রথম প্রেমের প্রথম অনুভূতি শুরু হয়েছিল এমন শ্রাবণ ধারায়। সেই বৃষ্টিভেজা দিন, একসাথে ভেজার জন্য অভির জোর করা, বৃষ্টিতে ভিজে আইসক্রিম খেয়ে আবার একসাথে দুজনের ঠান্ডা লেগে জ্বরে ভোগা... কতই না পাগলামিতে ভরা ছিল দিনগুলো। সেদিনের শ্রাবণ ধারায় ছিল এক অদ্ভুত প্রেম-আনন্দ-অনুভূতি। পেখমের মনময়ূরী আনন্দে নেচে উঠেছিল..মেতে উঠেছিল গুনগুনিয়ে সেই কবিগুরুর গানেই...

"এমন দিনে তারে বলা যায়,

এমন ঘনঘোর বরিষায়....."

বৃষ্টির সোঁদা গন্ধে ছিল অভি আর পেখমের মিষ্টি প্রেমের ঘ্রাণ।আজ সবই অতীত.. অতীত স্মৃতির পাতায় আজ সবই বন্দি। অভির উপহার দেওয়া মুহূর্ত গুলো পেখম আজও যত্নে সাজিয়ে রেখেছে তার একান্তের হৃদয় কুঠুরিতে। যদিও অভির মনে আজ পেখমের জন্য নেই কোনো অনুভূতি.. নেই কোনো স্থান... কারন সে ঘর বেঁধেছে অন্য মনের মানুষকে নিয়ে.. ভুলে গেছে পেখমকে..

আজ বাইরের শ্রাবণ ধারার সাথে পেখমের আঁখি জুড়ে ঝড়ছে অঝোরে কান্নার বরিষধারা। ব্যর্থ প্রেম আজও খুঁজে যায় সেই অভিকে... অভির স্পর্শকে... ফিরে পেতে চায় সেই অভির মনটাকে.. যেই মনটা একসময় ছিল শুধু পেখমের..।







সাপ্তাহিক কলমে :- জয়ীতা চ্যাটার্জী



শতাব্দী

জয়ীতা চ্যাটার্জী


আজ সে চলে যাচ্ছে দূরে, 

যে ভাবে আমার গান শীত তাড়িয়ে নেয়। 

সে চলে যাচ্ছে দূরে মিশে যাওয়া বিকেলের রোদ্দুরে

সে চলে যাচ্ছে মিলনের সমস্ত অসম্ভব সম্ভবনাকে ফেলে ছুড়ে, 

সে ছোটো হয়ে আসে বুনতে বুনতে উলের গোলার মতো

ঘুমন্ত হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নাতুর যেন কিশোর শরীর চুম্বনরত,

সে চলে যাচ্ছে দূরে গলতে গলতে ছোট হয়ে যাওয়া মোম, 

আগুনের মধ্যে জন্ম নিয়েছে যেমন হোম

মন খারাপ মুছতে মুছতে তার সে চলে যাওয়া

মেঘের দিকে ডুবিয়ে মুখ উড়িয়ে দেয় হাওয়া

সে চলে যাচ্ছে সন্ধের শেষের মতো প্রায়

সমুদ্রশূন্যে শতাব্দী এমন করেই একদিন দূরে চলে যায়।











সাপ্তাহিক কলমে :- শোভন অধিকারী


"শ্রাবণের শতরূপ"

 শোভন অধিকারী


হে শ্রাবণ প্রকৃতির মাঝে তুমি এক অপরূপ সৃষ্টি,

শ্রাবণ মাসে বৃষ্টির জল, মনে বয়ে আনে আনন্দের ঢল 

শ্রাবণ মাসের বৃষ্টিতে ভিজতে লাগে ভালো,

শ্রাবণ মাসের মেঘলা আকাশ হয়ে আসে কালো।

শ্রাবণ মাসে বাইশে শ্রাবণ মনে পড়ায় কবি গুরুর প্রয়ান দিবস।

শ্রাবণ মাসে কদমের ডালে চড়ুই গায় গান।

শ্রাবণ মাসে কদমের গন্ধে ভরে যায় প্রান।

শ্রাবণ মানেই গ্রাম বাংলার গাছে গাছে তালের রব রব।

শ্রাবণ মানেই কত শত ভক্ত ঢালছে জল ভোলানাথের মাথাতে।

শ্রাবণ মানেই ভালোবাসার আকাশ, 

সেই আকাশের নীচে প্রেমিক প্রেমিকা মত্ত 

ভালোবাসার ছোঁয়ায়।

যা সমস্ত চোখে ছড়িয়ে দেয় অন্যরকম মুগ্ধতা।

শ্রাবণ মাসের উদাসী হাওয়া বিকাল বেলায়,

তুমি আমি করবো দেখা নদীর ধারে,

শ্রাবণ মাসের শান্ত পরিবেশ 

তুমি আমি চিরকাল যাবো ভালোবেসে।



সাপ্তাহিক কলমে :- পাখি পাল



'শ্রাবণের বেলাশেষে' 

