নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে

রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯

কবিতা


যদিও গরাদে...
এইমাত্র আমার পোষা খরগোশগুলোকে ঘাস দিয়ে এলাম। ওরাও জিভে ঘাস বুনতে বুনতে জানিয়ে দিল ভালো আছে
যদিও গরাদে। তবু ওরা পাগল নয়
না হলে নিশ্চিত, ঘাস-খেলাপে জানিয়ে দিত আলো নেই



ফিরে যেতে হয় বলে

গাছকে ভালোবাসো বা,
শিশিরের আশেপাশে
খুঁড়ে দ‍্যাখো তোমার অতীত
ওখানে বসে থেকো
ওখানে বসে থেকো না
স্তব্ধ হয়ে আমার মতো
এ ঠিকানা তোমার নয়
এ ঠিকানা তোমার হবে জেনে’ও
ফিরে এসো
ফিরে যেতে হয় বলে


জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি

কবিতা


র বী ন  ব সু
———————

সোঁদাগন্ধ ও সযত্ন বাঙ্ময়

এই যে প্রাচীন জনপদ       পুরনো সোঁদাগন্ধ
অলৌকিক হাওয়ারা সব কেমন এলোমেলো

হাড়হিম করা রহস্যগল্পের নেপথ্যে অনিবার্য টান
তাকে তুমি সঙ্গোপনে পাশে রাখো

হেঁটে যাও দূরে বিলম্বিত আলাপের প্রান্ত ছুঁয়ে
যে মানবী-স্মৃতি তাকে শিলালিপি ভেবে বোসো না

অক্ষরে অক্ষরে আজ মায়ার শরীর
খননে উৎকর্ষ ওঠে,  উঠে আসে সযত্ন বাঙ্ময়

পবিত্র পাপের মত তাকে যদি ক্ষমা করা যায়
উঠোনজোড়া স্মৃতি অবাক বিস্ময় নিয়ে বসন্তকে
                                              দেখে যায়...

গল্প


অমলের পুনরাগমন ও ছেঁড়া পাল
লেখক – পবিত্র চক্রবর্তী
সবে মাত্র ঝড় থেমেছে । পরিত্যক্ত কোয়াটারের দরজায় এক-দুই-তিন করে প্রথমে অল্প থেমে তারপর বেশ জোরে কয়েকবার কড়া নাড়ার শব্দ হতেই বু’দি খাপ্পা হয়ে বলল , “ দেখ তো কে জ্বালায় ?” এখানে বলে রাখি বু’দি আশির দশকের পাড়া কাঁপানো ডাকাবুকো উঠতি মেয়ে তথা আমাদের যাবতীয় অনুষ্ঠানের মাথা । আমি বরাবরই শান্ত , খানিকটা মেয়েলী-কোমল । কারেন্ট চলে গেছে কিন্তু বু’দি তেড়েফুঁড়ে মোমবাতির আলোয় রিহেরসাল চালিয়ে যাচ্ছে । আমার পার্ট অল্প , কাজ কম । ফলস্‌ লাঙল পাশে রেখে টর্চ হাতে দরজা খুলতেই দেখি পাড়ার শুভেন্দু’দা । কেন জানি না আমাকে অদ্ভুত  চোখে দেখত , তখন অত মানে বোঝার বয়স হয় নি । আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে কয়েক পলক তাকিয়ে থেকে বলল , “ বু আছে নাকী রে ?” আমি ঘাড় নাড়িয়ে হ্যাঁ জানাতেই দাদা ইশারা করে ডাকতে বলল। আমি পিছন ফিরতেই দেখি এক ঢাল চুল হাতে পাকিয়ে খোঁপা বাঁধতে বাঁধতে বু’দি হাজির ।
আমি ঘরের ভিতর যাচ্ছি । কানে এল , “ সেকী রে…আত্মহত্যা ! সুমন্ত এমন কান্ড কী করে করল ? পাড়ায় সবাই জানে ?...”
সময়টা গোবরে পোকামার্কা টেলিফোনের যুগ । আশির দশকের প্রথমার্ধ । বাতাসের গরম হাওয়ার ঝাপটা গায়ে এসে পরলেও উৎসাহের খামতি কখনই পরত না । বরং গায়ে যত বেশী হাওয়া লাগতো তত বেশী আমাদের কল্পনার পাল উঠত ফুলে ফেঁপে । সেবার মনে হয় কেউ গোপনে পালের কাপড়ে টুক করে ছেঁদা করে দিয়েছিল । তাই হাওয়া এপার ওপার যাতায়াত করতে সহজেই পেরেছিল । যাকগে সে কথায় পরে আসি । আমার পূর্বপুরুষ কাঁটাতার পেরনো মানুষ । প্রথম জীবন কলকাতায় কাটালেও পরবর্তীকালে জীবিকা সন্ধানে দুর্গাপুরে হাজির হন । তারপর শাল মহুয়া আমলকী ঘেরা অরণ্যে কাটে কালের প্রবাহ । দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল তখন প্রবাসী মানুষের আশ্রয়স্থল । ভোরের ভোঁ শব্দে জীবনের চাকা চলে মন্থর গতিতে । 
আমার জন্ম যখন হয় তখন দুর্গাপুর বেশ কয়েকটা ঘটনা দেখে ফেলেছে । নকশাল আন্দোলন , মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি । সত্যি বলতে এত কিছুর মাঝেও এই মিশ্র সংস্কৃতির মানুষেরা দিব্যি মানিয়ে উঠে ছিল । বছরে বাঁধাধরা কয়েকটা বাঙালী অনুষ্ঠান হতই । “ হতই” শব্দটা ব্যবহার করার কারণ তখনকার ওই না পাওয়ার মাঝে যেটুকু আনন্দ ছিল এখন কালের প্রবাহে কোথায় গিয়ে পরেছে তার হদিস রাখার মত মানুষ আর তেমন নেই । 
না , ইগো নিয়ে মারামারি আমরা কোন কালেই দেখি নি । আর হলেও যত সম্ভব দ্রুত মিটিয়ে নেওয়াটাই ছিল মুখ্য লক্ষ্য । হ্যাঁ যা বলছিলাম , আমাদের বাঙালীদের অনুষ্ঠানে সে পাঞ্জাবী হোক আর দক্ষিনী হোক মেয়েরা শাড়ি আর ছেলেরা ধুতি না হোক কুর্তা-পাঞ্জাবী রীতিমত কিনে পরতো । যেহেতু ইস্পাত কারখানার দাক্ষিণ্যে আমরা বড় হয়েছিলাম তাই টাকার অভাব ছিল না । অভাব ছিল আপনজনদের কাছে পাওয়া । তখন কোলকাতার আত্মীয়দের কাছে দুর্গাপুর বলতে বহুদু…রর । তাই নানা প্রদেশের মানুষেরা ছিল আমাদের নিকট আত্মীয় । আরেকজন ছিল আমাদের সকলের আত্মীয় , তিনি হলেন পোষ্টম্যান কাকু ।
“ ও কাকু আমাদের চিঠি আছে গো …?” এটা ঠিক বেলা একটার সময় বলাটা অভ্যাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে গেছিল । আসত চিঠি তার নিজের সময় মত । খুলে পড়তাম । 
“ স্নেহের অমুক, তোমরা আমার বিজয়ার শুভাশিস নিও …ইতি অমুক ।“ ভরা গ্রীষ্মে শারদের আশীর্বাদ ,হতাস হতাম তখন । এখন বেশ লাগে সেইসব দিনের কথা মনে করতে । 
বাংলা নববর্ষ বেশ জাঁকিয়েই হত । একেই প্রায় অবাঙালী জায়গা তার উপর প্রবাস । আর বাঙালীরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক না কেন বাংলার উৎসব সারম্বরেই করে থাকে । তখনও ছিল আজও আছে । কাজের সূত্রে ভারতের নানা প্রান্তরে যাই , এই বাঙালী বাঙালী বিষয়টা বেশ গভীর ভাবেই দেখি । যাইহোক , নববর্ষের দিন সক্কালবেলা আজন্মকালের বাঙালীর প্রতিনিধি রবীন্দ্রনাথের গলায় মালা পড়িয়েই শুরু হত । কেন হত জানি না । আরেকটু বেলা হতেই দূরের কোন চোঙা থেকে ভেসে আসত “ এস হে বৈশাখ এস এস…।”
দাদু বলতেন , “ ওরে রবি ঠাকুর এই গানটা লিখেছেন বাংলা বছরকে আপ্যায়ন করার জন্যই ।“ গভীরে ভাবার অবকাশ তখন সত্যিই কম ছিল । গুরুজন বলেছেন তাহলে তাই । আর তাছাড়া নববর্ষ মানে কতটা রবীন্দ্রনাথ তা নিয়ে বেশী মাথা না ঘামিয়ে বিকেলে নতুন জামাকাপড়ের আঘ্রাণ আকর্ষণ করত অনেকটা বেশী । কখন বিকেল হবে আর কখন দাদুর হাত ধরে যাবো দোকানে দোকানে । নো পড়া আর নো শাসন । আজ যে নতুন বছর ।
২
রুক্ষ মাটির আঁচলে সুজ্জিমামা ডুব দিতেই আধা নিভু নিভু রোড লাইটের আলোয় দাদু ঠাকুমার হাত ধরে সামনের বিশাল বড় মাঠ পেরিয়ে হাল খাতা করতে যেমন আমি বেরতাম । ঠিক তেমন হুসেন কাকা , লাজপত সিং বা আইয়ার আঙ্কেলের দলও বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে দোকানে দোকানে যেতেন । অবাক হওয়ার বালাই-ই ছিল না । আমার কাছে ওরাও তো বাঙালী ।
এ-কথা স্বীকার্য যে হালখাতার সাথে বাংলা নববর্ষের তেমন কোন ভাইভাই সম্পর্ক নেই । তবুও অন্যান্য অঞ্চলের মত সত্তর-আশীর দশকের দুর্গাপুরের দোকানপাট লক্ষ্মী আর গণেশের পুজোর মাধ্যমে নতুন হিসাবনিকাশের খাতা খুলতো । কয়েকজনকে দেখে সেই সময়ে খুবই ঈর্ষা হত ।
দাদুর কুনুই ধরে বলতাম , “ দাদু সেন কাকিমার ব্যাগ দেখেছো ! এই এত্ত মিষ্টির প্যাকেট আর ক্যালেন্ডার … আমাদের মোটে একটা !” গলায় অভিমানের রেশ বুঝতে পেরে দাদু বলতেন , “ আমারা তো মোটে কয়েকজন , একটা প্যাকেটেই ঠিক তাই না ।“ আসল ব্যাপারটা বেশ বড় হয়ে বুঝেছিলাম । রহস্যটা অন্য জায়গায় । প্রবাসী বাঙালী তার উপর কারখানা নির্ভর জীবনযাত্রা । সূক্ষ্ম অথচ দৃঢ় প্রভেদ ছিল অফিসার আর শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যে । অনেকেরই ছিল ধারের খাতা । যার যত ধারের খাতা তার তত মিষ্টির প্যাকেট । মিষ্টি দিয়ে কিছুটা টাকা উশুল করার সুন্দর উপায় আর কী ।
প্রবাস জীবনে ঠাকুর ঠাকুর ব্যাপার , তিথি নক্ষত্র এইসব খুব একটা মেনে চলা যায় না । তাই নববর্ষের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জাঁকিয়ে ও জমিয়ে খাওয়া । সক্কালবেলা আনারুলের দোকানের ১৫ টাকা কেজির খাসীর মাংস কাঁচা শালপাতায় মুড়িয়ে বাবা এনে রাখতেন । উনোন আর গ্যাসের তাপে চড়বড় করে ফুটে ওঠে ভাত । নীচে আসন পেতে বাঙালী পরিবারের দুপুরের বা রাতের আহার করতো পেট পুরে । ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ক্যালভেনেটর ফ্রিজে রাখা থাকতো মিষ্টি । বাড়ীতে অতিথি এলেই সেগুলোর পরিবেশন আর সেই সুযোগে ফ্রিজ দেখানোর মোক্ষম সুযোগ কিছুতেই ছাড়তেন না ঠাকুমা । কথাগুলো এ কারনেই বলছি , এই যে ছোট্ট ছোট্ট চাওয়া পাওয়া , আনন্দ এগুলো হুস করে বর্তমানে কোথায় যেন মিলিয়ে গেছে । এর কারণ আমাদের সকলেরই জানা যদিও ।
ছোটবেলা থেকে মা বাবাকে তুলনামূলক ভাবে কম পেয়েছি । এখন ভাবতে মন্দ লাগে না সেই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমি ছাড়া সকলেই চাকরী করতেন আমাদের বাড়ীতে । তখন যদিও ভীষণ ক্ষেপে যেতাম মা’কে কাছে না পেয়ে ।  আমি নাকী ফাঁকা ঘরে নাচ করতাম । বাবা ছিলেন আবার ভলিবল প্লেয়ার । ছেলের এই মেয়েলী স্বভাব মেনে নিতে পারতেন না । কিন্তু ঠাকুমার ছিল প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় । আর সেই প্রশ্রয়ের সুযোগ নিয়ে বু’দি আমাকে রাখতো নববর্ষের পরের দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে । সেবারও রেখেছিল দুটি বিভাগে তিনটি মেয়ের সাথে আমি একা ছেলে ( বালক ) আর রবীন্দ্রনাথের ‘ অমল ও দইওয়ালা ‘ নাটকে । আমার থেকে দাদু ঠাকুমার উৎসাহ বেশী । বাবার আর মুখ খোলার উপায় নেই । মা-ও অপ্রত্যক্ষ ভাবে পাশেই আছেন । আমি হব রবি ঠাকুরের নাটকের গ্রাম্য বালক দলের একজন । কাঁধে কাঠের লাঙল । মেরেকেটে দুটি লাইন ডায়লগ । মুখস্থ বিদ্যা ছোট্ট থেকেই ছিল না বলে লিড রোলে চান্স পেতাম না , সেটা অবশ্য এখন বুঝি ।
৩
পালের কাপড়ে ছেঁদাটা বেশ বড় ছিল সেবার । তাই কাঠের লাঙল আর আমার নাচ আজও মনে মনে দেখি । কষ্ট থেকে হাসি এখন সেই ঘটনায় । বু’দি আমাকে জিজ্ঞাসা করল , “ হ্যাঁ রে কাকু আছে নাকী বাড়ীতে ? এমন করে সুমন্ত চলে গেল আমাদের ছেড়ে !”
আমি চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে থাকলাম । সুমন্ত হচ্ছে আমাদের নাটকের অমল । বেশ বড় বয়েসে । কিন্তু চৌখস ছেলে । যেহেতু কম বয়েসের আর তেমন কেউ ছিল না তাই বু’দি ওকেই একপ্রকার জোর করে বাচ্চা অমলের লিড রোল দেয় । সামনের মাঠে ইতিমধ্যে সাফসুতরো থেকে শুরু করে কাঠের চৌকি সাজিয়ে ষ্টেজ করা হয়ে গেছে । দাদুর সাথে ওইবার হালখাতা সেরে ফিরে এসেই বু’দির তদারকিতে রিহেরসালে লেগে পরেছি । এরই মাঝে সুমন্তদার মৃত্যু । গলায় দড়ি । কিন্তু কেন ? বড় দাদারা ফিসফিস করে কী বেশ বলে – প্রেম , ডিচ্‌ । যত শুনি তত হই অবাক ! প্রেম , ডিচ্‌ এগুলো আবার কী ? 
বু’দির ডান হাত ছিল সুমন্ত’দা । বাঁ হাত শুভেন্দু’দার সাথে পরামর্শ সেরে দিদি ঘোষণা করল বিষণ্ণ মনে “ নাটকের কান্ডারীর অকাল প্রয়ানে এবারে আর অনুষ্ঠান হবে না ।“ মনে মনে রেগে গিয়েছিলাম সুমন্ত’দার উপর । ঠিক হল পরের দিন সকালে পুলিশের কাজকর্ম সারা হলে ফুলের মালা দেওয়া হবে ।
সকাল হল । বাবা আমায় যেতে দিলেন না । যদি ভয়টয় পেয়ে যাই । কেন জানি না ওইদিন মনের থেকে খুব বেপরোয়া হয়ে গেছিলাম । কাউকে না জানিয়ে পিছু নিয়েছিলাম ভাগ্যিস । নইলে ওই ঘটনার সাক্ষী কোনদিনও থাকতে পারতাম না । 
আগে আগে বু’দি , শুভেন্দু’দা আর পিছনে কাকুদের দল । আর তার বেশ পিছনে এই অধম । দেখতে দেখতে সুমন্ত’দার বাড়ীর সামনে সকলে হাজির । হাতে ফুল, মালা । কিন্তু কেমন যেন চুপচাপ পরিবেশ ! অন্য কোন লোক নেই । উঠোনে এক মহিলা ঝাঁটা হাতে , কোমর নীচু করে সারা উঠোন ঝাঁট দিচ্ছেন । বু’দি ওনাকে দেখেই থমকে দাঁড়ালো ।
শোকে কী মানুষ এমনই হয়ে যায় ! চুপচাপ বাবার কোল ঘেঁষে দাঁড়ালাম । বাবা আমাকে দেখেও কিছু বললেন না । এদিকে আমার ছোট্ট ঘিলু কাজ করছে না । বু’দি সাহস নিয়ে আরেকটু এগিয়ে যেতেই ভদ্রমহিলা একগাল হেসে বললেন , “ আরে বু যে । ও সুমন্ত দেখ তোর বু’দি এসেছে …।“
শুভেন্দু’দা বু’দির দিকে বোকার মত চেয়ে আছে । সুমন্ত’দা পাজামার দড়ি কষতে কষতে বাইরে এল । বেশ কিছুক্ষণ পর আমাদের পরম সাহসিনী দিদি মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল , “ এই আমরা সব ইয়ে দেখতে মানে তোকে দেখতে এলাম , নাটকের হিরো বলে কথা ।“
বাবার কাছে পরে শুনতে পেলাম , অন্য পাড়ার এক দাদা তাদের নতুন টেলিফোন আসার খুশীতে শুভেন্দু’দাকে ফোন করে জানিয়েছিল , “ শুভেন্দু সুশান্ত আত্মহত্যা করেছে ।“ নেটওয়ার্ক সমস্যায় শুভেন্দু’দা শোনে সুমন্ত’দা মরেছে ।
নাহ কপাল মন্দ । নায়ক বেঁচে উঠলেও সেবার হল না অনুষ্ঠান । মঞ্চ , নায়ক , কলাকুশলী এমন কী দর্শক হাজির , বাধ সাধল আকাশ কালো করা কালবৈশাখী । বছরের নতুন ও প্রথম ঝড় । আগে আদিগন্ত মাঠে তাকালে বৃষ্টি হবে কিনা বলতে পারতাম । এখন হয়ত চোখে পরেছে অনেক পলি । মাঠগুলো উঠেছে ভরে । হয়েছে নানা মাপের ফ্ল্যাট ,হোটেল , ডিস্কো , পাব ।  ফ্ল্যাটের আড়ালে খুঁজি সেই মাঠ , বু’দি , নববর্ষ , হালখাতা আর আমাকে ।

