নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে

মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯

X-ক্লুসিভ চাঁদের মানুষ

জলফড়িং এর পক্ষ থেকে তোমাকে প্রথমেই জানাই নমস্কার।




| আর সব কবিতাকে গান হতে হবে এমন কোন দাবীও কেউ করে না |



১.) কিংশুক চট্টোপাধ্যায় কবি এবং সেই সঙ্গে তিনি গান লেখেন। তবে তিনি নিজেকে কিভাবে পছন্দ করেন  কবি নাকি লিরিসিস্ট?

উঃ- যতটুকু কথা বলি, কবিতায় বলি। এই অনিবার্য ও নিরুপায় কথা বলে চলার যে অবস্থা, এর মধ্যেই কখনও কোন কথার গায়ে ও পায়ে কেউ কেউ গয়না ও নুপুর পড়ায়। তারা গান হয়ে ওঠে। আমি শুধুমাত্র কথাটুকুই বলি অথবা কথারা আমার মধ্যে থেকে বলে ওঠে নিজেরাই নিজেদের। মনে হয় উত্তরটা তোমরা পেয়ে গেছ।


২.) তোমার প্রথম লেখা, কবিতা নাকি গান?

উঃ- দেখ, গান কিভাবে লিখতে হয় আমি এখনো জানি না। আমার প্রথম কবিতার বই শিলাজিৎ দা-কে পড়তে দিয়েছিলাম। দাদা-ই প্রথম আমাকে বলে, “তুই গান লেখ, আমি গাইব”। সেই যে গানের ভুত ঘাড়ে চাপলো এখনো নামে নি। আমার যে কথা বলতে ইচ্ছে হয় সে কথাটুকুই লিখি। সেইসব কথাদের কারো কারো ডাকনাম হয়তোবা গান।


৩.) ছোটোবেলা কাটলো,বড়ো হলে তখনও পরিচিতি হয়নি মানে আজকের পরিচিতি তোমার হয়নি । ঠিক কোন সময়টা থেকে কিংশুক চট্টোপাধ্যায় আজকের 'কিংশুক চট্টোপাধ্যায়' হয়ে উঠলো?

উঃ- হওয়া বলতে কিছুই হয় না। আমরা সকলেই হতে হতে যাই। এটা একটা প্রস্তুতি ও চর্চার চলমান যাপন প্রক্রিয়া। এক নির্জন শূন্যতার এবং নিঃস্বতার চর্চা করে চলা। এই একাত্বতাই, সমর্পণ।



৪.) অনেকে বলেন যে কবিতা আর গান এক নয় তাই গানের জন্য আলাদা ভাবেই লেখাটা নিয়ে ভাবতে হয়। এই বিষয়ে তোমার মতামত জানতে চাই।

উঃ- কবিতা ও গান এই দুইয়ের প্রস্তুতি ও প্রকাশ ভিন্ন হলেও, আসলে তা কথা বলারই ভঙ্গিমা। বলাটাই মূখ্য, কি ভঙ্গিমায় বললাম সেটার থেকেও। বলে ফেলার পর হয়ত কিছু কথা গান হয়ে ওঠে, তবে দুইয়ের মধ্যে কোন বিরোধ তো নেই। আর সব কবিতাকে গান হতে হবে এমন কোন দাবীও কেউ করে না। গান বা কবিতা দুটিই কবি ও গীতিকারের নিজস্ব নির্জনতা ও দর্শনে সুন্দর।



৫.) কলেজের সবচেয়ে প্রিয় ঘটনা?

উঃ- বিশেষ কোন ঘটনা কলেজ জীবনে আমার নেই। সাকুল্যে গোটা কুড়ি দিন কলেজে গিয়েছি। ওই সময় কালটায় আড্ডা, ছবি আঁকা, কবিতা লেখা ও প্রেম করেই কেটেছে। পরবর্তীতে মনে আছে অধ্যক্ষের কাছে মুছলেখা দিয়ে পরীক্ষায় বস্তে হয়েছিল।





| এটুকু বুঝি কথাটুকু লিখতে না পারলে হয়তো মরেই যাব |








৬.) "ও চাঁদ" নাকি "ও বাউল" কাকে বেশি ভালোবাসো?

উঃ- আলাদা করে আমার পক্ষে বলা মুশকিল। তবে জনপ্রিয়তার নিরিখে “ও চাঁদ” গানটি “ও বাউল” গানটির থেকে বেশী গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে আমার মনে হয়। এটুকু বলতে পারি “ও চাঁদ” গানটির যে লিরিকাল ধাঁচা, মানে যে একটা গল্পের মত চলন ওই রকমভাবে কথা বলতে আমার বেশ লাগে।


৭.) তোমার প্রথম লেখা কবিতার বই?

উঃ- “নাম আমার কৃষ্ণচূড়া”- শ্রদ্ধেয় দেবকুমার বসুর “বিশ্ব জ্ঞান প্রকাশনা” থেকে প্রকাশিত। সম্ভবত 2000 সালে  বা তার আগের বছর।


৮.) তোমার লেখা গান গুলোর মধ্যে একটা আলাদা ব্যাপার আছে বিশেষত সুরের ক্ষেত্রে আর তার সাথে এখনকার গানে( বাংলা রক) যেভাবে সুর বাঁধার কাজ চলছে তাতে করে তোমার কি মনে হয় কিংশুক চট্টোপাধ্যায়ের গান এখনকার সময়ে দাঁড়িয়ে সুরের দিক থেকে পিছিয়ে আছে ?

উঃ- সেটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। সুরকাররা হয়তোবা বলতে পারবেন। এটুকুই বলতে পারি আমার একটি ভ্রাম্যমান দোকান আছে। “জয়গুরু ভান্ডার”. সেখানে ফোক-রক ঝাল-টক সব-ই পাওয়া যায়। যে যেমন চায়, লাগলে বলে, পেয়ে যায়। এই আর কি!



৯.) গান লেখাটা কঠিন নাকি তার সুর করাটা?

উঃ- যার যেটা কাজ তার কাছে সেটাই সহজ।



১০.) এই রাউন্ডের নাম

[ ইচ্ছে না হলেও উত্তর চাই]

ক.) গান ও কবিতা লেখার মধ্যে একটাকে ছেড়ে দিতে হলে কী ছাড়বে?
উঃ- ধরা বা ছাড়া কোনোটাই আমার হাতে নেই। এটুকু বুঝি কথাটুকু লিখতে না পারলে হয়তো মরেই যাব।


খ.) ট্রাম নাকি ট্রেন কোনটা প্রিয়?
উঃ- মেজাজ মাফিক



গ.) হলুদ ট্যাক্সি প্রিয় নাকি এক কাপ( মাটির ভাঁড়) চা?
উঃ- কোনটাই না




ঘ.) বিষন্ন দুপুরে যে দুপুরে তোমার মন খারাপ অথচ তোমাকে শিলাজিৎ দার গান শুনতে বলা হলো। কোন গানটা শুনবে?
উঃ- ফিসফিস


১১.) এই রাউন্ডের নাম

[ একজনকেই বাছতে হবে নতুবা খেলব না ]

ক.) জয় গোস্বামি নাকি শক্তি চট্টোপাধ্যায়?
উঃ-দু’জনেই প্রিয়, একজনকে বাছা সম্ভব নয়।



খ.) শ্রীকান্ত আচার্য নাকি মনোময় ভট্টাচার্য?
উঃ- এভাবে বলা যায় নাকি?


গ.) শ্রীজাত নাকি অনুপম রায়?
উঃ- দুজনেই প্রিয়



ঘ.) রূপঙ্কর বাগচী নাকি শিলাজিৎ মজুমদার?
উঃ- এতক্ষন যতটুকু কথা-বার্তা বললাম তোমাদের সঙ্গে তার মধ্যেই এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আছে, বুঝে নাও।



১২.) এই রাউন্ডের নাম

[কোনো কথা শুনব না তোমাকে চুরি করতেই হবে বস]

ক.) শিলাজিৎ দার কাছ থেকে কী চুরি করবে?
উঃ- এনার্জি


খ.) দেবদীপ দার থেকে কী চুরি করবে?
উঃ- বিনয়




গ.) নচিকেতা দার কাছ থেকে কি চুরি করবে?
উঃ- মিশি নি, তাই বলতে পারব না।



[পছন্দে কিংশুক]








১.) প্রিয় গান?
উঃ- গান মাত্রই প্রিয়

২.) প্রিয় শহর?
উঃ- আমার শহর

৩.) প্রিয় রঙ?
উঃ- নীল

৪.) প্রিয় মানুষ?
উঃ-মানুষ মাত্রই প্রিয়

৫.) প্রিয় কবি?
উঃ-কবি মাত্রই প্রিয়

৬.) প্রিয় নব অভিনেতা?
উঃ-অনেকের কাজ-ই ভাল লাগে, কোন একজনের নাম বলা সম্ভব নয়।

৭.) ভোতকা নাকি IB?
উঃ-মেজাজ মাফিক

৮.) আপনি কিংশুক চট্টোপাধ্যায়কে চেনেন যিনি গান লেখেন? যদি চেনেন তাহলে বলুন তাঁর লেখা কোন গানটা আপনার প্রিয়। ( তোমাকে একজন পাঠক হিসেবে এই প্রশ্ন করা হলো আর তার উত্তর আমরা শুনতে চাই এখানে তুমি লিরিকিস্ট বা কবি নও, এখানে তুমি শুধু কিংশুক চট্টোপাধ্যায় )

উঃ- না, চিনি না, নামটা কোথাও শুনেছি বলে মনে হচ্ছে। ওনার কোন গান বললে হয়তো বুঝতে পারব।






"কেউ কথা রাখেনি"----শিল্পী কনীনিকা



 সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কেউ কথা রাখেনি

কন্ঠে আমন্ত্রিত  শিল্পী কনীনিকা

জলফড়িং এর কফিকথায় রেজমান


"বুক বাজিয়ে ব্যবসাদার বলো বরং"

এই কথা, এই সাহস যার
আজ সেই কবি আমাদের সাথে। প্রথমবার জলফড়িং এর কফিকথাতে কবি রেজমান

 রেজমান দা জলফড়িং এর পক্ষ থেকে তোমাকেই প্রথমেই জানাই নমস্কার এবং শুভ সন্ধ্যা।

রেজমানঃ- ভালোবাসা নিও




| আমার তো মনে হয় সেদিনের রেজমান আর আজকের রেজমান একই আছে, কিচ্ছু বদলায় নি তেমন |



২.) প্রথমে লেখালেখির শুরুটা যদি একটু বলো?

উঃ-স্কুলজীবনের শেষের দিক থেকেই  লিখতাম টুকটাক। কঠিন কঠিন শব্দ দিয়ে পাকামো মেরে ওই একপ্রকার লোক হাসানোর মতোই৷ তার পর দুম করে সবকিছু বন্ধ। কখনও মনেও হয়নি আমার লেখা উচিত বা এবার লেখা যাক। তখন পড়তে খুব ভালোবাসি। ফেসবুকের টাইমলাইন, পিডিএফ, বই, ম্যাগাজিন হাতের কাছে যা পাচ্ছি তাই নিয়ে পড়ছি৷ বেশ মজা লাগতো। কখনও মনে হত, ইস এমন একটা লেখা যদি আমিও লিখতে পারতাম! আফসোস হত। তার বহু পরে হঠাৎ একদিন একটা ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে ইচ্ছে হয়েছিল খুব, ইচ্ছে হয়েছিল দু'লাইন লিখি। সেখান থেকেই হঠাৎ করে সব ওলট-পালট হয়ে গেল। তারপর আর ঘুরে তাকাইনি 😃

৩.) প্রথম ফেসবুকে কবিতা পোস্ট তারপর সেদিনের রেজমান কি বুঝতে পেরেছিল আজকের রেজমানকে?

উঃ-আমার তো মনে হয় সেদিনের রেজমান আর আজকের রেজমান একই আছে, কিচ্ছু বদলায় নি তেমন। বয়স আর অভিজ্ঞতা  বেড়েছে শুধু একটু 😃

৪.) রেজমান সব ধরনের কবিতা লেখে  অন্তঃমিল বা গদ্য কবিতা।
তোমার নিজের সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে কোন ধরনের কবিতা লিখতে।

উঃ-এটা খুব চাপের প্রশ্ন। আসলে কবিতা ব্যাপারটাই আমার ভীষণ প্রিয়৷ স্টাইল বা ফরম্যাট যাই হোক, লিখতে পারলেই ভীষণ ভালো লাগে।

৫.) এখন বেশির ভাগটাই ফেসবুক কেন্দ্রিক তো সেখানে দাঁড়িয়ে কখনও এরকম হয়েছে তোমার সাথে, যে তুমি একধরনের বিষয় নিয়ে লিখতে চাইছ অথচ লিখলে না  তার কারণ হচ্ছে তুমি জানো যে এই বিষয়টা নিয়ে লিখলে পাঠক পড়বে না বা পাঠকের কাছে কঠিন হয়ে যাবে।

উঃ-বিশ্বাস করো পাঠক কী পড়তে চাইছে বা খাচ্ছে এটা জানতে পারলে সত্যিই খুব ভালো হত, তাহলে অন্তত নিজেকে আজ অর্থনৈতিক ভাবে বেকার ভাবতে হত না। পাঠকের মনের মতো করেই সব লিখতাম। ব্যাস, লাইক-শেয়ার-কমেন্ট, বই হিট। টাকার জন্য ভাবতে হত না। 😃

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটা হয়ে ওঠে না।

৬.) কবিতা অনেক বেশি সহজ হয়ে যাচ্ছে মানুষের কাছে, এটা গানের ক্ষেত্রেও হচ্ছে। যে খুব সহজ ভাষায় শুধু ভাষা না সহজ কথায় কবিতা লিখলে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে।
এখন আমার প্রশ্ন তুমি একজন পাঠক, তুমি কি কবিতা সহজ হোক এটা চাইছ?
আর তুমি একজন কবি, তুমি কবিতা সহজ হোক চাইছ? দুই জায়গা থেকেই উত্তর দাও।

উঃ-পাঠক হিসেবে আমি সবসময় চাইবো কবিতা সহজ হোক। কবিতা সবার হোক। কিন্তু লেখক হিসেবে আমার মনে হয় শুধুমাত্র সহজ ভাষা বা সহজ বিষয় হলেই কবিতা সহজ হবে এমনটা নয়। কবিতা তখনই সহজ যখন সেটা পাঠককে ছুঁয়ে যাবে। পাঠক সহজে রিলেট করতে পারবে। কবিতার সহজ-কঠিন নির্ভর করে ওই পাঠকের বোধগম্যের উপরেই। কিন্তু আমার মনে হয় এখনকার বেশিরভাগ পাঠকের বোধ বা দর্শন বা চিন্তা-ভাবনা বড্ড ভাসা ভাসা হয়ে যাচ্ছে৷ এখনকার বেশিরভাগ পাঠক খুব একটা তলিয়ে ভাবে না। এটা খুব ব্যক্তিগত মতামত যদিও।





| এসব টেকনিক্যাল ব্যাপার বড়ো কম বুঝি |






৭.) কবিতা হিট হবে পিরিয়ড থাকলে, কবিতা হিট হবে হিন্দু-মুসলিম মিশে গেলে এটা কিন্তু প্রায় দেখা যায় ফেসবুকে।
এ বিষয়ে কবি রেজমানের বক্তব্য।

উঃ-কবিতা বা যেকোনও শিল্পেরই উচিত সময়ের কথা বলা। এই সময় যদি পিরিয়ড বা হিন্দু-মুসলিম নিয়ে লেখা দাবী করে তাহলে তা নিয়ে অবশ্যই লেখা উচিত। এটা নিয়ে আমরা বলার কেউই নয়।

সুদীপ্তঃ- আচ্ছা বেশ চলো এবার চুমুক দিই কফিতে।

রেজমানঃ- বেশ

সুদীপ্তঃ-চুমুক দিতে দিতেই জেনে নেওয়া যাক তোমার স্কুল জীবন, কলেজ জীবন আর এখন কি করছ।

রেজমানঃ-স্কুলজীবন বলতে আমার পুরোটাই কেটেছে হোস্টেলে৷ তারপর জার্নালিজম & মাস কমিউনিকেশন নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করি৷ পরে ফিল্ম & টেলিভিশন নিয়ে ডিপ্লোমাতে ভর্তি হই। বেশ কয়েকমাস ক্লাসও করেছি। পরে আর কন্টিনিউ করা হয়নি। এখন আপাতত আদ্যপ্রান্ত বেকার 😃

৮.) বইমেলায় রেজমানের বই থাকেই, বিক্রিও হয় চরমে।
এই বিক্রির ব্যাপারটাই প্রকাশকের ভূমিকা কতটা নাকি এমন ব্যাপার যে তুমি যেখানেই বই করবে সেখান থেকে একই রকম পাঠক তোমার বই কিনবে?

