নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে

বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

বিমোহন / কান্তিলাল দাস

জলের কিনার ছুঁয়ে উড়ছ অনন্তবার
একবার এদিকে একবার সেদিকে
বিমোহনে পড়ে গেলে নাকি !
কী দেখ ? নিজবিম্ব, না মাছেদের খেলা,
শ্যাওলার অভিষেক
নাকি দেখ  শান্তজলে মেঘেদের  স্তম্ভিত মুখ !

জলপ্রিয় হে ফড়িঙ ! এ তোমার
আজন্ম আশ্চর্য ভালবাসা
তুমি তো ঘাসের তত নও, নও তুমি
প্রসাধনপ্রিয় মানুষের ঘনিষ্ঠতাকামী ।
জল ঘিরে তোমার সাধনা
যেন জেনে গেছ
জীবনের আর নাম জল,- জল ছেড়ে গেলে
সমস্ত বিস্বাদ বুঝি স্বচ্ছ অনুভবে !

গাছেদের ছায়া কি দেখো, বিকেলের রোদ
চোখে পড়ে নাকি
পাণকৌড়ির ডুব কিংবা মাছরাঙাদের
বিশেষ ক্ষমতা ?

শব্দ নেই, ভাষা নেই, নেই কোনো উচ্চাকাঙ্খা তোমার
আশ্চর্য প্রশান্তি নিয়ে উড্ডীন -হে জলফড়িঙ
চাহিদাহীন ক্ষুদ্র জীব এক
জলের কিনারে
বায়ুলাঞ্ছিত কিন্তু ভাবলেশহীন ছন্দ তুলে
একবার হেথা আর একবার হোথা
নিঃশব্দ মন্ত্র জপ করেই চলেছ !

রাত্রি নামে
কোথা থাকো চুপ করে শিশিরে ও হিমে !
সকালে দেখবে বলে জরিপে নেমেছে
ক্লান্তিহীন পাখা তোমার
খোঁজো নাকি ক্লেশ, ক্ষতি জলদুর্গতের ?

হেমন্ত বিকেল বড় দ্রুত ডেকে নেয় সন্ধ্যাকাল
হাঁসেরা ফিরলে ঘরে
তুমি কোথা ফেরো ? ঐ স্তব্ধগাঢ় শরবনে নাকি !
হে জলফড়িঙ ,-
সকালে নরম রোদে
দেখি যেই,স্বভাববশতঃ তোমাকেও বলি সুপ্রভাত, হয়ত শোনো না

তাতে কিবা যায় আসে
তুমি এলে
ভৈরবী বেজে চলে অদৃশ্য সেতারে
তেমন তেমন হলে
মাতায় পূরবী !
...................

বিভাগ- গল্প






বসন্তের পলাশ
                     ----মৈনাক চক্রবর্ত্তী
                বাড়ির পলাশ গাছটা বেশ বড় হয়েছে, এবার বোধয় ফুল ফুটবে গাছে। গাছটা আজকের নয়, তা প্রায় বছর দশেক হল, গাছটা বুবু পুতে ছিলো। বুবু আমার পিসততো বোন। বুবু এখন আর আমাদের সাথে থাকেনা। বুবু তখন কলেজে পড়ত, দ্বিতীয় বর্ষ। কলেজে এডুকেশনাল এক্সকার্সনে বুবুদের পুরুলিয়া নিয়ে গেছিল সেবার। সেখান থেকেই ও গাছটা নিয়ে আসে। দিনটা এখনও মনে পড়ে, কী একটা পূজো ছিলো বড়িাতে, বুবু দৌড়ে আমার ঘরে ঢুকে
-দেখ দাভাই তোর জন্য কী এনেছি...
-কী আনলি? কই দেখা?
-কী বলত এটা?
-পলাশ.....,কোথায় পেলি এটা?
-পুরুলিয়া থেকে এনেছি, একজন দিয়ে বলল খুব কাছের কাউকে দিতে।
-ও কাছের কেউ আমি নাকি ....
-তুইতো আমার সোনা দাভাই। তোর জন্যই এটা।
-ন্যাকামো করিস না।  আমি সব জানি, ট্রুরে যাবার আগে কার সাথে হেসে হেসে ঘুরছিলিস সেদিন? আমি দেখিনি ভাবছিস।
-আরে ও নীলান্তন। খুব ভালো ছেলে, আমার খুব ভালো বন্ধু।  আমার সাথে এক কলেজে পড়ে।
-তাইনা রে। তুই ও তো ভালো মেয়ে; একদিন পরিচয় করা।
-তুই পারিস ও দাভাই, ওর একটা প্রেমিকা আছে। তার জন্যই একটা কানের দুল কিনতে গেছিলাম আজ
-যা কি হবে তালে....
-কিসের আবার কি হবে?
-আমি ভাবলাম হেব্বি একটা ব্যাপার চলছে তোদের মধ্যে। সব ভেসতে দিলি....
-শোন দাভাই আমার পিছনে লাগলে আমিও কিন্তু তোর সব কথা বলে দেবো....
-কী আর বলবি?
-তাইনা। কি বলব শুনবি? সৃজিতা নামে একটি মেয়ে আছে। যাকে আমি দিদি বলে ডাকি। তার সাথে আমার এক মাত্র দাভাই গভীর প্রণয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। এটা মামি কে বলে আসি যাই। মামি.... ও মামি....
-এই বুবু কি করছিস দাড়া দাড়া, আচ্ছা আমি আর বলবো না। এই কান মুলছি, নাক মুলছি দাড়া...
-হাহাহাহা কানমোল ভালো করে তাহলে বলবোনা।
-তবেরে দাড়া দেখাচ্ছি তোকে........
            বুবু এক দৌড়ে পালিয়ে গেল। সৃজিতা আমার বান্ধবী, বুবুর থেকে বছর ছয়েকের বড়, ওকে পড়াতে আসত, সেই সূত্রে আমার সাথে পরিচয়। সৃজিতা যে শুধু আমার বান্ধবী তা বললে ভুল হবে। আমার আর সৃজিতার সম্পর্কটা তেমন কেউ জানেনা, এক মাত্র জানে বুবু। দিনকতক হলো ও এতো শয়তান হয়েছে সুযোগ পেলেই আমাকে আর সৃজিতাকে নিয়ে ইয়ার্কী করবে। দুর্ভাগ্যের বসে ও যে কার সাথে প্রেম করে বা কার সাথে ওর মনের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে সেটা জানিনা। সেটা যদি জানতে পারতাম, তাহলে প্রতিদিনের ইয়ার্কীর মধ্যে নিজেকে অসহায় মন হতো না।
             বুবু প্রেম করে কি করেনা তা স্পষ্ট জানা নেই। তবে কারোর প্রতি মনে একটা টানাপোড়েন আছে সেটা বিলক্ষন খেয়াল করি। ওর বয়স এখন কুড়ি, ওর বয়সে জীবন প্রেম আসাটা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু ছেলেটা কে সেটা বুঝে উঠতে পারিনা। বুবু আমার থেকে বছর আটের ছোট, তবুও ওর উপস্থিত বুদ্ধি প্রচুর, ওর বুদ্ধির কাছে এখনও আমাকে মাঝে মাঝে নাস্তানাবুদ হতে হয়। অসলে একটা প্রেমের গল্প শুনতে ভালো লাগে। কার না একটা প্রেমিক প্রেমিকার খুনশুটি দেখতে ভালো লাগেনা। আর সেই তাগিদেই ওর প্রেমিকের অস্তিত্বের সন্ধান করা। এই নিয়ে আমাদের জীবন ভালোই চলে যাচ্ছে। আমরা পিঠপিঠী ভাইবোন না, কিন্তু তাতে আমাদের ইয়ার্কীর কোন ভাটা পড়ত না। সৃজিতা আর আমার সম্পর্কের সূচনায় ছিলো বুবু। আমাদের যখন ঝগড়া হয় তখন সেই ঝগড়া মিটিয়ে মিলমিশ করায় বুবু। আসলে বুবু সৃজিতাকে ভীষণ ভালোবাসে, ভীষণ ভাবে চায় আমার আর সৃজিতার সম্পর্কটা এগিয়ে চলুক। বুবুর মধ্যে একটা অদ্ভুত অনুভূতি আছে, ও মানুষকে সুখী হতে দেখলে এক অকৃত্তিম আনন্দে ওর মনটা নেচে উঠত।
          বেশ কিছু দিন হলো বুবুর দেখা নেই। কী যে করছে বাড়িতে বসে বসে কে জানে। ওকে ফোন করলাম। ফোনটা দু-তিনবার ধরে বেজে গেলো, কেউ ধরলো না। ফলে ওকে একটা মেসেজ পাঠালাম
-তোর দেওয়া চারাটা পুঁতেছিলাম, মন হয় গাছটা বেঁচে গেছে। এসে দেখে যাস গাছটাকে।
সন্ধ্যে হয়ে এলো।  এখনও বুবুর কোন উত্তর পেলামনা। অনেক দিন ধরেই কেমন যেন রহস্যময় হয়ে পড়েছে বুবু। প্রেমে পড়েছে বোধয়, এবার দেখা হোক একবার যেভাবেই হোক জানতে হবে কী ব্যাপার। এত দিন খুব ইয়ার্কী মেরছে এবার আমার পালা।
বেশ কয়েকদিন হয়ে গেল বুবুর ব্যাপারটা কিছুই বুঝতে পারিনা। ব্যাপারটা এবার একটু সিরিয়াস মনে হচ্ছে, একদিন বুবুর সাথে দেখা করতে হবে। দিন দুয়েক পরে বিকেলের দিকে ঠিক করলাম বুবুর বাড়ি যাই। এই ভেবে সবে বাড়ি থেকে বের হয়েছি হঠাৎ দেখি বুবু, আমাদের বাড়ির দিকেই আসছে। আমি অনেকক্ষন বুবুর দিকে হা করে তাকিয়ে থাকলাম। এটা কী বুবু নাকি অন্য কেউ, ফুলের মতো মেয়েটার এ কী অবস্থা হয়েছে; চোখে কালসিটে, মুখ শুকিয়ে গেছে, দেখে মনে হচ্ছে অনেক দিন ধরে ঘুমোয়নি। বুবু তখন ও বাড়ির কাছে আসেনি তখনই আমি উদগ্রীব হয়ে বলে উঠলাম ...
-কিরে বুবু কি হয়েছে তোর? চোখ মুখের এ কি হাল করেছিস?
বুবু কোন উত্তর দিলনা। এতটাই অন্যমনস্ক ভাবে হেটে আসছিলো আমার কথাটা শুনতে পেল কিনা বুঝতে পারলাম না। আমি আর বুবু এক সাথেই বড় হয়েছি; খাওয়া-নাওয়া-ঘোড়া সব ক্ষেত্রেই বুবু আর আমি ছিলাম চির সঙ্গী, ওর প্রতি একটা অসীম স্নেহ কাজ করত আমার। যে মেয়েটা সবার মুখে হাসি ফোটায় তার এই অবস্থা দেখে নিজেকে খুব অসহায় লাগল। বুবু কাছে আসতেই বুবুর হাতটা বেশ জোড়ে নাড়া দিয়ে, বেশ ধমক দিয়েই বললাম...
-কিরে কি হয়েছে? নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিস নাকি?
ওর চোখটা ছলছল করছে আমি বুঝলাম সিরিয়াস কিছু, ওর হাতটা ধরে বললাম
-আয় ঘরে আয়....
ঘরে ঢোকার মুখে ছোট্ট এক টুকরো বাগান আছে, সেখানেই পালাশের চারাটা পুঁতেছিলাম। ঘরে ঢুকতে গিয়ে বুবু অনেক্ষন গাছটার দিকে তাকিয়ে আছে দেখে আমি বলে উঠলাম
-দেখ তোর দেওয়া গাছটা, বেঁচে গেছে, ছোট ছোট দুটো নতুন পাতা গজিয়েছে দেখ।
-হম, যে বেঁচে উঠতে চায় তাকে কী আটকানো যায়....
-মান টা কী? কে আবার বেঁচে উঠল....
-না কেউ না।
কথাটা বলেই বুবু ঘরের দিকে হাটতে হাটতে চলে গেল। আমার ঘরটাতে ঢুকে, আমার বিছানার একটা ধারে বসল বুবু। হতাশা আর অন্য মনস্কতায় মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে আছে। আমি ওর কাছে এসে বললাম
-বলত এবার কি হয়েছে তোর? কিরে চুপ কেন, কি হয়েছে?
-হ্যাঁ দাভাই বল কি বলছিস?
-এই কি হয়েছে রে তোর? তখন থেকে দেখছি অন্যমনস্ক।
-আমিই কেন বলত সব সময় ভুল করি দাভাই, সবাইকে ভালো রাখতে চাই সবাইকে খুশি রাখতে চাই তবুও আমার হাতেই অন্যকেউ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কেন আমার সাথেই এমনটা ঘটে সব সময়। কেন এমন অবস্থার সম্মুখীন হই আমি যার নিয়ত্রন আমার জানা নেই।
এতক্ষন পর বুবুর মনের মেঘ গুলো যেন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়ল। আমি এবারে বেশ কিছুটা ভয় পেলাম, কিন্তু বুবুকে বুঝতে দিলাম না। শুধু বললাম
-কেনরে কি করলি তুই আবার? বাড়িতে কিছু হয়েছে? নাকি কলেজের ঝামেলা।
-এই ঝামেলা অনেক দিনের, তোকে বলা হয়ে ওঠেনি। মনের মধ্যে পুষে রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম ঠিক নিজেকে সামলাতে পারবো কিন্তু পারছি নারে। তোর নীলান্তনকে মনে পড়ে?
-নীলান্তন...নীলান্তন...হ্যাঁ মনে পড়েছে। ঐতো সেই ছেলেটা যার সাথে তোকে দেখেছিলাম। হম মনে পড়েছে ওর একটা প্রেমিকা আছেনা..
বুবুর দু চোখ বেয়ে অনবরত জল ঝড়ে পড়ছে। দু হাত দিয়ে চোখের জল মুছে বুবু বলে উঠল,
-হ্যাঁ, আছে, সেই নীলান্তন।
-কেনরে? কি করল সে?
-ঘটনাটা অনেক দিনের, এবার কলেজের এক্সকার্সনে পুরুলিয়া গেলাম মনে পড়ে।
-হ্যাঁ, ওখান থেকেই তো গাছটা এনে দিলি।
বুবু গাছের কথাটা এরিয়ে গিয়ে বলল-
-ওখানে কখনো গেছিস দাভাই।
-না, কেন?
-ওখানের বাতাসে একটা অনৈতিক মাদকতা আছে জানিস। কেমন একটা মতাল করা গন্ধে, মন অনৈতিক আবদারে সারা দয়ে। মন যেন কীসের এক প্রহর গোনে।
-তা সেখানে তোর মন কোন অনৈতিক আবদারে সারা দিলো?
-জানিস দাভাই চাইনি এটা হোক। একটা মেয়েকে ঠকাতে মন সায় দেয়নি।
-মানে? কী বলছিস? কেন মেয়ের কী করলি তুই?
-নীলান্তরের প্রেমিকার কথা বলছি।
-কেন কি হলো ওর? আর তাতে তোর সম্পর্ক কি?
বুবুর মুখটা কেমন শুখনো হয়ে উঠল, মনে হলো সারাটা আকাশ ওর মুখে ভেঙে পড়েছে। নাক টানতে টানতে আবারও বলতে শুরু করল বুবু
-বললাম না ঐ জায়গায় মনটা মাতালের মতো হয়ে পড়ে। কোন স্বাভাবিক জ্ঞান থাকেনা। চারাদিকে শাল মহুয়া আর পলাশের বন। জানিস দাভাই বনটার একটা গন্ধ ছিলো, শাল মহুয়ার গন্ধ। সেই গন্ধে সব ইন্দ্রিয় গুলো প্রখর হয়ে ওঠে। নিজেকে আর আটকাতে পারিনিরে আর তাই নীলান্তনকেও আর বাধা দিতে পারিনি।
-মানে? মানেটা কী? কী বাধা দিতে পারিসনি...
-সেদিন কেন জানিনা ভুলে গেলাম নীলান্তনের অন্যকারোর প্রতি দায়বদ্ধতা আছে।
-শোন বুবু আমার মাথায় কিছু ঢুকছেনা, সোজা কথায় বলবি কি হয়েছে....
-দাভাই তুই আমায় ভুল বুঝবিনাতো। তুই পাশে থাকবিতো আমার।
বুঝলাম প্রচন্ড কোন আঘাত পেয়ে একটা হতাশায় ভুগছে। ওকে ভরসা দেবার জন্য বলে উঠলাম
-আমি আছি, বল কী হয়েছে..
কাঁদতে কাঁদতে বুবু যা বলল-
-একটা পুরুষ আর নারী ঠিক যতটা কাছাকাছি আসতে পারে ঠিক ততটা কাছে এসেছিলাম আমরা। আমি আর নীলান্তন।
-মানে.....কী যা তা বলছিস? তুই জ্ঞানে আছিসতো। মাথা ঠিক আছেতো তোর।
-হ্যারে দা ভাই, জ্ঞানেই আছি। কেন জানিনি সেদিন এমন হলো, তীব্র সর্বনাসের মুহুর্ত ছিলো সেদিন। পঞ্চভূত যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছিলো। চারিদিকে বন আর বন মাঝ খানে আমি আর নীলান্তন, দিনের বেলাতও সেখানে ঝিঁঝিঁ ডাকছিলো। জানিনা কী করে এত কিছু করে বসলাম...
-ওর প্রেমিকা জানে কিছু?
-সেখানেই তো সমস্যা আরো বেড়েছে। নীলান্তন একটা তীব্র অপরাধ বোধে কিছু বলতে পারছে না, সেই এক আবস্থা আমারও। কী বলবে ও মেয়ে টাকে। আর সবে জেনে মেয়েটাইবা ওকে কেন মেনে নেবে।
-দেখ বুবু শান্ত হয়ে আমার কথাটা একটু শোন।
-পারছি নারে দাভাই। নিজের দিকে তাকাতেও ঘেন্না লাগছে। ইচ্ছা করছিলো মরে যাই কিন্তু পারিনি। ভেবেছি তুই বুঝবি আমার মনের আবস্থা। তোর একটা কথা খুব কানে বাজে রে 'মরে গিয়ে কোন লাভ নেই, এই সমাজ তোমার মৃত্যুতে তোমার উপর ফুল ছেটাবে কিন্তু দুদিন পর আবার সব আগের মত হয়ে যাবে'
-কি চাইছিস তুই? তুই কি নীলান্তনকে নিয়ে বাঁচতে চাইছিস...
-তোকে মিথ্যা বলবনা দা ভাই, প্রথম দিকটায় যে তা চাইনি সেটি নয়। তবে পরে অনেক ভাবলাম ঐ মেয়েটিকে কাঁদিয়ে আমি কখনো সুখী হবো নারে দাভাই।
-শোন বুবু তুই যদি মনে করিস এই কথা গুলো জানলে ওর প্রেমিকা কষ্ট পাবে, ওদের সম্পকর্টা ভেঙে যাবে তবে এই স্মৃতি ভুলে যা। অন্যায় করেছিস ঠিকই, তুইও এবং নীলান্তনও, কিন্তু যে ভুল ব্যক্ত হলে তিনটে জীবন নষ্ট হবে তার থেকে সেই ভুল মনে না করাই ভালো। শোন বুবু আমাদের শরীর যন্ত্র নয়। মাথা আর মন দুটো এক সাথে চলেনা। তাই মাথা হয়ত ভুলে সারা দেয়নি কিন্তু মন দিয়েছে। ভুলে যা বুবু...
-কিন্তু দাভাই ভুলতো বেড়েই চলছে...
- কেন আবার কি?
-আমি এখন না পারছি নীলান্তনকে ভুলতে না পারছি ওর কথা ভাবতে। যখন সেই দিনের কথা মনে পড়ছে তখনই ওর প্রেমিকার মুখটা মনে পড়ছে। আবার নীলান্তন যখন ওর প্রেমিকার সাথে দেখা করছে বা সময় কাটাচ্ছে আমি অসম্ভব ঈর্শায় ভুগছি। মনের ভেতরটা কেমন উথাল পাতাল খাচ্ছে...
-দেখ বুবু বাস্তবে ফিরে আয়। কী সব বলছিস পাগলের মতো। তুই শ্রেফ যৌনঈর্শাতে ভুগছিস বুবু। ভুলতো তুই একা করিসনি, ও নিজেও এই ভুলের অংশীদার। তোর জীবের সম্পূর্ণটা পড়ে আছে, কত রঙীন স্বপ্ন দেখবি তুই, কেন এত উল্টোপাল্টা ভাবছিস। শোন বুবু সময় এক মুল্যবান বন্ধু, একটু অপেক্ষা কর সময় সব ঠিক করে দেবে।
-ঠিক কিছুই হবেনা দাভাই...
-সব ঠিক হবে। আমি বলছি, আমাকে ভরসা করিসতো নাকি, আমার উপর একটু ভরসা রাখ।
বুবু খুব ফর্সা কাঁদতে কাঁদতে ওর নাকটা লাল হয়ে গেছে। আবারও কাঁদো গলায় বলল-
-জানিস দাভাই খুব চাইতাম একটা ভালো ছেলো আমাকে প্রপোজ করুক। তার সাথে জমিয়ে প্রেম করব। কিন্তু দেখ প্রেম যেদিন এলো সেদিনই চলে গেল...
-সৃজিতা জানে কিছু..
বুবু বলল-
-না।
-আমি জানাব কিছু..
বুবু কোন উত্তর দিলোনা। দুই হাত দিয়ে চোখটা ডলতে লাগল। আমি এই মুহুর্তে সৃজিতার উপস্থিতি খুব প্রয়োজন মনে করলাম। বুবুর এখন যা অবস্থা তাতে ওর মানষিক বলের প্রয়োজন। তার জন্য একটা মেয়ের উপস্থিতি প্রয়োজন। ফোনটা হাতে নিয়ে সৃজিতাকে ফোন করলাম। বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হলোনা, কয়েকবার রিং হবার পরেই ফোন ধরল সৃজিতা। ওকে সংক্ষেপে যতটা বলা যায় বললাম, সৃজিতা আসবে বলাতে ফোন কেটে দিলাম। আবার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয় কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠল
-ঐ পলাশ গাছটা ও দিয়েছিলো জানিস....
-শোন বুবু আমার মনে হয় এই মুহুর্তে ওর সব চিহ্ন মুছে ফেলা প্রয়োজন। নইলে এই এক চিন্তা তোকে তারা করে বেড়াবে।
-তুই আর সৃজিতা দি কখনও ঘনিষ্ট মুহুর্ত কাটিয়েছিস?
আমি বেশ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়লাম। আমার উত্তরের প্রতীক্ষা না করেই ও বলে উঠল
-তাহলে কখনও ভুলতে পারবিনা। পলাশ যেমন প্রকৃতিকে বসন্তের সাজে সাজায় তোমনি দেখ এই পলাশ আমার সব বসন্ত কেড়ে নিলো
-আমি যদি আগে জানতাম বুবু কোন দিন এই গাছটা পুঁততাম না। ফেলে দিতাম। আমি আজই গাছটা ফেলে দেবো।
-না দাভাই আমাকে ছুঁয়ে কথা দে তুই এটা করবিনা। আমাদের সম্পর্কের প্রথম চিহ্ন ও। ওকে নষ্ট করবিনা তুই।
-কিন্তু বুবু এতে তোর কষ্ট বাড়বে বই কমবে না...
-না দা ভাই এই গাছটা যদি থাকে তালে আমিও ভালো থাকবো...
বুবুর মানসিক অবস্থা খুব খারাপ, সৃজিতা এখনো এলনা, ও আসলে বুবু একটু বল পেত..ওর মানষিক অবস্থা বুঝে  বললাম-
-আচ্ছা কথা দিলাম গাছটার কোন ক্ষতি হতে দেবোনা।
এর মধ্যেই সৃজিতা ঘরে ঢুকলো,
-কি হয়েছে,
-আয় ঘরে আয় বস এখানে..
এখনো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে বুবু। সৃজিতা ওর পাশে বসল, সমস্থটা আমার মুখ থেকে শোনার পর বুবুকে অনেক বোঝাল। সৃজিতার মধ্যে একটা পরিনত সত্তা আছে যা এতদিন চোখে পড়েনি আমার, ও বুবুকে বুকে জাপটে ধরে, চোখের ইশারায় আমাকে শান্ত হতে বলল, আমার উৎকন্ঠা যাতে কিছুটা দুর হয়। উৎকন্ঠা দুর হয়নি তবে সৃজিতা আসাতে বেশ নিশ্চিন্ত হয়েছি। অনেকক্ষন পর বুবু জড়ানো গলায় বলে উঠল
-দাভাই যেদিন পলাশ গাছটায় ফুলফুটবে সেদিন ভাববি আমার নীলান্তন আবার আমার কাছে ফিরে আসবে।
সঙ্গে সঙ্গে সৃজিতা বলে উঠল-
-এখন এসব থাক। চলো বুবু তোমাকে বাড়ি পৌছে আমিও বাড়ি যাই। রাত হচ্ছে চলো..
তারপর অনেকটা সময় কেটে গেছে, বুবু এখন ব্যাঙ্গালুরুতে থাকে, এখনো বিয়ে করেনি। এখনো নীলান্তনের স্বপ্নে ডুবে থাকে। এখনো ভাবে ও ফিরে আসবে। আমার আর সৃজিতার বিয়ে হয়ে গেছে। বুবুর সাথে কথা হয় রোজ, টেলিফোনে। নীলান্তনের কোন খোজ নেই। জানিনা কোথায় আছে; হয়ত বুবুও ওর খবর কিছু জানে না..
           এত বছর হয়ে গেল পলাশ গাছটা অনেক বড় হয়েছে, কিন্তু এক কাকতালীয় ব্যপার গাছটায় ফুল ফোটেনি এখনো। প্রতি শীতের শেষে যখন সব পাতা পড়ে যায় তখন ভাবি এবার হয়ত ফুল ফুটবে গাছে, বুবু হয়ত দৌড়ে এসে বলবে; 'দেখেছিস দাভাই, আমি বলেছিলাম না ও আসবে'। কিন্তু ফুল ফোটেনি কোন বসন্তে। গাছটার বসন্ত যেমন চুরি হয়ে গেছে, তেমনি আমার বুবুর বসন্তও চুরি হয়ে গেছে। কবে ফিরবে বসন্ত বুবুর জীবনে। আবারও এক অধীর প্রতীক্ষা আরো এক বসন্তের। এখন শুধু কিছু মুহুর্তের অপেক্ষা বুবুর জীবনের চুরি হওয়া বসন্ত ফিরিয়ে দেয় কিনা এই পলাশ গাছটা। শুধু প্রতীক্ষা, সেই প্রতীক্ষায় সারাটা দিন গাছটার দিকে চেয়ে থাকি কবে আসবে সেই বসন্ত। 
-----------









