নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে

সোমবার, ১০ জুন, ২০১৯


** তুমি জানোনা **

বিষাদের কাছে নির্জন হতে বসেছিলাম
সে ভালোবেসে জাপটে ধরে বুকে
তারপর বিষবৃক্ষের অরন্যে
আমি ঠিকানাহীন টিকিট ।

দেখোনি কোনোদিন নিঃশব্দের মুখ
আত্ম-বৃত্ত গুলির পরিবর্তন সম্ভব কোনোদিন ?
তাহলে কিভাবে ভেবেনিলে তুমি নুড়ি কুড়োবে
বিষাদ কে অতিথি ভেবেছিলাম ।

সে আজ সহচরী
তুমি জানোনা ।
                                  

বুধবার, ৫ জুন, ২০১৯



তোকে ছাড়া

সায়ন দাস
ইতিহাস ও বাংলার ছাত্র

এখন মনে পড়ছে সেই তোর হাসি মাখা মিষ্টি মুখ
 অপেক্ষায় আছি তোর উদ্যম মুখে সেই মন মাতানো সুখ।
এখন মনে পড়ছে তোর সেই তোর হাসি মুখ
নীল জামার ছবিটায়, 
এখন খুঁজছি তোর অবচেতন মনের সেই বার্তা-
এখন ভাবছি তোর সেই বার্তার মধ্যে কথা।
তোর চুপ থাকায়, স্মৃতিগুলো পাগল করে দেয়।
এখন দেখছি ফুলে ফুলে প্রজাপ্রতির মত দেখি তোর চলাফেরা,
ভ্রমর হয়ে মন তোর খুঁজছি দিশেহারা।
এখন ভাবছি তোর ফিরি কালো কেশির মিষ্টি চোখের ভাষা।
এখন স্বপ্নে আমার ঘরে তোর যাওয়া আসা।
তোর হাসি মুখ আমায় বোঝায় না, নিশ্চুপ থাকা-
বোঝাতে চাইছি মনকে, তবু মন বুঝছে না, তোর নিশ্চুপ থাকা।
তাই নীরবে ঝরে অশ্রু মানে না কোন বাঁধা।
এখন হন্য  হয়ে বসে আছি তোর বার্তার অপেক্ষায়।
হয়তো। হঠাৎ নিভে যাবে, হঠাৎ জ্বলে উঠা প্রেমের রঙ্গিন বাতি।
হবেই বা না কেন, আমি আজও বলতে পারিনি যে- 
আমি শুধু তোকে ই ভালবাসি।
কি করি ভালবাসি বললে, যদি না থাক, সেও বলতে পারছি না যে... 
এখন উল্টিয়ে দেখছি ক্ষুদ্র জীবনের সব গুলোপাতা স্মৃতি, হয়তো সারাজীবন না বলা স্মৃতিই ভেবে যেতে হবে।
তোকে নিয়ে লেখা হয়ে গেল শত কবিতা।
এখনও তোকে নিয়ে লিখছি যত 
আধো মরা তোকে ছাড়া খুঁজে বেড়ায় প্রাণ।
দেখি কতদিন ভেবে যেতে পারি, এখন ভাবছি কবিতা নয়, এবার থেকে লিখব আরো রো গান।।

বিষয়--বৈপ্লবিক দামামা**
এ কোন স্বরাজ****
মোনালিসা নায়েক***
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য উদযাপন করলেই কি
তাঁদের উদ্দেশ্য স্বার্থক হবে? 
ঐতিহাসিকের পাতায় শুধু বেঁচে আছে রক্তবিন্দুর প্রতিদান,

জীবনবোধের আলো তো এখন ও অন্ধকারে,
বিবাদের আবাদে দেশ মেতেছে সন্ত্রাসে!
আত্মমগ্ন ভোগবিলাসী সমাজে অরাজকতার ঢেউ,
মেধাবী কৌশলে সভ্যতায় নগ্নতার প্রকাশ;
এসব দেখে অবাক লাগে
নিছক -ই ঘটা উদযাপনের,
তাঁদের স্বপ্নে দেশবাসীর মিথ্যে পণ,
দীপ্ত প্রদীপ শিখা লালসার আগুনের আঁচ-
মহত্ব হারিয়ে টিকে আছে খান্ডবদহন,
সর্বহারা মানুষের স্বাধীনতা বৈষম্যের পাতায়!
সমাজ কি দিতে পেরেছে ভালোথাকার অধিকার?
এইভাবে কি শ্রেষ্ঠ জাতির শিরোপা রক্ষা হয়?
মোনালিসা নায়েক।
আরামবাগ।
হুগলী।
পশ্চিমবাংলা।
ফোন-৯৬৪৭৫৫৭৪০৯।
 অনুগল্প:বেলা-অবেলার গল্প
**************************
কলমে : তন্মনা চ্যাটার্জী

তিথি আজ "অধ্যায় পুরান" পড়তে গিয়ে কেমন যেন নিজের জীবনকে মিলিয়ে নিচ্ছিলো প্রতিক্ষণে।।গল্পের চরিত্রগুলো ভীষণ চেনা।ভীষণ কাছের।। পড়তে পড়তে তিথি যেন কখন পেরিয়ে যাচ্ছিল পুরোনো সময়।।গল্পের অধ্যায়ের ছত্রে যে অনুরণন তাতো ভীষণ চেনা।।শুধু শেষটা অন্য হতে চেয়ে একটা এক অদ্ভুত ভাবনায় ভাবিত করে তিথির কল্পনার জগৎকে।।শেষ করে গল্পের সবটুকু অধ্যায়।।এদিকে কখন ঘড়ির কাঁটা বিকেল ছুঁয়েছে বুঝতেই পারেনি সে।। অনেক প্রশ্ন রেখে গেলো গল্পের শেষটা আর প্রধান দুই চরিত্র !! তিথির মন অচেনা অথচ ভীষণ জানা আরেক গল্পকারকে চিঠি লিখতে বসে ।। আজ শুধু তার মনে বহুপ্রশ্নের ঝড় ,তবু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তার প্রিয় গল্পকার কি এভাবেই আত্মপ্রকাশের একটা সময় খুঁজছে !!নাকি চিরতরে আত্মগোপনেই কাটাবে তার নিরলস শব্দচর্চা!!
চিঠিটা পাঠানো হয়না আজও।।তিথি তো ঠিকানাটাই খুঁজছে পুরোনো ডাকবাক্সের বন্ধ ঘরে!!হঠাৎ কোনো দমকা হাওয়ার অপেক্ষায় তিথি তাকায় জানলার বাইরে।। বাইরে তখন সন্ধ্যা নামছে।।দূর থেকে ভেসে আসে শঙ্খধ্বনি।। ইচ্ছেশক্তিকে সঙ্গী করে একবার চোখটা বোজে তিথি।।অভ্যাস অথবা প্রবল বিশ্বাসে।।




: অবগাহন
**********
কলম:তন্মনা চ্যাটার্জী

   প্রথম দেখা হওয়ার স্মৃতিরা ওদের দুজনের মধ্যে আজও অম্লান।। ওরা তমসা ও দীপায়ন।।  একটা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রথম আলাপ, তারপর বন্ধুত্ব।। ওরা দুজনেই ছবি আঁকতে আর লিখতে ভালোবাসে।। তমসা ছবি আঁকলে দীপায়ন মিলিয়ে লিখে দিত কবিতা ।।খুনসুটি আর সখ্যতায় কেটে যাচ্ছিল বেশ।।দুজনে মিলে ঠিক করছিল একটা ছবি-কথার প্রদর্শনীর আয়োজন করবে, আর এভাবেই একে অপরের সাথে কাটাতে কাটাতে ওরা জড়িয়ে পড়েছিলো কোনো এক নাম না জানা সম্পর্কের বন্ধনে।।
   কিন্তু কিছুদিন যাবৎ তমসা লক্ষ্য করে দীপায়ন বেশ কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখছে।। কথাই বলে না।।অনেক জিজ্ঞেস করেও কোনো উত্তর পায় না তমসা।।বুঝতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।।

    তারপর হঠাৎ একদিন দীপায়ন একটি ঝড় জলের রাতে তমসাকে ম্যাসেজে জানায় "যোগাযোগ করিস না আর আমার সাথে।।দেখা করাও সম্ভব নয়।।ভালো থাকিস।।"  তমসার চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে।।বহুবার ম্যাসেজ করেও উত্তর পায় না সে।। কি করবে বুঝে উঠতে পারে না।। সকাল হতেই বেরিয়ে পড়ে।।দীপায়নের বাড়ী পৌঁছে দেখে সেখানেও তালা লাগানো।।উদ্ভ্রান্তের মত রাস্তা দিয়ে হাঁটতে থাকে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ছে।। একবার সবটুকু সমস্যা আলোচনা করা যেত না ? দুজনে মিলে মোকাবিলা করার একটা চেষ্টা কি করা যেত না? এসব ভাবতে ভাবতেই সন্ধে নামে।। বাড়ি ফেরে তমসা।। সবটুকু ভালো থাকা যেন এক নিমেষে হারিয়ে গেছে ঠিক দিপায়নের মতই।।

   এতগুলো বছর পর মুখোমুখি বসে সবটা যেনো আরও একবার নতুন করে মনে পড়ছিলো দুজনেরই।।নিঃশব্দে আরও কাছাকাছি এসে বসে দুজন কাছের মানুষ।। ওষ্ঠ ছুঁয়ে যায় অধর।।তিন বছর পর প্রথম চুম্বন করেছিল দীপায়ন আর তমসা,অতর্কিতে।। অপাপবিদ্ধ আলিঙ্গনে জড়িয়ে ঠোঁটের ভেতর ঠোঁট গুঁজে চোখ বুজে অনুভব করেছিল দুজনকে।। পুরোনো অভিমানগুলো দূরেই থাক -এটাই বলছিল দুটো মন।। কারণ, কখনও বলা হয়নি কতটা ভালোবাসে ওরা দুজন দুজনকে ।। ভালোবাসা কি ওভাবে মাপা যায় না কথায় ব্যক্ত করা যায়।।আর কখনও ওরা তো মুখ ফুটে বলতেও পারবেনা সবটা অনুভবের কথা ;আর কোনোদিনও...... কারণ ওরা দুজনই মুক ও বধির।।

***************************************************
: বিকেল গুলো আর আসে না 
---------------------------------------
কলমে # সোনালী নাগ
-----------------------------------------
অনেক গুলো স্কুল ফেরত সূর্যডোবা বিকেল তোমার কাছে বাঁধা। 
খুব সিরিয়াস মেয়েটাও সে বসন্তে "রাধা"।
অনেক গুলো পড়ার শেষে খালি রাস্তার খোঁজে - 
একটু ছোঁয়ায় শিহরণ হঠাৎ আঙুলের ভাঁজে! 
অনেক গুলো নিয়ম ভেঙে শাসন রীতিমতো 
ঝগড়া গুলো অকারণে যখন তখন আসতো অবিরত। 
অনেক গুলো সন্ধ্যা এলো খুব ভয়ানক একা 
বুকের মাঝে নরম আদর, আহ্লাদী সুর - - 
'ভীতু মেয়ে, তুই একটা বোকা' 
অনেক গুলো জেগে থাকা রাত, চাঁদের অহংকার 
তোমার অট্টালিকা মজা করে, আমার তখন কুঁড়েঘর! 
স্কুলের শেষে হাত ছেড়ে যায়, এবারেও" নরেশ সেন" 
শরৎবাবু ও নেই এখন, মালতি তাই একাই লড়ে, সাথী কে আর হবেন? 
অনেক গুলো রূপকথা শেষে এবার আষাঢ় এলো 
বিয়ের টোপর জোড়ে দেখি মানিয়েছে বেশ ভালো। 
তোমার ডাইরি লেখা, চিরকুট প্রেম আর খুচরো যতো আবেগ, 
বলেছ নতুন মানুষটাকে? 
যে তোমাকে বুকের মাঝে এখন আগলে রাখে। 
চিঠিতে এবার পাঠিয়ে দেবো ঠিক করা সেই নাম - 
ছেলে হলে প্লাবন দিও, মেয়ে হলে বন্যা, 
কি গো এই টুকু তো দিতেই পারো ভালোবাসার দাম। 
তোমার না হয় সত্যি হলো স্বপ্ন দেখা ভোর, 
আমারটা থাক দিবাস্বপ্ন, আর থাকুক আবেগ নামের একটা মারণরোগ, 
স্কুল ফেরত বিকেল গুলো এখন উধাও শহরে, 
ট্রামের সারি আর আসে না আঁচল উড়িয়ে। 
অনেক গুলো স্বপ্ন ভেঙে এবার একলা হওয়ার পালা, 
তোমার জন্যে সোহাগ রেখে, আমি নিলাম অবহেলা।
 