উঃ-বই বিক্রির ব্যাপারে কার ভূমিকা থাকে সত্যিই আমার জানা নেই৷ তবে বইয়ের প্রতি প্রকাশকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এবং বইয়ের ছাপা থেকে বাঁধাই হয়ে বইমেলার মাঠ অবধি বুলবুল দা'র(প্রকাশক) ভূমিকা আমি কোনওভাবেই অস্বীকার করতে পারব না। এছাড়াও জয় দা, তৌসিফ দা, চিন্টু দা, সৌমী দি, সায়ন্তী প্রত্যেকের অবদান অনস্বীকার্য।

৯.) ধরো X ফেসবুকে পপুলার কবি, কিভাবে বিচার করছে রেজমান যে এই  X ফেসবুকে পপুলার কবি?

উঃ-জনপ্রিয়তা সবসময় নির্ভর করে তুমি কতটা বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছো তার উপরে। এ তো সহজ হিসেব৷ কিন্তু জনপ্রিয়তার সঙ্গে গুণগত মানের কোনও সম্পর্ক নেই। খুব জনপ্রিয় কবি খুব খারাপ লেখা লেখে এমনটা হতেই পারে। আবার উল্টোটাও হয়। জনপ্রিয়তা নেই অথচ দারুণ লেখে।

১০.) হ্যাঁ তুমি যেটা বললে, এখন অনেক সময় দেখা যায় একজন আরেকজনের চেয়ে ভালো লেখে অথচ সে ঠিকঠাক রিচিং পায় না। এটা কেন হয়?

উঃ- মানুষের কাছে রীচ করার জন্য অনেককিছু মেন্টেন করতে হয়, সেগুলো হয়তো তারা সেভাবে মেন্টেন করে না। এছাড়াও এটা অনেককিছুর উপর ডিপেন্ড করে। এসব টেকনিক্যাল ব্যাপার বড়ো কম বুঝি 😃

সুদীপ্তঃ- এই প্রশ্নে কবি কি কোথাও এড়িয়ে গেল?

রেজমানঃ- এমনিই শত্রু বাড়ছে, আরও বাড়ুক চাই না 😃

১১.) মানুষের হাতে সময় কম তাই ইদানিং দেখছি দুই লাইনের লেখার প্রচলন বেড়েছে তবে তা অন্ত্যমিলের হলেই ভালো হয় এমনটাই দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ভালো ভাবে লক্ষ করলে দেখা যাবে কবি রেজমান দুইলাইনের লেখা কম লেখে তাহলে তোমার কি কোথাও মনে হচ্ছে তুমি পিছিয়ে পরছো।

উঃ- আমি দু'লাইন বা কাপ্লেট লিখতে পারি না খুব একটা। অক্ষমতা বলতে পারো। তাই লিখি না তেমন। কিন্তু অদ্ভুতভাবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই বইমেলায় আমার একটা কাপ্লেটের বই আসছে। আর দ্বিতীয়ত পিছিয়ে পড়ার কোনও গল্পই নেই কারণ আমার কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই কারও সঙ্গে। আমার মনে হয়, শিল্পে প্রতিযোগিতা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ব্যাপারটা ঠিক মানায় না।

১২.) তুমি কি বিশ্বাস করো গানের কাছে কবিতা বরাবরই পিছিয়ে?
যদি  বলো  না তাহলে বলো যতজন মানুষ গান শোনে ততজন মানুষ কবিতা শোনে বা পড়ে?

আর যদি বলো হ্যাঁ তাহলে তার কারণটাও তোমাকেই বলতে হবে?

উঃ-গানের পরিসর অনেক বেশি। গানের পেছনে অনেকটা অর্থ লগ্নি করা হয়। টিভি-মিডিয়ার প্রচার থাকে। আলাদা প্রোমোশন থাকে। সেসব দিক থেকে কবিতা সত্যিই বড়ো অসহায়৷

১৩.) এই সময়ে দাঁড়িয়ে কবিতা সস্তা, কেন বলছি, যে লেখক বা লেখিকাটি কবিতা লিখছে ফেসবুকে এবং ভালোই পৌঁছে যাচ্ছে পাঠকের কাছে তার লেখা অথচ তার একটা লেখাও এখন অবধি কোনো নাম করা পত্রিকা যেমন 'দেশ' বা 'কৃত্তিবাসে' নেই।  তাহলে তোমার কি মনে হয় আসলে সেই লেখকটি নিছকই "নামে  চলছে"?

উঃ- কৃত্তিবাস বা দেশ নামকরা প্রতিষ্ঠান এ নিয়ে কোনও দ্বিমত থাকার কথা নয়। কিন্তু  সাহিত্যের ক্ষেত্রে আল্টিমেটাম বলে তো কিছু হয় না৷ আমি দেশ বা কৃত্তিবাস কোনওটাই খুব একটা পড়ি না। আর সাধারণ পাঠক হিসেবে যেটুকু পড়েছি তা আমাকে হতাশ করেছে বরং৷ এবার কে কোথায় লিখবে বা কার লেখা কোথায় ছাপাবে কেন ছাপাবে না এসব নিয়ে আমি সাধারণ পাঠক হিসেবে কী বা বলি! আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের খোঁজ নিয়ে লাভ আছে! 😃

১৪.) পাঠকের কাছে কবিতার সাথে সাথে কবিও পছন্দের হয়।
আর কবির কাছে নির্দিষ্টভাবে কোনো পাঠক কি পছন্দের হয়।

উঃ- হ্যাঁ অবশ্যই হয়। আমার ক্ষেত্রেই হয়েছে এরকম। কত পাঠক-পাঠিকা আমার প্রিয় হয়ে উঠেছে এবং তাদের সাথে কবিতার বাইরেও একটা দারুণ সম্পর্ক হয়েছে


১৫.) জলফড়িং এর পাঠককে যদি বলতে
এবছর বইমেলায় তোমার নতুন কোনো বই আসছে কি?

উঃ- এই বইমেলায় খুব সম্ভবত আমার দুটো বই আসছে। একটা কাপলেট আর ক্যালিগ্রাফির। যেটাতে তৌসিফ দা আর আমি যৌথ ভাবে কাজ করছি।
আরেকটা আমার একক বই আসছে। এই ভুল সময়ে দাঁড়িয়ে ঘটে যাওয়া একের পর এক অন্ধকার ঘটনা নিয়ে একটা প্রতিবাদী বই। যা আমার মনে এই সময়ে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বেশি দাবী করে।

জলফড়িংঃ- জলফড়িং এর পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে তোমার বই এর জন্য থাকলো অনেক অনেক শুভেচ্ছা। তোমার লেখা ছড়িয়ে যাক পাঠকের কাছে শত থেকে শতাধিক হয়ে এই আশা রাখবো
আর আজ একটা সন্ধে জলফড়িং এর সাথে কাটানোর জন্যে অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং একগুচ্ছ ভালোবাসা নিও দাদা।
সেই সঙ্গে বলো তোমার কেমন লাগলো আজকের এই "কফিকথা"

রেজমানঃ- অসম্ভব ভালো উদ্যোগ। অনেক বেশি সফল হোক।



সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৯

"আবার আসবো ফিরে" গানের রিভিউ



 পুজো আসছে আর ঠিক পুজোর ছুটিতে এক বিলেত ফেরত রাজপুত্র শহরে ফিরেছে। ফিরেই বন্ধুদের সাথে পুজোর চাঁদা কাটতে  গিয়ে গুরুতর  বিপত্তিতে ফেলল তার চোখকে। চাঁদা কাটলো সেটা ঠিক আছে কিন্তু কাটলো কাকে এই প্রশ্নেই জড়িয়ে গেল একটা ভালোলাগা আর এক চামচ ক্রাশ খাওয়ার গল্প।

সেই ক্রাশকে দেখতেই  তার  পুজোর জন্য রিহার্সাল করা নাচের কচিং এর জানলায় উঁকি মারল ছেলেটি, ব্যস ক্রাশও জলের মতো পাতলা হয়ে হারিয়ে ফেলল নিজেকে।
তারপর চোখের কায়দা আর ঠোঁটের দু-চারটে ক্লিকে প্রেম চলল পুজো জুড়ে আর মেয়েটি চুল সরিয়ে নিয়ে উজাড় করল চাহনি আর বলতে বাধ্য হলো 'না জানি কতবার তোমায় চেয়েছি'।
আর স্বয়ং ক্রাশের মা যখন বিজয়ার সিঁদুর গালে লাগিয়ে দেয় তখন আরও দু-এক পয়েন্ট বেড়ে যায় সাহসের কিন্তু সাহস বাড়লে কি হবে পুজোর দিন স্বাভাবিক ভাবেই শেষ এবার ফিরতে হবে সেই বিদেশের পথে। ফেরার পথেই ভেজা ভেজা চোখ যখন দেখে পেরিয়ে যাওয়া হলুদ ট্যাক্সি  ব্যাক করছে এবং ট্যাক্সি থেকে নেমে আসা ছেলেটি তার সাথে কথা বলব বলেই নেমে এলো আর বলে গেলো  'বছর ঘুরে আবার আসব ফিরে' তখন কে আর না বলে থাকতে পারে 'আমি অপেক্ষায় থাকব'।



এরকম একটা চকচকে গল্প তৈরী করেছে কিছু তরুণ তুর্কির দল



তাই দেরি  না করে আপনার পুজোর অ্যালবমের মধ্যে এই গানটিকেও রাখতে পারেন লিস্টে।

" আবার আসবো ফিরে

পরিচালনা ও ভাবনা:- অর্পণ বসাক
নায়ক:- সুপ্রতিম সাহা
নবাগতা নায়িকা:- শ্রীতমা কর্মকার
গায়ক গীতিকার ও সুরকার:- পীযূষ দাস।

শুনতে ক্লিক করুন নীচের লিঙ্কে
https://youtu.be/_TskvNYY-yI












রিভিউ কলমঃ- সুদীপ্ত সেন
 ( ডট.পেন)
( FOUNDER OF JOLFHORING WEB MAGAZIN) 



শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৯

জলফড়িং শারদ সংখ্যা




অনুগল্প


ব্ল্যাকফরেষ্ট

নমিতা পাল


গত আট মাস ধরে অপমানের ঘা টা আজও দগ দগ করছে। পারিবারিক অবস্থা ভালো নয়, তবে একাডেমিক রেজাল্ট বেশ ভালো আর পিউকেও অঙ্কটা ভালোই করায়, সেই সুবাদে এই কলেজে পার্টটাইমার হিসাবে চাকরিটা করে দেওয়া। তারপরও ক্লাসরুম থেকে বেরনোর সময় আচমকা ধাক্কা লাগায় স্টাফরুমে সে দিন কমলিকা যেভাবে অপমান করেছিল যেন তাকে রেপড করা হয়েছে। আজ কলেজে পৌঁছে সি.সি. টিভি সিস্টেমর সমস্যা জানতে পেরেই মাথার মধ্যের শয়তানটা নড়ে ওঠে কেমিস্ট্রির সিনিয়র প্রফেসর সায়ন্তন বসু মল্লিকের। সে দিন বিনা কারণে যে দোষ গায়ে মেখেছিলেন নিঃশব্দে তার প্রতিশোধ নেওয়ার আজকের মত ভালো সুযোগকে হাতছাড়া হতে দেওয়া যাবেনা। ল্যান্ড লাইন থেকে একটা ফোন যায় শুধু। তারপর সোজা ল্যাবে চলে যান। দীর্ঘ অপেক্ষা। ওইতো ল্যাবের দরজা ঢেলে এক নারী ছায়া মূর্তি ভিতরে ঠুকছে। এমন সময় সেলফোনের মেসেজ টোন বেজে ওঠে। তড়িঘড়ি সেলফোনের সুইচটা অফ করেই ক্ষিপ্র বেগে এগিয়ে যান শিকারের দিকে। আলো বন্ধ করে সবকিছু গুছিয়েই রেখেছিলেন, বাগে আনতে কয়েক মিনিট। একটু গোঙানি তারপর নিজের পাশবিক উপস্থাপন, আরও কিছুক্ষণ পর সব স্তব্ধ।  প্রাণে মারতে চাননি, কিন্তু শেষ মুহূর্তে আর অন্য উপায় ছিলনা। একটু টেনশন হলেও হাতের গ্লাভস্ খুলে ফাঁকা করিডর ধরে দ্রুত সিঁড়ির দিকে যেতে যেতে এক তৃপ্তির হাসি ছড়িয়ে পড়ে প্রফেসরের শক্ত চোয়ালে। জুনিয়রের অপমানের স্থায়ী আবসান। নিজের সামাজিক আর আর্থিক ক্ষমতার জোরে মার্ডার কেস সামলে নেবেন, বাকি রইলো শুধু মৃতের আত্মার শান্তি কামনায় মোমবাতি মিছিলে হাঁটা।


সোফায় গা এলিয়ে সেল ফোন অন করতেই কমলিকার মেসেজে চোখ আটকে যায়, 'সরি স্যার, কলেজে যাওয়ার সময় স্কুটিতে অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। রাস্তাতে পিউকে পেয়ে ওকে দিয়েই বইদুটি পাঠিয়ে দিলাম।' মেয়েলি সুগন্ধি, হাইড্রোজেন সালফাইড, সালফিউরিক অ্যাসিড, মিথেন .... মোমবাতির আবছা আলোয় পুড়ে শুধুমাত্র টাটকা রক্তের আঁশটে গন্ধ ছুটে আসছে সায়ন্তনের দিকে।


রমলার গলা ভেসে আসে - 'ব্ল্যাকফরেষ্টে ক্রিম আর চকোলেটের পরিমাণটা বেশীই দিয়েছেনতো দাদা! মেয়ের আবার চকোলেট খুব পছন্দ। হ্যাঁ দাদা নাম ইংরেজীতেই লিখবেন - পিউ,  ১৫ বছর। ওর বাবা  সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ যাবেন, কেক যেন রেডি থাকে।'



নমিতা পাল




                         " তবুও"

                             মানবেন্দ্র নাথ মাজী।


অনন্ত আকাশে রোদ নিয়ে খেলা করো কত

শব্দের মিছিলেও এসে লাগে তার ছটা,

ভালোবেসে যাও তবু ভালোবাসা নাই বা পেতে পারো

খেদ নিয়ে জটলা-গুলি মারো হা-হুতাশ

ছুঁড়ে ফেলো একই কথার কচলানো বুলি।


আমারি আঙিনা জুড়ে কত রঙেরই মেলা

মাঝে মাঝে চোখ মুখ ঢুকে বেরিয়ে আসে আগুন--

স্মৃতির কষা পাথরের ঘায়;

জনান্তিকে বলো তুমি--ভালোবাসার কারখানায়

রেডিমেড সব মনোহারী দ্রব্য;

বিলীন শূণ্যতায় অসীমের আস্ফালন।


এত যন্ত্রনা তথাপি হৃদয়ের অরণ্যে, তোমায়

বুঝতে দেইনি কখনও।







                            পুজোর ছুটি

                          নাজমীন মন্ডল


কাল থেকে কলেজে পুজোর ছুটি পরে যাবে দেবেশের। হঠাৎ করেই ছোটবেলার পুজোর ছুটির দিনগুলো হুড়মুড় করে মনে পড়ে গেলো দেবেশের। মায়ের হাতে লাগানো শিউলিগাছটায় ফুল ফুটতো। সকালবেলা সারা উঠোনে শিউলি ফুল ছড়িয়ে থাকতো। রাস্তার ধারের কাশফুল গুলোকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে স্কুল যেতো সে।