 পাখি পাল


চাতকের চাওয়ায় আর বৃষ্টি নামলো কই,

ভরা শ্রাবণেও তার গলা শুকিয়ে কাঠ,

এভাবেই বছর আসে বছর যায়,

বুকফাটা কান্নায় আজ চৌচির ধূসর মাঠ,

শ্রাবনের ধারায় আজ যখন সবটা সবুজ,

চারিদিকে প্রকাশ পাচ্ছে প্রকৃতির আকৃষ্ট রূপ,

তখনও শেষের এক দামামা বেজে চলেছে কানের কাছে,

আর ঈশ্বর শত ডাকাডাকিতেও চুপ,

উল্টে-পাল্টে চলে ভাঙা-গড়ার খেলা,

দুমড়ে মুচড়ে আবার হাত চেপে করতে হয় মসৃন,

ডাইরী শেষ হয়ে যাবার পরেও,

কিছু ছেঁড়া পাতা থেকে যায় অমলিন,

অধ্যায়গুলো শেষ হয় একে একে,

তবু উপসংহার টানতে এখনো কিছুটা বাকি,

জানিনা এ জীবনে শ্রাবনের শেষে,

বৃষ্টি কি পারবে হৃদয় ছুঁতে নাকি দেবে ফাঁকি।






সাপ্তাহিক কলমে :- আমিমোন ইসলাম

 

মিথ্যে

আমিমোন ইসলাম


টিপ টিপ জল পড়ে, সারা বিকেল ধরে,

ভেজা ভেজা ছাতায়, কেও এখনও অপেক্ষা করে।

গুমড়ে গুমড়ে মেঘ, প্রেমিকের মনে ক্ষত,

যাচ্ছে যাচ্ছে চলে, গোপন সময় যত।

সামলে সামলে চলো, রাস্তা শ্যাওলাময়

একটু একটু জোরে, আঁটকে রাখতে হয়৷

গুড়ুম গুড়ুম বাজে, সবাই পায় ভয়,

ভয় ভয় পেলে, তাকে জাপটে ধরতে হয়।

সেলাই সেলাই দেওয়াল, শহরজুড়ে বোনে,

নতুন নতুন প্রেমিক, আঙুলে সময় গোনে।

প্রথম প্রথম চুমু, ঠোঁটে রক্ত ঝরে,

আদর আদর চাপে, জামার বোতাম ছেঁড়ে। 

শান্ত শান্ত গাছও, বোশেখের ঝড়ে নড়ে,

ঘুপচি ঘুপচি ঘরেও, প্রেমিকেরা প্রেম করে।

কালো কালো মেঘ জমেছে, শ্রাবণের শেষ বেলায়,

মিথ্যে! মিথ্যে! প্রেম মিথ্যে গরীবের ফাঁকা থালায়।









সাপ্তাহিক কলমে :- সুনন্দ মন্ডল


 শ্রাবণে মঞ্চ সজ্জা

  সুনন্দ মন্ডল


  শ্রাবণ শেষের বেলা

  ভাদুর গানে নাচে মন।

  ঝরঝর বৃষ্টির খেলায়

  উৎফুল্ল হয় এ জীবন।


  রঙিন সূর্যের গলিত আভা

  বেলা শেষের ডাকে মজে।

  প্রকৃতির মঞ্চে মাহেন্দ্রক্ষণের সন্ধ্যা

  শাঁখের ফুঁয়ে আঁচল নামায় লাজে।


  অস্তগত রোজনামচায় জীবন

   নতুন দমে নতুন অধ্যায়ে।

   ভালোবেসে দৃঢ় সম্পর্কে বাঁধতে

   শ্রাবণ শেষের নতুনকে নেয় জড়িয়ে।

   





সম্পাদকীয় কলমে : সুদীপ নীল তন্তুবায়

 