সংসার সুখের হয় --------------
--------------------------------------
কলমে # সোনালী নাগ 
-----------------------------------------

বাইরে শুধু লড়াই সে নয়, 
সেতো অন্দরে তেও আছে, 
দাপুটে মেয়েও  নিজের ঘরে ভয় তাড়িয়ে বাঁচে, 
চরিত্র নিয়ে টানাটানি হয়তো খুবই সোজা, 
মেয়ে মানেই টানা পোড়েন, 
মেয়ে মানেই বুঝি বোঝা, 
মুখোশ গুলো খুব আপনার, 
হয়তো প্রিয়জন 
বিশ্বাসে যে  বিষ ঢালা আছে, 
তা বোঝে কি মন? 
শাড়ির আঁচল আর 
পোশাকে মেয়ের নাকি মরণ, 
বলো তবে দুধের শিশুর রক্তযোনি,
কি তার কারণ? 
ইচ্ছে ক'রে গুঁড়িয়ে ফেলি দাঁতের গোড়া যত, 
ইচ্ছে করে মুখোশ টেনে হিঁচড়ে আনি  
দিনের আলোয় ইচ্ছেমত, 
অষ্টমীর মা যখন জাগছে মনে মনে, 
কানের কাছে কে বলে যায় -----
"সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে "
আর তারপর, 
তারপর তো সবই জানা, 
মেনে নেওয়া মানিয়ে নেওয়া বেদ বাক্য যত, 
নিজেকে বুঝিয়ে চলা দিনে রাতে রীতিমতো, 
দূর্গা কে তাই বছর ভর আসনে তুলে রাখা 
স্বর্গ থেকে নেমে আসা,  
চমৎকারের আশায় বেঁচে থাকা !!!
বস্তা পঁচা এঁদো কথার জাল বুনে যাওয়া মনে 
বদলে নিয়ে লেখো দেখি ----
সংসার সুখের হয় রমনীর খুনে !!!!





রাজকন্যের গপ্পো 
==============
সোনালী নাগ 
--------------------------

কথার টানে কথার পাহাড়, 
কাছে কিংবা দূর, 
রূপকথাতে ছুঁয়ে দেখা নদী সমুদ্দুর !!
রাজকন্যা দৈত্য দানব পক্ষীরাজের দেশে
রাজারকুমার দাঁড়ায় এসে  অন্ধকারের শেষে !!
দুয়ো রানীর দুঃখ থাকুক, সুয়ো রানীর সাধ, 
মন্ত্রী কোটাল হাতিশালের গল্প থাকুক অবাধ !
নটে গাছটা বাঁচুক আরো, বাঁচুক ছেলেবেলা, 
তবু সত্যি ছিলো সে আজগুবি গল্প গুলোর মালা 
মায়ের আঁচল হারিয়ে দেখি, হায় -জীবন নাট্যশালা !!
বড় হবার তাগিদ তাতে মনটা ছোটো হয়, 
অশুভ সব শক্তি গুলো জাঁকিয়ে বসে
 আর  জীবন বয়ে যায়, 
কোন পুকুরে ডুব দেবো? কোন গুহাতে তাকে পাবো? 
মাকড়সার জালে বন্দি, গুমরে মরি তায়, 
দৈতটার প্রাণভোমরা খুঁজে পাওয়া দায় !!
আকাশ কালো সূর্য উধাও এক গ্রহণের ফাঁদে, 
একটু আলোর খোঁজে তাই সকাল সন্ধ্যে এখন জানো,  রাজকন্যা কাঁদে !!!
হঠাৎ সেদিন
সৌমেন দাস

যেদিন তোর কবোষ্ণ বুকে
রেখেছিলাম প্রথম হাত,

বুঝেছিলাম
ঘনিয়ে এসেছে রাত,

বাড়ি ফিরতে হয়েছিল হঠাৎ ...!




 অন্য মোহনা
সৌমেন দাস

একবার ফিরে আয়
দেখবি বারান্দা জুড়ে সেই চেনা গন্ধ
বাগানে এখনও পিউলিরা হাসে
এখনও ছাদের ওই কোণটাতে ঠিকরে পড়ে বিকেল রোদ্দুর
আর ওই বেহায়াটা সকাল-সন্ধে ডাক দিয়ে যায়
পিউ কাঁহা পিউ কাঁহা পিউ কাঁহা পিউ ...

একবার ফিরে আয়
শুধু একবারটি
দেখে যা-না কতই সুখে আছি
ভরা সংসার, টবের মানিপ্লান্ট
আর ওই বেহায়াটাকে নিয়ে ...

তবু
শুধু একবার ফিরে আয়
আমার সঙ্গে এক অন্য মোহনায় ...
 এক বুক আকাশ
 ~~দ্বৈপায়ন চ্যাটার্জী

জানালার ধারে বসে বৃষ্টির কথা ভাবছি,
সে আসবে বলেছিল,এখনো তো এলোনা!
আমি একমনে ভেবে চলেছি ,
হঠাৎ তুমি আসলে,
বৃষ্টির আসার কথা ছিলো,
তুমি এলে,
দেখো আমার চোখে বৃষ্টি নেমে এলো ,
অপ্রত্যাশিত মূল্যবান জিনিস হঠাৎ পেয়ে গেলে বুঝি এভাবেই বৃষ্টি নেমে আসে চোখে!
আমি আকাশের বৃষ্টির অপেক্ষায় সারা সন্ধ্যে কাটিয়ে দিলাম,
বৃষ্টি এলোনা,
তুমি এলে,দেখো বৃষ্টি নেমে এলো।
আমার কাছে এসে আমার চোখ মুছলে,
তোমার দিকে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষন,
তুমি অদ্ভুত সুন্দর,
তোমার ওই আঁখিপটে সত্যি ই কি আমারই নাম লেখা আছে,
নাকি অজস্র সৌন্দর্য্যের মাঝে আমি বিলীন!
দুজনে এসে বসলাম পাশাপাশি,
হঠাৎ করে তোমাকে পেয়ে ভুলে গেছি আকাশের কথা,
ভুলে গেছি বৃষ্টির কথা,
ভুলে গেছি মেঘেদের কথা!
তুমি এত সুন্দর,
আদর চাইনা আজ,
সে তো অনেক দামি,
শুধু তাকিয়ে থাকতে দাও,
যেমন করে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলাম বৃষ্টির আশায়!
তুমিতো আমার আকাশ,
এক বুক আকাশ!





সে বসন্ত আজও আসেনি
     দ্বৈপায়ন চ্যাটার্জী

সে বসন্ত আজও আসেনি
যে বসন্ত আমার ঘুম ঘুম চোখে চুমু এঁকে দিত,
সে বসন্ত আজও আসেনি।
যে বসন্ত আমার ঠোঁটে আঙ্গুল ছুঁয়ে নিষিদ্ধালাপে বাঁধ সাধতো,
সে বসন্ত আজও আসেনি।
যে বসন্তের রোদের চাদর বিছিয়ে দুজন বসতাম সংগোপনে,
সে বসন্ত আজও আসেনি।
কতো বসন্ত এলো গেলো,
সে বসন্ত আজও এলোনা।
সোনা ছুঁয়ে দিলে ফুল হয়ে যায়,
এমন বসন্তেরা আজও এলোনা।
তারা কি আসতে চায়না!
নাকি তাদের আসতে দেয় না ,
নাকি মাতাল করে রাখে কোনো একান্ততায়!
যাতে পোড়া গন্ধের সাথে মিশে নিজেকে গন্ধহীন না করতে পারে!





নয়ন মেলে
দ্বৈপায়ন চ্যাটার্জী

নয়ন মেলে চেয়ে যে দেখি,নেইগো তুমি হেথা,
পাগল পারা মন যে আমার বৃথাই খোঁজে সেথা,

আকাশ কুসুম ভাবি আমি, অপার যে তার ক্ষেত্র,
সর্বনাশা খিদে আমার ,নয় গো  অল্পমাত্র।

আসবে তুমি হঠাৎ করে এমন মন্ত্রবলে,
সাত টা সাগর পার করবে,সে এক ছলে বলে।

দেখব তোমায় তৃপ্তি করে দু চোখ ভরে ওগো,
একটু না হয় তোমার প্রতি ক্রুদ্ধ আমি হবো।

বলবো তোমায়,ছিলাম আমি মন খারাপের দেশে,
আসতে দেরি করলে কেনো, আমায় ভালোবেসে।

কপাল ছুঁয়ে ঠোঁট দুখানি বলবে তুমি ওগো,
"রইব পাশে এবার থেকে,এবার হাসো, হ্যাঁ গো?"

ঠোঁট ফুলিয়ে মিথ্যে করে, করবো কাঁদার ভান,
আদর করে গান শোনালেই ভাঙবে অভিমান।

আদর টুকুর স্পর্শ পেলেই, তখন  আমি স্বাধীন,
বান ভাসাবো অঙ্গে তোমার,রাত হোক বা দিন!
 #খুব_খুশি
#মুনমুন_মুখার্জ্জী

মালা পড়াশুনা জানে না, লোকের ঘরে বাসন মেজে, রান্না করে কিছু রোজগার করে। খুব ছোটতে মা মারা যাওয়ায় বাবা আর স্কুলে যেতে দেয় নি। তারা যে বাউরী। তাদের পড়তে নেই, দিদির কাছে কোনো মতে সাক্ষর করতে শিখেছিল। প্রেম করে বিয়ে করে তখন খুব বেশি হলে ১৫ বছর বয়স। ছোট থেকেই বাংলোতে কাজ করত। বিয়ের পর বর কাজ ছেড়ে দিতে বললেও ছাড়ে নি ও। ও জানে মেয়েদের হাতে নিজস্ব টাকা থাকা খুব দরকার। একটা ফুটফুটে মেয়ে হয় মালার।মালা তাকে অনেক বড় করার স্বপ্ন দেখে। মেয়ের ইস্কুলে বোর্ডে কি লেখা থাকে বুঝতে পারে না যখন মালার খুব লজ্জা লাগে। মেয়েকে যেন সে রকম লজ্জা পেতে না হয় তাই ওকে প্রায় বোঝায়। কিন্তু মেয়ের বাবা চায় না মেয়ে শিক্ষিত হোক। সে মনে করে মেয়েরা শিক্ষিত হলেই বাজে হয়ে যায়। তাই মেয়ে যখন পড়তে বসে সে মোবাইলে জোরে গান চালিয়ে দেয়। বেশ কয়েকবার বারণ করেও যখন কোনো ফল হয় নি, মালা মেয়েকে শেখায় বাবা যত জোরে গান চালাবে তার চেয়েও জোরে তুই পড়বি। এই  ওষুধ কাজ হয়। এখন মেয়ে পড়তে বসলেই তার বাবা রাগে গজগজ করতে করতে বাইরে চলে যায়। আজ মালা খুব খুশি, মেয়ে স্কুল থেকে মায়ের জন্য একটা সুন্দর গান শিখে এসেছে, ও বার বার মেয়েকে গাইতে বলছে... "মধুর আমার মায়ের হাসি"...