লেখক: মৈনাক চক্রবর্ত্তী
ঠিকানা: ১৯১|৪ অশোকনগর, পোষ্ট অশোকনগর, উত্তর ২৪ পরগনা, ডাক সূচক: ৭৪৩২২২
'  শ্রীহিট ' নাকি ' ও!শিট' !


সালটা ২০১০। বুম্বাদার সাথে পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের ঘোষের সম্পর্কে শৈত্য বেড়েছে  বেশ । ঋতুর ছবির এক সময়ের অটোমেটিক চয়েস বুম্বা আজ পুরোপুরি ব্রাত্য । দেব , জিতের ধাক্কায় বাণিজ্যিক সিনেমার বাজারেও বেশ পিছনের সারিতে টলিউডের বাদশা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি ; তবে কি ইন্ডাস্ট্রিতে শেষের দিন আসন্ন ' রাজু আঙ্কেল' -এর !


এমন হাজার দোলাচলের মাঝেই পুজোয় সে বছর ভেঙ্কটেশ ফিল্মস নিয়ে এল একজোড়া নতুন ছবি । একটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে সব থেকে বড় বাজেট , ৫কোটির ছবি ' দুই পৃথিবী ' ; প্রথমবারের জন্য পর্দা ভাগ করে নিলেন দুই সুপারস্টার দেব এবং জিত ;বাংলা ছবি প্রথমবারের জন্য পাড়ি জমালো ইতালিতে  । দ্বিতীয়টি অভিষেককারী চিত্রপরিচালক,  জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালেয়ের অর্থনীতির ছাত্র সৃজিত মুখার্জির  অত্যন্ত অল্প বাজেটের ছবি ' অটোগ্রাফ ' যার মুখ্য চরিত্রে আছেন টলিউডের বুম্বাদা । সবাইকে অবাক করে তথাকথিত অন্য ধারার সিনেমা ' অটোগ্রাফ' কমপ্লিট করল প্লাটিনাম জুবিলি । বছরের সেরা হিট । ততদিনে ছবিতে আরেক অভিষেককারী , অনুপম রায়ের কন্ঠে ' আমাকে আমার মতো থাকতে দাও ' সবার মুখে মুখে । উত্তমকুমার অভিনীত ' নায়ক ' ছবির অনুপ্রেরণায় তৈরি এই ফিল্ম  বক্সঅফিসের পাশাপাশি জিতে নিল সমালোচকদের মনও । সত্যজিতের অসাধারণ কর্মযজ্ঞের হুবুহু কপি এই ছবি কখনই নয় , বরং , পরিচালক পুরোনো সেই থিমকেই আরও নিপুনতার সাথে ফ্রেমে বাস্তবায়িত করলেন এক জনপ্রিয় অভিনেতা অরুণ চ্যাটার্জির বিতর্কিত  জীবনের চিত্রনাট্যে।




ফেলুদা, ব্যোমকেশপ্রেমী বাঙালি মৌলিক চিত্রনাট্যের থ্রিলার মুভির স্বাদ সেভাবে পায়নি তখনও  । ২০১০ এর পুজোয়  দর্শকের সেই অভাব মেটাতে,  প্রসেনজিৎ , আবির , পরমব্রত প্রমুখের মতো সুপারস্টারদের নিয়ে এক জমজমাট রোমাঞ্চকাহিনী উপহার দিলেন পরিচালক সৃজিত । ' বাইশে শ্রাবণ ' ছবিতে সব চেয়ে বড়ো প্রাপ্তি কবি নিবারণের ভূমিকায় গৌতম ঘোষের অনবদ্য অভিনয় । প্রবীর রায়চৌধুরির  চরিত্রে বুম্বাদার আভিজাত্য বুঝিয়ে দিল ' শুক্কুর বারের পর্দায় এখনও তিনিই রাজা । ' ফিল্মরিলিজের আগেই সঙ্গীত পরিচালক অনুপম রায়ের গানে  মাতোয়ারা হল বাঙালি শ্রোতা । পরপর দুটো উৎসব মরসুমে পেজ থ্রিতে রাজ করলো একটাই নাম , সৃজিত মুখার্জি ।



