সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৮
সুদীপ্ত'র ভালোলাগা
-----------------ডট.পেন লিখছে
সুনন্দ দা তোমার লেখা গুলো বেশ লাগে
তোমার ইমপিচমেন্ট আমার খুব মনে আছে।
আজাহারুল দা তুমি দারুণ এককথায় বললাম,
তুমি কাফন ঢাকা দিয়েছিলে মনে আছে আমার।
তুষার বাবু,কবি তুষার কান্তি রায় খুব প্রিয় ব্যক্তিত্ব আপনার পুচু ডাক মনে আছে
আপনার দোসরটা আমার খুব ভালো লেগেছে।
অংশুবাবু,কবি অংশুমান কর শ্রদ্ধা নেবেন যে মেয়েকে(আসিফা) সবাই অবজ্ঞা করবে আপনি তার বাবা হয়েছিলেন, মনে আছে আমার
অনুব্রতা দি তুমি চিরকাল ওমনি করেই হেসো
তোমার মেসবালক কেমন আছে?
তোমার কন্ঠকে আমি ভালোবাসা দিলাম।
আসিফ দা তোমার একটু খানি ঘেঁটে দেখা ইন্টারনেট, বুঝতে পেরেছো নিশ্চয় হা'হা দারুণ।
মাসিমণি তুমি প্রনাম নিও তোমাকে কোনোদিন ভুলব না,লেখা দিয়ে তোমায় ভালোবাসা দিতে যাবনা।
সুবীর দা তোমার অনুকবিতা গুলো বেশ ভালো,
দিদান, তোমার ওই হাসিটা তোমার লেখার মতই শুদ্ধ, তৃপ্তি দায়ক, অসামান্য।
কাব্যশ্রী তোমাকে প্রনাম, তোমাকেই দেখি প্রায়দিন তুমি বিজয়ী হয়েছো ভালোলাগে, দারুণ লাগে।
জয়দীপ দা লেখাগুলো অন্যরকম তোমার
বারবার পড়তে ইচ্ছে করে কাদম্বরীর চোখ আরও একটা যেটাতে পোস্ত-র কথা বলা ছিল।
শাল্যদানী রুপম দা, কবি শাল্যদানী রুপম, দাদা দাঁড়িয়ে শুনবো তোমার গলা এক শান্ত,ভেজানো গলা কোনো অন্ধকার বা আলো বা গুহা'ই তোমার সাথে বসবো কবিতা নিয়ে, ইচ্ছে আছে।
সুপ্রকাশ কাকু,কবি তোমায় শ্রদ্ধা,
ভগবান প্রসন্ন হলে সব হয় তুমি বলেছিলে
তোমার সাজানো বইগুলো একবার নেড়ে দেখবো, সেদিন দেখা হয়নি আবার যাবো একদিন।
পার্থ দা তোমার লেখায় অদ্ভূত একটা কেমন আছে,
সৌরভ দা তোমার লেখা আমার অসম্ভব ভালো লাগে।
অরূপ দা তোমার লেখাই একটা প্রান আছে,
অনুরূপা দি তোমার সব লেখাই সেরা,
রাহুল দা, কবি রাহুল গাঙ্গুলী, তোমার লেখাগুলো খুব কঠিন বারবার পড়ে বোঝার চেষ্টা করি কিন্তু, আচ্ছা দু-একটা লেখা একটু সহজ করে লিখতেই পারো...
তোমরা সবাই আমার কাছে প্রিয় সবাই
প্রত্যেকটা কবিতা পড়ি তোমাদের সত্যি বলছি, দারুণ লাগে..
তোমরা হয়তো কেউ নামী বা অনামী আমার মতোই।।
-----------------ডট.পেন লিখছে
সুনন্দ দা তোমার লেখা গুলো বেশ লাগে
তোমার ইমপিচমেন্ট আমার খুব মনে আছে।
আজাহারুল দা তুমি দারুণ এককথায় বললাম,
তুমি কাফন ঢাকা দিয়েছিলে মনে আছে আমার।
তুষার বাবু,কবি তুষার কান্তি রায় খুব প্রিয় ব্যক্তিত্ব আপনার পুচু ডাক মনে আছে
আপনার দোসরটা আমার খুব ভালো লেগেছে।
অংশুবাবু,কবি অংশুমান কর শ্রদ্ধা নেবেন যে মেয়েকে(আসিফা) সবাই অবজ্ঞা করবে আপনি তার বাবা হয়েছিলেন, মনে আছে আমার
অনুব্রতা দি তুমি চিরকাল ওমনি করেই হেসো
তোমার মেসবালক কেমন আছে?
তোমার কন্ঠকে আমি ভালোবাসা দিলাম।
আসিফ দা তোমার একটু খানি ঘেঁটে দেখা ইন্টারনেট, বুঝতে পেরেছো নিশ্চয় হা'হা দারুণ।
মাসিমণি তুমি প্রনাম নিও তোমাকে কোনোদিন ভুলব না,লেখা দিয়ে তোমায় ভালোবাসা দিতে যাবনা।
সুবীর দা তোমার অনুকবিতা গুলো বেশ ভালো,
দিদান, তোমার ওই হাসিটা তোমার লেখার মতই শুদ্ধ, তৃপ্তি দায়ক, অসামান্য।
কাব্যশ্রী তোমাকে প্রনাম, তোমাকেই দেখি প্রায়দিন তুমি বিজয়ী হয়েছো ভালোলাগে, দারুণ লাগে।
জয়দীপ দা লেখাগুলো অন্যরকম তোমার
বারবার পড়তে ইচ্ছে করে কাদম্বরীর চোখ আরও একটা যেটাতে পোস্ত-র কথা বলা ছিল।
শাল্যদানী রুপম দা, কবি শাল্যদানী রুপম, দাদা দাঁড়িয়ে শুনবো তোমার গলা এক শান্ত,ভেজানো গলা কোনো অন্ধকার বা আলো বা গুহা'ই তোমার সাথে বসবো কবিতা নিয়ে, ইচ্ছে আছে।
সুপ্রকাশ কাকু,কবি তোমায় শ্রদ্ধা,
ভগবান প্রসন্ন হলে সব হয় তুমি বলেছিলে
তোমার সাজানো বইগুলো একবার নেড়ে দেখবো, সেদিন দেখা হয়নি আবার যাবো একদিন।
পার্থ দা তোমার লেখায় অদ্ভূত একটা কেমন আছে,
সৌরভ দা তোমার লেখা আমার অসম্ভব ভালো লাগে।
অরূপ দা তোমার লেখাই একটা প্রান আছে,
অনুরূপা দি তোমার সব লেখাই সেরা,
রাহুল দা, কবি রাহুল গাঙ্গুলী, তোমার লেখাগুলো খুব কঠিন বারবার পড়ে বোঝার চেষ্টা করি কিন্তু, আচ্ছা দু-একটা লেখা একটু সহজ করে লিখতেই পারো...
তোমরা সবাই আমার কাছে প্রিয় সবাই
প্রত্যেকটা কবিতা পড়ি তোমাদের সত্যি বলছি, দারুণ লাগে..
তোমরা হয়তো কেউ নামী বা অনামী আমার মতোই।।
সার্থক তুমি রূপকার ।
অরূপ সরকার ।
তোমার হাতের স্বর্ণকলম,
কাটালো সাহিত্য স্থবিরতা।
তোমার সৃষ্টি সর্বদাই বসন্তের আবির মাখা।
তোমার হাতেই রূপ পেয়েছিল সাহিত্য নব দিগন্ত ।
তোমার কাছেই রূপ পেল sonnet কিংবা sonnetto,
নতুন ধারায় লিখে তুমি আনলে নতুন ধারা।
নতুন রূপে উদ্বেলিত হল তোমার ছন্দেরা,
দিনটি ছিল 23 শে এপ্রিল সাল 1564,
সকল সাহিত্যিক দিল তোমার কর্মের জয়ধ্বনী;
লিখেছিলে প্রথম কাব্যনাট্য Hamlet কিংবা oethello,
তোমার হাতেই নাটক গুলো সর্বপ্রথম প্রান পেল।
তাই আমি বলছি তোমায় সার্থক তুমি রূপকার,
যেখানেই থাকো ভালো থেকো,
শুভ জন্মদিন WILLIAM SHAKESPEARE ।
অরূপ সরকার ।
তোমার হাতের স্বর্ণকলম,
কাটালো সাহিত্য স্থবিরতা।
তোমার সৃষ্টি সর্বদাই বসন্তের আবির মাখা।
তোমার হাতেই রূপ পেয়েছিল সাহিত্য নব দিগন্ত ।
তোমার কাছেই রূপ পেল sonnet কিংবা sonnetto,
নতুন ধারায় লিখে তুমি আনলে নতুন ধারা।
নতুন রূপে উদ্বেলিত হল তোমার ছন্দেরা,
দিনটি ছিল 23 শে এপ্রিল সাল 1564,
সকল সাহিত্যিক দিল তোমার কর্মের জয়ধ্বনী;
লিখেছিলে প্রথম কাব্যনাট্য Hamlet কিংবা oethello,
তোমার হাতেই নাটক গুলো সর্বপ্রথম প্রান পেল।
তাই আমি বলছি তোমায় সার্থক তুমি রূপকার,
যেখানেই থাকো ভালো থেকো,
শুভ জন্মদিন WILLIAM SHAKESPEARE ।
রবিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৮
রক্তে লেখা
প্রেমিক নাম টি খুবই মিথ্যা এখন,
প্রেমে তাও বিষ খেয়ে যাই সত্যি ভেবে,
চিঠি তে কবির কলম মারছে চাবুক ,
ভুল হয়েছে প্রেমিক নামের সত্যি জেনে,
প্রেমিক এখন শরীর নামের শব্দ চেনে,
প্রেমিকা গল্প লেখে ভাতের পাতে,
চিঠিতে লাগতে পারে টকটকে লাল
প্রেমিক এখন সত্যি খুবই আঁধার মাখে,
প্রেম এখন প্রান্তে গিয়ে পুড়ছে দেখো
প্রেমিকার রক্ত গুলোই হচ্ছে সেকা ,
রাস্তায় নামলে পরে খাচ্ছি হোঁচট জ্যান্ত লাশে,
শহর এখন শব্দ লেখে লাভ জিহাদে,
আকাশেই জমছে যত প্রেমের আগুন,
শহর আজ ঢাকতে পারে মেঘের গানে ।।
_______ সুরজিৎ
প্রেমিক নাম টি খুবই মিথ্যা এখন,
প্রেমে তাও বিষ খেয়ে যাই সত্যি ভেবে,
চিঠি তে কবির কলম মারছে চাবুক ,
ভুল হয়েছে প্রেমিক নামের সত্যি জেনে,
প্রেমিক এখন শরীর নামের শব্দ চেনে,
প্রেমিকা গল্প লেখে ভাতের পাতে,
চিঠিতে লাগতে পারে টকটকে লাল
প্রেমিক এখন সত্যি খুবই আঁধার মাখে,
প্রেম এখন প্রান্তে গিয়ে পুড়ছে দেখো
প্রেমিকার রক্ত গুলোই হচ্ছে সেকা ,
রাস্তায় নামলে পরে খাচ্ছি হোঁচট জ্যান্ত লাশে,
শহর এখন শব্দ লেখে লাভ জিহাদে,
আকাশেই জমছে যত প্রেমের আগুন,
শহর আজ ঢাকতে পারে মেঘের গানে ।।
_______ সুরজিৎ
#আমার_শহর_শান্তিপুর
তুমি আসবে বলে শান্তিপুরের, ভূমিতে মিশে শ্রী চৈতন্য,
তুমি আসবে বলে বনেদিআনা ভাঙেনি, গোস্বামী দের জন্য।
তুমি আসবে বলে লক্ষ্মীকান্তের বৃহত্তর কলেজ ভূমি দান,
তুমি আসবে বলে কবি করুণানিধানের অক্ষত মান-সম্মান।
তুমি আসবে বলে নেতাজী সুভাষ ডাকঘরে অপেক্ষাতে,
তুমি আসবে বলে আমার শহর, শ্রেষ্ঠ রাস উৎসবে মাতে।
তুমি আসবে বলে আমার শহরে স্থাপিত হয়েছে রাজ্যের দ্বিতীয় পৌরসভা,
তুমি আসবে বলে স্বকৃত পেয়েছে তাঁতি দের নিপুণ প্রতিভা।
তুমি আসবে বলে আমার শহর, ধর্মে, মিলিয়ে চলে কাঁধ,
তুমি আসবে বলে অক্ষত সেই টেরাকোটার শ্যামচাঁদ।
তুমি আসবে বলে গঙ্গা পার করেছে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ,
তুমি আসবে বলে পাবলিক লাইব্রেরী'টা সেজেও অনাথ।
তুমি আসবে বলে স্টেডিয়াম'টা আজ পেয়েছে অনুমোদন,
তুমি আসবে বলে স্থগিত আছে, কালনা ব্রিজের বোধন।
তুমি আসবে বলে কৃতি পেয়েছে রিয়া পাল, সীমা বসাক,
তুমি আসবে বলে পদ্মভূষণ ছিনিয়েছে, ফুলিয়ার বীরেন বসাক।
তুমি আসবে বলে নকশালবাদ আর মাথা মাথাচাড়া দেয়নি,
তুমি আসবে বলে বাবলা আজও সাহেব দের কাছে বিক্রি হয়নি।
তুমি আসবে বলে বৌ বাজারের বউ টা কে জানতে পারিনি,
তুমি আসবে বলে বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী সচক্ষে ধরা দেয়নি।
তুমি আসবে বলে খ্যাতি পেয়েছে অ্যামেচার, সবুজ সংঘ,
তুমি আসবে বলে কবি কিত্তিবাস শান্তিপুরের অঙ্গ।
তুমি আসবে বলে মুখ দেখেনি, আগমেশ্বরী মহিষখাগী,
তুমি আসবে বলে গঙ্গার স্রোত, এখনো ভীষণ রাগী।
তুমি আসবে বলে উন্নয়ন হবে, বলছে রাজনীতিবিদ,
তুমি আসবে বলে জাতপাত ভেঙে সাজবে খুশির ঈদ।
তুমি আসবে বলে গুরুমা আজও শরৎ কুমারীর জননী,
তুমি আসবে বলে জানুয়ারি তে ফুটবে পুষ্প প্রদর্শনী।
তুমি আসবে বলে গান্ধী ঘাটের বটগাছ টা জলে তলিয়ে যায়নি,
তুমি আসবে বলে রেজিস্ট্রি অফিসটা এ শহরে জায়গা পাইনি।
তুমি আসবে বলে ভেঙেও ভাঙেনি, বনিক দের হাতি শালা,
তুমি আসবে বলে ট্রয় ট্রেন ফেরেনি, পড়েছে কারশেডে তালা,
তুমি আসবে বলে শান্তিপুরের বিক্ষাত তাঁত শাড়ী।
তুমি আসবে বলে আমার শহরে অসৎ এর মহামারি।
তুমি আসবে বলে সন্ধ্যা আকাশে কৃষ্ণ নাম শোনো,
তুমি আসবে বলে ঘটি বাঙালের দ্বন্দ্ব বাঁধেনি এখনো,।
তুমি আসবে বলে বঙ্গ হাটে ব্যাবসাহী দের সমাগম,
তুমি আসবে বলে গীতা প্যালেস টা পরিচ্ছন্ন, ব্যাবহার হয়েছে কম।
তুমি আসবে বলে মশাল বন্ধ, যুক্তি দিয়েছে সায়েন্স ক্লাব,
তুমি আসবে বলে ফুটপাতে ত্রিফলা লাগিয়ে, হয়নি কোনো লাভ।
তুমি ফিরবে বলে তোমার প্রতীক্ষায় প্রত্যেকটা দিন পার হোক,
তুমি আসবে বলে তোমায় জন্য আমি অপেক্ষার অভিভাবক।
কলমে-- সুপ্রিয় কর।👏
তুমি আসবে বলে শান্তিপুরের, ভূমিতে মিশে শ্রী চৈতন্য,
তুমি আসবে বলে বনেদিআনা ভাঙেনি, গোস্বামী দের জন্য।
তুমি আসবে বলে লক্ষ্মীকান্তের বৃহত্তর কলেজ ভূমি দান,
তুমি আসবে বলে কবি করুণানিধানের অক্ষত মান-সম্মান।
তুমি আসবে বলে নেতাজী সুভাষ ডাকঘরে অপেক্ষাতে,
তুমি আসবে বলে আমার শহর, শ্রেষ্ঠ রাস উৎসবে মাতে।
তুমি আসবে বলে আমার শহরে স্থাপিত হয়েছে রাজ্যের দ্বিতীয় পৌরসভা,
তুমি আসবে বলে স্বকৃত পেয়েছে তাঁতি দের নিপুণ প্রতিভা।
তুমি আসবে বলে আমার শহর, ধর্মে, মিলিয়ে চলে কাঁধ,
তুমি আসবে বলে অক্ষত সেই টেরাকোটার শ্যামচাঁদ।
তুমি আসবে বলে গঙ্গা পার করেছে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ,
তুমি আসবে বলে পাবলিক লাইব্রেরী'টা সেজেও অনাথ।
তুমি আসবে বলে স্টেডিয়াম'টা আজ পেয়েছে অনুমোদন,
তুমি আসবে বলে স্থগিত আছে, কালনা ব্রিজের বোধন।
তুমি আসবে বলে কৃতি পেয়েছে রিয়া পাল, সীমা বসাক,
তুমি আসবে বলে পদ্মভূষণ ছিনিয়েছে, ফুলিয়ার বীরেন বসাক।
তুমি আসবে বলে নকশালবাদ আর মাথা মাথাচাড়া দেয়নি,
তুমি আসবে বলে বাবলা আজও সাহেব দের কাছে বিক্রি হয়নি।
তুমি আসবে বলে বৌ বাজারের বউ টা কে জানতে পারিনি,
তুমি আসবে বলে বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী সচক্ষে ধরা দেয়নি।
তুমি আসবে বলে খ্যাতি পেয়েছে অ্যামেচার, সবুজ সংঘ,
তুমি আসবে বলে কবি কিত্তিবাস শান্তিপুরের অঙ্গ।
তুমি আসবে বলে মুখ দেখেনি, আগমেশ্বরী মহিষখাগী,
তুমি আসবে বলে গঙ্গার স্রোত, এখনো ভীষণ রাগী।
তুমি আসবে বলে উন্নয়ন হবে, বলছে রাজনীতিবিদ,
তুমি আসবে বলে জাতপাত ভেঙে সাজবে খুশির ঈদ।
তুমি আসবে বলে গুরুমা আজও শরৎ কুমারীর জননী,
তুমি আসবে বলে জানুয়ারি তে ফুটবে পুষ্প প্রদর্শনী।
তুমি আসবে বলে গান্ধী ঘাটের বটগাছ টা জলে তলিয়ে যায়নি,
তুমি আসবে বলে রেজিস্ট্রি অফিসটা এ শহরে জায়গা পাইনি।
তুমি আসবে বলে ভেঙেও ভাঙেনি, বনিক দের হাতি শালা,
তুমি আসবে বলে ট্রয় ট্রেন ফেরেনি, পড়েছে কারশেডে তালা,
তুমি আসবে বলে শান্তিপুরের বিক্ষাত তাঁত শাড়ী।
তুমি আসবে বলে আমার শহরে অসৎ এর মহামারি।
তুমি আসবে বলে সন্ধ্যা আকাশে কৃষ্ণ নাম শোনো,
তুমি আসবে বলে ঘটি বাঙালের দ্বন্দ্ব বাঁধেনি এখনো,।
তুমি আসবে বলে বঙ্গ হাটে ব্যাবসাহী দের সমাগম,
তুমি আসবে বলে গীতা প্যালেস টা পরিচ্ছন্ন, ব্যাবহার হয়েছে কম।
তুমি আসবে বলে মশাল বন্ধ, যুক্তি দিয়েছে সায়েন্স ক্লাব,
তুমি আসবে বলে ফুটপাতে ত্রিফলা লাগিয়ে, হয়নি কোনো লাভ।
তুমি ফিরবে বলে তোমার প্রতীক্ষায় প্রত্যেকটা দিন পার হোক,
তুমি আসবে বলে তোমায় জন্য আমি অপেক্ষার অভিভাবক।
কলমে-- সুপ্রিয় কর।👏
রঙীন বসন্ত ।
অরূপ সরকার ।
আমি গ্রীষ্মের দুপুরেও বসন্ত আনতে পারি ,
তোর হাসি মুখে।
আবার তোকে হাসাতেও পারি নিছক পাগলামিতে,
তুই তো আবার রেগেই যাস কারণ অকারনে
অভিমানে আবার দুরত্ব বাড়াস কেমন আবেগ বশে।
রাগ আভিমান হাসিতে কেমন আস্ত একটা তুই
তোকে আমি কেবল মাত্র দুর থেকেই ছুঁই।
আজ এসেছে আবার দেখ সেই রঙিন দিন।
তাই তো আমি বলছি তোকে শুভ জন্মদিন ।
এই সুন্দর মুহুর্তে এই আশাই রাখ,
তোর সকল স্বপ্নগুলো চরম পূর্ণতা পাক।
অরূপ সরকার ।
আমি গ্রীষ্মের দুপুরেও বসন্ত আনতে পারি ,
তোর হাসি মুখে।
আবার তোকে হাসাতেও পারি নিছক পাগলামিতে,
তুই তো আবার রেগেই যাস কারণ অকারনে
অভিমানে আবার দুরত্ব বাড়াস কেমন আবেগ বশে।
রাগ আভিমান হাসিতে কেমন আস্ত একটা তুই
তোকে আমি কেবল মাত্র দুর থেকেই ছুঁই।
আজ এসেছে আবার দেখ সেই রঙিন দিন।
তাই তো আমি বলছি তোকে শুভ জন্মদিন ।
এই সুন্দর মুহুর্তে এই আশাই রাখ,
তোর সকল স্বপ্নগুলো চরম পূর্ণতা পাক।
-: সংযত অভিমান :-
সাজিয়ে ভালোবাসার নৈবেদ্য,
প্রস্ফুটিত হৃদয়ের হয়েছে সূর্যাস্ত
বাস্তব লোকারণ্যের ভীড়ে মিশেছে অতীতখানি,
অনুতাপে মগ্ন বিষন্ন জীবনকাহিনী
নিয়ে বিদ্ধেষী অচেতন আসক্তি,
টূকরো স্মৃতির ঢেউয়ে পরকালের অবনতি
জাগরনের জন্য অপেক্ষায় পথ চলা,
কাঁপে আত্মা কাঁপে পদতলা
লক্ষ্যকে সামনে রেখে আরোও এক প্রচেষ্টা,
ঝুঁকেছি নিরবে নিভৃতে বুঝবে কি সে কষ্টটা ।
-অলক দেবনাথ
সাজিয়ে ভালোবাসার নৈবেদ্য,
প্রস্ফুটিত হৃদয়ের হয়েছে সূর্যাস্ত
বাস্তব লোকারণ্যের ভীড়ে মিশেছে অতীতখানি,
অনুতাপে মগ্ন বিষন্ন জীবনকাহিনী
নিয়ে বিদ্ধেষী অচেতন আসক্তি,
টূকরো স্মৃতির ঢেউয়ে পরকালের অবনতি
জাগরনের জন্য অপেক্ষায় পথ চলা,
কাঁপে আত্মা কাঁপে পদতলা
লক্ষ্যকে সামনে রেখে আরোও এক প্রচেষ্টা,
ঝুঁকেছি নিরবে নিভৃতে বুঝবে কি সে কষ্টটা ।
-অলক দেবনাথ
শনিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৮
নির্জনে একলা
" একলা ঘরে "
আমি আমার একলা ঘরে
একাই কাটাই রোজ....
রোজের অফিস, ঘরে ফেরা
কেউ নেয় না খোঁজ....
কাজের নামে ব্যস্ত থাকি
মিথ্যে অজুহাতে....
কখনওবা অলসভাবেই প্রহর কাটে
নরম বিছানাতে....
সময় পেলে জানালা ধারে
দাঁড়াই দুচোখ খুলে....
যতদূর দেখি ঝাপসা লাগে
বাস্তব যাই ভুলে....
সুখের খোঁজে উদাসী মন
ঘরের কোন-ই খোঁজে....
মনের ঘরে একলা আমি
আমার ঘর-ই বোঝে....।।
নাম- পাখি পাল
ঠিকানা--(গ্রাম-মির্জাপুর, জেলা-হাওড়া, রাজ্য-পশ্চিমবঙ্গ, দেশ-ভারতবর্ষ)
আমি আমার একলা ঘরে
একাই কাটাই রোজ....
রোজের অফিস, ঘরে ফেরা
কেউ নেয় না খোঁজ....
কাজের নামে ব্যস্ত থাকি
মিথ্যে অজুহাতে....
কখনওবা অলসভাবেই প্রহর কাটে
নরম বিছানাতে....