 সম্পাদকীয় কলম :-

সুদীপ নীল তন্তুবায়  

 শ্রাবন শেষের বেলা পার হয়ে ভাদ্রের ভালোবাসা 

 জানালার কাঁচে যৌবন আঁকে। মেঘঢাকা চাঁদের চিবুক থেকে কেড়ে আনে অঝোর অন্তমিলের চুম্বন। ব্যক্তিগত গল্পগুলো স্নানের ঘরে ভিজতে ভিজতে ভুলে যায় অষ্টাদশী বৃষ্টির কথা।

বৃষ্টি ভোলে না। তাই তো ভালো থাকার বৃত্তটা ভালো রাখার কম্পাস দিয়ে বড়ো যত্নে এঁকে দেয়। 

সাপ্তাহিক বৃত্তে আজ শ্রাবন শেষের জলফড়িঙ ভুলে যায় নি ভেজা গন্ধের পূর্ণবৃত্ত।  

 যাঁদের লেখনীতে জলফড়িঙের এই সংখ্যা সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁদের প্রতি আমার এক ভারতবর্ষ ভালোবাসা। অষ্টাদশী বৃষ্টিময় অনন্ত শুভেচ্ছা। 




শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০

সম্পাদকীয় কলমে - শ্রেয়া রায়

 'জলফড়িং সাপ্তাহিক' আয়োজিত 'আপনি সম্পাদক আপনিই কবি' সাপ্তাহিক সংখ্যা বিভাগে এই সপ্তাহে আমার উপর সম্পাদনার ভার দেওয়া হয়েছে, এজন্য "জলফড়িং"-সহ সকলের প্রতি জানাই অশেষ কৃতজ্ঞতা। 

এই সপ্তাহের সংখ্যার নাম ছিল-"পরিবর্তন" 

 সময়ের সাথে আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন পরিবর্তন ঘটে থাকে, অর্থাৎ আমাদের জীবন সদা পরিবর্তনশীল এবং স্রোতে বয়ে যাওয়া ঠিক একটি নদীর মতন যা কখনই থেমে থাকে না। সময়ের সাথে সাথে প্রতিটা মুহূর্তেই প্রতিটা জিনিসের পরিবর্তন ঘটে থাকে,যেমন-আমাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, সময়ের পরিবর্তন, স্থানগত পরিবর্তন, মানুষের মনের পরিবর্তন প্রভৃতি। কিছু পরিবর্তন জীবনে আনন্দদায়ক হয় এবং কিছু দুঃখজনক। আমাদের জীবনের পরিবর্তন গুলো কখন-কিভাবে-কোথায় ঘটে তা আমাদের সব সময় জানা থাকে না। 

তবে সকল পরিবর্তনের সাথে নিজেকে মানিয়ে অর্থাৎ অভিযোজিত হয়ে নিজেকে এগিয়ে যাওয়াই হল আমাদের জীবনের মূলমন্ত্র। 

 কবিগুরুর ভাষায়-

 "পরিবর্তনের স্রোতে আমি যাই ভেসে কালের যাত্রায়...।।" 

 এই ভাবনা নিয়েই তৈরি হয়েছে আমাদের কবি ও লেখকদের লেখা। পরিশেষে, যাদের এই সংখ্যায় লেখা পেলাম এবং যাদের লেখা পেলাম না সকলকেই জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ।