এবার আর পুজো অবধি অপেক্ষা নয় , ২০১২এর জুলাইতে হলে এলো মুখার্জিবাবুর ' হেমলক সোসাইটি ' , যার ট্যাগলাইন ' মরবে , মরো, ছড়িয়ো না । ' আবারও ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের প্রযোজনাতেই সম্পূর্ণ নতুন স্বাদের এক সাইকোলজিক্যাল রোমান্স । সৃজিতের অশ্বমেধ এবারও রাজ করল বক্সঅফিসে । বাণিজ্যিক সিনেমার মেগাস্টার কোয়েলকে দিয়ে জীবনের সেরা অভিনয়টা করিয়ে নিলেন সৃজিত । প্রতিটি পদক্ষেপেই জেতার চিহ্ন রেখে যেতে শুরু করলেন পরিচালক সাহেব  । সাথে রমরমিয়ে কমতে  থাকলো ছবির সঙ্গীত পরিচালক অনুপমের ফাঁকা ডেট ।


ইতিমধ্যে ফেলুদা , ব্যোমকেশ মিলিয়ে প্রায় হাফ ডজন গোয়েন্দা ছবি দেখে ফেলেছে বাংলার  দর্শক । সৃজিত হাত দিলেন সুনীলে। কাকাবাবু টলিউডের শাহেনশা বুম্বাদা । ' মিশর রহস্য' গল্প অবলম্বনে তৈরি এই ছবি ২০১৩ এর পুজোয় কালেকশনে হার মানালো দেবের ' রংবাজ' কে ।


এ যাবৎ ভেঙ্কটেশ প্রযোজিত সৃজিত নির্দেশিত এ সকল চলচ্চিত্রের প্রত্যেকটিই শুধু যে মা লক্ষ্মীর ভাঁড়ারকে সমৃদ্ধ করেছে, তা নয় । সঙ্গীত , চিত্রনাট্যের পাশাপাশি সংলাপ চয়নেও এনেছে এক নতুন রেনেসাঁস । ' হেমলক সোসাইটি ' -তে কোয়েলের প্রেমপ্রস্তাবের প্রত্যুত্তরে পরমব্রতের " গাঁড় মেরেছে। আবার ওসবের কী দরকার ছিল ? " কিংবা ' অটোগ্রাফ'-এর ' লাইট-ক্যামেরা-লাভ ' বাঙালি ' মনে রেখে দেবে'  আজীবন । ' বাইশে শ্রাবণ'-এর সেই বিখ্যাত কথন 'জীবনে ভাত-ডাল আর বিরিয়ানির তফাৎ বুঝতে শেখো, একটা নেসেসিটি আর একটা লাক্সারি । ' অথবা ' কে উন্মাদ আর কে নয় , সেটা ডিপেন্ড করছে, তুমি পাগলাগারদের কোন দিকটায় আছো ।'  ---যেন বাঙালি জীবনের বেদবাক্য ।


এরপর ঘর বদলান সৃজিত । পরপর ৪ টি ব্লকব্লাস্টার ছবির পর তিনি পা রাখলেন ' রিলায়েন্স'-এর রথে । ২০১৪ এর জানুয়ারিতে এল যিশু সেনগুপ্ত, স্বস্তিকা , আবির , বুম্বাদা অভিনীত ছবি ' জাতিস্মর' । ' অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি' -এর অনুপ্রেরণায় তৈরি এই ফিল্মের চোখজুড়ানো সিনেমাটোগ্রাফি মুগ্ধ করে সমালোচকদের । কুশল হাজরা এবং অ্যান্টনির দ্বৈত চরিত্রে টলিউড বাদশার অভিনয় বাংলা ছবির ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক । কিন্তু টলিউডের সর্বাধিক প্রভাবশালী প্রযোজক সংস্থার ছবি না হওয়ায় সিঙ্গেল স্ক্রিনে প্রায় অপ্রদর্শিতই থাকে এই ছবি । ফলে ব্যবসায়িক দিক দিয়ে অসফল ' জাতিস্মর '। শেষ দৃশ্যে অসাধারণ মোচড়ে হৃদয়হরণকারী চিত্রনাট্য আসল ফসল ঘরে তোলে মে মাসে চারটি জাতীয় পুরস্কার জিতে নিয়ে  । সেরা মেকআপ ও পোশাকের পাশাপাশি ' এ তুমি কেমন তুমি' -এর জন্য  সেরা গায়কের পুরস্কার জিতে নেন রূপঙ্কর । সাথে সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কবির সুমন নিখুঁত দক্ষতায় বাংলা সঙ্গীতের বিবর্তনকে তুলে ধরেন পুরস্কার ছিনিয়ে নিতে ।


'চতুষ্কোণ' রিলিজ করে ২০১৪তে,  উৎসবের মরসুমে। গৌতম ঘোষ , পরমব্রত, কৌশিক গাঙ্গুলি , অপর্ণা সেন অভিনীত চলচ্চিত্র আবার সিটে বসে থাকতে বাধ্য করে বিশ্লেষকদের । ছবির সেরা চমক অবশ্যই চিরঞ্জিতের প্রত্যাবর্তন । প্রত্যয়ের সাথে বুঝিয়েছেন যে , কেন তিনি একসময় একার হাতে ইন্ডাস্ট্রি শাসন করতেন । তবে আবারও পুজো মরসুমে হল সংকটে মুখ থুবড়ে পড়ে এই ফিল্ম । কিন্তু  অনুপমের সুরারোপিত এই ছবির মাধ্যমে ' বসন্ত এসে ' যায় সৃজিতের ক্যারিয়ারে  । সেরা চিত্রনাট্যের পাশাপাশি সেরা পরিচালকের জাতীয় মুকুট এবার দখল করেন তিনি ।


এবার ঘরের ছেলের ঘরে ফেরার পালা । ২০১৫ এর মে তে সদ্য জাতীয় পুরষ্কারে ভূষিত সৃজিতের পরিচালনায় নতুন ছবি পর্দায় আনে  শ্রীভেঙ্কটেশ ফিল্মস । নাম ' নির্বাক ' । সিনেমার সংজ্ঞাই বদলে দেয় এই  ছবি। সময়ের চেয়ে কয়েক কদম এগিয়ে থাকা সৃজিতবাবু দৃশ্যায়িত করেন প্রেমের নতুন এক চিত্রপট । চারটি  অব্যক্ত প্রেমকাহিনিকে এক সুতোয় গাঁথেন পরিচালক । অঞ্জনের আত্মসম্মোহন , যিশুর প্রতি তার পোষা ল্যাব্রাডরের নির্বাক প্রেম  বা পার্কে যিশুর প্রেমিকা , বলি দিভা সুস্মিতা সেনের প্রতি গাছের অব্যক্ত অধিকারবোধ --- স্তম্ভিত করে তাবড় সমালোচকদেরও। শেষ গল্পে মর্গে আসা সুস্মিতা সেনের মৃতদেহের প্রতি মর্গকর্মী ঋত্বিকের ভালোবাসা সিনেমাটিকে নিয়ে যায় অন্য উচ্চতায় । এই ছবি হলে হলে  হাউসফুল হওয়ার আশা হয়তো পরিচালক নিজেও করেননি , হওয়ার কথাও নয় , হয়ওনি । কিন্তু বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রথম দশে পাকাপোক্ত জায়গা দাবি করতেই পারে  ' নির্বাক' ।


সাল ২০১৫।আবারও ভেঙ্কটেশের ব্যানার । আবারও সৃজিত । আবারও ব্লকব্লাস্টার । এবার টলিক্যুইন ঋতুপর্ণার নেতৃত্বে প্রিয়াঙ্কা , জয়া এহসান সহ এক ঈর্ষণীয়  মহিলা ব্রিগেডকে সাথে নিয়ে জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক নিয়ে এলেন ' রাজকাহিনি ' । দেশভাগের দগদগে ক্ষতকে আরও একবার উস্কে দিলেন সীমান্তে থাকা এক বেশ্যাবাড়ির গল্প দিয়ে । তাদের লড়াই পুনরুজ্জীবিত করল দর্শকের জাতীয়তাবোধকে । ফল আরেকটি মেগাহিট । বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও প্রশংসা কুড়িয়ে নিলেন সৃজিতবাবু । অভিভূত বলিউড প্রযোজক মহেশ ভাট হিন্দিতে এই ছবিটিই পুনর্নির্মাণ করেন সৃজিতের পরিচালনায়  । নাম  ' বেগমজান ' । মুখ্য চরিত্রে মেগাস্টার বিদ্যা বালান। পটভূমি পাঞ্জাব ।


ফিল্মি বাজারে হঠাৎ এখন বেশ শক্তিশালী থাবা বসিয়েছেন আরেক পরিচালক যুগলবন্দি শিবপ্রসাদ মুখার্জি ও নন্দিতা রায় । 'প্রাক্তন' , ' বেলাশেষে' দিয়ে দর্শক মননে সৃজিতের একছত্র আধিপত্যের অংশীদার হতে শুরু  করেছেন তারা ও । এহেন পরিস্থিতিতে পরিচালক পুজোয় হাজির করলেন তার ক্যারিয়ারের জঘন্যতম কাজ , ' জুলফিকার' । প্রসেনজিৎ, দেব , যিশু , কৌশিক, অন্কুশ  প্রমুখের কাছ থেকে সেরা অভিনয়টা আদায় করে নিলেও, তার দুর্বল চিত্রনাট্য ব্যাপক নিন্দিত হয় সর্বত্র । অভিনেতাদের ব্যক্তিগত ফ্যানবেসে নির্ভর করে  ছবিটি বক্সঅফিসে উতরে গেলেও,  হলফেরত দর্শক ছবি নিয়ে ছিল যথেষ্ট হতাশ । গ্রাফ পড়তে শুরু করলো মহারথীর।


২০১৭ এর পুজোয় নীললোহিতের ' পাহাড়চূড়োয় আতঙ্ক' অবলম্বনে আবারও কাকাবাবু সিরিজের ' ইয়েতি অভিযান' বানাতে গিয়ে কিছু শিশুসুলভ ভুল করে বসলেন  মহাপরিচালক । গল্পকে পর্দায় আকর্ষণীয় করতে গিয়ে গ্রাফিক্সের সাহায্যে গোয়েন্দা গল্পকে পরিণত করলেন রূপকথায় । সুনিপুণ প্রচারকৌশল ও বুম্বাদার অভিনয়ে ভর দিয়ে ব্লকব্লাস্টারের তকমা পেলেও , সিনেমার কিছু সিরিয়াস দৃশ্য কমেডি ছবিকেও হার মানায় ।


সৃজিত বেশ আটঘাট বেঁধে নামলেন পরবর্তী  ছবি ' উমা'য় । কানাডার মারণ রোগাক্রান্ত শিশু  ইভান লেভরসেজের ইচ্ছেকে গুরুত্ব দিতে নভেম্বর মাসে নির্ধারিত সময়ের আগেই তার শহর জুড়ে পালিত হয় ক্রিসমাস । সেই ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত  'উমা'  ছবিতে এন. আর.আই. যিশু , মুমূর্ষু  মেয়ের কলকাতায় দুর্গাপুজো দেখার উৎসাহের দামে দিতে বিপুল ব্যয়ে কল্লোলিনীতে আয়োজন করলেন  মার্চ মাসে দুর্গোৎসব বা অকালবোধন। যিশু , অঞ্জন দত্তের সাথে পাল্লা দিয়ে এই ইমোশনাল গল্পে অভিনয় করেন যিশুর ছোট্ট মেয়ে সারা । বর্ষিত হয় মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ । সৃজিত কিছুটা হলেও দর্শকের মন রাখতে সমর্থ হন এবার  । শ্রবণেনন্দ্রিয়কে স্বস্তি দেয় অনুপম রায়ের সুরে দেওয়া গানগুলি । তবে , আবেগের ওভারডোস দিতে গিয়ে পরিচালক মশায় কোথাও  যেন ছবির কলকাতানিবাসী চরিত্রদের দু-একটি মশলামুভিসূচক অবাস্তব চারিত্রিক পরিবর্তন দেখিয়ে ফেলেন  যা বিস্মিত করে দর্শককুলকে ।

২০১৮ এর পুজোয় সৃজিত নিয়ে এলেন পার্থ চ্যাটার্জির ' আ রয়্যাল ইম্পোস্টর ' নামক  ঐতিহাসিক দলিল অবলম্বনে নির্মিত ' এক যে ছিল রাজা ' যা প্রদর্শিত করল বাংলার বিখ্যাত ভাওয়াল সন্ন্যাসী কোর্টকেসকে । পূর্বে অনুরূপ গল্প নিয়ে তৈরি উত্তমকুমারের ' সন্ন্যাসী রাজা ' এর তুলনায় এ ছবিতে কোর্টরুম ড্রামার ভূমিকা অনেকখানি বেশি , যা বেশ চিত্তাকর্ষক হয়ে ওঠে দর্শকদের কাছে । যিশু রাজার ভূমিকায়  যথাসাধ্য চেষ্টা করে জীবনের সেরা কাজটি উপহার দিতে চাইলেও,  মহানায়কের তুলনায় তা  নেহাতই নগণ্য । জয়া এহসান ছাড়া গল্পের বাকি  চরিত্রদের পূর্ববঙ্গীয় ভাষার প্রয়োগ বড়ই নাটুকে । এটুকু বিচ্যুতি বাদ দিলে সৃজিতবাবু এবারও বেশ সফল, তবে ' চতুষ্কোণ ' বা ' নির্বাক' -এর মতো নির্মেদ ছবি হয়ে ওঠেনি ' এক যে ছিল রাজা । '



এখন প্রশ্ন হচ্ছে , সমালোচনায় ভীষণভাবে প্রতিক্রিয়াশীল সৃজিতবাবুর গ্রাফ কী পড়ছে ?এই  লেখকের মতে , তার পারফরমেন্স নিম্নগামী । একসময় বছরে একটি  করে কালজয়ী ছবি বানানো পরিচালকের এখন বছরে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির সংখ্যা প্রায় তিন । একটি রিলিজ হতে না হতেই অপরটির শ্যুটিং শুরু  হয়ে যাচ্ছে  । গল্প লেখার সময় মিলছে কম । ফলে জাতীয় পুরস্কারজয়ী চিত্রনাট্যকারের  কমছে নিজস্বতা । সৃজিতের চরিত্র তৈরির বুনোট বা সংলাপের মাধুর্যকে অস্বীকার করতে পারবে না তামাম নিন্দুকও । তবে ' বাইশে শ্রাবণ ' বা ' জাতিস্মর ' প্রসবকারীসূচক  চিত্রনাট্য যেন আর আসছে না সৃজিতের কলমে । কিছুটা অনুপ্রেরণা আর কিছুটা চমকের মকটেল বানিয়ে বক্সঅফিসের মুনাফা লুঠতেই ব্যস্ত তিনি । পরিচালক সৃজিত মুখার্জি বা হবু প্রযোজক সৃজিত মুখার্জি যদি চিত্রনাট্যকার সৃজিত মুখার্জিকে আর একটু বেশি সময় দেন , তবে হয়তো জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে তার নামটা পরিবর্তনহীন অব্যয় হয়ে থেকে  যাবে ।নাহলে ....... ' অটোগ্রাফ' -এ বুম্বাদাকে আঠারোবার একই শট দেওয়ানো লোকটাকে আমরা খুব মিস করি স্যার ।




                   Chiranjit Saha
                   Poramatala Road
                   Mahaprabhu Para More
                   Nabadwip, Nadia
                   Pin 741302
                   Phn 7001383909
কবিতা- সিগারেট
সৌরভ ঘোষ

আমি মুখ পোড়া অ্যাসট্রের কোণ ঘেঁষে,
নিভন্ত প্রায়।
গতর পুড়িয়ে আমেজ দিয়েছি এতক্ষণ
বারবার নিভতে চেয়েও পারিনি
উদ্বাস্তু প্রশ্বাস ঝাঁঝরা করেছে প্রতিবার
শেষে গলা টিপে মারার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা...