 

















প্রবন্ধ


প্রবন্ধ- পত্রিকা-সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ 
লেখিকা- ডঃ রমলা মুখার্জী 
বৈঁচী, হুগলি 

প্রস্ফুটিত প্রসূণে পূর্ণ 
নন্দনকানন - 
সৌরভে সারা বিশ্বের 
মাতাল তনু-মন।
      রবীন্দ্র প্রতিভার ডালিতে আছে নানা নামী-দামী ফুলের মেলা ।তাই শুধু কাব্য সাহিত্যের জগতেই তিনি অনন্য সাধারণ ছিলেন না, আরও নানা বিষয়ে তিনি তাঁর উজ্বল প্রতিভার দীপ্তি ছড়িয়েছেন ।তিনি যেন সেই পরশপাথর, যা স্পর্শ করতেন তাই সোনা হয়ে উঠত ।তাঁর বহুরত্নখচিত মুকুটের একটি পালক হল পত্রিকা সম্পাদনা ।বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে পত্রিকা-সম্পাদক রূপেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন ।ঠাকুরবাড়ির সাহিত্য সম্পৃক্ত আবহাওয়ায় বড় হয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ।ঠাকুরবাড়ির শিশুকিশোরদের সাহিত্য চারাগুলিতে জল সিঞ্চনকরার জন্য ঠাকুর পরিবার থেকে 'বালক' পত্রিকা প্রকাশ করা হত ।এই পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১২৯২ সালে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহধর্মিণী জ্ঞানদানন্দিনীর সম্পাদনায় ।রবীন্দ্রনাথ এই 'বালক' পত্রিকার কার্যাধক্ষ্য থাকলেও পত্রিকাটির সব দায়িত্বই তাঁকে নিতে হয়েছিল ।এক বছর স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে এই পত্রিকা চলে এবং পরবর্তীকালে এই পত্রিকা ভারতী পত্রিকার সাথে যুক্ত হয় ।এই এক বছরের মধ্যেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পঞ্চাশটিরও বেশি লেখা এতে প্রকাশিত হয়েছিল ।এরপর ১২৯৮ সালে দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রচেষ্টায়
 ও কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় সাপ্তাহিক 'হিতবাদী' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ সাহিত্য-সম্পাদকরূপে নির্বাচিত হলেন। এই 'হিতবাদী' র হাত ধরেই রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পের দ্বার উন্মোচিত হল। উত্তরবঙ্গে জমিদারি দেখাশোনা করার সময় তিনি বাংলা ও বাঙালির অনেক কাছাকাছি আসতে পারেন আর তাই তাদের জীবন ও জীবিকা খুব গভীর ভাবে অনুসন্ধানের সুযোগ পান। ফলস্বরূপ রচিত হল নানা সার্থক ছোট গল্প যা তিনি  ' হিতবাদী' পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন। গল্পগুলোর গভীরতা উপলব্ধি হয় তো সব শ্রেণীরপাঠকের পক্ষে সম্ভব ছিল না তাই হিতবাদীর সম্পাদক রবীন্দ্রনাথের কাছে হাল্কা কাহিনিমূলক গল্প চাইলেন। রবীন্দ্রনাথ অসন্তুষ্ট হয়ে 'হিতবাদী' ছাড়লেন কারণ তিনি হলেন অতল সমুদ্র। সাগর তাই মুক্তির পথ খুঁজেপেয়েছিল। 
      'সাধনা' পত্রিকাপ্রথমে সুধীন্দ্রনাথ ও পরে রবীন্দ্রনাথ সম্পাদনা করেন।এই পত্রিকাটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে নতুনত্বের দাবী রাখে।
রবীন্দ্রনাথের 'সাধনা' ‌ আসলে নবজীবনের সাধনা, অগ্রগতির সাধনা। তাই এই পত্রিকার প্রতিটি ষান্মাষিক খন্ডের নামপত্রের উল্টোদিকে ছাপা থাকত -
"আগে চল্ আগে চল্, ভাই।
পড়ে থাকা পিছে, মরে থাকা মিছে,
বেঁচে মরে কি বা ফল ভাই,
আগে চল্ আগে চল, ভাই।"
নানা বিষয়ের নানান লেখা এই 'সাধনা' পত্রিকাকে সমৃদ্ধ করেছিল। গানের স্বরলিপি, দর্শন, ব্রজবুলি, রাজনীতি, রবীন্দ্রনাথের গদ্য-পদ্য রচনা, অনেক রাজনৈতিক প্রবন্ধ এই পত্রিকাটিতে প্রকাশিত হতো। গ্রাম্য সাহিত্য, গ্রাম্য ছড়া এই সব লোকরচনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সংগ্রহ করার জন্য ডাক দিয়েছিলেন আত্মত্যাগী দেশের মানুষকে। সে ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, বলেন্দ্র ঠাকুর, উমেশ চন্দ্র বটব্যাল এবং আরও অনেক গুণিজন এবং তাঁরা সবাই 'সাধনা'র সাধনাকে অনেকটা পথ এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন।'সাধনা' পত্রিকায় শুধু সাহিত্য নয়, বিভিন্ন বিষয়ের লেখা স্হান পেত। এমনকি বিজ্ঞানের অনেক প্রবন্ধও এখানে প্রকাশিত হত। জগদানন্দ রায়, জগদীশ চন্দ্র বসু এঁরা 'সাধনা' পত্রিকায় বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ লিখে বিজ্ঞানের নানা বিষয় সম্বন্ধে মানুষকে অবহিত করতেন।১২৯৮ সাল থেকে ১৩০২ সাল পর্যন্ত সাধনা পত্রিকাটি চলে। স্বাধীনতা লড়াইয়ের প্রাক্কালে মারাঠা বীরদের সম্বন্ধে বাঙালীদের আগ্রহী করার জন্যে রবীন্দ্রনাথ খুবই সচেষ্ট হয়েছিলেন।তিনি মারাঠা ঐতিহাসিক সখারাম গণেশ দেওস্করকে অনুরোধ করেছিলেন 'সাধনা'
পত্রিকায় লেখা দেওয়ার জন্য।সখারাম রবীন্দ্রনাথের আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন এবং মারাঠা ইতিহাসের বিশেষ বিশেষ পটভূমি রঙে রসে সাজিয়ে বাঙালি পাঠকদের উপহার দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার ব্রতে দীক্ষিত হতে সাহস যুগিয়েছিল এইসব মারাঠা বীরদের কাহিনি।
      'সাধনা'র আর একটি নতুন দিগন্ত হল সাহিত্য সমালোচনার ধারা প্রবর্তন। বাংলা সমালোচনার ইতিহাসে এটি একটি যুগান্তকারী সৃষ্টি বলা যেতে পারে। প্রথম এই ধারাটি প্রচলিত হয় ১৩০০ সালের 'সাধনা' পত্রিকার চৈত্র সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথের 'রাজসিংহ' আলোচনার মাধ্যমে। ক্রমশ নানান সাহিত্য সমালোচিত হয় এই পত্রিকায়। নতুন নানা স্বাদের সাহিত্য চিন্তার প্রকাশ আমরা দেখতে পেলাম এই 'সাধনা' পত্রিকায় ।পত্রিকা সম্পাদকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যকে যে যথেষ্ট সমৃদ্ধ করেছেন সে বিষয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ থাকে না।