 এলাকার মধ্যে তাদের গ্রামের দুর্গা পুজো সবথেকে সমারোহে হয়। তার বাবা স্বয়ং সেই দুর্গা প্রতিমা তৈরী করতেন। পুজোর সময় তার বাবার কদর অনেক বেড়ে যেতো। ব্যস্ততার গর্বে তার চোখেমুখে এক অনির্বচনীয় প্রশান্তি ছড়িয়ে থাকতো। পুজো যত কাছে আসতো তার বাবার ব্যস্ততার সঙ্গে সঙ্গে দেবেশের উত্তেজনাও বেড়ে চলতো। অবাক চোখে দেখতো কীভাবে বাবা প্রতিমার চক্ষুদান করছেন, পায়ে আলতা পরাচ্ছেন, গয়না পরাচ্ছেন, হাতে একটার পর একটা অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন। বাবা তার উত্তরসূরিকে একটু একটু করে শেখাতো, নানারকম গল্প শোনাতো। তারপর অপেক্ষা শেষে পুজো  চলেই আসতো। গোটা গ্রাম আনন্দের জোৎস্নায় ভেসে যেতো। নিমেষে সেই পুজো শেষও হয়ে যেতো। পুজোর পরের দিনগুলোও কেটে যেতো পুজোর দিনগুলোর গল্পে, স্মৃতিচারণে।


আঠারোটা বসন্ত পুজোর ছুটিগুলো নির্বিঘ্নে কেটেছিলো। জীবনে অভাব ছিলো, দুঃখ ছিলো তবু দুশ্চিন্তা ছিলোনা। হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে বাবা মারা গেলো। এরপর থেকে প্রতিবছর পুজো আসে পুজোর ছুটি আসে কিন্তু আগের মতো আর আসেনা। বাড়িতে শোকস্তব্ধ মা, ছোট বোনের দায়িত্ব তার কাঁধে। এই গ্রামের পুজোর দুর্গা ঠাকুর তার বাবা বানাতেন, উত্তরাধিকার সূত্রে সে সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলো। তার বাবা একটু একটু করে নিজের হাতে তাকে শিখিয়েছে সবকিছু। বাবার মতোই উত্তরাধিকার সূত্রে সে পেয়েছে প্রতিভা। এতোকিছুর পরেও পড়াশোনাটা ছাড়েনি সে। টিউশন নিতে পারেনি তাই কলেজের ক্লাসগুলোই ভরসা তার। এজন্য অনেক কাজ বাকি থেকে যায়। পুজোর ছুটি পরলে একমুহূর্ত বসার সময় পায়না সে। ষষ্ঠী এলে সব কাজ সারা হয় তখন একটু স্বস্তি পায় সে। লক্ষ্মীপুজোর জন্য বেশ কয়েকটা প্রতিমার অর্ডার থাকে, পুজোর দিনগুলোয় তারই  বাকি কাজগুলো সারতে হয়। এভাবেই পুজোর ছুটিগুলো ব্যস্ততাতেই কেটে যায়। পুজো আসে, ছুটি আসেনা। তার বাবাকেও সে দেখেছে এই পুজোর সময়টাতে ভীষণ ব্যস্ত থাকতে। কিন্তু সেই ব্যস্ততার মধ্যে এক অদ্ভুত পরিতৃপ্তি ছিলো। তার মধ্যেও  হয়তো আছে সেই পরিতৃপ্তি। তবু বারবার মনে হয় বাবা থাকলে বেশ হতো। তাকে সাহায্য  করতে না পারুক শুধু দেখতো তার  কাজ। মাঝেমাঝে ভুল ধরতো। সবাই দেবেশের প্রশংসা করে বলে "তোমার কিন্তু হাত আছে, বাবার মতো।" বাবা শুনলে হয়তো তার চোখ চিকচিক করতো, হয়তো বা দু একফোঁটা জল ঝরেও পড়তো। বাবা শুধুমাত্র দর্শক হিসাবে থাকলেও হয়তো কাজ থাকতো, দায়িত্ব থাকতো না। হয়তো পরিশ্রম হতো, ক্লান্তি থাকতো না। পুজোর ছুটিগুলো সেই যে হারিয়ে গেলো আর ফিরে এলো না।




অর্জিত অন্ধকার

বিশ্বজিৎ মণ্ডল



রিখটার স্কেলে ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে,মাত্রা....


তামাম ভূমিপথ ভাঙতে ভাঙতে গড়িয়ে যাচ্ছি___

                                        মেধাবী পৃথিবীর দিকে

কখনও উষ্ণীষ খুলে বলিনি,উর্বী জয়ের গল্প

কেবল দেখেছি,পরিযায়ী পাখিদের মত অসময়ে

তোমার চলে যাওয়া...


শেষ বিকেলে অশুভ নক্ষত্রপাতের আর্তনাদে

তোমার শালীন কন্দরে মুছে যাওয়া...


—————————***————————————


কবিতা:

//'প্রেম' - কবিতা নয় //


”'প্রেম' কে কবিতা ভেবে ভুল করেছিস স্নিগ্ধা।

প্রেম টা একটা আভিজাত্য বিষয়, যেখানে-

প্রয়োজনে মাথা নীচেও রাখা যায়।

আর কবিতা হল মনের ভাবনা।

তুই কতখানি তোর ভাবনার বিস্তার ঘটাবি

সেটা পাঠক দেখবে'"।

একটু জ্ঞানের সুরেই কথাগুলো বলছিল অরিন্দম।


পালানো প্রেমের দৃশ্যে স্নিগ্ধা তখন বিহ্বল।

” স্নিগ্ধা তুই কিন্ত ভুল করছিস।

 একটা নিছক প্রেম ষড়রিপুর বাইরে নয়,

নাটকীয়তায় মোড়া প্রেম আসলে বর্ষার দামোদর।

হ্যাঁ, কিছু স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়”।


স্নিগ্ধা অভিধান দেখে 'ষড়রিপুর' জ্ঞান অর্জন,

করে, আর বলে - "পরের টা দেখে নিস,

অরিন্দম, রবীন্দ্রনাথ কে গুলে খেলাম।

তবে কবিতাটা যদি প্রেম

তুহিন চক্রবর্তী



নিঃসঙ্গ শহুরে নাগরিক

রাবাত রেজা নূর



সোডিয়াম বাতির নিচে জমা হয় গান; পিঙ্গলা আকাশের নিচে হেটে চলে এক নিঃসঙ্গ শহুরে নাগরিক। চোখ নীল।

আস্তিনের নিচে রাতের বেলায়ও দিনের আলোর মত বিজলী বাতির গল্প বেশুমার।


নিঃসঙ্গ শহুরে নাগরিক বসে থাকে সদর ঘাটে; অন্ধকারের মুখোমুখি।

হাতে আঁধপোড়া সিগারেট ক্ষয়ে এসে বেমালুম আঙ্গুল পোড়ায়

সম্বিত ফিরে এলে ভাবে ওপারে কেরানীগঞ্জ

জেলখানাটা দেহের ভেতর।

হাওয়া বয় বুড়িগঙ্গায়; টিমটিমে লন্ঠনের বুক থেকে বেরোয় হাহুতাশ।



রমনার বেঞ্চিতে চিৎ হয়ে আকাশ দেখে নিঃসঙ্গ শহুরে নাগরিক।

পকেটের ছেড়া নোট ভিজে যায় পঁচা আঙুলের ঘামে।

নিঃসঙ্গ শহুরে নাগরিক ভাবে যদি রমনায় কেটে দেওয়া যেতো তিনটে দুপুর। সিগারেটের বক্স থেকে বেরোয় শেষ সিগারেট।

ধোয়ার রিং মিশে যায় কৃষ্ণচূড়ার অক্সিজেনের সাথে। গল্পের পকেট তখনও ভরপুর।




নিঃসঙ্গ শহুরে নাগরিক ফিরে আসে জহু হলের পুকুর পাড়ে।

একটা ঘুঘু ভীষণ ডাকে। পুকুরে খেলা করে শহুরে পুঁটির ঝাঁক।


নিঃসঙ্গ শহুরে নাগরিকের গল্প শোনে না কেউ; পুকুরে ঢেউ ওঠে সহজ সরল।

প্রতিদিন এই শহরের অলি গলিতে নিঃসঙ্গ শহুরে নাগরিকের গল্প জমে বিস্তর।

কিন্তু সেই গল্প শোনার মানুষ কই?




রাবাত রেজা নূর









___উমা এলো ঘরে

           সুনন্দ মন্ডল


     লাল আলোর সংকেত,

     ভাঙা চালায় খেজুরে আলাপ

     ‎মিষ্টতা কাশ ফুলের নাকছাবিতে...


    সুগন্ধ ওই কোণের শ্যাওলা ভেঙে

    ‎মহল্লায় সুর বেঁধেছে কানা মুনি

    ‎গলির বুকে আল্পনা

    ‎মহালয়ার ভোর।



    উমা নাকি এলো ঘরে

    ‎মাটির প্রদীপে জ্বলবে আলো

    ‎নাকি জ্বলবে মাটির বুক!

    ‎       



             -------------









দুটি কবিতা

রথীন পার্থ মণ্ডল


১. পুজোর খবর


শারদ রানি আসবে জানি

ঢাকের বাদ‍্যি বাজে,

পেঁজা তুলোর মেঘগুলো সব

চলছে শুভ্র সাজে।


হঠাৎ দেখি ঝর্না ধারায়

বৃষ্টি নেমে এলো,

সারা বছরের আবর্জনা

ধুইয়ে দিয়ে গেল।


সূয‍্যিমামা রূপোলি জামা

পড়ায় সবার গায়,

কাশ ফুলেরা দিচ্ছে সাড়া

মাঠের ডায়ে বায়।


সকালবেলায় শিউলি ঝরায়

গন্ধে সুবাস যাতে,

শারদ রানির ষষ্ঠী পূজা

শুরু হবে প্রাতে।


২. শারদীয়া


মেঘমুক্ত নীল আকাশে

ঝলমলে এক রবি,

কাশ-শিউলি-পদ্মফুলে

মহালয়ার ছবি।


সবার সাথে খুশিতে মেতে

শারদীয়া সাজে,

শঙ্খ-সানাই-ঢাকের তালে

আগমনী বাজে।


আরো আছে, শিশিরকণা

মিষ্টি হিমেল হাওয়া,

গভীর রাতে ফুল তুলতে
কোথাও হারিয়ে যাওয়া



                         

           

             



প্রতিক্ষা

সমরেশ পর্বত


আজ, তুমি আসবে বলে

আজ জমা হয়ে আছে কতো

সারা পৃথিবীর জংজাল ধুলো ময়লা।

তোমার অপেক্ষায় দিন

গুনতে  গুনতে...অবশেষে

আজ বড়ো ক্ল্যান্ত সবাই

এ শহর, এ গ্রাম বাংলা।

রস কস হীন আজ

ভরা নদী বাঁকা নদী

যতো শুখনো খাল বিল,

চারিদিকে মাটি ফাটা

বন্ধ ইট ভাঁটা

শুখিয়েছে বড়ো ঝিল।

চাতক আর চায় নাকো

শুধুই ভাষা মেঘ আকাশে,

ডানামেলে উঁড়ে যায়

কয়ে যায় বাতাসে।

বৃষ্টি এখন হচ্ছেনা বন্ধু

মেঘ দিয়েছে পাড়ি,

মেঘের বুকে যাচ্ছে ভেসে

বৃষ্টি শশুড় বাড়ি ।








এই জয়

লক্ষ্মী কান্ত মণ্ডল


গায়ে মাখলাম শিরীষফুল, বাতাসের ঝাপটায়

নিজের বেসুরো যন্ত্রগুলো খুলে দিচ্ছে

জীর্ণ বাড়ির প্রত্যেকটা প্রহর, যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা চলছে-

রাতে তৃষ্ণার আধার ধরতেই মেঘ বলল --

আকাশ তার ঈশ্বর, সে পায়েস রান্না করে

কোন এক গৌতমের জন্য

তখন নয়নতারার টবটা পড়ে গিয়ে ভেঙে যায়

আমি সেই দিকে তাকিয়ে রাতের নিরাময় খুঁজি-

কলসি ভাঙে

মগ্ন রসিদ খান


অন্ধকারের অস্থিগুলো মেঘ স্তর ভাঙতে ভাঙতে

নিজেই চুরমার হয়ে যায়--



কুয়াশাকাল

ল ক্ষ্মী কা ন্ত ম ণ্ড ল


আকাশের রাতের দিকে তাকাই, অন্ধকার

থেকে চুঁইয়ে আসে জল; কনা কনা রক্তের

মুহূর্ত থেকে সুখ দুঃখের অতীত - তারা হয়ে

ফুটছে পলিমাটির মতো, সেই উর্বরতাটুকু

বুঝতেই পুনর্জন্মেরর কাছে হাত পাতি পথে

ধুসর দিগন্তরেখা জুড়ে কালোস্রোত -

আমার পায়েচলা পথে অনাবিল বাতাস

কে নেবে এই প্রাণের নিঃশ্বাস?


কার যেন আঁচল উড়তে উড়তে মিশে যায় শঙ্খচিলে

রাতের কুয়াশা জড়িয়ে আসে বুকে -

শীতবোধের পাতাগুলি জ্যোৎস্না ঝাড়তে থাকে; অবিরত

.

•প্রেমিকা সমাপতন•


হঠাৎ করে কেউ 'মনখারাপি' উপহার দেয় না আজকাল

খরস্রোতা তিস্তা জলপাহাড় পেরিয়ে, এখন রঙ্গিতের সহচরী

সামলে নেওয়ার মতো দীর্ঘশ্বাসে আজ কেবল 'ভালো আছি'-র চিঠি ;

কক্ষচ্যুত গ্রহের মতো কখনও সখনও, আমাকেও মনে করো শুনলাম...


তবে শরীরের রিডে আর মরসুমি প্রেম বাজেনা,

অঝোর বৃষ্টিতে উষ্ণতা খোঁজা দুটো অবয়ব, এখন বিষ কৃষ্ণচূড়া পুঁতেছে।

জামার কলার, ক্যাপুচিনো ঠোঁট - সব কেমন স্মৃতির দোয়াত!

তাই, আবেগ বেচে আমিও বেশ নাম কিনেছি।


তবে, আমাদের ভালোবাসাটা মিথ্যে ছিল না, আর স্পর্শগুলোও নয়...

বিভাজিকা ছুঁয়ে যেদিন বলেছিলে, "তোর হলাম" ;

সেদিন আমার গহ্বর জুড়ে শ্বেত মালতী ফুটেছিল!

তুমি বলেছিলে, একদিন বেগুনি ফুলে সাজিয়ে দেবে আমায়

কিন্তু জীবনানন্দের মতো প্রেমিক আর হলে কই, যে বনলতা হব?


ক্রিসমাসের শেষ ক্যারোল হয়তো গাওয়া হবে না একসাথে,

রডোডেনড্রনের ভিড়ে আরও একটা, প্রেমিকা সমাপতনের গল্প থাকবে কেবল...

তাই, হারিয়ে যাওয়ার ঠিকানায় পাহাড়ই রাখলাম, আর কেয়ার অফে তিস্তা।।

©তিয়াসা দত্ত



              দাগ

             চিত্তরঞ্জন গিরি


কেন ওরা অকারণে দাগ দিয়ে দেয়

খুব অল্প সময় ওরা নিজের মতো নদ নদী পাহাড় মরুভূমি সাজিয়ে নিজেদের মতো একটা পৃথিবী তৈরি করে

বেতারের তারে - ভিত্তিহীন সংবাদ ভাসিয়ে দেয়

এ ও এক আগুন! মুখরোচক ও রসালো -দাউ দাউ করে ছড়িয়ে পড়ে।

মাটির কাছাকাছি আর মাটিতে মিশে যাওয়া এক নয়

শাশ্বত সূর্যকে যতই মেঘ ঢেকে রাখুক

তবুও তা তাৎক্ষণিক!

আঁধার ,তোমার স্বেচ্ছাচারিতা তোমারই ব্যর্থ অহংকার !

সূর্যকিরণ -সময়ের স্রোতে দেখায় তার উজ্জ্বল মুখ।

গ্রীষ্মের দাবদাহ সয়ে যাচ্ছি

শুধু অপেক্ষা -কালবেলার উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষমতা অর্জন!