আমার রাগ গনগনে লাল, অন্ধকারে দেখা যায়।
আমিও মানুষ দেখি
বৃষ্টি দেখি, পাহাড় দেখি, জঙ্গল দেখি,
দেখি ভয়ঙ্কর অন্ধকার,মৃত্যু ...
নির্ভয়ে নিকোটিন বীজ বুনি গোলাপি ফুসফুসের জমিতে।
প্রতিহিংসার ধোঁয়া ছড়াই আমেজে
প্রতিবেশীর ঘড় পুড়িয়ে উল্লাসে হাসি,বিদ্রোহী...

একদিন,তোমরাও খুন হবে
আমার হাতে ক্যান্সারের ধারালো ছুড়ি...

কবিতার নাম--" কে বলেছে এটা অনিয়ম "/ বলাই দাস, কুয়েত।
                            ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
বহুদিন পরে শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে এলাম
সেদিন মহা অষ্টমীর বড় পূজো চলছে খুব ধুমধাম
মা মাসী পিসি কাকিমা জেঠিমা সকলের সেকি আনন্দ
ভাইবোনেদের তো কোন কথাই নেই, বন্ধু-বান্ধব সকলে
আমায় পেয়ে আনন্দের জোয়ারে গা- ভাসিয়ে দিলো
বাবা মেসো পিসে মশায় কাকা মামা মামিদের মুখটা
একটু কেমন যেন অন্যরকম ভাব দেখালো -!
মনটা একটু বিষাদে ভরেগেল, ফাঁকে পেয়ে মাকে বললাম- মা যা বলল এই মোটা মাথায় পুরোটা ঠিকমতো ঠুকলো না, চিন্তায় মাথাভারাক্রান্ত !  অষ্টমী নবমী কোনরকমে কেটে গেল
বিজয়াদশমীতে ঝেড়ে উঠে দাঁড়ালাম আগের মতো বেপরোয়া মন নিয়ে বিকেলেরদিকে মণ্ডপে গেলাম ভাঙ খেয়ে খুব নেচেছিলাম
মনে একটা ভয় ভাব ছিল,পঞ্চায়েতে সালিশি সভা হয়েছিল
সেই থেকে আমি গ্রাম ছাড়া হয়েছিলাম।
তখন গোধূলি,তুই দাঁড়িয়ে আছিস একটু দূরে পরনে সাদা কামিজ- কুর্তা, নজর পড়তেই দৌড়ে গেলাম ডান হাতে একমুঠো সিঁদুর
কোন কথা না বলে তোর অজান্তেই জড়িয়ে ধরে মাখিয়ে দিলাম সিঁদুর। সারা মুখ কপাল সিঁথি বরাবর মাথা অব্দি.....তুই আমায় কেবল বাধা দিয়ে  বললি-- ইস্-- একি করলে তুমি !
কে যেন পেছন থেকে বলল-- এ কি করলি ? হায়, হায়!  ওযে বিধবা ! বিধবার গায়ে সিঁদুর!   
আমি তো অবাক!  এ সধবা হলোই বা কবে, আবার বিধবা হলোই  বা কবে ??   কে বলেছে এটা অনিয়ম ??
এই দু'বছরে এতকিছু ঘটলো কবে ?
সেবার বেঁচে গিয়েছিলিস হতভাগা দেশ ছেড়ে শহরে গিয়ে, ফিরে এসে আবার অঘটন ! এবার আর নয়, ওকে বিয়ে করতেই হবে তোকে ?
বিসর্জনে বোধন !  এতো দেবী মায়ের আশীর্বাদ । যে রঙ ওর জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছে আমি সে রঙ ওকে ফেরত দিলাম। 
আকাশে তারাদের হাসি, জোছনার উথালিপনা  উতল হাওয়ার আশীষ।  সব মিলিয়ে এই কুলাঙ্গার কৃপাপ্রার্থি। আমি রাজি। বাল্যবিধবা সধবা হোক এই সমাজের কু- নজর থেকে......
               ==============
কবিতার নাম--" কে বলেছে এটা অনিয়ম "/ বলাই দাস, কুয়েত।
                            ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
বহুদিন পরে শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে এলাম
সেদিন মহা অষ্টমীর বড় পূজো চলছে খুব ধুমধাম
মা মাসী পিসি কাকিমা জেঠিমা সকলের সেকি আনন্দ
ভাইবোনেদের তো কোন কথাই নেই, বন্ধু-বান্ধব সকলে
আমায় পেয়ে আনন্দের জোয়ারে গা- ভাসিয়ে দিলো
বাবা মেসো পিসে মশায় কাকা মামা মামিদের মুখটা
একটু কেমন যেন অন্যরকম ভাব দেখালো -!
মনটা একটু বিষাদে ভরেগেল, ফাঁকে পেয়ে মাকে বললাম- মা যা বলল এই মোটা মাথায় পুরোটা ঠিকমতো ঠুকলো না, চিন্তায় মাথাভারাক্রান্ত !  অষ্টমী নবমী কোনরকমে কেটে গেল
বিজয়াদশমীতে ঝেড়ে উঠে দাঁড়ালাম আগের মতো বেপরোয়া মন নিয়ে বিকেলেরদিকে মণ্ডপে গেলাম ভাঙ খেয়ে খুব নেচেছিলাম
মনে একটা ভয় ভাব ছিল,পঞ্চায়েতে সালিশি সভা হয়েছিল
সেই থেকে আমি গ্রাম ছাড়া হয়েছিলাম।
তখন গোধূলি,তুই দাঁড়িয়ে আছিস একটু দূরে পরনে সাদা কামিজ- কুর্তা, নজর পড়তেই দৌড়ে গেলাম ডান হাতে একমুঠো সিঁদুর
কোন কথা না বলে তোর অজান্তেই জড়িয়ে ধরে মাখিয়ে দিলাম সিঁদুর। সারা মুখ কপাল সিঁথি বরাবর মাথা অব্দি.....তুই আমায় কেবল বাধা দিয়ে  বললি-- ইস্-- একি করলে তুমি !
কে যেন পেছন থেকে বলল-- এ কি করলি ? হায়, হায়!  ওযে বিধবা ! বিধবার গায়ে সিঁদুর!   
আমি তো অবাক!  এ সধবা হলোই বা কবে, আবার বিধবা হলোই  বা কবে ??   কে বলেছে এটা অনিয়ম ??
এই দু'বছরে এতকিছু ঘটলো কবে ?
সেবার বেঁচে গিয়েছিলিস হতভাগা দেশ ছেড়ে শহরে গিয়ে, ফিরে এসে আবার অঘটন ! এবার আর নয়, ওকে বিয়ে করতেই হবে তোকে ?
বিসর্জনে বোধন !  এতো দেবী মায়ের আশীর্বাদ । যে রঙ ওর জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছে আমি সে রঙ ওকে ফেরত দিলাম। 
আকাশে তারাদের হাসি, জোছনার উথালিপনা  উতল হাওয়ার আশীষ।  সব মিলিয়ে এই কুলাঙ্গার কৃপাপ্রার্থি। আমি রাজি। বাল্যবিধবা সধবা হোক এই সমাজের কু- নজর থেকে......
               ==============
বিভাগ -- কবিতা
শিরোনাম -- সামনের পথ
কলমে-- পারমিতা চ্যাটার্জী

পথ চলেছিলাম একা--
পথেই দেখা তোমার সাথে --
পরিচয় হয়েছিল বাসস্ট্যান্ডে
তারপর রোজ হত দেখা--।
শুরু হল আলাপচারিতা --
তার থেকে বন্ধুত্ব --
বন্ধুত্ব গভীর থেকে গভীরতম --
একসময় বললে ভালোবেসে ফেলেছি হাত ধরেছিলে- সেদিন সাঁঝের বেলায়--
নীরবে নিভৃতে এক নির্মল ভালোবাসার স্পর্শ
ছড়িয়ে দিয়েছিলে আমার না পাওয়া অন্তরে--
সাঁঝেরবেলায় বুঝিনি এ স্পর্শ শুধু বেদনার রঙ--।ভালোবাসা শব্দটা হয়তো না বুঝেই বলেছিলে--তাই বন্ধন টা কেটে দিতে বেশি সময় লাগেনি--।
আজও আমি বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে --
বাসের অপেক্ষায় --
শুধু কারও সাথে আর মিথ্যে বন্ধুত্বে জড়াইনা--
নিঃশব্দে চলে যাই নিজের কর্মস্থলে --
রাতে ঘুমোবার সময় লাগে ডিপ্রেশনের ওষুধ --
পুরানো কিছু মিথ্যে স্মৃতিকে মুছে ফেলার জন্য --
আমি ভালোই আছি- চলছি জীবন পথের না না বাঁক ধরে--
এগিয়ে যাই শুধু এগিয়ে যাই -- পা দুটো থামতে শেখেনি --।।
উমা আর মেনকা
04, 11, 2018
© অঞ্জলি দেনন্দী, মম
যুগ বদলতে রয়।
উমা আর পূজোর সময়,
আসে না মেনকার বাড়ী।
পড়ে না নতূন শাড়ী।
বিদেশী পোশাক পড়ে,
আকাশ পথে দেয় পাড়ি।
এরোপ্লেনে চড়ে,
সে,
ওড়ে .......
মেনকা পথ পানে চেয়ে রয়।
উড়ে যায় বিদেশে।
সেখানে প্রোগ্রাম করে সে।
একমাস পরে ফিরে এসে,
দেশে,
হোয়াটস্যাপে মেসেজ সেন্ড করে মাকে।
হেল! মাই ডিয়ার মম!
রিয়েলি, আই মিসড ইওর হোম!
বিদেশে প্রোগ্রাম করে,
রূপীয়া পেলাম, লাখে লাখে লাখে...
ব্যাংক একাউন্ট গেছে ভরে।
মায়ের অশ্রু গাল বেয়ে নামতেই থাকে...
মেয়ে যে আধুনিকা আজ!
মায়ের চেয়েও মূল্যবান আজ,
তার কাজ!
মাও মেসেজ সেন্ড করে,
সুখে থাকিস, আপন ঘরে!
কর্ম সফল হোক, ঈশ্বরের বরে!
বড় মন ক্যামন করে,
তোদের সকলের তরে!
তুমি ও আমি
শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়

দুচোখে অসংখ্য ট্রেন, বাস, গাড়ি
অনেক সুখের উপাদানগুলি
এক কালবৈশাখীর ঝড়ে স্মৃতির মগডালে
উড়ে এসে বসেছে।
কত ড্রপ, জলের ঝাপটা
না- না আর রেহাই নেই।
হাজার টাকার বান্ডিলগুলি উপহাস করছে।
হীরের আংটিটা আঙুলে না পরে চোখে পরেছি কেন?
"আমি" কে খুঁজতে খুঁজতে গবেষকরা বোধহয়
"তুমি" শব্দটাকে ঠোকরাতে ভুলে গেছে।
তবু 'তুমি' বেঁচে আছে- বেঁচে থাকবে
ছড়া, গান, কবিতা ও কল্পনায়।
তুমি ছাড়া তো ছড়াই হয়না।
মালবিকা ভয়ঙ্কর কষ্টের দিনে আমরা পাশাপাশি
"তুমি" ও "আমি" দের তুলনাই হয়না।

এই ছেলেটা
বটু কৃষ্ণ হালদার (কবর ডাঙ্গা)
এই ছেলেটা ভেলভেলে আমাদের বাড়ি যাবি
থালা ভরে ভাত দেবো মন ভরে খাবি "
মেলার দিনে বন্ধু নতুন পরবো নতুন জামা
গায়ে তোর সেই ছেঁড়া টা আপন চাঁদ মামা"
কংক্রিটের ইমারতে কাটাই যে দিন রাত
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীতে তোর আপন যে ফুটপাত "
চাঁদে বসে চরকা কাটে মনের দুঃখে বুড়ি
স্কুলছুট সেই ছেলেটার মাথায় শ্রমের ঝুড়ি"
বিভাগঃকবিতা

জন্মদিন
অমরেশ বিশ্বাস

জীবন থাকতে জন্মদিনের
কথা কি কেউ ভোলে
আনন্দে মন নেচে ওঠে
সেই দিনের কথা হলে।

যে দিন প্রথম এসেছিলাম
আমি মায়ের কোলে
প্রতি বছর সেদিন ঘরে
রঙীন বেলুন ঝোলে।

জন্মদিনে মায়ের হাতে
স্নেহের পায়েস খাওয়া
থাকতে জীবন কখনো তা
যায় কি ভুলে যাওয়া।

মাথায় বাবার হাত রাখাটা
পরম আশীর্বাদ
অভাগা সে জীবনে যার
জোটেনি সেই স্বাদ।

জন্মদিনে আসত পাড়ার
সকল ছেলেপুলে
বড় হলেও সে কথা যাই
কেমন করে ভুলে।

জন্মদিনে শপথ নিয়ে
চলার শুরু হয়
জন্মদিন যে খুবই প্রিয়
সে দিন ভোলার নয়।
****         ***
বিভাগ - কবিতা

*আবার আসব ফিরে*
     অপূর্ব কর্মকার

ভেবেছো কী !
টের পাইনি কিছু ?

সব শেষ হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে ;
চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি-
পরিচিত মুখগুলো কেমন যেন বদলে যাচ্ছে ;
কাঁধের উপরে যে হাতগুলো সাহস জোগাচ্ছিল -
তারাও আজ বিলুপ্তপ্রায় ।

তোমরা ভাবো-পরাজিত 'আমি' ,
আমার মধ্যে কিছুই নেই বাকি ।
অবজ্ঞা-ভরা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে-
এড়িয়ে চলো আমাকে ।
বটতলায়,নদীর পাড়ে,পাড়ার মোড়ে চায়ের দোকানে,সন্ধ্যাবেলার আড্ডায় -
আলোচনার বিষয়বস্তু হয়েছি 'আমি' ।

তবুও কিছু বলিনি ;
সহ্য করেছি সবটা মুখ বুঁজে।
আহত হয়েছি তোমাদের  আচারে,ব্যবহারে,কথাবার্তায়,রসিকতায় ।
প্রতিরোধ করার শক্তি হারিয়েছি আজ ,
জাদুকর যেমন ইন্দ্রজালে সম্মোহন করেন ;
ঠিক তেমনটা হয়েছি 'আমি' ।

ভেবেছিলাম মুখ খুলব না ;
কিন্তু পারলাম না,ক্ষমাপ্রার্থী 'আমি'।
কানে বড্ড বাজছে-"ও এখন 'হিরো' থেকে 'জিরো'।"
হুঁশিয়ার! আর নয় ।
তোমাদের 'চ্যালেঞ্জ'-কে স্বাগত, বন্ধু ।
প্রস্তুত থেকো,প্রত্যাঘাত-টা হবে ভীষণ ভয়ানক ।
কথা দিচ্ছি-আবার আসব ফিরে তোমাদের 'হিরো' হয়ে ।