#সম্পর্ক
#মুনমুন_মুখার্জ্জী

কেউ সম্পর্ক রাখে সবার সামনে বুক ফুলিয়ে,
কেউ বা চোরের মত লুকিয়ে লুকিয়ে--

কেউ অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করে ওঠে,
কেউ ভালো সাজতে স্রোতের পানে ছোটে।

কেউ সামনে বলে "তুমি অতুলনীয়, পরম প্রিয়",
সেই পিছনে বলে "ও ভীষণ মিথ্যুক, নাটকীয়"।

সুযোগ সন্ধানেই ঘুরছে তারা, হতে পারে আত্মীয়,
মুখোশ এঁটে মারবে কোপ, যা কিনা অভাবনীয়।

মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে মারতে পারে ছোবল,
অন্ধ বিশ্বাসের শাস্তি জোর আঘাত হয় কেবল।




 #কবি_প্রণাম
#মুনমুন_মুখার্জ্জী

তুমি যে আমার প্রাণের ঠাকুর,
আমি যে তোমার চিরপ্রেমিকা,
ছোট থেকে মন করেছি নিবেদন,
তোমা ছাড়া কিছু ভাবতে পারি না।

রাস্তা হারালে অভয় দিয়েছ,
হাত ধরে তুমি পথ দেখিয়েছ,
আকুল হয়ে কাছে যে টেনেছ,
এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছ।

দুঃখ কষ্টে বল দাও তুমি,
জীবন নদীর তরীখানি তুমি
মন জুড়ে শুধু আছো যে তুমি
তোমাকেই তাই দিন রাত নমি।
//আমি এখনও সেই অভিমানী//

আমাদের সম্পর্কটা ছিল এক্কেবারে আলাদা,
হয়তো বা অনেকের মতই কিন্তু আমার চোখে একেবারেই আলাদা।
যাকে এককথায় বলতাম, না দেখেও এতোটা ভালোবাসা যায়!
কেউ কিভাবে পারে এত ভালোবাসতে!
পড়ন্ত এক বিকেল বেলায় সেই যেদিন হাতে হাত রেখে বলেছিলে,
"ভালোবাসো"
আমি একটু যেন অবাকই হয়েছিলাম,
তারপর সেই খোলা হাওয়ায়,একলা প্রান্তরে
অবনমিত মুখেই বলে উঠেছিলাম, "আমিও"
তারপর কত দিনের অপেক্ষা...
আমাদের সম্পর্কটা ছিল এক অপেক্ষার সম্পর্ক,
আসবে আসবে করেও অনেকটা দিন পেরিয়ে যেত,
দীর্ঘ বিকেলগুলো আর কাটতেই চাইতো না,
তবুও দূর থেকেই অনুভব করতাম তোমায়,
একসাথে কাটানো সময়গুলোকে বার বার মনে করতাম,
আর এভাবেই আমার মধ্যে বেঁচে থাকতে
তুমি, তোমার ভালোবাসা,আমাদের ভালোবাসা।
রোজ রোজ নতুন করে প্রেমে পড়তাম,
নতুন এক তুমিকে খুঁজে পেতাম,
তবে অভিমানও হতো খুব,
কিন্তু অভিমানগুলো কত্ত সহজে তোমার গলার স্বরে গলে যেত, আমি বুঝতেই পারতাম না।
ভেবেছিলাম দীর্ঘ এই অপেক্ষার অবসান ঘটবে কোনও একদিন,
আর ঘটেও ছিল শীঘ্রই।
তবে, এই দীর্ঘ অপেক্ষার বিকেলগুলোর মতো
ফিকে হয়েছিল সেই পুরনো প্রেম,
সেই পুরনো তুমি!
প্রথমে ভ্রম বলেই মনে হয়েছিল,
কিন্তু পরে মনে হলো না সবটাই সত্যি।
পরিমাণ বাড়ল সবকিছুর,দেখা করার,কথা বলার
আর কড়াপাকের ঝগড়ার..
অভিমানগুলোও কেমন যেন জেদী হয়ে গেল,
তোমার গলার স্বরে কিছুতেই ভুলতে চায়লো না আর,
নতুন করে চিনতে শেখালো তোমায়।
তবুও নিজেকে বোঝাতাম, একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে,
সময়কেও দিয়ে ছিলাম অনেকটা সময়,
কিন্তু তারাও কেমন যেন অচেনা অতিথির মত ধরা দিল না,
দিনের সাথে যত ঠিক ছিল সব ভুল হতে লাগল,
চেনা মানুষকে খুঁজে পেলাম অচেনার গাম্ভীর্যে।
যে তুমিটা ভীষণভাবে আপন ছিলে,
যে তুমিটা প্রত্যেকবার দূর থেকেই এই হাতে হাত রেখেছিলে,
যে তুমিটা মান ভাঙাতে গলার স্বরে আদর করে,
যে তুমিটা বেধে ছিলে পাশে থাকার অঙ্গীকারে,
সেই তুমি অচেনা হয়ে গেলে, কেমন করে যেন বদলে গেলে,
দূর থেকেই যাকে বুঝতাম, বুঝিনা আজ তার কাছে এলে।
তারপর একদিন শেষ সিদ্ধান্তটা নিয়েই নিয়েছিলে,
একবার জানতেও চায়লে না আমি কি চাই?
আর মনের মধ্যে চরম অভিমান পুষে,
আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে
অনেক দূরে চলে গেলে,
যেখান থেকে চায়লেও আর ফেরা যায় না কোনোদিন,
যদিও তুমি চাইবে না জানি,
তোমার সুখ আজ মধ্যগগনে,
আমি এখনও সেই অভিমানী...

                                  শিল্পা মণ্ডল





//মুক্তি//

ভালোবেসে শিকল দেবে না বলেছিলে,
শুধু আলগা সুতোয় বেঁধে রাখবে,
আমি যখন গোটা আকাশ ঘুরে এসে ক্লান্ত হব, শ্রান্ত হব,
আদর দিয়ে সব ক্লান্তি মুছে দেবে।
আর যদি না ফিরে আসি সে প্রশ্নও রেখেছিলাম,
বলেছিলে_
আলগা বাঁধন খুলে স্বাধীনতা দেবে,
দূর থেকেই ভালোবাসবে,
বড়ো প্রেম শুধু কাছে টানে না, দূরেও করে!!
আচ্ছা,
তবে এই যাওয়ার কালে কেন এত পিছু ডাকো?
পুরনো সেই ডাকনামে কেন শুধু বেঁধে রাখো?
আজকে কেন আপন স্বার্থে পাল্টে গেছে ভালোবাসা?
এসব বুঝি কথার কথা, বাহানা মনের কাছে আসার?
     
                                                __শিল্পা মন্ডল





কেউ কোনোদিন আমারে তো কথা দিল না..//

কোনো লেকের ধার কিংবা সেই যে ভিক্টোরিয়ার প্রাঙ্গন
বা ধরো পড়ন্ত বিকেল বেলায় নির্জন কোনো রাস্তা,
না, আমাদের দেখা হওয়ার সাক্ষী হবে না আর এরা।
আসলে ওগুলো সব কল্পনার জগৎ, আমি বাঁচি বাস্তবে।
ঘেমো জামা, রুক্ষ চুল, শুকনো মুখ, আর অফিস ফিরতি সেই তুমি,
ওয়াচের কাঁটায় ট্রেন ধরার তাড়া লেগে,
হঠাৎ চোখ পড়ল,
এনামেল করা কালো দুটি চোখের ওপর,

মাঝে আটটা বছরের খরা,

গঙ্গা, যমুনা কিংবা ভাগীরথী কিছুই চোখে বয়ে যাবে না,
না, বুকের ভিতরটাও হঠাৎ করে প্লাবিত হবে না,
শুধু ওষ্ঠে ফুটবে জুঁই, চাঁপা কিংবা সূর্যমুখী,
তুমি মুখ ফিরিয়ে চলে যেতে চাইলেও
আমি লজ্জার ভূষণ ত্যাগ করে তোমার কাছে এগিয়ে যাব,
যে সহজে কুমারীত্বের ভূষণ ছাড়তে পারে
তার কাছে এটা নেহাত কিছু নয়,
"কেমন আছো? কি করো এখন? বিয়ে করলে কবে?"
__এসব প্রশ্ন করে বিব্রত করব না,
শুধু বলবো, "আমি ভালো আছি, খুব ভালো। জানো,
তোমার দেখা সেই অযোগ্য মেয়েটার কাঁধে আজ একটা গোটা বাড়ির দায়িত্ব,
তিন ভাই থাকা সত্ত্বেও বাবা-মা তার কাছেই থাকে,
শুধু বাড়ি না সমাজেও সে একজন প্রতিষ্ঠিত নারী।"
তুমি কিছুই জানতে চাওনি হয়তো,
তবুও আমি জোর করেই জানাবো,
কারণ, সবার সব প্রাপ্তির পিছনে অনেকেরই ভূমিকা থাকে,
আর আমার জীবনে সেই ভূমিকা একমাত্র তোমার,
সেদিন যদি অযোগ্য বলে আমাকে ফিরিয়ে না দিতে জানতেই পারতাম না আমিও আমি হতে পারি।
উত্তরের অপেক্ষা না করেই ফিরে যাব বিপরীতে স্রোতে,
লোকাল ট্রেনের কু-ঝিক-ঝিক শব্দে হারিয়ে যাবে সেই দেখা হওয়ার গল্প,
দূর থেকে ভেসে আসবে পুরনো গানের কলি-
"কেউ কোনদিন আমারে তো কথা দিল না,
বিনিসুতার মালাখানি গাঁথা হইলো না..."
     
                                         _শিল্পা মন্ডল




ভালোবাসা কি এতটাই সুন্দর হয়?//

দু চোখের পাতায় ঘুম নামেনি তার,
জেগে কাটিয়েছে সে সারারাত,
এতদিন যার ছবি কল্পনায় এঁকেছে,
তাকে নিজের হাতে স্পর্শ করবে,
অতল স্পর্শে  ভিজিয়ে দেবে তার শরীর-মন,
ছিটিয়ে দেবে গভীর ভালোবাসার আতর।
ভেবে কেমন মনটা ফুরফুরিয়ে উঠল,
হয়তো ভালোবাসার অনুভূতি এমনটাই হয়।
চাঁদটাকে আজ আশ্চর্য সুন্দর লাগছে,
এমনভাবে তো কোনোদিন তার আলো গায়ে এসে পড়েনি।
রাত্রির অন্ধকারে একটা গন্ধ  ছড়িয়ে আছে,
ভাবতে ভাবতেই ঘড়িতে কাটল রাত,
এইতো বেশ কয়েকবার পাখিদের শব্দ শোনা গেল,
তাহলে নিশ্চয় ভোরের আলো ফুটেছে বাইরে,
কোনদিন সে ভোর দেখেনি।
ভোরের বাতাস কেমন হয় তার অপরিচিত,
গল্পে বহুবার পড়েছে তবে অনুভব করেনি কোনদিন।
এ যেন এক আশ্চর্য অনুভুতি!
নিজের অপছন্দসই কাজগুলো কেমন সুন্দর হয়ে যাচ্ছে।

ওই দূরের আকাশ তার চিরপরিচিত,
কিন্তু এমন গাঢ়তা এমন গভীরতা সে কোনদিনও খুঁজে পায়নি,
এই আলো তার ভালোবাসার মতই স্নিগ্ধ, কিন্তু কই আগে তো চোখ পড়েনি ঐদিকে,
তবে আজকে কেন গোটা পৃথিবীটা হঠাৎ করে এত সুন্দর হয়ে গেল!
সবকিছুতে কেমন একটা মাদকতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে,
মনটাকে বসন্তের রঙের মতই যেন ছড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে,
তবে কি ভালোবাসা এতটাই সুন্দর হয়?
প্রেমের পৃথিবী এমনই মুগ্ধ হয়?

                                               ___শিল্পা মন্ডল
 #পথ_দেখাও
#মুনমুন_মুখার্জ্জী

ভোর বেলায় শিশুর আজ ঘুম ভাঙ্গে না,
শোনা তো আর হয় না ঘুম জাগানিয়া,
রাত জাগা মা বাবা ভোর বেলা ঘুমায়,
সকালে উঠে সবাই স্কুলেতে দৌড়ায়।

পেয়ারা, লিচু গাছ চেনার অবকাশ নেই,
কাঠবিড়ালী প্রজাপতির সাথে ভাব নেই।
পারুল দিদি, চম্পা দাদার সাথে হল আড়ি,
স্বপ্নেও আসে না তারা খোকা খুকুর বাড়ি।

সারাদিন পড়া পড়া ভালো যে লাগে না,
গল্প ছড়ার বই কেউ পড়তে দেয় না।
শেখে যদি কবিতা কিম্বা হয়তো গান
জিততেই হব তবে, এসব নয়তো ফান।

শিশুরাই খারাপ আছে তা তো কবি না,
গরীবের বুকেও আছে নানান যন্ত্রণা।
জাতের নামে বজ্জাতি আজও যে চলছে,
ভোটের কেনা বেচায় তারাই যে জ্বলছে।

নারীরা জাগে নি এখনো হলেও শিক্ষিত,
কেউ কেউ স্নেহ মায়ায় হয়ে গেছে হত।
কেউ দিয়েছে চরম মূল্য অধিকার চেয়ে,
কেউ বা নিঃসঙ্গ হল সবকিছুই পেয়ে।

কুসংস্কারের ঘেরাটোপে ব্যস্ত জীবন,
ধর্ম, জাত পাতে দিন দিন বাড়ছে মরণ।
সঠিক পথ দেখানোর মানুষ তো নাই,
কবি তোমার রচনায় যেন পথ খুঁজে পাই।