ওরা দেখুক, কোন এক বরষায় সুপ্ত বীজ ,অঙ্কুরোদগম পেয়ে ,দূষণের দাগগুলো ওদেরই পৃথিবীকে করছে একদিন অনবরত বর্জন ।















অণুগল্প  •••  দুঃস্বপ্ন
লেখক   •••  শংকর ব্রহ্ম
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
"   ভালবেসে যদি তুমি কষ্ট নাহি পাও
তবে সেটা ভালবাসা কিনা,
                      মনে আগে জেনে নাও। "                                               
রাত বারটার পর শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা, নিয়েই ফেলল অধ্যাপক বিনোদ মজুমদার।
না আর নয়।  অনেক হয়েছে। অণিমা রায় তার মেয়ের মত | তবু তাকে ছাড়া বাঁচবে না সে |
বিচার বুদ্ধি হারিয়ে, এতটা ভালবেসে ফেলেছে সে তার ছাত্রীকে ।
          রাত এখন গভীর। কুকুরগুলো ডাকতে ঝিমিয়ে পড়েছে। হয়তো ঘুমিয়েও পড়ছে। জে নেই কেউ।
                ফ্যান থেকে ফাঁসটা ঝুলিয়ে গলায় পরানোই আছে। শুধু টুলটা একটু পা দিয়ে ঠেলে দিলেই হল। এত ভালবেসেছে অণুকে এখন তার মরণ ছাড়া আর কোন গতি নেই।
          কৃষ্ণও তো রাধাকে ভালবেসে ছিল।রাধা সম্পর্কে কৃষ্ণের মামী হত। আর বয়সের ব্যবধানও তাদের মধ্যে খুব একটা কম ছিল না।  তাদের প্রেম নিয়ে কত অমর কাব্য লেখা হয়েছে যুগে যুগে। তাদেরটা ছিল লীলা।  আর আমি মেয়ের বয়সী কারও সাথে প্রেম করলে সেটা
হয়ে যায় বিলা। মনে মনে ভাবল সে। কি বিচার এই পঙ্গু সমাজ ব্যবস্থার।
টুলটা পায়ের ধাক্কায় ঠেলে দেবে এমন সময় আচমকা ঘরে ঢুকল কে যেন। চমকে উঠল সে।
_  কে ?
_  আমি তোমার বিবেক
_  কি চাই তোমার ?  কেন  এসেছো এখানে?
_  তোমাকে সাহায্য করতে
_  কি ভাবে ?
_   টুলটা আমি সরিয়ে নিচ্ছি, তোমার আর কষ্ট করে টুলটা সরাতে হবে না।
_  না   না   না
     চেচিয়ে  উঠল বিনোদ।
  অণু আমাকে এবারের মত বাঁচাও |
  বাঁচাও প্লীজ  •••
_   কেউ তোমাকে বাঁচাতে পারবে না।
অণিমা এখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কাল সকালে উঠে খবরটা শুনবে।
কিম্বা খবরের কাগজের হেড লাইনে দেখবে
--একটি আত্মহত্যা আর অনেক জল্পনা--   
আঁতকে উঠল সে | হঠাৎ তার ঘুমটা ভেঙে
গেল। গলা শুকিয়ে কাঠ। সারা শরীর ঘামে ভিজে,চপচপ করছে। বিছানা ছেড়ে উঠে এসে,এক বোতল জল ঢকঢক করে খেল সে।
জীবনে বাঁচার যে এত স্বাদ, এত আনন্দ বিনোদ আগে আর কখনো টের পায়নি। সারারাত সে আর ঘুমতে পারল না।  আবার যদি দুঃস্বপ্নটা ফিরে এসে,তাকে সত্যি করে তোলে?



অজানা টান

-----------------

শুভায়ন বসু

(৯/১৩,শর্ট রোড,এ জোন,দুর্গাপুর-৭১৩২০৪

মোবাইল-৯৪৩৪৭৯২৫৪৯)


বাপ্পা ছোটবেলা থেকেই খুব দুরন্ত,সবাই ওর দুষ্টুমিতে জেরবার ।স্কুল থেকে হাজার বার কমপ্লেন আসার পর, শেষকালে বাবা-মা পর্যন্ত ওর ব্যাপারে ভয়ঙ্কর বিরক্ত । কড়া শাসনে ওকে বেঁধে রেখেছেন। কিন্তু পড়াশোনায় ও বেশ ভাল, খেলাধুলোতে তো বটেই। এমনকি ওর চেয়ে বড়, বাড়ির অন্য সব দাদা দিদিরাও, ওর সঙ্গে কোন কিছুতেই পেরে ওঠেনা।

   সেদিন দুপুরে বাপ্পা স্কুল থেকে ফিরে, খেয়েদেয়ে, মার পাশে বসে একটা টিনটিনের পাতা উল্টাচ্ছিল। তখন চড়া রোদ, বাইরে বেরোনো মানা আছে। বাপ্পাও টিনটিনের কমিক্সেই মশগুল হয়ে গিয়েছিল।হঠাৎ ওর কেমন যেন একটা অস্বস্তি হতে লাগল। কেমন যেন একটা উশখুশ ,চঞ্চল ভাব। ওর বইতে আর মন বসল না ।খাট থেকে চুপিসাড়ে নেমে পড়ল।মার তখন সবে চোখটা লেগেছে,টেরও পেলেন না । বাপ্পার খালি মনে হতে লাগলো ওকে যেন কোথাও যেতে হবে। পায়ে পায়ে দরজাটা খুলে, সিঁড়ি দিয়ে কোন খেয়ালে ও নেমে গেল ।সচরাচর এই সময়টায়, ও যা করে না ,আজ যেন কোন অজানা টানে তাই করতে লাগল।কোলাপসিবল গেটটা আস্তে করে খুলে, বাড়ির বাইরে বেরিয়ে পড়ল ।তারপর, বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেদিকে ও কোনদিনও সেভাবে যায় না ,সেই মন্দিরতলার মাঠের দিকে যেতে লাগল। কেউ যেন ওকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে দুর্লঙ্ঘ্য আকর্ষণে, না গিয়ে উপায় নেই,ফিরে যাবারও এখন আর কোন পথ নেই ।

    ছিমছাম নিস্তব্ধ দুপুর, চারিদিকে কেউ কোথাও নেই । মন্দিরের দরজাও বন্ধ ।মন্দিরের চাতালের যে দিকটায় অশ্বথ গাছটার ছায়া এসে পড়েছে, সেখানেই ও পা ঝুলিয়ে বসে পড়ল। দূরে চৌধুরীদের আমবাগান দেখা যাচ্ছে ,ওপাশে জনাবুড়ির ঝুপড়ি। তারপর পায়ে চলা রাস্তাটার ওপারেই বরুনকাকুদের বাড়ি । হঠাৎ চোখে পড়ল  কুয়োতলায়, বরুণকাকুর পাঁচ বছরের ছেলে শুভ্র খেলা করছে । কুয়োর মধ্যে ঝুঁকে  পড়ে কি যেন দেখতে গিয়ে, ঠিক তখনই পা পিছলে ঝপ্ করে কুয়োর জলে পড়ে গেল ।দেখেই বাপ্পার সাড় ফিরল, দুর্ঘটনাটা ঘটতে দেখে ওর মাথা কাজ করল, ও বুঝল ভীষণ বিপদ, এখনই সবাইকে ডাকতে হবে ।

    বাপ্পার পরিত্রাহি চিৎকারে বরুণকাকিমা, জনাবুড়ি, পাশের বাড়িঘর থেকে আরও অনেকে ছুটে আসতে লাগল। মুহূর্তে ভিড় জমে গেল মন্দিরতলায় , তাড়াতাড়ি কুয়োর মধ্যে লোক নামানো হল। শেষমেষ শুভ্রকে শিগগিরই তোলা হল কুয়ো থেকে। ও বেশি জল খায়নি, একটু পরেই চোখ মেলে তাকাল। বরুণকাকিমা  বাপ্পাকে জড়িয়ে ধরে চুমোয় চুমোয় অস্থির করে দিলেন। বারবার বলতে লাগলেন, বাপ্পার জন্যই কোলের ছেলেটাকে ফিরে পেয়েছেন ।পাড়াশুদ্ধু লোক এসে বাপ্পার পিঠ চাপড়ে দিয়ে গেল । সময়মতো ও এসে না পড়লে আর ঘটনাটা দেখে ফেলে সবাইকে না জানালে ,বাচ্চাটা কুয়োতেই পড়ে থাকত, কেউ জানতেও পারত না ,বাঁচানোও যেত না।

     বাপ্পার মনটাও খুব খুশি। ও কিন্তু বুঝতে পারছিল না ,ঠিক তখনই, কেন সেই অজানা টানে ও ওখানে এসে হাজির হল , এই অসময়! আর ও আসার  ঠিক পরে পরেই ঘটনাটা ঘটল কেন? আরো একটু আগে হলে তো ও জানতেই পারত না ? আরাম করে মার পাশে বসে টিনটিন পড়ছিল । বাপ্পা প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পায় না।




দুর্গা

- সৌমিত্র দেব


আমার অর্বাচীন শহরে দুর্গার নিগৃহ পরিণতি...!

সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়ে তার ফুল্লকুসুমিত দ্যুতি।


আমার শহরে দুর্গা ডাস্টবিনে খাবার কুড়োয়,

ভিক্ষার থালা নিয়ে দাঁড়ায় রাজপথে।


ছেঁড়া কাপড় পড়ে, বাড়ি বাড়ি ঝি-এর কাজ করে...

দিন শেষে ক্লান্তি লুকোয় ছেলের কাছে, অজুহাতে।


আমার শহরে দুর্গা শরীর বেচে নিয়ন আলোয়,

পেটের ক্ষুধা মেটায়, যৌনতার বদলে...!


দুর্গা আমার, বৃদ্ধাশ্রম সেবিকা,

কপালের ঘাম মুছে, মায়ের আঁচলে...।


আমার শহরে দুর্গা, আই.পি.এস. অফিসার,

রিভলভারের গুলিতে, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে।


রাইফেল হাতে বর্ডার পাহারা দেয়...

মিসাইল নিয়ে ঢুকে যায় অতর্কিতে, শত্রুর ঘরে।


আমার শহরে দুর্গা, লেডি ডাক্তার...

প্রতিদিন জীবন নিয়ে খেলা, রক্তমাখা হাতে।


দুর্গা আমার কল্লোলিনী নববধূ,

হালকা শীতের সকালে শিউলি কুড়োয়, শারদ প্রভাতে।


সংসারের বড় মেয়েটাই দুর্গা, আমার শহরে...

যে দুহাতে দশদিক সামলায়, নিভৃতে অশ্রু ঝরায় অকাতরে।


আসলে, প্রতিটা মেয়েই দুর্গা, দুর্গা প্রতিটা ঘরে ঘরে,

আসলে, দুর্গা সেই; যে তোমার দুর্গতি নাশ করে।


দুর্গা আছে গ্রামে গঞ্জে, দুর্গা আছে  শহরে,

বুকের ভেতর দুর্গা আছে, দুর্গা আছে অন্তরে...।





ঠিকানাঃ


সৌমিত্র দেব

পিতাঃ শংকর মনি দেব






●ভুলে যেও●

দেবাদৃতা ভট্টাচার্য্য


ভুলে যেও প্রেম,

ভুলে যেও দু'ঠোঁটের সঙ্গমস্থল-

স্মৃতিগুলোকে খামে ভরে হারিয়ে ফেলো;

ভুলে যেও যারা একদিন বৃষ্টিতে ভিজেছিল।

নিঝুম রাতের পর যারা ভেঙে গেছিল,

মনে বলেছিল-"জানোনা এখনও কতটা ভালোবাসি!"

সেই চিঠির খসড়া ছিঁড়ে ভুলে যেও তাদের

ভুলে যেও,ইচ্ছে করে কেন তারা পথ হারিয়েছিল।

আদরের শেষের আদিম ঘুম যেমন ঘুমোয় জ্যোতিষ্ক,

ছায়াপথ বেয়ে নেমে আসে প্রিয় সুগন্ধের বাস-

ঘামে ভেজা চিঠির আর্দ্র কাগজে ধ্যবড়ানো কালির সম্বোধনে

মিলিয়ে যায় প্রথম প্রেমের অনুভুতির পর ধীর পায়ের ছাপ।

তবু তুমি সবটুকু ভুলে যেও প্রেম,

চোখের তারার ঘৃণা একটু করে কষ্টে হারিয়ে যেতে দেখেও,

সবটা তোমায় ভুলতে হবেই,না বলা কথাও-

ভুলে যেও,ঠোঁটের পরশে নেমে আসা চিবুকের তিলকেও........




পুরুলিয়া
___________

ঝালদা-হাঁড়িতে দু'টাকা কিলো চাল ফুটছে
অন্নপূর্ণা মন্ত্র উচ্চারণ করতে করতে
গড় পঞ্চকোটের ভগ্ন স্তম্ভ চোঁয়া লাল জলে
আদিবাসী নৃত্যের তালে তালে

মহুয়া মাতালের পদক্ষেপে
দুর্গা ফলস্ ঝরে পড়ছে অস্ট্রিক শব্দমালায়

গরম পিচচুমায়
বান্দোয়ানের দলছুট হাতির পায়ে ফোস্কা-জ্বালা

রাঁচি-হাতিয়া এক্সপ্রেস থেকে
পিলপিল করে নেমে আসছে
শালপ্রাংশু দেশোয়ালি

অযোধ্যা পাহাড়ের পদচাতালে ঝুঁকে পড়া রোদ
শুষে নিচ্ছে রামের ছৌমুখোশ


সুজিত রেজ
অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর
বিএন







জটিলতা

দীপশিখা চক্রবর্তী


আজকাল ঘুমের মধ্যেও চমকে উঠি বারবার,


খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বোঝার চেষ্টা করি-

নির্জনতম অন্ধকারের সাজানো দুর্বোধ্যতা;


টেনে ছিঁড়ে ফেলতে থাকি কালো পোশাকের সুতোয় নিঁখুতভাবে বুনে চলা নিরেট ছায়ার বিভ্রম,


এগোতে থাকি...


কখন যেন তলিয়ে যাই-

অচেনা অজানা এক না-ফেরার পথে;


স্পষ্ট শুনি-

সিঁড়ি ভেঙে নেমে যাওয়া আলোর দরজায় বারবার ধাক্কা দেওয়ার শব্দ;


যে কোনো সময় ফিরে যেতে পারে বুঝেও চুপ করে থাকি,


ভাবতে থাকি-

এত আলো, কিভাবে সাজিয়ে ফেলতে পারে অসম্ভব এক যন্ত্রণার একলাঘর!


হঠাৎই একটা দীর্ঘ নিস্তব্ধতা;


মাথার মধ্যের অস্থিরতায় তখন জেগে ওঠে সন্ত্রস্ত এক শয্যাদৃশ্য,


নেমে আসে শেষের গল্পে এক সমান্তরাল ঘুমের জটিলতা;


আলো আর অন্ধকারের মাঝে গোলক ধাঁধার বৃত্তে আঁকা শূন্যস্থান বারবার প্রশ্ন করে-

এই সব বোধ কি স্বপ্নে সম্ভব!


হয়তো...

বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৯


সূচিপত্র
 জলফড়িং শারদ সংখ্যা  ।

ব্ল্যাক ফরেস্ট (অনুগল্প )  নমিতা পাল

তবুও      কবিতা মানবেন্দ্র নাথ মাজী

ছুটি   অনুগল্প           নাজমীন মন্ডল

শহুরে নিসঙ্গ নাগরিক   বরাত রানা নুর

প্রেম /কবিতা নয়          তুহিন চক্রবর্তী

উমা এল ঘরে                      সুনন্দ মন্ডল

পূজার খবর, শারদীয়া         রথীন মন্ডল

এই জয়                            সমরেশ পর্বত

কুয়াশা কাল                  লক্ষী কান্ত মন্ডল


 প্রেমিকা সমাপতন     তিয়াসা দাস
 দাগ                           চিত্তরঞ্জন গিরি।

  দুঃস্বপ্ন             অনুগল্প       শংকর বহ্ম

অজানা টান          অনুগল্প      শুভায়ন বসু

দূর্গা                                     সৌমিত্র দেব

ভুলে যেও                        দেবাদৃতা ভট্টাচার্য

পুরুলিয়া                                  সুজিত রেজ

জটিলতা                              দীপশিখা চক্রবর্তী

                               







রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯

কবি জয়দীপ রায়ের কবিতা পড়ুন




১.)
তৃতীয় কামরা

ল্যাম্পপোস্টের গা বেয়ে তখন নেমেছে সন্ধ্যে
হাতল ধরে ভিড় ঠেলছে
ঘামে ভেজা ক্লান্ত জামা
আর জামার ভিতর ছুটতে থাকা একটা শরীর
নট-রিচেবেলের ভিড়ে বেজে চলেছে
বোবা টেলিফোনেরা
খুব চেনা রিংটোন
পাশের কলিকের বাসি হয়ে যাওয়া
খবর গুলোকে বিরক্ত করা
শব্দ গুলো স্পষ্ট এবার
প্ল্যাটফর্মের নীচে নামা সন্ধ্যে যেন
মৃদঙ্গের তালে তারই ছবি আঁকছে
ভিড়ের মাঝে ফিরে আসা বার্তা গুলো
বিড় বিড় করে
কি যেন বলে চলেছে
জানলার ওপারে চেয়ে দেখ
কেউ তোর অপেক্ষা করছে
শেষ লাইনে বানান ভুলের
প্রহর গুনছে কামরারা
ক্রমে কমে আসা ভিড়
ভেপারের নীচে তখন জোৎস্নার হাতছানি
তারপর খুব অন্ধকার
ধীরে ধীরে নামছে তৃতীয়  ঘরে।


২.)
শেষ চুমুক

চায়ের কাপের এঁটো ভাড়ে
লেগে থাকা ঠোঁটের শেষ চুমুক টা
যত্ন করে তুলেছিলাম ক্যানভাসে
ভেবেছিলাম নাছোড়বান্দা ছেলেটার
হাত ধরে উপহার দেব তোমায়,
তুলির আঁচড়ে সুক্ষ কিছু টান থাকুক
কুয়াশায় আমার আবছা ফ্রেমে বন্ধী হয়ে,
কোন গোসা ঘরে ফুঁপিয়ে
কাঁদুক ঠোঁট ফুলিয়ে
তোমার রুমালের অপেক্ষায়
ফ্যাকাশে জানলায় নামুক সন্ধ্যে
ভগ্নাংশ ভেঙে থাক বিকেল গুলির প্রতিটা শেডে
লেগে থাকুক শুধু গন্ধগুলো
আমার বাড়ন্ত নখের ডগায়
ভালোলাগা গুলো ভালোবাসি হয়ে।



৩.)
কিছুটা কাল্পনিক

কাঞ্চনজঙ্গার বুকে চেরা রোদ খুঁজি না
খুঁজি বৃষ্টি বুকের ঝাপসা জানলা
ছাতা হাতে চেরাপুঞ্জের রাস্তা
বৃষ্টি বিভোর রোমাঞ্চ
মেঘের বুকে ক্ষুধিতের পাষান
সরযুর ধার ধরে মেহের আলির
গলা ফাঁটা চিৎকার
মিথ্যের হাতে ধরা পড়ার ভয় ছিল
অপ্রতিরোধ্য না বলা শব্দগুলোর
চুন সুড়কির দেওয়ালে ধাক্কা খাচ্ছে
অজস্র ঘাম বিন্দু হাজার বছর ধরে
সমব্যাথী শুধু নিয়তির বুকে
সমান্তরাল  কাল্পনিক চরিত্রগুলোকে।





শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯

কবি রবীন বসুর কবিতা

সভ্যতার মাইগ্রেন
        কবি রবীন বসু


তোমাকে স্পর্শ করে এই আমি বসে আছি মাটি

জলহীন শুখা মাঠ, সবুজ বেহদিশ

লাবণ্যপূর্ণ প্রাণ দূষণে দূষণে মৃত

বৃক্ষ আজ পাখিহীন

মগজে জমছে ক্লেদ মানুষের

আবহ বিষাক্ত আজ, বাতাসে বিনাশের সাইরেন


তোমাকে স্পর্শ করে এই আমি বসে আছি মাটি

সহনাতীত সহ্য দাও, জল দাও

হিরণ্ময় দিন

সবুজ বৃক্ষের পাশে অহরহ

নতজানু হই যেন

অথবা যেন সেরে যায় সভ্যতার অসম্ভব মাইগ্রেন


কবি স্নেহা সরকারের কবিতা

১৬.)
অভিষার
  কবি স্নেহা সরকার

ঝিরঝিরে এক বিকেল বেলার পরে,
পাতায় পাতায় ধুলোর ছায়া পাতি,
নতুন কোন ভাবনা আসার ঘরে,
চোখের কাছে আবেগরা আহ্লাদী।

জোট বেধেই জোড়ালো হলো আলো,
কথোপকথন মেঘের মতোই ভারি,
অপ্রাকাশে বেঁচে থাকা বড়ো ভালো।
ইচ্ছে করেই চোখের আড়া আড়ি।

তবু অনুভূতিদের ভালোবাসা বলে ডাকি
তারপর হ্যাঁ তার পর অবলীলায়,
সব শেষ হলে তোর কোলে মাথা রাখি।
যেভাবে রাত বালিসে দুঃখ বিলায়।

ফেলে রেখে আসি শুকনো ফুলের মালা,
আপাতমস্তক ছড়িয়ে পরেছে ঘৃনা।
আমার হৃদয় ভাঙাচোরা ফেরিওয়ালা।
ভালোথাকি তবু ভালোবাসা কখনো আর না।।


কবি

১৫.)
বিরহ প্রেম
   কবি হুমায়ুন কবীর

আছে যত ঘৃণা বিরহ বেদনা শত যাতনা,
তবুও প্রেম ভালোবাসি!
সমাজে কুলষিত কলঙ্কিত আছে যত ভাবনা
তবুও প্রেম ভালোবাসি!
সব অনুভূতি বিশুদ্ধতা আনন্দ পুড়ে হয় ছারখার,
বোঝেও বুঝিনা,
তবুও প্রেম ভালোবাসী!
পাখিরা যেমন আপন পাখিদের সাথে―
মিশতে যায়, আমিও তেমনি আপন মানুষের―
সাথে মিশতে চাই,
কিন্তু---চলিত স্বাস, প্রবাহিত নদী, আপন মানুষ―
সবাই করে প্রতারণা,
তবুও প্রেম ভালোবাসি!
জুড়ায় না ক্লান্ত দেহ দখিনা বাতাসে―
পাইনা তৃপ্তির আশ্বাস,
তবুও প্রেম ভালোবাসি!
ব্যাথায় জর্জরিত হৃদয় বিরহ বাঁশির কান্নার সুর,
জানি কোনো দিনও পাবনা সুখ,
তবুও প্রেম ভালোবাসি!


কবি পাখি পালের কবিতা

১৪.)
বন্ধু মানে....
   কবি পাখি পাল

বন্ধু মানে প্রতিধ্বনি
পাহাড় চূড়ায় ডাকা..
অনেক আঘাত মাটির ওপর
সবুজ ঘাসে ঢাকা..
বন্ধু মানে মরুর মাঝে
মরুদ্যানের দেখা..
অনেক ভুল করার মাঝে
একটুখানি শেখা..
বন্ধু মানে খোলা আকাশ
অনেকখানি মুক্তি..
বাঁধনহীন ওড়ার সুখ
খাটে না যেথা যুক্তি..।।

         
       


কবি রাফাতুলের কবিতা

১৩.)

এক দীর্ঘ স্থবিরতা
   কবি রাফাতুল আরাফাত

আমার অনন্তকাল ধরে চলতে থাকা পা থেমে গিয়েছিলো
এক চপলতার নুপুরের শব্দে।


এরপর বহুদিন আমি কেমন উন্মুখ হয়ে থাকি
কার অপেক্ষায় থাকি
কার জন্যে শব্দ বুনি।
কার জন্যে  যেন  আমি হত্যাকারী,
সকাল হত্যা করি,
দুপুর হত্যা করি
বিকেল হত্যা করি।


আমার পায়ে এখন রাজ্যের স্থবিরতা,
জয়েন্টে জয়েন্টে উইপোকা বাসা বেঁধেছে।
ইচ্ছে হয় মধ্যদুপুরে  ঝিঁঝিঁ পোকার গলা চেপে ধরি।


সকাল থেকে রাত আমি যেনো কার জন্যে উন্মুখ হয়ে থাকি!







কবি সায়ন্তনীর কবিতা

১২.)
বাগদত্তা
    কবি সায়ন্তনী কুলভী

কেই বা এই মানুষ আমি?
কোন পাড়াতে থাকি ?
এক চোখেতে লজ্জা নিয়ে,
কপালে টিপ আঁকি
কেবা আমি সরল নাকি --
জটিল বামুন মন !
ওরে আকাশ তোরে শুধাই ,
একবার তুই শোন
কি পরিচয় দেবো এখন
কি বা আমার স্বত্বা?
আমার আগে যা ছিলোতা
এখন বাগদত্তা...


কবি স্বরূপ সিংহ'র কবিতা

১১.)
বানভাসি
   কবি স্বরূপ সিংহ রায়


“সীমন্তিনির চোখ আমি দেখেছি তাই শান্ত দিঘির টলটলে জলে কাজল মেঘের ছায়া দেখি বারবার”----।



আমার মেঘ তোর সে গহন চোখের নেশায়

বুকের ভিতর ভীষণ রকম বৃষ্টি ভেজায়

নেশায় খুঁজি বুকের ভিতর মেঘের ঢল

তুই সে এখন অন্য বুকে ছলাৎছল।



তুই সে এখন অন্য বুকে লাজুক সুখে

দুঃখ ভীষণ জমাট বেঁধে আমার বুকে

দুঃখ জমাট বকের ডানার ক্লান্তি জুড়ে

সাত সমুদ্র তেরো নদীর আকাশ ঘুরে।



তোর সে চোখ রোজ সরে যায় দূর বহুদূর

তবুও তাতেই বানভাসি রোজ সন্ধ্যা দুপুর।


কবি সোমা চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা

১০.)
হঠাৎ কবিতা
     কবি  সোমা চট্টোপাধ্যায়


মেঘনামা শহরের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে প্রহর

প্রহরীহীন দরজা পেরোলে একটা বিশাল বাগান

সেখানে শুয়ে আছে শয়ে শয়ে কবিতা

ওরা লাশ নয় - উন্মুক্ত শব্দভাণ্ডারের দু-টুকরো নমুনা

মরা কবিদের প্যাকেটবন্ধ করা ধর্ম-অধর্ম।


তোমাকে ছুঁলেই কবিতা হয়ে যায় শোক

হঠাৎ পাওয়া কোনো বৃষ্টিদিনের মতো চোখ

পরিতৃপ্তির হাসি লেগে থাকে কানের পাশের তিলটায়

এই কবিতাটা আমার।

শিলাবৃষ্টির মতো মনিপুর চক্রে এটা আমার হঠাৎ কবিতা ।

মায়াগঙ্গা বরাবর হেঁটে যাচ্ছে সর্পিল আলিঙ্গন

আমি সেমিকোলন ভুলে কাব্য হয়ে যাই

হঠাৎ কবিতার মতো...

















কবি অভিজিৎ এর কবিতা

৯.)
আজ আমি বৃষ্টিতে ভিজব
       কবি অভিজিৎ চক্রবর্তী

আজ আমি বৃষ্টিতে ভিজব
নতজানু হয়ে মাটিতে চুমু খাব।

জলের রেখা ধরে আমি পৌঁছে যাব আজ
যেখানে হৃদয় ভাগ হয়ে গেছে
ক্ষণিকের দুঃস্বপ্নে,
যেখানে তরঙ্গ এসে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে,
যেখানে সুখ হারিয়ে গেছে বিজ্ঞাপনের বালুকাবেলায়।

আজ আমি বৃষ্টিতে ভিজব,
ভিজব আর স্মৃতির রেখা ধরে একে একে
টেনে তুলবো
হারিয়ে যাওয়া সমস্ত সুখ-অসুখ,দুঃখ বেদনা, সোনালি স্বপ্ন আর রুপোলী দুঃখ।
শিশুর মত প্রান্তরের ক্যানভাস জুড়ে ছিটিয়ে দেব আনন্দের জল রং আর মোমের ক্রেয়নগুলো।



কবি রাণা চ্যাটার্জির কবিতা

৮.)
    এ তুমি কেমন তুমি!
           কবি রাণা চ্যাটার্জী


নিজেকে মহীরুহ ভেবে নেওয়াটা

তোমার অপরাধ নয়,আমাদের কৃতজ্ঞতা বোধ,

             অর্জিত রুচিশীলতার ফসল।

অর্থ দম্ভ অহংবোধ সব থেকেও বড় নিঃস্ব তুমি আপনজনদের না বোঝার ব্যর্থতায়।


সব বুঝেও বোঝোনা,

নির্দয় বাক্যবাণ নিক্ষেপের দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা

বেশ ক'টা হিরোশিমা পুড়িয়ে খাক করে দেবার   ক্ষমতা রাখে।


বিনা আঁচে তোমার বিত্ত বাতেল্লায় এক হাঁড়ি ভাত ফোটে নিমেষে,

আয়নায় মেকআপ গলে মুখ মুখোশের উঁকিঝুঁকি।


লজ্জিত করে স্যাঁতস্যাঁতে শ্যাওলা দেওয়াল চুঁইয়ে পড়া অ্যাসিড বৃষ্টি,

অন্যদের ঘৃণায় খসে পড়া ভালোমানুষ হোর্ডিং নড়বড়ে করে জং ধরা পেরেক।

শব্দ দূষণের বেসামাল দুর্দিনে বর্ষা ফলক হিংস্রতা ,গতিরুদ্ধ হয় উপেক্ষার নীরবতায়।


 


কবি কুনালের কবিতা

৬.)
কবির চোখে যখন প্রেম.....
       কবি কুনাল গোস্বামী


ভেবেছিলে স্পর্শ করবে,ছন্দে ছন্দে ভরিয়ে দেবে সর্বাঙ্গ

লিখবে প্রেমের কবিতা,কবিতা যে তোমার প্রেমাঙ্গ

কবি' তুমি কবিতা লিখছো?তুমি প্রেম খুঁজছো কোথায়?

আমি যে শুধুই দেখছি ছিন্নভিন্ন খণ্ডাকার দেহাংশ আর রক্তে ভেজা মাটি

সেই রক্তের চারপাশে সারি বেঁধে লাল পিঁপড়ের দল

কবিতা দিয়ে ওদের পেট ভরাতে পারবে তুমি?


দ্যাখো ঐ শোনা যায় ঝড়ের পূর্বাভাস,হয়তো আবার তছনছ হয়ে যাবে কত ছারপোকার কুঁড়ে ঘর

নদীর উত্তাল জলে মিশবে ওদের বুকফাটা আর্তনাদ আর অশ্রুজল, সৃষ্টি হবে সুনামি তখন

আচ্ছা কবি' তখনও কি তুমি ব্যস্ত থাকবে কবিতার মাঝে প্রেম খুঁজতে?

পাঠকেরা সেই কবিতা পড়ে করতালি দেবে,

বলবে সবাই - "কবি তুমি মহান,অনবদ্য তোমার লেখনী!"

কিন্তু সেদিন হয়তো বলবো আমি-

                "ধন্য তুমি কবি,ধন্য তুমি।"



কবি অনিমেষের লেখা

৫.)
প্রেম কার্নিভাল
     কবি অনিমেষ সরকার

তোমার কাছে গেলে সমস্ত অসুখ কেটে যায়
যাপনের কবিতার রঙ পাহাড়
এই লালিগোরাসের আসমান
এখানে পঙতি থেকে পঙতি রচনা করে ইলিয়াস

যেসব প্রেমিকেরা আমার মতো কাঁধে নাম নিয়ে ঘোরে
তাদের চর্চা লালিগোরাসের নাভী থেকে যত্ন করে রাখে আলাপ

তোমার কাছে গেলে সাধেই কি মন ভালো হয়ে যায়?
মনে রেখো সাচ্চা প্রেমিকেরা বিদ্রোহ করে না
তোমার ভালো থাকাতেই তাদের ভালো থাকা...



কবি মিতালির কবিতা

৪.)
উপশম
 কবি মিতালি চক্রবর্তী



বারবার হাত চলে যাচ্ছে

চেনা সবুজ আলোয়,

কতকি লিখছি আবার  মুছে ফেলছি,,,


প্রথম শর্তটি ভেঙে গেছে  দমকা হাওয়ায়


দ্বিতীয় শর্ত কেবল দৃষ্টিতেই সীমাবদ্ধ, উচ্চারিত হয়নি কখনো।


আর কিছু নেই;


আকুল আঁধার শুধু দুজনের মাঝে।।



পরিণত মননের খেলা গুলো এমনই হয়,,,



জড়পদার্থের মত মনবিহীন,এই কথাটি জানা ছিল ,

অথচ আব্দারের আড়াল থেকে জানান দিল সমস্ত অসাড়

 সাজানো অহংকার।।


কবি ইমরানের কবিতা

৩.)
কাব্য পরিচয়
    কবি ইমরান হাসান

চল একটি কবিতা হয়ে যাক,
একটা শিশিরের শব্দ,
আজকে নিজের অস্তিত্ব জানাক

আজ হয়ে যাক কাব্যের মেলা।

আজ রত্নপাথরের শোভার
আজ স্বরূপের টানে ভোলার,
আজ প্রকৃতির তান শোনার
এইক্ষণ রয়ে যাক।


হিম হিম পাহাড়ের চুড়া ,
তার উপর সবুজের একটু আভা

কবিতার স্বরূপ জমিয়ে রাখা

শুধুই ভালোবাসার আবীর ।


আজ হয়ে যাক কবিতা -

তোমার ভুরু মাঝের রবির ।


কবি দেবাশীষের কবিতা


২.)
আগমনী
    কবি দেবাশীষ মন্ডল


আয় মা, আয়  তোর এই বেটার অভাবের সংসারে।

একটা বছর কোথা ছিলি মা, আমাদের একা করে?