প্রবন্ধ


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা': প্রেমের এক ভিন্ন প্রেক্ষিত
~বিদিশা নাথ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,বাংলা তথা ভারতীয় সাহিত্যে আধুনিকতার পথ প্রদর্শক, মানব চরিত্র ও সম্পর্কের তুল্য মূল্য বিচারের অন্যতম কান্ডারী,সমাজ বোধ ও মানবিকতাবোধ এই দুইয়ের মধ্যে সূক্ষ ভারসাম্যকে আয়না স্বরূপ তুলে ধরার সফলতম কারিগর যাঁর লেখা 'শেষের কবিতা' উপন্যাসটিকে রচনাকালের পাশাপাশি বর্তমান যুগেও সমান তাৎপর্যপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়।
একটি উপন্যাসের ভিত্তিপ্রস্তরের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল তার সময়কাল।'শেষের কবিতা' প্রকাশিত হয় ১৯২৯ এ।ভারতবর্ষে তখন একটি টালমাটালের যুগ চলছে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা, স্বরাজ ও বয়কট, বঙ্গভঙ্গ এর পাশাপাশি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের  মুক্ত আদানপ্রদান এবং ইংরেজি শিক্ষার প্রসার যা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী অন্তঃসার শূন্যতা কে তুলে ধরেছিল আর কিছু প্রাচীন হিন্দু সংস্কারের মুলেও আঘাত করেছিল যার বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।এই প্রসঙ্গে শ্রী প্রমথনাথ বিশী বলেন," বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে বাঙালির নিজের উপর যেন অনাস্থা প্রস্তাব পাশ করিয়াছে- সম্মুখে ভবিষ্যত অন্ধকার কাজেই কোনো কাজ নাই কিন্তু সেই যুদ্ধ ও নিপুণতা আছে আর এই দুইটা দিয়ে একমাত্র বস্তু কে সে সাধনা করিয়াছে-কি করিয়া কথা বলিতে হয়,কথাই এখন বাঙালির আত্মপ্রকাশের প্রধান উপায়।অমিত রায় সেই বাংলাদেশের লোক।"
'শেষের কবিতা উপন্যাস টিতে সতেরোটি পরিচ্ছেদ আছে এবং প্রত্যেকটির আলাদা নাম রয়েছে যেমন প্রথম টি হল 'অমিত-চরিত'।উপন্যাসটির নায়ক অমিত যে একজন"বেহিসেবি,উড়নচন্ডী,বান ডেকে ছুটে চলেছে বাইরের দিকে-সমস্ত নিয়ে চলেছে ভাসিয়ে ,হাতে কিছুই রাখে না।" এরপর চতুর্থ অধ্যায় 'লাবণ্য পুরাবৃত্ত'-এ আমরা দেখতে পাই লাবণ্য-র,উপন্যাসের নায়িকার। সে মাতৃহারা,আধুনিকতা ,আত্মসম্মান ও স্বনির্ভরতা যার রক্তে, যে রোম্যান্টিক কিন্তু বিচক্ষণ ,আত্মবিস্মৃত নয়। পঞ্চম অধ্যায় 'আলাপের আরম্ভ'তে এ নায়ক ও নায়িকার আলাপ হয়। যেখানে অমিত লাবণ্যকে বর্ননা করে সকালবেলার দীপ্ত সৌন্দর্য রূপে এবং শান্তি রূপে যা "বিবেচনা শক্তির গভীরতায় অচঞ্চল।"লাবণ্যের প্রেমের স্বরুপ বোঝা যায় অষ্টম অধ্যায়-' লাবণ্য তর্কে' যেখানে সে জানায় সে অমিতের প্রেমে নবজন্ম লাভ করেছে, অমিত কে বিয়ে করে সে প্রেম সে নষ্ট করতে চায় না তার চেয়ে সে অমিতের স্বপ্ন হয়ে থাকতে চায়।একাদশ পরিচ্ছেদ থেকে প্রেমের অন্তিমপর্ব শুরু হয় যখন লাবণ্যের 'আশঙ্কা' সত্যি করে চতুর্দশ পরিচ্ছেদে 'ধূমকেতু'তে ধূমকেতুর মতোই আবির্ভাব ঘটে অমিতের বোন সিসি-র বন্ধু কেটি বা কেতকী মিত্র যে কিনা লাবণ্যের ভাষায় অমিতের 'অনাদরে গড়া', প্রাণচঞ্চলতা, ইঙ্গবঙ্গ অনুকরণসর্বস্বতার প্রতিমূর্তি। যাকে অমিত বহু আগে আংটি পরিয়ে ছিল ঠিক লাবণ্যের মতোই।এরপর  ঘটনাপ্রবাহ যেখানে পৌঁছয় আমরা দেখতে পাই  ষোড়শ পরিচ্ছেদ 'মুক্তি' তে যেখানে লাবণ্য অমিতের পরানো আংটি খুলে দেয় আর বলে," আমার প্রেম থাক নিরঞ্জন-বাইরের রেখা,বাইরের ছায়া তাতে পড়বে না।"
'শেষের কবিতা ভালোবাসার দুটি রূপ ব্যক্ত করে,"যে ভালোবাসা ব্যপ্ত ভাবে আকাশে মুক্ত থাকে, অন্তরের মধ্যে সে দেয় সঙ্গ;যে ভালোবাসা বিশেষভাবে প্রতিদিনের সব কিছুতে যুক্ত হয়ে থাকে সংসারে সে দেয় আসঙ্গ।দুটোই আমি চাই।"অমিত এই ভাবেই লাবণ্যের মধ্যে পায় আকাশ আর কেটির মধ্যে বাসা।
এই উপন্যাস শুধু প্রেমের নকশিকাঁথা বুনন করে তা নয় এতে রয়েছে বাস্তবতার অবারিত প্রতিফলন  কারণ এই উপন্যাস দেখায় নারী স্বাধীনতার জয়জয়কার। সে স্বাধীনতা শুধু  আর্থিক না,আত্মিক ও। রবীন্দ্রনাথ নর-নারী সম্পর্ক সম্বন্ধে বলতে গিয়ে বলেন,"the union of man and woman will all represent a perfect co operation in building up a human history on equal terms in each department of life" যার পূর্ন সহমত দেখা যায় এই উপন্যাসে।তাই এখানে তাঁর নায়িকা নায়কের তাকে গ্রহণের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে না,সে অতি সহজেই বলে চলে যেতে পারে,"তোমার সঙ্গে আমার যে অন্তরের সম্বন্ধ তা নিয়ে তোমার লেশমাত্র দায় নেই।"
শেষের কবিতা তে অমিত প্রেমের এক নব্য দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে যা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। প্রেম হয় নানা স্তরের ,নানা প্রেক্ষিতের তাই অমিত লাবণ্যের  প্রতি তার প্রেম কে দীঘির জলের সাথে তুলনা করে যা বারবার ব্যবহারের নয় যে শুধু তার মনের সাঁতার কাটার জন্য আর কেটির প্রেম হল 'ঘড়ার তোলা জল' যা বারবার তুলে বারবার ব্যবহার করা যায়। এ যেন রবীন্দ্রনাথ-এর প্রেমের প্রতি একান্ত নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি।কিছু প্রেম কে সাংসারিক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ক্ষেত্রে বেঁধে ফেলে নষ্ট করতে নেই তাকে তার নিজস্ব বৈচিত্র ও দূর্জ্ঞেয়তা নিয়ে থাকতে দিতে হয়।আর কিছু প্রেমে মেশে একনিষ্ঠতা আর ব্যবহারিকতার খাদ যা সংসারের বেচাকেনার বাজারে মুদ্রার তুল্য ধরা হয়।
উপনিষদের তত্ত্ব অনুযায়ী তাই রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসে দেখিয়েছেন প্রেম ব্যবহারের ক্লিস্টতা পেরিয়ে আপন করুক ত্যাগের আদর্শ। তাই এই উপন্যাসের শেষ অধ্যায় 'শেষের কবিতা'-য় লাবণ্যের শেষ সম্ভাষণ যেন ঋনীর কৃতজ্ঞতা স্বীকার যখন শেষ একটি পত্রে বিদায় জানায় এই বলে-
"তোমারে যা দিয়েছি সে তোমারি দান গ্রহণ করেছ যত, ঋণী তত করেছ আমায়।"

গল্প


নববর্ষের সেকাল -একাল

সেকাল নিয়ে বলতে গেলে আমার ছোটোবেলা, মানে নব্বইয়ের দশকের কথা মনে পড়ে। আমার জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা সবটাই বীরভূমের সিউড়িতে। জ্ঞান হয়ে থেকেই দেখতাম, সেদিনটা বছরের অন্যান্য দিনগুলির চেয়ে অনেকটাই আলাদা। সকাল সকাল স্নান করেই একটা নতুন ফ্রক পেতাম। সেটা পড়েই কাছের কোনো মন্দিরে যেতাম মমা-বাবার সাথে পুজো দিতে। তারপর জলখাবারে লুচি, আলুর দম আর মিষ্টি। দুপুরে ভাত, ডাল, সবজি, মাছ, চাটনি,দই। এইদিন থেকে প্রথম আমাদের বাড়িতে কাঁচা আম খাওয়া শুরু হতো। সারা দিনটা বেশ আনন্দের সঙ্গে কাটতো। তারপর বিকেলে বাবা,মা,আমি আর ভাই, চারজন মিলেই বেরোতাম দোকানে দোকানে হালখাতা করতে। কতগুলো যে মিষ্টির প্যাকেট হতো! ওই প্যাকেটের ভিতর মিষ্টির সঙ্গে গুটকা কচুরি থাকতো, ওটা খেতে খুবই পছন্দ করতাম আমি। বাড়ি ফেরার আগে বাবা আমাদেরকে আইসক্রিম বা কোনো ঠাণ্ডা পানীয় খাওয়াতেন। কি যে ভালো কাটতো দিন টা!

এখন নববর্ষের জাঁকজমক বেড়েছে। চৈত্রের প্রথম থেকেই জামাকাপড়ের দোকান গুলোতে সেল শুরু হয়। সেল চলে বড় বড় মল গুলোতেও। মানুষের কেনাকাটাও বেড়েছে। আড়ম্বর বেড়েছে দোকানগুলোতেও। হালখাতার প্যাকেট গুলোতেও লেগেছে আভিজাত্যের ছোঁয়া। মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি মাতোয়ারা হয় এই দিনটিতে। খাদ্যাভ্যাস  এবং জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে সমঞ্জস্য রেখে, খাদ্যতালিকারও বদল হয়েছে।
 সাহিত্য জগতেও এই দিনটির গুরুত্ব এখন অপরিসীম। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার নববর্ষ সংখ্যা প্রকাশিত হয় । প্রকাশিত হয় বিভিন্ন গল্প ও কাব্য গ্রন্থও। টিভির বিভিন্ন চ্যানেলগুলোতেও বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান চলে দিনভর। সর্বোপরি এই দিনটির গুরুত্ব উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। বাঙালি হিসাবে সত্যিই গর্ববোধ করি আমাদের এমন একটা রীতির জন্য।
সব্বার জন্য শুভ নববর্ষের একরাশ শুভেচ্ছা রইলো। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। সৃজনে থাকুন।
       
কলমেঃ-পাপিয়া মণ্ডল।
//নারীকে নারী বলেই সন্মান দিও..//

এইতো সেদিন ভিড়ের মাঝে আঁকড়ে ধরতে যাকে,
হঠাৎ কেন, কিসের ভুলে পর করলে তাকে?
নিশ্বাসে যার ঘুম আসত, বালিশ ভিজতো আবেগে,
এখন কেন সারাটা রাত কাটাও তুমি একলা জেগে?
যে দুটি হাত পরস্পর ছুঁতো তাদের আঙুলখানি,
আজকে প্রেমে হঠাৎ করে কিসের এত রাহাজানি?
একদিন তো ভালো বেসেই করেছিলে অনেক শপথ,
কিসের এত তাড়ার ছলে পাল্টে নিলে পুরানো পথ?
আজকে তাকে প্রেমিকা বলে পরিচয় দিতে সত্যি বাঁধে?
এদ্দিন তো রূপে-গুনে মুগ্ধ হয়ে, ডুবে ছিলে তারই স্বাদে।
"ভালোবাসা" অনুভূতি, "ভালোবাসা"য় সব ছিল,
আজকে দেখো রিয়েলিটি কত কিছু বদলে দিল।
যে "তুমি" টা ভীষণ চেনা, আজকে কেমন পাল্টি খেলে,
ভাবো তো,
আমিও যদি পাল্টে যেতাম, তোমার সাথে এমন হলে!!
আমায় নিয়ে চললে পথে শুনতে হবে অনেক কথা,
তাই তো তোমার পুরুষ সাজে আজ সেজেছে নীরবতা।
কোথায় ছিল সমাজ জ্ঞান? কোথায় তখন পরিবার?
যখন তুমি আমার সাথে মুহূর্তদের করতে পার।
আসলে কি বলোতো,
যার কাঁধে মাথা রেখে কাটত তোমার দিন,
সেই মেয়েটা অন্যরকম, নির্ভেজাল ভার্জিন।
তার বদলে ধর্ষিতা?
ভাবনি কখনো এমন হবে! তাই তো ঝুড়িঝুড়ি প্রতিশ্রুতি,
আগে যদি জানতে, তবে বাহানায় কবেই ঘটে যেত বিচ্যুতি।
আমিও আজ সত্যি জানলাম,
ভালোবাসা আর সম্পর্কের তফাৎ
সব চেয়ে বড়ো বেইমান বুঝেছি
বিশ্বাসের সেই দুটি হাত।
আচ্ছা, তোমার বোনের সাথেও এমন হলে?
বলছি না হবেই, তবে হতেও তো পারতো,
মেনে নিতে কেমন করে?
যখন সমাজ, প্রতিবেশী তাকেও পিষে পিষে মারতো?
সব নিয়মই বদলে যায় নিজের নিজের স্বার্থে,
হয়তো অন্য পরিকল্পনা ফিক্সড হয়েছে আমার পরিবর্তে।
তবে কি জানো তো, সময় সব ফিরিয়ে দেয়,
আগে হোক বা পরে,
যাকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখছো,
হয়তো সেও রেখেছে অন্ধকারে।
হঠাৎ যদি জানতে পারো, তারও একজন এক্স ছিল,
আর গভীর ছিল সম্পর্ক তাদেরও,
সেদিনও তাকে ডিভোর্স দিয়ে
সমাজ সেবার আরও একধাপ পদ না হয় এগিও,
আজকে যাকে ত্যাগ করলে,
তার যোগ্য তুমি নও,
মাথা তুলে কজনে বা বলতে পারে নিজের কথা?
একদিন সে এঞ্জেল হবেই লিখবে নিজের রূপকথা।
সেদিন না হয় কষ্ট করে একবারটি পড়ে নিও,
প্রেমিকা নয়, স্ত্রী নয়, বোন নয়,
শুধু নারীকে নারী বলেই সন্মান দিও...

                                        _শিল্পা মণ্ডল

#অপেক্ষা
#মুনমুন_মুখার্জ্জী

কালো মেঘে ঢেকেছে আকাশ, মন হল উচাটন,
অপেক্ষায় বসে আছি তুমি আসবে কখন?
ঠিকানা বদল করেছি বলে পাবে না তা কি হয়?
ভালবাসার ঠিকানা পেতে আসবে নিশ্চয়ই।
মনের টানে কেউ কাউকে ঠিক খুঁজে নেয়,
ঘড়ির কাঁটা তাদের জন্যই থমকে দাঁড়ায়।
তোমার অপেক্ষায় দুঃখের মাঝে প্রাণ খুলে হাসি,
নিজেকে আড়াল করে শুধু তোমাকে ভালবাসি।
পেন্ডুলাম মন

সৌমেন দাস

রাত বাড়লেই
কবিতার সংসারে হানা দেয়
উলঙ্গ শব্দের দল...

পেন্ডুলামটা দুলছে...

ওদিকে ফেসবুকে
অজানা বন্ধুর হাতছানি
হঠাৎই লিভ-টুগেদার...

পেন্ডুলামটা থামেনি এখনো...

দুলছে...
এখনো দুলছে...
'ভুল'

~বিদিশা নাথ

মেয়েটার অনেক ভুল ,
ভুল ছোট হাঁটু-না-ঢাকা পোশাকের খাঁজে,
মানতে না থাকা বক্ষদয়ের মাঝে,
আপনার অফিস ফিরতি চোখ আটকে যায়।
ভুল ওর না বেঁধে রাখা চুলে,
আপনার মধ্য বয়স্ক নিয়ন্ত্রণ রাখেন তুলে চিলেকোঠায়;
ওর ভুল আপনার বাঁকা শিরদাঁড়ায়
যার অবশিষ্ট সাহসে স্ত্রীকে বাড়িতে আপনি বাঁজা বলে ডাকেন
আর মা-কে দেন পোড়া রুটির অর্ধভুক্ত অধিকার।
ভুল ওই মেয়েটির যে বাবা বলে আপনাকে ডাকে,
আর সস্তা হোটেলের দরজার ফাঁকে,
আপনার নিষেধ কে বুড়ো আঙুল দেখায় বেধর্মীর সাথে।
আপনি বরং পিতৃপুরুষের ভিটেমাটির দোরগোড়ায় বসে, এই সব ভুলের হিসেব করুন কোমরের গিঁট কষে,
আর আপনার শ্লাঘার শেষ ছাপ টুকু মুছে,
ওই মেয়ে গুলো আরো ভুল করে যাক।
শরীর খোঁজে আজও সে