 পথ_দেখাও_নজরুল
#মুনমুন_মুখার্জ্জী

ভোর বেলায় শিশুর আজ ঘুম ভাঙ্গে না,
শোনা তো আর হয় না ঘুম জাগানিয়া,
রাত জাগা মা বাবা ভোর বেলা ঘুমায়,
সকালে উঠে সবাই স্কুলেতে দৌড়ায়।

পেয়ারা, লিচু গাছ চেনার অবকাশ নেই,
কাঠবিড়ালী প্রজাপতির সাথে ভাব নেই।
পারুল দিদি, চম্পা দাদার সাথে হল আড়ি,
স্বপ্নেও আসে না তারা খোকা খুকুর বাড়ি।

সারাদিন পড়া পড়া ভালো যে লাগে না,
গল্প ছড়ার বই কেউ পড়তে দেয় না।
শেখে যদি কবিতা কিম্বা হয়তো গান
জিততেই হব তবে, এসব নয়তো ফান।

শিশুরাই খারাপ আছে তা তো কবি না,
গরীবের বুকেও আছে নানান যন্ত্রণা।
জাতের নামে বজ্জাতি আজও যে চলছে,
ভোটের কেনা বেচায় তারাই যে জ্বলছে।

নারীরা জাগে নি এখনো হলেও শিক্ষিত,
কেউ কেউ স্নেহ মায়ায় হয়ে গেছে হত।
কেউ দিয়েছে চরম মূল্য অধিকার চেয়ে,
কেউ বা নিঃসঙ্গ হল সবকিছুই পেয়ে।

কুসংস্কারের ঘেরাটোপে ব্যস্ত জীবন,
ধর্ম, জাত পাতে দিন দিন বাড়ছে মরণ।
সঠিক পথ দেখানোর মানুষ তো নাই,
কবি তোমার রচনায় যেন পথ খুঁজে পাই।


#আমার_হৃদয়
#মুনমুন_মুখার্জ্জী

হৃদয় দিয়ে হৃদয়কে সাজিয়ে
হৃদয় করেছি তোমাকে দান,
হৃদয় দিয়েই তোমার কোরো
যদি কখনো করি অভিমান।

ভুল ভেবে ভুলে যেও না
ভুল করে একা কোরো না,
ভুলটা আমিও করতে পারি
ভেঙে দিতে যেন ভুলো না।

তোমাকে ছাড়া জীবন বৃথা
তোমাতেই আমার মনটা গাঁথা,
তুমি ছাড়া এ জগৎ আঁধার
তুমি মুখ ফেরালে পাব ব্যথা।

হৃদয়ে আমার এমনি থেকো
ভুলের দরজা বন্ধ রেখো,
তোমার সাথেই আমার সুখ
হৃদয়ে তোমার আমায় রেখো।





 #মেঘবালিকা
#মুনমুন_মুখার্জ্জী

সুনীল আকাশে মেঘের ভেলা
মেঘবালিকা করছে খেলা,
আকাশগঙ্গা পাড়ি দেবে সে
জলনুপুর পায়ে রুনুঝুনু বাজে।

বাতাসের সাথে হাত মিলিয়ে
বৃষ্টি হয়ে ঠিক আসবে ধেয়ে।
ধুয়ে দেবে ধরার যত কালিমা
প্রতিষ্ঠা হবে এবার তার মহিমা।

ফুলে ফলে ধরা সাজবে নতুন
মেঘবালিকার স্বপ্ন হবে পূরণ।
সবাইকে আনন্দ দিয়ে শেষে
সমুদ্রের সাথে সে মিলবে হেসে।



জন্মস্থান
বিদিশা নাথ
অতঃপর একটি মধ্যবিত্ত পরিবার জন্ম নিল অবশেষে,
আঠেরোর আগে  সিঁদুরের ছাপ বড্ড কড়া, বড্ড নিষেধ,
পঁচিশেতে পা সেই নিষেধ-ই কুড়িতে বুড়ি নির্বিশেষে।
দেওয়ালের গায়ে সিঁদুরের ছাপ;ড্রেসিং টেবিল আঠালো টিপে ঢাকা,
বাবা ফেরে রাত দশটায় ঠিক,
তাস-আড্ডায় সন্ধে গুলো ঢাকা।
বিচ্ছিরি খুব,বিচ্ছিরি বোস-গিন্নির মেয়ের মুখে ধোঁয়া,
ছেলে আমার সোনার আংটি,
বউ-এর গয়না যতই যাকনা খোয়া।
সুগার, প্রেশার,কোলেস্টরল এ জর্জরিত দেওয়াল তাক।
মিত্রবাবুর নতুন ফ্রিজের EMI হিসেব জানতে হবে;
তাই বাড়িতে চুনলেপ্টা তোলাই থাক।
মধ্যবিত্তের বড়ই জ্বালা:
নিয়ম নিকেশ মেনে চলতে হয়,
মধ্যবিত্তের বড়ই যাতন; প্রতিবেশীর মান রাখতে হয়।
না-এর বাধা পেরিয়ে এসে ,
যুগের নতুন জোয়ারে ভেসে চলতে- সে তো পারবে না,
মধ্যবিত্তে পড়লে শেষে,সমাজ গলা ধরবে ঠেসে,
চোখ রাঙানি এড়িয়ে চলা (ওদের ভাষায়) "ধর্মে নাকি সইবে না"।

...................

 নারীত্ব
~বিদিশা নাথ
সে বড় নারীপ্রিয় নাকি নারীত্ব-প্রিয়?
এই হিসেব এর বেড়াজাল জড়াচ্ছে তাকে বছর পনেরো হতেই,
গোঁফের রেখা ওঠার আগে তাকে মনে রাখতে হয় স্বপ্নদোষের সংখ্যা।
"বীনা দি কি সুন্দর টিপ পড়ে আর কাজল আঁকে চোখে"।
এ কথা বলাটাও পাপ।
"আমার ভালো লাগে না মাঠে জড়া জড়ি ,
আমার ভালো লাগেনা কাদা"।
বলিস না ,বলিস না যে তোর ভালো লাগে গলা সাধা।
"আমি অন্যরকম আমি বুকের ভিতর নরম পালক স্তন খুঁজে ফিরি"।
"আমি লজ্জা পাই নগ্ন দেহে পুকুরে ঝাঁপ"।
ওরা কি তাই কঠোর হাসিতে ছুঁড়ে দেয় পুরুষত্বের বীর্য?
ওরা কোনঠাসা করে আমায় যন্ত্রনায়?
আমি নারী না নারীত্ব প্ৰিয় সব গুলিয়ে যায়।
"তোর রোম ছিঁড়ে তোকে পুরুষ বানাব আজ"।বলে হুঙ্কার দেয় লিঙ্গের ধ্বজাধারী,
বাবা মা দূর দূর করে ভূত ছাড়ায়।
হয়ত এসব সবই জন্মহিসেবের ভুল-এর অনুতাপ।
মৃত্যু আসুক  এক ঢোক তরল হয়ে ,
না পাওয়া নারীত্বের মাতৃ দুগ্ধ হয়ে,
মৃত্যু এসে বুঝিয়ে দিক আমি নারী না বাঁচতে চাওয়া মানুষ দেহের এক শব?






" রোগ "
~বিদিশা নাথ
রোগ বাড়তে বাড়তে ত্বকের উপর স্তর ছেড়ে,
ঢুকে গেছে অলিন্দ ছাড়িয়ে অনেক অভ্যন্তরে।
যে লোক দেয়নি দেখা বছরভর; যে ভীষণরকম কুঁড়ে,
সুখের চাবি হাতে পেতেই  ভিড় জমাল পুরানো চাবির জোরে।
কাটাছেঁড়া শেষ হল না,পুরানো হল না আলাপ সঙ্গোপন,
তবু সে মুখ ফিরাল হঠাৎ ,চেনাপথ হল ব্রাত্যজন।
লালচে শিরা,ফুলে ওঠা চিবুক কালশিটে হল হাত,
'ভালোবাসি তবু' ঠোঁটে ফুটল না আর,
হল সেদিন-ই এই রোগের সাথে মোলাকাত।
আমি আজকাল আসা যাওয়া গুনি,
নামতা গাই,অঙ্ক কষি,কাটানো সময়ের ধারাপাত।
নামহীন বিড়বিড়, একলা দুপুরে দিন ঢোকে না আর ;শুধুই মধ্যরাত।
আমায় রোগ প্রেসক্রিপশনের অক্ষর-ধাঁধা খুঁজে মরে,
'তবু ভালোবাসি' বলে হৃদয় জেগে উঠল না আর,
কর্কট ক্ষত ছড়িয়ে গেছে অনেক ভিতরে।
চোখের কোণের আঁচিল তোমায় খুঁজেছে,
বয়সের শীর্নতাও চেয়েছে তোমায়।
যাবার আগের শেষবার টুকু বলে দাও,
এই রোগ সারাবার অন্তিম উপায়।





" গাছ "
~বিদিশা নাথ
আমরা একে অপরকে একটা গাছ ভাবি,
মাটিতে নিজেকে ছড়িয়ে দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁচে থাকা একটি গাছ।
তুমি কান্ড ডালপালা হলে আমি হই শিকড়,
তুমি মাটি থেকে শুষে নাও বেঁচে থাকার সুখ,
আমি তোমার ঝরে পরা ডাল-পাতা আহরণ করে,
বুনে চলি প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার সালতামামি।
আমি লতা হয়ে তোমায় কক্ষনও জড়াই না,
তুমিও মুক্ত আকাশে মেলে দাও তোমার পরিধি।
বাতাস চুপ করে শোনে তোমার পাতার সরাসরানি,
পাখিরা বাসা খোঁজে তোমার শান্ত দেহে।
আমি তখন নিঃশব্দে তোমায় ধরে রাখি,
তোমায় বেঁধে রাখি।
আমি বিবর্ন হতে হতেও
অপেক্ষা করি তোমার।
কবে সোনালী উজ্জ্বলতার মোহ পেরিয়ে,কালো  মেঘের নেশা পেরিয়ে,
তুমি সেই মাটিতে এসে মিশবে।
আমরা একসাথে নতুন করে গাছ হবো আবার।


...............................

মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০১৯

লেখিকা চয়নিকা যশের কবিতা


১.)
তোমায় দেখবো বলে

প্রতি রাতে আমি
তোমার ঘুমিয়ে যাওয়া অব্দি
অপেক্ষা করি।
ঘুমন্ত মুখটা অন্ধকারে স্বচ্ছতোয়া নদীর মতো টলটল করে,
আমি স্পষ্ট দেখতে পাই।
একটা নিষ্পাপ, ভাঁজহীন মুখ।

জেগে থাকলে মানুষ বড় নিজের কথা ভাবে,
বড্ড স্বার্থপর হয়ে যায়।
আমি তাই ঘুমন্ত তুমিকে রাত জেগে
স্বার্থপরের মতো একা একা দেখি।
তুমি তখন আকাশ হয়ে যাও,
আর আমি সামান্য চাতক।

২.)
সময় পেরোলে

একটা সময়ের পরে
রাগ অভিমান এগুলো ফুরিয়ে আসে।
যেমন এক নাগাড়ে জ্বলতে থাকা
প্রদীপ কিংবা বাতি,
শেষ হওয়ার আগে দাউদাউ আগুন হয়ে,
একটা সময় হঠাৎই ঝুপ করে নিভে যায়।
আসলে যে অনুভূতি যত প্রবল,
যত দুর্নিবার,
যার তীব্রতা যত বেশি,
সে হয়তো ততই ক্ষণস্থায়ী।
তাই একটা সময় পরে
সব নিভে যায়,
প্রদীপ, ঘৃণা অথবা ভালোবাসা।

৩.)
ভালোবাসার দিব্যি

আমি তোমায় মিথ্যে বলেছি।
সেই শুরু থেকে মিথ্যে বলে গেছি।

এই যে বারবার বলেছি,
তুমি যেতে চাইলে চলে যেও,
আটকাবো না কখনো,
এ যে কি সাংঘাতিক মিথ্যে জানো!
প্রতিটা মুহূর্তে আমি ভেবেছি,
তোমায় কী করে আটকে রাখা যায়,
বেঁধে রাখা যায়।

কতবার বলেছি, অন্য কাউকে ভালোবাসলে আমায় বলো।
মনে মনে আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছি
গোটা পৃথিবীর থেকে তোমায় লুকিয়ে রাখার।

বারবার বলেছি তুমি দূরে গেলে
আমি দূর থেকেই ভালোবেসে যাবো।
কিন্তু আকুল হয়ে কাছে থাকার
প্রতিটা সম্ভাবনাকে হাতড়ে গেছি নিঃশব্দে।

আরও কত টুকরো টুকরো মিথ্যে দিয়ে
ভালোবাসার তাসের ঘরটা বানিয়েছি।
যেখানে ভালোবাসা বাদে
বাকি সবটা মিথ্যে, প্রবল মিথ্যে।



লেখিকা সুস্মিতা সিং এর কবিতা পড়ুন


১.)
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা

ও স্বপ্নের ফেরিওয়ালা একরাতে আসবি স্বপ্ন বেঁচতে?
কিনে নেব আমি স্বপ্ন ঝুড়ি ভরা,

ও স্বপ্নের ফেরিওয়ালা লুকায়ে আসিস তবে
নজর যেন না দিতে পারে কেউ আমার স্বপ্নের ঘরে,

ও ফেরিওয়ালা ওই যে অন্ধকার গলি সেখানে আমার বাসা,
স্ট্রিট লাইট জ্বলেনা ওধারে,তুই আসবি তো স্বপ্নের বেলুন নিয়ে?