*****জন্মদিনের চিঠি ******

*******  পিনাকী বোস********
                     
আজ তোমার জন্মদিন,
আরো একবার
নিজেরই কক্ষপথে
পরিক্রমা পূর্ণ হল তোমার |
রূপে , রসে, বর্ণে, গন্ধে
সমুজ্জ্বল আরো কিছুটা পথ |
আরো অনেক ভালোবাসা
করেছো সঞ্চয় -নিশ্চয়
পরিপূর্ণতার লক্ষ্যে
এগিয়েছে আরও কয় ধাপ |
বেড়েছে প্রতিপত্তি-,বেড়েছে প্রতাপ |
কিন্তু তোমার প্রথম দিনে ,
আমি ছিলাম অন্য কোনোখানে ,
অন্য কোনো কাজে ,
তবু তোমার আলোকরেখা
এসে পড়লো আমার জীবনে
পূর্বনির্দিষ্টের মতো ,
আমার"গ্রহণ"হল তোমার ছায়ায় |
আমার আমিকে দখল নিলে তুমি ,
তোমার গুণমুগ্ধের ভিড়ে ,
একটুখানি জায়গা হল আমার
আমি ধন্য হলাম ,
মনে হল- এটাই  অনেক পাওয়া |
তাই ফিরে ফিরে আসা সেই
জন্মের  দিনে
কি হবে কৃতজ্ঞের উপহার ?
নিষ্প্রাণ নির্জীব কোনো দান?
নির্বাক সে তো ,
আমার মনের ভাব
পৌঁছবে না কোনোদিন তার হাত ধরে |
ফুল যদিও বা বাঙময় বটে ,
কিন্তু ফুলের জলসায় ,
সেও তো হারিয়ে যাবে
পরে থাকবে এককোণে অবহেলায় ,
অনাদরের লজ্জায়  মূর্ছা  যাবে
পরদিন সকালে |
তাই এই চিঠি -
যা তোমার জীবন থেকে
চেয়ে নেবে একটু সময়  ,
তোমার ব্যস্ততা থেকে,   
তারপর এই চিঠি পড়তে পড়তে
তোমার ঠোঁটের কোণে
খেলে যাবে ছোট্ট একটা ঢেউ ,
হতে পারে একবার -
তবুও সেই এক  চিলতে হাসিটাই হবে ,
তোমার জন্মদিনে আমার সেরা উপহার ||


প্রতিশ্রুতি
.................  লিটন দাস

তুমি আমায় দাওনি তো প্রেম
        কেন আঘাত দিলে মোরে.।
তোমার তো কোনো করিনি ক্ষতি
      কেন সর্বস্ব নিলে কেড়ে...।।

মোর ভালবাসায় স্নাত হয়ে
               তৃপ্ত হয়েছ তুমি...।
মিলন আবিরে রাঙ্গিয়ে তোমায়
           শুধুই দিয়েছি আমি...।।

আমার অঙ্গে ভর করে তুমি
            মেলেছো ডানা সংসারে...।
আমার পালের হাওয়ায় তুমি
          ভাসিয়েছো ভেলা সাগরে..।।

হাতে হাত রেখে বলেছিলে মোরে
              ভালবাসবে আজীবন...।
মোদের মিলনে হাসবে আবার
                     চৈতি চন্দ্র কিরন ......।।

আজ কেন  বিস্মৃত  তুমি
             সেদিনের প্রতিশ্রুতি...।
সময়ের স্রোতে কেন ভেসে গেল
                প্রথম দিনের স্মৃতি....।।

প্রথম দফা



সুদীপ্ত + অরূপঃ- শুভ বিজয়া সক্কলকে
আজ আমাদের সঙ্গে আছে তিন জন পরিচিত নতুন মুখ

রায়বাবু কবিতাওয়ালা, আজাহারুল ইসলাম, আর অনুব্রতা গুপ্ত

প্রথমেই তোমাদের শুভ বিজয়া জানাই

রায়বাবুঃ-প্রথমেই সকলকে বিজয়ার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
ও কোজাগরী লক্ষী পূজার শুভেচ্ছা।।

অনুব্রতাঃ-শুভ বিজয়া সবাইকে 😊

সুদীপ্তঃ-এখনও আমাদের মধ্যে এসে পৌঁছায়নি আজাহারুল ইসলাম


যাই হোক আমি সুদীপ্ত আর আমার সাথে আছে জলফড়িং-র  দৈনিক সম্পাদক অরূপ সরকার।

অরূপঃ- নমস্কার, শুভ বিজয়া

সুদীপ্তঃ-আজ কবিতা পাঠ, আড্ডা, আলোচনা করব এখানে তাই আমরা সামিল হয়েছে এই তিনজন মানুষকে নিয়ে।

প্রথমেই চলে যাবো সেই ব্যক্তির কাছে যে চারলাইনে মুগ্ধ করে রেখেছে মানুষকে।
তার লেখায় খুব ভালো করে সমাজের বুকে চাবুক লেগে থাকে।
বুঝতেই পারছেন কার কথা বলছি হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন রায়বাবু কবিতাওয়ালা।

দাদা কেমন কাটলো পুজো?

রায়বাবুঃ-খারাপ নয়,তবে ভালোও নয়।
কারন পুজোতে হঠাৎ করে চারটে পোগ্রাম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মনটা একটু ভেঙেি গেছে।


সুদীপ্তঃ-দাদা ওই ছোটো করে ৪-৮ লাইন একটা লেখা পাঠ করো তোমার।

রায়বাবুঃ- আলোচনায় আছি আজ,
কবিতাতে নেই।
সুদীপ্ত ঃ- না দাদা একটা কবিতা তো শুনবই



অরূপঃ-বাহ্ মুগ্ধ আমরা।( জানাবেন কেমন লাগলো আপনাদের)



সুদীপ্তঃ- এবারে সেই মেয়েটি যে মেসবালক লিখেছিল, লিখে থাকে মনের কথা, লিখে লিখে বুঝতে শেখায় শরীর দেওয়া কত্ত সোজা।
হুম সে আর কেউ নয় অনুব্রতা গুপ্ত।

সুদীপ্তঃ- দিদি কেমন কাটলো পুজো?

অনুব্রতাঃ-পুজো এবার একদম আলাদা ছিলো কারণ দেশে ফেরা ছিলো।দেশে ফেরার টানে পুজো শুধু পুজো নয় একটা টাইমফ্রেম হয়ে গেছিলো।

সুদীপ্ত ঃ-এবার পুজোর স্পেশাল কোনদিনটা ছিল তোমার কাছে?

অনুব্রতাঃ-সপ্তমী।আমার প্রথম ক্যামেরার সামনে অভিনয় ছিলো।একটা সর্ট ফিল্মে।নামটাও "অকাল বোধন"!

সুদীপ্তঃ- কবে বেরচ্ছে সর্ট ফ্লিমটা?

অনুব্রতাঃ-হয়তো ডিসেম্বরে।এখনো শিওর নই।

অরূপঃ-দিদি ওই ছোটো করে ৪-৮ লাইন একটা লেখা পাঠ করো তোমার

অনুব্রতাঃ-পুজো সংক্রান্তই করছি।তবে কবিতা নয়।




সুদীপ্তঃ-দারুণ লাগল ( তোমাদের কেমন লাগল জানাবে দর্শক বন্ধুরা)


সুদীপ্তঃ-এবার যার কাছে যাবো বুঝতেই পারছেন আপনারা সেই মানুষটি যে তার মেয়ের নাম রাখবে আয়েশা আর ডাকবে দুর্গা বলে, যে কোনো ভাবেই প্রেমিকা অভাবে একলা নয় নিজেই নিজের সাথে ঘুরে পুজো কাটাতে পারে এবং সেরকমই বার্তা দেয়েছি,যদিও তার প্রেমিকার অভাব নেই সেই বিষয়ে পরে বলছি। হ্যাঁ এবারে আসছি আজাহারুল ইসলামের কাছে।


দাদা কেমন কাটলো পুজো?

আজাহারুলঃ-খুব খুব ভালো,ঈদ ঈদ অনুভূতি পেয়েছি


সুদীপ্তঃ-দাদা ছোটো করে ৪-৮ লাইন একটা লেখা পাঠ করো তোমার


[ আজাহারুলের ভিডিও হবে এখানে ]

অরূপ+সুদীপ্তঃ-আহা ( আপনাদের কেমন লাগল জানাবেন)


সুদীপ্ত ঃ-আচ্ছা রায়বাবুর আসল নাম কি জানাটা খুব দরকার নাকি না জানলেও চলবে?

রায়বাবুঃ- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
তোমাদের ভালোবাসায় বেঁচে থাকুক রায়বাবু নামটি।

সুদীপ্তঃ-আচ্ছা দাদা নতুন কিছু পদক্ষেপ তোমার?

রায়বাবুঃ-এখন কিছু ভাবছিনা লেখালিখি-পড়াশোনা ও গান ছাড়া।

সুদীপ্তঃ- দাদা বই নিয়ে কিছু ভাবছো না?

রায়বাবুঃ-নাহ্ বইয়ের পিছনে ছুটবো,আরেকটু সময় পর।


সুদীপ্তঃ- আচ্ছা এবার আমি আমাদের সম্পাদক স্যার অরূপ সরকারকে অনুব্রতাদি'কে কিছু বলার জন্য বলব।

অরূপঃ-নমস্কার দিদি ,আমি অরূপ তোমার সাথে এই প্রথম আড্ডায়
তোমার লেখা গুলো মনস্তাত্বিক বিশ্লেষণ বলবে নাকি শুধুই লেখা?

অনুব্রতা দিঃ-মনের অলিগলি নিয়ে খেলা করাই আমার কাজ।সেটা কখনো কবিতায় কখনো এমনি।মানুষ আর মানুষের চরিত্র,চিন্তাভাবনা,আচরণ এগুলো আমাকে ভাবায়।বিস্মিত করে।



সুদীপ্তঃ-আজাহারুল ইসলাম কম লিখছে, কেন? নাকি
আজাহারুল দা তোমার বই কি আসছে এই বইমেলায়?

আজাহারুলঃ-লিখছি কম, কারণসামনেই একটা পরীক্ষা আর বই প্রকাশের কাজ চলছে।




সুদীপ্তঃ-আচ্ছা অনুব্রতা দিএতো হুমকি, তাতে ভয় পেয়েছ তুমি। আচ্ছা তাদের জন্য একটা লাইন।

অনুব্রতাঃ-তাদেরও ভালো হোক।
মানুষ অকারণে অন্যকে তখনই টার্গেট করে যখন সে নিজের অস্তিত্ব নিয়ে সুখী বা নিশ্চিন্ত নয়।সুস্থতা কামনা করি।আর অবশ্যই চাই সবাই আমার বইটা পড়ুক।

সুদীপ্তঃ-রায়বাবু কবিতাওয়ালার মেয়ে বন্ধু কটা?

রায়বাবুঃ-ফেসবুকে না বাস্তবে?

আমরা সবাইঃ- সবেতেই

রায়বাবুঃ- ফেসবুকে৭০% আর বাস্তবে ১০%

অরূপঃ-দিদি তুমি যেহুতু প্রবাসে থাকো দেশে ফেরার ঘোর টা কতটা উপভোগ কর?

অনুব্রতাঃ-হুম অনুভব আর উপভোগ দুইই করি।দূর থেকে অনেককিছুই বেশি কাছের মনে হয়!


সুদীপ্তঃ-আঞ্চলিক কবিতা তোমাদের চোখে ঠিক কী? ( সবার জন্য প্রশ্ন এটা)

রায়বাবু'র উত্তরঃ-দেখো বর্তমানে আঞ্চলিক কবিতা আমাদের মানুষের কথা বেশী শোনায়।তুলে আনে সমাজের মনস্তত্ত্ব।ফুটিয়ে তোলে দৈনন্দিনের  খুঁটিনাটি।

অনুব্রতা'র উত্তরঃ-খুব ইন্টারেস্টিং লাগে এই ব্যাপারটা।আলাদা আলাদা জায়গার ভাষাশৈলী, সেখানকার সমাজের চিত্র স্বচ্ছ ভাবে তুলে ধরে।

আজহারুল'র উত্তরঃ-কিছুই না একটা দাগ কবিতা তো কবিতাই।

সুদীপ্তঃ-কবি শ্রীজাত  আর কবহ সুবোধ -র মধ্যে কাকে তোমরা ১০০ দেবে? ( এটাও সবার জন্য প্রশ্ন)

রায়বাবুঃ-কঠিন প্রশ্ন।
কোনও কোনও ক্ষেত্রে এমন উত্তর দেওয়া সত্যিই কঠিন।
তবে দুজনের প্রতিভাই আমাকে মুগ্ধ করে।

অনুব্রতাঃ-কাউকেই নয়।কারণ আমি মনে করি কবিতার উৎকর্ষ আকাশের মতো।ছোঁয়া যায় না।

আজাহারুলঃ-কেউ ১০০ পেতে পারেনা ওরা
৮০-৯০,১০০ তো রবীন্দ্রনাথ

★[ একে অপরের কেমন লাগে জানি চলুন  ]★

সুদীপ্তঃ- রায়বাবু'র কাছ থেকে শুনব তার চোখে লেখিকা অনুব্রতা?
রায়বাবুঃ-প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব লেখিকা অনুব্রতা।
(যেটুকু পরিচয় ঘটলো তার সাপেক্ষে)

সুদীপ্ত সেনঃ- অনুব্রতা'র মুখ থেকে শুনব তার কাছে আজাহারুল ইসলাম?
অনুব্রতাঃ-আজাহারুলের বেশ কিছু লেখা মন ছুঁয়ে যায়।বেশ ম্যাচিউর।শুভেচ্ছা অফুরান।

সুদীপ্তঃ- এবার জানতে চাইব আজাহারুল দা তোমার চোখে রায়বাবু কবিতাওয়ালা?
আজাহারুলঃ-অনেকটা ভরসার মতো,আসলে
ওহ খুব প্রতিবাদী,এটাই আমাকে টানে ওর দিকে।


★চলুন জেনে নিই, নতুম দের কী বলতে চাও তোমরা, যারা তোমাদের মতো জনপ্রিয় হওয়ার আশা রাখে।★

আজাহারুলঃ-দেখুনজনপ্রিয়তা অভিনেতাদের দায়বদ্ধতা কবির না, তবে কবিতার জনপ্রিয় হবার দায় রয়েছে। সেটার চেষ্টা ওরা করতে পারে

রায়বাবুঃ-আমি এটুকু বলতে পারি আমি এমন সংগঠন গড়ার জন্য মুখিয়ে আছি,যেখান থেকে নতুন কিছুজনকে তুলে আনা যায়।

অনুব্রতাঃ-জনপ্রিয় হওয়ার জন্য কখনোই কিছু করিনি।জনপ্রিয়তার পিছনে না ছুটে নিজের কাজকে ফোকাস কর।কাজকে ভালোবেসে কাজ করো।সেটাই একমাত্র দায়বদ্ধতা।

অরূপ সরকারঃ- কেমন লাগল আজকে তোমাদের "জলফড়িং-র" এই বিজয়া বৈঠক?