বছর ষাট এর অনাসক্ত বৃদ্ধাও 'গারদ' এর জানলার শিক ধরে চেয়ে থাকে,
শরীর খোঁজে কোনো এক চরিত্রহীন এর।
কারণ তার মুক্তি মেলেনি এই অভিনয় থেকে,
কাম হীন দেহকেও সে বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত,
কখনো দুটো পয়সার আশায়,
কখনো বা নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে।
সেই বছর তেরোর ছোট্ট মেয়েটি
যে কিনা পথ ভুলে এসেছিল এই পুণ্যভূমিতে,
যেখানে অতৃপ্ত মানুষ দের তৃপ্তি মেটানোর কাজ চলে।
কেউ আজও তার তৃপ্তি মেটায়নি।
কেউ দেখেনি তার চোখের কোনার জল,
দেখেছে শুধু স্তনবৃন্তের ঔদ্ধত্য।
দেখেনি ওই ঠোঁটের কোনার মিষ্টি হাসি টুকু,
নিষ্পাপ চাহনি কিংবা নির্ভুল সংলাপে লেখা ওই দুটি চোখ!
কারোর চোখে পড়েনি,
তাই আজও সে অপেক্ষারত,
তার এই যান্ত্রিক শরীর কে বিলিয়ে দিতে,
কোনো এক কামুক সাগরে!
পর্ণমচি
*********
অসম্ভব শব্দটা বেশ পরিচিত ,
যেখানে সম্ভবনার
একটা প্রবলতম স্পর্শ জুড়ে থাকে।।
চেষ্টার বিকল্প নেই নাকি
বিকল্প হিসেবে চেষ্টার
একটা অবসম্ভাবী সম্ভাবনা,
সেটা বুঝে নিয়ে আগামীর সুস্পষ্টতাই
ঝকঝকে প্রতিচ্ছবি উপহার দেবে ,
যা ভাবনাকে আরও একবার উজ্বলতা দেয়।।
নতুনের আবাহন যেখানে ম্লান
সেখানে পুরোনো অধ্যায়ের অবাধ বিচরণ
ভালোথাকার পাঠ দিতে এসে,
 কেমন যেন একাত্ম হয়ে গিয়ে
 বলতে পারার অভ্যেস ভুলে যায়,
কোনো এক চেনা সংকোচে ।।
ডাইরির পাতায় জমা হয় অনুভব,
ভালো থাকা আর নিশ্চুপ কথার
আগলে রাখা অনুরণন!!
..........................................@তন্মনা
বিকেল গুলো আর আসে না
---------------------------------------
কলমে # সোনালী নাগ
-----------------------------------------
অনেক গুলো স্কুল ফেরত সূর্যডোবা বিকেল তোমার কাছে বাঁধা।
খুব সিরিয়াস মেয়েটাও সে বসন্তে "রাধা"।
অনেক গুলো পড়ার শেষে খালি রাস্তার খোঁজে -
একটু ছোঁয়ায় শিহরণ হঠাৎ আঙুলের ভাঁজে!
অনেক গুলো নিয়ম ভেঙে শাসন রীতিমতো
ঝগড়া গুলো অকারণে যখন তখন আসতো অবিরত।
অনেক গুলো সন্ধ্যা এলো খুব ভয়ানক একা
বুকের মাঝে নরম আদর, আহ্লাদী সুর - -
'ভীতু মেয়ে, তুই একটা বোকা'
অনেক গুলো জেগে থাকা রাত, চাঁদের অহংকার
তোমার অট্টালিকা মজা করে, আমার তখন কুঁড়েঘর!
স্কুলের শেষে হাত ছেড়ে যায়, এবারেও" নরেশ সেন"
শরৎবাবু ও নেই এখন, মালতি তাই একাই লড়ে, সাথী কে আর হবেন?
অনেক গুলো রূপকথা শেষে এবার আষাঢ় এলো
বিয়ের টোপর জোড়ে দেখি মানিয়েছে বেশ ভালো।
তোমার ডাইরি লেখা, চিরকুট প্রেম আর খুচরো যতো আবেগ,
বলেছ নতুন মানুষটাকে?
যে তোমাকে বুকের মাঝে এখন আগলে রাখে।
চিঠিতে এবার পাঠিয়ে দেবো ঠিক করা সেই নাম -
ছেলে হলে প্লাবন দিও, মেয়ে হলে বন্যা,
কি গো এই টুকু তো দিতেই পারো ভালোবাসার দাম।
তোমার না হয় সত্যি হলো স্বপ্ন দেখা ভোর,
আমারটা থাক দিবাস্বপ্ন, আর থাকুক আবেগ নামের একটা মারণরোগ,
স্কুল ফেরত বিকেল গুলো এখন উধাও শহরে,
ট্রামের সারি আর আসে না আঁচল উড়িয়ে।
অনেক গুলো স্বপ্ন ভেঙে এবার একলা হওয়ার পালা,
তোমার জন্যে সোহাগ রেখে, আমি নিলাম অবহেলা।

শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৯

এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার





জলফড়িং ওয়েব ম্যগাজিন থেকে প্রথমেই আপনাকে জানাই নমস্কার।

অতনু বর্মনঃ- নমস্কার 🙏

১.) কবি,কৌতুক অভিনেতা,নাটুকে ছড়াকার নাকি অভিনেতা এগুলোর মধ্যে কোন বিশেষণ শুনতে ভালো লাগে নামের আগে?

উঃ- নামের আগে কিছুই শুনতে ভালো লাগেনা। আমি আগে আমি, অতনু বর্মন। পরে যার যা ইচ্ছে হয় বসাতে পারেন। শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করবো।

২.) ঠিক কত বছর বয়স থেকে লেখালেখির শুরু?

উঃ- আমার প্রথম ছড়ার বই "অঙ্কুর" ছাপা হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। তখন আমি নয় বছরের। লেখালেখি তারও আগে শুরু।

৩.) মঞ্চ, থিয়েটার এসব কি ছোটো থেকেই? ইন্সপিরেশন কে?

উঃ- থিয়েটার একদম ছোটো থেকেই এবং সেক্ষেত্রে আমার মামা " প্রদ্যোৎ কুমার রায়চৌধুরী" উনি নাটক লিখতেন এবং অভিনয় করতেন তো সেক্ষেত্রে মামার একটা প্রভাব ছিল। আমার মা "পারুল বর্মন" তিনিও অভিনয় করতেন।

৪.) কৌতুক লেখা কঠিন নাকি কবিতা?

উঃ-কবিতা লেখা সব থেকে সহজ এই কারণেই যে কবিতা লেখা যায় না, সেটা হয় আর যখন হয় যখন আসে তখন সেটাকে খাতার মধ্যে লিখে ফেলাটা এমন কিছু কঠিন নয়। আর কৌতুকের ক্ষেত্রে মাথা  ঘামাতে হয়, খাটতে হয়, পরিশ্রম করতে হয়,ভাবতে হয় পাঞ্চ লাইন গুলো নিয়ে কেনোনা হাসি তো বড়ো কঠিন বস্তু সহজে কেউ হাসতে চান না তো হাসানো কঠিন, হাসির লেখা লেখাও কঠিন আর কবিতা হয় না কবিতা কেউ লিখতে পারে না।




 ৪০ মিনিটের যেমন ক্লাস নিই ঠিক সেইভাবে কৌতুকের অনুষ্ঠান করে দিয়ে আসি আর তার জন্য  কোনো  প্রিপায়ারেশন প্রয়োজন হয় না







৫.) মিরাক্কেল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরেই কি আপনার বড়ো পর্দায় সুযোগ?

উঃ- না ঠিক মিরাক্কেল হবার পরেই নয় মিরাক্কেলের পরে একটা বেসরকারি চ্যানেলে "রাজ চক্রবর্তীর" পরিচালনায় " I LAUGH  YOU " বলে একটা নন-ফিকশন হতো, সেটাতে দুজন- দুজন করে একটা গ্রুপ থাকত এবং ১০ মিনিটের একটা করে স্ক্রীট করতে হতো যাতে অভিনয়ের  সুযোগ ছিল তো সেই প্রতিযোগিতাটিতে অন্যতম বিচারক চিলেন চিত্র পরিচালক "কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁরই মনে হয়েছিল যে তাঁর পরবর্তী ছবিতে একটা চরিত্র আমার সঙ্গে যাবে। এবং তখন উনি আমাকে সেই সুযোগটা দিয়েছিলেন, ছবিটির নাম ছিল "জ্যাকপট", সেটাই আমার প্রথম ছবি, ২০০৯ সাল।


৬.) প্রায় প্রতিদিনই আপনার অনুষ্ঠান থাকে কোনোনা কোনো মঞ্চে। একটা অনুষ্ঠানের আগে অতনু বর্মন মেন্টালি প্রিপেয়ার হতে কতক্ষণ সময় নেয়?

উঃ- প্রায় প্রতিদিনই অনুষ্ঠান থাকে ঠিকই কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই একই অনুষ্ঠান থাকে না।  যে অনুষ্ঠান গুলো থাকে আমার কৌতুকের অনুষ্ঠান সেই গুলোর জন্য কোনো প্রিপায়ারেশন লাগে না কারন আমি যেমন স্কুলে পড়াই বছরের পর বছর একই জিনিস পড়াই আমার অভ্যেস হয়ে গেছে, ৪০ মিনিটের যেমন ক্লাস নিই ঠিক সেইভাবে কৌতুকের অনুষ্ঠান করে দিয়ে আসি আর তার জন্য  কোনো  প্রিপায়ারেশন প্রয়োজন হয় না সেই মুহূর্তে দর্শকের সঙ্গে যে একটা আত্মার সম্পর্ক তৈরী হয় তারা উপভোগ করলে আমার ভালো লাগে বা আমি নিজে আমার পারফরম্যান্স আমার ভালো লাগলে তবেই তাদের ভালো লাগবে এটা আমি বুঝি আর আমার অন্য যে অনুষ্ঠান গুলো থাকে যেমন থিয়েটার অভিনয় সেক্ষেত্রে তো  প্রিপায়ারেশন প্রয়োজন আছেই, চরিত্রটাকে নিয়ে ভাবতে হয় এটা সকলেই জানেন সে গুলো হয়। আর অন্যান্য অনুষ্ঠান বলতে আর যেটা হয় আমি এবং  শ্রীমতী কাকলি দাস মিলে যে গান ও ছড়ার অনুষ্ঠান গুলো করি সেগুলোতেই যথেষ্ট  প্রিপায়ারেশন প্রয়োজন হয়েছে, বিষয় নিয়ে ভাবতে হয়, দর্শকের কথা চিন্তা করতে হয় যে ঠিক কোন ধরনের গান বা কোন ধরনের ছড়া এখানে এই দর্শকদের দিলে তারা নিতে পারবে।


৭.) কৌতুক অভিনেতা আর শুধু অতনু বর্মনের মধ্যে কে বেশি বুদ্ধিমান?

উঃ- আমি তো মনে করি বেসিক্যালি দুজনেই বোকা মানে বুদ্ধিমান বলতে যা বোঝায় সেটা তো হচ্ছে বুদ্ধিমানেরা কৌতুক করে না বুদ্ধিমানেরা কৌতুক করায় এবং সেই হিসেবে আমি মনে করি মূর্খ্যতম, কিছুই জানি না, জ্ঞানবুদ্ধি কিছুই নেই প্রতি মুহূর্তে শিখছি,শিখতে শিখতে চলেছি।


৮.) আপনার প্রথম পাওয়া পুরস্কার যেটা আপনি কোনোদিন ভুলবেন না?

উঃ-  প্রথম পাওয়া পুরস্কার বলতে আমরা মামা যেদিন আমার ছোটোবেলার মনের খেয়ালে লেখা ছড়া গুলোকে একত্রিত করে একটা বই তৈরী করে উনি আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন সেটাই আমার কাছে আমার জীবনের এখনও পর্যন্ত শ্রেষ্ঠতম পুরস্কার। বইটির নাম ছিল "অঙ্কুর", ১৯৭৫ সাল, তখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি, ৯ বছর বয়স।



৯.) দীর্ঘ কয়েক বছর আর দেখা গেল না বড়ো পর্দায়। এই এতোটা সময় বড়ো পর্দায় আপনাকে আমরা পেলাম না। কারণটা কি?

উঃ- দীর্ঘ কয়েক বছর বড় পর্দায় দেখা গেলো না মানে? দীর্ঘ কয়েক বছর বড় পর্দাতেই দেখা গেছে। আপনারা যদি বলেন ছোটো পর্দায় দেখা গেলো না তবে সেটা একটা উত্তর হতে পারে । বড় পর্দা বলতে সিনেমা, এখনো পর্যন্ত এক ডজনের মত ছবি করা হয়েছে। সুতরাং বড়ো পর্দাতে আছি। প্রায় প্রতি বছর  একটা বা দুটো করে ছবিতে ছোটোখাটো চরিত্রে কাজ করছি ।


১০.)ছোটোবেলার ১লা বৈশাখের কোনো স্পেশাল  ঘটনা?

উঃ-আমদের কালের ছোটোবেলাটা আমার বয়সি সকলেরই  প্রায় একই রকম ঘটনা ঘটে বা ঘটত, যেটা এখন পাল্টে গেছে। পয়লা বৈশাখ বলতেই যে ব্যাপারটা ছিল সে সময়ে একটা হালখাতার যে ব্যপার গুলো  ছিলো  সেসময় একটা আন্তরিকতার ব্যপার ছিল ওই ক্যলেন্ডার, মিষ্টি কোনো  কোনো জায়গায় সরবৎ ইত্যাদি দেওয়া হতো এই যে ব্যাপারটা ছিল এবং সেখানে ওই বিকেলবেলায় বাড়ির বড়দের কারোর সঙ্গে বেরতাম, দোকানে দোকানে ঘুরে ওই সমস্ত গুলো সংগ্রহ করে ফিরতাম আর নতুন জামা একটা হতো তো সেই সব মিলে এটা যে বিশেষত আমার ছেলেবেলার  ১লা বৈশাখ বলে কিছু নয় আমার বয়সি সকলেরই ছেলেবেলার ১লা বৈশাখ। তো সেটা একটা আনন্দ হতোই, সেটা যে কি ১ লা মানে যে আলাদা কিছু ? এটা পরবর্তী কালে মনে হয়েছে যে সেটা আলাদা কিছু নয় একটা দিনকে উদযাপন করা একটা বছরের শুরু, তো তখন তো অত বুঝতাম না তখন ভালো লাগত।




খনা দা ভালো থাকবেন কিনা সেটা নির্ভর করছে তাদের ওপরে যারা খনা দা কে ভালো রাখতে চান





১১.) একটা নতুন ছবি হচ্ছে ফেসবুকে দেখলাম,ঘোড়া ছিল। সেটা নিয়ে কিছু বলা যাবে?

উঃ- ফেসবুকে যে সিনেমা প্রস্তুতির ছবিটা দেখেছেন সেটা এখন নির্মীয়মান "অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের" পরিচালনায়। ছবিটির নাম হচ্ছে  "হবুচন্দ্র রাজা গবুচন্দ্র মন্ত্রী"। একদম ছোটোদের ছবি এটার মধ্যে রাজনীতি খোঁজার কোনো অর্থ হবে না বলেই আমার মনে হয়। "দক্ষিণারঞ্জন মজুমদারের" লেখা "ঠাকুরদার থোলে" থেকে একটা গল্প নিয়ে অনিকেত চট্টোপাধ্যায় এই ছবিটা তৈরী করছেন।


★১২.) [এক কথায় বলবেন]

ক.) চৈত্রসেলে বিক্রি হচ্ছে হাতঘড়ি আর পাঞ্জাবী সবেতেই ৪০% ছাড়। কেনার জন্য যেকোনো একটা আইটেম বাছতে হবে, কোনটা কিনবেন?

উঃ- অবশ্যই পাঞ্জাবী


খ.) শ্রীজাত বন্দোপাধ্যায়।
উঃ- একজন কবি। স্মার্ট । অসম্ভব ভালো অন্তমিল নিয়ে খেলা করতে পারেন।

গ.) সত্যজিৎ রায় নাকি মৃনাল সেন?

উঃ-অবশ্যই সত্যজিৎ রায়

ঘ.) স্যার, খনা দা কেমন আছেন?

উঃ- বস্তুত পক্ষে খনা দা বলে বাস্তবিক চরিত্র নেই। খনা দা প্রতিটি মানুষের মধ্যে আছেন অর্থাৎ খনা দা হচ্ছে একজন মধ্যবিত্ত মানুষ যে জীবনের জটিলতার মধ্য দিয়ে হাস্যরস খুঁজে পায়, জীবনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যে কৌতুক বোধ সেটা নিয়ে সে আনন্দ পায়। তো সেটা যখন যিনি পাবেন তাঁর ভেতরেই খনা দা জেগে উঠবে। খনা দা ভালো থাকবেন কিনা সেটা নির্ভর করছে তাদের ওপরে যারা খনা দা কে ভালো রাখতে চান অর্থাৎ আমাদের মনের যে রসবোধ সেইটাকে ভালো রাখতে চান তারা খনা দা কে ভালো রাখতে পারেন।


১৩.) বীরভূমের আহমদপুরের ছেলে অতনু বর্মন হঠাৎ টিভিতে মিরাক্কেলের জনপ্রিয় তারকা। এই সময়টা আহমদপুরে কি চলছে?