কাল ফুলে তে হবার আগে তোর আগমন

সামান্য কিছু নৈবেদ্য করেছি আয়োজন।

জানি মা, তা খুব সামান্য-- খুশি হওয়ার না।

তবুও তুই তাতেই খুশি, কারণ তুই তো মা!

তাকিয়ে দেখ, দেখ মা তোর থাকার ঘরের সম্মুখে

কচি-কাঁচারা হয়েছে জড়ো দেখবে বলে তোকে।

মা-বোনেরা এনেছে শঙ্খ, কেউবা এনেছে কাঁসর।

ঢাক-শঙ্খ, ঘন্টা-ধ্বনি- জমবে তোর আসর।

কয়েকটা দিন থেকেই কি মা আবার যাবি চলে?

বেটার বেদন বুঝবি মাগো, আমি মা, তুই ছেলে হলে!


কবি অমরজিৎ এর লেখা

১.)
বিবর্ণ হাইকু
    কবি অমরজিৎ মণ্ডল




একাকী কাক
বিবর্তিত আঘাতে
আজ নির্বাক ।




নগ্ন যুবতী
আর কত দেখবে,
জ্বলন্ত স্মৃতি ?




স্বপ্নের রথ
তাকিয়ে দেখে দূরে
মুক্তির পথ ।



বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০১৯

: #শেষ_দৃশ্য
#মুনমুন_মুখার্জ্জী

এসেছে আজ আমার কাছে সব আপনার জন,
বহুদিন পর এল এই আনন্দের ক্ষন,
মনে হচ্ছে অতীত যেন ফিরে এল আবার,
বর্তমান জীবনকে যেন করতে চনমন।

কান্না হাসির কত গল্প, কত স্মৃতিচারণ,
সুখ দুঃখ মিশিয়ে হল মধুর বাতাবরণ,
অবাক হয়ে আমি শুধু দেখে শুনে যাই,
নির্বাক শ্রোতার এই  উপভোগ দারুণ।

পুরোনো স্মৃতি ঘাঁটতে গিয়ে হয়ত অকারণ,
চিকচিক করে ওঠে কারো চোখের কোণ,
কারোবা চোখ মুখ দিয়ে অঝরে মুক্ত ঝরে
ভিজে যায় তাতে আমার এ শরীর মন।

বৃথায় চিৎকার করে উঠতে চাইল মন,
"কোথায় ছিলে বল আমায় তোমরা এতদিন,
খোঁজ নিলেনা, একাকী কাটল শেষটা আমার--
দেখা করার সময় হয় নি কি একদিন?"

কিন্তু সেকথা থেকে যায় মনে মনেই,
কোনো কথা আজ বলার উপায় যে নেই,
নির্জীব শরীর ঘিরে কেন যে শোক মানায়,
মনের চাপা কষ্ট থেকে আমার মুক্তি নেই।

কেউ এসেছে নাটক করতে, কেউবা দেখতে,
কেউবা সত্যি করে আমার খোঁজ করতে,
ভালবাসার জোয়ার এসেছে আজ এ ঘরে,
সবাই এসেছে আজ শুধু শেষ বিদায় জানাতে।


: #সুদখোর
#মুনমুন_মুখার্জ্জী

ছোট্ট ছেলে বাবাকে শুধায়
ব্যাঙ্কে সবাই টাকা জমায়,
ব্যাঙ্ক সে টাকা নিজে খাটায়
নির্দিষ্ট সময় বেশি ফেরত দেয়।
বই বলে সুদ হল বেশি যা দেয়
তবে তো দেখি সবাই সুদ খায়,
কিন্তু সুদখোর তারা কেন নয়
সাহায্যকারীর কেন বদনাম হয়?
বাবা বলেন শোনো তবে
যুক্তিতে কি সব এক হবে?
ওরকম সাহায্য ব‌্যাঙ্কও করে
সুদটা নেয় তবে কান ধরে।
সুদখোরেরা -- আদায় করে
লাঞ্ছনা আর অপমান করে।
সুদের হারটাও হয় বেশ চড়া
আসলের টিকি তো যায় না ধরা
জীবন চলে যায় ঋণশোধ করতে
দিন দিন ঋণ থাকে শুধু বাড়তে।


: #কিছু
#মুনমুন_মুখার্জ্জী

কিছু মানুষ থাকে যাদের বোঝালেও বোঝে না,
কিছু মানুষ থাকে যাদের মানা করলেও মানে না,
কিছু মানুষ থাকে যাদের অভিযোগ থাকে না,
কিছু মানুষ থাকে যারা ক্ষমা করতে ভোলে না।

কিছু মানুষ থাকে যাদের অহংকার কমে না,
কিছু মানুষ থাকে যাদের নালিশ করা থামে না।
কিছু মানুষ থাকে যারা খুঁত না ধরে পারে না।
কিছু মানুষ থাকে যারা কে কি বললো দেখে না।

কিছু মানুষ থাকে যারা লোক ঠকাতে ছাড়ে না।
কিছু মানুষ থাকে যাদের ঠকেও শিক্ষা হয় না,
কিছু মানুষ থাকে যারা অভাবেও বলদায় না,
কিছু মানুষ থাকে যারা সুযোগের ব্যবহার করে না।

কিছু মানুষ থাকে যারা ছেঁকা দিতে ছাড়ে না,
কিছু মানুষ থাকে যারা নিন্দা করতে ছাড়ে না।
কিছু মানুষ থাকে যারা দুঃখকে বড় করে দেখে না,
কিছু মানুষ থাকে যারা কখনো হাসতে ভোলে না।
: #জীবন
#মুনমুন_মুখার্জ্জী

জীবন বড়ই অদ্ভুত,
  বাঁধা ছকে চলে না,
    অঘটন ঘটে হটাৎ,
      তবু চলার পথ থামে না।

সে চলে চলার নিয়মে
  নিত্য নতুন খোঁজে পথ,
    থামার তো উপায় নেই
      মৃত্যুতে থামবে এ রথ।

জীবন যতই এগিয়ে চলে
  পরিচিত মুখ পথে হারায়,
    সময় কখনো বাধা দেয় তো
      মুখোশ হয় কখনো অন্তরায়।

তবু জীবন এগিয়ে যাবে
    বাঁচতে হলে লড়তে হবে,
       হাত গুটিয়ে বসে থাকলে
          মশা আনন্দে গান গাইবে।
মনখারাপি মেঘ//

আকাশটা কেমন থমকে আছে দেখো।
সারা সময় বৃষ্টি মাখছে গা'য় ।
জ্বরে যখন পুড়বে শরীরখানা
ধরতে ঠিক আসবে কবির পা'য়।

মনখারাপি দু-এক ফোঁটা
আমার কপাল ছুঁয়ে বুকের ওপর গড়িয়ে পড়বে।
রবিরশ্মি নিস্তেজ তবুও রুক্ষ লাগবে দুপুরটা।
আর অভিমানে ভাঙবো-গড়বো নিজেকে।

সকাল গড়িয়ে দুপুর
                                দুপুর থেকে বিকাল,
লাল আভাময় আকাশজুড়ে
সন্ধ্যে নামার তাড়া লাগবে।

অদ্ভুতভাবে আকাশের সেই জ্বরটা ছড়িয়ে পড়বে মনের ভেতর,
বাড়তে থাকবে অভিমান।
কেন??
সে বোঝেনি বলে তাই?
কি জানি।
হয়তো...

একাজে ওকাজে ব্যস্ত হবো
এক প্রকার জোরবশত বলতে পারো।
স্তব্ধ তবুও মনখারাপি ঘড়ি,
কাটতেই চাইবে না ব্যর্থ মুহূর্ত।

আকাশের কোল জুড়ে থোকা থোকা মেঘ যেমন
তার জন্যে প্রেমের বৃষ্টি ঝরায়,
আমিও তেমন অপেক্ষা সাজাবো,
অপেক্ষা করবো আসবে কখন সে,
অপেক্ষা করবো ভালোবাসবে কখন সে।
অপেক্ষা করবো।।

                                          ____শিল্পা মণ্ডল

(গুগল ইস্যু)
[30/07, 21:05] shilpa mandal. jholfhoring: //গোপন প্রেম//

অভিমানে অভিমানে সরে যাবো বহুদূরে,
চায়লেও পাবে না তখন তোমার প্রেমের সুরে।

চাইনি তো এত্ত আদর, রাশি রাশি ভালোবাসা,
চাইনি কখনো তোমার জমিয়ে রাখা গুচ্ছ সময়,
শুধু একটু,
কেবল একটু মনে কোরো প্রিয়
খোঁজ নেওয়াতে টুকরো মুহূর্ত কোরো ব্যয়।

কি চাই বলো ছোট্ট মন আরেকটি মনের থেকে!
দূরে থেকেও কাজের মাঝে যাতে একটু মনে রাখে।
পারবে না কো রাখতে মনে!
পারবে না কো বাসতে এমন!
তোমার বুকে উঠলে ঝড়, আমারও যে হয় মন কেমন।
কতটুকু বোঝ তুমি! না বোঝারই সংখ্যা বেশি,
ভাসবো না জেনেও আমি চুপিচুপি ভালোবাসি।
সময়ের কাঁটা ধরে ভিক্টোরিয়ার প্রাঙ্গণে
বা গঙ্গার ধারে হেঁটে বেড়ানোর অঙ্গীকার করিনি,
তবুও ফাঁকা রাস্তা হোক কিংবা সে কল্লোলিনী কলকাতা,
বলো কোথায় তোমায় মনে রাখিনি!!
তবুও বোঝ না। খোঁজো না প্রেম চোখের মাঝে,
তোমার আমার রাগ-অভিমান বুকের মধ্যে বড্ড বাজে।
আর না হয় নাহি বা বললাম "ভালোবাসি"
"ভালোবাসি"।
স্বপ্নতে না হয় হাঁটবো দুজন হাত ধরে
পাশাপাশি।।
     
                                             ____শিল্পা মণ্ডল
-কিরে কখন থেকে ডাকছি..
- ও তুই, শুনতে পাইনি..
- সকাল থেকে ফোন করছি ধরছিস না কেন?
- কই ,শুনতে পাইনি তো..
-নির্ঘাত আবার সাইলেন্ট করে রেখেছিস ,কই দেখি ,এই তো ঠিক ধরেছি ।।
- কি বলবি বল।।
- কি হয়েছে তোর? ভালো করে কথা বলিস না আজকাল?

তৃপ্তি হেসে সৌরভের হাতটা ধরে জানলার সামনে নিয়ে এসে দাঁড়ায়।।আর বলে .......

- কান পেতে শোন জল পড়ার শব্দ পাচ্ছিস ? ভিজতে খুব ইচ্ছে থাকলেও মারণ রোগটা আমায় ভিজতে দিলো না রে।।

বাইরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামে।।


.........তন্মনা
 উলঙ্গ
~বিদিশা নাথ
রাস্তায় আজ সবাই নেমে পড়েছে
উলঙ্গ,উন্মত্ত, উন্মুখ।
সবাই হাঁটছে সজোরে,
হাঁটতে হাঁটতে ওরা সবাই,
রাজবাড়ীর ঠিক দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
দশটা সান্ত্রী, কুড়িটা বর্শা, দুটো লোহার শিকল।
শত শত উলঙ্গ সোজা শিরদাঁড়া দেখে ওরাও ভয় পেয়েছে।
আজ সব খুলে রেখে
স্তাবকতার জঞ্জাল,
পৃষ্ঠপোষকতার মোহ,
বাহবার মুখোশ,
তৈলমর্দনের ঘনিষ্ঠ আওয়াজ,
সব দুমড়ে মুচড়ে  ওরা শুধু শরীরটাকে সঙ্গে এনেছে।
নির্বাক,উন্মুক্ত স্পর্ধার শরীর টাকে।
উলঙ্গ এই মন গুলোই আজ
এই অচলায়তন ভেঙে ফেলবে এক নিমেষে।

অপেক্ষা
~বিদিশা নাথ
তুমি বুঝবে কি পরের বার?
আদৌ পরের বার বলে যদি কিছু থাকে?
যদি পরের বার অপেক্ষা করাও,
আমি অপেক্ষাতে থাকব।
যদি বলে যাও,'এ যাওয়া শেষ যাওয়া নয়",
"বছর খানেক পরে ফিরে আসব আবার সঠিক সময় হলে"।
হাতে অনেক সময় নিয়ে থাকব।
যদি বলে যাও,"পরের বার ঠিক আসব,
ঠিক সময়ই আসব"।
রেলগাড়ির ঝমঝম আওয়াজে,
লাইনদুটো যেমন চলতে থাকে পাশাপাশি ,
এজনম নয় সেভাবেই চলব।
তবু থাকব।
পরের জনম দেখবে মিশে যাওয়া,
ভুলে যাওয়া আর যা কিছু।
তবু মনে রাখব।
পরের বার এবারের দেওয়া কথা,
আঁকড়ে ধরে বাঁচব।


ছোট্ট গল্প
~বিদিশা নাথ
বাড়ি থেকে বেরিয়ে বুঝলাম পথ হারিয়েছি,
বাড়িতেই ফেলে এসেছি,
চশমা, লাঠি আর পুরানো শিরদাঁড়াটা,
মানে যা যা লাগে ভালো করে দাঁড়াতে আর দেখতে।
বাসের পাদানি তে দাঁড়িয়ে চিন্তা করলাম,
আমি কি দেখতে পেলাম!
উস্কো খুস্কো দাড়ি ওলা লোকটাকে?
যে পরম মমতায় মেয়েটার বুকে কনুই বোলাচ্ছে,
ওহ! আমি তো চশমা আনিনি!আনিনি শিরদাঁড়াও!
ছেলেটার মুখে অশ্রাব্য শব্দ,
আমি বোবা দৃশ্যপট নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম,
আমি স্রোতের মধ্যে ভাসতে ভাসতে,
বাড়ি এলাম।
মিথ্যের দুর্গন্ধ ওলা একটা স্রোত।
এসে বুঝলাম ঘরের ভিতর 'আমি' টাকেই
 ফেলে এসেছিলাম আজ।