ভর্তি থাকবে স্বপ্ন,খুশি, যত ফিরে আসবে আমার কাছে ততই,

আসিস তবে একরাতে স্বপ্নের বেলুনখানা কয়েক গুচ্ছ নিয়ে ছড়িয়ে দেব গোটা শহর জুড়ে 

হাসবে,খেলবে,আনন্দে মাতবে সকলে,স্বপ্ন দেখা শুরু হবে আবার নুতন করে।

ও ফেরিওয়ালা আসিস তবে কোন এক নিরিবিলি রাতে।


২.)
পথের শেষ

পথ চলা শেষ হয়না আর
আশে পাশে চেয়ে দেখি হাজারো জনে চলছে ডানা মেলে,
কোথাও ট্রাফিক জ্যাম, কোথাও বা মানুষের কোলাহল
আমার অপেক্ষা হয়না শেষ তবু, ফিরে যায় মায়ায়,
যত দেখি ততই শিখি,তবু মন চায় আরও,
ভাগ্যের উপর ভরসা করে বসবি কত আরও
চল যায় এগিয়ে কোথাও, যেথায় নেই হিংসে, হানাহানি,
সেই স্নিগ্ধ শীতলা মাটির তলায় নিদ্রাসঙ্গীত গেয়ে যায়
দেহ আত্মা এক হয়ে যেথায় পড়ে রবে শুধুই নিথর শরীর।

৩.)
পর্বত শিখা

শোনো মেয়ে,
তুমি মনে রেখো
যখন ঘরের চৌকাঠ পেরোবে
লোকে তোমায় আড়চোখে দেখবে,
তুমি গলি ধরে হাঁটতে থাকবে
লোকে তোমার পিছু নেবে, শিস দেবে।
তুমি গলি পেরিয়ে বড় রাস্তায় উঠবে
লোকে তোমাকে চরিত্রহীন বলবে
দোকান হাটে দূর থেকে দেখে তোমার  যোনির মাপ নেবে হীনবীর্যের দল,
তুমি পিছু ফিরবে না মেয়ে
যাচ্ছ যেভাবে মাইল পার করবে
পথ ছাড়িয়ে যখন পৌছবে পর্বতের শিখরে
জ্বলবে তারা শিখার আগুনে,
তুমি হাসবে অট্টহাসি তাদের ছাই দেখেই।






লেখিকা মৌসুমী ভৌমিকের কবিতা


কবিতা ও কল্পনা
 
কবিতা কী কল্পনা ? যদিও জানি গল্প না
ভাবের ঘরে ঘুরে আসা, বেশি না হলেও অল্প না।
মনের মাঝে আনন্দ খেলা, পাগল বললেও পরোয়া নেই
শব্দ নিয়ে মেতে থাকাতে খুশির প্রলেপ অল্পতেই।

কবির ঘরে রাজার বাহার নাইবা থাকুক ক্ষতি নেই
মনের রাজা সেজেই থাকে সকাল বিকাল সন্ধ্যেতেই।
কবির মনে বিশাল আকাশ, ডানায় চড়ে বেড়ায় ঘুরে
কল্পনাতে স্বর্গ দেখে, বসবাস তার নিশ্চিন্তিপুরে।

মিথ্যে তোরা বাঁধিস বাঁধন, কবি যে সেই আত্মভোলা
হাজার রকম নালিশ শেষে, মনেতে তো নেইকো দোলা।
কবিতা সেই সুখেই হাসে, নয়ত মিছে কল্পনা
ভাবনাগুলোও উড়তে জানে, সেও কিছু মন্দ না।

প্রতিফলনের EXPECTATIONS




"প্রতিফলন" ছবির পরিচালক অর্পণ বসাক, তিনি স্বয়ং চিত্রনাট্য বানিয়েছেন,সুপ্রতিম সাহা প্রযোজিত ও মুখ্য ভূমিকায় অভিনীত এই ছবি খুব শীঘ্রই  প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। তবে পরিচালক ও প্রযোজকের ইচ্ছে প্রথম ভাগে কিছু ফিল্ম ফেস্টিভালে "প্রতিফলন" কে পাঠাবে তারপর বাণিজ্যিকভাবে রিলিজ।

 পরিচালক অর্পণ বসাক পরিচালিত এই ছবির  গল্পটি মূলত একটি ১৮ বছরের ছেলে আর্য (সুপ্রতিম সাহা) কে ঘিরে, গল্পের প্রেক্ষাপট গ্রামকেন্দ্রিক। আর্য ছোট থেকেই তার মাকে দেখেছে গ্রামের মেয়েদের বিয়ের সাজ সাজাতে, সেই থেকেই আর্য স্বপ্ন দেখে তার মায়ের মত হওয়ার। আর্যর স্বপ্নের কথা তার বাবা জানতেই শুরু হয় এক কঠিন সংগ্রাম, সেই কঠিন সংগ্রামের সময় আর্যর পথ চলার সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায় আর্যর পাশের গ্রামের তারই সমবয়সী চুরি বিক্রেতার মেয়ে রিমি (সায়ন্তনী দেব)। শেষ পর্যন্ত আর্যর জীবনে কি পরিণতি আসে সেটা জানার জন্য অবশ্যই সবাইকে প্রতিফলন ছবিটা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখতে হবে।

তাহলে চলুন শুনে নিই যারা তাদের পরিশ্রম দিয়ে তৈরী করল "প্রতিফলন" তাদের বক্তব্য।



°জলফড়িংঃ- এই ছবির মূল বিষয় ভাবনা কি?


●পরিচালক অর্পণ বসাকের অভিমত- "প্রতিফলন ছবির মূল বিষয় ভাবনা হচ্ছে প্রফেশনের কোন জেন্ডার হয় না"



°জলফড়িংঃ- সুপ্রতিম সাহা এই ছবির নায়ক এবং প্রযোজক, তোমার অভিমতটা যদি বলো।

●প্রযোজক ও অভিনেতা সুপ্রতিম সাহার অভিমত- " আর্য চরিত্রটা আলাদা করে কোনো গল্পের চরিত্র নয়, আর্য আমরা সবাই"



°জলফড়িংঃ- রিমিকে নিয়ে যদি কিছু বলো দর্শকদের।


●অভিনেত্রী সায়ন্তনী দেবের অভিমত- " গল্পে আমি রিমি চরিত্রে অভিনয় করেছি এবং রিমি আর্যর কাছে অক্সিজেন এর মত"



°জলফড়িংঃ- বিপাশা তোমার চরিত্রটা ছবিতে কীভাবে ফুটে উঠবে?


●অভিনেত্রী বিপাশার অভিমত- " আমার চরিত্র সম্পর্কে বেশি কিছু বলা বারণ, খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা চরিত্র, আমার একটাই অনুরোধ তোমরা সকলে ছবিটা দেখো"।




°জলফড়িংঃ- তুমি ছবির আর্যের মা, তোমার কাছে এই চরিত্রটা কতখানি দায়বদ্ধতা এনে দেয়?


●অভিনেত্রী সপ্না দেবের অভিমত- " পর্দায় আমি আর্যর মা, শুটিংয়ের প্রথম দিকটায় একটু নার্ভাস ছিলাম তবে আস্তে আস্তে কনফিডেন্স পেয়েছে অভিনয়টা করার"



°জলফড়িংঃ- আপনি তো ছবি আর্যের বাবা। আপনার অভিমত যদি জানতে পারতাম।



•অভিনেতা এমদাদুল হকের অভিমত:-   আমি প্রতিফলনে আর্য চরিত্রের বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছি, কাজ করে ভালো লেগেছে অর্পণের সঙ্গে।





°জলফড়িংঃ- তোমার গান, তোমার সুর, তোমার কথা কিরকম লাগছে?


●সঙ্গীত পরিচালক পীযূষ দাসের অভিমত- " আমার লেখা শব্দ সুর ও কন্ঠ দিয়ে চেষ্টা করেছে প্রতিফলন কে আরও সমৃদ্ধ করতে কেমন লাগলো জানার অপেক্ষায় রইলাম"



°জলফড়িংঃ- একজন এডিটর কাজ বেশ কঠিন একটা ছবির জন্য। তোমার কাছে প্রতিফলন?


●এডিটর সায়ন্তন নাগের অভিমত- " ছবিটার প্রতিটা "Frame" এর প্রেমে পড়েছি, অর্পণ ও সিনেমাটোগ্রাফার ভাবনাকে কুর্নিশ জানাই"




°জলফড়িংঃ- কিরকম লাগছে কাজ করে?


● অভিনেত্রী অভ্যর্থনা দাসের অভিমত- " অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে সকলে, দর্শকের কাছে অনুরোধ বাংলা ছবির পাশে থাকুন"



°জলফড়িংঃ- তোমার কাছে প্রতিফলন?


●সিনেমাটোগ্রাফার রাহুল মন্ডলের অভিমত- " প্রতিফলন ছবিটা আর বাকি ৫টা ছবির থেকে একদমই আলাদা, দর্শকের মতামতের অপেক্ষায় রয়েছি"


°জলফড়িংঃ- প্রতিফলন তোমার কাছে কেমন?

●সিনেমাটোগ্রাফার সঞ্জীব মন্ডলের অভিমত- " অনেকটা খাটনি করে ছবিটা বানিয়েছি আমরা সকলে, রিলিজের পরে বিচার দর্শকের হাতে"



°জলফড়িংঃ- কাজটা করে কেমন লেগেছে?


●মেকআপ আর্টিস্ট অর্ণব দাসের অভিমত- " আমার কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আর্যর মেকআপ টা, কতটা সফল হয়েছি সেটা জানার অপেক্ষায় রয়েছি"



°জলফড়িংঃ- প্রতিফলন নিয়ে কি বলবে?



•মেকআপ আর্টিস্ট প্রলয় কর্মকারের অভিমত- " খুব মিস করছি মুর্শিদাবাদের শুটিংয়ের সময় টা,প্রতিফলন সবার হলে এসে দেখা চাই"



°জলফড়িংঃ- কাজটা করে কেমন লেগেছে?


●স্টিল ফটোগ্রাফার শুভাশিস সাহার অভিমত- " অসংখ্য ধন্যবাদ অর্পণ ও সুপ্রতিম কে আমাকে এই সুযোগটা দেওয়ার জন্য"



°জলফড়িংঃ- তোমার কাছে তোমার ডিরেক্টর কেমন?


●অ্যাসিস্ট্যান্ট দিরেক্টর মেঘনা দের অভিমত- " কাজ করতে করতে অর্পণ এর সাথে অনেক কিছু শিখছি,আমার অনুরোধ তোমরা সকলে প্রতিফলন দেখো"



°জলফড়িংঃ- আপনি তো প্রোডাকশন ম্যানেজার,  "প্রতিফলন" নিয়ে আপনার মনে কি চলছে?


●প্রোডাকশন ম্যানেজার সৌমিক ঘোষের অভিমত- " রোদে গরমে খাটনিটা কিছুই মনে হবে না, যখন দর্শকের করতালিতে ভরে উঠবে প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে"


°জলফড়িংঃ- কিরকম expectations রয়েছি?


●আর্ট দিরেক্টর জাগৃতি সিনহার অভিমত- " কাজটা মন প্রাণ দিয়ে করেছে, দর্শকের থেকে অনেকটা আশায় আছি"



°জলফড়িংঃ- তুমি বাঙালি নও তাও একটা বাংলা ছবির কাজ, কি মনে হয়েছে কাজটা কতখানি সার্থক হবে?