উঃ- মিরাক্কেল যখন চলছে সেইসময় আহমদপুরের কী অবস্থা সেটা বলা আমার পক্ষে খুব কটিন, মিরাক্কেল শেষ হবার পরে কী অবস্থা সেটা বরং বলতে পারি। কারণ যখন চলছে তখন আমরা তো ওখানে সুটিং-এ আছি আমরা তো জানি না বাইরে কি হচ্ছে, যারা দেখছেন তাঁরা কেমন ভাবে নিচ্ছেন বা কি ভাবছেন কতটা গ্রহণ করছেন বা কতটা  বর্জন করছেন সেটা আমরা বুঝছি না সুতরাং যখন চলছে তখন আহমদপুরের কি অবস্থা জানিনা যখন শেষ হয়েছে তারপরে দেখেছি যে হ্যাঁ মানুষের ভালোবাসা, তাদের যে কাছে টেনে নেওয়া সেটা আমি পেয়েছি।

১৪.) সেই কুয়ো যেখানে মনস্কামনা পূর্ণ হয়েছিল পাঁচ মিনিটে। আপনার কিছু চাওয়ার নেই সেই কুয়োতে?

উঃ- হ্যাঁ অবশ্যই চাওয়ার আছে। আমি সেই বিদূষক যে মারতেও জানি না কাটতেও জানি না, যে শুধুমাত্র  বিধাতার আশীর্বাদে হাসতে জানি। আমার একটাই মনস্কামনা যে আমার পারিপার্শ্বিক জগত, আমার দেশ এমন একটা পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলুক যাতে আমি কখনোই হাসতে না ভুলে যায়।


১৫.) "পাবলুর মা ঘুমিং গেলা" নাকি "মালুতি-মাধব" কাকে এগিয়ে রাখবেন আপনি?

উঃ- দুটো দু-ধরণের কবিতা , দুটোর বিষয় বস্তু আলাদা ভাব এবং ভাবনাও আলাদা, সুতরাং এক্ষেত্রে এগিয়ে রাখার কোনো জায়গা নেই। সেটা  তাদের নিজেদের গুণে তারা নিজেরা এগিয়ে আছে। কথা হচ্ছে শ্রোতা বা পাঠক কোনটাকে এগিয়ে রাখবেন সেটা তাঁদের ভাবনার বিষয়,  আমার কাছে দুটোই এগিয়ে আছে।

★১৬.) [একজনকে বাছতে হবে]

ক.)রাজ চক্রবর্তী নাকি শ্রীজিত মুখার্জি?

উঃ-শ্রীজিত মুখার্জি


খ.) দেব নাকি ঋদ্ধি সেন?

উঃ-ঋদ্ধি সেন


গ.) শান্তিলাল মুখার্জি নাকি ঋতব্রত মুখার্জি?

উঃ-শান্তিলাল মুখার্জি


১৭.)মিরাক্কেল এখন বাড়ীর সবার সাথে বসে দেখা যায় না। এ বিষয়ে শিক্ষক অতনু বর্মনের কি মনে হয়?

উঃ- এটাতো আপনারা বলেইছেন যে সবার সঙ্গে বসে দেখা যায় না। আপনারা বলেছেন আমি বলিনি, আমি সহমত পোষন করছি মাত্র।






১৮.) আপনার চোখে "মীর"?

উঃ- "মীর" অতন্ত রসবোধ সম্পূর্ণ, অতন্ত পড়াশোনা করা একজন মানুষ এবং বাংলা সঞ্চালনার যে জগতটা সেটাকে উনি একটা উচ্চতম স্তরে নিয়ে গিয়েছেন।

★[ অতনু বর্মনের পছন্দ ]

১.) প্রিয় রঙ
উঃ- নীল

২.) প্রিয় পোশাক
উঃ- পাঞ্জাবী

৩.) প্রিয় খাবার
উঃ- প্রিয় খাবার বলতে কী সেটা ঠিক আমি বুঝিনা কেনোনা সেই অর্থে খাওয়াটা আমার কাছে মুখ্য নয় জীবন ধারণের একটা বিষয় মাত্র সেই হিসেবে খেতে হয়, খিদে পেলে খাই এবং প্রচন্ড খিদের সময় যদি পেট ভরবে এমন যে কোনো খাবারই আমার প্রিয়।


৪.) প্রিয় শহর
উঃ- প্রিয় শহর কলকাতা


৫.) নিজের প্রিয় লেখা
উঃ- নিজের প্রিয় লেখা বলতে আমি এখনও আমার সেই লেখাটা লিখে উঠতে পারিনি যেটা আমার সব থেকে প্রিয়, লিখে চলেছি।

৬.) কেউ যদি আপনার লেখা বই কিনতে চায় তাহলে কোন বইটা কিনতে বলবেন এক বাক্যে?
উঃ- "খোলা হাওয়া" বলে আমার একটি  বই আছে ওটাই কিনতে বলব।

৭.) নিজের গ্রাম
উঃ- নিজের গ্রাম আহমদপুর। বীরভূম জেলার একটি মফঃস্বল, আধা গ্রাম-আধা শহর আহমদপুর।

৮.) প্রিয় বন্ধু
উঃ- প্রিয় বন্ধু বই।

★কবি অতনু বর্মনের জলফড়িং'র প্রতি শেষ বার্তা?

কবিঃ- জলফড়িং-এর বিপুল প্রসার কামনা করি। ভালো থাকুন আপনারা।



[ সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জলফড়িং ওয়েব ম্যাগের ইন্টারভিউ সেকশন এডিটর সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন) এবং টাইপে সহযোগিতা করছেন জলফড়িং'র দৈনিক সম্পাদক অরূপ সরকার ]


       



বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৯

শিখা:
জয়ীতা চ্যাটার্জী
দুঃখ পেলেই তুমি ঢুকে আসো আমার ভিতর,
 সমুদ্রের মতো ফিরিয়ে দিতে পারিনি লাশ,
তাই বুক পেতে আছি চিরতরে, তোমায় পাবো বলে তোমারই বিনিময়ে।
পিছনে জলছে দাউ দাউ করে অভ্রান্ত বেলা,
ভাঙাচোরা তুমি ঢুকে আসো,
দু হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরো আমি!
 তখন বুকের ভিতর সম্ভবনাময় শিখা
 জীর্ণ নক্ষত্রের চেয়ে দামি।
 যে সন্ধ্যেতে জং ধরেছে অনেক পথ হাঁটা,
 সেই আধখানা জীবনের সবটুকু নিংড়ে
 পরস্পরের দিকে নিঃশেষ চেয়ে থাকা।
বুকের পথ ধরে ছুটতে ছুটতে
বেড়িয়ে আসে অশরীরী আগুন।
স্হির মানে মৃত্যু এ কথা জেনে,
 পুড়তে পুড়তে ছাই হতে হতে।।
তোমার পাগলি
-----------
আমার স্বপ্নেরা আকাশ ছুঁতে চায় নি কখনো,
ইচ্ছেরা বলেনি উড়ে যাবো ডানা মেলে।
বাস্তবের  মাটিতে দাঁড়িয়ে, শান দিয়েছি আশায়,
ভালোবাসার কাছেও চাহিদা বড়ই এলেবেলে!

 আমার কাছে ভালোবাসা মানে নয় প্রাণ বাজি রাখা,
হিংস্র ষাঁড়ের চোখে লাল রুমাল বাঁধা নয়,
নয় একশো আটটা নীলপদ্ম খুঁজে আনা ,
কিংবা ট্রয়ের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তিও নয়।

আমার ভালোবাসার কাছে আমি অকপট হতে চাই,
চাই যখন তখন যা খুশি বায়না করতে,
শ্রাবণের সন্ধ্যায় ফুচকা খাওয়ার আবদার
কিংবা...
 জোৎস্না রাতে তোমার হাতে হাত রেখে অনেকটা পথ হাঁটতে।

অনবরত হাসি ঝুলতে থাকা ঠোঁটের কোণে,
সব আবদার পূরণের নাম তুমি।
যে কথাটা সবসময় পুষে রাখো মনে,
"পাগলি - তোকে ছাড়া অসম্পূর্ণ আমি"।
                  *****

পাপিয়া মণ্ডল
কিস্তিমাত!

‘সাদা কালো ঘুঁটিতে’ তখন নৈরাজ্যের আবাস!
জীবন-দাঁড়িপাল্লায় একটা প্রথাগত জয় আর পরাজয় ----
অর্থাৎ, বীভৎস এক কৃত্রিম খেলা
এক গুরুত্বহীন মরণখেলা
এক অনিবার্য শেষের খেলা!
নাম ‘জীবন-দাবা।’

ধরা যাক,
নিয়মের ‘সাদা ঘুঁটিটা’ অমীমাংসিত এক জীবিত দাবি।
সামনের ‘কালোটা’ রাষ্ট্রের নিরক্ষর তর্জনী
সঙ্গে চাবুকের এক নম্র তান্ডব ----
আর অজস্র বিনোদনের হাসি।

শুরুতেই...
সাদা সৈন্যের এক ভ্রুণ
মায়ের কোলই হল তার কবরজমি।

 এক পৈশাচিক দেনা দিয়ে খেলাটা কেমন শুরু!


অবশেষে, লাল নীল গেরুয়া রক্তের মিছিলে
খেলা যখন তুঙ্গে
তখন চেক আর নয়,
ডিরেক্ট চেকমেট আগ্রাসনের আওতায়।

পূর্বনির্ধারিত খেলা শেষ!
ওদের অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুরও মৃত্যু হয়েছে।
কালো-রাষ্ট্র
তোমায় ‘কুর্নিশ’ - তোমায় ‘সেলাম’
তোমায় ‘শুভেচ্ছা’ জানাই!
তুমি জিতে গেছ -----
জিতে গেছ ওদের মৃতদেহে লাথি মেরে।।।


সুমি...

মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৯

একপশলা দুপুর

সৌমেন দাস

সেদিনটা তোর হয়তো মনে নেই
কিংবা আজও পারিসনি ভুলতে
যেদিন মাঝ-দুপুরের নিরালায়
আমাদের অনেকদিনের আগলে রাখা হিসেবগুলো আচমকাই ওলট-পালট হল
আর কেমন করে যেন দমকা একপশলা হাওয়ায় অঝোরে বরষা নামল
ঠিক তখনি যখন তোর দু-ঠোঁট আমার দু-ঠোঁট ছুঁলো...
এখনো হয় নি
-------------------
কলমে # সোনালী নাগ
--------------------------------
রোজ অবসরে মৃত্যু আসে আর
জীবন মুচকি হাসে
রোজ অসন্মান রোজ রোজ ভয়
আধমরা জীবন তবুও বাছতে হয়

ওরা ভিড় করে আমাকে ঘিরে
যদি পেয়ে যায় সম্মান ফিরে
আমি যে বন্ধ দেওয়ালে আটকে
লেগে থাকা বলে শিখেছে হারতে

মেনে নিতে নিতে অধনত আজ
মৃত্যু বলেছে চলে আয় ছুটে
চুক্তির পথে তবু গেছি হেঁটে
বলছি দাঁড়াও এখনও হয় নি কাজ

এখনও হয় নি অনেক কিছুই
এখনও ছোঁয়নি গল্পের ঢেউ
এখনও মরিয়া বেঁচে থাকা আপোষেই
এখনও মৃতদেহ বলে ঘোষণা কই!!

শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৯

শিখা:
জয়ীতা চ্যাটার্জী
দুঃখ পেলেই তুমি ঢুকে আসো আমার ভিতর,
 সমুদ্রের মতো ফিরিয়ে দিতে পারিনি লাশ,
তাই বুক পেতে আছি চিরতরে, তোমায় পাবো বলে তোমারই বিনিময়ে।
পিছনে জলছে দাউ দাউ করে অভ্রান্ত বেলা,
ভাঙাচোরা তুমি ঢুকে আসো,
দু হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরো আমি!
 তখন বুকের ভিতর সম্ভবনাময় শিখা
 জীর্ণ নক্ষত্রের চেয়ে দামি।
 যে সন্ধ্যেতে জং ধরেছে অনেক পথ হাঁটা,
 সেই আধখানা জীবনের সবটুকু নিংড়ে
 পরস্পরের দিকে নিঃশেষ চেয়ে থাকা।
বুকের পথ ধরে ছুটতে ছুটতে
বেড়িয়ে আসে অশরীরী আগুন।
স্হির মানে মৃত্যু এ কথা জেনে,
 পুড়তে পুড়তে ছাই হতে হতে।।
গল্প (06)
 মিলনসুখ
বিকাশ দাস (বিল্টু )
(11-04-19)


রগচটা স্বভাবটা আর গেলো না তিন্নির ।কথায় কথায় রেগে যাওয়া ।আরে বাবা এটার নাম কি জীবন? সকাল বিকাল সন্ধ্যা নেই, রাত নেই শুধুই কাজ আর কাজ ।নিজের আর কি আলাদা জগৎ থাকতে পারে না? আর পাঁচ সাতটা মেয়ের মতোই ওরও তো সাধ জাগে চুল টা ভালো করে বেঁধে, ঠোঁটে একটা হালকা লিপস্টিক মেখে বেরিয়ে আসা কোথা থেকে ।
   এই তো সেদিনও না ভবেশ আর তার স্ত্রীকে দেখলাম কত সুন্দর ওরা সিনেমা দেখে ফিরছে ।সত্যি জীবনটা কত সুন্দর ওদের ।আর আমার বেলাই ঈশ্বর শুধুই ছক বাঁধা গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে রেখেছেন ।
   তিন্নি বিবাহিতা, বেশ কিছুদিন হলো স্বামীর সাথে বনিবনা নেই।তাই শহরের পাশেই ফ্ল্যাটে থাকে একা। একটা অফিসে কাজ নিয়েছে ।তাই ছুটি খুব কম মেলে ।মনটাও তাই রগচটা ।
ফোনটা বেজে উঠলো তিন্নির --
"আবারও বিরক্ত, আর ভালো লাগেনা ।"
হ্যা ,হ্যালো, কে? তিন্নি কিছুটা কর্কশ হয়েই বললো ।
অনেকক্ষণ চুপ। ও পাশ থেকে কোনো সাড়া নেই ।তিন্নি রেগে ফোনটা কেটে দেয়। এই ফাঁকে রাগে গজগজ করে বলতে থাকে ,"মানুষও পারে যতসব ।কথা তো বল বাবা! তা না, চুপ ।ভনিতা পেয়েছে আমায় ।সার্কাস পেয়েছে ।"
বাথরুম থেকে ফিরে এসে দেখলো স্ক্রিনের আলোটা জ্বলে আছে.... মেসেজ ।সুমনের মেসেজ ।হ্যা সুমনের সাথেই তন্নীর বিয়ে হয়েছিল ।সুমন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার কিন্তু হঠাৎ তাদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয় দুজন দুজকে সন্দেহ কড়া শুরু করলো। আদতে দুজনের মধ্যেই তেমন কিছুই হয়নি ,ইচ্ছে করলেই মেঠাতে পারতো। কিন্তু কে কার কাছে ছোটো হবে ?
  মেসেজটা এক ঝলক দেখে তন্নী আবার রেগে গজগজ করে বলতে লাগলো," ইস !কি সাধ বাবুর মেসেজ করেছেন,উনি ক্ষমা চাইছেন। যত সব! না বাবা ।আর না !"
    "উত্তর দাও প্লিজ! "
         কিছুক্ষন পরে আরও মেসেজ
   