সময় পেলে জানালা ধারে
দাঁড়াই দুচোখ খুলে....
যতদূর দেখি ঝাপসা লাগে
বাস্তব যাই ভুলে....
সুখের খোঁজে উদাসী মন
ঘরের কোন-ই খোঁজে....
মনের ঘরে একলা আমি
আমার ঘর-ই বোঝে....।।
নাম- পাখি পাল
ঠিকানা--(গ্রাম-মির্জাপুর, জেলা-হাওড়া, রাজ্য-পশ্চিমবঙ্গ, দেশ-ভারতবর্ষ)
নির্জনে একলা২
একলা সময়
পূজা ব্যানার্জ্জী
আঠারোটা সিঁড়ি ভেঙে সবুজ
রঙের বন্ধ দরজার চাবির
মালিক আমি।
রঙচটা পাপোশ পেরোলেই
আমার সাজানো একলা ঘর।
অফিস ফেরার পরের
সময় কাটানোর একমাত্র জায়গা হল লোহার রেলিং ঘেরা এই ব্যালকনি।
চিনি কম চা -এর কাপে
চুমুক দিতে দিতে আনমনে
বিস্কুটের অর্ধেকটা চা-এ
মিশে কেমন একটা বেস্বাদ
করে দিলো পুরো ব্যাপারটা।
একলা চেয়ারে একলা আমি সাথে একলা কাপে হাফ বিস্কুট।
এখানে বসে থাকলে বাড়ির বড় টকটকে লাল রঙের মেঝের কথা বড্ড মনে পড়ে।
মাঠের ওপাশের কোয়াটারগুলোকে
দেখলেই,বড় আপন লাগে।
ঐ একলা হলুদে সবুজে
কোয়াটারগুলো আমার মতোই
কেমন যেন সঙ্গহারা।
সামনের কিছু কোয়াটারের
জানলা বেয়ে তার ছায়া গিয়ে পড়েছে
নিচের পিচে রাস্তার উপর।
চারিদিকে অন্ধকার।
টিমটিমে কয়েকটা
ল্যাম্পপোস্ট একা একা
দাঁড়িয়ে।ওদিকের ঐ
ঝোপগাছটা আজ কেটে
ফেলে ফাঁকা করে দিয়েছে।
পাশের আম গাছ আজ থেকে একা।
হারমোনিয়ামের উপরের কয়েকটা সুর হালকা হয়ে ভেসে আসছে,দূরের কোনো বাড়ি থেকে।
সারাদিনের পর একা থাকাটা যেন
বড়ই শান্ত,বড়ই চুপচাপ।
আজকাল তো ঘড়ির কাঁটা নড়ার
শব্দ স্পষ্ট শুনতে পাই।
রোজই ভাবি আবার
লেখালিখি শুরু করব।
বাড়ি থেকে আসার সময় ট্রলিতে
মনে করে লেখার ডাইরিটা নিয়েও এসেছি।ছ'মাস হয়ে গেল ওটা কাবার্ডেই রয়েছে,হাত পড়েনি।
প্রতিদিনের হিসেবী জীবনে
ভাবনায় ভর দেবার
সাহস এবার জুগিয়ে ফেলতেই হবে।
দুদিক-চাপা ইঁটের সারিতে
একা একা দমবন্ধ হয়ে আসে।
খোলা বাতাসে দুহাতে
মনখুলে বাঁচতে চাই।
বাঁচতে চাই।
ঠিকানা:-
ভদ্রেশ্বর
রবিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৮
_______নববর্ষ
সুনন্দ মন্ডল
নববর্ষের গন্ধ ভেসে এলো
একটুকরো কালবৈশাখীর ঝরাপাতায়।
একটুকরো কালবৈশাখীর ঝরাপাতায়।
স্নিগ্ধ সুবাস প্রাণ-মন জুড়ে
দেহে ঘর্মাক্ত ক্লেদ।
মাটির বুকে গাছেদের দাঁড়িয়ে থাকা,
মাথা নুইয়ে নতুনের আহ্বান।
দেহে ঘর্মাক্ত ক্লেদ।
মাটির বুকে গাছেদের দাঁড়িয়ে থাকা,
মাথা নুইয়ে নতুনের আহ্বান।
উজ্জ্বল দিন মুক্ত বাতাস
প্রকৃতির ছন্দে গানের ভেলায়,
নবপ্রভাতে রবির দান।
মেখে নেব স্বজন একান্ত স্নেহ মায়া,
তেঁতুল পাতায় হাসব ন'জন!
প্রকৃতির ছন্দে গানের ভেলায়,
নবপ্রভাতে রবির দান।
মেখে নেব স্বজন একান্ত স্নেহ মায়া,
তেঁতুল পাতায় হাসব ন'জন!
উন্মুক্ত ডানায় পাখিরা ওরে,
ফুলের গায়ে প্রজাপতিরা ছোটে।
আমের বোল ফুটেছে উৎসবে
হেসেছে মনের সিদ্ধিদাতা।
ফুলের গায়ে প্রজাপতিরা ছোটে।
আমের বোল ফুটেছে উৎসবে
হেসেছে মনের সিদ্ধিদাতা।
নববর্ষের নবদিনে নব জ্যোৎস্না বয়ে যাক,
নব কিরণে এ-শহর নতুন করে ধুয়ে যাক!
গ্রামের মলিনতা মুছে যাক নবসিঞ্চনে।
নব কিরণে এ-শহর নতুন করে ধুয়ে যাক!
গ্রামের মলিনতা মুছে যাক নবসিঞ্চনে।
চোখে-মুখে গ্রহণ ভেঙে স্বাগত জানাই
কলঙ্কিনী পোড়া চাঁদের স্নায়ুকে।
--------------------
কলঙ্কিনী পোড়া চাঁদের স্নায়ুকে।
--------------------
কাঠিয়া,মুরারই,বীরভূম
(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের...ছেলেটা,আফ্রিকা,
ক্যা মেলিয়া,বাঁশি, সোনারতরী, চিত্রা ইত্যাদি
কবিতা ভালো লাগে)
@সমাজের প্রতি ক্ষুদ্র মানবের বার্তা এই যে,
নতুন বছরে সবাই যেন শান্তিতে থাকতে পারি)
------------$-------------
শুভ নববর্ষ "- শৈশবের কিছু টুকরো স্মৃতি
লেখাটি লিখতে বসেছি নববর্ষের ঠিক আগেরদিন অর্থাৎ আগামীকাল বাংলার নতুন বছর ১৪২৫ এ পা দিতে চলেছে। লিখতে বসে নানান পুরাতন স্মৃতি মনের মধ্যে আঁকিবুঁকি কেটে চলেছে সমানে, বিশেষত ছোটবেলার স্মৃতিগুলি।স্মৃতি সুখের সবসময় না হলেও আমার জীবনে নববর্ষের দিনগুলি আনন্দের ছিল।
নববর্ষ বলতে ছিল পয়লা বৈশাখ আর পয়লা বৈশাখ মানেই হালখাতা! পয়লা না ১লা এই নিয়ে মনে বেশ একটা দ্বন্দ্ব হতো মনে। নতুন বছরের প্রথম দিনটি সবার সাথে আনন্দ করে পয়লা নম্বর হয়ে থাকতো, ১লা নয়। বেশ মনে পড়ে মিষ্টির খুব একটা ভক্ত না হওয়া সত্ত্বেও হালখাতার মিষ্টির ওপর বেশ আগ্রহ ছিল! নববর্ষের সকালটা শুরু হতো দূরদর্শন ডি ডি বাংলার প্রভাতী অনুষ্ঠান দিয়ে। আমার ছোটবেলায় এতো চ্যানেল আর বিচিত্রানুষ্ঠানের ভিড় ছিল না; তাই সেই অনুষ্ঠানটির জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতাম। প্রিয় শিল্পীদের গান ও আবৃত্তিতে নতুন বছরের প্রথম সকাল ভরে উঠত যেন নতুন সুগন্ধে।
একান্নবর্তী পরিবারের মেয়ে হলেও বাবার চাকরী সূত্রে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়েছে; তাই নববর্ষের প্রথম দিন উদযাপন শুধু বাবা-মার সাথেই অত্যন্ত সাদামাটা ভাবেই। নতুন জামার কথা বলতে গেলে বলতে হয়, পয়লা বৈশাখে কোনো পোশাক কেনা হতো না আমাদের ; শুধু দূর্গাপুজোর সময় ছাড়া। তবে মা মাঝের মধ্যে কিনতেন আমাদের জন্য। সারাদিন ধরে নানা সুস্বাদু পদ রান্না করতেন। বাবা নাস্তিক হওয়ার প্রভাব আমার আর বোনের ওপর পড়েছিল। তাই সারাবছরের মতো এইদিনও কোনো পূজো হতো না বা প্রণাম করার প্রথাও ছিল না। সন্ধ্যে হলেই বাবার হাত ধরে পরিচিত দোকানগুলিতে যেতাম। সবার আগে দেওয়া হতো রঙিন পানীয়, তারপর মিষ্টির বাক্স আর তার সঙ্গে অবশ্যই নতুন সালের বাংলা ক্যালেন্ডার। বাড়িতে ফিরে দেখতাম ক্যালেন্ডারে কি ছবি আঁকা আছে। আমি আর বোন মিলে সেটা আঁকার চেষ্টা করতাম। এমনভাবেই কেটে যেতো দিনটা।
তারপর যত সময় চলে যেতে লাগল ততই পড়াশোনা ইত্যাদি নিয়ে ক্রমশ ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। নববর্ষ, হালখাতা সবকিছুই facebook, what's app এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেল। নতুন বাংলা ক্যালেন্ডার বা বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের প্রতি আকর্ষণ বোধ করি না আগের মতো। তাছাড়া বোনও থাকে হোস্টেলে, আমিও ব্যস্ত সরকারী চাকরীর পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। তবে এসব তো অছিলা মাত্র ; চারপাশ যেভাবে পালটাতে দেখেছি সেকি কম ভয়ংকর! সাম্প্রদায়িক হিংসা, যুদ্ধ, হানাহানি সব কিছু ভুলে গিয়ে ১৪২৫ কাটুক নতুন ভরসা, নতুন আশা নিয়ে।
নাম: সায়ন্তনী বকসী
ঠিকানা: গ্রাম- দুইল্যা, জেলা- হাওড়া, রাজ্য- পশ্চিমবঙ্গ, দেশ- ভারতবর্ষ ( নতুন বছরে আমি পৃথিবীর মানুষ - যদি এই ঠিকানা লিখতে পারতাম তবে সবচেয়ে খুশি হতাম)
প্রিয় রবীন্দ্র কবিতা: সাধারণ মেয়ে ( বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে)
বার্তা : একজন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে চাই অন্তত একটি ধর্ষণহীন দিন নতুন বছরে!
---------------$--------------
"শুভ নববর্ষ "- শৈশবের কিছু টুকরো স্মৃতি
লেখাটি লিখতে বসেছি নববর্ষের ঠিক আগেরদিন অর্থাৎ আগামীকাল বাংলার নতুন বছর ১৪২৫ এ পা দিতে চলেছে। লিখতে বসে নানান পুরাতন স্মৃতি মনের মধ্যে আঁকিবুঁকি কেটে চলেছে সমানে, বিশেষত ছোটবেলার স্মৃতিগুলি।স্মৃতি সুখের সবসময় না হলেও আমার জীবনে নববর্ষের দিনগুলি আনন্দের ছিল।
নববর্ষ বলতে ছিল পয়লা বৈশাখ আর পয়লা বৈশাখ মানেই হালখাতা! পয়লা না ১লা এই নিয়ে মনে বেশ একটা দ্বন্দ্ব হতো মনে। নতুন বছরের প্রথম দিনটি সবার সাথে আনন্দ করে পয়লা নম্বর হয়ে থাকতো, ১লা নয়। বেশ মনে পড়ে মিষ্টির খুব একটা ভক্ত না হওয়া সত্ত্বেও হালখাতার মিষ্টির ওপর বেশ আগ্রহ ছিল! নববর্ষের সকালটা শুরু হতো দূরদর্শন ডি ডি বাংলার প্রভাতী অনুষ্ঠান দিয়ে। আমার ছোটবেলায় এতো চ্যানেল আর বিচিত্রানুষ্ঠানের ভিড় ছিল না; তাই সেই অনুষ্ঠানটির জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতাম। প্রিয় শিল্পীদের গান ও আবৃত্তিতে নতুন বছরের প্রথম সকাল ভরে উঠত যেন নতুন সুগন্ধে।
একান্নবর্তী পরিবারের মেয়ে হলেও বাবার চাকরী সূত্রে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়েছে; তাই নববর্ষের প্রথম দিন উদযাপন শুধু বাবা-মার সাথেই অত্যন্ত সাদামাটা ভাবেই। নতুন জামার কথা বলতে গেলে বলতে হয়, পয়লা বৈশাখে কোনো পোশাক কেনা হতো না আমাদের ; শুধু দূর্গাপুজোর সময় ছাড়া। তবে মা মাঝের মধ্যে কিনতেন আমাদের জন্য। সারাদিন ধরে নানা সুস্বাদু পদ রান্না করতেন। বাবা নাস্তিক হওয়ার প্রভাব আমার আর বোনের ওপর পড়েছিল। তাই সারাবছরের মতো এইদিনও কোনো পূজো হতো না বা প্রণাম করার প্রথাও ছিল না। সন্ধ্যে হলেই বাবার হাত ধরে পরিচিত দোকানগুলিতে যেতাম। সবার আগে দেওয়া হতো রঙিন পানীয়, তারপর মিষ্টির বাক্স আর তার সঙ্গে অবশ্যই নতুন সালের বাংলা ক্যালেন্ডার। বাড়িতে ফিরে দেখতাম ক্যালেন্ডারে কি ছবি আঁকা আছে। আমি আর বোন মিলে সেটা আঁকার চেষ্টা করতাম। এমনভাবেই কেটে যেতো দিনটা।
তারপর যত সময় চলে যেতে লাগল ততই পড়াশোনা ইত্যাদি নিয়ে ক্রমশ ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। নববর্ষ, হালখাতা সবকিছুই facebook, what's app এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেল। নতুন বাংলা ক্যালেন্ডার বা বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের প্রতি আকর্ষণ বোধ করি না আগের মতো। তাছাড়া বোনও থাকে হোস্টেলে, আমিও ব্যস্ত সরকারী চাকরীর পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। তবে এসব তো অছিলা মাত্র ; চারপাশ যেভাবে পালটাতে দেখেছি সেকি কম ভয়ংকর! সাম্প্রদায়িক হিংসা, যুদ্ধ, হানাহানি সব কিছু ভুলে গিয়ে ১৪২৫ কাটুক নতুন ভরসা, নতুন আশা নিয়ে।
নাম: সায়ন্তনী বকসী
ঠিকানা: গ্রাম- দুইল্যা, জেলা- হাওড়া, রাজ্য- পশ্চিমবঙ্গ, দেশ- ভারতবর্ষ ( নতুন বছরে আমি পৃথিবীর মানুষ - যদি এই ঠিকানা লিখতে পারতাম তবে সবচেয়ে খুশি হতাম)
প্রিয় রবীন্দ্র কবিতা: সাধারণ মেয়ে ( বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে)
বার্তা : একজন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে চাই অন্তত একটি ধর্ষণহীন দিন নতুন বছরে!
শনিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৮
সম্পাদকীয় কলমে.......
_____বর্ষ-বিদায়ে
সুনন্দ মন্ডল
বর্ষ শেষের পালা শুরু,
খসে পড়ছে একটা একটা করে সময়ের পাতা
গাছেরা সভা করছে নতুনকে স্বাগত জানাবে বলে।
সূর্যের সেই হাসি আজ দেখিনা
ম্লান চোখে মাথা ঠেকিয়েছে দীঘির জলে।
রক্ত রাঙা হৃদয়টা ফ্যাকাশে মেঘের আবরনে!
চাঁদ কি আজ আর উঠবেনা!
সেও কি শোকের ছায়ায় বিদায়ের প্রহর গুনছে!
কলঙ্ক গায়ে মেখে মুখ ঢেকেছে আকাশের বুকে।
আসুক না! পৃথিবীর পাঁজরে হাজার পাথর নেমে।
তবু সে স্বচ্ছন্দে সানন্দে মেনে নেবে কষ্টের মুহূর্ত।
শঙ্খ ধ্বনিতে মুখরিত বাতাসের জানালা
উলু ধ্বনিতে নব উৎসবের হুলিয়া।
চোখের দামি জল খরচ করে
শিরা-উপশিরায় ব্যথার উপশম নিয়েও
চৈত্র শেষে পুরোনো স্মৃতি ভুলতে প্রস্তুত প্রকৃতি।
আমরাও দু'হাত তুলে সারেন্ডার করেছি
মানব-পশু-পাখি নতুনের আলো মাখব বলে।
-----------------
💃 সবাই চমকাবে 💃
✌জলফড়িং ওয়েব ম্যাগাজিন একটা স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে এসেছিলো একটা বৃহৎ সাহিত্য সাফল্যের আশায়। তাই ত্রৈমাসিক থেকে মাসিক হয়েছে কিন্তু তাতে করে আমাদের মন ভরছে না এমনও অনেক কবিরা আছেন যাঁরা বলে আপনাদের কোনো সংখ্যা কবে আছে?
এমনও কবিরা আছেন যারা বলে এখন লেখা দেওয়া যাবে না
যাই হোক আরও আছে.....
তাই নতুন সিদ্ধান্তে এসেছি আর তৈরী করেছি তিনটে বক্স যার ঠিকানা একটিই মাত্র মেল
★ jholfhoring@gmail.com
এখানেই মেল করে লেখা পাঠাতে হবে
🎁তিনটে বক্স কী জিনিস চলুন দেখি👀
১ম বক্স : এটা মাসিক ওয়েব ম্যাগ হিসেবে কাজ করে। (আমরা মাসিকের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়ই বিষয় রাখি তাতে করে লেখার সংখ্যা কম হলেও মানের সংখ্যা বাড়ে)
★ মাসিক সংখ্যা য় লেখা পাঠাতে গেলে
গ্রুপ ফোলো করতে হবে।
২য় বক্স : আমরা হঠাৎ একদিন সংখ্যা করি সেটা বিশেষ দিন হতে পারে আবার নাও হতে পরে। এই সংখ্যায় কোনো সময় বিষয় থাকে বা থাকেনা যদিও সেটা নির্ভর করে দিনের ওপর।
★ লেখা পাঠাতে গেলে গ্রুপ ফোলো করতে হবে।
৩য় বক্স: আমরা টপাটপ সংখ্যা অর্থাৎ দৈনিক সংখ্যাও করছি তবে এরজন্য লেখা পাঠাতে গেলে মেলের বিষয় বডিতে উল্লেখ করবেন এটা টপাটপের জন্য আর নিজস্বী এবং সঙ্গে ঠিকানা আরও একটা কথা লেখার সারসংক্ষেপ দু-লাইনে বলে দেবেন।
আর কিছু নিয়মাবলী আছে
১.) আমরা লেখার সাথে কোনো ছবি নিই না (মাসিক আর হঠাৎ একদিনের জন্য, কিন্তু টপাটপ সংখ্যায় নিজস্বী লাগবেই)
২.) আমরা প্রাপ্তিস্বীকার পাঠাই কিন্তু তার মানে এটা নয় যে তাঁর লেখা মনোনীত হয়ে গেছে আর মনোনীত হলে জানাতে পারিনা তারজন্য দু:খিত।
৩.) আচ্ছা আমরা সব ছাপিত লিঙ্ক এই গ্রুপে দিই তবে এবার থেকে যারা মেল করবেন আর যাঁদের মনোনীত হবে তাঁদেরও দিয়ে দেব ভেবেছি।
৪.) আরও একটা কথা বলি যারা মেল করবেন তাদের আমরা আমাদের গ্রুপের লিঙ্ক দেব পাড়লে যুক্ত হবেন উপকৃত হবো কারণ ৩ নং কথাটা রাখা নাও যেতে পারে।
আরও জানতে ফোন করতে পারেন এই নম্বরে, ম্যাগাজিনে আছে নম্বর দেখুন এখানে দিলাম না তার কারন আপনারা ম্যাগটা এই সুযোগে ঘুরে আসলেন। লিঙ্ক নীচে
Www.jolfhoring.blogspot.com
★ দরকারি কথা:- এমন যদি কেও আছেন যাঁরা সমকামিতা সংখ্যা অর্থাৎ আগের সংখ্যায় লেখা দিয়েছিলেন কিন্তু লিঙ্ক পাননি তাহলে ওপরে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করে দেখে নিন, আপনার লেখা থাকলে এই নম্বরে জানাবেন ৭৪০৭৭৬০১৭২।
২. নং দরকারি কথা না বললেই নই সেটা হলো আমরা মাসিক সংখ্যায় লেখা জমা দেবার যে লাস্ট তারিখ দিয়ে থাকি তার দু-দিন আগেই পাঠাবেন অনেক সময় লাস্ট তারিখের দু-দিন আগে থেকেই কাজ শুরু করি বাছাই পর্বের। কেন? প্রশ্ন করবেন না তাইতো আগেই বলে দিলাম যেন দোষ দিতে না পারেন।
সবার লেখাই ভালো,স্বচ্ছতার প্রকাশ রাখে
বেশ ভালো থাকবেন কলম চলুক।
ধন্যবাদ
✌জলফড়িং ওয়েব ম্যাগাজিন একটা স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে এসেছিলো একটা বৃহৎ সাহিত্য সাফল্যের আশায়। তাই ত্রৈমাসিক থেকে মাসিক হয়েছে কিন্তু তাতে করে আমাদের মন ভরছে না এমনও অনেক কবিরা আছেন যাঁরা বলে আপনাদের কোনো সংখ্যা কবে আছে?
এমনও কবিরা আছেন যারা বলে এখন লেখা দেওয়া যাবে না
যাই হোক আরও আছে.....
তাই নতুন সিদ্ধান্তে এসেছি আর তৈরী করেছি তিনটে বক্স যার ঠিকানা একটিই মাত্র মেল
★ jholfhoring@gmail.com
এখানেই মেল করে লেখা পাঠাতে হবে
🎁তিনটে বক্স কী জিনিস চলুন দেখি👀
১ম বক্স : এটা মাসিক ওয়েব ম্যাগ হিসেবে কাজ করে। (আমরা মাসিকের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময়ই বিষয় রাখি তাতে করে লেখার সংখ্যা কম হলেও মানের সংখ্যা বাড়ে)
★ মাসিক সংখ্যা য় লেখা পাঠাতে গেলে
গ্রুপ ফোলো করতে হবে।
২য় বক্স : আমরা হঠাৎ একদিন সংখ্যা করি সেটা বিশেষ দিন হতে পারে আবার নাও হতে পরে। এই সংখ্যায় কোনো সময় বিষয় থাকে বা থাকেনা যদিও সেটা নির্ভর করে দিনের ওপর।
★ লেখা পাঠাতে গেলে গ্রুপ ফোলো করতে হবে।
৩য় বক্স: আমরা টপাটপ সংখ্যা অর্থাৎ দৈনিক সংখ্যাও করছি তবে এরজন্য লেখা পাঠাতে গেলে মেলের বিষয় বডিতে উল্লেখ করবেন এটা টপাটপের জন্য আর নিজস্বী এবং সঙ্গে ঠিকানা আরও একটা কথা লেখার সারসংক্ষেপ দু-লাইনে বলে দেবেন।
আর কিছু নিয়মাবলী আছে
১.) আমরা লেখার সাথে কোনো ছবি নিই না (মাসিক আর হঠাৎ একদিনের জন্য, কিন্তু টপাটপ সংখ্যায় নিজস্বী লাগবেই)
২.) আমরা প্রাপ্তিস্বীকার পাঠাই কিন্তু তার মানে এটা নয় যে তাঁর লেখা মনোনীত হয়ে গেছে আর মনোনীত হলে জানাতে পারিনা তারজন্য দু:খিত।
৩.) আচ্ছা আমরা সব ছাপিত লিঙ্ক এই গ্রুপে দিই তবে এবার থেকে যারা মেল করবেন আর যাঁদের মনোনীত হবে তাঁদেরও দিয়ে দেব ভেবেছি।
৪.) আরও একটা কথা বলি যারা মেল করবেন তাদের আমরা আমাদের গ্রুপের লিঙ্ক দেব পাড়লে যুক্ত হবেন উপকৃত হবো কারণ ৩ নং কথাটা রাখা নাও যেতে পারে।
আরও জানতে ফোন করতে পারেন এই নম্বরে, ম্যাগাজিনে আছে নম্বর দেখুন এখানে দিলাম না তার কারন আপনারা ম্যাগটা এই সুযোগে ঘুরে আসলেন। লিঙ্ক নীচে
Www.jolfhoring.blogspot.com
★ দরকারি কথা:- এমন যদি কেও আছেন যাঁরা সমকামিতা সংখ্যা অর্থাৎ আগের সংখ্যায় লেখা দিয়েছিলেন কিন্তু লিঙ্ক পাননি তাহলে ওপরে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করে দেখে নিন, আপনার লেখা থাকলে এই নম্বরে জানাবেন ৭৪০৭৭৬০১৭২।
২. নং দরকারি কথা না বললেই নই সেটা হলো আমরা মাসিক সংখ্যায় লেখা জমা দেবার যে লাস্ট তারিখ দিয়ে থাকি তার দু-দিন আগেই পাঠাবেন অনেক সময় লাস্ট তারিখের দু-দিন আগে থেকেই কাজ শুরু করি বাছাই পর্বের। কেন? প্রশ্ন করবেন না তাইতো আগেই বলে দিলাম যেন দোষ দিতে না পারেন।
সবার লেখাই ভালো,স্বচ্ছতার প্রকাশ রাখে
বেশ ভালো থাকবেন কলম চলুক।
ধন্যবাদ
শুক্রবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৮
নিষিদ্ধ প্রেম ।
অরূপ সরকার ।
তোমায় হৃদয় দিয়ে ছুঁতে চেয়েছি
শরীর দিয়ে নয় ।
প্রশ্ন টা তো এখানেই; শুধু ভালোবাসলে কী ভালোবাসা পাওয়া যায় ?