সোমবার, ৮ জুলাই, ২০১৯

বুঝতে পারি নি , সরি

অর্পনের ফ্লাটের দরজায় কলিং বেল টা বাজিয়ে কিছুক্ষন অপেক্ষা করলো সুদেষ্ণা। কিছুক্ষন বাদে অর্পনের কাজের দিদি মানুদা মাসি দরজা খুলে বললো , "বাবু স্নানে গেছে, তুমি বসো।" সুদেষ্ণা বসার ঘরের সোফায় বসে কিছুক্ষন বাদে অর্পনের ঘরে ঢুকে পড়লো। ঢুকতেই একটা চেনা গন্ধ তাকে আকৃষ্ট করলো যেন।
            অর্পনের ফ্ল্যাটের এই ঘরটা সুদেষ্ণার খুব পরিচিত। একই অফিসে চাকরি করতে করতে ওদের বন্ধুত্ব। একটা সময় এমন ছিল যে দুজন একে অপরের সাথে কথা না বলতে পারলে কারুরই মুড ভালো থাকতো না। দিনে অন্তত একবার করে অফিস থেকে ফিরে ফোনে কথা হতোই। সুদেষ্ণার বাড়ি পার্ক সার্কাস। অর্পণ উত্তরবঙ্গ থেকে এসে ফ্ল্যাট নিয়েছিল টেকনোপলিসের কাছেই। তবে রাজারহাটে অফিস শেষ হওয়ার পর দুজনেই করুণাময়ী অবধি মুড়ি খেতে খেতে ইভনিং ওয়াক করতো। তারপর সুদেষ্ণাকে শাটল গাড়িতে তুলে দিয়ে অর্পণ একটা বাসে করে ফ্ল্যাটে ফিরত। সুদেষ্ণা জানতো যে অর্পণ ওকে খুব পছন্দ করে। কিন্তু সে কখনোই অর্পণকে বোঝাতে দ্যায়নি যে সে জানে। অর্পণ কখনো কখনো আকারে ইঙ্গিতে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল। সুদেষ্ণা হাবভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে সে বন্ধুত্বে এই ব্যাপারগুলো পছন্দ করে না। একদিন অর্পণ যখন মেসেজে বলেছিল "তোকে আমার ভালো লাগে", সুদেষ্ণা রিপ্লাই দিয়েছিল যে , "বন্ধুত্ব রাখার হলে এই মেসেজ গুলো মোবাইলে যেন না আসে, নাহলে বাধ্য হবো বন্ধুত্ব নষ্ট করতে।"
             তারপর থেকে অর্পনের দিক থেকে ওরকম মেসেজ সত্যিই আসেনি। বন্ধুত্বে ছেদও পড়েনি। শুধু অর্পণ একটু সামান্য শান্ত হয়ে গেছিলো। সুদেষ্ণা পরে ভেবেছিল যে ওরকম ভাবে বলা উচিত হয়নি, কিন্তু সে অবশ্য এসব নিয়ে বেশি ভাবেনি। সে ভেবেছিল ছেলেদের স্বাভাবিক গুন,মেয়ে বন্ধু দেখলেই ভালো লাগা , সেটারই একটা বহিঃপ্রকাশ মাত্র। এটাকে বেশি পাত্তা দেওয়া উচিত না, আস্তে আস্তে আবেগ কমবে। ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যায়। অর্পণ কিছুদিন বাদে অন্য অফিসে চাকরি পেয়ে চলে যায়, ফ্ল্যাট টা রেখেই দেয়, কিন্তু যোগাযোগ কমে। অন্যদিকে সুদেষ্ণা নতুন প্রজেক্টের টিম লিড সৌম্য দা র সাথে কাজ করতে করতে তারই প্রেমে পড়ে ধীরে ধীরে রিলেশনে চলে যায়। সামনের মাসে ওদের বিয়ে। তারই কার্ড দিতে অর্পনের ফ্ল্যাটে আসা।
         সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে হটাৎ সুদেষ্ণার চোখ যায় অর্পনের ড্রয়িং খাতায়। চিত্রশিল্পী হিসাবে অর্পনের নামডাক ভালো ছিল। অর্পনের খাতা ওল্টাতে ওল্টাতে হটাৎ একটা পাতা ও নিচে কয়েকটা লাইন দেখে শিহরিত হয়ে যায় সে, হ্যাঁ এটা তো তারই ছবি, অর্পনের নিজের হাতে আঁকা। নিচে লেখা পেন্সিলের কটা লাইন "যেটা ছিলোনা ছিলোনা, সেটা না পাওয়াই থাক, সব পেলে নষ্ট জীবন। " এটুকু দেখে সুদেষ্ণার সব গুলিয়ে যেতে লাগল। এই ছবি আঁকা, তারপর লাইন গুলো, এগুলোতো শুধু ভালোলাগা না, কখনোই না। তড়িঘড়ি উঠে অর্পনের রোজনামচা লেখার ডাইরি টার গত বছরের সংখ্যাটা সে আলমারির পাশে সেলফ থেকে নিল। 20 মে ছিল সেই দিন যেদিন সে অর্পণ কে তিরস্কার করেছিল। হ্যাঁ, খুলে দেখলো লেখা আছে , "আজ আমি হয়তো তোর মেসেজ পড়ে অল্প কেঁদেছিলাম, কিন্তু বিশ্বাস কর, আমার রাগ হয়নি, আমি তোর যোগ্য না আমি জানি, কিন্তু তুই আমার কাছে সেরাই থাকবি, তোকে পাইনি, কিন্তু একটা এত ভালো বন্ধু পেয়েছি সেটাই আসল, ভালো থাকিস সুদেষ্ণা, আর আমি একাই থাকবো, তোর মতো কাউকে তো পাব না, তাই আমি এমন কারুর সাথে রিলেশনে যেতে পারব না, যেখানে সারাক্ষন তোর কথা, ওই ইভনিং ওয়াক, মুড়ি খাওয়া, তোর আমায় লেগ পুলিং করা মনে পড়বে, তাই একাই থাকি, সব কিছু সবার জন্য না।"

কিছুক্ষন হতভম্ব হয়ে বসে রইলো সুদেষ্ণা, তারপর কার্ড টা টেবিলের উপর রেখে জলদি তাড়াহুড়ো করে প্রায় দৌড়ে বেরিয়ে গেল অর্পনের ফ্ল্যাট থেকে। পিছনে তখন মানুদা মাসি চেঁচাচ্ছে "কি গো, চা টা খেয়ে যাও।" আজ আর অর্পণকে মুখ দেখানোর অবস্থায় নেই সুদেষ্ণা। একটা দমবন্ধ করা পরিবেশ তাকে ঘিরে ধরেছে, এখান থেকে তাকে পালাতে হবে। অর্পণ তাকে সত্যি ভালোবাসতো, এটা ও বোঝেনি। সৌম্য দা সত্যি একজন দায়িত্ববান ও ভালো স্বামী, কিন্তু অর্পনের মতো আগে ভালো বন্ধু ও তাকে সম্পূর্ণ বোঝাটা সেখানে একটু মিসিং, কারণ প্রথমত বয়সের গ্যাপ, দ্বিতীয়ত ওরা বন্ধুত্ব থেকে প্রেম করেনি, প্রেমের ইচ্ছায় প্রেম করেছে, আর অর্পনের মতো সৌম্য দার অতো সময় নেই সারাক্ষন ওর যত্ন নেওয়ার। এক লহমায় অনেক কিছু গোলমাল হয়ে যায় সুদেষ্ণার। ট্যাক্সিতে ওঠার আগে একবার বাড়িটার দিকে তাকিয়ে সে বলে উঠলো, "বুঝতে পারিনি অর্পণ, সরি।"
বারাণসী ও এলাহাবাদ দর্শন

অফিসের একঘেয়েমির  চাপ ও ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে হটাৎ করে ঠিক হলো বারাণসী ও এলাহাবাদ ভ্রমণ করা হবে। সেই মতো প্ল্যান বানিয়ে কলকাতা স্টেশন থেকে শব্দভেদী এক্সপ্রেসে চড়লাম এক শুক্রবার রাত 10 টা 35 মিনিটে। বারাণসী পৌছালাম পরেরদিন সকাল 10 টায়। অটো নিয়ে গেলাম 3 কিমি দূরে হোটেল জানকী ইন্টারন্যাশনাল । আগে থেকে রুম বুক করা ছিল। ফ্রেশ হয়ে অল্প খাওয়া দাওয়া করে একটা গাড়ি নিয়ে প্রথমে গেলাম কোতোয়ালিতে কালভৈরব মন্দিরে। সেখান থেকে 13 কিলোমিটার দূরে সারনাথ গেলাম। বোধগয়ায় 'বোধি' লাভের পর বুদ্ধদেব সারনাথে এসে এখানকার মৃগ উদ্যানে ধর্মীয় উপদেশ দান করেন 5 জন শিষ্যের কাছে । বৌদ্ধদের কাছে এই ঘটনা 'ধর্মচক্র প্রবর্তন' নামে খ্যাত। সারনাথ নামটা এসেছে সারঙ্গনাথ (সারঙ্গ শব্দের অর্থ মৃগ) থেকে। সারনাথের প্রবেশের পথেই বাদিকে চৌখন্ডি স্তূপকে ছোটখাটো টিলা বললেও অত্যুক্তি হায় না। সম্রাট অশোক ২৩৪ খ্রি: পূর্বাব্দে এখানে এসেছিলেন। উনি এই সুবিশাল স্তূপটি নির্মাণ করান। সারনাথের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দ্রষ্টব্য চোঙ্গাকৃতি সাড়ে তেতাল্লিশ মিটার উচু ধামেক স্তূপ। ভূমির কাছে এই স্তূপের ব্যাস ২৮ মিটার এবং নিচের অংশে দেখবেন গুপ্তযুগের স্থাপত্য নিদর্শন। সারনাথের অপর আকর্ষণ মহাবোধি সোসাইটি নির্মিত বুদ্ধমন্দির। এই মন্দিরে মূর্তিটি তৈরি করেন রাজা ধর্মপাল। সারনাথের সংগ্রহশালায় অসংখ্য বুদ্ধ মূর্তির সংগ্রহ বিস্ময় উদ্রেক করে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো বৌদ্ধ শিল্প ও ভাস্কর্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শনগুলো এবং অশোকস্তম্ভের শীর্ষদেশের চারটে পরস্পর সংলগ্ন সিংহমূর্তি। শুক্রবার মিউজিয়াম বন্ধ থাকে। অন্য দিন খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে ৫টা। এরপর আমরা গেলাম অন্নপূর্ণা মন্দির। পেশোয়া বাজিরাও ১৭২৫ সালে এই মন্দিরটি নির্মান করেন। এরপর লাল রঙের দূর্গা মন্দির ও কুন্ড দর্শন করলাম। মন্দিরটি অষ্টাদশ শতকের। গর্ভাগৃহে দেবীর বিগ্রহ খুব জাগ্রত। দূর্গা মন্দির থেকে আরও কিছুটা এগিয়ে বাঁ হাতে পড়ে সাদা রঙের সুবিশাল তুলসী মানস মন্দির। মন্দিরে শ্রীরামের বিগ্রহ ছাড়াও আকর্ষনীয় এখানকার দেওয়াল, যেখানে খোদাই করা আছে রামচরিতমানসের বিভিন্ন পদ। এরপর গেলাম বেনারস হিন্দু বিশ্ব বিদ্যালয়। পণ্ডিত মদনমোহন মঙ্গল কাব্যের সক্রিয় উদ্যোগে গড়া বেনারস ইউনিভার্সিটি কমপ্লেক্সের মধ্যেই রয়েছে ভারত কলা ভবন নামক মিউজিয়াম এবং বিড়লাদের তেরি  সুউচ্চ নব বিশ্বনাথ মন্দির। সেখান থেকে সংকোটমোচন মন্দির দর্শন করে চলে এলাম দশাশ্বমেধ ঘাট অঞ্চলে। অসাধারণ গঙ্গা আরতি দর্শন করে রাস্তায় বারাণসী স্পেশাল ডিনার করে টোটো ধরে ক্লান্ত শরীরে হোটেল ফিরলাম ।
                 পরেরদিন সকালে উঠে গেলাম কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে পুজো দিতে। প্রাচীন মন্দির ধবংস হয়ে যাবার পর বর্তমান মন্দিরটি নির্মান করেন ইন্দোরের মহারানি অহল্যাবাঈ হোলকার (১৭৭৭) সাল। পাঞ্জাবের মহারাজা রঞ্জিত সিং প্রায় সাড়ে আটশো কেজি ওজনের সোনার পাতে মন্দিরের উপরের অংশ মুড়ে দেন। মন্দিরের মধ্যেই রয়েছে আওরঙ্গজেবের তৈরি জ্ঞানবাপী মসজিদ। 3 ঘন্টা লাইন দিয়ে দ্বাদশ জ্যোতিলিঙ্গের অন্যতম বিশ্বনাথ দর্শন হলো। এরপর কিছু খাওয়া দাওয়া করে গেলাম চুনার দুর্গ। বারাণসী থেকে ৩৫ কিমি দুরে চুনারের প্রধান আকর্ষণ গঙ্গার ধারে সুবিশাল দুর্গ। পুরানমতে বামন অবতারে ভগবান বিষ্ণু তার প্রথম চরণ স্থাপন করেন এখানকার পবিত্র ভূমিখন্ডে তাই এর নাম হয় চরনাদ্রি। উজ্জয়িনীর শাসক মহারাজা বিক্রমাদিত্যের ভাই ভতৃহরি এখানে কঠিন তপস্যা করার পর জীবন্ত সমাধি নিয়েছিলেন। চুনার দুর্গের ইতিহাসও সুপ্রাচীন। অনেক ঐতিহাসিকের মতে রাজা সহদেব ১০২৯ সালে বর্তমান দুর্গটি নির্মান করেন। প্রথম মুঘল সম্রাট বাবর ১৫২৫ সালে এই দুর্গের অধিকার নেন। মাঝে শেরশাহের হাতে চলে যাবার পর আকবর পুনরায় দুর্গ জয় করেন ১৫৭৪ সালে। এরপর টানা প্রায় দুশো বছর মোঘলদের অধীনে থাকার পর ১৭৭২-এ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দখল করে ঐতিহাসিক চুনার ফোর্ট। জনশ্রুতি আছে এই দুর্গ থেকে একটি ঐতিহাসিক গোপন সুরঙ্গ পথ গঙ্গায় নেমে গেছে। বর্তমানে ভারত সরকার এখানে গড়ে তুলেছে প্যাকের (প্রভিনশিয়াল আমর্ড কোর) ট্রেনিং সেন্টার। তাই কেবলমাত্র সোনহা মন্ডপ ও ভতৃহরির সমাধি ছাড়া দুর্গের অভ্যন্তরে সাধারন পর্যটকদের প্রবেশ অধিকার নেই। দুর্গ ছাড়াও চুনারে দেখবেন হজরত সুলেমানের সমাধি  ও প্রায় ২ কিমি দূরে দূর্গামন্দির ও কালীমন্দির। দুর্গের কুঁয়া টি বিশাল । এরপর গেলাম পূর্বের বারাণসীর  রাজাদের দুর্গ  রামনগর ফোর্ট। এখানে দেখবেন - রাজাদের ব্যবহত বিভিন্ন আমলের ঘোড়ার গাড়ি,  পালকি , কারুকার্যমন্ডিত হাওদা , পোশাক পরিচ্ছদ ,অভিনব ঘড়ি , প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র।
দুর্গের একটা অংশে দেখবেন রামনগরের বিখ্যাত রামলীলার কিছু দৃশ্যের  ফটোগ্রাফ।  দুর্গের প্রবেশমূল্য 25 টাকা। এরপর গেলাম বারাণসী থেকে ৭০ কিমি দুরে ৫১ সতীপীঠের অন্যতম বিন্ধ্যাচলের প্রধান দ্রষ্টব্য বিন্ধ্যাবাসিনী মন্দির। এই স্থানে সতীর বাম পায়ের আঙুল পড়েছিল। পুরানমতে এই সেই স্থান যেখানে দেবী স্বহস্তে শুম্ভ নিশুম্ভকে বধ করেন। বিন্ধ্যবাসিনী মন্দির থেকে ৩ কিমি দুরে বিন্ধ্যপবর্তের ওপর দেবী অষ্টভুজা মন্দির। সংকীর্ণ গুহাপথে ভেতরে গিয়ে মূর্তি দর্শন করতে হয়। এরপর ফিরে এসে অসি ঘাট থেকে নৌকো  নিয়ে দর্শন করলাম দশাশ্বমেধ ঘাট,
মনিকর্নিকা ঘাট, হরিশ্চন্দ্র ঘাট, তুলসী ঘাট,
মানমন্দির ঘাট, কেদার ঘাট প্রভৃতি। এরপর একটু কেনাকাটা করে হোটেলে ফিরে ডিনার করে শুয়ে পড়লাম।।
                  পরেরদিন সকালে 9.40 ঘটিকায় বিভূতি এক্সপ্রেসে চেপে বারাণসী স্টেশন থেকে রওয়ানা দিয়ে 12.30 এ পৌছালাম এলাহাবাদ স্টেশনে। রিকশ করে গেলাম আমাদের গন্তব্য হোটেল কাশীতে। এরপর লাঞ্চ করে একটা গাড়ি নিয়ে  চললাম শহর দর্শনে। প্রথমে গেলাম আনন্দ ভবন।  নেহরুর পৈতৃক বাসভবন বর্তমানে জাতীয় সংগ্রহশালা। পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত জিনিসপত্র এখানে খুব সুন্দর করে সাজানো আছে। এখানে আরও দেখবেন , স্বরাজভবন ও জহর প্ল্যানেটোরিয়াম। এরপর দেখলাম এলাহাবাদ  মিউজিয়াম ও চন্দ্রশেখর আজাদ গার্ডেন যেখানে উনি পিস্তলের গুলিতে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন ব্রিটিশ পুলিশের হাত থেকে অব্যাহতি পেতে। এরপর  গেলাম ত্রিবেণী সঙ্গমে যা প্রয়াগ নামে পরিচিত। এখানে  উত্তর ভারতের প্রাণদায়ী দুটি প্রধান নদী গঙ্গা ও যমুনার সঙ্গমস্থলে সরস্বতী মিশেছে।  ত্রিবেণীকে ঘিরে প্রতি বছর মাঘমাসে বসে মকরসংক্রান্তি মেলা। ছয় বছর অন্তর অর্ধকুম্ভ  আর বারো বছর অন্তর বসে পূর্ণকুম্ভ মেলা। পিতামহ ব্রহ্মা 'প্রকৃস্ট যজ্ঞ' করে এই স্থানের নাম রাখেন 'তীর্থরাজ'। নৌকা করে সঙ্গম দর্শন ও পুজো দেওয়ার ব্যাবস্থা আছে। সঙ্গমের কাছে আকবরের তৈরি সুবিশাল এলাহাবাদ কেল্লা যার অধিক অংশ মিলিটারিদের দখলে। সামনের অংশে পাতালপুরী মন্দির ও অক্ষয়বট দেখতে পারেন। পাশেই রয়েছে হনুমান মন্দির। অভিনব মন্দিরে দেখবেন পবনপুত্র হনুমানের বেশ বড় আকারে শায়িত মূর্তি। বলা হয় বছরে একবার হলেও সঙ্গমের জল ফুলে উঠে পবনপুত্রের চরণ ধুইয়ে দেয়। এর পর গেলাম শঙ্কর বিমান মণ্ডপম। সঙ্গমের কাছে হাল আমলে তৈরি ১৩০ ফুট উঁচু চারতলা মন্দিরের বিভিন্ন তলায় দেখবেন তিরুপতি বালাজি, কমক্ষাদেবী, শিবলিঙ্গ সহ জগৎ গুরু শঙ্করা চার্যের বিগ্রহ। এরপর এলাহাবাদ হাই কোর্ট ও চার্চ দেখে চলে গেলাম খুসরুবাগ। সুসজ্জিত উদ্যানের মাঝে জাহাঙ্গিরের বড়ছেলে খুসরুর এই সমাধি সৌধ মোগল স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত। বেলে পাথরের এই সৌধের পাশে যুবরাজের মা শাহ বেগমকে সমাহিত করা হয়েছে। এরপর হোটেলে ফিরে ডিনার করে রাত 11.40 এ রাজধানী এক্সপ্রেসে চড়ে পরেরদিন সকাল 10 টায় হাওড়া পৌছালাম। স্বল্প সময়ের এই ট্রিপে দর্শন করলাম ইতিহাসের কিছু মনোমুগ্ধকর দলিল।।


বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:

1) জানকী হোটেলের ফোন নম্বর 8067616761. রুম ভাড়া 2000 টাকা সর্বনিম্ন।

2) হোটেল কাশীর ফোন নম্বর 5322400812. সর্বনিম্ন রুম ভাড়া 1900.এখানে লাঞ্চ ও ডিনারে 200 টাকায় নিরামিষ আনলিমিটেড থালির সুব্যবস্থা আছে।।

3) সারনাথের পবিত্র ভূমিতে একরাত কাটাতে চাইলে পাবেন পর্যটন বিভাগের-রাহী ট্যুরিস্ট বাংলো। ফোন নম্বর 5822595965 ।

4) বারাণসীতে স্বল্প দামের অনেক ধর্মশালা আছে যেখানে থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা আছে।

5) ট্রেন ছাড়াও বারাণসী থেকে এলাহাবাদ যাওয়ার বাস ছাড়ে টার্মিনাস থেকে।।

6) নৌকাবিহারের জন্যে অনেক টাকা বেশি চায়। দরাদরি করা অবশ্যকর্তব্য। শেয়ারে 100 টাকা করে নৌকা ভ্রমণে নেয়। তবে ভালো করে ঘুরতে চাইলে আলাদা নৌকা ভাড়া করা ভালো।।

মহারাজের জন্য





তুমি এক আগুন যেন
খোলা মাঠ বাইশ গজে
প্রথমেই সেলাম জানাই
মহারাজ তোমায় সাজে।

তুমিই তো কাঁপিয়ে ছিলে
বাঙালির সাহস মনে
কোনো এক বাঙালি ছেলেও
জিতে কাপ আনতে জানে।

গজে মাঠ পেরিয়ে গিয়ে
বল তো উড়ছে হাওয়ায়
বাঙালির গর্ব তুমি
এমন এক ছেলেকে পাওয়ায়।

যে ছেলে পাহাড় প্রমান
রেকর্ডকে গড়তে পারে
বিদেশে বুক দেখাল
ভারতের অহংকারে।

তুমি এক স্বপ্ন যেন
ফুটে ছিলো হাসনুহানায়
দাদার আজ জন্ম দিনে
দাদাকে সেলাম জানাই।



লেখাঃ- সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন)
অসাধারণ ছবিটি করেছেন আমাদের খুবই পরিচিত জন অভিব্রত দা

শনিবার, ৬ জুলাই, ২০১৯

 সংসার সুখের হয় --------------
--------------------------------------
কলমে # সোনালী নাগ
-----------------------------------------

বাইরে শুধু লড়াই সে নয়,
সেতো অন্দরে তেও আছে,
দাপুটে মেয়েও  নিজের ঘরে ভয় তাড়িয়ে বাঁচে,
চরিত্র নিয়ে টানাটানি হয়তো খুবই সোজা,
মেয়ে মানেই টানা পোড়েন,
মেয়ে মানেই বুঝি বোঝা,
মুখোশ গুলো খুব আপনার,
হয়তো প্রিয়জন
বিশ্বাসে যে  বিষ ঢালা আছে,
তা বোঝে কি মন?
শাড়ির আঁচল আর
পোশাকে মেয়ের নাকি মরণ,
বলো তবে দুধের শিশুর রক্তযোনি,
কি তার কারণ?
ইচ্ছে ক'রে গুঁড়িয়ে ফেলি দাঁতের গোড়া যত,
ইচ্ছে করে মুখোশ টেনে হিঁচড়ে আনি 
দিনের আলোয় ইচ্ছেমত,
অষ্টমীর মা যখন জাগছে মনে মনে,
কানের কাছে কে বলে যায় -----
"সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে "
আর তারপর,
তারপর তো সবই জানা,
মেনে নেওয়া মানিয়ে নেওয়া বেদ বাক্য যত,
নিজেকে বুঝিয়ে চলা দিনে রাতে রীতিমতো,
দূর্গা কে তাই বছর ভর আসনে তুলে রাখা
স্বর্গ থেকে নেমে আসা, 
চমৎকারের আশায় বেঁচে থাকা !!!
বস্তা পঁচা এঁদো কথার জাল বুনে যাওয়া মনে
বদলে নিয়ে লেখো দেখি ----
সংসার সুখের হয় রমনীর খুনে !!!!


: রাজকন্যের গপ্পো
==============
সোনালী নাগ
--------------------------

কথার টানে কথার পাহাড়,
কাছে কিংবা দূর,
রূপকথাতে ছুঁয়ে দেখা নদী সমুদ্দুর !!
রাজকন্যা দৈত্য দানব পক্ষীরাজের দেশে
রাজারকুমার দাঁড়ায় এসে  অন্ধকারের শেষে !!
দুয়ো রানীর দুঃখ থাকুক, সুয়ো রানীর সাধ,
মন্ত্রী কোটাল হাতিশালের গল্প থাকুক অবাধ !
নটে গাছটা বাঁচুক আরো, বাঁচুক ছেলেবেলা,
তবু সত্যি ছিলো সে আজগুবি গল্প গুলোর মালা
মায়ের আঁচল হারিয়ে দেখি, হায় -জীবন নাট্যশালা !!
বড় হবার তাগিদ তাতে মনটা ছোটো হয়,
অশুভ সব শক্তি গুলো জাঁকিয়ে বসে
 আর  জীবন বয়ে যায়,
কোন পুকুরে ডুব দেবো? কোন গুহাতে তাকে পাবো?
মাকড়সার জালে বন্দি, গুমরে মরি তায়,
দৈতটার প্রাণভোমরা খুঁজে পাওয়া দায় !!
আকাশ কালো সূর্য উধাও এক গ্রহণের ফাঁদে,
একটু আলোর খোঁজে তাই সকাল সন্ধ্যে এখন জানো,  রাজকন্যা কাঁদে !!!
 হঠাৎ সেদিন

সৌমেন দাস

যেদিন তোর কবোষ্ণ বুকে
রেখেছিলাম প্রথম হাত,

বুঝেছিলাম
ঘনিয়ে এসেছে রাত,

বাড়ি ফিরতে হয়েছিল হঠাৎ ...!


অন্য মোহনা

সৌমেন দাস

একবার ফিরে আয়
দেখবি বারান্দা জুড়ে সেই চেনা গন্ধ
বাগানে এখনও পিউলিরা হাসে
এখনও ছাদের ওই কোণটাতে ঠিকরে পড়ে বিকেল রোদ্দুর
আর ওই বেহায়াটা সকাল-সন্ধে ডাক দিয়ে যায়
পিউ কাঁহা পিউ কাঁহা পিউ কাঁহা পিউ ...

একবার ফিরে আয়
শুধু একবারটি
দেখে যা-না কতই সুখে আছি
ভরা সংসার, টবের মানিপ্লান্ট
আর ওই বেহায়াটাকে নিয়ে ...

তবু
শুধু একবার ফিরে আয়
আমার সঙ্গে এক অন্য মোহনায় ...
জীবন_কথা

#মুনমুন_মুখার্জ্জী

ছুটছে সবাই ছুটছে ভাই
ছোটার কোনো বিরাম নাই।
উপরে ওঠার চলছে লড়াই
বন্ধুকে হারানো সহজ উপায়।
বিশ্বাস অর্জন করছে আগে
পিছনে ছুরি চালিয়ে ভাগে।
ভালবাসার নেই প্রতিদান
স্বার্থ সিদ্ধি চলছে স্লোগান।
সবাই সবার শত্রু আজ
ধোঁকা দিতে নেই তো লাজ।
শত্রু ভাবনাটা সিঁড়ি যে হয়
পথ তাই তো সহজেই হয়।
বন্ধু সবাইকে বলতে হয়
বিশ্বাস করলেই ঠকতে হয়।
ভালবাসার মুখোশ পরে
চরম ক্ষতি করতে পারে।
ভালো চায় যে, দোষটা ধরে
চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে।


ক্ষোভ

#মুনমুন_মুখার্জ্জী

পাহাড়ে জ্যাম, অভিযাত্রীরা চলেছে স্বদলবলে,
এভারেস্টকেও রাখতে চায় নিজের পদতলে।

এভারেস্টের উঁচু মাথা ওর গর্ব নয় সহ্য ক্ষমতা,
আনাচে কানাচের মায়াবী দৃশ্য তারই  মহানুভবতা--

পারলে তাকে মন থেকে করো সম্মান--
মাথায় চড়ে তাকে করো না অপমান।

উপরে ওঠার মোহে সবার বুদ্ধি পেলে লোপ,
ক্ষোভ বাড়তে বাড়তে হয়ত পৃথিবী হবে বিলোপ।


#অভিমানী_মেঘ

#মুনমুন_মুখার্জ্জী

মনের কোণে জমে আছে অভিমানী মেঘ,
ছিনিমিনি খেলে সবাই নিয়ে সবার আবেগ।

সবাই দেখি উঠেছে আজ পুতুল নাচে মেতে,
টানছে সুতো সুযোগ বুঝে মুখোশ মুখে এঁটে।

হাত জোড় করে একদিন ভিক্ষা করেন যিনি,
ভোটের পরে কুকুরের মত তাড়িয়ে দেন তিনি।

আচ্ছে দিনের স্বপ্ন দেখিয়ে বহুমত পেল যে,
স্বল্পসঞ্চয়ের হার কমিয়ে শেষে ভাতে মারবে সে।

যে মেয়েটি ভালবাসায় সবাইকে জড়িয়ে রাখে,
একলা ঘরে রক্তাক্ত হয়ে ডাকতে পারে না মাকে।

আনুগত্য দেখে যার সবাই চোখ বুজে বলে খাঁটি,
হিংসায় উন্মত্ত কেউ তাকে দিতেই পারে কাঠি।

লোভের আগাছা প্রতিনিয়ত দিচ্ছে যে হাতছানি,
সেই আগুনে হাত সেঁকলে টানতে হতে পারে ঘানি।

ক্ষমতার দম্ভে কেউ সর্বস্ব কাড়ছে কারো,
কেউ হয়ত ঘুম কাড়বে একদিন ঠিক তারও।

দেখে বুঝে এসব কিছু মাথা যাচ্ছে ঘেঁটে,
প্রতিবাদী মানুষ পাই না, সবাই পড়ে কেটে।

সবার মাঝে দিচ্ছি মিছে আনন্দে গড়াগড়ি,
আয়রে বৃষ্টি তোকে জড়িয়ে ঝরঝরিয়ে ঝরি।



 #দিতে_পারবে

#মুনমুন_মুখার্জ্জী

দিতে পারবে এমন একটাও সকাল,
যে সকালে কোনো বৃদ্ধ হাহাকার করবে না,
যে সকালে কোনো নারী আর্তনাদ করবে না,
যে সকালে কোনো একাকিত্বে ভুগবে না,
যে সকালে কোনো শিশু খিদেয় কাঁদবে না,
যে সকালে কোনো কুঁড়ি ফোটার আগেই ঝরবে না --
জানি কেউ কোনদিন পারবে না, তুমিও না, আমিও না ---
আর যে মানুষগুলো সবার দোষ ধরে তারাও না।
আমরা নিজের গোছাতে ব্যস্ত, কারোর জন্য ভাবি না।
একই অবস্থা আমাদেরও হতে পারে সে চিন্তা করি না।
: চাল

বিদিশা নাথ

দু মুঠো চালে কতটুকু ভাত হয় জানা নেই।
বাসনে ধরে না যতটা,
হাঁড়িতে উপচায় না যতটা,
মা বলে গেছে দু মুঠোই নিতে হাতে।
মা-র শাড়িটা একটু কম ছেঁড়া আজ,
ঘরে আজ তেলের গন্ধ ভাসছে,
চুলে মেখে মা আজ বেরিয়েছে।
দু মুঠো চালে কোন পেট টা ভরে জানা নেই,
বড়-র ,মেজ-র না সেজ-র!
মা বলে গেছে বড় কে দিতে বেশী টা।
মা জানে ওর চামড়া কত নরম।
মা জানে পরের দিন ছেঁড়া শাড়ী টা
বড়-ই পরবে।
বড়-র চামড়া খুব নরম।


বিশ্বাস ভাঙার আগে

~বিদিশা নাথ

বিশ্বাস ভাঙার ঠিক আগে,
অবাঞ্ছিত কোনো শব্দ হয়না।
তারপর একদিন বেশ সাজানো গোছানো একটা মোড়কে,
মৃত হৃদয় জড়িয়ে আমি,
শেষমেশ প্রেমিকার বাড়ি ফেলেই এলাম।
একটা ছুরি দিয়ে বললাম,
"নাও এবার তো পারবে!
যত্নে খোদাই করতে!
খোদাই করো অজন্তার কারুকার্য,
খোদাই করো ইলোরার ভাস্কর্য, যত্নে;
খুব যত্নে কেটে কেটে বসাও
সূর্যমন্দিরের ঢলে পড়া
সূর্যের শেষ ছাপ"।
তোমার গোপন আশ্লেষ ভরা চোখ দেখে,
কষ্ট হয়নি আমার!
শুধু কান পেতে শুনছিলাম
কই কোথাও আওয়াজ হল না তো!
ও! আমি তো ভুলে গেছিলাম,
বিশ্বাস ভাঙার পরেও ,
কোনো টুকরো,বাজে,অতিরিক্ত আওয়াজ হয় না!


ক্ষুধা

~বিদিশা নাথ

লাইনের আমি, চটপট ঝটপট।
ফেলো কড়ি মাখো তেল,কাজ সারো।
শেষ করো ভুয়ো দাপাদাপি,
ঠোঁটে কামড় দেওয়া শুকনো রক্ত,
বুকের খাঁজে আঁচড়,
কপালের কোণে একটা অবাঞ্ছিত কালশিটে দাগ,
সব নিয়ে সেজে দাঁড়িয়ে
লাইনের আমি,
খকখক, ঘঙঘঙ কাশির আওয়াজ চাপা পড়ে,
বিকৃত চিৎকার আর শীৎকারে।
সব ঢাকা দিয়ে দোমড়ানো শরীর ,
আর কুঁচকানো নোটের তাড়া নিয়ে,
লাইনের আমি।
বাড়ি যেতে হবে,
জলন্ত কিছু শ্বদন্ত-এর সামনে দিয়ে,
লাইনের আমি,
শেষরাতে তবু ওরাই আমার সম্বল