   "না আর পাড়া যায় না.. কি করবো উত্তর দিবো? "তিন্নি ভাবতে লাগলো ।
না থাক, বরং অফ থাকুক ফোন ।
  কয়েকদিন হলো আর যোগাযোগ নেই ।সুমন খুব ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। বাধ্য হয়ে তন্নীর অফিসে গিয়ে খবর নিলাম।
  " তন্নী তো অফিস আসছেনা দাদা ।"
   "  তন্নীর ঠিকানাটা দিন তো "-তন্নীর অফিসে গিয়ে ঠিকানাটা সংগ্রহ করলো সুমন ।
বিকেলেই বেরিয়ে পড়লো তন্নীর ঠিকানায় ।
ঘরের কলিং বেল বেজে উঠলো ।আবারও বেল দিল সুমন ।
  "বাবু কাকে চান?"
   তন্নীর ফাইফরমাশ খাটার জন্য বয়স্ক একটা লোক সুমনকে জিজ্ঞাসা করলো ।
"আমি তন্নীর ---"
 " ও বুঝেছি ।আসলে তন্নী ম্যাডাম সব বলেছেন ।
একটা কথা বলছি বেয়াদপি মনে করবেন না ।
আসলে উপরে যতটা খারাপ ও কিন্ত ততটা নয় ,ভিতের ভিতরে ঘুমরে মরে ।জানেন সেদিনও পায়েস রেঁধে খুব কেঁদেছিলো ।আর জানেন আপনাদের বিবাহবার্ষিকী পালন করলো ,কি দিয়ে জানেন? আপনার ফোটো দিয়ে --"
সুমনের চোখ জলে ভরে গেল ।
"কোথায় তন্নী?"
   কদিন থেকে ম্যাডাম খুব অসুস্থ ,আর শুনলাম বুকের ব্যথাটাও খুব বেড়েছে সাথে খুব কাশি ।শুয়ে আছেন ভিতরে ।
"আমি গেলে খারাপ পাবেনাতো? "
 " এই ভোলা কার সাথে কথা বলছিস রে? "..উপর থেকেতন্নীর গলা ।
    --না ম্যাডাম ।
    হু
বলতে বলতে সামনের দিকে আসল তন্নি ।এ যে সুমন! প্ৰথমে খুব রাগ হয়েছিল পরে ভাবলো বেশ তো ভালোই হলো, আমি যে আর বাচবনা সেটা বলেই যাই....
   তিন্নির চোখ জলে টলমল করছে ।কি করবে না করবে কিছুই ভাবতে পারছিলো ।না খুব কষ্ট করে বললো
    "এসো ভিতরে ।"
   তন্নী --
আমি সব শুনেছি ভোলার কাছে ।সব ভুল আমার। আমায় ক্ষমা করে দিও প্লিজ। আর ভুল বুঝবনা প্রমিজ ,খুব কষ্ট হয়েছে জানো আমারও। দম বন্ধ হয়ে আসছিলো ,প্লিজ আর একবার আপন করে নাও --
খুব দেরি হয়ে গেছে মনে হয় সুমন ।আমার যে খুব অসুখ...
কিচ্ছু হবে না তোমার ।আমি আছি না ?
তিন্নিকে জড়িয়ে ধরে সুমন অঝোরে কাঁদতে লাগলো ।
এই সুখের স্মৃতির ভাগিদার হয়ে ভোলারও চোখে জল এসে গেলো ।


         ##@c@biltu@##
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে...
                                   কস্তুরী


শতাব্দীর পর শতাব্দীর বুক চিরে
আলো আর আর্তনাদের ঢেউ আছড়ে পড়েছে
এই সাগর তীরে,
কত সার্নিম সূর্যের আনাগোনা,
বহু পড়ন্ত আলোয় স্নাত
এই বিশাল সম্পদ সম্ভার,

কত কত গোলাপ আর যূথিকার
হাত বদল হয়েছে।
মানুষ মানুষকে দেখেছে,
কিন্তু বোধ হয় চিনে উঠতে পারেনি।


যুগের পর যুগ
অন্ধকারের মতো
কত ভালবাসা, ঘেন্না, রাগ, অভিমান
ঘনীভূত হয়েছে
সমস্ত গোপন গভীর প্রকোষ্ঠে,
ঘরের ছাদের উপর
নির্ঘুম রাত্রিযাপন
ঘেঁষাঘেঁষি দুই শরীরের,
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে
উষ্ণস্পর্শে অনন্ত সৃষ্টির উল্লাসে
মেতেছে প্রাণের অনন্ত বিস্তৃত সাগর।


যুগ যুগ ধরে
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে
তুমি আর আমি তাকিয়ে থেকেছি
এই সাগর তীর থেকে,
ওই আলোর ওপারে অন্ধকারের দিকে।


আজ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে...

শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৯

Xক্লুসিভ অর্পন



ইউটিউব এ আমার শর্ট ফিল্ম গুলো আপলোড করে 'views' উঠানোর চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান দর্শকাসনের প্রথম শাড়ি থেকে শেষ শাড়ি পর্যন্ত করতালি শব্দ। 



১.) অর্পন বসাক একটা সাধারণ ছেলের নাম। হঠাৎ একটা ইচ্ছে হলো আর দুটো শর্টফিল্ম করে নিলে ? নাকি শুরুর গল্পটা একটু জানাবে আমাদের।

 উঃ- আমার ডিরেক্টরিয়াল জীবনের শুরুটা একটু আলাদা, যখন আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি সেই সময় থেকেই ছবি বানানোর ভূত মাথায় চাপে, বাবা 'eyepod' কিনে দিয়েছিল, সেই 'eyepod' নিয়ে শুট করতাম বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে। যদিও সেই ভিডিও গুলো আমার 'eyepod' বন্দি থাকতো, এবং আমার আশেপাশের বন্ধুরা, মা-বাবা কেই দেখাতাম। সেখান থেকেই আমার কাজের শুরু, কাজ বললে ভুল হবে সেটা আমার কাছে ক্ষ্যাপামি। তারপর প্রথম মোবাইল ফোনের শর্ট ফিল্ম বানাই যার নাম "Virtual World", অভিনয় করেছিল সুপ্রতিম সাহা।
তারপর স্কুল লাইফ থেকে প্লানিং ছিল 'film studies' নিয়ে পড়বো,12 pass out করার পর "Pailan College of Management and Technology" তে 'Media Science' নিয়ে পড়ার জন্য ভর্তি হই, আস্তে আস্তে তারপর "Inner Me" "Abar Asbo Phire" "Chitrokar", এই তিনটে শর্ট ফিল্ম as director কাজ করি, সবাইকার ভীষণ ভালো লাগে এবং সাহস করে পরবর্তী পদক্ষেপটা এক্কেবারে ফিচার ফিল্ম যার নাম "প্রতিফলন"।


২.) "ইনার মি" এবং "চিত্রকার" ( দু-লাইনে ডেফিনেশন দাও) মানে কি নিয়ে ছবি দুটো।

উঃ-"Inner Me" এমনই একটা গল্প যেটা মূলত বহিরাঙ্গের সৌন্দর্য Vs নিজের ভেতরকার সৌন্দর্য কে ঘিরে।



"চিত্রকার"  গল্পের মধ্যে সাসপেন্স রয়েছে প্রতিমুহূর্তে। একটা রহস্যজনক পেন্সিল কি কিরে গোটা গল্প।



৩.)অনেক শর্টফিল্ম হচ্ছে তাহলে তোমারটা আলাদা কেন ? মানে নিজের কাজ কে তো তুমি এগিয়ে রেখেছ বা রাখছ নিশ্চয়?

উঃ-শর্ট ফিল্ম ব্যাপারটা এখন ভীষণভাবে প্রচলিত, তবে আমি মনে করি যে ইউটিউব টা আমার লক্ষ্য না, ইউটিউব এ আমার শর্ট ফিল্ম  গুলো আপলোড করে 'views' উঠানোর চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান দর্শকাসনের প্রথম শাড়ি থেকে শেষ শাড়ি পর্যন্ত করতালি শব্দ,তাই আমার দুটো শর্ট ফিল্ম একটা নাম "আবার আসবো ফিরে" আর একটা নাম "চিত্রকার" দুটোই প্রাইভেট স্ক্রীনিং করেছি একটা করেছি "যোগেশ মাইম একাডেমিতে" আর একটা "জ্ঞান মঞ্চে"।
মোট তিনটে শর্ট ফিল্ম "আবার আসবো ফিরে" "চিত্রকার" "ইনার মি"



৪.) চিত্রকারের অভিনেতা, অভিনেত্রির নাম?

উঃ-চিত্রকারের মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছে সুপ্রতিম সাহা ( সৌম্য ) চরিত্রে, অভিনেত্রীর চরিত্রে রয়েছে সৃতামা কর্মকার ( এশা ) চরিত্রে, এবং শ্রেয়া রয় চৌধুরি ( মেঘনা ) চরিত্রে।






মানুষকে ভাবাবে, কাঁদাবে আবার হাসাবেও






৫.) কলকাতার জ্ঞান মঞ্চে দেখানো হলো এই দুটো("ইনার মি" এবং "চিত্রকার") শর্টফিল্ম, আচ্ছা তাহলে সবার কাছে কিভাবে পৌঁছবে এই দুটো ছবি?

উঃ- 'ইনার মি'র ক্ষেত্রে বলবো এটা পুরোপুরি প্রডিউসারের উপর ডিপেন্ড করছে যে কোন ওয়েব প্লাটফর্মে রিলিজ করবে।
আর যেহেতু 'চিত্রকারের' প্রডিউসার আমি আর সুপ্রতিম, আমরা খুব তাড়াতাড়ি এই বছরের মধ্যে ইউটিউবে রিলিজ করব 'চিত্রকার'।


৬.) তোমায় দুটো'র মধ্যে থেকে যদি বেস্ট বাছতে বলি তাহলে কোনটার নাম নেবে "চিত্রকর" নাকি "ইনার মি"?

উঃ-আমার কাছে দুটোই আমার বাচ্চার মত, ইনার মি ও চিত্রকার, ইন ফ্যাক্ট আবার আসবো ফিরে ও, সেই ক্ষেত্রে কোন একটা বাচ্চাকে বেশি ভালোবাসবো সেটা কখনোই হতে পারে না। যখন যেই ছবিটা করছি তখন কার জন্য সেই ছবিটা নিজের বেস্ট দিয়ে বানানোর চেষ্টা করি এবং পরবর্তীকালে করব।



৭.) তোমার ইচ্ছে নিশ্চয় বড়ো ছবি বানানো। আর সেক্ষেত্রে কিরকম ছবি বানাতে চাও তুমি?

উঃ-বড় ছবি বানানোর ইচ্ছে তো আছেই এবং একটা বড় ছবি বানাচ্ছি ও, ফিচার ফিল্ম যার নাম "প্রতিফলন"।
মাথায় অনেকগুলো কনসেপ্ট রয়েছে, আমি মূলত এমনই কিছু কনসেপ্ট এর ওপর বড় ছবি বানাবো যেটা দেখার পর মানুষকে ভাবাবে, কাঁদাবে আবার হাসাবে ও।
এক গতের কাজ করতে চাই না, প্রত্যেকটা নতুন নতুন কাজে, অন্য ধরনের কিছু উপহার দিতে চাই আমার দর্শককে।


৮.) একজন ডিরেক্টরকে অভিনেতা বাছতে হয়,
তুমি কিভাবে বেছে নাও একজন অভিনেতাকে?
(চেহারার ওপর নাকি অভিনয়ের ওপর)

উঃ- এই কোশ্চেনটা বেশ, অবশ্যই অভিনয়, তবে চরিত্রের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ আমি পছন্দ করি না, আমার ভাবনার চরিত্রের চেহারার সঙ্গে, অভিনেতার চেহারা ম্যাচ না করলে, আমি কাস্টিং করি না।



৯.) নতুনদের সুযোগ দেবে তোমার নির্বাচন? দেখো এখন অবধি দাওনি যেমন তুমি জনপ্রিয় অভিনেত্রি অদ্রিজাদি'কে নিজের ছবির জন্য বাছলে। তাহলে নতুনরা কি করে সুযোগ পাবে?

উঃ-আমি নিজেই একজন নতুন পরিচালক সেই ক্ষেত্রে নতুনদের নিয়ে কাজ করার মজাই আলাদা।
যেমন 'আবার আসবো ফিরে' তে শ্রীতমা কর্মকার নবাগতা হিরোইন ছিল,'চিত্রকার'রে শ্রেয়া রায় চৌধুরী নবাগতা ছিল। তবে অদ্রিজা কে কাস্টিং করার পেছনে কারণটা হচ্ছে আমি যখন "ইনার মি"র স্ক্রিপ্টটা নিয়ে ভাবি অদ্রিজা কে ছাড়া আমার মাথায় অন্য কেউ একেবারের জন্য আসেনি।
আমি ভবিষ্যতেও আরো অনেক নতুন মুখের সঙ্গে কাজ করতে ভীষণ ভাবে আগ্রহী।


১০.) শুনলাম তোমার একটা নতুন কাজ হচ্ছে,  সেটা নিয়ে একটু বলো?

উঃ-হ্যাঁ, নতুন কাজ করছি একটা, ফিচার ফিল্ম সুপ্রতিম সাহা প্রযোজিত যার নাম 'প্রতিফলন'।
শুটিং শুরু হয়ে গেছে, মূলত এটা একটা গ্রামকেন্দ্রিক গল্প যেখানে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছে সুপ্রতিম (আর্য) চরিত্রে আর নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করছে নবাগতা সায়ন্তনী দেব (রিমি) চরিত্রে, গল্পটা  লড়াই নিয়ে আর্য আর আর আর্যর বাবার সাথে।  লড়াইটা কিসের জন্য সেটাই সাসপেন্স।
আমার আর সুপ্রতিমের ইচ্ছে রয়েছে প্রথমে বানানোর পর ছবিটা ফিল্ম ফেস্টিভালে পাঠাবো তারপর রিলিজ।


১১.) শুধু মাত্র জ্ঞান মঞ্চ নাকি ইউটিউব নাকি টিভির পর্দা। নিজের কাজকে ছড়ানোর জন্য তুমি এগুলোর মধ্যে কিসের ওপর ডিপেন্ড করবে?