●ড্রেস ডিজাইনার স্বস্তিক আগরওয়ালের অভিমত- " বাঙালি না হওয়া সত্ত্বেও গল্পটি বুঝতে আমার এক মুহূর্ত সময় লাগেনি, এটাতেই প্রমাণ হয় ছবি স্বয়ং একটা মাধ্যম মানুষের কাছে পৌঁছানোর"



আমরা শুনলাম "প্রতিফলন" নিয়ে সবাই কিরকম excited, এখন দেখার "প্রতিফলন" কতখানি নিজেকে প্রতিফলিত করতে পারে দর্শকের মনে।

রবিবার, ২ জুন, ২০১৯

  1. ফোমো
                           মৌমন মিত্র  ( ৩০-৫-১৯)

বই পড়ব, সিনেমা দেখবো, শপিং করব ,কিংবা গল্প করব- চিচিংফাঁকের মতো হাজির আমাদের হাতের মুঠোয় নেট্‌ দুনিয়া। সত্যি, মাঝে মধ্যে কতো সহজ মনে হয় পৃথিবীটা এই মুঠোফোনের হাত ধরে। ভার্চুয়াল আড্ডা ,রাতারাতি বন্ধুত্ব, রাতারাতি সম্পর্ক- সব যেন হাতের মুঠোয় ।ভাবতেই হয় না! আর এই পথ চলতে চলতে আমরা কখন যেন ঢুকে পড়ি এই ইন্টারনেট জগতের নিজস্ব ফাঁদে।২০১৩ সালে ইংলিশ ডিকশনারীতে  একটি  শব্দ যোগ হয় যার নাম ‘ফোমো’। ভাবছেন, বাবা ! এতকাল হয়ে গেল শব্দটাই জানি না? আর ভাবুন, না জেনেই কিভাবে দিনের পর দিন বছরের পর বছর আমরা এই শব্দের প্রকোপে। 



ফোমো- অর্থাৎ কিনা ফিয়ার অফ মিসিং আউট । মানে ধরুন কোন সামাজিক অনুষ্ঠান,পার্টি,পিক্‌নিক্‌ কিংবা সম্পর্ক উদযাপনে আপনি যেতে পারলেন না। কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় দেখলেন আপনার বন্ধুরা সেখানে গিয়েছে, এর গা ঘেসে  অথবা ওর গা ঘেসে ছবি তুলেছে,ছবি পোস্ট করেছে।  আপনি দু চারটে লাইক, লাভ চিহ্ন ও জুড়ে দিলেন ( ঐ সোনার কেল্লার  রিগার্ড জুড়ে দেওয়ার মতো) ।কিন্তু ফোন রেখেই আপনার মনে শুরু হল,কি যেন হারিয়ে ফেলার একটা অনুভুতি।একটা ভয়। একেই বলে  ফোমো। এমন কি আপনার লাইক অথবা লাভ চিহ্ন টি ও  এই ফোমোরই একটা অংশ।

ফোমো  আসে অসুখী মন থেকে। একটা প্রতিযোগিতা মুলুক ভাবনা থেকে। আপনার মনের ভিতর সকলের অজান্তে চলতে থাকে এই ঝড়। এই বুঝি হারিয়ে ফেললাম। এই বুঝি ঐ বন্ধু একটু বেশি পেয়ে গেল। এই বুঝি ও আরেকটু বেশি সুখি হয়ে পড়লো। ইস্‌ গেলাম না কেন! এমন হাজার হাজার অসুখী ভাবনা বিস্তার হতে থাকে আপনার মনে দৈনন্দিন। এমনকি এইসব ভাবনা থেকে মানুষ বেশি বেশি করে সোশাল মিডিয়ায় নিজেকে খুঁজতে চেক্‌ করেন।ঘুম থেকে উঠেই, রাতে শুতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত। তার মানে,সোশাল মিডিয়া ফোমোকে আরও ভয়ানক রূপ দেয়।

সমাধান- আপনি নিজে। কিভাবে ? নিজেদের মধ্যে gratitude অর্থাৎ   কৃতজ্ঞতা আনুন। রিসার্চ বলছে রোজ একটা মানসিক ব্যায়াম করুন। সকালে উঠে ফেসবুক নয় নিজের জীবন থেকে আপনার যা যা আছে বিয়গ করুন,মনে মনে।ভেবে দেখুন এইসব কিছু বাদে আপনার জীবনে কি পড়ে আছে? কেমন হবে এগুলো বাদে আপনার জীবন। দেখবেন নিজেকে অনেক সুখী মনে হচ্ছে বাকিদের তুলনায়। 

Flickr এর co-founder Caterin বলেছেন : 'social software is both the creator and the cure of FOMO’
সোশাল সফটওয়্যার আপনার জীবন দর্শনকে  উজ্জীবিত করেছে, আপনাকে একবার সিংহাসনে চড়ায় আবার একবার সেই সিংহাসন থেকেই টেনে নামিয়েও দেয়।

আপনি, আপনার গৃহের রোল মডেল । বর্তমানে এর সমাধান বের করা বেশ কষ্টকর জানি ।কিন্তু রাশ আপনাকেই টানতে হবে। কোন থিওরি নেই।  আপনার ফোমো যেন ওদের এফেক্ট না করে। ‘ওদের’ কচি হাত গ্যাজেট থেকে পুরোপুরি  দূরে রাখা সম্ভব নয়। একটু বড় হতে শুরু করলে বাচ্চাদের ইন্টারনেট এর ক্ষতিকারক দিক গুলো স্পষ্ট করুন। বাচ্চাদের হাতে ফোন দিলে কিডস মোড অন করে দিন। দিনের কোন একটা সময় বাচ্চার সাথে সুন্দর ভাবে সময় কাটান। তাদের, কাছে টেনে নিয়ে এক সঙ্গে গল্প করুন,দিনের শেষে একটু পিলো  ফাইট  করুন।গল্পের বই পড়া ,গান চালিয়ে একটু নাচ করা।অপসন্‌ অনেক রয়েছে। এই সময় গুলোতে নিজেদের ফোন থেকে নিজেদের দুরে সরিয়ে রাখুন। 



ওদের বুঝিয়ে দিন এই ভার্চুয়াল দুনিয়ার হাজার সংখ্যা বন্ধু জীবনের বন্ধু নয়। ওটা ফিকশন্‌। গোছানো গল্পের মতো। পরম বন্ধুদের , কোন্‌ হোটেলে আপনি চেক ইন করলেন বা কোন সিনেমা অন করে দেখছেন তা জাহির করার প্রয়োজন নেই।বাচ্চার,বড়োদের শরীর মন ভালো থাকবে আপনজনের সাথে,আপনজনের স্পর্শে । যার কোলে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুম আসে ,তার পাশে গা ঘেসে ছবি তুলে দুনিয়া কে নিজের সুখ, তৃপ্তির নমুনা ফলাতে হয় না কোন মাধ্যমের মাধ্যমে। আর জীবন অতিবাহিত করতে এই আপনজনরাই আমাদের সকলের পরম পাথেয় হোক।

জলফড়িং এর কবিপক্ষ






উৎসর্গঃ- এই কবিতাগুলোকে পড়ে ফেলা সমস্ত মানুষকে।
১.


কবিতারা যেভাবে জন্মায়

ধরে রাখতে গিয়ে পিছুটান , 
ফের তোরই দিকে হাঁটছি।
আমি নিষিদ্ধ কোনো বোমা , 
তাই খুব গোপনে ফাটছি।

একে পক্ষ নিয়ে লড়াই ,
 দুয়ে নেত্র খুলে রাখছি।
তোর অসম্মানের ইতিহাসে
 আমি পৃষ্ঠা ছিঁড়ে যাচ্ছি।

রোজ কাব্য লিখতে বসে
 নিজেই শব্দ হাতড়ে মরছি।
তবুও লিখতে হবে কিছু , 
কারণ ইঁদুরদৌড়ে লড়ছি।

শেষে ক্লান্ত হয়ে যখন ,
সবটা গুটিয়ে নিতে যাচ্ছি ;
তুই বাক্য বয়ে আনলি , 
ফের সৃষ্টিসুখে কাঁপছি।


২.)


এক জীবনের দান

বিয়ের বয়স চার বছর, চার মাস, পঁচিশ দিন।
আমি কখনো এই ক'টা বছরে সকালে সূর্যের আলো গাঁয়ে মেখে আরাম করে বসে চায়ের পেয়ালায় ঠোঁট ছুঁয়াইনি।
অথচ আমার বরাবরই ঘুম ভেঙেছে ভোরের আগে।
তোমার বাড়ির লোকেদের ঘুম ভাঙ্গার আগেই কলতলায় জমাতাম এঁটো থালা- বাসন।
তারপর সকলের রান্না, ঠাকুরঘরে প্রার্থনা, বিছানা গোছানো, তারপর বেলা বাড়তেই
এক মরনসম নিরবতা।
তুমি বাড়ি নেই! 
তোমার যান্ত্রিক জীবনের চাকা তখন ঘুরছে অনবরত।
তোমার ব্যস্ততা আমাকে আড়াল করেছে বহুদিন আগেই।
অথচ তোমাকে সেদিন যখন তোমার এক কলিগ জিঙ্গেস  চাইল - তোমার গিন্নি কি করে?
তুমি বলবে- কিছু না, বাড়িতেই থাকে।
আমি কি সত্যিই কিছু করিনা?
একটা সকাল যে তোমার নামে লিখে দেই, সেটা কিছু না?
একটা বিকেলের লিলুয়া আভা থেকে যে চোখকে বঞ্চিত করি, সেটা কিছু না?
একটা সন্ধ্যা যে তোমার বাড়ি ফেরার পথ চেয়ে ছটফট করতে থাকি, সেটা কিছু না?
আমি যে আমার একটা জ্বলজ্বলে ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিলাম সেটা কিছু না?
একটা পরিবার যে পর করে দিলাম সেটা কিছুই না?
ঘরটা বুঝি এমনি এমনিই থাকার উপযুক্ত হয়ে যায়?


৩.)


প্রতিশ্রুতি

তফাৎ বুঝিনা তাও, আমাদের ভালোবাসা স্বভাব,
মানুষের ঘর ভাঙে। বাঁধন'ও যে আজীবন কাটা।
মুখোশ আলগা হলে, চিনে নিও হাজারটা লোকের,
ক'জন যোগ্য ছিল এতকাল ঠিক পাশে হাঁটার।

হেঁটেছো একাই তবু, এসেছো যে বারেবারে ফিরে,
তোমার যাওয়ার পরে মিথ্যে দিগ্বিদিক, ধূ ধূ।
বাঁধানো সিঁড়ির থেকে রোজদিন এই পৃথিবীতে,
দুঃখ স্রোতের মতো। আমরা তলিয়ে যাই শুধু।

আমার মাথার পাশে ভালোবাসা ঋণ হয়ে জমে,
কখনও দুঃখে আর কখনও বা হেরে গেছি বোমায়।
যদি এই পৃথিবীকে চারভাগে ভেঙে দাও প্রিয়,
তিনভাগে ভালোবাসা আজীবন দিয়ে যাবো তোমায়।


৪.)

এপ্রিল ফুল
           
আমরা —
আসলে আমাদের রেশ কেটেছে মোহের,
এটুকু বুঝতে পারার পর আর সময় নষ্ট করি না।
সভ্য সমাজে পা রাখি
অপরিচিত হয়ে উঠি, যত দ্রুত সম্ভব।

হোটেল —
অচল হোটেলের রেজিস্ট্রার খিদের মর্ম বোঝে,
কিছু ভুয়ো পরিচয় মেনে নেয় পেটের দায়ে।

মুহুর্ত —
কমজোরী তারা খসে পড়ে তাড়াতাড়ি।
উত্তেজনায় চুম্বক ছিল
নাকি, আড়াই ইঞ্চি জমির মধ্যাকর্ষণ শক্তি।
সত্যিটা বড়ো তেতো স্বাদের।
তাই তোমার আর নক্ষত্র হয়ে ওঠা হয়নি বিছানায়।

আমি —
আজীবন প্রতিশ্রুতি রক্ষার দায়বদ্ধ শ্রমিক।
হাত বদলের খাতায় মালিকদের নামের ভিড়       
বাড়িয়েছি দিন দিন।
শুধু ভালোবেসেছি বলে
আজও তার প্রেমিকা হতে পারিনি।


৫.)

