নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে
কবি বিদিশা নাথ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবি বিদিশা নাথ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০১৯

 উলঙ্গ
~বিদিশা নাথ
রাস্তায় আজ সবাই নেমে পড়েছে
উলঙ্গ,উন্মত্ত, উন্মুখ।
সবাই হাঁটছে সজোরে,
হাঁটতে হাঁটতে ওরা সবাই,
রাজবাড়ীর ঠিক দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
দশটা সান্ত্রী, কুড়িটা বর্শা, দুটো লোহার শিকল।
শত শত উলঙ্গ সোজা শিরদাঁড়া দেখে ওরাও ভয় পেয়েছে।
আজ সব খুলে রেখে
স্তাবকতার জঞ্জাল,
পৃষ্ঠপোষকতার মোহ,
বাহবার মুখোশ,
তৈলমর্দনের ঘনিষ্ঠ আওয়াজ,
সব দুমড়ে মুচড়ে  ওরা শুধু শরীরটাকে সঙ্গে এনেছে।
নির্বাক,উন্মুক্ত স্পর্ধার শরীর টাকে।
উলঙ্গ এই মন গুলোই আজ
এই অচলায়তন ভেঙে ফেলবে এক নিমেষে।

অপেক্ষা
~বিদিশা নাথ
তুমি বুঝবে কি পরের বার?
আদৌ পরের বার বলে যদি কিছু থাকে?
যদি পরের বার অপেক্ষা করাও,
আমি অপেক্ষাতে থাকব।
যদি বলে যাও,'এ যাওয়া শেষ যাওয়া নয়",
"বছর খানেক পরে ফিরে আসব আবার সঠিক সময় হলে"।
হাতে অনেক সময় নিয়ে থাকব।
যদি বলে যাও,"পরের বার ঠিক আসব,
ঠিক সময়ই আসব"।
রেলগাড়ির ঝমঝম আওয়াজে,
লাইনদুটো যেমন চলতে থাকে পাশাপাশি ,
এজনম নয় সেভাবেই চলব।
তবু থাকব।
পরের জনম দেখবে মিশে যাওয়া,
ভুলে যাওয়া আর যা কিছু।
তবু মনে রাখব।
পরের বার এবারের দেওয়া কথা,
আঁকড়ে ধরে বাঁচব।


ছোট্ট গল্প
~বিদিশা নাথ
বাড়ি থেকে বেরিয়ে বুঝলাম পথ হারিয়েছি,
বাড়িতেই ফেলে এসেছি,
চশমা, লাঠি আর পুরানো শিরদাঁড়াটা,
মানে যা যা লাগে ভালো করে দাঁড়াতে আর দেখতে।
বাসের পাদানি তে দাঁড়িয়ে চিন্তা করলাম,
আমি কি দেখতে পেলাম!
উস্কো খুস্কো দাড়ি ওলা লোকটাকে?
যে পরম মমতায় মেয়েটার বুকে কনুই বোলাচ্ছে,
ওহ! আমি তো চশমা আনিনি!আনিনি শিরদাঁড়াও!
ছেলেটার মুখে অশ্রাব্য শব্দ,
আমি বোবা দৃশ্যপট নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম,
আমি স্রোতের মধ্যে ভাসতে ভাসতে,
বাড়ি এলাম।
মিথ্যের দুর্গন্ধ ওলা একটা স্রোত।
এসে বুঝলাম ঘরের ভিতর 'আমি' টাকেই
 ফেলে এসেছিলাম আজ।

শনিবার, ৬ জুলাই, ২০১৯

: চাল

বিদিশা নাথ

দু মুঠো চালে কতটুকু ভাত হয় জানা নেই।
বাসনে ধরে না যতটা,
হাঁড়িতে উপচায় না যতটা,
মা বলে গেছে দু মুঠোই নিতে হাতে।
মা-র শাড়িটা একটু কম ছেঁড়া আজ,
ঘরে আজ তেলের গন্ধ ভাসছে,
চুলে মেখে মা আজ বেরিয়েছে।
দু মুঠো চালে কোন পেট টা ভরে জানা নেই,
বড়-র ,মেজ-র না সেজ-র!
মা বলে গেছে বড় কে দিতে বেশী টা।
মা জানে ওর চামড়া কত নরম।
মা জানে পরের দিন ছেঁড়া শাড়ী টা
বড়-ই পরবে।
বড়-র চামড়া খুব নরম।