উঃ- নিজের কাজ ছড়ানোর জন্য আমি ভালো গল্পের উপর ডিপেন্ড করব। তারপর আসছে প্ল্যাটফর্ম কারণ এখন যে রকম ওয়েব মার্কেট তৈরি হয়েছে তার মানে এটা না যে টিভি কিংবা হলে ছবি দেখা উঠে গেছে।
একে অপরের সঙ্গে co-exist করছে, আমিও পরিচালক হিসেব co-exist  করতে চাই দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যম গুলোর মধ্যে আমার ভাবনাগুলো।


১২.)এখন যে সমস্ত বাংলা সিনেমা হচ্ছে তাতে সাউথের সিনেমার কপি থাকছে আবার বহু সিনেমায় থাকছেনা সেগুলোএকদম নিজস্ব। তোমার মতে কোন ধরনের ছবি তুমি করতে চাইবে?

উঃ-আমি নিজস্ব ছবি করতেই বেশি প্রেফার করব, তবে নাচ গান মজা মাস্তি নিয়ে যেই ছবিগুলো হচ্ছে এক কথায় বলতে গেলে বাণিজ্যিক ছবি সেই ছবি আমি করতে চাই,কিন্তু নিজের কনসেপ্ট থাকবে সেই ছবিতে কোন অন্য জায়গাকার কনসেপ্ট কপি করে না।



১৩.) শেষ প্রশ্ন, অর্পন বসাক বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন এমন কি দেবে যার জন্য ডিরেক্টর হিসেবে অর্পন বসাককে বেছে নেওয়া হবে?

উঃ- আমি মনে করি আমার এখনো ডিরেক্টর হিসেবে অনেক কিছু শেখার বাকি আছে,তবে একটা জিনিস যেটা না বললেই নয়,যখন বাংলা ছবি দেখি আমরা সিনেমা হলে,একদম শেষে যে মানুষ গুলোর নাম যায় অর্থাৎ যারা যারা ছবিতে কাজ করেছে এন্ড ক্রেডিট এ যাদের নাম যায়, তাদের আমি সম্মান জানতে চাই, কারণ বেশিরভাগ সময়ে ওই নামগুলোকে দর্শকেরা পড়ে না, না পড়েই বেরিয়ে যায় হল থেকে, সেটা আমার খুব খারাপ লাগে। তার একটা পদ্ধতি ও বার করেছি। তবে সেটা এখন বলবো না তার জন্য দেখতে হবে 'প্রতিফলন' আমার প্রথম ফিচার ফিল্ম।



[ ডিরেক্টর অর্পন বসাকের সাক্ষাৎকার নিলেন জলফড়িং ওয়েব ম্যাগের ইন্টারভিউ সেকশন এডিটর সুদীপ্ত সেন ]

বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৯

আত্মিক
*******
তন্মনা চ্যাটার্জী

   সুলতা দেবী জানলার ধারে বসে ভাবছেন। কতদিন হয়ে গেলো তাঁর এই বৃদ্ধাশ্রমে।। একটিবারের জন্যেও ছেলে সম্বিৎ আসে নি।সেই কোন্ ছেলেবেলায় স্বামী মারা যাওয়ার পর ,এই ছেলেকেই কত অভাব অনটন পেরিয়ে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তিনি।। তারপর ডাক্তার সম্বিৎ মানে আদরের টপ্পাকে নিয়ে কত গর্ব তার।। তারপর ছেলের পছন্দ করা মেয়ে মোহিনী কেই বউমা হিসেবে গ্রহণ করে ঘরেও আনেন।। তারপর ছোট্ট নাতনি টুপুর হলো।।না জানি কত বড় হয়েছে এখন! এসব ভাবতে ভাবতে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন সুলতা দেবী।। হঠাৎ পেছন থেকে ছোটছোট দুটো হাত গলাটা জড়িয়ে ধরে তাঁর।।তারপর গালে মিষ্টি একটা চুমু খায় বছর পাঁচ-ছয় এর একটা পুতুল পুতুল মেয়ে আর বলে "হ্যাপি কিস্ ডে ঠাম্মি"।। অবাক হয়ে তাকায় সুলতা দেবী।।ঘরে ঢোকে বৃদ্ধাশ্রমের নতুন সেক্রেটারী মৃণালিনী।।"ও আমারই মেয়ে মাসিমা, ওর নাম রিনি।।টিভিতে দেখেছে আজ কিস্ ডে , ওর ঠাম্মি ওর জন্মের আগেই মারা গেছে...তাই আপনাকে দেখে...."।। সুলতা দেবী কিছু আর শুনছেন না , ছোট্ট রিনিকে কোলে তুলে নিয়ে দুই গালে চুম্বন করলেন।।আর দুই অসমবয়সী মায়েরই চোখ ঝাপসা করে দিলো কয়েক বিন্দু জল।।

চুম্বন অনুভূতির নামান্তরে সৃষ্টি করে সম্পর্ক!!
'বিন্দু মাত্র'

~বিদিশা নাথ

জানি, জানি তোমায় বিন্দু মাত্র ভালোবাসিনি।
তোমায় ভোরের বেলা চুমু খেয়ে বলিনি তুমি মালশ্ৰী রাগ  আর নিপাত যাক, শহর,মিছিল,দরজা কপাট বন্ধ হোক ওই সব উঁচুতলার, যাদের সামনে ফুটপাত আলো করে শিশু ঘুমায় চাকরি না পাওয়া মায়ের কোলে ,
আমি তখন তোমার চোখে একটা নন্দন আঁকবো, একটা লাল দীঘির জল আর একটু সাহসী হলে দিঘার সস্তা ঘর।
আমার দায়,আমার পকেট খরচ,আমার ধোঁয়ার কুন্ডলী সব-ই তোমার ঘাড়ে চাপিয়ে ফুরফুরে একটা বিকেল আমার প্রাপ্য ,ভাবিনি।
জানি জানি তোমায় আমি বিন্দু মাত্র ভালোবাসিনি।
আমি শেষের কবিতার 'অমিট রে' হতে পারিনি ,
পাহাড়ের কোল জুড়ে কুয়াশার গন্ধকোলন এনে দিতে পারিনি তোমার কোলে,
আমি বহু আগের অন্য আঙুলের আংটি টা তোমায় পড়াতে পারিনি।।হয়ত কেভেন্টার্স এ বসে তোমার আঙ্গুল জড়িয়ে বলতে চাইনি বিয়ে! ও করা বারণ। নেই তেমন কোনো কারণ!!
"আমায় আলগা থাকাই মানায়" বলে চরম চার্মিং হতে পারিনি।
জানি জানি এত  দিনেও তোমায় কিচ্ছুটি বোঝাতে পারিনি, বিন্দু মাত্র পারিনি।
তুমি জড়োয়া গয়না চেনো? কিংবা দশ হাজারী পৈঠানি শাড়ি? আমি কাজল আঁকব বলে যে চন্দন বনে তুমি মুক্ত হলে প্রথমবার তার কিছু পুড়ে যাওয়া কাঠকয়লা নিয়ে গেলাম আর
তুমি!
সেই অমোঘ হাসি হেসে বললে,''বোকা টিই রয়ে গেলে",
জানি জানি তোমার অস্টমঙ্গলা,তোমার সাধ; সবেতেই তোমার কালশিটে দাগ দেখেও না-দেখা করতে পারিনি তাই আজও হয়ত বিন্দু মাত্র তোমায় ভালোবাসতে পারিনি।
//অন্য পরিচয়//


কতটা খারাপ হলে কাউকে খারাপ বলা যায়?
কতটা বোকা হলে কাউকে নিঃসন্দেহে ঠকিয়ে মজা পাওয়া যায়?
আচ্ছা,
        কতটুকু ভালবাসলে তাকে ভাসিয়ে দেওয়া যায়,
        অপমানের নদীতে,কুৎসিত উপত্যকায়?
       কতটুকু ক্ষমতা থাকলে অতীতকে "প্রাক্তন" নাম দেওয়া যায়?
গভীরতা!
           ভালবাসায় ছিল না, তবে প্রেমে ছিল খানিক।
          তা নাহলে কীভাবে নাগাল পেতে পুরুষ বুকের খাঁজে?
         শরীর ভেদ করে নরম মনের কানাগলিতে?

খোদাই করার খেলায় বেশ তো ছিলে মেতে,
তবে কি বলো তো?
বেশ্যা মনও যে চায় ভালোবাসা পেতে...
সংসার বাঁধতে তারও জাগে সাধ
শুধু পরিস্থিতির টানে, পিছুটান ভুলে
সয়ে যায় পরিচয়ের তীব্র অপরাধ।

অভিমানের মেঘ তার বুকেও জমে,
তোমার দেওয়া শেষ চিঠি
আজও গোপন খামে,
তবে খুলে দেখে না আর,
যে ভালোবাসা ছিল তারা আজ হয়েছে যাযাবর।
তবুও তোমায় বাঁচিয়ে রাখে তীব্র ঘৃণার চূড়ায়,
পুরুষ, নারীর অভিমান পাহাড় সমান,
বোঝা তোমার কম্ম নয়!

বলো, কি দোষ ছিল তার? কেবল বেসেছিল ভালো,
নাইবা হতে প্রেমিক,
তাই বলে কেড়ে নিলে জীবনের সব আলো!
কি নিদারুণ খেলায় মাতিয়ে তুলে
প্রেমের জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে
বেচে দিলে অন্য হাতে!

কেড়ে নিল তারা এক ঝটকায় দেহের সব আবরণ,
স্ট্যাম্প দিয়েছে কপালে সেঁটে,
মালিকানা ফলায় রোজ রাতে,
আচ্ছা দেহে বেশ্যা হলেই পরে বেশ্যা কি হয় মন?

তোমার দেওয়া নতুন পরিচয়ে সে আজ দিব্যি আছে,
সেই বদনামের আঁচে প্রতি মুহূর্তে নতুন করে বাঁচে।
বিকিয়েছি শরীর ঠিকই মনটা তবুও তাজা,
মেনে নাও প্রেমিক,
প্রেমিকা হওয়া নয় অতটাও সোজা...


                                              _শিল্পা মন্ডল

ভালোবাসার এপিটাফ ।
    অরূপ ।
যারা লিখে গেছে শেষবার,তাদের হিসেব হয়েছে ভুল।
যারা  জলের ও বিভেদ করেছে তরাই ভুলে গেছে বিলকুল ।
রক্ত বেগে প্রবহিত হয় শিরা থেকে ধমনিতে।
রক্তের ছিটে লেগে আছে এপিটাফের শেষ লাইনে।
জানতাম  প্রেয়সী মায়ের মত স্নিগ্ধ , এটাও সত্য যে সে  অনাট্যমি তে দক্ষ ।
হৃদপিণ্ড চিরে সে দেখেছে কোথায় কটা  প্রকষ্ট,
ঘরময় ছরিয়ে আছে রক্ত ,যন্ত্রনা আমারও অল্পবিস্তর হয় ।
নুডলসের মত ছিড়ে আসে শিরা , শরীরেরই হয় অবক্ষয়,
যেখানে সভ্যতার ধর্ম ক্ষয়,সময়ও খানিকটা তাই।
এসো আমরা এপিটাফে শুয়ে ইতিহাস হয়ে যাই।

মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৯

#ভোজ

#মুনমুন মুখার্জ্জী


মরার কথা শুনলেই যেন সবার মনে জাগে খাবার লোভ,
যে মানুষ টা চির বিদায় নিল তার জন্য থাকে না ক্ষোভ।
খাওয়াতে পারে সেটা বুঝলেই, ফল জলটা করতে আসে ঘরে,
খোঁজ খবর নিতেও যায় না কেউ, যদি বোঝে খাওয়াবে নারে।
ভোজ হোক না শ্রাদ্ধ বা বিয়ে বাড়ি, সবটাই তো আনন্দের!
দুঃখ, কষ্টের অবকাশ নেই, উপভোগ করা শুধুই সুখের।
অণুগল্প ---""" দত্তক """
কলমে--- সন্দীপ রায়

=================================
আলমারি থেকে রাশিয়ান হার্ট স্পেশালিস্ট ডক্টর থমাস কোরম্যানের  আর্টিকেলটা বের করার সময় হঠাৎ একটা ফটো পায়ের কাছে পড়ে যায় শুভ্র ওরফে কার্ডিয়াক সার্জেন ডঃ শুভ্রনীল ব্যানার্জীর। আনমনেই ফটোটা তুলে নিয়ে দেখতে থাকে।এ তো স্কুলজীবনের ফটো।এইচ.এস এর ব্যাচ।চোখের সামনে  মুহুর্তমধ্যে ভেসে ওঠে রাধারমন স্মৃতি হাই স্কুলের ছবি।বিরাট পাচিঁল ঘেরা স্কুল। দুপাশে বাহারি ফুলের বাগান। শীতে বলাইদার  তত্ত্বাবধানে ডালিয়া,চন্দ্রমল্লিকার রুপে মুগ্ধ হতো পুরো স্কুল।তার পরই ছিল খেলার মাঠ।শুক্রবার টিফিনের পর শীতের মিঠেকড়া রোদ গায়ে মেখে চলত শিক্ষক- ছাত্রদের ক্রিকেট উন্মাদনা।সেই ক্লাসরুম,জানলার পাশের বেঞ্চ,জানলা দিয়ে  স্কুলের বাইরে কেষ্টদার সুরেলা আওয়াজে ঘুগনি বিক্রি  দেখা...সোনার  দিনগুলো আজ এক লহমায় যেন জীবন্ত হয়ে উঠছে।বাংলার প্রভাত স্যারের আবেগঘন কণ্ঠে আবৃত্তি,শিহরণ জাগাত।বায়োলজির নাজেম স্যারের দুর্দান্ত আঁকা-লেখা আজও স্মৃতির পাতায় হীরকদ্যুতিতে উজ্জ্বল।মণি-শাশ্বত'র সাথে টিফিন শেয়ার আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আগের দিন রাত জেগে স্টেজ তৈরী,রিহার্সাল--আঃ!কি দিন ছিল সে সব।আবেগতাড়িত হয়ে পড়ে কিছুটা।তবে স্মৃতিতে রাধারমন হাই স্কুল মানেই যার অবয়ব সবচেয়ে আগে মনে পড়ে তিনি স্কুলের গণিত শিক্ষক শ্রদ্ধেয় পরিতোষ ভট্টাচার্য্য।যেমন পর্বতপ্রমাণ চেহারা,তেমনি ভীষণ রাগী।এক একটা অঙ্কের সমস্তরকম সমাধান পদ্ধতিই ছিল তাঁর নখদর্পনে।না পারলে তিনি নতুন নতুন শাস্তির অবতারণা করতেন।এই রকম দোর্দন্ডপ্রতাপ মানুষের অন্তরেও একটি শিশুসুলভ মন লুকিয়ে থাকত যা সকলের দৃষ্টিগোচর হয় নি।বলতেন---"আমি তোদের বাবার মতো,তাই তো শাসন করি"।কথাটা মনে পড়তেই  বুকের ভেতরটা চিনচিন করে ওঠে। সতেরো দিন হল হঠাৎ হৃৎরোগে আক্রান্ত হয়ে বাবা মারা গিয়েছেন।ফোন পেয়েই ব্যাঙ্গালোর থেকে তড়িঘড়ি ছুটে এসেছে।বছর তিনেক আগে মা গত হওয়ার পর বাবাকে শুভ্র'র কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য কম পীড়াপীড়ি করেনি,কিন্তু স্বাধীনচেতা মানুষটা প্রিয় সহধর্মীনির স্মৃতি আঁকড়ে অন্ডালেই থেকে গিয়েছিলেন।হয়তো সেজন্যই দেশের তৃতীয় সেরা সার্জেন হওয়া সত্ত্বেও বাবার অন্তিম মুহুর্তে কিছুই করা সম্ভব হয়নি।ভাবতেই চোখ দুটো ভিজে যায় শুভ্রর।হাতে এখনো তিনটে দিন।কি করবে ভাবতেই মাথায় একটা প্ল্যান আসে।