চেয়েছিলাম তো মন গহীনে প্রবেশ করতে।
পারিনি আমি সেটা করতে।
হযতো আমার যোগ্যতা নেই ,
তোমার গহীনে প্রবেশ করার ।
চেয়েছিলাম তো দুটি সত্তা মিশিয়ে দিতে।
পারিনি তোমার সাথে নিজেকে মেলাতে,
আজ বুঝতে পারছি শর্তহীন ভালোবাসার ও শর্ত থাকে।
কী করব বল নিজেকে বাঁধতে পারিনি কোনো শর্তের বাধনে।
নিজের মতই গুছিয়ে নিযেছি নিজের মতন করে।
অঙ্কন ব্রততী রায় ।
অঙ্কন
অরূপ সরকার ।
তোমায় হৃদয় দিয়ে ছুঁতে চেয়েছি
শরীর দিয়ে নয় ।
প্রশ্ন টা তো এখানেই; শুধু ভালোবাসলে কী ভালোবাসা পাওয়া যায় ?
চেয়েছিলাম তো মন গহীনে প্রবেশ করতে।
পারিনি আমি সেটা করতে।
হযতো আমার যোগ্যতা নেই ,
তোমার গহীনে প্রবেশ করার ।
চেয়েছিলাম তো দুটি সত্তা মিশিয়ে দিতে।
পারিনি তোমার সাথে নিজেকে মেলাতে,
আজ বুঝতে পারছি শর্তহীন ভালোবাসার ও শর্ত থাকে।
কী করব বল নিজেকে বাঁধতে পারিনি কোনো শর্তের বাধনে।
নিজের মতই গুছিয়ে নিযেছি নিজের মতন করে।
অঙ্কন ব্রততী রায় ।
অঙ্কন
রবিবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৮
মা গো পোশাক টা পাল্টে নাও
-----------------------------------
মাতৃক্রোড়ে যে শিশুর থাকার কথা ছিলো
সে এখন ডাস্টবিনে শুয়ে,
পিঁপড়ের কামড় খেয়ে কান্না জুড়ে দিয়েছে
মুখে এক ফোটা দুধ নেই -
তাকে আর্বজনার মধ্যে ফেলে গেছে।
এ কোন মা? এ কেমন মা?
কুমারী মা,সধবা মা আবার কী
মা তো মা য় হয়, তাই না হে পৃথিবী।
পিঁপড়ের কামড়ে চোখ খোবলানো যে শিশুটা
এই মাএ অন্ধ হয়ে গেল
ছাড়পএ পেয়ে এই পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার জন্য
ওর তো কোনো দোষ ছিলো না,
কলঙ্ক ঢাকতে সেই মা তো হাত ধুয়ে-মিশে যাবে শত যোজন দূরের ভিড়ে
সন্দেহের কাঁটা সরিয়ে অন্য এক চেনা স্রোতে,
নাড়ী ছেড়ার কুসুম গন্ধে অথবা স্তনবৃন্তের দুধের ভারে
তার হৃদয়ে কি কোনো সংলাপ ফুটে উঠবে না,কোনো যন্ত্রনা?
আবার হয়তো ডাস্টবিনে পড়বে চরন চিহ্ন
মৃত শিশুটাকে ঘিরে তখন মানুষের কৌতুহল,কোলাহল
সে তখন জনতার একজন হয়ে ধিক্কার জানাচ্ছে
অনামী মায়ের উদ্দেশ্যে,
কিন্তু সূক্ষতার সেই টানটা তো বাউলের একতারার মত বেজেই চলেছে....
ধিক্কার জানাতে গিয়ে বারবার মনে পড়েছে শিশুটার সঙ্গে তার আধঘণ্টারর আলাপ...
চোখের জলেতে লেখা হয়ে গেছে হৃদয়ের সংলাপ।
হে পৃথিবী সর্বসংহা পৃথিবী মানুষ এখন আর মানুষ নেই..
মানুষের জামা কাপড়ের পোষাকটা পাল্টে দাও এবার-
সেখানে থাক,মানবতার বস্ত্র,
ডাস্টবিনের শিশুদের রক্ষার্থে তুমি কী করতে পারো-
কী হতে পারে,তোমার সেই অস্ত্র??????
-----------------------------------
মাতৃক্রোড়ে যে শিশুর থাকার কথা ছিলো
সে এখন ডাস্টবিনে শুয়ে,
পিঁপড়ের কামড় খেয়ে কান্না জুড়ে দিয়েছে
মুখে এক ফোটা দুধ নেই -
তাকে আর্বজনার মধ্যে ফেলে গেছে।
এ কোন মা? এ কেমন মা?
কুমারী মা,সধবা মা আবার কী
মা তো মা য় হয়, তাই না হে পৃথিবী।
পিঁপড়ের কামড়ে চোখ খোবলানো যে শিশুটা
এই মাএ অন্ধ হয়ে গেল
ছাড়পএ পেয়ে এই পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার জন্য
ওর তো কোনো দোষ ছিলো না,
কলঙ্ক ঢাকতে সেই মা তো হাত ধুয়ে-মিশে যাবে শত যোজন দূরের ভিড়ে
সন্দেহের কাঁটা সরিয়ে অন্য এক চেনা স্রোতে,
নাড়ী ছেড়ার কুসুম গন্ধে অথবা স্তনবৃন্তের দুধের ভারে
তার হৃদয়ে কি কোনো সংলাপ ফুটে উঠবে না,কোনো যন্ত্রনা?
আবার হয়তো ডাস্টবিনে পড়বে চরন চিহ্ন
মৃত শিশুটাকে ঘিরে তখন মানুষের কৌতুহল,কোলাহল
সে তখন জনতার একজন হয়ে ধিক্কার জানাচ্ছে
অনামী মায়ের উদ্দেশ্যে,
কিন্তু সূক্ষতার সেই টানটা তো বাউলের একতারার মত বেজেই চলেছে....
ধিক্কার জানাতে গিয়ে বারবার মনে পড়েছে শিশুটার সঙ্গে তার আধঘণ্টারর আলাপ...
চোখের জলেতে লেখা হয়ে গেছে হৃদয়ের সংলাপ।
হে পৃথিবী সর্বসংহা পৃথিবী মানুষ এখন আর মানুষ নেই..
মানুষের জামা কাপড়ের পোষাকটা পাল্টে দাও এবার-
সেখানে থাক,মানবতার বস্ত্র,
ডাস্টবিনের শিশুদের রক্ষার্থে তুমি কী করতে পারো-
কী হতে পারে,তোমার সেই অস্ত্র??????
রবিবার, ১ এপ্রিল, ২০১৮
♠সম্পাদকীয় কলম♠
তরল জীবাশ্ম ঘটিত ভাসমান ইনভারশন্
-------------------------------------------------------
অনুরূপা পালচৌধুরী
উল্টোদিকের অবয়বটির চুলের ঢেউ, তারপর চোখের গভীর কালো খাত থেকে করা পাকের লাল উঠোন ভাঙা ২টো ঠোঁট, উবু হয়ে বসে যায় কাচের বিছানায়।ঠোঁট উঠতেই চোখ দেখে নেয় তার সেপ্,নরম ভাঁজের ফাঁক গুলোর স্পষ্ট ছাপ।ধীরে ধীরে স্তন,কোমর,নিতম্ব ছুঁয়ে কাচপর্দা ভেদে বেরিয়ে আসে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম আমিত্ব।সবচেয়ে সুন্দর নারী তখন নিজেই মসৃণ আয়নাতলে। তবে কি আমি/আমরা সমকামী নই? কেনো নই? নিজেকেই তো সবচেয়ে সুন্দর দেখি আর ভালোবাসি। তা কিবা পুরুষ কিবা নারী।
সমকামিতা বা Sexual Inversion-কে একধরনের যৌন বিপর্যয় হিসাবে ধরা হয়।ভারতীয় আইনে অপরাধ এবং ধর্মে পাপান্তর। Homosexuality বা সমকামনার ভাবনা না থাকলে নিজেকে সুন্দর রাখা/নিজেকে ভালোবাসা তো অসম্ভব, আর তা না থাকলে মানুষের নিজের বাঁচার তাগিদটাই তো ফুরিয়ে যেত।কারণ মানুষ নিজেকে আগে সবচেয়ে বেশী ভালোবাসে এবং সুন্দর দ্যাখে তা সে সাজে-পোশাকে বা শরীরে যাই হোক না কেনো।তাই সমকামনার ভাবনায় আমরা প্রত্যেকেই পর্যবসিত। কিন্তু সমকামনা থাকলেই যে সে সমকামিতায় অন্তর্গত হবে এমনটা নয় তাহলে সবাই সমলিঙ্গেই যৌনসংগমে লিপ্ত হতো।
বলা যেতে পারে সৃষ্টিনাশের উপকরণ এই সমকামিতা তাই ধর্মে এই বিধান নেই।অথচ ধর্মেরই সাধন-ভজনে উচ্চারিত দুর্গাস্তব :
নমস্তে শরণ্যে শিবে শানুকম্পে,নমস্তে
জগদ্ ব্যাপিকে বিশ্বরূপে।নমস্তে জগদ্ বন্দ্য-পদারবিন্দে,নমস্তে জগত্তারিণি ত্রাহি দুর্গে।।
নারীসুলভ ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বররেই পুরুষালী রূপ হিসাবে দূর্গার আরাধোনা।মাথায় ব্জ্রাঘাত হলো? ভুল বকছি!!!কেনো দেবতা বলে কি তার সমকামিতায় ফুল,বেলপাতা ছুড়ে পূণ্য সঞ্চয়ের মোমমধু বিকোতে থাকে?আবার বিষ্ণুর নারীসুলভ মোহিনী রূপটাও তো বিশ্বসংসারে দেবতাদের অমর করে রাখে অমৃত খনির মতো।
অথচ শ্যামলদা পাপবিদ্ধ!!!তবু সেই শ্যামলীদি কে ( ওরফে শ্যামল ) শুনতে হয়- 'মদ্দা মাগী হইছে'।হাস্যরসের পানপাত্রে তখন লিঙ্গ সুরা চলতে থাকে।স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয় শ্যামলীদি।আমি গার্লসস্কুলে পড়তাম।এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেলো অর্চিতা আর পৌলমীর সমপ্রেম।ওরা ছিলো তখন সকলের চোখে বিপথগামী সন্তান।ওরা পরস্পর বিয়ে করতে চেয়েছিলো।হয়তো অর্চিতার বংশবৃদ্ধির দায়বদ্ধতা ছিলো।দায় ছিলো সমাজ আর পরিবারের, তাই হয়তো ওর ভালোবাসার খবর বাড়ির চৌকাঠ মাড়ায়নি।এখন ও অর্চিত তবে ১পুরুষকর্তৃক, কিন্তু পৌলমির খবর পাইনি।জানিনা ও অর্চিতা হতে পেরেছে কিনা নাকি নিজ অর্চনায় লিপ্ত আছে।
আসলকথা হলো মানসিক ভারসাম্যতা।সত্যি কি মানসিক ভারসাম্য-০ হয়ে পরছি না আমরা!সমতা যদি শান্তি দিতে পারে সমকামিতায় অসুখ কোথায়!ফড়িং ডানায় ভেসে যাক সমভাবনার সমকাম।সকল সমকামিতা সম্পন্ন মানুষদের জানাই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
লজ্জাবতী পাতায় ১পত্তন ঝুলন্ত চাঁদ
২য় কালজয়ী ৩য় স্তনবৃন্ত : আদরআঁচর
বিধিবদ্ধ বিকালের রেলিঙে ওড়নাশাড়ী মেঘবতী
নখের ওপর নখ্
জরায়ু ভেঙে জরায়ু।গোপন ভাঁজে গোপন
সহবাসের জলবিছানা : ১নারী আদিমতম পাপবাক্সে আরো ১নারী
গাঢ় হয় কালোজামের ক্লিটোরিয়াস্ ভোর
সমরেখায় আড়াআড়ি গর্তে মাংসল সমুদ্র
আমাদের ভুল!
সরলরেখায় গ্রহণ হয়
যোনির ঠোঁটে বিকৃত সূর্যের ১টুকরো উপদ্বীপীয় আগুন রাখি
রোদের আড়ালে প্রজাপতির অসুখ ভেজে
মানো / না মানো তরল বীর্যের বুদবুদে ডুবন্ত বিকলাঙ্গ সমাজের নগ্ন যৌনতা
আত্মসুখ। সুখপাখি ওড়ে। গর্ভহীন। সমলিঙ্গে অবশ ঠিকানা
1. ______সমকামিতা
--সুনন্দ মন্ডল
সভ্যতার এ-গলি থেকে সে-গলি
রাতের অন্ধকারে জন্ম নেয় কামনার চিড়ে।
জনমানবের আর্ততা কিংবা কান্নার পলি
মিলিয়ে যায় পণ্যতার সমাজে।
সমকামনা তথা সমকামিতা সেতো
ভালোবাসার ফসল।
কে কার প্রিয়, কার কাকে ভালো লাগে?
বলবে কে? এই সমাজ!
নদীর স্রোতে বয়ে যায় সব আবর্জনা
ভাবতে শেখায় পবিত্র সে জল।
উভলিঙ্গের কামনার তীব্রতায়
ধরা পড়ে এক বাস্তব কঠোর প্রেম।
সম কিংবা অসম লিঙ্গের টান
জন্ম দেয় শুধুই পবিত্রতা
ভালোবাসায় অপার বিশ্বটাও
জন্ম দিক নিঃশর্ত মানব জীবন।
---------------
--সুনন্দ মন্ডল
সভ্যতার এ-গলি থেকে সে-গলি
রাতের অন্ধকারে জন্ম নেয় কামনার চিড়ে।
জনমানবের আর্ততা কিংবা কান্নার পলি
মিলিয়ে যায় পণ্যতার সমাজে।
সমকামনা তথা সমকামিতা সেতো
ভালোবাসার ফসল।
কে কার প্রিয়, কার কাকে ভালো লাগে?
বলবে কে? এই সমাজ!
নদীর স্রোতে বয়ে যায় সব আবর্জনা
ভাবতে শেখায় পবিত্র সে জল।
উভলিঙ্গের কামনার তীব্রতায়
ধরা পড়ে এক বাস্তব কঠোর প্রেম।
সম কিংবা অসম লিঙ্গের টান
জন্ম দেয় শুধুই পবিত্রতা
ভালোবাসায় অপার বিশ্বটাও
জন্ম দিক নিঃশর্ত মানব জীবন।
---------------
2.) রক্তিম অভিবাদন
----রুনা দত্ত
সমকামী আর সমকামিতা এক নতুন বোধের
অনুরণন,
মনের অলিন্দে ঘটে যাওয়া এক নিঃশব্দ নীরব
বিস্ফোরণ।
শরীর তো মনেরই অনুসারী,মনের ভেতরেই এই
ভাবনার রূপান্তর,
মন অভিমুখী শরীর নিয়েই তাই যেন সমকামী
মানুষটির জন্মান্তর।
আর দশটা মানুষের মতোই সমকামী মানুষরাও
ভীষণভাবে মানবিক মানুষ,
মানুষের মতোই স্নেহ মায়া মমতার বন্ধনে খুঁজে
নিতে চায় একমুঠো সুখ।
পৃথিবীর খোলা আকাশে মেলে দিতে চায় আপন
মনের যতো ভাবনা,
ভালোবেসে ভালোবাসার মানুষকে কাছে টেনে
নিতেও নেইযে কোনো দোটানা।
আমরাও যুগ থেকে যুগান্তরের পথে হেঁটে চলেছি
আজ আধুনিকতার পথ বেয়ে,
তাহলে কেন এতো সংকোচ কেন এতো দ্বিধা
সম্পর্কেরএই নতুন সমীকরণে।
ভালোবাসা, প্রেম অতীতে বা বর্তমানে কোনদিনই
মানেনি কোন বাঁধন,
তাহলে কেন অযথা বিধিনিষেধের কড়াকড়ি কেন
এই নির্লজ্জ শাসন।
সমাজ, মানুষ এবার তোমরা ভাবনায় চেতনায়
একটু আধুনিক হও,
সমকামীরাও মানুষের মতোই মানুষ ,এ বিশ্বাসে
সাহসী হাতদুটো বাড়াও।
ভালোবেসে উদার মনে এনতুন সম্পর্ককে করো
আজ গ্রহণ,
মুক্তমনা হয়ে সমকামী মানুষদের জানাও উজ্জ্বল
রক্তিম অভিবাদন।
----রুনা দত্ত
সমকামী আর সমকামিতা এক নতুন বোধের
অনুরণন,
মনের অলিন্দে ঘটে যাওয়া এক নিঃশব্দ নীরব
বিস্ফোরণ।
শরীর তো মনেরই অনুসারী,মনের ভেতরেই এই
ভাবনার রূপান্তর,
মন অভিমুখী শরীর নিয়েই তাই যেন সমকামী
মানুষটির জন্মান্তর।
আর দশটা মানুষের মতোই সমকামী মানুষরাও
ভীষণভাবে মানবিক মানুষ,
মানুষের মতোই স্নেহ মায়া মমতার বন্ধনে খুঁজে
নিতে চায় একমুঠো সুখ।
পৃথিবীর খোলা আকাশে মেলে দিতে চায় আপন
মনের যতো ভাবনা,
ভালোবেসে ভালোবাসার মানুষকে কাছে টেনে
নিতেও নেইযে কোনো দোটানা।
আমরাও যুগ থেকে যুগান্তরের পথে হেঁটে চলেছি
আজ আধুনিকতার পথ বেয়ে,
তাহলে কেন এতো সংকোচ কেন এতো দ্বিধা
সম্পর্কেরএই নতুন সমীকরণে।
ভালোবাসা, প্রেম অতীতে বা বর্তমানে কোনদিনই
মানেনি কোন বাঁধন,
তাহলে কেন অযথা বিধিনিষেধের কড়াকড়ি কেন
এই নির্লজ্জ শাসন।
সমাজ, মানুষ এবার তোমরা ভাবনায় চেতনায়
একটু আধুনিক হও,
সমকামীরাও মানুষের মতোই মানুষ ,এ বিশ্বাসে
সাহসী হাতদুটো বাড়াও।
ভালোবেসে উদার মনে এনতুন সম্পর্ককে করো
আজ গ্রহণ,
মুক্তমনা হয়ে সমকামী মানুষদের জানাও উজ্জ্বল
রক্তিম অভিবাদন।
3 .{ সমকামিতা }
--------------সুদীপ্ত সেন
কালরা পেরচ্ছে
ঋতু-রা চমকায়।
ধূলো-তো উড়ে যায়
কেও-বা ধমকায়!
ওরা-তো নিঃস্ব
কিছু-তো বোঝেনা,
ওরা-তো শূন্য
যৌনতা আসেনা?
ওরা-তো হাত পাতে
কমেতে রেগে যায়
আসলে রাগতা--
না পারা চুসে খায়!!
---------------*--------------
আমার ঠিকানা
পাইকর,বীরভূম(ভারত)
[ভালোলাগা থেকে আর দাদার লেখা দেখে লেখায় আগ্রহ প্রকাশ।]
ফেক একাউণ্ট
- সুদীপ্ত দেবনাথ
ঘড়ির ছোট কাঁটাটি তখন বারোর ঘরে ৷ হালকা হাওয়া বইছে ৷ আকাশে কোনো তারা নেই ৷ শুধু আছে একটা এঁটো চাঁদ ৷ সায়ক তখন ছাদের রেলিং এ বসে কানে হেডফোন দিয়ে তারা গুনছে ৷
হেডফোনে বাজছে "চাঁদ কেন আসে না আমার ঘরে..." ৷
হঠাত সায়কের ফোনে নোটিফিকেশন ৷
আশ্চর্য হল সায়ক ৷ এত রাতে আবার কে কি পাঠাচ্ছে ?
ফোনটি হাতে তুলে নিতেই চোখে পরল 'সায়নী রয়' এর ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট ৷
ও ! কি খুশি সায়কের ! লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল সে৷
সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকের সেই ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করে একটি 'হাই' মেসেজ পাঠিয়ে দিল৷
আর ঠিক তার পরের মুহুর্তেই সায়নীর প্রতিত্তর চলে এল ৷
শুরু হল তাদের কথপকথন ৷
এদিকে ঘড়ির কাঁটা কখন যে বারোর ঘর ছেড়ে দু'এর ঘরে চলে এসেছে , তা খেয়ালই করে নি সায়ক ৷
কথা চলতে চলতে সায়ক হঠাতই ভালোবাসার সেই তিনটে শব্দ পাঠিয়ে দিল সায়নীর মেসেজ ইনবক্সে ৷
তারপর মিনিট তিনেক কারোর কোনো মেসেজ নেই ৷ হাওয়াও আর বইছে না ৷ টুকরো চাঁদটা মেঘে ঢেকে গেল ৷ গুমট গরম লাগতে লাগল সায়কের ৷
তারপর সায়নীর আবার মেসেজ এল
"আই লাভ ইউ টু " ৷
সায়ক আনন্দে লাফিয়ে উঠল ৷
এদিকে নিচের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা তার মা সায়কের ঘুমন্ত বাবাকে ডেকে বলল "এই শুনছ, ছাদে বোধ হয় চোর উঠেছে ৷"
ঘুমন্ত সায়কের বাবা এপাশ থেকে ওপাশে ফিরে বলল "ও সব মন চুরি গো ৷ করতে দাও৷"
তার মা আবারও বলে উঠল "কি লোক বাবা ! বাড়িতে চোর ঢুকেছে , আর উনি ঘুমোচ্ছেন !"
তারপর সায়ক আবার সায়নীকে মেসেজ করল "আই লাভ ইউ থ্রি" ৷ সায়নী উত্তর দিল "আই লাভ ইউ ফোর" ৷
এসময় আবার সায়কের কোনো এক বন্ধু সায়ককে ফোন করেছে ৷
ফোনটি রিসিভ করেই সায়ক বলল "কিরে বিসি ? এত রাতে ফোন ?"
তার বন্ধু উত্তর দিল "আর বলিস না ভাই ৷ রাতে ঘুম আসছে না যে ৷ কোলবালিসে কি মন ভরে !"
"মন বলিস না শালা ৷ বল শরীর , শরীর ভরে না৷"
"হ্যাঁ ভাই, সেটাই ৷ তো একটা জিএফ জোগার করে দে ৷"
সায়ক জানাল "ও ভাল কথা ; আমার একটা নতুন মাল জুটেছে ৷"
"কে ভাই কে ? কে ? প্রোপোজ করেছিস ?"
"হ্যাঁ, হ্যাঁ ; আবার রিপ্লাইও দিয়ে দিয়েছে ৷"
"বলিস কি ! নাম কী তার ?"
"সায়নী ৷"
"সন্ধ্যেই দেখা হল তোর সাথে ৷ তখন তো কিছু বললি না ?"
"আরে এখনই তো সব হল ৷"
"কোথায় ?"
"ফেসবুকে ৷"
"হুস ! তাই বল ৷ ওসব অনেক দেখা ৷"
"কী দেখা ?"
"মেয়েটাকে একটা ভিডিও কল কর, তাহলে উত্তরটা পেয়ে যাবি ৷"
বন্ধুর কথা মতো সায়ক - সায়নীকে ভিডিও কল করল ৷ কলটি রিসিভ হল ৷
অপর প্রান্তে শুধুই অন্ধকার, দেখতে পেল সায়ক ৷
- "একটু আলোতে এসো সায়নী ৷"
ঘরের আলোটি জ্বলে উঠল ৷ সায়ক দেখল বিপরীতে একটি ছেলেকে দাড়িয়ে থাকতে ৷ সায়ক অবাক ৷ সে ছেলেটিকে বলল "সায়নী নেই ?"