কলমে - পাখি পাল


পরিবর্তনের সাথেই অভিযোজন

পাখি পাল 

পরিবর্তন শব্দটা নাকি জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত,

তাই প্রতিটা মানুষের জীবনে রূপান্তর'টা চলেই আসে,

 সে পরিকল্পিতভাবেই হোক বা অপরিকল্পিতভাবে,

তবে যাই হোক,পরিবর্তন শব্দটা শুনলে 

একটা একঘেঁয়েমি হঠাৎ-ই যেন মুক্তির রাস্তা খুঁজে পায়,

গল্পের অনুচ্ছেদগুলো যেমন নতুন মোড় নিয়ে আসে,তেমনি 

জীবনের বাঁকে পরিবর্তনগুলো নিয়ে আসে চমক,

এই পরিবর্তনের হাত ধরেই হয়তো বয়স আর অভিজ্ঞতা বেড়ে চলে,

তবে সব অভিজ্ঞতাগুলো ভালো হয় না,

হঠাৎ-এর অবসরে বিনা মেঘেই নামিয়ে আনে বজ্রপাত,

যদিও বৃষ্টি এসে সব মলিনতা একসময় ধুয়ে দেয়,

উড়ে আসা ধূলোঝড় যে পাতাগুলোকে ঢেকে দিয়েছিলো,

আজ তা গাঢ় সবুজ রঙ-এ সূর্যের কাছে তাপ চায়,

এসবের মধ্যদিয়েই গাছ বেড়ে ওঠে ঠিক জীবনটার মতো,

ভালো হোক বা মন্দ,সুখ হোক বা শিক্ষা-সবটা নিয়েই পরিবর্তন 

আসে আর অভিযোজনের মধ্যদিয়ে আমাদের আরও শক্তিশালী করে যায় ।




কলমে - রথীকান্ত সামন্ত

রূপ রূপান্তর 
রথীকান্ত সামন্ত 

চামড়ার নিচে বালিঘড়ি 
বেলা বাড়তে থাকে যত, তত আত্মদগ্ধ হই। 
মরা বালির চরে তীক্ষ্ণ শরবনে ছায়া খুঁজি মুখ নামিয়ে। 
পোড়াগন্ধী কালকূটশ্বাসে ভিতরের সমস্ত ছাকনি গলিয়ে 
বিকৃত করে তোলে আমার আজন্মলালিত দেহতত্ত্বের জ্ঞান, আমায় অস্থির করে তোলে। 
ভিতরে ভিতরে রক্তক্ষরণ। 
তার ছাপ পড়েনা বাইরে। 
পড়লেও তা চেনার মতো চেনা চোখগুলো অচেনা হয়ে যায়। একটা নির্জনপ্রান্তরে শতছিন্ন ছাউনি, টলমল খুঁটি। 
মায়ের ছবির নিচে বহু অযত্নের শীতবাগান। 
শুকনো ফুলঝরা বেদিতে শুয়ে আছে বিকল পিতৃপ্রতিমা। 
চোখের স্বপ্নশলাকা বেচে কিনে নিই একটা ইস্পাতের, 
যাতে আলো আছে। 
মিশে যাই রুগ্নপাখি আর উড়ন্ত মানুষের শহরে। 
শহর বদলাচ্ছে। 
আপনি থেকে তুমিতে, তুমি থেকে নগ্নতা ছুঁয়ে 
কত আলাপ ছড়িয়ে পড়ছে জানিনায়।
রাত বাড়লে নেশাঘন পরজীবীর গিজগিজে জঙ্গলে অনাহারের আওয়াজ এখনো একই আছে। 
ভালোবাসা বদলে গেছে নষ্ট ইচ্ছায়, 
তার সাথেই বদলে গেছে সিঁধ কাটার পদ্ধতি, 
কবিতা আর ভাষণের ধরন।





কলমে - জয়ীতা চ্যাটার্জী

অভিজ্ঞ

জয়ীতা চ্যাটার্জী 

দীর্ঘ নয় মাস পরীক্ষা চলল নিজেকে মুচড়ে দুমড়ে

বয়ে চলল রক্ত ধমনীতে অনির্দেশ্য খাতে,

প্রতিষেধকের খোঁজ করতে করতে। 

কত পরিচিত মুখের দোরে দোরে , 

দিনরাত ঘুরেছে গোটা একটা শরীর 

যেনো এক ভিক্ষার পাত্র মন,

ধিক্কার জমে ওঠে বাইরে ও ভিতরে অন্যান্য গভীর 

আজ দেখি ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে প্রনম্য সব, 

 দুচোখ ঢেকে যায় অলস্যময় হাতে নিশ্চুপ নীরব। 

 ভেসে যাওয়া নৌকা আজ কুয়াশারুদ্ধ, 

 নাবিকের চোখে ঘুম 

মাস্তুল দাঁড়িয়ে থাকে দূরে চির প্রতীক্ষারত, 

যাত্রীর গায়ে জ্বর ধুম। 

মুহুর্ত জুড়ে ঝড় তীরে বসে কবিতার সংলাপ 

খোঁজা, মাটির সাথে জল মিশে একাকার, 

শেষ প্রশ্নের বোঝা। 

দেবদারু বিথী দাঁড়িয়ে থাকে

আমি অনিমেষ তাকিয়ে থাকি, 

 এ পৃথিবী আমার ই পরীক্ষা নেয় 

ঠিক কতটা সইতে পারি আমি।