হলুদ শাড়ি


বিকেল ছাড়া প্রেমের কবিতা লেখা যায় না।
ট্রাম লাইন ছাড়া কীকরে প্রেম হয় বলো?
তবুও তো এখনও আমরা
পুরোনো বইপাড়া শেষ করে উঠতে পারলাম না।
আমাদের এই কলেজস্ট্রীট ঘেঁষা সম্পর্ক,
কফিহাউস মেশানো ভালোবাসা,
কয়েক চুমুকেই শেষ হয়ে যাবে?
তা হয় কখনও?
আমরা হারিয়ে যেতে চাইলেও হয়ে ওঠে না,
রাস্তাগুলো সব তো ওয়ান ওয়ে। 
দেখা ঠিক হয়ে যায়।
তবুও এই সাইরেন বাজা সম্পর্ক থেকে
উঠে এসে তুমি বলছো,
তোমার কবিতায় এত বিষণ্ণতা কেন?

আমি মলাট খুলে রেখেছি, 
সমস্ত ঢাকা দেওয়া অস্বস্তির।
মলাটকে মুখোশ বলা যায় কিনা জানা নেই।
রাত জেগে সব পুরনো মুহূর্ত ঘেঁটে
বেছে রেখেছি কয়েকটা চুমু আর হাতধরাকে,
হাতধরাকে প্রেম বলে কিনা জানা নেই!

আমাদের বাড়ির পাশে কোনো ছাতিমের গাছ নেই,
তবু এ সময়টা কেন যে ডুবে যাই এত গভীরে,
প্রতি ভোরবেলায় আমি ছাতিমের গন্ধে ডুবে যাই।

এবারের পুজোতেও আমি কুয়াশা মেশানো দৃষ্টি নিয়ে 
আমার জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকবো।
শহরে শিউলি ঝরা শুরু হলে,
তুমি শুধু একবার হলুদ শাড়ি পরে এসো! 
আর নিয়ে যেও আমার এতদিনের 

জমিয়ে রাখা তাকিয়ে থাকাগুলোকে!


৬.)

সমান্তরাল

রোজকার ওলট পালট বিছানা। ভাঙা ক্লিপ বেয়ে অগোছালো চুল।
আঃ! সোনা আওয়াজ করে না। ছিঃ!
সরাও তোমার ওড়না। একটু মুখ লুকিয়ে বাঁচি।

পৃথিবী বড্ড কাঁদছে জানো। তোমার রক্তক্ষরণ থামছে কই !
পুড়ছি, মরছি রোজই আমরা। অথচ মানুষ হচ্ছি কই।
রোজ তো সেই ট্রামে বাসে, ঠেলা খাচ্ছি। হাত চালাচ্ছি।
নিজের স্বরূপ চিনতে পেরে; নিজের মুখেই থুতু মারছি।

অ্যসিড ছেঁচা এ শহরে, আমরা সকলেই প্রতিদ্বন্দ্বী।
খালি অন্যের সাথে রেষারেষি, আর নিজের সাথে সন্ধি।
ভেতরেও সেই আদিম দাবানল, খালি ঝলসাতে গিয়ে বাঁচতে চাইছি
আর সারাটা দিন হারের সাইনবোর্ড, গলায় ঝুলিয়ে বস্তি মাতাচ্ছি।

চৌরাস্তার এমন কত বন্দরে, অন্যের কাপড়ে নিজেদের করছি আড়াল।
উত্তেজনা সেই ক্ষণিকেরই। খালি আখ্যা দিয়েছি সমান্তরাল।

৭.)

প্রেমের ফারাক
তুমিও শেষে খুনি-ই হলে দেখি
বিঁধিয়ে দিয়ে ঘৃণার ফলা বুকে
প্রেম ফুরোলে নোনা পড়া দেহে,
ক্ষত জমে স্মৃতির অসুখে।

প্রেম নাকি সস্তা বটে খুব!
আমি বলি ফারাক থাকতে হয়।
সামনে যাদের নামের পাশে নাম,
ভিতরে ততই ভুলে ভরা সংশয়।

প্রেমের আগে ভালোবাসা রেখো
স্বস্তি পেলে আগলে নিও ঠোঁটে,
দ্বেষ-বিদ্বেষ বাদ রেখে দিও একদিন
ভালোবাসলেও কি ঘেন্নাই জোটে!

৮.)

ধুমাত্র বন্ধু নয়

আমি এখনো বালিশ বুকেই, নরম খুঁজি
তেপান্তরে রূপকথা দেশ, থমকে গেছে হাওয়া
বোরে চালিয়ে মেরেছি সব রাজা উজির–
চৌষোট্টির ছকে আজ ব্যাথার কুচকাওয়াজ।।

এলোচুলের জোছনা হটাৎ ডাক পাঠায়
মেঘের দেশে সে'ই তিলোত্তমা–
পিনিক দিলে এমন, ছিটকে লাগে জামায়
ইচ্ছে হল এমন বসন্ত হওয়ার।।

অরন্যাণী সাজিয়ে গেল তোমায়, সমস্তটা
শ্রী'র শরীর বুনছে যত, রসের দানা–
আমার আছে আঙুলডগায়, বৃষ্টিফোঁটা
গরম স্রোতে তেমন কিছুই, আটকায় না।।

মাথার ভেতর ঠোঁটের গন্ধ, চনমনিয়া
ছটফটিয়ে তোমায় নিয়ে চাইছে উড়ান–
ভীড়ের মাঝে হাঁপিয়ে আমি, একলা টিয়া
রোশনাইয়ের সাক্ষী থাকে, পাহাড়চূড়া।।

চাওয়ার হিসেব রাখছি এখন বাক্সে পুরে
জলের নীচের পাথর ক্ষয়, এমনি বোধহয়
আবার আজ লিখেই দিলাম, রাতদুপুরে
আমি তো তোমার শুধুমাত্র বন্ধু নয়।।

৯.)

মোহ....

মাথার ওপর থেকে হাত দুটো ছায়া থেকে আবছায়া হয়ে সরে সরে যায়...
গলার ভেতর দিকে কেমন যেন একটা দলা পাকানো কষ্ট পাক খেতে থাকে।
কান্না হয়ে বেরিয়ে আসতে চায় কথারা,
তাদের নীরবতার মোহজাল ছিন্ন করে...
তবুও কোথায় যেন একটা অদ্ভুত আবডাল
তোমার আর আমার মাঝখানে।
সময়ের কালস্রোতে হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তরা
অদ্ভুত ভাবে স্মৃতি হবার লক্ষ্যে ছুটে বেড়াচ্ছে।
মানুষ থেকে ছায়া,  ছায়া থেকে আবছায়া,
আর তারপর....??
ভীষণ বেশি কষ্ট দেয় তোমাকে ছুঁতে না পারা ইচ্ছেগুলো....
আর স্মৃতি হয়ে যাওয়া মুহূর্তেরা........


১০.)

বর্ষা এবং সূর্যপ্রেমিক
চিবুক বেয়ে গড়িয়ে এলো প্রেক্ষাপটের দাবি,
শরীর ছুঁয়ে খবর দিলো সূর্য প্রেমিক কবি -
মাখবে তোমায়, মেঘলা দিনে ভিজবে সারা গা,
ছুমন্তরে মেঘবালিকা ভিজেই দেখো না !

দেখবে আকাশ কেমন করে সূর্য কণা ছাড়া
ছদ্মবেশে বর্ষা হয়ে ভিজিয়ে তোমার পাড়া -
রাস্তা জলে আসছে হেঁটে বংশিধারী হয়ে,
অদম্য সেই শব্দেরা শুধু অনন্য প্রত্যয়ে -

বলবে তোমায় শোনাও, তোমার প্রেমের আবাহন !
তখন কি আর শান্ত হবে মেঘবালিকার মন ?
বলবে তাকে শোনো, এসব প্রেক্ষাপটের দাবি ! ভালোবাসতাম যাকে সেও সূর্যপ্রেমিক কবি।

কাল কেটেছে আজ এসেছে বর্ষা গেছে থেমে,
আমিও আবার ইচ্ছে করেই ফের পড়েছি প্রেমে।
না, না, প্রেম ঠিক নয়। নিরুদ্দেশের গাড়ি,
আপন করে ডাকলে কাছে আমিও অভিসারী -

তেপান্তরের মেঘের গায়ে লিখি প্রেমিকের নাম,
অল্প আলোয় সাঁঝের সময় ছুটিয়ে দিয়ে ট্রাম।
বর্সা আসুক বৃষ্টি আসুক যাই হয়ে যাক তাও
আজকে শুধু আর একটিবার আমায় মেখে নাও।

তুমিও আবার নেশায়, কেবল স্বেচ্ছাচারী হয়ে -
ভিজলে কেবল সহিষ্ণুতায় বৃষ্টি কণা দিয়ে।
অবশ তোমার শরীর, আর কাঁপছে সারা গা,
বর্ষা বুঝি আজকে কেন আর যে থামে না !

ওই যে দেখো থামিয়ে দিয়ে প্রেক্ষাপটের দাবি
ভিজবে বলে আসছে তোমার সূর্যপ্রেমিক কবি।



১১.)


একতরফা

সেদিন দেখা মোড়ের মাথায়, ব্যস্ত তুমি ক্যান্ডি ক্রাশে
হলুদ শাড়ি। আলগোছা চুল ।চোখের কাজল মায়া জড়ায়।
সময় তখন দশটা হবে। ট্রাফিক জুড়ে লাল আলোতে
অফিস যাওয়া বেজায় ভুলে। তাকিয়ে থাকা তোমার মুখে।

দিনের পর দিন পেরিয়ে, জানতে থাকি তোমার খবর
কলেজ স্টুডেন্ট। মাঝ বয়সি। বাড়ি তোমার বেলঘরিয়া।
আমার মুখে হাসির বহর।দূরত্বটা খুব বেশি নয়
মেসের থেকে মাইল দুয়েক। বাঁ-দিকের ঐ পাশের গলি।

পিছু নেওয়ার সূত্রপাতে দেমাক তোমার বেজায় গরম
শুনিয়েছিলে দু-চার কথা। অসভ্য এক বেয়াড়া ছেলে।
অটো স্ট্যান্ডে লাইন ভীষণ। চোখ মিটমিট।তোমায় খোঁজে
যতই বলো আদিখ্যেতা। হৃদয় তখন তোমায় বোঝে।

পাইনা দেখা হপতা খানেক। কেমন যেন একলা থাকা
তোমার কথা শুধাই সেদিন পাশের বাড়ির সঙ্গীতাকে।
চার নাম্বারে, পিছুডাকে, থমকে দাঁড়াই কৌতুহলে
তোমার আসার খানিক বাদে। কার্ডটা আমায় ধরিয়ে দিলে।

পরের মাসের পয়লা তারিখ, তোমার বিয়ের নিমন্ত্রণ
একটু হেসে, মাথা নেড়ে, আসবো আমি ঠিক সময়ে।
বিয়ের ঘটা চুকলে পরে। তোমার যাওয়া সিঙ্গাপুরে
তখনও আমি আট হাজারে। ঘুরে বেড়াই রাত দুপুরে।

এমনই করেই কবি হওয়া, কাব্য লেখা তোমায় নিয়ে
একতরফা কয়েকটা প্রেম। শুরুর কথা ক্যান্ডি ক্রাশে।
রাতের প্রহর বাড়ার পরে, জলের খোঁজে দু-চারটে পেগ
আমার লেখা উপন্যাসের পাল্টে যাওয়া নায়ককে দেখ।।

  ১২.)


মনখারাপের জ্বর

ভেজা শরীর বেয়ে নেমে আসা সুগন্ধী আতর,
আবারও হার মেনেছে তোমার ক্লান্ত ঘামের কাছে।
শহর জুড়ে উষ্ণতা তাই জারি,
বাসবো ভালো অনুভূতির আঁচে।

তুমি যদিও ব্যস্ত এখন ভীষণ,
আর ল্যাপটপটা বড্ড প্রিয়জন।
শেষ পাঠানো চিঠিটা তাই আজও,
হয়নি পড়া,হারিয়েছে প্রয়োজন।

রুক্ষ তোমার শব্দগুলো, আঘাত হানে প্রায়ই।
যন্ত্রণাটা অভ্যাস এখন, খারাপ লাগা নেই।
ক্ষতর পাহাড় বাড়তে থাকে, বুকের ভিতর ঝড়।
তুমি অগোছালো মনের মাঝে, মনখারাপের জ্বর।

                    

১৩.)