তবুও চুপ করে দাড়িয়ে ছেলেটি ৷
সায়ক আবারও জিজ্ঞাসা করল - "আপনি কি সায়নীর দাদা ? আমি সায়নীর বন্ধু ৷ সায়নীকে একটু ডেকে দেবেন প্লিজ ৷"
ছেলেটি উত্তর দিল "তুমি যাকে দেখছ , সেই-ই সায়নী ৷"
হঠাত এমন সময় আকাশের মেঘ গর্জন করে উঠল ৷
ছেলেটি আবারও বলল "আমার আসল নাম সায়ন ৷ মজা করছি না ৷ আই অ্যাম সিরিয়াস ৷ আমি সত্যিই তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি ৷ ডু ইউ লাভ মি ?"
-----------------
- সুদীপ্ত দেবনাথ
ঘড়ির ছোট কাঁটাটি তখন বারোর ঘরে ৷ হালকা হাওয়া বইছে ৷ আকাশে কোনো তারা নেই ৷ শুধু আছে একটা এঁটো চাঁদ ৷ সায়ক তখন ছাদের রেলিং এ বসে কানে হেডফোন দিয়ে তারা গুনছে ৷
হেডফোনে বাজছে "চাঁদ কেন আসে না আমার ঘরে..." ৷
হঠাত সায়কের ফোনে নোটিফিকেশন ৷
আশ্চর্য হল সায়ক ৷ এত রাতে আবার কে কি পাঠাচ্ছে ?
ফোনটি হাতে তুলে নিতেই চোখে পরল 'সায়নী রয়' এর ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট ৷
ও ! কি খুশি সায়কের ! লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল সে৷
সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকের সেই ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করে একটি 'হাই' মেসেজ পাঠিয়ে দিল৷
আর ঠিক তার পরের মুহুর্তেই সায়নীর প্রতিত্তর চলে এল ৷
শুরু হল তাদের কথপকথন ৷
এদিকে ঘড়ির কাঁটা কখন যে বারোর ঘর ছেড়ে দু'এর ঘরে চলে এসেছে , তা খেয়ালই করে নি সায়ক ৷
কথা চলতে চলতে সায়ক হঠাতই ভালোবাসার সেই তিনটে শব্দ পাঠিয়ে দিল সায়নীর মেসেজ ইনবক্সে ৷
তারপর মিনিট তিনেক কারোর কোনো মেসেজ নেই ৷ হাওয়াও আর বইছে না ৷ টুকরো চাঁদটা মেঘে ঢেকে গেল ৷ গুমট গরম লাগতে লাগল সায়কের ৷
তারপর সায়নীর আবার মেসেজ এল
"আই লাভ ইউ টু " ৷
সায়ক আনন্দে লাফিয়ে উঠল ৷
এদিকে নিচের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা তার মা সায়কের ঘুমন্ত বাবাকে ডেকে বলল "এই শুনছ, ছাদে বোধ হয় চোর উঠেছে ৷"
ঘুমন্ত সায়কের বাবা এপাশ থেকে ওপাশে ফিরে বলল "ও সব মন চুরি গো ৷ করতে দাও৷"
তার মা আবারও বলে উঠল "কি লোক বাবা ! বাড়িতে চোর ঢুকেছে , আর উনি ঘুমোচ্ছেন !"
তারপর সায়ক আবার সায়নীকে মেসেজ করল "আই লাভ ইউ থ্রি" ৷ সায়নী উত্তর দিল "আই লাভ ইউ ফোর" ৷
এসময় আবার সায়কের কোনো এক বন্ধু সায়ককে ফোন করেছে ৷
ফোনটি রিসিভ করেই সায়ক বলল "কিরে বিসি ? এত রাতে ফোন ?"
তার বন্ধু উত্তর দিল "আর বলিস না ভাই ৷ রাতে ঘুম আসছে না যে ৷ কোলবালিসে কি মন ভরে !"
"মন বলিস না শালা ৷ বল শরীর , শরীর ভরে না৷"
"হ্যাঁ ভাই, সেটাই ৷ তো একটা জিএফ জোগার করে দে ৷"
সায়ক জানাল "ও ভাল কথা ; আমার একটা নতুন মাল জুটেছে ৷"
"কে ভাই কে ? কে ? প্রোপোজ করেছিস ?"
"হ্যাঁ, হ্যাঁ ; আবার রিপ্লাইও দিয়ে দিয়েছে ৷"
"বলিস কি ! নাম কী তার ?"
"সায়নী ৷"
"সন্ধ্যেই দেখা হল তোর সাথে ৷ তখন তো কিছু বললি না ?"
"আরে এখনই তো সব হল ৷"
"কোথায় ?"
"ফেসবুকে ৷"
"হুস ! তাই বল ৷ ওসব অনেক দেখা ৷"
"কী দেখা ?"
"মেয়েটাকে একটা ভিডিও কল কর, তাহলে উত্তরটা পেয়ে যাবি ৷"
বন্ধুর কথা মতো সায়ক - সায়নীকে ভিডিও কল করল ৷ কলটি রিসিভ হল ৷
অপর প্রান্তে শুধুই অন্ধকার, দেখতে পেল সায়ক ৷
- "একটু আলোতে এসো সায়নী ৷"
ঘরের আলোটি জ্বলে উঠল ৷ সায়ক দেখল বিপরীতে একটি ছেলেকে দাড়িয়ে থাকতে ৷ সায়ক অবাক ৷ সে ছেলেটিকে বলল "সায়নী নেই ?"
তবুও চুপ করে দাড়িয়ে ছেলেটি ৷
সায়ক আবারও জিজ্ঞাসা করল - "আপনি কি সায়নীর দাদা ? আমি সায়নীর বন্ধু ৷ সায়নীকে একটু ডেকে দেবেন প্লিজ ৷"
ছেলেটি উত্তর দিল "তুমি যাকে দেখছ , সেই-ই সায়নী ৷"
হঠাত এমন সময় আকাশের মেঘ গর্জন করে উঠল ৷
ছেলেটি আবারও বলল "আমার আসল নাম সায়ন ৷ মজা করছি না ৷ আই অ্যাম সিরিয়াস ৷ আমি সত্যিই তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি ৷ ডু ইউ লাভ মি ?"
-----------------
5.সমকামিতা কী একটি নিষিদ্ধ শব্দ?
-----(সায়ন্তনী বক্সী)
আজ এই একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও আমাদের দেশের সিংহভাগ মানুষই 'সমকামী ' বা 'সমকামিতা' শব্দটি শুনলে ঠিক যেন ভূত দেখার মতোই চমকে ওঠেন! যেন একটি নিষিদ্ধ শব্দ বা অভিধান বহির্ভূত শব্দ উচ্চারিত হয়েছে। বলতে কোনো দ্বিধা নেই, তথাকথিত শিক্ষিত মানুষেরাও সমকামীদের প্রতি বিরূপ ধারণা পোষন করেন। সমকামিতা তাঁদের কাছে যেন অশ্লীলতম ঘটনা;আর সমকামী সম্পর্কে লিপ্ত নারী-পুরুষ ভিনগ্রহের কুৎসিত দর্শন জীব! সত্যি কথা বলতে কী আধুনিক যুগের মানুষ হয়েও মধ্যযুগীয় সামন্ততান্ত্রিক ধ্যানধারণা পোষণ করে চলেছি আমরা।
হ্যাঁ আমরাই; কারণ যুবসম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসাবে বলতে পারি আমার প্রজন্মের অনেক ছেলে-মেয়েরাই সমকামিতার মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বা শব্দটির অর্থ সম্বন্ধে সঠিকভাবে অবগত নয়। বরং অনেক young starকে বলতে শুনি ইস্ কী অসভ্য! কী নোংরা সব! সুতরাং পুঁথিগত বিদ্যা যে মানুষের চেতনার বিকাশ ঘটায় না সেতো বোঝাই যায় এই সমস্ত মন্তব্য থেকে। তবে সমকামের স্বরূপ জানার বা বোঝার পূর্বে 'লিঙ্গ' সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণার প্রয়োজন আছে বলে অন্তত আমি মনে করি। লিঙ্গ শব্দের আক্ষরিক অর্থ বাহ্যিকভাবে যতটা সহজ বলে মনে করা হয়, সত্যিকার ততটা সহজ না। লিঙ্গ শুধুমাত্র দেহগতই নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মনস্তাত্ত্বিক আবার মনোগতও বটে। আমাদের সমাজে বেশিরভাগ মানুষই ভাবেন যেকোন সুস্থ মানুষই শরীর ও মন উভয় দিক থেকেই হয় পুরুষ অথবা নারী। এর ব্যতিক্রম যদি কিছু হয় অর্থাৎ একজন পুরুষ যদি পুরুষের প্রতি এবং একজন নারী যদি একজন নারীর প্রতি যৌন আকর্ষণ বোধ করে তবে তারা মানবসমাজে হয়ে যায় নির্বাসিত।
লিখতে লিখতে বারবার নিজের কিশোরীবেলার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। তখন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী --- বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ি। আমাদেরই সহপাঠী দুজন ছাত্রীর মধ্যে সমকামী সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে এলো; সমস্ত স্কুলের মধ্যে রীতিমত ছি ছি রব উঠল। সত্যি কথা বলতে কী, আমি নিজেও সেই ছি ছির সাথে গলা মিলিয়ে ছি ছি করে উঠে ছিলাম। কারণ আমার নিজেরও তখন সমকামিতা বিষয়ে বিতৃষ্ণার মনোভাব ছিল। সে যাই হোক, ঘটনাটির উল্লেখের পিছনে আমার একটাই উদ্দেশ্য আর সেটা হল এই যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিন্তাভাবনার পরিবর্তন একান্তভাবেই প্রয়োজন। আমার চিন্তাজগতকে সব দৈনতা থেকে মুক্ত হতে না পারলে এই প্রবন্ধ লেখায় হাত দিতাম না। সেই কিশোরী বয়সের চিন্তাভাবনার সাথে এই যৌবনের ভাবনাচিন্তার বিস্তর ফারাক। তা বলে সমস্ত মানুষের মননে এই পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। তাঁরা প্রাপ্তবয়স্ক তো হয়ে যান, কিন্তু প্রাপ্তমনস্ক হন না। পুরুষশাসিত সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার taboo গুলোকে কিছুতেই দূরে ছুড়ে দিতে পারেন না সবলে!
প্রকৃতির বিচিত্র এই সৃষ্টির খেলায় শুধু যদি পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গের অস্তিত্বই থাকত, তাহলে উভলিঙ্গের কোনো অস্তিত্বই থাকত না। উভলিঙ্গ অর্থাৎ যে শরীরে পুং ও স্ত্রী লিঙ্গের সহাবস্থান থাকে। এখন রহস্যময়ী প্রকৃতিতে ঘটা এই ঘটনাকে কি আখ্যা দেবেন রক্ষণশীল সুধীজনেরা? অশ্লীল না কুৎসিত? জগতে কামের বিভিন্ন প্রকারভেদ দেখতে পাওয়া যায়: সমকাম, বিষমকাম, উভকাম, রূপান্তরকাম, বহুকাম, সর্বকাম, নিষ্কাম। এদের কোনোটিই অপ্রাকৃতিক নয় এবং অন্যান্য কামের মতো সমকাম সম্পর্কেও এই একই কথা প্রযোজ্য। সমকামকে ব্যতিক্রম বলা চলে যেহেতু কম সংখ্যায় ঘটে। কিন্তু কোনোমতেই অস্বাভাবিক, কুৎসিত প্রভৃতি বিশেষণে বিশেষিত করা উচিত না। প্রকৃতির অজস্র প্রজাতির মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে ভিন্নতর যৌনপ্রবৃত্তি। ভেড়া, শিম্পাজি, সিংহ, জিরাফ,হাতি, ডলফিন, পেঙ্গুইন, হাঁস ইত্যাদি প্রাণীরা বিভিন্ন সময়ে সমকামে লিপ্ত হয় বলে সমীক্ষায় জানা গেছে। মানুষের নিকটতম আত্মীয় 'Bonobo' যাদের DNA এর ৯৮% শতাংশ সাদৃশ্য রয়েছে; এরা কিন্তু প্রচন্ডরকম উভকামী বলে জানা গেছে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, প্রকৃতি শুধু প্রজননের দ্বারা বংশবৃদ্ধির মন্ত্রের উপাসক না, আরও অনেক হিসেবই চলে তার দুনিয়ায়। বিবর্তনের তত্ত্ব দিয়ে বিচার করলে দেখতে পাওয়া যাবে সমকামীরা মোটেই মানব সমাজের অপ্রয়োজনীয় অংশ নয়।
সমাজে আত্মসম্মান নিয়ে মানুষের মতো বাঁচার অধিকার সব লিঙ্গের মতো সমকামীদেরও সমানভাবে থাকা উচিত। এ ব্যাপারে যারা অবিশ্বাসী, তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী। যারা নারী-পুরুষের কাম ব্যতীত অন্য সব কামকে প্রকৃতি বিরুদ্ধ বলে স্বঘোষিত ফতোয়া জারী করছে, সমকামীদের উপর নির্যাতন করছে তাদের জনমত নির্বিশেষে শিক্ষিত ও সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি বিষয়।
ভারতবর্ষ স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশ। অপগন্ড মূর্খেরা সংখ্যায় বেশি বলেই তাদের মূর্খামি নির্বিচারে মেনে নিতে হবে কথা আমাদের গণতন্ত্রও বলে না, সংবিধানও স্বীকার করে না।সমকামীদের নিজেদের অধিকার রক্ষার আন্দোলন চলছে চতুর্দিকে। ওঁরা চাইছেন নিজের লিঙ্গ নিজে নির্ণয় ও সেই নির্ণয়কে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে। নিগৃহীত না হওয়া, মানসিক রোগী হিসেবে চিহ্নিত না হওয়া, বিবাহ, যৌন সঙ্গম, সন্তান দত্তক গ্রহণ প্রভৃতি বিষয়ে তাঁরা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়ে নিরন্তর সংগ্রাম করে চলেছেন। যে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এই একুশ শতকেও নারীকে নারী হয়ে জন্মানোর জন্য প্রতিনিয়ত নিগৃহীত হতে হয় সেখানে সমকামীদের নিজেদের মৌলিক অধিকারের জন্য যে আরও সুদীর্ঘকাল যাবৎ সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে একথা সহজেই অনুমেয়।
-----(সায়ন্তনী বক্সী)
আজ এই একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও আমাদের দেশের সিংহভাগ মানুষই 'সমকামী ' বা 'সমকামিতা' শব্দটি শুনলে ঠিক যেন ভূত দেখার মতোই চমকে ওঠেন! যেন একটি নিষিদ্ধ শব্দ বা অভিধান বহির্ভূত শব্দ উচ্চারিত হয়েছে। বলতে কোনো দ্বিধা নেই, তথাকথিত শিক্ষিত মানুষেরাও সমকামীদের প্রতি বিরূপ ধারণা পোষন করেন। সমকামিতা তাঁদের কাছে যেন অশ্লীলতম ঘটনা;আর সমকামী সম্পর্কে লিপ্ত নারী-পুরুষ ভিনগ্রহের কুৎসিত দর্শন জীব! সত্যি কথা বলতে কী আধুনিক যুগের মানুষ হয়েও মধ্যযুগীয় সামন্ততান্ত্রিক ধ্যানধারণা পোষণ করে চলেছি আমরা।
হ্যাঁ আমরাই; কারণ যুবসম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসাবে বলতে পারি আমার প্রজন্মের অনেক ছেলে-মেয়েরাই সমকামিতার মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বা শব্দটির অর্থ সম্বন্ধে সঠিকভাবে অবগত নয়। বরং অনেক young starকে বলতে শুনি ইস্ কী অসভ্য! কী নোংরা সব! সুতরাং পুঁথিগত বিদ্যা যে মানুষের চেতনার বিকাশ ঘটায় না সেতো বোঝাই যায় এই সমস্ত মন্তব্য থেকে। তবে সমকামের স্বরূপ জানার বা বোঝার পূর্বে 'লিঙ্গ' সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণার প্রয়োজন আছে বলে অন্তত আমি মনে করি। লিঙ্গ শব্দের আক্ষরিক অর্থ বাহ্যিকভাবে যতটা সহজ বলে মনে করা হয়, সত্যিকার ততটা সহজ না। লিঙ্গ শুধুমাত্র দেহগতই নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মনস্তাত্ত্বিক আবার মনোগতও বটে। আমাদের সমাজে বেশিরভাগ মানুষই ভাবেন যেকোন সুস্থ মানুষই শরীর ও মন উভয় দিক থেকেই হয় পুরুষ অথবা নারী। এর ব্যতিক্রম যদি কিছু হয় অর্থাৎ একজন পুরুষ যদি পুরুষের প্রতি এবং একজন নারী যদি একজন নারীর প্রতি যৌন আকর্ষণ বোধ করে তবে তারা মানবসমাজে হয়ে যায় নির্বাসিত।
লিখতে লিখতে বারবার নিজের কিশোরীবেলার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। তখন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী --- বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ি। আমাদেরই সহপাঠী দুজন ছাত্রীর মধ্যে সমকামী সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে এলো; সমস্ত স্কুলের মধ্যে রীতিমত ছি ছি রব উঠল। সত্যি কথা বলতে কী, আমি নিজেও সেই ছি ছির সাথে গলা মিলিয়ে ছি ছি করে উঠে ছিলাম। কারণ আমার নিজেরও তখন সমকামিতা বিষয়ে বিতৃষ্ণার মনোভাব ছিল। সে যাই হোক, ঘটনাটির উল্লেখের পিছনে আমার একটাই উদ্দেশ্য আর সেটা হল এই যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিন্তাভাবনার পরিবর্তন একান্তভাবেই প্রয়োজন। আমার চিন্তাজগতকে সব দৈনতা থেকে মুক্ত হতে না পারলে এই প্রবন্ধ লেখায় হাত দিতাম না। সেই কিশোরী বয়সের চিন্তাভাবনার সাথে এই যৌবনের ভাবনাচিন্তার বিস্তর ফারাক। তা বলে সমস্ত মানুষের মননে এই পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। তাঁরা প্রাপ্তবয়স্ক তো হয়ে যান, কিন্তু প্রাপ্তমনস্ক হন না। পুরুষশাসিত সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার taboo গুলোকে কিছুতেই দূরে ছুড়ে দিতে পারেন না সবলে!