অনুব্রতা দিঃ-বেশ ভালো লাগলো।অন্যরকম।

আজাহারুল দাঃ-সত্যিই খুব ভালো লাগলো,
কিন্তু আমি এমনভাবে এই সময়টা ব্যস্ত হয়ে পড়েছি, তাই খুব একটা খুলে কথা বলতে পারলাম না, ভালো পদক্ষেপ জলফড়িংএর

রায়বাবু দাঃ-বেশ ভালো লাগলো সকলের সাথে সময় কাটাতে পেরে।
ধন্যবাদ ও আগামীর শুভকামনা সকলকে।


সুদীপ্তঃ- একদম শেষ পর্ব আর আমরা জানি যার শেষ ভালো তার সব ভালো। তাই শেষ টাকে আরও ভালো করার জন্য কবিতাওয়ালার গাওয়া একটা ছোট্টো গান শুনব কয়েক লাইন।




সুদীপ্ত + অরূপ ঃ-বিদায়, সকলে ভালো থাকবে, আরও লিখে চলো, আনন্দ দিয়ে চলো আমাদের মতো শত শত পাঠক দের।



ভিডিও এডিটঃ- মানস খাঁড়া



প্রকাশকঃ- অরূপ সরকার




এডিটর ঃ- সুদীপ্ত সেন



     __________সমাপ্ত ____________

পছন্দের লেখা


আমি বেশ্যা

আমি বেশ্যা.... বেশ্যা মাগি----
হা হা হা হা হা হা........হা হা হা হা...
সমাজ বলে আমায়||

নীলরতন পাইকের মেয়ে আমি
বাড়ি আমার বরকন্দাজপুর
না, না এসব কী বলছি আমি
আমি না বেশ্যা... বেশ্যা মাগি...
আমার কোনো বাপ থাকতে নেই
আমার কোনো বংশপরিচয় থাকতে নেই||

আমার নাম সোনামনি.... সোনামনি.....
সোনামনি নাম ছিল
এখন আমি জ্যোৎস্না... জ্যোৎস্না বেশ্যা
আমার নাম শুনলে এখনো গোটা পঞ্চাশ লোকের মনে জোয়ার আসে
এখনও শহরতলির অন্ধকার গলির চোদ্দো নাম্বার ঘরটার বাইরে লোকে কড়া নাড়ে||

তেইশ বছর......হুম!!!!!! তেইশ বছর ধরে আমি এখানে..
বাবার বড়ো অসুখ, ফুসফুসে ফুটো ছিল
চিকিৎসা করাতে টাকার প্রয়োজন
কোথায় পাব টাকা??? কে দেবে আমায় টাকা????
সবার পায়ে পড়ছি টাকার জন্য,কিন্তু কেউ দেয় নি
অবশেষে, বাবা যে ধানের আড়তে কাজ করত
সেই ধানের আড়তের মহাজন জনার্দ্দন মল্লিক
আমাকে টাকা দেয়...অনেক টাকা..
কিন্তু বিনিময়ে আমার শরীর নেয়
তেরোটা রাত..... তেরোটা রাত কাটাতে হয়েছিল আমাকে ওর সাথে...আ!!!কি অসহ্য যন্ত্রণা.....
তাও, উনি ভগবান, শরীর নিগ...টাকা তো দিয়েছিলেন..||

সতেরো বছরের সেই ছোট্ট সোনামনি সেইদিন বুঝেছিল বিনিময় প্রথা ছাড়া বেঁচে থাকা যায় না...
শরীর নাও, টাকা দাও...হা,হা,হা....||

জন্ম থেকেই মা হারা,বাপটাই মানুষ করেছে
বাপটা মারা যাওয়ার পর আমার এই দেহটা
আমাকে মানুষ করেছে,পেঠের ভাত জুগিয়েছে..
তাই আজ আমি বেশ্যা.. বেশ্যা মাগি||

বুকের ভাঁজ আমিও দেখাই,তোমরাও দেখাও
আমি দেখাই পেশায়, আর তোমরা দেখাও নেশায়
আমি দেখালে নোংরা,তোমরা দেখালে সভ্য
আসলে আমি পেশায় বেশ্যা,আর তোমরা নেশায় বেশ্যা||

শরীরের জ্বালা মেটাতে নিজের স্বামীকে ফেলে
অন্যের স্বামীর সাথে স্ফূর্তিতে মেতে ওঠা,.
বিয়ের আগে বয়ফ্রেন্ডের সাথে পার্কে..আর
বিয়ের পর বরের সাথে ফুলশয্যার ঘরে মেতে ওঠা...তখন হয় বয়সের ভুল
আর যখন পেঠের জ্বালা মেটাতে নিজেদের শরীর বিক্রি করি...তখন হয় বেশ্যামি..
তাই তোমরা সভ্য..আর আমি বেশ্যা.. বেশ্যা মাগি||

আমার একটা স্বপ্ন ছিল---
     আমার বিয়ে হবে,একটা সন্তান হবে,
         একটা ছোট্ট সংসার হবে!!!!
আমার কপালে অনেক পুরুষ জুটেছে কিন্তু বর জোটেনি, ঘর জুটেছে কিন্তু সংসার জোটেনি,সন্তান জুটেছে কিন্তু সন্তানের বাপ জোটেনি.!!!|||

সেইদিন যদি আমার বাপের অসুখ না হতো,
জনার্দ্দন মল্লিকের কাছে যদি আমি না টাকা চাইতাম....তবে আজ বেশ্যা হতাম না||

আজ আমি শরীর বেচি তাই বেশ্যা....
কিন্তু তোমরা পুরুষরা,রাতের পর রাত আমার শরীর কিনছো,তোমরা তো কয় বেশ্যা হলে না???
বেশ্যা কেবল মহিলা হয়.. পুরুষ কেন নয়????

ও,আচ্ছা বুঝেছি...
তোমরা পুরুষ,আমাদের পেঠের জ্বালা তোমাদের কামের জ্বালার চাইতে অনেক বেশি...
তাই তোমরা সভ্য ভদ্র লোক
আর আমি বেশ্যা...... বেশ্যা মাগি||
 
                                      --সুতৃষ্ণা সামন্ত

[ কবি সুনন্দ মন্ডলের "এবং আমি"-র রিভিউ ]
--------------কলমে সুদীপ্ত সেন (ডট.পেন)

'উড়ান' প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছিল "এবং আমি" নামে একক কবিতার বই, যার লেখক সুনন্দ মন্ডল।
উড়ানের কাজ আমার বরাবরই ভালো লাগে তার ওপর সৌরভ মিত্রের প্রচ্ছদীয় হাত।
"এবং আমি" এর প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিল্পী সৌরভ মিত্র মহাশয়।
"এবং আমি" প্রচ্ছদের গায়েই যে বার্তা দেয় তা ভীষণই দামী।
যেন অন্ধকারের পর থেকেই আলোর সৃষ্টি।
প্রথমেই মন ভরে গেল প্রচ্ছদ খানা দেখেই।
তাই পাতা ওল্টাতে শুরু করেছি......

কবি প্রথমেই তার মনের দোচালার ঘর দেখালেন, কিন্তু ঘরের কপাট বন্ধ, তাতে কী? বারান্দাময় মানসীর নাচ তো দেখা গেছে যা দেখে 'মনের অন্তরালে বাঁধল বাসা অন্ধতামিস্রতায়'।
কবি বুঝে গেছেন বাউল কেন ধরেছে গান, কেন কবির মন আনচান করছে...একই কারণ একই মানে আর পাঁচজনের মতোই। তাইতো কবিও ডেকেছে তাকে, বলেছে 'একটুখানি সুখ মায়ায় আসিস ঘরে'।
প্রেম আছে, আছে ভালোবাসা তবু এতো "অভিসন্ধি" কেন?  কেন কবিকে বলতে হলো 'পৃথিবী ছোটো হোক,পৃথিবী রসাতলে যাক'। তবে কবি কিন্তু আশা ছাড়েননি, তিনি অপেক্ষায় দিন গুনবেন।
যদিও কবির আজও জানা বাকি আছে 'সে কী ছিল প্রেম! নাকি কোনো মোহো'?

মানসীকে যদিও পাননি তিনি তবুও কবি বলেছেন তিনি একা নন। তাই তার তরঙ্গ ফেলে জানিয়ে দিয়েছেন 'অথৈ স্বপ্নে এক বিন্দু জল,আশারা বহুদূর'।
আর মানসীকে ভালোবেসে কবি 'যা হতে চাই' তা বলে গেছেন নির্দ্ধিধায়। যদিও কবিরা দ্বিধাগ্রস্ত হন না, তাই কবি বিবাগীও হতে চান সেকথাও বলেছেন।
'জোয়ারের জলে ফুলে ওঠে সাগর,ঢেউ গুলি চুমু এঁকে দেয় কিনারে'।
আর শতাধিক গুলিবর্ষণের পড়েও 'মুখে উচ্চারিত হলো,সেই ধ্বনি -"জয়হিন্দ" '!

এতো কিছুর পরেও কিন্তু আবার মানুষ ভালোবাসে, নেয় " ছুঁয়ে যাওয়া বিন্দু বিন্দু শপথ"।
কবির কিন্তু চিন্তা অনেক, কারণ 'শহর আজ মৃত্যু মুখে' চিন্তা তো স্বাভাবিক, কবিও তো সাধারণ মানুষ।

কবি প্রথমে গাঙচিল হতে চাইলেন, কিন্তু তারপরে অন্যজন হতে চাইলে অহিংসাপিড়ীত কবি বললেন 'তবে তাই হোক'।
আর ফিরে এসে "অনুকাব্য" লিখলেন কবি, যাতে বলা আছে 'তোমার চুলে দেখেছি ঘনকালো মেঘ'।
'প্রতিযোগিতার দৌড়ে কোটি কোটি শুক্রানুকে পিছনে রেখে, তোমার গর্ভে ঠাঁই করে নিয়েছি মা' এটা বোধহয় কবি সুনন্দ মন্ডলই বলতে পারেন।

"সীমান্ত মুক্তি চায়" তাই কবি নির্বাক অস্ত্রের ঝনঝনানি শব্দে লিখলেন আকাশের ঠিকানায় চিঠি,
"স্বমৃত্যু" গ্রহণ করতে চাইলেন কবি, চাইলেন "মোহনা" আর "তোমার উপস্থিতি" তাই "আবার বৃষ্টি" নামলে কবি বললেন 'আমি তো তা চাইনি'!
এত কিছুর পর জানতে পারলাম কবির এখনও "চুক্ষুতৃষ্ণা" মেটেনা।
তাই তিনি বললেন 'তুমি একটি বার ছুঁয়ে দিলে মন বাষ্পীভূত হয়ে মেঘ কণার সাথে মিশে যাব'।
এরপর  'নীরব নিষ্প্রাণ দেহ', 'তুমি হলে এক  ঋতুচক্র',এসব যেন কোনো টুকরো সত্য কথা যা কেটে বসানো আছে "এবং আমি" তে।
চাঁদের দিকে তাকিয়ে কবি বলেছেন 'এসো চাঁদ, বসো কাছে আমার পাশে' আর চাঁদ দেখতে দেখতে দেখতে রাত ঘনিয়ে গেলে তিনি তাও চাঁদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বলতে থাকলেন 'দু-চোখের ঘুম কেড়ে নেয় এলোমেলো সব ভাবনা' আর আমরা বুঝতে পারি তায় দিয়েই "এবং আমি" তৈরী হয়েছে
সেইরকমই ঘুম কেড়ে রাতজাগা কবিতাদের নিয়ে, যা নির্ভুল সত্য কথাকে বহন করে অর্থাৎ তা শুধু কবির কল্পনা নয়।
          
"কবি কল্পনা"

চঞ্চল ভট্টাচার্য

তুমি গেছো কি কখনো
ওই দূরে সেই তারা'দের বাড়ি
অন্ধকারে,
নিদ্রা অগভীরে!!
যাওনি তো!!

কবিরা যাচ্ছে প্রতিদিনই,
না ঘুমিয়ে যারা স্বপ্নে ভাসে তারাই কবি,
আয়নায় দেখে প্রতিচ্ছবি,
নিজের নয়,অন্যজনার।

তুমি দেখেছো কখনো,
সূর্যতাপে জলের স্নানদৃশ্য,
পাখি করছে চাকরিটা আর মানুষ উড়ছে আকাশে!!
দেখনি তো!

কবিরা দেখছে প্রতিদিনই,
জল দিয়ে যারা আগুন জ্বালায় তারাই কবি,
অক্ষর দিয়ে আঁকে ছবি,
তারাই কবি।

তুমি বলেছো কখনো,
ভীষণ দূরে মরিচীকা ধরে সূর্যের সাথে কথা,
বলোনি তো!!

কবিরা বলছে প্রতিদিনই,
যারা কলম দিয়ে যুদ্ধ আঁকে খাতার পাতায়,
কলমের সাথে কথা বলে,
তারাই কবি।

তাই কবিদেরও হয় জন্মদিন,
কল্পনা নয় বাস্তবে বার্থ ডে,
কবতারও হয় জন্মদিন,
তাই কবিতারা আজ জন্মে জন্মে এক।

প্রতিদান
সমরেশ পর্বত

একদিন ডিম ফুটে জন্ম হলো
ছোট্ট ছানা পাখি,
বুক দিয়ে আগলে তারে
একুশ দিন রাখি।
পরম যতনে প্রতিদিন তারে
করে লালন পালন,
গাছের কোঠরে থাকে সেতো
কত ছোট্ট সে জীবন।
বেড়ে ওঠে ধিরে ধিরে
জননী মায়ের কোলে,
মাস খানেক পার হলে
চেয়ে দেখে মুখ তুলে।
খিদে যখন পায় তার
মুখে করে আওয়াজ,
পাখনা মেলে উড়ে যায়
খাবারের সন্ধানে আনাচে-কানাচ।
আর একটু বড়ো হলো যখন
ডানায় গজালো পালোক,
দুষ্টুমি তার বেড়ে গেলো
উড়তে শেখার ঝোঁক।
শিখল যখন পুরো পুরি
ভুলে গেলো সে বাসা,
রইলো না কিছুই দাম
মায়ের ভালোবাসা।



মঙ্গল অভিযান

নারায়ণ প্রসাদ জানা

ক্ষুধাতুর পেট ,শূন্য ভাতের থালা
পাঁজরের হাড় সব প্রকট ভীষণ,
জঠরের আগুন লেগেছে লাল গ্ৰহে,
সসাগরা কুন্ডির সাধজাগে ছুঁয়ে দেখার
যুদ্ধের দেবতাকে একবার।
মহাশূন‍্যের গ্ৰহ উপগ্ৰহদের
দেবতা করেছে শ‍্যামার সন্তানদল ।
সংসার পারাবারে,অযুত-নিযুত শিব ধূলোধূসরিত,
অবহেলায় যায় গড়াগড়ি জীবদেহে ,
তেজভূর্ষী পূর্ণ খোলা আকাশের নীচে
দেশ থেকে দেশান্তরে-রিফিউজীর বেশে।
বিস্ময়ে ঊর্ধ্বপানে দেখে চেয়ে ,ছুটে চলা গ্ৰহদের দল,
নিয়ন্ত্রণ করেছে তাদের ভাগ্যের লিখন,
নিরশন-জিগীষা-জিঘাংসায় পরিপূর্ণ নরলোক,
তবুও দুরন্ত আশা বুকেনিয়ে ছুটে চলা
বিজ্ঞানের জয়রথে চেপে ভিনগ্ৰহে,
অভুঞ্জিত রয় পড়ে ভবলোকে ,স্বার্থ -দ্বন্দ্ব আর ভোগ-হলাহল।
শূন্য ভাতের থালা -শূন্য জঠর -শূন্য মহাকাশ,
সর্বংসহা ছেড়ে সাধজাগে ,ভিনগ্ৰহে ঘর বাঁধবার।






কবিতার রেখা থেকে
জগদানন্দ বর্মন
------------------------------
কবিতা লিখি ? হ্যাঁ কবিতা লিখি
প্রতিদিন একেকটা কবিতা লিখি
ঠিক কবিতা নয়

সাদা পেজে কিছু সরল রেখা টানি
কিছু হিসেব করে অংক কশি
তার পর
আস্তে আস্তে রঙ তুলি দিয়ে আকি- বুকি টানি-
কখনও গোল,কখনও সোজা, কখনও ট্যারা-বাঁকা

কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করে তোমায় ভাবি
 চোঁখ খুলি
দেখি প্রতিটি রেখায় তোমাকে এঁকেছি

লোকে বলে আমি নাকি কবিতা লিখি
আমি জানি আমি তোমাকে খুঁজি




বেলার অনুরাগ
এস. কে. এম মিজানুর রহমান

ফুরন্ত বিকেলে
দিন গুলো হামাগুড়ি খেয়ে হচ্ছে সেকেলে
অভিমানে কেটে যায়
সমাপ্তির মহিমায়।