বিশ্বাস ভাঙার আগে

~বিদিশা নাথ

বিশ্বাস ভাঙার ঠিক আগে,
অবাঞ্ছিত কোনো শব্দ হয়না।
তারপর একদিন বেশ সাজানো গোছানো একটা মোড়কে,
মৃত হৃদয় জড়িয়ে আমি,
শেষমেশ প্রেমিকার বাড়ি ফেলেই এলাম।
একটা ছুরি দিয়ে বললাম,
"নাও এবার তো পারবে!
যত্নে খোদাই করতে!
খোদাই করো অজন্তার কারুকার্য,
খোদাই করো ইলোরার ভাস্কর্য, যত্নে;
খুব যত্নে কেটে কেটে বসাও
সূর্যমন্দিরের ঢলে পড়া
সূর্যের শেষ ছাপ"।
তোমার গোপন আশ্লেষ ভরা চোখ দেখে,
কষ্ট হয়নি আমার!
শুধু কান পেতে শুনছিলাম
কই কোথাও আওয়াজ হল না তো!
ও! আমি তো ভুলে গেছিলাম,
বিশ্বাস ভাঙার পরেও ,
কোনো টুকরো,বাজে,অতিরিক্ত আওয়াজ হয় না!


ক্ষুধা

~বিদিশা নাথ

লাইনের আমি, চটপট ঝটপট।
ফেলো কড়ি মাখো তেল,কাজ সারো।
শেষ করো ভুয়ো দাপাদাপি,
ঠোঁটে কামড় দেওয়া শুকনো রক্ত,
বুকের খাঁজে আঁচড়,
কপালের কোণে একটা অবাঞ্ছিত কালশিটে দাগ,
সব নিয়ে সেজে দাঁড়িয়ে
লাইনের আমি,
খকখক, ঘঙঘঙ কাশির আওয়াজ চাপা পড়ে,
বিকৃত চিৎকার আর শীৎকারে।
সব ঢাকা দিয়ে দোমড়ানো শরীর ,
আর কুঁচকানো নোটের তাড়া নিয়ে,
লাইনের আমি।
বাড়ি যেতে হবে,
জলন্ত কিছু শ্বদন্ত-এর সামনে দিয়ে,
লাইনের আমি,
শেষরাতে তবু ওরাই আমার সম্বল

বুধবার, ৫ জুন, ২০১৯




জন্মস্থান
বিদিশা নাথ
অতঃপর একটি মধ্যবিত্ত পরিবার জন্ম নিল অবশেষে,
আঠেরোর আগে  সিঁদুরের ছাপ বড্ড কড়া, বড্ড নিষেধ,
পঁচিশেতে পা সেই নিষেধ-ই কুড়িতে বুড়ি নির্বিশেষে।
দেওয়ালের গায়ে সিঁদুরের ছাপ;ড্রেসিং টেবিল আঠালো টিপে ঢাকা,
বাবা ফেরে রাত দশটায় ঠিক,
তাস-আড্ডায় সন্ধে গুলো ঢাকা।
বিচ্ছিরি খুব,বিচ্ছিরি বোস-গিন্নির মেয়ের মুখে ধোঁয়া,
ছেলে আমার সোনার আংটি,
বউ-এর গয়না যতই যাকনা খোয়া।
সুগার, প্রেশার,কোলেস্টরল এ জর্জরিত দেওয়াল তাক।
মিত্রবাবুর নতুন ফ্রিজের EMI হিসেব জানতে হবে;
তাই বাড়িতে চুনলেপ্টা তোলাই থাক।
মধ্যবিত্তের বড়ই জ্বালা:
নিয়ম নিকেশ মেনে চলতে হয়,
মধ্যবিত্তের বড়ই যাতন; প্রতিবেশীর মান রাখতে হয়।
না-এর বাধা পেরিয়ে এসে ,
যুগের নতুন জোয়ারে ভেসে চলতে- সে তো পারবে না,
মধ্যবিত্তে পড়লে শেষে,সমাজ গলা ধরবে ঠেসে,
চোখ রাঙানি এড়িয়ে চলা (ওদের ভাষায়) "ধর্মে নাকি সইবে না"।

...................