প্রকৃতির বিচিত্র এই সৃষ্টির খেলায় শুধু যদি পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গের অস্তিত্বই থাকত, তাহলে উভলিঙ্গের কোনো অস্তিত্বই থাকত না। উভলিঙ্গ অর্থাৎ যে শরীরে পুং ও স্ত্রী লিঙ্গের সহাবস্থান থাকে। এখন রহস্যময়ী প্রকৃতিতে ঘটা এই ঘটনাকে কি আখ্যা দেবেন রক্ষণশীল সুধীজনেরা? অশ্লীল না কুৎসিত? জগতে কামের বিভিন্ন প্রকারভেদ দেখতে পাওয়া যায়: সমকাম, বিষমকাম, উভকাম, রূপান্তরকাম, বহুকাম, সর্বকাম, নিষ্কাম। এদের কোনোটিই অপ্রাকৃতিক নয় এবং অন্যান্য কামের মতো সমকাম সম্পর্কেও এই একই কথা প্রযোজ্য। সমকামকে ব্যতিক্রম বলা চলে যেহেতু কম সংখ্যায় ঘটে। কিন্তু কোনোমতেই অস্বাভাবিক, কুৎসিত প্রভৃতি বিশেষণে বিশেষিত করা উচিত না। প্রকৃতির অজস্র প্রজাতির মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে ভিন্নতর যৌনপ্রবৃত্তি। ভেড়া, শিম্পাজি, সিংহ, জিরাফ,হাতি, ডলফিন, পেঙ্গুইন, হাঁস ইত্যাদি প্রাণীরা বিভিন্ন সময়ে সমকামে লিপ্ত হয় বলে সমীক্ষায় জানা গেছে। মানুষের নিকটতম আত্মীয় 'Bonobo' যাদের DNA এর ৯৮% শতাংশ সাদৃশ্য রয়েছে; এরা কিন্তু প্রচন্ডরকম উভকামী বলে জানা গেছে। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, প্রকৃতি শুধু প্রজননের দ্বারা বংশবৃদ্ধির মন্ত্রের উপাসক না, আরও অনেক হিসেবই চলে তার দুনিয়ায়। বিবর্তনের তত্ত্ব দিয়ে বিচার করলে দেখতে পাওয়া যাবে সমকামীরা মোটেই মানব সমাজের অপ্রয়োজনীয় অংশ নয়।
সমাজে আত্মসম্মান নিয়ে মানুষের মতো বাঁচার অধিকার সব লিঙ্গের মতো সমকামীদেরও সমানভাবে থাকা উচিত। এ ব্যাপারে যারা অবিশ্বাসী, তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী। যারা নারী-পুরুষের কাম ব্যতীত অন্য সব কামকে প্রকৃতি বিরুদ্ধ বলে স্বঘোষিত ফতোয়া জারী করছে, সমকামীদের উপর নির্যাতন করছে তাদের জনমত নির্বিশেষে শিক্ষিত ও সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি বিষয়।
ভারতবর্ষ স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশ। অপগন্ড মূর্খেরা সংখ্যায় বেশি বলেই তাদের মূর্খামি নির্বিচারে মেনে নিতে হবে কথা আমাদের গণতন্ত্রও বলে না, সংবিধানও স্বীকার করে না।সমকামীদের নিজেদের অধিকার রক্ষার আন্দোলন চলছে চতুর্দিকে। ওঁরা চাইছেন নিজের লিঙ্গ নিজে নির্ণয় ও সেই নির্ণয়কে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে। নিগৃহীত না হওয়া, মানসিক রোগী হিসেবে চিহ্নিত না হওয়া, বিবাহ, যৌন সঙ্গম, সন্তান দত্তক গ্রহণ প্রভৃতি বিষয়ে তাঁরা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়ে নিরন্তর সংগ্রাম করে চলেছেন। যে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এই একুশ শতকেও নারীকে নারী হয়ে জন্মানোর জন্য প্রতিনিয়ত নিগৃহীত হতে হয় সেখানে সমকামীদের নিজেদের মৌলিক অধিকারের জন্য যে আরও সুদীর্ঘকাল যাবৎ সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে একথা সহজেই অনুমেয়।
দীপশিখা----
----------------------------------------------------------------
দীপের মন ভাল নেই। বাড়ী ঢুকতেই বাবার চীৎকার কানে এল।মায়ের ফোঁপানি, আবার তাকে নিয়ে ঝামেলা। বাবা বলছে--
তোমার ঐ নেকু সখী পনা ছাড়তে বল ছেলেকে। দু চোক্ষের বিষ। তার দুই দিদি, ১ জনের বিয়ে হয়ে স্বামী নিয়ে বিদেশে, আর মেজদি ইউনিভার্সিটি তে রিসার্চ করে। দীপ ও কলেজে পড়ে, এবার ফাইনাল ইয়ার। আসলে তার চেহারাটাই সমস্যার কারন। মাঝারি লম্বা, ফর্সা,মুখ খানা লাবন্যে ঢলঢল একটু মেয়লি গোছের। সে স্বভাবেও মেয়েদের মত নরম। সে ভেবে পায় না এই চেহারার জন্যে তো সে দায়ী নয়। তবু সবাই তাকে নিয়ে হাসি মশকরা করে। বাবা দিদি রোজ মা কে কথা শোনায়। সে মায়ের মত মুখ পেয়েছে, বড়দি সুশ্রী,আর মেজদি বাবার মত চোয়াড়ে কঠিন দেখতে। বাবার মেজাজ সারাক্ষন সপ্তমে চড়ে থাকে। মা শান্ত শ্রীময়ী। মুখ বুজে সব সহ্য করে। ছোট থেকেই দীপের মেয়েদের মত সাজগোজ করতে ভাল লাগে। মায়ের ড্রেসিং টেবিলে রুজ লিপস্টিক মাখতো, মায়ের শাড়ি পরতো নিজের শার্টের সাথে। পাড়ার ফাংশনে, কলেজের অনুষ্ঠানে সে নারী চরিত্রে অভিনয় করত। পাড়ার বোস কাকু তাকে হাতে ধরে পারফেকশন শিখিয়েছেন। মা আর বোস কাকু ছাড়া আর কারুর স্নেহ জোটেনি তার কপালে। সে লুকিয়ে নাচের স্কুলেও ভর্ওি হয়েছে। মা লুকিয়ে তার খরচ দেন। বাবা জানলে বিশাল ঝড় উঠবে। তার খুব ইচ্ছে একজন ধ্রুপদী নৃত্য শিল্পী হবে। দেশ - বিদেশের মঞ্চে পারফর্ম করবে। যখন পুরোপুরি নিজে দাঁড়িয়ে যাবে তখন মাকে এখান থেকে নিয়ে গিয়ে নিজের কাছে রাখবে।কলেজে তার বান্ধবীর সংখ্যা বেশি। আর ছেলের দল তাকে নিয়ে মজা করে, বিরক্ত করে। শুধু একজন বাদে। সে হল অনিরুদ্ধ। তাকে দীপ ভীষন ভালবাসে। সে কোনদিন কলেজে না হলে তার বুক খাঁ খাঁ করে। সে যত্ন করে নোটস তুলে রাখে। কারন অনি সায়েন্সের স্টুডেন্ট হলেও ইংরেজী বিষয় টা তাদের এক। তাই সারাদিনে ঐ সময়টাতেই তাদের দেখা হয়। অনি তার সাথে ভাল ব্যবহারই করে, কিন্তু একটু ঘনিষ্ট হবার চেষ্টা করলেই বিরক্ত হয়। তবু দীপের তার প্রতি মোহ যায় না। এদিকে ১ দিন একটা ঘটনা ঘটল। কলেজের কয়েকটা ছেলে তাকে প্রায়ই টানাটানি করত। জোর করে চুমু খাবার চেষ্টা, গায়ে হাত বুলনো এসব। সে হাতজোড় করে নিষ্কৃতি চেযেছে কিন্তু ওরা তাতে কান দেয় নি। একদিন ক্লাস ছুটির পর লাইব্রেরিতে পড়াশুনার জন্যে গিয়েছিল। পড়তে পড়তে কখন কলেজ ফাঁকা হয়ে গেছে বুঝতে পারেনি। করিডরে ঐ ছেলেদের ২ জন তাকে টেনে নিয়ে যায় ছাদে। তারপর শ্লীলতা হানি করে। কোনরকমে ছাড়িয়ে পালায়। ছেলেগুলো শাসায় কাউকে বললে মেরে ফেলবে। তাও সে সাহস করে প্রিন্সিপালের কাছে কমপ্লেন করেছিল। উনি অবিশ্বাসি চোখে তাকিয়ে শুনলেন। কিন্তু প্রমান দিতে বললেন। কারন তেনার মনে হয়েছিল ছেলেরা আবার ছেলেদের গায়ে হাত দেয় নাকি? তারা তো মেয়েদের নিয়েই ইন্টারেস্ট দেখায়! ঐ ছেলেদের একজন কোন প্রভাবশালী নেতার ছেলে, কলেজের পরিচালন কমিটির হোমরা চোমরা পদে আছেন তাই কিছু করা কঠিন তিনি তাকেই সতর্ক হতে পরামর্শ দিলেন। সে বুঝল তার জন্যে কেউ মুখ খুলবে না।আজকাল অনি ও পাওা দেয় না। সে কলেজের সেরা সুন্দরীর প্রেমে পড়েছে। তার সাথেই সময় কাটায়। এদিকে তার জীবনের যে ধ্রুবতারা ছিল সেই মা মারা গেল হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে। তার আর কেউ রইল না। সে ঠিক করেছে তার যা ভাল লাগে তাই করবে। সে মেয়েদের মত শাড়ী, গয়না পরে রাস্তায় বেরতো।পাড়ার লোক টিটকিরি দিত, হাসত। বাবার কানে বিষ ঢালার লোকের অভাব হল না। বাবা প্রথমে তাকে শাসালেন, তারপর ও সে একই রকম আছে দেখে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিলেন ত্যাজ্য করে। প্রথম দিকে দু একজন বন্ধুদের বাড়ীতে থেকে নাচের স্কুলেই ছোট বাচ্চাদের নাচ শেখাতে লাগল।আত্মীয়রা তো জায়গা দিলই না উল্টে গালাগালি করত। দেখা হলে মুখ ফিরিয়ে নিত। কোন হস্টেলে তার জায়গা হল না। ছেলেদের মেসে কিছুদিন ছিল কিন্তু ঐ বিরক্ত করত। সেখানেও স্পষ্ট বলে দিল মেয়েলি পোষাক আসাক সে ব্যবহার করতে পারবে না। এরই ভেতর দূর্গাপূজো চলে এল। সবাই সেজে গুজে হৈ চৈ করছে। সেও সুন্দর করে সেজে পাড়ার পূজোয় কাকীমাদের সাথে হাত লাগায়। পাড়ার মেয়েদের সাথে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে হপিং করে। এলো দশমী। এবার দূগ্গা মায়ের যাবার পালা। রাএে মহা সমারোহে আলোক সজ্জায়, ব্যান্ড পার্টির গানে ছেলে মেয়ে বুড়ো সবাই উল্লাসে নাচতে নাচতে শোভা যাএা সহকারে এগিয়ে চলে। দীপ এখন নিজের নাম বলে বেড়ায় দীপশিখা। সেও নাচতে নাচতে সবার সাথে গলা মেলায় ---
" বল দুগ্গা মাইকী। আসছে বছর আবার হবে "। বাবু ঘাটে গিয়ে ঠাকুর নামানোর তোড়জোড় চলে। প্রচুর ক্লাব থেকে প্রতিমা নিরঞ্জনে এসেছে। অনেক ভীড়ে দীপশিখা নিজের পাড়ার লোকদের হারিয়ে ফেলে। এদিকে বেশ কিছুদিন আগে কিছু লোক তাকে পুরুষ সমকামী দের লালসা মেটাতে তাকে টাকার বিনিময়ে অফার দেয় কিন্তু দীপ তাদের তাড়িয়ে দিয়েছিল। এখানে তাদেরকে দেখে সে একটু অন্ধকারের লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করে। এভাবেই তাদের সাথে আলো অন্ধকারে লুকোচুরি চলতে থাকে। একসময় একটা বজ্র কঠিন হাত তার মুখ চেপে ধরে।তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। সে হাত পা ছোঁড়ে, কিন্তু কোন লাভ হয় না।এর ভেতর তার হাত পা বেঁধে, মুখে প্লাস্টার আটকে দিয়ে নির্যাতন চলতে থাকে। একসময় তার হুঁশ হারায়। যন্ত্রনায় দীর্ণ হয় সে। পরদিন প্রিন্সেপ ঘাটের কাছে তার লাশ পড়ে থাকে। পুলিশ অপরিচিত বডি মর্গে ঢোকায়। দীপশিখা সকাল বেলার খবর কাগজে টি ভি তে হেড লাইন হয়ে যায়। সমাজের অবহেলা, বাড়ীর নন্ কোঅপারেশন তাকে বাঁচতে দিল না।
গল্প : আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায়
----------------------------------------------------------------
দীপের মন ভাল নেই। বাড়ী ঢুকতেই বাবার চীৎকার কানে এল।মায়ের ফোঁপানি, আবার তাকে নিয়ে ঝামেলা। বাবা বলছে--
তোমার ঐ নেকু সখী পনা ছাড়তে বল ছেলেকে। দু চোক্ষের বিষ। তার দুই দিদি, ১ জনের বিয়ে হয়ে স্বামী নিয়ে বিদেশে, আর মেজদি ইউনিভার্সিটি তে রিসার্চ করে। দীপ ও কলেজে পড়ে, এবার ফাইনাল ইয়ার। আসলে তার চেহারাটাই সমস্যার কারন। মাঝারি লম্বা, ফর্সা,মুখ খানা লাবন্যে ঢলঢল একটু মেয়লি গোছের। সে স্বভাবেও মেয়েদের মত নরম। সে ভেবে পায় না এই চেহারার জন্যে তো সে দায়ী নয়। তবু সবাই তাকে নিয়ে হাসি মশকরা করে। বাবা দিদি রোজ মা কে কথা শোনায়। সে মায়ের মত মুখ পেয়েছে, বড়দি সুশ্রী,আর মেজদি বাবার মত চোয়াড়ে কঠিন দেখতে। বাবার মেজাজ সারাক্ষন সপ্তমে চড়ে থাকে। মা শান্ত শ্রীময়ী। মুখ বুজে সব সহ্য করে। ছোট থেকেই দীপের মেয়েদের মত সাজগোজ করতে ভাল লাগে। মায়ের ড্রেসিং টেবিলে রুজ লিপস্টিক মাখতো, মায়ের শাড়ি পরতো নিজের শার্টের সাথে। পাড়ার ফাংশনে, কলেজের অনুষ্ঠানে সে নারী চরিত্রে অভিনয় করত। পাড়ার বোস কাকু তাকে হাতে ধরে পারফেকশন শিখিয়েছেন। মা আর বোস কাকু ছাড়া আর কারুর স্নেহ জোটেনি তার কপালে। সে লুকিয়ে নাচের স্কুলেও ভর্ওি হয়েছে। মা লুকিয়ে তার খরচ দেন। বাবা জানলে বিশাল ঝড় উঠবে। তার খুব ইচ্ছে একজন ধ্রুপদী নৃত্য শিল্পী হবে। দেশ - বিদেশের মঞ্চে পারফর্ম করবে। যখন পুরোপুরি নিজে দাঁড়িয়ে যাবে তখন মাকে এখান থেকে নিয়ে গিয়ে নিজের কাছে রাখবে।কলেজে তার বান্ধবীর সংখ্যা বেশি। আর ছেলের দল তাকে নিয়ে মজা করে, বিরক্ত করে। শুধু একজন বাদে। সে হল অনিরুদ্ধ। তাকে দীপ ভীষন ভালবাসে। সে কোনদিন কলেজে না হলে তার বুক খাঁ খাঁ করে। সে যত্ন করে নোটস তুলে রাখে। কারন অনি সায়েন্সের স্টুডেন্ট হলেও ইংরেজী বিষয় টা তাদের এক। তাই সারাদিনে ঐ সময়টাতেই তাদের দেখা হয়। অনি তার সাথে ভাল ব্যবহারই করে, কিন্তু একটু ঘনিষ্ট হবার চেষ্টা করলেই বিরক্ত হয়। তবু দীপের তার প্রতি মোহ যায় না। এদিকে ১ দিন একটা ঘটনা ঘটল। কলেজের কয়েকটা ছেলে তাকে প্রায়ই টানাটানি করত। জোর করে চুমু খাবার চেষ্টা, গায়ে হাত বুলনো এসব। সে হাতজোড় করে নিষ্কৃতি চেযেছে কিন্তু ওরা তাতে কান দেয় নি। একদিন ক্লাস ছুটির পর লাইব্রেরিতে পড়াশুনার জন্যে গিয়েছিল। পড়তে পড়তে কখন কলেজ ফাঁকা হয়ে গেছে বুঝতে পারেনি। করিডরে ঐ ছেলেদের ২ জন তাকে টেনে নিয়ে যায় ছাদে। তারপর শ্লীলতা হানি করে। কোনরকমে ছাড়িয়ে পালায়। ছেলেগুলো শাসায় কাউকে বললে মেরে ফেলবে। তাও সে সাহস করে প্রিন্সিপালের কাছে কমপ্লেন করেছিল। উনি অবিশ্বাসি চোখে তাকিয়ে শুনলেন। কিন্তু প্রমান দিতে বললেন। কারন তেনার মনে হয়েছিল ছেলেরা আবার ছেলেদের গায়ে হাত দেয় নাকি? তারা তো মেয়েদের নিয়েই ইন্টারেস্ট দেখায়! ঐ ছেলেদের একজন কোন প্রভাবশালী নেতার ছেলে, কলেজের পরিচালন কমিটির হোমরা চোমরা পদে আছেন তাই কিছু করা কঠিন তিনি তাকেই সতর্ক হতে পরামর্শ দিলেন। সে বুঝল তার জন্যে কেউ মুখ খুলবে না।আজকাল অনি ও পাওা দেয় না। সে কলেজের সেরা সুন্দরীর প্রেমে পড়েছে। তার সাথেই সময় কাটায়। এদিকে তার জীবনের যে ধ্রুবতারা ছিল সেই মা মারা গেল হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে। তার আর কেউ রইল না। সে ঠিক করেছে তার যা ভাল লাগে তাই করবে। সে মেয়েদের মত শাড়ী, গয়না পরে রাস্তায় বেরতো।পাড়ার লোক টিটকিরি দিত, হাসত। বাবার কানে বিষ ঢালার লোকের অভাব হল না। বাবা প্রথমে তাকে শাসালেন, তারপর ও সে একই রকম আছে দেখে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিলেন ত্যাজ্য করে। প্রথম দিকে দু একজন বন্ধুদের বাড়ীতে থেকে নাচের স্কুলেই ছোট বাচ্চাদের নাচ শেখাতে লাগল।আত্মীয়রা তো জায়গা দিলই না উল্টে গালাগালি করত। দেখা হলে মুখ ফিরিয়ে নিত। কোন হস্টেলে তার জায়গা হল না। ছেলেদের মেসে কিছুদিন ছিল কিন্তু ঐ বিরক্ত করত। সেখানেও স্পষ্ট বলে দিল মেয়েলি পোষাক আসাক সে ব্যবহার করতে পারবে না। এরই ভেতর দূর্গাপূজো চলে এল। সবাই সেজে গুজে হৈ চৈ করছে। সেও সুন্দর করে সেজে পাড়ার পূজোয় কাকীমাদের সাথে হাত লাগায়। পাড়ার মেয়েদের সাথে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে হপিং করে। এলো দশমী। এবার দূগ্গা মায়ের যাবার পালা। রাএে মহা সমারোহে আলোক সজ্জায়, ব্যান্ড পার্টির গানে ছেলে মেয়ে বুড়ো সবাই উল্লাসে নাচতে নাচতে শোভা যাএা সহকারে এগিয়ে চলে। দীপ এখন নিজের নাম বলে বেড়ায় দীপশিখা। সেও নাচতে নাচতে সবার সাথে গলা মেলায় ---
" বল দুগ্গা মাইকী। আসছে বছর আবার হবে "। বাবু ঘাটে গিয়ে ঠাকুর নামানোর তোড়জোড় চলে। প্রচুর ক্লাব থেকে প্রতিমা নিরঞ্জনে এসেছে। অনেক ভীড়ে দীপশিখা নিজের পাড়ার লোকদের হারিয়ে ফেলে। এদিকে বেশ কিছুদিন আগে কিছু লোক তাকে পুরুষ সমকামী দের লালসা মেটাতে তাকে টাকার বিনিময়ে অফার দেয় কিন্তু দীপ তাদের তাড়িয়ে দিয়েছিল। এখানে তাদেরকে দেখে সে একটু অন্ধকারের লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করে। এভাবেই তাদের সাথে আলো অন্ধকারে লুকোচুরি চলতে থাকে। একসময় একটা বজ্র কঠিন হাত তার মুখ চেপে ধরে।তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়। সে হাত পা ছোঁড়ে, কিন্তু কোন লাভ হয় না।এর ভেতর তার হাত পা বেঁধে, মুখে প্লাস্টার আটকে দিয়ে নির্যাতন চলতে থাকে। একসময় তার হুঁশ হারায়। যন্ত্রনায় দীর্ণ হয় সে। পরদিন প্রিন্সেপ ঘাটের কাছে তার লাশ পড়ে থাকে। পুলিশ অপরিচিত বডি মর্গে ঢোকায়। দীপশিখা সকাল বেলার খবর কাগজে টি ভি তে হেড লাইন হয়ে যায়। সমাজের অবহেলা, বাড়ীর নন্ কোঅপারেশন তাকে বাঁচতে দিল না।
গল্প : আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায়
অসম সুখ
বাহ!ভারী সুন্দর তো ওই যুবকটি! এইমুহূর্তে সারা হলঘরের দৃষ্টি যার দিকে নিবদ্ধ। কেউ তার লম্বা কাঁধ পর্যন্ত চুলের অনুরাগে ব্যস্ত, কেউ মজেছে তার নিখুঁতভাবে সৃষ্ট দুই ঠোঁটে। কারও ডুব দিতে মন চায় ওর ঘন নীল দুই চোখের সমুদ্রের আর্দ্রতায় , কেউ শুধুই আকৃষ্ট হয় ওর বলিষ্ঠ শরীরের বাঁধুনিতে। আমি যদিও ওসব কিছুই দেখছি না। এ সব ছাপিয়ে যে স্নিগ্ধতা ওর শিরায় শিরায় প্রবাহিত, আমি কেবল তাকেই ছোঁয়ার চেষ্টা করছি শুধুমাত্র! আমি জানিনা, এই আবেগকে কি ভাষায় প্রকাশ করা যায়, আমি যদিও মানি, ওর শুভ্র পেলব নিদাগ আত্মার সঙ্গে নিঃসন্দেহে রয়েছে আমার বহুকালব্যাপি পরিচয়!
“মিঃ সেন, ছেলেটি কি অপূর্ব বাজাচ্ছে না ভাওলিনটা? ওর দিক থেকে তো চোখ ফেরানো যাচ্ছে না!”
আমি হাসি বাদল বর্মণের দিকে তাকিয়ে। “চোখ ফেরানো উচিতও নয়! ওর সবটুকুকে আহরণ করার আমি তো মনে করি এইটুকুই পরে থাকে সময়, যখন ও ব্যস্ত নিজের ঐকান্তিক শিল্পচর্চায়!” বেশি কথা আর বাড়াই না। আরেক পেগ হুইস্কি নেওয়ার অছিলায় আমি সরে যাই ওনার সামনে থেকে এরপর।
আসলে এই মুহূর্তটুকু আমার। আমি একলা থাকতেই বেশি স্বচ্ছন্দও এই সময়। যেখানে আমি থাকব আমার সম্পূর্ণ সত্ত্বাকে উন্মোচিত করে, আমার প্রতিটি কণায় কণায় মিশে থাকবে আমার পরিচয়। যে অস্তিত্ব সংকট আজন্মকাল ঘিরে থেকেছে আমায়, তার থেকে সাময়িক হলেও ঘটবে প্রকৃত মুক্তি!
ঠিক এমনই এক প্রবল নিঃসঙ্গতার সময়ই ওই যুবক সবার থেকে দূরে ডায়াসে বসে নিজের ভাওলিনে তুলল সুরের ঝংকার!আহ, অমন বেদনা সত্যিই কতদিন সাধ করে পাইনি আমি! কোনোদিন আদৌ পেয়েছি কি? মনে নেই, হয়তো ঈশ্বরই জানেন!
হ্যাঁ আমি ঈশ্বর মানি। ওনার প্রগাঢ়তায় খুঁজে পাই শান্তি। স্তম্ভিত হচ্ছেন? কেন, সমকামিতার সাথে ঈশ্বরবাদের তো কোনো সম্বন্ধ নেই? যখন কোনো পুরুষ কোনো নারীকে ভালোবাসে, তখন তো কেউ জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়না, “তুমি ঈশ্বর মানো?” তবে আমার সঙ্গী নির্ধারণের সঙ্গে কেন এমন জটিল ভাবে জড়িয়ে পেঁচিয়ে যায় এতসব অহেতুক কৌতূহল?
এসবে অবশ্য আজকাল আর আমি অবাক হই না। আমি তো এমন প্রশ্নও শুনেছি, “আচ্ছা, তোমায় দেখতে তো ঠিকঠাকই লাগে, তবে কেন পুরুষ পছন্দ তোমার?” বা “তুমি পৌরুষে আগ্রহী কেন— তোমার কি পুরুষত্বের অভাব?” হাঃ, পুরুষত্ব! ছোটবেলা থেকেই আমি সর্বাঙ্গ সচেতন এক পুরুষের মননই নিজের শরীরে বসত করিয়েছি। নারীর মধ্যে তবু মুক্তির আস্বাদ পাইনি। হ্যাঁ, তারা নিঃসন্দেহে আমার বন্ধু,বোন, জননী— তবে প্রেয়সী— নাঃ, সেরকম কোনো সংযোগ তাদের সাথে আমার ঘটেনি।এটিও কিন্তু সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এক প্রক্রিয়াই! হয়তো আমিই সযত্নে এড়িয়ে গেছি তাদের প্রস্তাব, কখনও বিনম্র ভাবে, কখনও রূঢ়তার মোড়কে। তাদের কারও জন্য কিন্তু তেমন কোনও খেদও নেই আমার। একমাত্র শীল্পার সঙ্গে যেটা ঘটেছিল, সেটা ছিল পুরোপুরি অনভিপ্রেত।
শীল্পা আমার নার্সারীর বান্ধবী। একসাথে পাড়ায় স্কুলে সবজায়গায় খেলাধূলা করেছি,পড়াশোনাতেও একে অপরের সাহায্য নিয়েছি নির্দ্বিধায়। আমাদের দুই পরিবারের মধ্যেও ছিল চূড়ান্ত সখ্যতা। যার ফলে প্রতিটা অনুষ্ঠান উৎসবে একে অপরের সাথে ঘষাঘষি করেই আমাদের বেড়ে ওঠা।
যখন আমার বছর পনেরো বয়স, তখন থেকেই আমি আমার মননের চাহিদাগুলি একটু একটু করে আবিষ্কার করতে শুরু করি। বুঝতে পারি, আর পাঁচজন আমার সমবয়স্ক মানুষের সঙ্গে আমার তফাৎ। ভাবুন তো, অত কম বয়স তখন আমার!নানা, বিশ্বাস করুন, কোনো অজুহাত দিচ্ছি না। তবে সত্যিই বড় বিচলিত হয়ে পড়ি নিজের এই পরে উপলব্ধি করা স্বাভাবিক সব প্রতিক্রিয়ায়। মনে হতে থাকে, আমি ‘অসুস্থ’ সমাজের এই কঠোর নিয়মাবলীর ফাঁদে পরে। আর তাই প্রাণপণে নিজেকে ‘স্বাভাবিক’ প্রমাণ করতে আমি শিল্পার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ি। এক সপ্তাহের মধ্যেই যদিও বুঝে যাই, এ সিদ্ধান্ত অনৈতিক!
মনে আছে, শিল্পা অসম্ভব সুন্দরী ছিল তখন থেকেই। স্কুলের তাবর তাবর ছেলেরা ওর জন্য ছিল উন্মাদ। কিন্তু, আগেই লক্ষ্য করেছিলাম, ও কোনোদিন কাউকে প্রশ্রয় দিত না। ‘কেন’ জিজ্ঞাসা করলে আরক্ত মুখে মাথা নামিয়ে নিত। ওই এক সপ্তাহব্যাপী নৈকট্যের সময় বুঝলাম, ছোটবেলা থেকেই ও আসলে বোধহয় আমার প্রতিই আসক্ত। সেইটা যদিও বা কথা বলে মিটমাট করে নেওয়া যেত, গোল বাঁধল অন্য জায়গায়। শিল্পা আবেগোচ্ছ্বাস সামলাতে না পেরে তার বাড়িতে জানিয়ে দিল সব কথা। আর সে রাতেই আমার মা আমার ঘরে এসে মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদসূচক ভঙ্গি করে বলল, “আমরা জানতাম, তোরা একেবারে হর পার্বতী জুটি! ছোট থেকেই তাই আমাদের দু’পক্ষের সব ঠিক করা। শুধু তোদের উপর জোর করতে চাইনি কিছু। এবার যখন তোরাই —”
বিশ্বাস করুন, আর ঠিক কি কি বলেছিল মা, তা আজ আর আমার মনে নেই। শুধু মনে হয়েছিল, জোর না করলেও আমি কিন্তু সেই বাঁধা পরে গেলাম! অন্য অস্তিত্বের ফাঁদে, অন্য সম্পর্কের দোটানায়।
বেশ কিছুদিন ভয় কোনো কথা বলতে পারিনি কাউকে। এমনকি এড়িয়ে গেছি শিল্পাকেও নানান বাহানায়। বুঝতে পেরেছি, মেয়েটা ভেঙে পরছে পুরো আমার এমন নিরাসক্ত আচরণে, কিন্তু আমার দিকটাও ভাবুন, কোনো উপায় কি আর ছিল আমার তখন?