চুড়ান্ত চুঁচুড়ায়
পাখা মেলে উড়ে যায়
একটানা বসে বসে
মন যেন খসে যায়।

সততার সত্যতা
নিগুড়ো কথ্যতা
আকাশের আকবরে
মরা মন মরে যায়, পরিণত যাযাবরে।

তখনই সৃষ্টির কুলগ্ন হতে
বিকেলটা ফুরিয়ে বসে অসহ্য দিনের স্রোতে ।




ভালোবাসা
---------অপর্ণা নাথ

যখন আমি একা থাকি,
 শুধু তোমার কথাই ভাবি,
তোমার সাথে দেখা হলে ,
কি কি আমি করব
সেটাই ভেবে রাখি।

কিন্তু যখন দেখা হয় ,
মনের মাঝে ভয় হয়।
তোমায় যদি আদর করি,
হয়তো তুমি করবে মানা।

তোমায় যদি জড়িয়ে ধরি, ভাববে আমায় লজ্জা হিনা।
মনের ইচ্ছা মনেই রাখি।
 থাকি বাক্যহীনা।

 তোমায় কাছে পেয়ে আমি,
অনেক কিছুই পেয়েছি ।
যতন করে তাইতো আমি, হৃদয়ে তোমায় রেখেছি।

তোমার মত বন্ধু পেয়ে ,
অনেক কিছুই পেয়েছি।
হয়তো পাবো আরো কিছু,
সেই আশাতে রয়েছি।

ভুল বুঝে সরে যাও তুমি, এটাই আমি চাই না।
ভালোবাসি এই কথা তাই, বলতে আজও পারিনা।



উষ্ণস্পর্শ  ......
-----------আদিত্য বর্মন
তাপমাত্রার ক্রমশ নিম্ন পারদ
হানা দেয় গাছের  মনে,
নিঠুর বরফ চাই
বাসা বেধেছে হিয়ার ঘরে।
সব পাতারা নিয়েছে বিদায়,
প্রেমিকার বিরহে আজ গাছ রিক্ত।
তবু তার মনেও কোথা দোলা দেয়
আগামী বাসন্তী গান।
সেও স্বপ্ন দেখে,  তার বেদনারা
একদিন পাবে ভাষা,
তার স্বপ্ন হবে পূর্ন,
বাসন্তী কলমে লেখা হবে
নতুন কবিতা,
হিমেল হাওয়ায় বরফের স্তুপ
বুকে নিয়ে-
মনের ঘরে অনুভুত হয়
বাসন্তী প্রিয়ার উষ্ণস্পর্শ।    




প্রয়োজনীয়তা
                --------------------------
                             — প্রীতি মান
                               -------------------

তোমার জন্মে খুশি সবাই, আনন্দ, উচ্ছাস,
আমার জন্মে হাসলো ধরা, হাসলো এই আকাশ ।
তোমার জন্মে ঘর ভর্তি মিষ্টি বিতরন,
আমার জন্মে ' ছোট্ট খোকা ' নাম দিলো ভুবন ।
তুমি যখন সবার কোলে ঘুরছো আনন্দেতে,
আমি তখন উঠছি জেগে কোনো এক ফুটপাথে ।
তুমি যখন হামাগুড়ি দিচ্ছো আপন মনে,
আমি তখন দাঁড়িয়ে আছি মহা রনাঙ্গনে ।
তবুও সে রনাঙ্গনে বাড়ছি ধীরে ধীরে,
দেখছি আমি এই ধরাকে দুটি নয়ন ভরে ।
হাঁটছো তুমি ভীষন সুখে মায়ের হাতটি ধরে,
আমিও বেশ হচ্ছি বড়ো রোদ্-বৃষ্টি-ঝড়ে ।
হঠাৎ দেখি আমায় নিয়ে অনেক লোকের জোট —
আমি নাকি এই পথকে করছি অবরোধ ।
বড়ো হওয়ার স্বপ্ন তুমি দেখছো দুটি চোখেই,
গাছ বলে কি আমার কোনো স্বপ্ন থাকতে নেই ।
মায়ের থেকে উপড়ে দিতে তোমার কত সরঞ্জাম,
ভুলে গেছো আমারও আছে ছোট্ট একটা প্রান ।
মা যে এতো শক্ত করে জড়িয়ে আমায় আছে,
তবে কেন মায়ের মনে কষ্ট দিছো মিছে ।
হায় রে মানুষ ! তুমি বড্ড বোকা, বড্ড অসহায় —
থাকলে আমি, থাকবে তুমি, ভুলেছো আজ তাই ॥

জোড়া শালিক
----------সুহৃদ মণ্ডল


# বহু দূরে মৃত্যু আঘাতে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নির্জীব কঙ্কালসার​ দেহ,
খুব সযত্নে অকাল বোধন হয়েছে তার;
মিলনরতা শালিকের উন্মুক্ত আশ্রয়!
একের অশুভে অন‍্যের কামনা,
যেন খোদিত হওয়া সংরক্ষিত জীবাশ্ম;
এক ফোঁটা বৃষ্টি পেয়ে, সন্তর্পনে উঁকি দিল এক প্রাণ, একদিকে খয়ে যাওয়া অবলম্বন, অপর পাশে আকাশ ছোঁয়ার​ স্বপ্ন; সে কি পরবে আর একটু এগিয়ে যেতে?
পরিপূরক কি পরিপূর্ণতা দেবে!
নাকি সেও অনিষ্টের বিচারাধীন হবে,
সে হয়ত মুমুর্ষ কন্ঠে বলবে, শেষ হয়েও ফিরবো তোমার সাথে জীবনের হাত ধরে;
দুটি স্তর বিচ্ছিন্ন, অবিচ্ছেদ্য হওয়ার প্রয়াস জোড়া শালিকের মতো;
তারাও চায় টিকে থাকতে দুই মেরু হয়ে,
জীবন-মৃত‍্যুর সম্পর্ক বেঁচে থাকুক, তাদের বেড়ে ওঠার কাহিনীতে।।

ভাইফোঁটা
          ------অভিজিৎ_দত্ত।।

কথা দিয়েছিল আসবে ফিরে শ্যামাপূজার মাঝে
কপাল ভরে ফোঁটা নেবে সে, বাঙালি বাবু সেজে
তাই যে ঘরে বোনটি তাহার পরম সে আগ্রহে
পাঞ্জাবিতে নক্সা আঁকে কুরশি কাঁটা দিয়ে ।
হঠাৎ দেখে চেয়ে , কালবোশেখী আসছে ছুটে
আকাশ কালো করে ঘরের পানে ধেয়ে ।
চমকে ওঠে মন।
এক ধমকে মনকে থামায়  কু ডাক ডাকছে বলে ।
দাদাটি যার মিলিটারিতে এমন বোনের,
ভয় পেলে কি চলে ?

হঠাৎ হলো একি ?
বাজিয়ে বাঁশি আসছে ছুটে
সামরিক এক ট্রাক
দাদা বুঝি আনছে বা গিফ্ট
একগাদা একঝাঁক ।

বলেছিল আসবে দাদা
কালীপুজোর দিন
তারপরেই তো নো রিপ্লাই
ফোন ধরেনি দুদিন।
আজকে বুঝি চমকে দিতে
ট্রাকেই চড়ে আসে
কিন্তু ওরা কি নামাচ্ছে ?
ওই দিকে ওই পাশে ?
আরে ? এতো কফিন এটা,
শব বইতে লাগে
মনটা যেন কু ডাকছিল
অল্প একটু আগে ?
উর্দি পরা জওয়ানেরা সব শারীবদ্ধ হয়ে
ঠুকছে সেলাম কফিনটাকে চোখেতে জল নিয়ে ।

দাদা তো তাঁর কথা রেখেছে
এসেছে বোনের কাছে
কিন্তু দাদা এসেছে আজ রক্ত রাঙা সাজে।
এই দিনেই তো যমদুয়ারে দিয়েছিলাম কাঁটা
আধুনিক যম মানলো না তার
নিজের মুখের কথা।



হাঁড়িতে চাল বাড়ন্ত
------------বিশ্বজিৎ মৈত্র

মাগো ,পেটে বড্ড ক্ষুধা
যায়না থাকা আর,
যাহোক করে একটু করো
জলপানির যোগার।
বাপ মরেছে যেদিন থেকে
সেদিন থেকেই ঘরে,
এক এক করে যা ছিল সব
গেছে পেটের তরে।
সব‌ জেনেও তোমার বাছার
করার কিছুই নাই,
হাত পা গেছে পলিওতে
দাওনি টিকা তাই।
জানি মাগো কষ্ট তোমার
আমার চেয়েও বেশি,
যাব লোকের দ্বোরে দ্বোরে
ন‌ইকো তেমন পেশি।

মা শুনে কয় মনে মনে
চাইলে পরে আমি,
প্রতিদিন-ই আনতে পারি
খাবার দামি দামি।
রোজ‌ও আসে কাজের অফার
ডিউটি রাতে তাই,
মান ইজ্জত সব খুইয়ে
কেমন করে যায়।
কিন্তু এবার যেতেই হবে
বাঁচাতে তোর প্রাণ,
দু'হাত পেতে করব গ্রহণ
ভ্রষ্টাচারের দান ।
হাঁড়িতে চাল কালকে থেকে
থাকবে না বাড়ন্ত।
জানিস খোকা কালকে হবে
মোদের দুঃখের অন্ত।।


 শব্দ জন্ম*
              ----- তমোঘ্ন নস্কর
                   
খোলা চিঠির পাতায় লিখেছিলো
কিছু সংলাপ
মরচে রঙের পাতায় বাহারি নেলপোলিসের ছাপ.....

কল্পনার অক্ষরের সাথে
আল্পনা আঙুলের বসত
বিজয়ার সিঁদুরের দিব্যি
পাঠিয়েছিলো
ভোরের পিয়নের হাতে
     হৃদয় মোড়ের চা ওয়ালাকে.....
সকালের কুয়াশা -মেঘ বৃস্টির
স্টেশনে .......

প্রেম তুমি , হাসি তুমি
ভালো থাকাও তুমি বই....
তোমার বুকে দিও ঠাঁই আজীবন
তুমি আমৃত্যুর সই.....



পাঠ-প্রতিক্রিয়া
কুমারেশ তেওয়ারী

পাঠ-প্রতিক্রিয়া নিতে প্রস্তুত ছিল যে কবিতাটি
তার শরীরী গঠন ছিল নান্দনিক
ক্ষীণ তটি পীণ পয়োধরা
তবে কোথাও কোনো সাপগন্ধি বাঁক নয়

পাঠকের জন্য ছেড়ে রাখা স্পেসে যে রহস্য ছিল
খুব স্বাভাবিক, যার থাকার মধ্যেই কবিতার উত্তরণ
যে কোনো পাঠক পড়তে শুরু করলে তাকে
অসম্ভব মগ্ন এসে স্থিতধী করে দেবেই তাকে

কবিতাটির ভেতরে এক আগুনও ছিল
তবে তার রূপ দাউদাউ নয়
নম্র এবং শান্ত স্বভাবে এক গা সওয়া আঁচ
বের হয়ে আসছিল তার অগ্নিকুণ্ড থেকে
সেই আঁচ ছড়াতে ছড়াতে কবিতাটি স্বাভাবিক নিয়মেই
প্রস্তুত করেছিল নিজেকে, পাঠ প্রতিক্রিয়া নিতে।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~


ঢের হয়েছে
--------সুজান মিঠি

শিকড় টানে নোংড়া-কাদা
জন্মেছে যে পাঁকে,
পদ্ম পাতায় সুগন্ধি ভাত
গর্ব অহং আঁকে।

আঙ্গুল চাপে ঘ্রাণের মুখে
করতে ছিন্ন মূল,
হ্যাঁচকা টানে ছিঁড়তে হবে
পঙ্ক নোংরা কূল।

পদ্মটাকে টবের গোছে
আলতো আদর জলে,
অতিথ-সেবা চলবে এবার
পদ্ম পাতার থালে।

শুকিয়ে ফুল- এঁটো পাতা
নোংরা পাঁকে ফের,
‘পঙ্কজ’হয়েছিল একদিন
খুব ছিল তা, ঢের।

মাকে লেখা অর্গান

বিশ্বজিৎ মণ্ডল

অদূরে ছড়ানো আমার শ্রমজীবী সকাল....

এখানে মাকে উপাচার করি,আপেল রঙা ....
কতদিন অভুক্ত উচ্চারণে মা তুমি এঁঁকে গ্যাছো
পরিযায়ী বেদনার দিন

তবুও আজন্ম চেয়েছি____মাকে
সেইসব হলুদ বসন্ত ঢেলে আমি তো বিষণ্ণ পরিযাণ
মেনেছি__মা তোমার এইসব কাঙাল পর্যটন...

জন্মান্তর ছুঁঁয়ে মা আমি আরো একবার উচ্চারণ করি
তুঙ্গভদ্রার তীরে শাল্মল-জীবন...


বিস্মৃতি
সায়ন মোহন্ত

দেয়ালের ওপাশে কারা বলছে তারা ক্লান্ত;
জানি তারা ক্লান্ত হয়নি,
কুয়াশা কুপিয়ে ছুটতেও পারে।
ছায়া ভারি হয় না
শিকড় বা সমাধির পাশে থাকে না সূর্যমুখী
চিলি চিকেন খেতে খেতে কারা যেন ভুলে যায় অনাহারের কষ্টকে
স্টোর রূমে পড়ে থাকে ওদের রিক্ত ছবি
আমরা দ্বীপ চিন দ্বীপ দানি নয়
স্মৃতির হলদেটে পাতা খসে পড়ে।



| মনি |
আশীষ হাজরা

আমাকে একটা মনি এনে দেবে
চন্দ্রকান্ত নীলকান্ত নয়
ভালবাসার মনি,
তার ভয়ঙ্কর সুন্দর রঙ
কি বিপুল আলোর রোশনাই,
শুধু তার পানেই চেয়ে থাকতে হবে
পৃথিবীর যাবতীয় দুঃখ বেদনা ভাল মন্দ
ঢাকা পড়ে যাবে,
কেবলি ভালবাসা ম-ম করবে
আর কিচ্ছু নয়৷৷





বুড়ো আর বুড়ি

রাজশ্রী রাহা চক্রবর্তী

এক এক ছিল বুড়ো আর এক বুড়ি । একদিন বুড়ো তার বুড়িকে বলল , - " চল বুড়ি , আমরা দেশান্তরে যাই ।"
বুড়ি বলল - " কোথায় যাব আমরা ? "
বুড়ো -- "  যাব কোন এক জায়গায় যেখানে কোনো দুঃখ নেই , কষ্ট নেই ,আছে শুধু আনন্দ ।"
বুড়ি মুখ বেঁকিয়ে। বলল -- " তেমন জায়গা তো আছে শুধু সঙ্গেই , চল তবে , সেখানেই যাওয়া যাক , এতই যখন তোমার সাধ ।"
" ছি ছি বৌ , অমন করে বলে না । আসলে আমি একটা চাকরি পেলাম । ভাবছি আমরা দুটিতে যাই ।" বুড়ো বলল ।
" চাকরি ? দেশান্তরে ? কী যে বল ! এই বয়েসে ?" বুড়ি ভাবে বুড়ো বুঝি এবার পাগল হল !
" হ্যাঁ গো ,  ভূ- স্বর্গ । লোকে বলে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দেশ । এখনও রাজা রানি রাজত্ব করে ।" বললে বুড়ো ।
" একটু একটু বুঝতে পারছি ।" বুড়ির মুখে হাসি ফোটে । আদুরে গলায় বলল ,-- " আমার কতদিনের স্বপ্ন !"
যথাসময়ে বুড়ো -বুড়ি তাদের স্বপ্নের দেশে পৌঁছে গেল । ছবির মত সাজানো সে দেশে সবাই হেসে কথা বলে , সত্যি কোনও মন খারাপ হয় না ।
কিন্তু একদিন বুড়ি পড়ল জ্বরে । নতুন দেশের ঠান্ডা বুড়ির সহ্য হল না ।
বুড়ি পাড়ি দিল আরও সুন্দর , অন্য এক অজানা দেশের পথে ।
বুড়ো , বুড়িকে বিদায় দিয়ে বলে , " আবার যদি জন্মাই আমার ওই মুখ বাঁকা বুড়িকে ই যেন ফিরে পাই ।"