পরদিন সকালে ড্রাইভ করে শুভ্র চলে আসে তার স্মৃতিমেদুর স্কুলগেটের সামনে।ঘুরে ঘুরে পুরোনো দিনগুলোর সাথে বতর্মানকে মেলানোর চেষ্টা করে,কিন্তু কোথাও সময়ের দূরত্ব অনুভব করে।অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে,অবসর গ্রহনের পরেই সাংসারিক অশান্তি-যন্ত্রণার নীরব সাক্ষী পরিতোষবাবুর বর্তমান স্থায়ী  ঠিকানা নিকটবর্তী এক বৃদ্ধাশ্রম।খবরটা শোনার পর মনের ভেতরে যেন হাজারটা ঢেউ আছড়ে পড়ে।ঠিকানাটা নিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে যায় বৃদ্ধাশ্রমে।দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়েছে।জীবনযুদ্ধে পরাজিত, হার না মানা কিছু মানুষের মধ্যে এই মুহুর্তে দাঁড়িয়ে আছে পরিতোষ ভট্টাচার্যে্র অতি প্রিয় ছাত্রটি।দুর থেকেই শুভ্র চিনতে পারে তার স্যারকে।স্যার!চিনতে পারছেন?আ...মি শুভ্রনীল,শুভ্রনীল ব্যানার্জী।ভগ্নদেহ একটি  মানুষ ভাঙাকাঁচ চশমার মধ্যে দিয়ে মুখ তোলে,পুরানো স্মৃতি হাতড়ায়।"তুই এসেছিস,বাবা" বলে শিশুর মতো জড়িয়ে ধরে শুভ্রকে।যাবতীয় দুঃখ -কষ্টের সীমানায় দাঁড়িয়ে শিক্ষক-ছাত্রের দুটি হৃদয় আবেগাশ্রুতে ভেসে যায়।স্যারকে অপেক্ষা করতে বলে কিছুক্ষণের মধ্যেই  ফিরে আসে । "নিন স্যার,তৈরী হয়ে নিন" বলে কাকে যেন একটা ফোন করে।স্যার হতবাক দাঁড়িয়ে আছে দেখে বলে ওঠে---"আজ থেকে আমার কাছেই থাকবেন।এই পিতৃহারা সন্তান আজ পিতা হিসেবে আপনাকে দত্তক নিল"।বাঁধভাঙা কান্নায় ভেসে যায় পরিতোষবাবুর চিবুক -হৃদয়।ওদিকে কাঁসর-ঘন্টাধ্বনি মুখরিত সন্ধ্যারতি শুরু হয় আশ্রমে।সবাই একই সাথে গেয়ে ওঠে---"বিশ্বপিতা তুমি হে প্রভু....."।।

                           #/#/#/#/#
কাল রাত্রে
      দ্বৈপায়ন চ্যাটার্জী

হঠাৎ সব এক হয়ে গেছে,
তোমার ধর্ম আমার ধর্ম মিলেমিশে একক রূপ নিয়েছে।
ছাদরূপ এক আকাশের তলে মানুষ গুলোর আর কোনো ভিন্নতা নেই।
রাজনীতি নেই,লিঙ্গবৈষম্য নেই,হিংস্রতা নেই।
আছে মানবিকতা,উদার পন্থী।
সকলেই প্রেম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে।
ভালোবাসার লড়াই চলছে শুধু দিক বিদিকে,
কে কত বেশি ভালোবাসতে পারে এই নিয়ে!
ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই,
মানুষ একাই বুঝে গেছে কোন টা পাপ।
শাস্তির ভয় নয়,বিবেকের দংশন কাজ করে এখন।
আজ আর উলঙ্গ ছেলে টাকে প্রকৃতি কে ভরসা করে কাঁদতে হয় না একা রাস্তায়,
কেউ একজন ওকে ঘর দিয়েছে,
দিয়েছে অনেক টা আদর আর একমুঠো খাবার।
বলতে হয় না কাউকে ওই মাইক্রোফোন এ মিথ্যে ভাষণ,
তারা ভুল বুঝে গেছে,
কেউ মাঠে চাষ করে,কেউ বা পড়া শোনায় মত্ত,
রাজপ্রাসাদ থেকে বেড়িয়ে কেউ বা মাটির ঘরে মন ঢেলেছে যুদ্ধে হেরে গিয়ে,
হ্যাঁ যুদ্ধটা ভালোবাসার।
এভাবেই রাত কাটলো একটা স্বপ্নে বিভোর হয়ে কাল রাত্রে।

সোমবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৯

সুখের সন্ধান
-----------
জীবনের সব পাওয়াকে বোধহয় পাওয়া বলে না।
আবার সব না পাওয়াতেও, দুঃখ হয় না কখনো।
পাওয়া, না পাওয়ার সূক্ষ্ম সীমারেখাটা খুবই ঠুনকো।
ধনাত্মক বা ঋণাত্মক ভাবনাতেই, তার আশ্রয়।

মনে আমি যদি পেয়েছি ভাবি কিছু,
সেটা ভেবেই কাটিয়ে দিতে পারি, অযুত-নিযুত বছর।
আবার পেয়েও যদি পাই নি ভাবি,
শত চেষ্টাতেও শান্তি খুঁজে পাবো না তিনভুবনে।

যা কিছু পেয়েছি,  সেইটুকুই সম্বল করে,
 যা পাই নি, তার আক্ষেপ না রেখে,
নিজের মতো করে এগিয়ে চলতে পারা মানুষগুলো,
জীবনে সত্যিই সুখের সন্ধান পায়।
     ************
     পাপিয়া মণ্ডল
সীমন্তিনী
                          -রুন্না ভাওয়াল
এক কাপ চা হাতে বারান্দায় এলাম,
সূর্যের লাল আভাটাও যেন গনগনে মনে হচ্ছে।
তাতে অস্বস্তি বোধটা খুব একটাও বাড়ল না!
গরম কাপের ছ্যাঁকাটাও যেন গায়ে লাগলো না।
ততক্ষণে আবোল তাবোল চিন্তা ভাবনারা রাজত্ব করছে।
আমি কিন্তু রানী বা রাজকুমারী নই। কেবলই নর্তকী!
এখনো মনে আছে সেই দিনের কথা...
যেদিন বিকেলে রামধনু উঠেছিল আকাশছোঁয়া;
তখনও আমার সীমন্তিনী হওয়ার ইচ্ছে জাঁকিয়ে বসেনি।
জলসায় ঘুঙুর বেঁধে নাচতাম বইকী!
দ্বিধাবোধ গুলোকে মুষড়ে সিন্দুকে ভরে রাখতাম।
আর মন্ত্রী তুমি? তুমি তো আমার বাবার মতো ছিলে...
সেই তুমি আমায় নিংড়ে শুষে নিতে।
পারলে হয়তো দাঁত দিয়ে আমার শরিরটাও ছেঁড়ো!
কায়ক্লেশে দিনের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে হঠাৎ...
বাহমানী রাজ্য আক্রমণ করলো;
তারপর ঠিক কী যে হল মনেই আসছে না।
নিজেকে পেলাম সিন্দুকে,যেখানে দ্বিধা গুলো গুটিশুটি মেরে ছিল।
দেখলাম এক কাপুরুষ সবার আড়ালে আমায় নিতে এসেছে!
সে-ই তো আমায় সীমন্তিনী হওয়ার ইচ্ছে জোগালো।
ঠিক আমাদের বিয়ের দিন: সে নেই!
ওরা যজ্ঞে ওর হাড় গুলো আহুতি দিল।
আমার পায়ে বেজে উঠল তাঁর সুপুরুষ হওয়ার ছন্দ।
সীমন্তিনী?সীমন্তিনী?.........
হঠাৎ দেখি মা ডাকছে গা-য়ে হাত দিয়ে!
বুঝলাম, ঘুঙুরের বিষবৃক্ষ পুঁতে ছিলো সীমন্তিনী।

রবিবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৯

একবিংশ শতাব্দী আর ‛ওরা’....

ওদের আকাশ তখন শুয়েছিল অন্ধকার বিছানায়।
আমি ঠান্ডা ঘরে গদির বিলাসিতায়।
স্বীকারোক্তির ঠোঁট আর কথার মধ‍্যেকার কথা বলে উঠল,
“কিছু না পার, কলম তো ধরতে পারিস।
কলম ধরতে তো আর টাকার মালিশ লাগে না,
ভয় নেই; নিঃস্ব সবাই হয় না।”

বিষাদের আনন্দ হল একটু ওদের জন‍্য।...
ওদের কাছে আমি অচেনা। তবে,
ওদের সাথে অচিরস্থায়ী একটা সম্পর্ক আছে, আমার।
সম্পর্কটা শুধুমাত্র দেনার, তাও কখনো সখনো!

পৃথিবী নাকি নীলগ্রহ!
কিন্তু ধনী অস্পৃশ্যের মাধ‍্যাকর্ষণে
পৃথিবী আজ পয়সা মোড়া গ্রহও বটে।
আর এই খুচরো পয়সার পৃথিবীর কাছে, ওরা অমূল‍্য।
অর্থনীতির কাছেও ওরা অনাত্মীয়।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে ওরা অযাচিত
আমাদের বিলাসিতার অন্ধ চোখে।
অন্ধ আর কি!
অন্ধ বলেই তো সবাই আর অন্ধ কবি হোমার নয়।

সূর্যের বাসি উদয় আর; ওদের বাসি ভাঙা ঘুম
অনেকটা একরকম।
বেরিয়ে পড়ে বস্ত্রহীন বস্ত্রে। চটি ছাড়া ফাটা পায়ে।
কখনো ছেড়া একটা দামী ঝুলিও সাথে,
কখনো ফাঁকাই রেখাকাটা হাতে।

লক্ষ‍্যে অলক্ষ‍্যেই “দিন না বাবু”,
অথবা ভদ্র জামায় অহেতুক টানাটানি,
কখনো সভ‍্যতার পায়ে আঙুল রাখা,
কখনো জল চোখে শুধু নির্বাক চাহনি।
সকালের এইই এক নির্মম শুরু ওদের জীবনে।
রোজ! রোজ!
এ এক নির্দয় প্রয়োজন।
এক উশৃঙ্খল বাধ‍্যবাধকতা।
এক অফুরন্ত টানাপোড়েন।
এক অর্থহীন ভাগ্য।
অবশ‍্য নিঃস্বদের নাকি ভাগ্যই থাকতে নেই!

সকাল পেরিয়ে বারো,
বারো পেরিয়ে দুই - তিন।
কিছু নিস্তব্ধ চিৎকার আর শূন‍্য অভিযোগে
ওদের পেট ভরে,
দৈনন্দিনের সহবাস তাই উপবাস আর অভিশাপের সাথেই।
মায়ের কথায় জেনেছি, ‛সহ‍্যের বহু গুণ’,
আমরা বলি, ‛ওরা অভ‍্যস্তই বটে! সহ‍্য তো করতেই হবে।
কালো বাজারের সৎ টাকা তো আর
ওদের জন‍্য ব‍্যয় করা যায় না।
ওরা অভ‍্যস্ত। অভ‍্যস্ত হতেই হবে।’

জানতে পেরেছি পাজর গোনা শরীর আর
ভেতরে ঢোকা পেটের সাথে,
ওদের নাকি একটা মনও আছে।
হ্যাঁ, হ্যাঁ, মন; ----- মরা মন।
মরা মন তো এক প্রকার মরা দেহই।
সব শব আর ওদের অসফল চিৎকার জড়াজড়ি করলেও,
পূর্বপুরুষ -- আমি -- আমরা,
এক সুন্দর থিয়েটারের মনমুগ্ধ হওয়া রোমাঞ্চকর দর্শক।
অতীতের বোবা চোখ ছিল।
আমাদের অন্ধ ঠোঁট।
আমরা রং বদলাতে পারা সভ‍্য জাতের মানুষ।
সভ‍্যদের সাথে ফুটপাতে থাকা অসভ‍্যদের মেলবন্ধন;
তা তো আর সম্ভব নয়।
একটা বাজার চলতি সন্মান আছে।
সন্মানের দর দামও আছে।

আচ্ছা;
আদিমের এই বর্ণবিদ্বেষ সত‍্যিই কি এক সরল উন্নয়ন?

জানি, ভারী শব্দে অনাহারীদের পেট ভরে না।
ফাকা পেটের শিক্ষায় ওরা আজ সর্বজ্ঞানী।
রাস্তার কোনা কাঞ্চিতে পড়ে থেকেও,
ভূগোলের ইতিহাসে স্থান না পাওয়া, ওরা যুদ্ধরত সৈনিক।
রাজনীতির অনুর্বর স্নেহে লালিত হয়েও,
ওরাই আজ পাশবিক।
ওরা ফাঁকা পেটেই সুখী হতে চাওয়া দুগ্ধহীন স্তন‍্যপায়ী।
আর আমরা?


আমরা, ভদ্র সমাজে মানুষ হওয়া এক নিঃস্ব ধনী।।

সুমি সাহা...
            ....  .... ...... ..... ..... ..... ... ..... ... ........ .... .... .... .... .

শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৯

রাজার বেশে
মৌমন মিত্র

তোর গন্ধমাখা সোহাগ আমার
সেদিনের পড়ন্ত বেলার একটা টিশার্ট জুড়ে
তুই বলেছিলি
ফিরব আবার ,এই গন্ধ মোছার
ঠিক আগের দিন টায় ।
সেদিন আসিস ,আমার রাজার বেশে !
দীর্ঘ শাল্মলীর দুঃখ মেপে
পরনে ধূতি , হাতে রিস্ট ওয়াচ , আর পায়ে থাকবে
আমার দেওয়া সেই পুরোনো কোলাপুরি ।
উদ্ভ্রান্তের মতো আসবি রাজ্য জয় করতে
আমার দুয়ারে ।
হাতে অবনী ঠাকুর ,আর এক গুচ্ছ বেলি নিয়ে ।
ক্লান্ত আমি !
দেখবি আমায়
অনিবার্য বেদনা জানি , অনিবার্য জানি অনেক না পাওয়া।
আশ্রয়ের যে তোর খোঁজ,
জানি দেখা দেয়    তোর অতলে ডুবে যাওয়া চোখ ।
তাই নিয়ে পুরোনো গন্ধ তোর, পা টিপে টিপে
আসে আমার গোটা রাজপথ জুড়ে ।
বলতে আসবি আবার
ফিরবো আবার ওই গন্ধ মোছার
ঠিক আগের দিনটায় ।
সোধ দেব  সেদিন আমার প্রতিটা চুম্বন
আবার আসবি কবে ?
আমার ধূসর মলিনতায়
আমার রাজার বেশে ।