শেষে মাধ্যমিকের পরের তিনমাসের ছুটিতে যখন দুই পরিবার একসাথে দার্জিলিং যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল আমাদের নতুন সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেওয়ার অবকাশে, আমি আর থাকতে পারলাম না।
মনে আছে, সবে তখন টাইগার হিলে সুর্যোদয় হচ্ছে। কনকনে ঠাণ্ডা চারদিক। সামনে অকৃত্রিম সৌন্দর্যের পীঠস্থান কাঞ্চনজঙ্ঘা। শিল্পা প্রথমবার সাহসে ভর দিয়ে আমার কানে- কানে বলেছিল সেই আদিম ভালবাসাবাসির মন্ত্র। প্রত্তুত্তরে আমি অস্ফুটে শুধু বলেছিলাম, “শিল্পা, আমি সমকামী।”
ভেবেছিলাম এরপর ঝড় নামবে আচম্বিতে। জীবনের সব খড়কুটো ভেসে যাবে সেই অকাল প্লাবনে। ছিন্ন হবে অনেক কাছের সম্পর্কই। তবু, তেমন কিছুই হল না। নির্বিঘ্নে চারটে দিন কেটে যাওয়ার পর আমরা কলকাতায় ফিরলাম। আর তারপরেই আমাদের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে ওরা হঠাৎই রাতারাতি স্কুল, পাড়া সব বদল করে ফেলল কারও কিছু জেনে যাওয়ার আগেই।
মা বাবা আজও ওকেই দোষ দেয়। ভাবে, এই যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই বুঝি আমি পঁয়ত্রিশ বছর বয়সেও অবিবাহিত। আমি তাঁদের ভুল ভাঙাতে পারতাম। হয়তো শিল্পার প্রতি করা আমার অবিচারের কিছুটা পরিশোধ হতো তাতে। তবু দুটি ভিন্ন সময়ের এবং যুগের মানুষকে আমার সত্য বোঝানোর মতো কোনো সঠিক পরিস্থিতি আমি খুঁজে উঠতে পারিনি আজও — কিছুটা ওঁদের শরীর স্বাস্থ্য বয়স চিন্তা করে, বাকিটা একান্তই সেই সমাজের জোড়াতাপ্পি দেওয়া ঠিকভুলের অন্তর্দ্বন্দ্বে। আর, কিই বা হতো বলে অশান্তি ছাড়া? মনের মতোন মানুষও আর কই পেলাম এই জীবনে যার জন্য লড়াই করে মেলে ভালোবাসার আস্বাদ?
আজকের ঘটনা অবশ্য ব্যতিক্রম। অনেককেই হয়তো আগে মনে ধরেছে আমার, তবুও এই ভাওলিনবাদকের মতো ঝিমঝিমে মাদকতা এর আগে আমি কারও মধ্যে পাইনি। ওর ওই করুণ সুরের মূর্চ্ছনার যে অভিব্যক্তি, তার সামনে এই প্রথম মনে হচ্ছে,“সমাজ সংসারও মিছে সব!” সত্যিই, অর্ধেকটা জীবন এভাবে কাটিয়ে দিলাম একাকিত্বে, হয়তো ঠিক এই মুহূর্তটির আশায়, এই রোজকার জীবনের খানিকটা হলেও ছন্দপতনের অপেক্ষায়!
“রবিন, তুই এখানে?” চমকে উঠলাম এই ডাকে। ‘রবীন্দ্রনাথ সেন’কে ছোট করে অনেকেই রবি বলে ডাকে একমাত্র একজন ছাড়া। শিল্পা! ঘাড় ঘুরিয়ে বুঝলাম, চমকের আরও বাকি রয়েছে এখনও!
আগেই বলেছি, শিল্পা সেই স্কুল জীবন থেকেই অসামান্য সুন্দরী। তার উপর ওর এখনকার ব্যক্তিত্ব ওর সেই সৌন্দর্যের পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে যেন বহুমাত্রায়। জমকালো কালো শিফনের শাড়ি আর হিরের ছোট্ট পেণ্ডেণ্টেই ও অনায়াসে টেক্কা দিতে পারে যেকোনো বিশ্বসুন্দরীকে। এই প্রথম ওকে দেখে যেন কথা সরলনা আমার ঠোঁটে!
“কিরে চিনতে পারছিসনা, নাকি মাঝ বয়সে এসে নিজের টেস্ট চেঞ্জ করে ফেলেছিস তুই?”
ধপ করে আমার পাশে বসে ওয়াইনের গ্লাসটা এক চুমুকে শেষ করল শিল্পা।
ওর কথাটা কানে কিরকম যেন বাজল। সেই নরম ভীরু মেয়েটার মুখে এমন সংলাপও বসবে কোনোদিন, এতটা দুরাশা বোধহয় কোনোদিন করিনি আসলে।
“না, মানে তুই এখানে?”
শিল্পা হাসল। “আমি এখানে।এখানেই তো আসার কথা ছিল আমার, বন্ধু! হাঃ হাঃ! তবে মানতেই হবে, এর পিছনে তোর কিন্তু বিশাল বড় অবদান রয়েছে! তুই যদি ওই ভোরবেলা কথাকটা না বলতিস, আজ হয়তো আমার জীবনটা সম্পূর্ণ অন্যরকম হত! আবার, হতোও কি আদৌ? কে জানে?”
আমি সোজা হয়ে বসি। কি বলছে মেয়েটা? কি হেঁয়ালি করছে ও? এতদিন পরে কি ওর কাছে আমার ক্ষমা চাওয়া উচিত?
“শিল্পা, বিশ্বাস কর, আমি কিন্তু সত্যিই তোকে কখনও দুঃখ দিতে চাইনি—”
হাত তুলে থামিয়ে দেয় ও আমায়, “আরে ধুর, দুঃখ কে পেয়েছে?আমায় দেখে মনে হচ্ছে আমি দুঃখী? তুই সমকামী, সেটা স্বীকার করার ক্ষমতা রাখিস তুই, এটাই তো অনেক বড়! বিশ্বাস কর, সবাই তোর মতো হতে পারেনা! সারাজীবন মুখোশের আড়ালে শুধু কেঁদে বেড়ায়।তবু জাল ছিঁড়ে বেরোতে পারে না। ওই যে দেখ, ওর মতো!”
আঙুল তুলে যার দিকে ইশারা করল ও, তাকে দেখে শিহরণ খেলে গেল আমার শরীরে।এ তো সেই ভাওলিন বাদক!
শিল্পা তখনও বলে চলেছে, “মা বাবা দেখে শুনে বিয়ে দিল জানিস! আমিও আপত্তি করিনি। শ্রীমনকে পছন্দ করেছিলাম কিনা জানিনা, তবে না বলার কোনো কারণ ছিল কি, বল? কোর্টশিপ চলাকালীন অবশ্য ও আমায় সব বলে দেয়। তোর মতোই আর কি, শেষ মুহূর্তে। তবু এবার আর আমরা কেউ ছেড়ে যেতে পারলাম না একে অপরকে জানিস শুধুমাত্র লোক লৌকিকতার ভয়ে। আমার কি ভাগ্য দেখেছিস তো!”
আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে রয়েছি সোফায়। কি বলা বা করা উচিত এমন পরিস্থিতিতে বুঝে উঠতে পারছিনা। অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে ইতিমধ্যে। শ্রীমন সবার অভিবাদন কুড়োনোয় ব্যস্ত।
হঠাৎই শিল্পার দিকে চোখ পরতে বুঝলাম আমি ধরা পরে গেছি। ও হাসছে খিলখিল করে। “কি, পছন্দ ওকে?এই, একদম মিথ্যা বলবিনা কিন্তু আজ। ” আমি টের পেলাম আমার কানদুটো গরম হয়ে উঠেছে অকষ্মাৎ।
আমার কাঁধে হাত রাখল শিল্পা। “বুঝিরে। আজ আমি সব বুঝি। ভাগ্যিস বিয়েটা হয়েছিল এই ‘এল জি বি টি’ পার্টিগুলোয় আসার অবকাশ মিলল তাই তারপর। নাহলে আমিও বা কি কখনও টের পেতাম আমার মধ্যে লুকিয়ে থাকা মেয়েটাও আসলে ‘সম’বিলাসিনী! নানা,আর না। যা রবিন, যা।এবার আর আটকাস না নিজেকে। শ্রীমন এখনও খুব একা জানিস তো, ওর তোকে প্রয়োজন!অনেক তো হল লোক দেখানি, এবারে অন্তত একবার তো বাঁচ তোরা! আমি তো তবু অণুরিমাকে পেয়েছি, দাঁড়া, আলাপ করিয়ে দিই, এই অণু, এদিকে একটু এসো না—”
আমি আবার কানে শুনতে পাচ্ছিনা যে কেন তারপর আর ঠিক কি কি বলল শিল্পা, কে জানে?
@পারিজাত
বাহ!ভারী সুন্দর তো ওই যুবকটি! এইমুহূর্তে সারা হলঘরের দৃষ্টি যার দিকে নিবদ্ধ। কেউ তার লম্বা কাঁধ পর্যন্ত চুলের অনুরাগে ব্যস্ত, কেউ মজেছে তার নিখুঁতভাবে সৃষ্ট দুই ঠোঁটে। কারও ডুব দিতে মন চায় ওর ঘন নীল দুই চোখের সমুদ্রের আর্দ্রতায় , কেউ শুধুই আকৃষ্ট হয় ওর বলিষ্ঠ শরীরের বাঁধুনিতে। আমি যদিও ওসব কিছুই দেখছি না। এ সব ছাপিয়ে যে স্নিগ্ধতা ওর শিরায় শিরায় প্রবাহিত, আমি কেবল তাকেই ছোঁয়ার চেষ্টা করছি শুধুমাত্র! আমি জানিনা, এই আবেগকে কি ভাষায় প্রকাশ করা যায়, আমি যদিও মানি, ওর শুভ্র পেলব নিদাগ আত্মার সঙ্গে নিঃসন্দেহে রয়েছে আমার বহুকালব্যাপি পরিচয়!
“মিঃ সেন, ছেলেটি কি অপূর্ব বাজাচ্ছে না ভাওলিনটা? ওর দিক থেকে তো চোখ ফেরানো যাচ্ছে না!”
আমি হাসি বাদল বর্মণের দিকে তাকিয়ে। “চোখ ফেরানো উচিতও নয়! ওর সবটুকুকে আহরণ করার আমি তো মনে করি এইটুকুই পরে থাকে সময়, যখন ও ব্যস্ত নিজের ঐকান্তিক শিল্পচর্চায়!” বেশি কথা আর বাড়াই না। আরেক পেগ হুইস্কি নেওয়ার অছিলায় আমি সরে যাই ওনার সামনে থেকে এরপর।
আসলে এই মুহূর্তটুকু আমার। আমি একলা থাকতেই বেশি স্বচ্ছন্দও এই সময়। যেখানে আমি থাকব আমার সম্পূর্ণ সত্ত্বাকে উন্মোচিত করে, আমার প্রতিটি কণায় কণায় মিশে থাকবে আমার পরিচয়। যে অস্তিত্ব সংকট আজন্মকাল ঘিরে থেকেছে আমায়, তার থেকে সাময়িক হলেও ঘটবে প্রকৃত মুক্তি!
ঠিক এমনই এক প্রবল নিঃসঙ্গতার সময়ই ওই যুবক সবার থেকে দূরে ডায়াসে বসে নিজের ভাওলিনে তুলল সুরের ঝংকার!আহ, অমন বেদনা সত্যিই কতদিন সাধ করে পাইনি আমি! কোনোদিন আদৌ পেয়েছি কি? মনে নেই, হয়তো ঈশ্বরই জানেন!
হ্যাঁ আমি ঈশ্বর মানি। ওনার প্রগাঢ়তায় খুঁজে পাই শান্তি। স্তম্ভিত হচ্ছেন? কেন, সমকামিতার সাথে ঈশ্বরবাদের তো কোনো সম্বন্ধ নেই? যখন কোনো পুরুষ কোনো নারীকে ভালোবাসে, তখন তো কেউ জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়না, “তুমি ঈশ্বর মানো?” তবে আমার সঙ্গী নির্ধারণের সঙ্গে কেন এমন জটিল ভাবে জড়িয়ে পেঁচিয়ে যায় এতসব অহেতুক কৌতূহল?
এসবে অবশ্য আজকাল আর আমি অবাক হই না। আমি তো এমন প্রশ্নও শুনেছি, “আচ্ছা, তোমায় দেখতে তো ঠিকঠাকই লাগে, তবে কেন পুরুষ পছন্দ তোমার?” বা “তুমি পৌরুষে আগ্রহী কেন— তোমার কি পুরুষত্বের অভাব?” হাঃ, পুরুষত্ব! ছোটবেলা থেকেই আমি সর্বাঙ্গ সচেতন এক পুরুষের মননই নিজের শরীরে বসত করিয়েছি। নারীর মধ্যে তবু মুক্তির আস্বাদ পাইনি। হ্যাঁ, তারা নিঃসন্দেহে আমার বন্ধু,বোন, জননী— তবে প্রেয়সী— নাঃ, সেরকম কোনো সংযোগ তাদের সাথে আমার ঘটেনি।এটিও কিন্তু সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এক প্রক্রিয়াই! হয়তো আমিই সযত্নে এড়িয়ে গেছি তাদের প্রস্তাব, কখনও বিনম্র ভাবে, কখনও রূঢ়তার মোড়কে। তাদের কারও জন্য কিন্তু তেমন কোনও খেদও নেই আমার। একমাত্র শীল্পার সঙ্গে যেটা ঘটেছিল, সেটা ছিল পুরোপুরি অনভিপ্রেত।
শীল্পা আমার নার্সারীর বান্ধবী। একসাথে পাড়ায় স্কুলে সবজায়গায় খেলাধূলা করেছি,পড়াশোনাতেও একে অপরের সাহায্য নিয়েছি নির্দ্বিধায়। আমাদের দুই পরিবারের মধ্যেও ছিল চূড়ান্ত সখ্যতা। যার ফলে প্রতিটা অনুষ্ঠান উৎসবে একে অপরের সাথে ঘষাঘষি করেই আমাদের বেড়ে ওঠা।
যখন আমার বছর পনেরো বয়স, তখন থেকেই আমি আমার মননের চাহিদাগুলি একটু একটু করে আবিষ্কার করতে শুরু করি। বুঝতে পারি, আর পাঁচজন আমার সমবয়স্ক মানুষের সঙ্গে আমার তফাৎ। ভাবুন তো, অত কম বয়স তখন আমার!নানা, বিশ্বাস করুন, কোনো অজুহাত দিচ্ছি না। তবে সত্যিই বড় বিচলিত হয়ে পড়ি নিজের এই পরে উপলব্ধি করা স্বাভাবিক সব প্রতিক্রিয়ায়। মনে হতে থাকে, আমি ‘অসুস্থ’ সমাজের এই কঠোর নিয়মাবলীর ফাঁদে পরে। আর তাই প্রাণপণে নিজেকে ‘স্বাভাবিক’ প্রমাণ করতে আমি শিল্পার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ি। এক সপ্তাহের মধ্যেই যদিও বুঝে যাই, এ সিদ্ধান্ত অনৈতিক!
মনে আছে, শিল্পা অসম্ভব সুন্দরী ছিল তখন থেকেই। স্কুলের তাবর তাবর ছেলেরা ওর জন্য ছিল উন্মাদ। কিন্তু, আগেই লক্ষ্য করেছিলাম, ও কোনোদিন কাউকে প্রশ্রয় দিত না। ‘কেন’ জিজ্ঞাসা করলে আরক্ত মুখে মাথা নামিয়ে নিত। ওই এক সপ্তাহব্যাপী নৈকট্যের সময় বুঝলাম, ছোটবেলা থেকেই ও আসলে বোধহয় আমার প্রতিই আসক্ত। সেইটা যদিও বা কথা বলে মিটমাট করে নেওয়া যেত, গোল বাঁধল অন্য জায়গায়। শিল্পা আবেগোচ্ছ্বাস সামলাতে না পেরে তার বাড়িতে জানিয়ে দিল সব কথা। আর সে রাতেই আমার মা আমার ঘরে এসে মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদসূচক ভঙ্গি করে বলল, “আমরা জানতাম, তোরা একেবারে হর পার্বতী জুটি! ছোট থেকেই তাই আমাদের দু’পক্ষের সব ঠিক করা। শুধু তোদের উপর জোর করতে চাইনি কিছু। এবার যখন তোরাই —”
বিশ্বাস করুন, আর ঠিক কি কি বলেছিল মা, তা আজ আর আমার মনে নেই। শুধু মনে হয়েছিল, জোর না করলেও আমি কিন্তু সেই বাঁধা পরে গেলাম! অন্য অস্তিত্বের ফাঁদে, অন্য সম্পর্কের দোটানায়।
বেশ কিছুদিন ভয় কোনো কথা বলতে পারিনি কাউকে। এমনকি এড়িয়ে গেছি শিল্পাকেও নানান বাহানায়। বুঝতে পেরেছি, মেয়েটা ভেঙে পরছে পুরো আমার এমন নিরাসক্ত আচরণে, কিন্তু আমার দিকটাও ভাবুন, কোনো উপায় কি আর ছিল আমার তখন?
শেষে মাধ্যমিকের পরের তিনমাসের ছুটিতে যখন দুই পরিবার একসাথে দার্জিলিং যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল আমাদের নতুন সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেওয়ার অবকাশে, আমি আর থাকতে পারলাম না।
মনে আছে, সবে তখন টাইগার হিলে সুর্যোদয় হচ্ছে। কনকনে ঠাণ্ডা চারদিক। সামনে অকৃত্রিম সৌন্দর্যের পীঠস্থান কাঞ্চনজঙ্ঘা। শিল্পা প্রথমবার সাহসে ভর দিয়ে আমার কানে- কানে বলেছিল সেই আদিম ভালবাসাবাসির মন্ত্র। প্রত্তুত্তরে আমি অস্ফুটে শুধু বলেছিলাম, “শিল্পা, আমি সমকামী।”
ভেবেছিলাম এরপর ঝড় নামবে আচম্বিতে। জীবনের সব খড়কুটো ভেসে যাবে সেই অকাল প্লাবনে। ছিন্ন হবে অনেক কাছের সম্পর্কই। তবু, তেমন কিছুই হল না। নির্বিঘ্নে চারটে দিন কেটে যাওয়ার পর আমরা কলকাতায় ফিরলাম। আর তারপরেই আমাদের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে ওরা হঠাৎই রাতারাতি স্কুল, পাড়া সব বদল করে ফেলল কারও কিছু জেনে যাওয়ার আগেই।
মা বাবা আজও ওকেই দোষ দেয়। ভাবে, এই যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই বুঝি আমি পঁয়ত্রিশ বছর বয়সেও অবিবাহিত। আমি তাঁদের ভুল ভাঙাতে পারতাম। হয়তো শিল্পার প্রতি করা আমার অবিচারের কিছুটা পরিশোধ হতো তাতে। তবু দুটি ভিন্ন সময়ের এবং যুগের মানুষকে আমার সত্য বোঝানোর মতো কোনো সঠিক পরিস্থিতি আমি খুঁজে উঠতে পারিনি আজও — কিছুটা ওঁদের শরীর স্বাস্থ্য বয়স চিন্তা করে, বাকিটা একান্তই সেই সমাজের জোড়াতাপ্পি দেওয়া ঠিকভুলের অন্তর্দ্বন্দ্বে। আর, কিই বা হতো বলে অশান্তি ছাড়া? মনের মতোন মানুষও আর কই পেলাম এই জীবনে যার জন্য লড়াই করে মেলে ভালোবাসার আস্বাদ?
আজকের ঘটনা অবশ্য ব্যতিক্রম। অনেককেই হয়তো আগে মনে ধরেছে আমার, তবুও এই ভাওলিনবাদকের মতো ঝিমঝিমে মাদকতা এর আগে আমি কারও মধ্যে পাইনি। ওর ওই করুণ সুরের মূর্চ্ছনার যে অভিব্যক্তি, তার সামনে এই প্রথম মনে হচ্ছে,“সমাজ সংসারও মিছে সব!” সত্যিই, অর্ধেকটা জীবন এভাবে কাটিয়ে দিলাম একাকিত্বে, হয়তো ঠিক এই মুহূর্তটির আশায়, এই রোজকার জীবনের খানিকটা হলেও ছন্দপতনের অপেক্ষায়!
“রবিন, তুই এখানে?” চমকে উঠলাম এই ডাকে। ‘রবীন্দ্রনাথ সেন’কে ছোট করে অনেকেই রবি বলে ডাকে একমাত্র একজন ছাড়া। শিল্পা! ঘাড় ঘুরিয়ে বুঝলাম, চমকের আরও বাকি রয়েছে এখনও!
আগেই বলেছি, শিল্পা সেই স্কুল জীবন থেকেই অসামান্য সুন্দরী। তার উপর ওর এখনকার ব্যক্তিত্ব ওর সেই সৌন্দর্যের পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে যেন বহুমাত্রায়। জমকালো কালো শিফনের শাড়ি আর হিরের ছোট্ট পেণ্ডেণ্টেই ও অনায়াসে টেক্কা দিতে পারে যেকোনো বিশ্বসুন্দরীকে। এই প্রথম ওকে দেখে যেন কথা সরলনা আমার ঠোঁটে!
“কিরে চিনতে পারছিসনা, নাকি মাঝ বয়সে এসে নিজের টেস্ট চেঞ্জ করে ফেলেছিস তুই?”
ধপ করে আমার পাশে বসে ওয়াইনের গ্লাসটা এক চুমুকে শেষ করল শিল্পা।
ওর কথাটা কানে কিরকম যেন বাজল। সেই নরম ভীরু মেয়েটার মুখে এমন সংলাপও বসবে কোনোদিন, এতটা দুরাশা বোধহয় কোনোদিন করিনি আসলে।
“না, মানে তুই এখানে?”
শিল্পা হাসল। “আমি এখানে।এখানেই তো আসার কথা ছিল আমার, বন্ধু! হাঃ হাঃ! তবে মানতেই হবে, এর পিছনে তোর কিন্তু বিশাল বড় অবদান রয়েছে! তুই যদি ওই ভোরবেলা কথাকটা না বলতিস, আজ হয়তো আমার জীবনটা সম্পূর্ণ অন্যরকম হত! আবার, হতোও কি আদৌ? কে জানে?”
আমি সোজা হয়ে বসি। কি বলছে মেয়েটা? কি হেঁয়ালি করছে ও? এতদিন পরে কি ওর কাছে আমার ক্ষমা চাওয়া উচিত?
“শিল্পা, বিশ্বাস কর, আমি কিন্তু সত্যিই তোকে কখনও দুঃখ দিতে চাইনি—”
হাত তুলে থামিয়ে দেয় ও আমায়, “আরে ধুর, দুঃখ কে পেয়েছে?আমায় দেখে মনে হচ্ছে আমি দুঃখী? তুই সমকামী, সেটা স্বীকার করার ক্ষমতা রাখিস তুই, এটাই তো অনেক বড়! বিশ্বাস কর, সবাই তোর মতো হতে পারেনা! সারাজীবন মুখোশের আড়ালে শুধু কেঁদে বেড়ায়।তবু জাল ছিঁড়ে বেরোতে পারে না। ওই যে দেখ, ওর মতো!”
আঙুল তুলে যার দিকে ইশারা করল ও, তাকে দেখে শিহরণ খেলে গেল আমার শরীরে।এ তো সেই ভাওলিন বাদক!
শিল্পা তখনও বলে চলেছে, “মা বাবা দেখে শুনে বিয়ে দিল জানিস! আমিও আপত্তি করিনি। শ্রীমনকে পছন্দ করেছিলাম কিনা জানিনা, তবে না বলার কোনো কারণ ছিল কি, বল? কোর্টশিপ চলাকালীন অবশ্য ও আমায় সব বলে দেয়। তোর মতোই আর কি, শেষ মুহূর্তে। তবু এবার আর আমরা কেউ ছেড়ে যেতে পারলাম না একে অপরকে জানিস শুধুমাত্র লোক লৌকিকতার ভয়ে। আমার কি ভাগ্য দেখেছিস তো!”
আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে রয়েছি সোফায়। কি বলা বা করা উচিত এমন পরিস্থিতিতে বুঝে উঠতে পারছিনা। অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে ইতিমধ্যে। শ্রীমন সবার অভিবাদন কুড়োনোয় ব্যস্ত।
হঠাৎই শিল্পার দিকে চোখ পরতে বুঝলাম আমি ধরা পরে গেছি। ও হাসছে খিলখিল করে। “কি, পছন্দ ওকে?এই, একদম মিথ্যা বলবিনা কিন্তু আজ। ” আমি টের পেলাম আমার কানদুটো গরম হয়ে উঠেছে অকষ্মাৎ।
আমার কাঁধে হাত রাখল শিল্পা। “বুঝিরে। আজ আমি সব বুঝি। ভাগ্যিস বিয়েটা হয়েছিল এই ‘এল জি বি টি’ পার্টিগুলোয় আসার অবকাশ মিলল তাই তারপর। নাহলে আমিও বা কি কখনও টের পেতাম আমার মধ্যে লুকিয়ে থাকা মেয়েটাও আসলে ‘সম’বিলাসিনী! নানা,আর না। যা রবিন, যা।এবার আর আটকাস না নিজেকে। শ্রীমন এখনও খুব একা জানিস তো, ওর তোকে প্রয়োজন!অনেক তো হল লোক দেখানি, এবারে অন্তত একবার তো বাঁচ তোরা! আমি তো তবু অণুরিমাকে পেয়েছি, দাঁড়া, আলাপ করিয়ে দিই, এই অণু, এদিকে একটু এসো না—”
আমি আবার কানে শুনতে পাচ্ছিনা যে কেন তারপর আর ঠিক কি কি বলল শিল্পা, কে জানে?