 নারীত্ব
~বিদিশা নাথ
সে বড় নারীপ্রিয় নাকি নারীত্ব-প্রিয়?
এই হিসেব এর বেড়াজাল জড়াচ্ছে তাকে বছর পনেরো হতেই,
গোঁফের রেখা ওঠার আগে তাকে মনে রাখতে হয় স্বপ্নদোষের সংখ্যা।
"বীনা দি কি সুন্দর টিপ পড়ে আর কাজল আঁকে চোখে"।
এ কথা বলাটাও পাপ।
"আমার ভালো লাগে না মাঠে জড়া জড়ি ,
আমার ভালো লাগেনা কাদা"।
বলিস না ,বলিস না যে তোর ভালো লাগে গলা সাধা।
"আমি অন্যরকম আমি বুকের ভিতর নরম পালক স্তন খুঁজে ফিরি"।
"আমি লজ্জা পাই নগ্ন দেহে পুকুরে ঝাঁপ"।
ওরা কি তাই কঠোর হাসিতে ছুঁড়ে দেয় পুরুষত্বের বীর্য?
ওরা কোনঠাসা করে আমায় যন্ত্রনায়?
আমি নারী না নারীত্ব প্ৰিয় সব গুলিয়ে যায়।
"তোর রোম ছিঁড়ে তোকে পুরুষ বানাব আজ"।বলে হুঙ্কার দেয় লিঙ্গের ধ্বজাধারী,
বাবা মা দূর দূর করে ভূত ছাড়ায়।
হয়ত এসব সবই জন্মহিসেবের ভুল-এর অনুতাপ।
মৃত্যু আসুক  এক ঢোক তরল হয়ে ,
না পাওয়া নারীত্বের মাতৃ দুগ্ধ হয়ে,
মৃত্যু এসে বুঝিয়ে দিক আমি নারী না বাঁচতে চাওয়া মানুষ দেহের এক শব?






" রোগ "
~বিদিশা নাথ
রোগ বাড়তে বাড়তে ত্বকের উপর স্তর ছেড়ে,
ঢুকে গেছে অলিন্দ ছাড়িয়ে অনেক অভ্যন্তরে।
যে লোক দেয়নি দেখা বছরভর; যে ভীষণরকম কুঁড়ে,
সুখের চাবি হাতে পেতেই  ভিড় জমাল পুরানো চাবির জোরে।
কাটাছেঁড়া শেষ হল না,পুরানো হল না আলাপ সঙ্গোপন,
তবু সে মুখ ফিরাল হঠাৎ ,চেনাপথ হল ব্রাত্যজন।
লালচে শিরা,ফুলে ওঠা চিবুক কালশিটে হল হাত,
'ভালোবাসি তবু' ঠোঁটে ফুটল না আর,
হল সেদিন-ই এই রোগের সাথে মোলাকাত।
আমি আজকাল আসা যাওয়া গুনি,
নামতা গাই,অঙ্ক কষি,কাটানো সময়ের ধারাপাত।
নামহীন বিড়বিড়, একলা দুপুরে দিন ঢোকে না আর ;শুধুই মধ্যরাত।
আমায় রোগ প্রেসক্রিপশনের অক্ষর-ধাঁধা খুঁজে মরে,
'তবু ভালোবাসি' বলে হৃদয় জেগে উঠল না আর,
কর্কট ক্ষত ছড়িয়ে গেছে অনেক ভিতরে।
চোখের কোণের আঁচিল তোমায় খুঁজেছে,
বয়সের শীর্নতাও চেয়েছে তোমায়।
যাবার আগের শেষবার টুকু বলে দাও,
এই রোগ সারাবার অন্তিম উপায়।





" গাছ "
~বিদিশা নাথ
আমরা একে অপরকে একটা গাছ ভাবি,
মাটিতে নিজেকে ছড়িয়ে দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁচে থাকা একটি গাছ।
তুমি কান্ড ডালপালা হলে আমি হই শিকড়,
তুমি মাটি থেকে শুষে নাও বেঁচে থাকার সুখ,
আমি তোমার ঝরে পরা ডাল-পাতা আহরণ করে,
বুনে চলি প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার সালতামামি।
আমি লতা হয়ে তোমায় কক্ষনও জড়াই না,
তুমিও মুক্ত আকাশে মেলে দাও তোমার পরিধি।
বাতাস চুপ করে শোনে তোমার পাতার সরাসরানি,
পাখিরা বাসা খোঁজে তোমার শান্ত দেহে।
আমি তখন নিঃশব্দে তোমায় ধরে রাখি,
তোমায় বেঁধে রাখি।
আমি বিবর্ন হতে হতেও
অপেক্ষা করি তোমার।
কবে সোনালী উজ্জ্বলতার মোহ পেরিয়ে,কালো  মেঘের নেশা পেরিয়ে,
তুমি সেই মাটিতে এসে মিশবে।
আমরা একসাথে নতুন করে গাছ হবো আবার।


...............................