 আত্মমৈথুন, যেখানে কঠিন হয়ে উঠেছে কবিতারা 

ইদানিং অদূরদর্শী হয়ে ওঠা চোখে অ্যাপোষ্ট্রফি হয়ে থেকে যায় আমাদের শৈশবগল্প । এক এক করে বন্ধ হয়ে আসে সমস্ত অলিগলি, আমরা সময় সমুদ্রে ভেসে চলি খড়কুটোর মতো...খানিক রোদেলা প্রচ্ছদ পাওয়ার আশায় । রোদ পেলেই নাকি পুনঃজন্ম হয় ভালোবাসার; মাটির গভীর থেকে উঠে আসে বর্ষাবিকেল, জলকেলি ।
           বেসুরো আদরেও সকল খিদে গোলাপি হয়ে আসার ঘটনা বেশ অবাক করে । অসংখ্য শেষ না হওয়া উপন্যাস বামন হয়ে চাঁদ ধরার মতো দুঃসাহস দেখাতে বাধ্য করে আমায় । ভিত কংক্রিট করে তোলে আত্মমৈথুনের শহর । আমি কিছুতেই গা বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসতে পারিনা । শব্দসঙ্গমে জড়িয়ে যায় ক্রমশ । ছেঁড়াগেঞ্জির ময়লাতে সুশ্রী থেকে অশ্লীল শব্দের উপচে পরা ভিড় । ডিসপ্রোপরসনেশন থেকে ইন্ট্রোভার্ট আর ইন্ট্রোভার্ট থেকে বেসুরো সিম্ফনি-এটুকুতেই আটকা পরে শব্দমিছিল । ভালোবাসার দপ্তরে বারকয়েক ঢুঁ মারলেও রহস্যময়ী কোনো হাযারোগ্লিফিক নারীকে তুলে আনতে পারিনি । দিনেদিনে কঠিন হয়ে উঠেছে আমার কবিতারা।
আচ্ছা, কতটাকা বিক্রয়মূল্য ধার্য করলে কেউ এই কবিতা কিনবে?



১৪.)


পাঠানো চিঠি

আজ প্রভাতে বসন্ত আসেনি,
বকুল লুকিয়েছে সহস্র বর্ষনে॥
আজ প্রভাতে সূর্য্য হাসেনি
পথ হারিয়ে এঁকেছি তোমাকে॥

দেখনি তুমি কাঁপানো শীতে,
পাতা খুইয়ে বাঁকল হারিয়ে,
মরতে মরতে মরিনি আশাতে..
বসন্তে তুমি আসবে বলেছিলে॥

তোমারই জন্য তখনই বন্ধু
লিখেছি সহস্র চিঠি প্রেমের৷
গেঁথেছি একটিই মালা অশ্রুললিতা..
স্বপ্ন ধুয়েছি সহস্র বর্ষনে॥

চলে গেলে তুমি ধ্বংস পুরীতে,
ব্যার্থ হলে বৃথা প্রয়াসে৷
বোঝোনি আমার চোখের ভাষা,
পূর্ণিমাতে হাসির ফাঁকে ছলে॥

উড়ে গেছো তুমি সেই রাতেই৷
প্রশ্ন বেঁধেছে মন থেকে মনে॥
সে সব প্রশ্ন তল পায়নি...
তারপর কত রাত ঘুম হয়নি॥

এভাবেই কখনও বসে অথবা ভিজে,
কখনও তাপে কখনও সন্তাপে আবার
চোখ লুকিয়েছি শান্তির জলে॥
খোঁজ নাওনি,ফিরে চাওনি বারেক॥

কতভাবে বেহিসাবি প্রেম জ্বলেছে
হিসেবীদের শার্টের বন্ধ কলার্ট ধরে॥
রেটিনার স্রোত হিম হয়েছে সেথায়
মৃত্যুতে নয় মৃত্যু নামক ঝড়ে॥

তারপরও কত বসন্ত গেছে
পা পড়েনি পুরোনো বাগানে৷
ফুল ফুঁটে ঝড়েও গেছে
জানালার ধারে বিনিদ্র রাতে॥

জ্যোৎস্না এসে পড়েছিল সে ঘরে৷
সে ঘরে এখন তালা পড়েছে,
প্রেমিকার পাদুকা খোয়া গেছে আজ
সহস্র পায়ের মাঝে পায়ে পায়ে॥

কতবার তারা পথ হারিয়েছে
হারিয়ে যাওয়ার পবিত্র সুখে৷
মাদক হাওয়ায় নিঃস্ব সেও
চেনা কন্ঠ জড়িয়ে ধরতে॥

সর্বহারা ভিক্ষা মেগে
কূল পায়নি এ জগতে৷
পাগলিনী এলিয়ে চুল
বাউন্ডুলেদের দলে দলে॥


১৫.)


ফিরে দেখবোনা আর

আমি চিৎকার করছি
সুপ্ত মৃত প্রাণে,
খুব জোরে চিৎকার করছি
তোমার শোনা, না শোনা ভাবায় না আমায় আর
তবুও চিৎকার করছি..
আমি থাকছি না আর
চলে যাচ্ছি এবার
অতিদূরে আলোর রেখায়,
আমি পৌঁছবোই..
চোরা পথে তুমি ক্রমশ
আমার জীবনে ঢেলে দিচ্ছ বিষ
মৃত হৃদয়ে ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখা দরকার
তাই থামছিনা, আমি পৌঁছবোই
শীতের রাতে নির্জনতাকে সাক্ষী রেখে,
জানি আমি ঘৃণ্য, বিরক্তিকর,
তাই প্রতীক্ষা করো না আর
সময় পেরিয়েছে, কথোপকথনে মিশেছে বিষ,
দেখো আমার দিকে
আমি মুক্ত, আমি মুক্ত নজরুল
যতই আমাকে শিহরিত করো,
মৃত্যু ডাকো সারা মনে
যতই অনুভব করো রক্তের বেগ সারা শরীরে
তবুও প্রতীক্ষা করো না
আমি চাই না এই মনে যুদ্ধ আর
আমি চাই না হারিয়ে যেতে
তাই ফিরে তাকাবোনা আর
যতই তুমি আমাকে খোঁজো
অন্ধ করো এই দুচোখ
তবুও আমি পৌঁছবোই
আমি যে দুঃখকে করেছি জয়..


















শনিবার, ১ জুন, ২০১৯

রবিবারের গপ্পে বিধান সাহা



সিদ্ধান্ত

ঋতুপর্না জানতো আজ বেরোনোর কোনো উপায় নেই।যদিও শনিবার তবুও হবে না। তাই বোর্ড মেম্বারদের মিটিং আছে তাকে থাকতেই  হবে।সন্ধ্যে পর্যন্ত মিটিং গড়াতে পারে।শেষ না হলে তার তো যাবার নেই।
কোম্পানিতে ঋতুপর্নার প্রয়োজনীয়তার কথা শায়ক কিছুতেই বুঝতে চায়না।সে মনে করে অকারণ অফিসে আটকে আছে।অথচ জানে সে ডিরেক্টরের পি. এ। ডিরেক্টরের থাকা মানে ঋতুপর্নার ও থাকা। শায়ক বুঝেও অবুঝের মতো করে।
আজও বার কয়েক ফোন করেছে। আজ দেখা করতে চায়। প্রত্যেক শনিবারই অবশ্যই দুজন দেখা করে।শায়কের শনিবার ছুটি।ঋতুপর্নার অবশ্য হাফ। এই শনিবার যে হবে না সেটা ঋতুপর্না আগেই জানিয়েছিল  তবু শায়ক নাছোড়বান্দা।
কি আর করে, ঋতুপর্না বাধ্য হয়েই কঠোর করে বললো, “ আজ যেতে পারবো না শায়ক তিনটে জরুরি মিটিং আছে। আর মিটিং মানে তো জানো আমাকে থাকতে হয়।“
শায়ক বললো, “ ওসব আমি জানিনা। তুমি ম্যানেজ করে নাও। আমি অপেক্ষা করছি।“
ঋতুপর্না বললো, “ তুমি বুঝতে চাইছো না কেন? এসব মিটিং ম্যানেজ করা যায়না। আমি যেতে পারবো না বলে ফোন কেটে দিল।
শায়কের ফোন এলো কয়েকবার। আর রিসিভ করেনি ঋতুপর্না। মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল, এর মধ্যে কয়েকবার উঠে যেতে হল বসের ঘরে।বিভিন্ন ডাটা চাইলেন,সেগুলো ভরে দিতে হলো। মনে মনে শান্তি পাচ্ছিল না ঋতুপর্না।শায়ক তো কিছুতেই বুঝতে চাইল না তার অবস্থা টা।এরকম অবুঝ হলে সামলাবে কি করে।আর কয়েকদিন পরে তো বিয়ের বাঁধনে বাঁধা পড়তে চলেছে তারা।চাকরি ছাড়তে বলেছে শায়ক। কিন্তু ছাড়বে না ঋতুপর্না।এই নিয়ে অশান্তি লেগেই আছে।
শায়ককে কি বুঝিয়ে দিতে চাইল সে কথার অবাধ্য হতে পারে। তাই চাকরির ক্ষেত্রকে সে কিছুতেই শায়কের কথামতো চলতে দেবে না। আজ মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল ঋতুপর্না।



লেখক রাফাতুল ইসলাম আরাফাতের কবিতা পড়ুন




১.)
আমি মাঝেমাঝে ঈশ্বর হই


মধ্যরাতের পর ঘড়ির কাঁটা একটা স্পর্শ করার পরপরই
আমার ভাবনারা, চিন্তারা -
সব এলোমেলো হয়ে যায়।
সম্পূর্ণ এক অন্য জগতে প্রবেশ করি আমি।
যেখানে ঈশ্বর নেই কোন,
আমিই ঈশ্বর।

অদ্ভুত সব খেলায় মাতি মধ্যরাতের পর
কখনো পুতুল খেলা শুরু করি।
বেশ মনে আছে-একদিন বড় মামার বিয়ে দিয়েছিলাম
এর আগে পিসির বিয়েও দিয়েছিলাম এক অচেনা লোকের সাথে।

মধ্যরাতের পর, আমি ঈশ্বর হই
মাঝেমাঝে সময়ের সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হই
কখনো দাঁড়িয়ে দেখি, শুকরের প্রসব বেদনা।

মাঝেমাঝে আমি পিশাচ হই
অমানুষও হই মাঝেমাঝে।
কখনো মরা ইঁদুরের মতো আঙিনায় পড়ে থাকি।
কখনো পুড়িয়ে দেই আকাশের সমস্ত নীল।

মাঝেমাঝে আমি ঈশ্বর হই
মানুষ হই
অমানুষ হই।


২.)
স্বর্গের পারিজাত


আপনাকে পেয়েছি-
স্বর্গের লোভ নেই আর।

কিছু চাওয়ার থাকলে-
আর পরজন্ম বলে যদি কিছু থাকে
আমি আবার আপনাকেই চাইবো!


৩.)
চোখ পাঠ


যেকোন লম্বা জার্নিতে সাথে বই নিয়ে যাওয়া আমার অভ্যেস
কিন্তু কখনোই সে বই খুলে পড়া হয়না।

তোমার চোখদুটোকে আমার হাজার পৃষ্ঠার উপন্যাস মনে হয়
আমি বোদ্ধা  পাঠকের মতো পাঠ করে যাই,
পুরো জার্নিতে!


৪.)
বিষাদ



তোমার দেয়া বিষাদগুলোকে আমার পবিত্র মনে হয়
আমি তা থেকে বেরতে চাই না
আরো বেশি নিমজ্জিত হতে চাই।




৫.)
একটি কবিতা,আমার বিদ্রোহ
(পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে)
---------------------------------

শহরের রাস্তায় রক্তের মতো কান্নার নোনা জল
বৃদ্ধ পিতার শ্রমিক হাতে উঠুক বিদ্রোহের প্ল্যাকার্ড!

এ রাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে আমি বিদ্রোহ করলাম
আমার বিদ্রোহ আমি ছড়িয়ে দিলাম
অশোক আর কৃষ্ণচূড়ার লালে।

শ্রমিকের শ্রমের মূল্যের জন্যে যেখানে রাস্তায় দাঁড়াতে হয়-
সে শাসনের বিরুদ্ধে আমি আমার শাণিত তরবারি উঁচু করলাম।

আমার এ কবিতা আমার তরবারি
আমার এ কবিতা আমার বিদ্রোহ।

দিগবিদিক থেকে শব্দ করে ছুটে আসছে বিপ্লব,
আমি চোখ বন্ধ করে অপেক্ষা করছি
একটি শব্দের জন্যে-
মুক্তি!




কবির ঠিকানাঃ
মাগুরা,খুলনা