@পারিজাত
3.সমকামী (অনু গল্প)
---পালী সরকার ঘোষ
একটা সময়ের পর সব চিন্তা ভাবনা গুলো কেমন জট পাকিয়ে যায় সাত্যকীর মনে । বাড়িতে রোজ বিয়ের চাপ আর ভালো লাগেনা
বাবা মা কে ঠিক বলতেও পারেনা যে ও কোনো মেয়ের জীবন নস্ট করতে পারবেনা । আসলে কলেজ থেকেই একজন কে সাত্যকী ভালোবাসে আর সেও সাত্যকী কে । ভালোবাসার ফল্গুধারায় দুজনে ভেসে গেলেও মধ্যবিত্ত সমাজ ওদের হয়তো এখনো মেনে নিতে পারবেনা কারন দুজনেই ছেলে আর সমকামী ভালোবাসা আইনত স্বীকৃতি পেলেও সমাজ এখনো কিছুটা একঘরে করেই রাখে।
---পালী সরকার ঘোষ
একটা সময়ের পর সব চিন্তা ভাবনা গুলো কেমন জট পাকিয়ে যায় সাত্যকীর মনে । বাড়িতে রোজ বিয়ের চাপ আর ভালো লাগেনা
বাবা মা কে ঠিক বলতেও পারেনা যে ও কোনো মেয়ের জীবন নস্ট করতে পারবেনা । আসলে কলেজ থেকেই একজন কে সাত্যকী ভালোবাসে আর সেও সাত্যকী কে । ভালোবাসার ফল্গুধারায় দুজনে ভেসে গেলেও মধ্যবিত্ত সমাজ ওদের হয়তো এখনো মেনে নিতে পারবেনা কারন দুজনেই ছেলে আর সমকামী ভালোবাসা আইনত স্বীকৃতি পেলেও সমাজ এখনো কিছুটা একঘরে করেই রাখে।
4. একটা মৃত্যুর তদন্ত
---নির্মলেন্দু কুণ্ডু
গাড়ি থেকে নামতে নামতে ইন্সপেক্টর রায় হাইরাইজিং সাত্যকি আবাসনের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলেন—
"এই হয়েছে এক ঝামেলা,বড়লোক বাপের ছেলে সব,নিশ্চয় দামি কিছু চেয়েছিল,না পেয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে৷এখন ওপরতলার চাপ,বাপ-মায়ের কান্নাকাটি সব সহ্য করতে হবে আমাদের৷দুত্তোর!"
অবশ্য তাঁকে দোষও দেওয়া যায় না৷বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এরকম তদন্ত করতে হয় ওঁকে৷তাই মাঝে মাঝে বিরক্তই হন কিশোরদের এরকম বেপরোয়া আচরণে৷ফ্ল্যাটে ঢুকতেই চাপা কান্নার শব্দ শুনতে পেলেন ইন্সপেক্টর রায়৷ওঁকে দেখে এগিয়ে এলেন এক মাঝবয়সী,পাঁচ আঙুলে পাঁচ রকম আংটি পরা,জুয়েলারীর ব্যবসায়ী হীরক সেন৷
—"আসুন ইন্সপেক্টর,আমি হীরক সেন,স্বর্ণাভর বাবা৷"
—"হুম,কখন দেখলেন বডি,আই মিন ছেলেকে এই অবস্থায়?"
—"আমি আর আমার মিসেস একটা নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গেছিলাম৷ছেলে যায়নি,ওর নাকি শরীর খারাপ৷এসে দেখি এই অবস্থা৷"
—"হুম,এর মধ্যে কী ও আপনার কাছে কিছু আব্দার করেছিল,যা আপনি দেননি,বা পরে দেবেন বলেছিলেন?"
—"আপনার ইঙ্গিতটা আমি বুঝতে পেরেছি ইন্সপেক্টর৷দেখুন,আমাদের একটাই ছেলে,ওর কোন অভাব আমরা রাখিনি৷ছোট থেকেই ও চুপচাপ৷বাইরে খেলতে যেত না৷ওর এক বন্ধু আসতো বাড়িতে,এখানেই খেলাধূলা করতো৷যা চেয়েছে,দিয়েছি৷আফটার অল,আমাদের বংশকে ও-ই এগিয়ে নিয়ে যাবে৷মোহিনীমোহন সেনের নাম নিশ্চয় শুনেছেন,আমরা ওঁরই বংশধর৷সুতরাং পারিবারিক মর্যাদা...
—"আচ্ছা,আচ্ছা,বুঝেছি...আচ্ছা,ওর কোন বিশেষ বন্ধু,মানে.."
—"গার্লফ্রেন্ড!নাঃ,ঐ যে বললাম তেমন বাইরে বেরোনো পছন্দ করতো না৷স্কুল যেত আর চলে আসতো,কখনো ওর নামে কোন কমপ্লেন আসেনি৷টিউশন বাড়িতেই দিয়েছিলাম,সুতরাং সে নিয়ে টেনলন ছিল না৷এ বছরই টার্ম শেষ হল৷ভেবেছিলাম এবার ছেলেকে অ্যাব্রোডে পাঠাবো,কিন্তু..."
—"হুম৷আচ্ছা ঠিক আছে৷বডি তো ফরেন্সিকে চলেই গেছে৷আমরা তদন্তের স্বার্থে আপনাদের আবার ইন্টারোগেট করতে পারি৷"
—"আচ্ছা৷"
********************************
কেবিনে বসে বসে কেসটাকে সাজাচ্ছিলেন ইন্সপেক্টর রায়৷চেনা সূত্র মিলছে না৷ওর কিছু বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে কথা বলেও বিশেষ কিছু মেলেনি৷একটাই কথা খুব চুপচাপ থাকতো,মেয়েদের সঙ্গে মিশতো না৷তবে ওর টিউশন টিচারের কথা বলতো মাঝে মাঝে৷শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের সম্ভ্রম স্বাভাবিক৷তবে কী এমন ঘটলো যে ছেলেটা আত্মহত্যা করলো!কী একটা ভেবে হীরকবাবুকে ফোন করলেন ইন্সপেক্টর রায়৷
—"একটা জিনিস জানতে ফোন করলাম৷আপনার ছেলেকে যেসব টিউশন টিচার পড়াতেন,তাঁদের মধ্যে কাউকে কী ও বেশি পছন্দ করতো?"
—"হ্যাঁ,মনোজ৷সাহিত্যের ছাত্র ছিল৷ছোট থেকেই ওকে পড়াতো৷এমনকি মাধ্যমিকের পর উচ্চ মাধ্যমিকে আর্টস নেওয়াটাও ওর ইনফ্লুয়েন্সে হয়েছিল৷তবে ইদানীং ওর আচরণ ভালো লাগছিল না৷পড়ানোর সময় বেশিরভাগ সময় ফিসফিস করে কথা বলতো ওরা৷স্বর্ণাভর মা-ই জানিয়েছে সেসব কথা৷তবে কখনো আড়ি পাতেনি৷ছেলের রেজাল্ট খুব একটা খারাপ আসছিল না যে ওকে ছাড়িয়ে দেব৷তাছাড়াও একবার মনোজ অসুস্থ হওয়ায় যখন পড়াতে আসতে পারেনি,তখন স্কুল থেকে ওর বাড়ি চলে গেছিল স্বর্ণাভ!"
ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ ভাবলেন রায়বাবু৷
—"হুঁ..মনোজের পরিবার.."
—"ও একাই থাকে শরৎপল্লীতে৷বাবা-মা মারা গেছেন৷বিয়ে-থাও করেনি৷"
—"ঠিক আছে,আজ আসি৷"
********************************
পরদিনই মনোজের বাড়িতে গেলেন
ইন্সপেক্টর রায়৷দেখলেন কেমন যেন মুষড়ে পড়েছে বছর বত্রিশের মনোজ৷উস্কোখুস্কো চুল,না কামানো দাড়ি,গর্তে ঢুকে যাওয়া চোখ,চোখের তলায় কালি—সব মিলিয়ে যেন একটা ঝড় বয়ে গেছে ওর ওপর দিয়ে৷
—"আমি আসলে স্বর্ণাভর.."
—"জানি স্যার৷ওর মৃত্যুটা আমিও মেনে নিতে পারছি না৷এত সুন্দর একটা ছেলে৷তার থেকেও সুন্দর মন৷কি সুন্দর কবিতা লিখতো!"
—"কবিতা,কই ওর বাবা-মা তো কেউ..."
—"ওদের অত সময় কোথায় ওকে দেখার৷ও বেশিরভাগ গল্প আমার সাথে করতো৷আমিও খুব পছন্দ করতাম ওকে৷একটা নির্ভরতা তৈরী হয়েছিল আমাদের মধ্যে৷একটা ভালোবাসার সম্পর্ক..."
—"হ্যাঁ,সেটাই তো স্বাভাবিক৷ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে.."
—"না স্যার,শুধু ছাত্র-শিক্ষক নয়,একটা নিবিড় বন্ধুত্ব তৈরী হয়েছিল৷অথচ ওর পরীক্ষা শেষ হলেই যে আমাকেও ছুটি নিতে হবে,সেটা জানতাম৷মনে মনে প্রিপেয়ারও হচ্ছিলাম৷ওকেও বলেছিলাম৷ও বলেছিল,এতদিনকার অভ্যেস ও ছাড়তে পারবে না৷কিন্তু তাই বলে যে ও এরকম করবে..."
—"অভ্যেস,মানে?"
—"আমরা একে অপরকে ভালোবাসতাম,স্যার!"
—"মানে!!"
—"মানে যা ভাবছেন তাই..."
—"কিন্তু সে কী করে সম্ভব?মানে.."
—"কেন স্যার,এ কী পাপ?ভুল?দুজন মানুষ পরস্পরকে ভালোবাসতে পারে না?হোক না তারা সমলিঙ্গের,তবুও..."
—"কিন্তু সমাজ.."
—"সমাজের কথা কী বলবো স্যার,ওরা তো অনেককিছুই মানতে পারে না৷যাই ওদের বাঁধা নিয়মের বাইরে গেছে,তাকেই ওরা দুচ্ছাই করেছে৷মুখে বড় বড় কথা বললে বা আইন করলেই হয়না স্যার,পরিবেশ তৈরী করতে হয়,একটা বোঝাপড়া...আমার তো সব শেষ হয়ে গেল..সব.."
*******************************
কোন কথা না বলে চুপচাপ বেরিয়ে এসছিলেন ইন্সপেক্টর রায়৷ওঁর কান-মাথা ভোঁ ভোঁ করছে৷অনেক কেস দেখেছেন৷কিন্তু এরকম আগে দেখেননি৷অনেক শুনেছেন বটে,সিনেমা-পত্রিকাতেও পড়েছেন,বরাবর ওদের সৃষ্টিছাড়াই ভেবে এসেছেন৷অথচ আজ কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে চেনা হিসেব৷কেমন যেন ভালোবাসার ওপর বিশ্বাস জন্মাচ্ছে,আবার...
*******************************
দু'দিন পরই ইন্সপেক্টর রায় খবর পেলেন শরৎপল্লীতে পাওয়া গেছে গৃহশিক্ষক মনোজ মিস্ত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ৷
*******************************
নির্মলেন্দু কুণ্ডু
বহরমপুর,মুর্শিদাবাদ
---নির্মলেন্দু কুণ্ডু
গাড়ি থেকে নামতে নামতে ইন্সপেক্টর রায় হাইরাইজিং সাত্যকি আবাসনের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলেন—
"এই হয়েছে এক ঝামেলা,বড়লোক বাপের ছেলে সব,নিশ্চয় দামি কিছু চেয়েছিল,না পেয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে৷এখন ওপরতলার চাপ,বাপ-মায়ের কান্নাকাটি সব সহ্য করতে হবে আমাদের৷দুত্তোর!"
অবশ্য তাঁকে দোষও দেওয়া যায় না৷বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এরকম তদন্ত করতে হয় ওঁকে৷তাই মাঝে মাঝে বিরক্তই হন কিশোরদের এরকম বেপরোয়া আচরণে৷ফ্ল্যাটে ঢুকতেই চাপা কান্নার শব্দ শুনতে পেলেন ইন্সপেক্টর রায়৷ওঁকে দেখে এগিয়ে এলেন এক মাঝবয়সী,পাঁচ আঙুলে পাঁচ রকম আংটি পরা,জুয়েলারীর ব্যবসায়ী হীরক সেন৷
—"আসুন ইন্সপেক্টর,আমি হীরক সেন,স্বর্ণাভর বাবা৷"
—"হুম,কখন দেখলেন বডি,আই মিন ছেলেকে এই অবস্থায়?"
—"আমি আর আমার মিসেস একটা নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গেছিলাম৷ছেলে যায়নি,ওর নাকি শরীর খারাপ৷এসে দেখি এই অবস্থা৷"
—"হুম,এর মধ্যে কী ও আপনার কাছে কিছু আব্দার করেছিল,যা আপনি দেননি,বা পরে দেবেন বলেছিলেন?"
—"আপনার ইঙ্গিতটা আমি বুঝতে পেরেছি ইন্সপেক্টর৷দেখুন,আমাদের একটাই ছেলে,ওর কোন অভাব আমরা রাখিনি৷ছোট থেকেই ও চুপচাপ৷বাইরে খেলতে যেত না৷ওর এক বন্ধু আসতো বাড়িতে,এখানেই খেলাধূলা করতো৷যা চেয়েছে,দিয়েছি৷আফটার অল,আমাদের বংশকে ও-ই এগিয়ে নিয়ে যাবে৷মোহিনীমোহন সেনের নাম নিশ্চয় শুনেছেন,আমরা ওঁরই বংশধর৷সুতরাং পারিবারিক মর্যাদা...
—"আচ্ছা,আচ্ছা,বুঝেছি...আচ্ছা,ওর কোন বিশেষ বন্ধু,মানে.."
—"গার্লফ্রেন্ড!নাঃ,ঐ যে বললাম তেমন বাইরে বেরোনো পছন্দ করতো না৷স্কুল যেত আর চলে আসতো,কখনো ওর নামে কোন কমপ্লেন আসেনি৷টিউশন বাড়িতেই দিয়েছিলাম,সুতরাং সে নিয়ে টেনলন ছিল না৷এ বছরই টার্ম শেষ হল৷ভেবেছিলাম এবার ছেলেকে অ্যাব্রোডে পাঠাবো,কিন্তু..."
—"হুম৷আচ্ছা ঠিক আছে৷বডি তো ফরেন্সিকে চলেই গেছে৷আমরা তদন্তের স্বার্থে আপনাদের আবার ইন্টারোগেট করতে পারি৷"
—"আচ্ছা৷"
********************************
কেবিনে বসে বসে কেসটাকে সাজাচ্ছিলেন ইন্সপেক্টর রায়৷চেনা সূত্র মিলছে না৷ওর কিছু বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে কথা বলেও বিশেষ কিছু মেলেনি৷একটাই কথা খুব চুপচাপ থাকতো,মেয়েদের সঙ্গে মিশতো না৷তবে ওর টিউশন টিচারের কথা বলতো মাঝে মাঝে৷শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের সম্ভ্রম স্বাভাবিক৷তবে কী এমন ঘটলো যে ছেলেটা আত্মহত্যা করলো!কী একটা ভেবে হীরকবাবুকে ফোন করলেন ইন্সপেক্টর রায়৷
—"একটা জিনিস জানতে ফোন করলাম৷আপনার ছেলেকে যেসব টিউশন টিচার পড়াতেন,তাঁদের মধ্যে কাউকে কী ও বেশি পছন্দ করতো?"
—"হ্যাঁ,মনোজ৷সাহিত্যের ছাত্র ছিল৷ছোট থেকেই ওকে পড়াতো৷এমনকি মাধ্যমিকের পর উচ্চ মাধ্যমিকে আর্টস নেওয়াটাও ওর ইনফ্লুয়েন্সে হয়েছিল৷তবে ইদানীং ওর আচরণ ভালো লাগছিল না৷পড়ানোর সময় বেশিরভাগ সময় ফিসফিস করে কথা বলতো ওরা৷স্বর্ণাভর মা-ই জানিয়েছে সেসব কথা৷তবে কখনো আড়ি পাতেনি৷ছেলের রেজাল্ট খুব একটা খারাপ আসছিল না যে ওকে ছাড়িয়ে দেব৷তাছাড়াও একবার মনোজ অসুস্থ হওয়ায় যখন পড়াতে আসতে পারেনি,তখন স্কুল থেকে ওর বাড়ি চলে গেছিল স্বর্ণাভ!"
ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ ভাবলেন রায়বাবু৷
—"হুঁ..মনোজের পরিবার.."
—"ও একাই থাকে শরৎপল্লীতে৷বাবা-মা মারা গেছেন৷বিয়ে-থাও করেনি৷"
—"ঠিক আছে,আজ আসি৷"
********************************
পরদিনই মনোজের বাড়িতে গেলেন
ইন্সপেক্টর রায়৷দেখলেন কেমন যেন মুষড়ে পড়েছে বছর বত্রিশের মনোজ৷উস্কোখুস্কো চুল,না কামানো দাড়ি,গর্তে ঢুকে যাওয়া চোখ,চোখের তলায় কালি—সব মিলিয়ে যেন একটা ঝড় বয়ে গেছে ওর ওপর দিয়ে৷
—"আমি আসলে স্বর্ণাভর.."
—"জানি স্যার৷ওর মৃত্যুটা আমিও মেনে নিতে পারছি না৷এত সুন্দর একটা ছেলে৷তার থেকেও সুন্দর মন৷কি সুন্দর কবিতা লিখতো!"
—"কবিতা,কই ওর বাবা-মা তো কেউ..."
—"ওদের অত সময় কোথায় ওকে দেখার৷ও বেশিরভাগ গল্প আমার সাথে করতো৷আমিও খুব পছন্দ করতাম ওকে৷একটা নির্ভরতা তৈরী হয়েছিল আমাদের মধ্যে৷একটা ভালোবাসার সম্পর্ক..."
—"হ্যাঁ,সেটাই তো স্বাভাবিক৷ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে.."
—"না স্যার,শুধু ছাত্র-শিক্ষক নয়,একটা নিবিড় বন্ধুত্ব তৈরী হয়েছিল৷অথচ ওর পরীক্ষা শেষ হলেই যে আমাকেও ছুটি নিতে হবে,সেটা জানতাম৷মনে মনে প্রিপেয়ারও হচ্ছিলাম৷ওকেও বলেছিলাম৷ও বলেছিল,এতদিনকার অভ্যেস ও ছাড়তে পারবে না৷কিন্তু তাই বলে যে ও এরকম করবে..."
—"অভ্যেস,মানে?"
—"আমরা একে অপরকে ভালোবাসতাম,স্যার!"
—"মানে!!"
—"মানে যা ভাবছেন তাই..."
—"কিন্তু সে কী করে সম্ভব?মানে.."
—"কেন স্যার,এ কী পাপ?ভুল?দুজন মানুষ পরস্পরকে ভালোবাসতে পারে না?হোক না তারা সমলিঙ্গের,তবুও..."
—"কিন্তু সমাজ.."
—"সমাজের কথা কী বলবো স্যার,ওরা তো অনেককিছুই মানতে পারে না৷যাই ওদের বাঁধা নিয়মের বাইরে গেছে,তাকেই ওরা দুচ্ছাই করেছে৷মুখে বড় বড় কথা বললে বা আইন করলেই হয়না স্যার,পরিবেশ তৈরী করতে হয়,একটা বোঝাপড়া...আমার তো সব শেষ হয়ে গেল..সব.."
*******************************
কোন কথা না বলে চুপচাপ বেরিয়ে এসছিলেন ইন্সপেক্টর রায়৷ওঁর কান-মাথা ভোঁ ভোঁ করছে৷অনেক কেস দেখেছেন৷কিন্তু এরকম আগে দেখেননি৷অনেক শুনেছেন বটে,সিনেমা-পত্রিকাতেও পড়েছেন,বরাবর ওদের সৃষ্টিছাড়াই ভেবে এসেছেন৷অথচ আজ কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে চেনা হিসেব৷কেমন যেন ভালোবাসার ওপর বিশ্বাস জন্মাচ্ছে,আবার...
*******************************
দু'দিন পরই ইন্সপেক্টর রায় খবর পেলেন শরৎপল্লীতে পাওয়া গেছে গৃহশিক্ষক মনোজ মিস্ত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ৷
*******************************
নির্মলেন্দু কুণ্ডু
বহরমপুর,মুর্শিদাবাদ
সূচিপত্র
কবিতা কবি
১) বোধ অভিজিৎ দাস কর্মকার
২) সমপ্রেমী-তার কথা কৌশিক মুখার্জী
৩) ইচ্ছে তুষারকান্তি দত্ত
৪) পচা মানুষ, নোংরা কবি অভিষেক মিত্র
৫) শরীরের ঘ্রাণ প্রসেনজিৎ মুখোপাধ্যায়
৬) বেনিয়ম প্রেমজ মৌমিতা পাল
৭) সমকামী দিব্যেন্দু গনাই
৮) তুমি আছো তো সুপ্রীতি বর্মন
৯) কামের কাম্যতা পূজা ব্যানার্জি
🙏💐🙏
_________o__________
কবিতা কবি
১) বোধ অভিজিৎ দাস কর্মকার
২) সমপ্রেমী-তার কথা কৌশিক মুখার্জী
৩) ইচ্ছে তুষারকান্তি দত্ত
৪) পচা মানুষ, নোংরা কবি অভিষেক মিত্র
৫) শরীরের ঘ্রাণ প্রসেনজিৎ মুখোপাধ্যায়
৬) বেনিয়ম প্রেমজ মৌমিতা পাল
৭) সমকামী দিব্যেন্দু গনাই
৮) তুমি আছো তো সুপ্রীতি বর্মন
৯) কামের কাম্যতা পূজা ব্যানার্জি
🙏💐🙏
_________o__________
১) বোধ::
----অভিজিৎ দাসকর্মকার
অনেক পাপ আছে
কোনোটাই মিথ্যে নয়।
একটু অন্ধকারেই
ভালোবাসার জন্ম হয়।
অপেক্ষায় অস্থিরতা জেগে
কথা আসে ঘুমিয়েথাকো।
আনন্দ মৃত্যুর সময় গুনে ছুটি
জীবন শুয়ে আছে অন্ধকারে ।
জেগে থাকে রাস্তার দুপাশে ঘাস,
কান্না পায় পথ পিছলে।
এই শহরে তরুনের রাতে মনে পড়ে
ভোরের আগে যেতে হবে ঠিকানায়।
--------------
----অভিজিৎ দাসকর্মকার
অনেক পাপ আছে
কোনোটাই মিথ্যে নয়।
একটু অন্ধকারেই
ভালোবাসার জন্ম হয়।
অপেক্ষায় অস্থিরতা জেগে
কথা আসে ঘুমিয়েথাকো।
আনন্দ মৃত্যুর সময় গুনে ছুটি
জীবন শুয়ে আছে অন্ধকারে ।
জেগে থাকে রাস্তার দুপাশে ঘাস,
কান্না পায় পথ পিছলে।
এই শহরে তরুনের রাতে মনে পড়ে
ভোরের আগে যেতে হবে ঠিকানায়।
--------------
২)সমপ্রেমী-তা-র কথা
----কৌশিক মুখার্জী
জিনস পরা আমি ছেরে দিতে পারি-
পাছে তুমি বল, অন্য নাড়ী,-
ছোটো চুল, সাদা মাটা ভাব-
পুরুষালি হৃদয়, নারীত্বের আভাব।
সবকিছু।।
আমার মুখের উপর জমে থাকা আলকাতরা-
আমি ছড়াতে দেবনা, এ কলঙ্করা-
সুধু আমার,
এরা আমার মনে প্রাণে লালিত পালিত হোক,
বৃষ্টি কে খুব ভাল লাগে,-
আমিও বৃষ্টির খুব পছন্দের,
কিন্তু বাদল বলে ওই ছেলেটির-
ঘন ধোঁয়াশা আমাকে অন্ধ হতে বাধ্য করেছে,
ভয় হয়, সে যদি বর্ষা হয়ে নেমে আসে,-
অকাল বর্ষণে সে যদি বানভাসি করে ছারে-
আমার একান্ত স্বজনদের কে।
আবার মনে হয়-
নিজেকে মেলে দেব সে বানের জলে,
বইতে বইতে, ভিজতে ভিজতে-
যখন মুখে জমানো কালিমারা ধুয়ে মুছে সাফ-
তখন এ প্রকৃতি দেখবে আমার নব রূপ।
মুগ্ধ এ রূপে আকাশ, বাতাস, নক্ষত্র, এ আকাশগঙ্গা-
করবে বরণের আয়োজন।
আমি তখন-?