সোমবার, ৬ মে, ২০১৯

মাছ
~বিদিশা নাথ
বাজারের মুখটায় মস্ত বড় একটা ডাস্টবিনে রোজ সমালোচনা আর আত্মসর্বস্বতার ময়লা ফুলে ফেঁপে ওঠে,
আঁশের মতো অতিরিক্ত স্তর,
সবজির খোসার মতো নড়বড়ে মতামত,
জমতে জমতে মুখটা বুজে গেছে পুরো।
নতুন কিছু সৃষ্টি হয়না,তৈরি হয়না,
কেবল কাদা জমে,থকথকে লাল রক্তের কাদা।
মাছ কটা কাটা হয়ে বাসী পরে আছে যেন মর্গের বেওয়ারিশ লাশ,
 ওদের ময়নাতদন্ত হয়নি।
দাঁড়াও ওরা আগে মুখপুস্তিকার থলে তে ভরে বাড়ি বাড়ি যাক।
প্রত্যেকের গোপন ডাকবাক্সে মুখ দেখাক।
মাছের গায়ে ছুটকো কিছু হলুদের দাগ লাগুক আলগা ভালোবাসা স্বরূপ।
পঞ্চাশের বিপদজনক সীমা দিয়ে ঘোরাফেরা করা কাকু কামুক দৃষ্টি দিক।
মাছ গুলো আরো পড়ে থাকুক,
পচতে থাকুক গৃহীত হওয়ার হ্যাঙলা আবদারে,
বলাই বাহুল্য আজকাল তো বাজারী মাছ আর কবিতা কেবলই মুড়ি মুড়কির আত্মা ও পরমাত্মা।

রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯

'ভুল'

~বিদিশা নাথ

মেয়েটার অনেক ভুল ,
ভুল ছোট হাঁটু-না-ঢাকা পোশাকের খাঁজে,
মানতে না থাকা বক্ষদয়ের মাঝে,
আপনার অফিস ফিরতি চোখ আটকে যায়।
ভুল ওর না বেঁধে রাখা চুলে,
আপনার মধ্য বয়স্ক নিয়ন্ত্রণ রাখেন তুলে চিলেকোঠায়;
ওর ভুল আপনার বাঁকা শিরদাঁড়ায়
যার অবশিষ্ট সাহসে স্ত্রীকে বাড়িতে আপনি বাঁজা বলে ডাকেন
আর মা-কে দেন পোড়া রুটির অর্ধভুক্ত অধিকার।
ভুল ওই মেয়েটির যে বাবা বলে আপনাকে ডাকে,
আর সস্তা হোটেলের দরজার ফাঁকে,
আপনার নিষেধ কে বুড়ো আঙুল দেখায় বেধর্মীর সাথে।
আপনি বরং পিতৃপুরুষের ভিটেমাটির দোরগোড়ায় বসে, এই সব ভুলের হিসেব করুন কোমরের গিঁট কষে,
আর আপনার শ্লাঘার শেষ ছাপ টুকু মুছে,
ওই মেয়ে গুলো আরো ভুল করে যাক।

বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৯

'বিন্দু মাত্র'

~বিদিশা নাথ

জানি, জানি তোমায় বিন্দু মাত্র ভালোবাসিনি।
তোমায় ভোরের বেলা চুমু খেয়ে বলিনি তুমি মালশ্ৰী রাগ  আর নিপাত যাক, শহর,মিছিল,দরজা কপাট বন্ধ হোক ওই সব উঁচুতলার, যাদের সামনে ফুটপাত আলো করে শিশু ঘুমায় চাকরি না পাওয়া মায়ের কোলে ,
আমি তখন তোমার চোখে একটা নন্দন আঁকবো, একটা লাল দীঘির জল আর একটু সাহসী হলে দিঘার সস্তা ঘর।
আমার দায়,আমার পকেট খরচ,আমার ধোঁয়ার কুন্ডলী সব-ই তোমার ঘাড়ে চাপিয়ে ফুরফুরে একটা বিকেল আমার প্রাপ্য ,ভাবিনি।
জানি জানি তোমায় আমি বিন্দু মাত্র ভালোবাসিনি।
আমি শেষের কবিতার 'অমিট রে' হতে পারিনি ,
পাহাড়ের কোল জুড়ে কুয়াশার গন্ধকোলন এনে দিতে পারিনি তোমার কোলে,
আমি বহু আগের অন্য আঙুলের আংটি টা তোমায় পড়াতে পারিনি।।হয়ত কেভেন্টার্স এ বসে তোমার আঙ্গুল জড়িয়ে বলতে চাইনি বিয়ে! ও করা বারণ। নেই তেমন কোনো কারণ!!
"আমায় আলগা থাকাই মানায়" বলে চরম চার্মিং হতে পারিনি।
জানি জানি এত  দিনেও তোমায় কিচ্ছুটি বোঝাতে পারিনি, বিন্দু মাত্র পারিনি।
তুমি জড়োয়া গয়না চেনো? কিংবা দশ হাজারী পৈঠানি শাড়ি? আমি কাজল আঁকব বলে যে চন্দন বনে তুমি মুক্ত হলে প্রথমবার তার কিছু পুড়ে যাওয়া কাঠকয়লা নিয়ে গেলাম আর
তুমি!
সেই অমোঘ হাসি হেসে বললে,''বোকা টিই রয়ে গেলে",
জানি জানি তোমার অস্টমঙ্গলা,তোমার সাধ; সবেতেই তোমার কালশিটে দাগ দেখেও না-দেখা করতে পারিনি তাই আজও হয়ত বিন্দু মাত্র তোমায় ভালোবাসতে পারিনি।

বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৯

'বিক্রি'

বিদিশা নাথ

গলিতে গলিতে ক্ষুধার্ত শ্ব-দন্ত বের করে ঘোরে কিছু মানুষ(?)
লাল শাড়ি লিপস্টিকে ওরা পোকার মতো আটকে যায়।
ওদের নিম্নাঙ্গ প্রায়শই ফাঁকা ফানুস,
তবু খামচে ধরে মাংসপিন্ড ওরা দশ ফুট বাই বারো ফুট ঘর থেকে দেহ গিলে খায়।
পসার জমানো বেলফুল আর সন্ধ্যেবেলা খোঁয়াড় ভাঙা রোয়াকে বসে মাঝে মাঝে সত্যকামরূপী ওই সন্তানরা খদ্দের ধরে আনে,
"দুশো টাকায় শুধু ছোঁয়ার টিকিট দেব, পাঁচশো তে সব" এটুকু ওরাও জানে।
কালী ঠাকুরের পট,ফুল ছাপ বেডকভারের ভাঁজে
অসংখ্য কিছু গ্রাম থেকে 'কোলকেতে' ,সেখান থেকে দুবাই-এ বিক্রি হওয়া  স্বপ্নরা এখন ও বেঁচে,
নিষিদ্ধ হয় অক্সিজেন আর নিস্ফল দপদপানির মাঝেও,
লাল বেগুনি রেশমি শাড়ি মানুষ হওয়ার দাবি তোলে চেঁছে।
ভোরের আজান বিশ্ৰী লাগে কানে,
দরজা সপাটে বন্ধ হয় কেবল।
বিক্রিবাটা এরাতের মতো চুকে বুকে গেল,
ভাঙা দেহ টা এবার নিয়ে যেতে হবে টেনে।
আবার আসবে রাতের দোকান খুলে,
উঠবে নেশা নতুন রঙিন জলে।
বিক্রি হবে পোকার মতো মানুষ,
ভদ্রসমাজ কিনবে আগল খুলে ।

সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০১৯

Google issue




কবি বিদিশা নাথের জন্ম ১৯৯৩ সালে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায়।পড়াশোনা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। কাজের ফাঁকে অবসরের হাতমকশো থেকে শেষ দু বছর পাকাপাকি কবিতায় আসা,কিন্তু স্বচ্ছন্দ যাতায়াত চলে গল্প লেখাতেও।সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা আর নিজ মনন প্রকাশের চাহিদাই লেখার জন্ম দিতে সাহায্য করে এবং করে চলেছে কবিকে। বর্তমানে বি.এড এ প্রশিক্ষণরত শিক্ষিকা।

যোগাযোগঃ

ঠিকানা: পূর্ব পাড়া, আন্দুল,হাওড়া 711302
ফোন :8335814663
Email:bidisha.nath2614@gmail.com