সৌররসে দীপ্ত জল-বাষ্পের সাথে মিলিয়ে যাব-
দূর আকাশে, ভাললাগার বৃষ্টির কাছে।।
---------------
----কৌশিক মুখার্জী
জিনস পরা আমি ছেরে দিতে পারি-
পাছে তুমি বল, অন্য নাড়ী,-
ছোটো চুল, সাদা মাটা ভাব-
পুরুষালি হৃদয়, নারীত্বের আভাব।
সবকিছু।।
আমার মুখের উপর জমে থাকা আলকাতরা-
আমি ছড়াতে দেবনা, এ কলঙ্করা-
সুধু আমার,
এরা আমার মনে প্রাণে লালিত পালিত হোক,
বৃষ্টি কে খুব ভাল লাগে,-
আমিও বৃষ্টির খুব পছন্দের,
কিন্তু বাদল বলে ওই ছেলেটির-
ঘন ধোঁয়াশা আমাকে অন্ধ হতে বাধ্য করেছে,
ভয় হয়, সে যদি বর্ষা হয়ে নেমে আসে,-
অকাল বর্ষণে সে যদি বানভাসি করে ছারে-
আমার একান্ত স্বজনদের কে।
আবার মনে হয়-
নিজেকে মেলে দেব সে বানের জলে,
বইতে বইতে, ভিজতে ভিজতে-
যখন মুখে জমানো কালিমারা ধুয়ে মুছে সাফ-
তখন এ প্রকৃতি দেখবে আমার নব রূপ।
মুগ্ধ এ রূপে আকাশ, বাতাস, নক্ষত্র, এ আকাশগঙ্গা-
করবে বরণের আয়োজন।
আমি তখন-?
সৌররসে দীপ্ত জল-বাষ্পের সাথে মিলিয়ে যাব-
দূর আকাশে, ভাললাগার বৃষ্টির কাছে।।
---------------
৩) ইচ্ছে
-----তুষার কান্তি দত্ত
___________________
তোমার শুধু শরীর বোঝো
শরীর... শরীর... যৌন অঙ্গ
ভালবাসাই ঠিক করে দিক
কে চাইবে কার সঙ্গ
ছুঁয়ে থাকুক দশ আঙুলে
নিখিল বিশ্ব পঞ্চভূতে
ভালবাসার ছুতমার্গ
এখনো করিস সহবাসে?
গোঁসাই ঠাকুর, মোল্লা মশাই
প্রতিদিনই করছে জবাই
হাকিম হুকুম, দিচ্ছ বিধান
সমকামিদের মৃত্যু নিদান
শরীর মনের গহীন গোপন
বাঁচবো বলে শেষ আশ্রয়ে
সংগোপনে রেখেছি আজ যত্ন করে
আমার ছায়া, প্রতিবিম্ব, স্বেচ্ছা-স্বাধীন প্রশ্রয়ে।
আকাশ - মাটি- জল - বাতাসে
এই আমি আজ দিচ্ছি বলে
আমার শরীর আমার মর্জি
চিত্রাঙ্গদা.... ইচ্ছে হলে।
-----------
৪)পচা মানুষ, নোংরা কবি
-----অভিষেক মিত্র
আজ, আমি বিরক্ত সেই সব নির্লজ্জ লোকেদের উপর
যারা ক্লেম করে ওরা কবি
আর আমরা সব পচে যাওয়া মানুষ।
তারা ঘুরে ফিরে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়
আর জ্ঞান দেয় জীবনের উপর,
আমাদের বোঝায় এটা একটা নষ্ট শহর।
আমি আমার কবিতাগুলো লিখতে চাই নোংরার উপর,
যখনই লোকে নোংরার কথা বলে, আমার মাথায় কবিতা ঘুরপাক খায়,
যখনই লোকে কবিতার কথা বলে, আমার মাথায় ঘোরে পায়খানা।
কি করে একজন এইভাবে বেঁচে থাকবে?
কে বাঁচাবে তাকে?
আমি সত্যিই বিরক্ত ওদের জীবন নিয়ে,
বীতশ্রদ্ধ এই হিপক্রিটিকাল শহরে।
কারুর প্রয়োজন নেই আমাকে বোঝানোর বা শেখানোর,
আমি প্রায় সেই জন্ম থেকেই আস্তে আস্তে পচছি।
----------------
-----অভিষেক মিত্র
আজ, আমি বিরক্ত সেই সব নির্লজ্জ লোকেদের উপর
যারা ক্লেম করে ওরা কবি
আর আমরা সব পচে যাওয়া মানুষ।
তারা ঘুরে ফিরে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়
আর জ্ঞান দেয় জীবনের উপর,
আমাদের বোঝায় এটা একটা নষ্ট শহর।
আমি আমার কবিতাগুলো লিখতে চাই নোংরার উপর,
যখনই লোকে নোংরার কথা বলে, আমার মাথায় কবিতা ঘুরপাক খায়,
যখনই লোকে কবিতার কথা বলে, আমার মাথায় ঘোরে পায়খানা।
কি করে একজন এইভাবে বেঁচে থাকবে?
কে বাঁচাবে তাকে?
আমি সত্যিই বিরক্ত ওদের জীবন নিয়ে,
বীতশ্রদ্ধ এই হিপক্রিটিকাল শহরে।
কারুর প্রয়োজন নেই আমাকে বোঝানোর বা শেখানোর,
আমি প্রায় সেই জন্ম থেকেই আস্তে আস্তে পচছি।
----------------
৫) শরীরের ঘ্রাণ
----- প্রসেনজিৎ মুখোপাধ্যায়
আমি খুব দুঃখ পেলে, পাগলের মতো হাঁকপাঁক করে,
আলমারি খুলে তোমার ফেলে আসা জামাকাপড়ে তোমার গন্ধ খুঁজি;
মনটাকে মানাতে চাই, তুমি এখানেই আছো I
আমাকে পৃথিবী আর নরকের শুন্যতার মধ্যে কোথাও ফেলে রেখে যাওনি তুমি।
মনে হয়, এই এক্ষুনি; এইমাত্র, তুমি স্নানঘর থেকে,
ভেজা গামছা পড়ে, আমাকে জড়িয়ে ধরে বলবে,
কি হল, অনেক বেলা তো হল; অফিস যাবে না তুমি?
মনে হয়, তুমি এইখানে; এইমাত্র, চুপটি করে আমার নিশ্ছিদ্র গহনে শুয়ে আছো তুমি।
মনে হচ্ছে তোমার আশ্বাস, তোমার নিঃশেষিত-বিশেষ আমার শরীরের মধ্যে আসতে আসতে; ভেতরে - খুব ভেতরে ইঞ্জেক্ট হয়ে যাচ্ছে।
আর আমি পাগলের মতো হাঁকপাঁক করে, তোমার শরীরের গন্ধ খুঁজে পাচ্ছি;
আমার এখনো বিশ্বাস হয় না, যে আমি একা হয়ে যাচ্ছি;
আমার এখনো বিশ্বাস হয় না, শ্মশানের পথে, আমি একা হেটে যাচ্ছি।
আমি খুব দুঃখ পেলে, পাগলের মতো তোমার গায়ের গন্ধ খুঁজি, ফেলে আসা গন্ধের মধ্যে, তোমার ফেলে আসা ভালোবাসাগুলিকে খুঁজতে খুঁজতে,
আমি তোমার ফেলে রাখা পুরোনো জামাকাপড়গুলি খুঁজি।
--------------
----- প্রসেনজিৎ মুখোপাধ্যায়
আমি খুব দুঃখ পেলে, পাগলের মতো হাঁকপাঁক করে,
আলমারি খুলে তোমার ফেলে আসা জামাকাপড়ে তোমার গন্ধ খুঁজি;
মনটাকে মানাতে চাই, তুমি এখানেই আছো I
আমাকে পৃথিবী আর নরকের শুন্যতার মধ্যে কোথাও ফেলে রেখে যাওনি তুমি।
মনে হয়, এই এক্ষুনি; এইমাত্র, তুমি স্নানঘর থেকে,
ভেজা গামছা পড়ে, আমাকে জড়িয়ে ধরে বলবে,
কি হল, অনেক বেলা তো হল; অফিস যাবে না তুমি?
মনে হয়, তুমি এইখানে; এইমাত্র, চুপটি করে আমার নিশ্ছিদ্র গহনে শুয়ে আছো তুমি।
মনে হচ্ছে তোমার আশ্বাস, তোমার নিঃশেষিত-বিশেষ আমার শরীরের মধ্যে আসতে আসতে; ভেতরে - খুব ভেতরে ইঞ্জেক্ট হয়ে যাচ্ছে।
আর আমি পাগলের মতো হাঁকপাঁক করে, তোমার শরীরের গন্ধ খুঁজে পাচ্ছি;
আমার এখনো বিশ্বাস হয় না, যে আমি একা হয়ে যাচ্ছি;
আমার এখনো বিশ্বাস হয় না, শ্মশানের পথে, আমি একা হেটে যাচ্ছি।
আমি খুব দুঃখ পেলে, পাগলের মতো তোমার গায়ের গন্ধ খুঁজি, ফেলে আসা গন্ধের মধ্যে, তোমার ফেলে আসা ভালোবাসাগুলিকে খুঁজতে খুঁজতে,
আমি তোমার ফেলে রাখা পুরোনো জামাকাপড়গুলি খুঁজি।
--------------
৬) বেনিয়ম প্রেমজ
----মৌমিতা পাল (নাগপুর)
অনিচ্ছা সত্ত্বেও কাঁধে
ঢাউস ব্যাগটি নিয়ে
সিড়ি বেয়ে উঠেছি
নেমেছি প্রতিদিন...
নির্দিষ্ট ফিতা, নির্দিষ্ট জুতা,
নির্দিষ্ট ঘড়ির কাঁটা
মেপে মেপে চলেছি
অনিচ্ছা সত্ত্বেও...
অবাধ বিচরণে
সমালোচক গন্তব্য
উঁচু নিচু ফাঁদ
চটুল ফিসফাস...
আজ অনেকগুলো
শীত শরৎ পেড়িয়ে
লিফটের দরজায়
অবাধ্য মেয়েটি আবার ...
সুঠাম বুক খোলা শার্টকে
পাশ কাটিয়ে
কোমল দীর্ঘ চুলের
তম্বীর অভিমুখে...
বীজের খোলস ভাঙব
স্তন ও ওষ্ঠসমূহ ছুঁয়ে
ঘোর সংসারী হবো
নিজস্ব তাঁবুর ছত্রছায়ায়..
ওরা বলে বলুক ভ্রষ্টা
নষ্টা, ব্যাধিগ্রস্তা ...
ওরা করুক গিয়ে
ছিছিক্কার ...
-------------
----মৌমিতা পাল (নাগপুর)
অনিচ্ছা সত্ত্বেও কাঁধে
ঢাউস ব্যাগটি নিয়ে
সিড়ি বেয়ে উঠেছি
নেমেছি প্রতিদিন...
নির্দিষ্ট ফিতা, নির্দিষ্ট জুতা,
নির্দিষ্ট ঘড়ির কাঁটা
মেপে মেপে চলেছি
অনিচ্ছা সত্ত্বেও...
অবাধ বিচরণে
সমালোচক গন্তব্য
উঁচু নিচু ফাঁদ
চটুল ফিসফাস...
আজ অনেকগুলো
শীত শরৎ পেড়িয়ে
লিফটের দরজায়
অবাধ্য মেয়েটি আবার ...
সুঠাম বুক খোলা শার্টকে
পাশ কাটিয়ে
কোমল দীর্ঘ চুলের
তম্বীর অভিমুখে...
বীজের খোলস ভাঙব
স্তন ও ওষ্ঠসমূহ ছুঁয়ে
ঘোর সংসারী হবো
নিজস্ব তাঁবুর ছত্রছায়ায়..
ওরা বলে বলুক ভ্রষ্টা
নষ্টা, ব্যাধিগ্রস্তা ...
ওরা করুক গিয়ে
ছিছিক্কার ...
-------------
৭) সমকামী
----দিব্যেন্দু গনাই
মানুষ তুমি নিচ হলে, ভেবেই আজ সন্দিহান,
ঐ নরম হাতে লিখছে সে—"আমি হলাম লেসবিয়ান"!
বাস্তবাদীর বাস্তবতা, এখন বোধহয় গৌনতা,
আড়ালে–আবডালে চলে অপরাধ ও যৌনতা।
উত্তরাধিকার শিক্ষা– "ডারউইনের বিবর্তনে",
বাঁধনভাঙা বন্যা লেখা–উথলে ওঠা হরমোনে।
জ্ঞানপাপী–ধার্মিক সভ্য সমাজের মান?—
কটূভাবে বলছো কেনো?—"ওরে তুই লেসবিয়ান?"
সমকামীর মান্যতা শাসকরূপে যুক্ত ‘কামে’–
ভিন্নতার সন্ধানেতে –শাসন এবং ধর্ষকামে।
নিষেধাজ্ঞার প্রাচীরগুলো দাঁড়িয়ে থাক সজ্ঞানে,
ভবিষ্যত আজ দর্পিত হোক, বর্তমানের দর্পণে।
--------------
----দিব্যেন্দু গনাই
মানুষ তুমি নিচ হলে, ভেবেই আজ সন্দিহান,
ঐ নরম হাতে লিখছে সে—"আমি হলাম লেসবিয়ান"!
বাস্তবাদীর বাস্তবতা, এখন বোধহয় গৌনতা,
আড়ালে–আবডালে চলে অপরাধ ও যৌনতা।
উত্তরাধিকার শিক্ষা– "ডারউইনের বিবর্তনে",
বাঁধনভাঙা বন্যা লেখা–উথলে ওঠা হরমোনে।
জ্ঞানপাপী–ধার্মিক সভ্য সমাজের মান?—
কটূভাবে বলছো কেনো?—"ওরে তুই লেসবিয়ান?"
সমকামীর মান্যতা শাসকরূপে যুক্ত ‘কামে’–
ভিন্নতার সন্ধানেতে –শাসন এবং ধর্ষকামে।
নিষেধাজ্ঞার প্রাচীরগুলো দাঁড়িয়ে থাক সজ্ঞানে,
ভবিষ্যত আজ দর্পিত হোক, বর্তমানের দর্পণে।
--------------
৮)তুমি আছো তো।
----সুপ্রীতি বর্মন।
কঠিন পাথরে লুকায়িত জীবাশ্ম, অবহেলিত সঠিক ঠিকানা, তুমি আছো তো।।টানাপোড়েনের রসা দড়ি সংসার,
মুখে হাসি চোখে জল,
বিচিত্র প্রতিশ্রুতির অঙ্গীকার, তুমি আছো তো।।
জঠরে দমচাপা প্রতীক্ষার ক্ষিধে,
হৃদয়ে অন্ধলোলুপ ব্যগ্র লকলকে জিহ্বা, যথার্থ চরিতার্থতা অজানা প্রাপ্তি,
অস্তিত্ব সন্দিহান, তুমি আছো তো।
কামাতুর রৌদ্রদগ্ধ তৃষ্ণা,
দুগ্ধফেনিল বিষময় জটাজুট অজগর সমুদ্র মন্থন,
ধুন্দুমার স্মৃতির আগাম মধুবনী চিত্রপট,
তুমি আছো তো।
আগমনী প্রত্যুষে সানাই চৌদিক,
কচি পানপাতার আড়ালে নান্দনিক মুখশ্রী। সমর্পনের অস্তিত্ব পূর্নতার আঙ্গিকে নবপত্রিকার প্রবেশ।
সমৃদ্ধির কলস ফেলে আলতা চরন পটপট ছাপ,
মধুমাখা বসন্তে ভ্রমরের নিমন্ত্রন, তুমি আছো তো।
সাজসজ্জার আড়ালে নান্দনিক চিত্রপট, দর্পনের মুখভার অস্তিত্বের শ্রেষ্ঠতম রূপ উন্মোচনে,
অপারগ ক্লান্ত স্বত্তা।
অপরের প্রশংসায় মুখ গুঁজে পরাশ্রয়ী আপন যাচাই বিশ্লেষণ ছেঁড়া অতীত,
কুৎসিত অপারগ উচ্ছিষ্ট স্বত্তা,
দ্বিধাগ্রস্থ সঠিক মূল্যায়নে, তুমি আছো তো।।
গাছের গুঁড়িতে ঠেস,
রৌদ্রদগ্ধ পথিকের আশ্রয়,
চেনা শূন্যতার কোলে ঠাঁই।
কাঠঠোকড়া উচাটন মনে,
স্বপ্ন সন্ধানী কিলবিল প্রান,
গলাধঃকরনে কোটরে জমায় পুরোনো উপাখ্যান।
অন্ধ পরাশ্রয়ী মৃত্যু সহবাস,
অচেনা আশ্রয়, তুমি আছো তো।।
--------------
----সুপ্রীতি বর্মন।
কঠিন পাথরে লুকায়িত জীবাশ্ম, অবহেলিত সঠিক ঠিকানা, তুমি আছো তো।।টানাপোড়েনের রসা দড়ি সংসার,
মুখে হাসি চোখে জল,
বিচিত্র প্রতিশ্রুতির অঙ্গীকার, তুমি আছো তো।।
জঠরে দমচাপা প্রতীক্ষার ক্ষিধে,
হৃদয়ে অন্ধলোলুপ ব্যগ্র লকলকে জিহ্বা, যথার্থ চরিতার্থতা অজানা প্রাপ্তি,
অস্তিত্ব সন্দিহান, তুমি আছো তো।
কামাতুর রৌদ্রদগ্ধ তৃষ্ণা,
দুগ্ধফেনিল বিষময় জটাজুট অজগর সমুদ্র মন্থন,
ধুন্দুমার স্মৃতির আগাম মধুবনী চিত্রপট,
তুমি আছো তো।
আগমনী প্রত্যুষে সানাই চৌদিক,
কচি পানপাতার আড়ালে নান্দনিক মুখশ্রী। সমর্পনের অস্তিত্ব পূর্নতার আঙ্গিকে নবপত্রিকার প্রবেশ।
সমৃদ্ধির কলস ফেলে আলতা চরন পটপট ছাপ,
মধুমাখা বসন্তে ভ্রমরের নিমন্ত্রন, তুমি আছো তো।
সাজসজ্জার আড়ালে নান্দনিক চিত্রপট, দর্পনের মুখভার অস্তিত্বের শ্রেষ্ঠতম রূপ উন্মোচনে,
অপারগ ক্লান্ত স্বত্তা।
অপরের প্রশংসায় মুখ গুঁজে পরাশ্রয়ী আপন যাচাই বিশ্লেষণ ছেঁড়া অতীত,
কুৎসিত অপারগ উচ্ছিষ্ট স্বত্তা,
দ্বিধাগ্রস্থ সঠিক মূল্যায়নে, তুমি আছো তো।।
গাছের গুঁড়িতে ঠেস,
রৌদ্রদগ্ধ পথিকের আশ্রয়,
চেনা শূন্যতার কোলে ঠাঁই।
কাঠঠোকড়া উচাটন মনে,
স্বপ্ন সন্ধানী কিলবিল প্রান,
গলাধঃকরনে কোটরে জমায় পুরোনো উপাখ্যান।
অন্ধ পরাশ্রয়ী মৃত্যু সহবাস,
অচেনা আশ্রয়, তুমি আছো তো।।
--------------
৯) কামের কাম্যতা
-----পূজা ব্যানার্জী
বালিঘড়ির ছোট্টো একটি বালিকনার নীচে কোঠোরে পরার শব্দ মুহুর্ত বদলায়। একে একে সমস্ত বালুকণা বদলের জোটে নাম লেখায়। সাথে সাথে উন্নত প্রাণ বুঝতে শেখে - মানব প্রকৃতি,প্রবৃত্তি, ও তার প্রকাশ।
একাল-সেকালের চির বিবাদে, চর্চিত বিষয় হিসেবে বর্তমানে "সমকামীতা" বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
কথিত,প্রকৃতি বিরুদ্ধ নিয়মে লিপ্ত মানুষেরা সমাজের চোখে কিছুটা অপরাধীও বটে।তাদের মতে বাস্তুচক্র নাকি পড়েছে বিপাকে,নতুন প্রজন্ম আনয়নে পড়বে ছেদ। বংশরক্ষায় কমবে রক্ষক,থামবে সফর মাঝপথে।
"কামিতা" নিয়ে নয়
প্রশ্ন ওঠে তার ধরনে।
শিক্ষিত মানুষ হয়ে আমরাই মূর্খতা ঢাকতে নিজেদের দৃষ্টিকোণের পরিমাপে বদল আনি।
কাম বলতে বোঝায় কোন ব্যক্তির প্রতি,অপর এক ব্যক্তির মানসিক ও জৈবিক সকল রকমের চাহিদা।
যৌবনে পা পরতেই ধীরে ধীরে শুরু হয় মানসিক বিকাশ,দৈহিক চাহিদায় আসে পরিবর্তন।
মানুষের প্রবৃত্তির ভিন্ন ধারায় তাদের চাহিদাও বিভিন্ন।
মনের সাথে মনের মিল থেকেই
আসে আপেক্ষিক দেহের মিলন।
দুজন বিষমকামী মানুষের "মিলে" আমাদের মাথায় আসে না কামিতার কথা।
তবে কেন এ বৈষম্য?
সমগোত্রের দুজন ভালো বন্ধু হতে পারে,
হতে পারে ভাই-দাদা,কিংবা বোন-দিদি।
তবে তারা একে অপরের পরিপূরক ভালোবাসার মানুষও তো হতেই পারে।
কখনো খোলামনে দেখলে চোখে আসে শুধু দুজন মানুষের
"ভালোতে বাস" -এর নিষ্পাপ ছবি।
যেখানে একে অপরের জন্য থাকে অগাধ আস্থা ও ভালোবাসা।
আমরা ঈশ্বরের সর্বশ্রেষ্ট সৃষ্টি মানুষ।
রক্তে মাংসে গড়া প্রাণীটির মধ্যে রয়েছে 'ধুকপুক' করতে থাকা চলমান মন,যে কাছের মানুষটাকে আগলে রাখতে শেখায়।
কামিতার গন্ডিতে বদ্ধ অজ্ঞ চিন্তাধারায় জোয়ার আসুক।
মনুষ্যপ্রেমে মসগুল
হোক মানবকুল।
---------------
-----পূজা ব্যানার্জী
বালিঘড়ির ছোট্টো একটি বালিকনার নীচে কোঠোরে পরার শব্দ মুহুর্ত বদলায়। একে একে সমস্ত বালুকণা বদলের জোটে নাম লেখায়। সাথে সাথে উন্নত প্রাণ বুঝতে শেখে - মানব প্রকৃতি,প্রবৃত্তি, ও তার প্রকাশ।
একাল-সেকালের চির বিবাদে, চর্চিত বিষয় হিসেবে বর্তমানে "সমকামীতা" বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
কথিত,প্রকৃতি বিরুদ্ধ নিয়মে লিপ্ত মানুষেরা সমাজের চোখে কিছুটা অপরাধীও বটে।তাদের মতে বাস্তুচক্র নাকি পড়েছে বিপাকে,নতুন প্রজন্ম আনয়নে পড়বে ছেদ। বংশরক্ষায় কমবে রক্ষক,থামবে সফর মাঝপথে।
"কামিতা" নিয়ে নয়
প্রশ্ন ওঠে তার ধরনে।
শিক্ষিত মানুষ হয়ে আমরাই মূর্খতা ঢাকতে নিজেদের দৃষ্টিকোণের পরিমাপে বদল আনি।
কাম বলতে বোঝায় কোন ব্যক্তির প্রতি,অপর এক ব্যক্তির মানসিক ও জৈবিক সকল রকমের চাহিদা।
যৌবনে পা পরতেই ধীরে ধীরে শুরু হয় মানসিক বিকাশ,দৈহিক চাহিদায় আসে পরিবর্তন।
মানুষের প্রবৃত্তির ভিন্ন ধারায় তাদের চাহিদাও বিভিন্ন।
মনের সাথে মনের মিল থেকেই
আসে আপেক্ষিক দেহের মিলন।
দুজন বিষমকামী মানুষের "মিলে" আমাদের মাথায় আসে না কামিতার কথা।
তবে কেন এ বৈষম্য?
সমগোত্রের দুজন ভালো বন্ধু হতে পারে,
হতে পারে ভাই-দাদা,কিংবা বোন-দিদি।
তবে তারা একে অপরের পরিপূরক ভালোবাসার মানুষও তো হতেই পারে।
কখনো খোলামনে দেখলে চোখে আসে শুধু দুজন মানুষের
"ভালোতে বাস" -এর নিষ্পাপ ছবি।
যেখানে একে অপরের জন্য থাকে অগাধ আস্থা ও ভালোবাসা।
আমরা ঈশ্বরের সর্বশ্রেষ্ট সৃষ্টি মানুষ।
রক্তে মাংসে গড়া প্রাণীটির মধ্যে রয়েছে 'ধুকপুক' করতে থাকা চলমান মন,যে কাছের মানুষটাকে আগলে রাখতে শেখায়।
কামিতার গন্ডিতে বদ্ধ অজ্ঞ চিন্তাধারায় জোয়ার আসুক।
মনুষ্যপ্রেমে মসগুল
হোক মানবকুল।
---------------
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
