চেনা - অচেনার তীরে
তপনকান্তি মুখার্জি

যে কাঁথাটায় লেগে আছে আমার শৈশব- গন্ধ
সেখানে এখন অস্তাযমান সূর্যের রক্তাভ আলো ।
যে নীল কষ্টে জড়িয়ে আছে আমার প্রেমের ক্ষত
সেখানে আজ নজর - হারানো চোখের ফ্যালফ্যালে
 দৃষ্টি ।
না - পাঠানো যে চিঠিতে মিশে আছে অগোছালো নিঃশ্বাস
সেখানে এখন সহবাসের অদৃশ্য ছায়া ।
চোখ বন্ধ করলেও আজ সব নজরে আসে ।
এ যেন অনন্ত মগ্নতার বিমূর্ত প্রবাহ ,
স্বপ্নচারা- সময়কে ফাঁকি দিয়ে যা অজান্তেই বেড়ে ওঠে ,
মাটি খোঁজে প্রান্তিক স্টেশনে ।

মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮

--------- নিমন্ত্রণ----------
             ---মলয়---
  বাস থেকে নেমে রাই দৌড়ে ছুটে আসে নীলের দিকে। সামনে এসে থমকে দাঁড়ায় কিছক্ষন। আজ
দশ বছর পর প্রিয় বন্ধুর সাথে দেখা। একটু সংকোচ হচ্ছে মনে মনে। কিন্তু নীলের কোনো সংকোচ নেয়। কি রে সুন্দরী এতদিন পর বন্ধুর কথা মনে পড়লো? আর এসে হাজির ও হয়ে গেলি। বেশ। চল বসে একটু আড্ডা দেই। অনেকদিন আড্ডা দেইনা তোর সাথে।
          আমায় সুন্দরী বলছিস? তুই তো এমন হ্যান্ডসাম যে কোনো মেয়েই একবার দেখেই প্রেমে পড়ে যাবে। তো কটার সাথে চলছে শুনি?
         ওওও তাই?? এটাই তো দুঃখ রে। তোর মতো ভাবনাটা বুঝি সব মেয়েরাই ভাবে আমায় দেখে বুঝলি। এত সব আছে ভেবে নিয়েই হয়তো কেউ আজো বলেনি যে আমার জন্য করো ভালোলাগা বা ভালোবাসা জন্মেছে। অর্থাৎ প্রপোজ করেনি কেউ। তো তোর যখন ভালো লাগে আমায় আর বলেও ফেললি প্রথম মেয়ে হিসেবে তবে তোকেই বিয়েটা করে নেবো ভাবছি। তবে তা অবশ্যই প্রেম করে। কি বলিস??
         সত্যি বলছিস? তবে বলবো তোদের এখানকার মেয়েদের বুকে পাটাও নেই, চোখ ও নেই। তুই যে একটা জিনিয়াস মাল সেটা কি এখানে কেউ জানে? নাকি আগের মতোই লুকিয়ে রাখিস নিজেকে মানুষের সামনে? তোর মুখটা দেখলেই তো বোঝা যায় যে জিনিয়াস। কেমন একটা সিরিয়াস  বিজ্ঞানী বিজ্ঞানী ভাব। তবে কথা বললেই বোঝা যায় কত খোলা মেলা স্বাভাবিক মানুষ তুই। স্কুলে যখন প্রথম দেখি তোকে আমিই  কথা বলার সাহস করে উঠতে পারিনি। তুই যদি ওখান থেকে চলে না আসতি তবে হয়তো এতদিনে আমি তোর বাচ্চার মা হয়ে যেতাম রে।
         হা হা হা----- তবে তো ভুল ই করে ফেলেছি, কি বলিস?
       হুম একদম। এত দিন পর দেখা হল কিছু খেতে বলবি না?
       দেখেই কি খিদে পেয়ে গেল? তো খা না । কে মানা করেছে।
        কিছু বলেছিস যে খাবো?
বলতে হবে কেন? কয়েকটা চুমু খেয়ে নে এমনিতেও কাছে পিঠে তেমন কেউ নেই।
        ইচ্ছে তো করছে কিন্তু কি করবো বল। সে সৌভাগ্য কি আছে আমার? যে মেয়েটা তোর জন্য নিজেকে সযত্নে গুছিয়ে তৈরি করছে তার অধিকারে হস্তক্ষেপ করি কোন স্পর্ধায়? সত্যি বলছি তুই আমার বন্ধু কিন্তু যানিনা কেন তোকে শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছে করে খুব। নিজেকে খুব সুখি আর সেপ্টি লাগে তোর সাথে থাকলে।
        তো থাকতে পারতিস সারা জীবন। সুখি থাকতিস।
        না। কিছু কিছু মানুষকে নিজের করে পাওয়ার চেয়ে বন্ধু হিসেবে পেতেই ভালো লাগে। তোকে স্বামী হিসেবে পেলে হয়তো সেই সম্মানটা দেওয়া হত না।
       একটু বেশি বাড়া বাড়ি হয়ে গেলনা বলাটা। তোর মতো যদি সবাই সন্মান দিতে শুরু করে তবে তো হোলো। বউ জুটবেনি আর ইহো জন্মে। হে মা জননী, মা দূর্গ আমায় রক্ষা করো। 
         সত্যি বলছি নীল,তুই অনেক বড় মাপের মানুষ। সেটা সুধু তুই জানিস না। তোর মত পুরুষকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার ভাগ্যে সবার থাকেনা। আমি গর্ব করি এই ভেবে যে তুই আমার বন্ধু । তোর প্রত্যেকটি গল্প আর কবিতা সংকলন আমি পড়েছি।  তার মধ্যে তোর সেই কথা গুলো খুজে পাই। সেই শৈশব, সেই স্কুল জীবনের সব স্মৃতি খুজে পাই। তুই  সব কথা রেখেছিস। পাল্টাস নি এক ফোঁটাও। কাঙালিকে নিয়ে লেখাটা আমার চোখে জল ভরে দেয়। কাঙালী বেচে নেই কিন্তু তুই জীবন্ত করে রেখেছিস তোর গল্পে।
           কি করে ভুলবো বল? আমার শৈশব কেটেছে ঐ গাঁয়ে। সেই ধুলো মেখে বড় হয়েছি একসাথে। কে কাঙাল আর কে অধম সে খোঁজ তো শৈশব করেনা। এক থালায় খেয়ে একসাথে মানুষ হয়েছি। স্কুলে চলে গেছি দল বেঁধে। সে তো আমারই পরিবার।
           মাসি কেমন আছেন রে? আমাদের কথা মনে আছে ওনার?
           আমি কি করে বলবো? চল গিয়ে দেখে আয় নিজে চোখে, মনে আছে কি নেই।
            এই ধর আমার বিয়ের কার্ড। আগামী সপ্তাহে আমি আর সুশান্ত বিয়ে করছি। আসবি অবশ্যই।
             ঠিক আছে।
তুই না এলে কিন্তু বিয়ের পিড়িতে সববোনা।  কথা দিয়েছিলি নিজে কোলে তুলে ছাদনা তলায় পৌছে দিবি। ভুলিস না যেনো।
            হুম। সুশান্ত কি করে এখন? চাকরি বাকরি পেয়েছে।
            না। চাকরি-বাকরি, ধন-দৌলতকে নয়, সুশান্তকে বিয়ে করছি। যেটুকু যোগায় চলে যাবে ছোট্ট জীবনটা। বেশি তো চাওয়া নেই।দু’বেলা দুমুঠো ভাত আর মোটা কাপড়, ব্যাস।
           কেন যে ছেরে এসেছিলাম তোদের। নইলে তো সব আমার হত। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি খুব সুখি হ।
          পরের জন্মে অপেক্ষা করবো তোর জ্ন্য। তবে হ্যা এত হ্যান্ডসাম হয়ে জন্মাইস না। ভয় লাগে প্রপোজ করতে।
           ঠিক আছে ঈশ্বর কে বলবো।
আসি বন্ধু, বাই🙋। লাভ ইউ।
            লাভ ইউ টু💝---।

আমার প্রভু।
রাজেশ প্রামানিক


          আড়ালেতে আছেন যিনি
          দেখিনি তো কভু।
          যিনি আমার জন্ম দিলেন -
          তিনি আমার প্রভু।
             |  সাফি  |
-------------------------সুদীপ্ত সেন

সাফি ভিজে গেছে যেটুকু গন্ধ ছিল
আমি তা জানিনা, খবর রাখিনা সেরম
ওরাই রাখে,তাই তারা বলে দিল
বলল সাফিও গন্ধে হয়েছে গরম।

বেশি বলবনা কী সাফি ইত্যাদি
টের পেয়ে গেলে পেয়ে যেও বলিওনা
ইচ্ছে হলে গন্ধ শুকতে যদি
প্রথম তো? তাই বেশি বেশি এগোওনা।

সাফি বদলাও ন্যাপির মতো করে
সাফির অভ্যেস গন্ধে ভেজানো বাহার
দেখো সাবধানে যেতেও পারো নড়ে
এই সাবধান ওদের কাছে আহার।
[ বিজয়া বৈঠক লোগো হবে এখানে]


[ সুদীপ্ত'র ছবি ]

     __________সমাপ্ত ____________
সুদীপ্ত + অরূপঃ- শুভ বিজয়া সক্কলকে
আজ আমাদের সঙ্গে আছে তিন জন পরিচিত নতুন মুখ

রায়বাবু কবিতাওয়ালা, আজাহারুল ইসলাম, আর অনুব্রতা গুপ্ত

প্রথমেই তোমাদের শুভ বিজয়া জানাই

রায়বাবুঃ-প্রথমেই সকলকে বিজয়ার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
ও কোজাগরী লক্ষী পূজার শুভেচ্ছা।।

অনুব্রতাঃ-শুভ বিজয়া সবাইকে 😊

সুদীপ্তঃ-এখনও আমাদের মধ্যে এসে পৌঁছায়নি আজাহারুল ইসলাম


যাই হোক আমি সুদীপ্ত আর আমার সাথে আছে জলফড়িং-র  দৈনিক সম্পাদক অরূপ সরকার।

অরূপঃ- নমস্কার, শুভ বিজয়া

সুদীপ্তঃ-আজ কবিতা পাঠ, আড্ডা, আলোচনা করব এখানে তাই আমরা সামিল হয়েছে এই তিনজন মানুষকে নিয়ে।

প্রথমেই চলে যাবো সেই ব্যক্তির কাছে যে চারলাইনে মুগ্ধ করে রেখেছে মানুষকে।
তার লেখায় খুব ভালো করে সমাজের বুকে চাবুক লেগে থাকে।
বুঝতেই পারছেন কার কথা বলছি হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন রায়বাবু কবিতাওয়ালা।

দাদা কেমন কাটলো পুজো?

রায়বাবুঃ-খারাপ নয়,তবে ভালোও নয়।
কারন পুজোতে হঠাৎ করে চারটে পোগ্রাম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মনটা একটু ভেঙেি গেছে।


সুদীপ্তঃ-দাদা ওই ছোটো করে ৪-৮ লাইন একটা লেখা পাঠ করো তোমার।

রায়বাবুঃ- আলোচনায় আছি আজ,
কবিতাতে নেই।
সুদীপ্ত ঃ- না দাদা একটা কবিতা তো শুনবই


[ রায়বাবু কবিতা ভিডিও ]

অরূপঃ-বাহ্ মুগ্ধ আমরা।( জানাবেন কেমন লাগলো আপনাদের)



সুদীপ্তঃ- এবারে সেই মেয়েটি যে মেসবালক লিখেছিল, লিখে থাকে মনের কথা, লিখে লিখে বুঝতে শেখায় শরীর দেওয়া কত্ত সোজা।
হুম সে আর কেউ নয় অনুব্রতা গুপ্ত।

সুদীপ্তঃ- দিদি কেমন কাটলো পুজো?

অনুব্রতাঃ-পুজো এবার একদম আলাদা ছিলো কারণ দেশে ফেরা ছিলো।দেশে ফেরার টানে পুজো শুধু পুজো নয় একটা টাইমফ্রেম হয়ে গেছিলো।

সুদীপ্ত ঃ-এবার পুজোর স্পেশাল কোনদিনটা ছিল তোমার কাছে?

অনুব্রতাঃ-সপ্তমী।আমার প্রথম ক্যামেরার সামনে অভিনয় ছিলো।একটা সর্ট ফিল্মে।নামটাও "অকাল বোধন"!

সুদীপ্তঃ- কবে বেরচ্ছে সর্ট ফ্লিমটা?

অনুব্রতাঃ-হয়তো ডিসেম্বরে।এখনো শিওর নই।

অরূপঃ-দিদি ওই ছোটো করে ৪-৮ লাইন একটা লেখা পাঠ করো তোমার

অনুব্রতাঃ-পুজো সংক্রান্তই করছি।তবে কবিতা নয়।


[ এখানে অনুব্রতা দির ভিডিও ]

সুদীপ্তঃ-দারুণ লাগল ( তোমাদের কেমন লাগল জানাবে দর্শক বন্ধুরা)


সুদীপ্তঃ-এবার যার কাছে যাবো বুঝতেই পারছেন আপনারা সেই মানুষটি যে তার মেয়ের নাম রাখবে আয়েশা আর ডাকবে দুর্গা বলে, যে কোনো ভাবেই প্রেমিকা অভাবে একলা নয় নিজেই নিজের সাথে ঘুরে পুজো কাটাতে পারে এবং সেরকমই বার্তা দেয়েছি,যদিও তার প্রেমিকার অভাব নেই সেই বিষয়ে পরে বলছি। হ্যাঁ এবারে আসছি আজাহারুল ইসলামের কাছে।


দাদা কেমন কাটলো পুজো?

আজাহারুলঃ-খুব খুব ভালো,ঈদ ঈদ অনুভূতি পেয়েছি


সুদীপ্তঃ-দাদা ছোটো করে ৪-৮ লাইন একটা লেখা পাঠ করো তোমার


[ আজাহারুলের ভিডিও হবে এখানে ]

অরূপ+সুদীপ্তঃ-আহা ( আপনাদের কেমন লাগল জানাবেন)


সুদীপ্ত ঃ-আচ্ছা রায়বাবুর আসল নাম কি জানাটা খুব দরকার নাকি না জানলেও চলবে?

রায়বাবুঃ- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
তোমাদের ভালোবাসায় বেঁচে থাকুক রায়বাবু নামটি।

সুদীপ্তঃ-আচ্ছা দাদা নতুন কিছু পদক্ষেপ তোমার?

রায়বাবুঃ-এখন কিছু ভাবছিনা লেখালিখি-পড়াশোনা ও গান ছাড়া।

সুদীপ্তঃ- দাদা বই নিয়ে কিছু ভাবছো না?

রায়বাবুঃ-নাহ্ বইয়ের পিছনে ছুটবো,আরেকটু সময় পর।


সুদীপ্তঃ- আচ্ছা এবার আমি আমাদের সম্পাদক স্যার অরূপ সরকারকে অনুব্রতাদি'কে কিছু বলার জন্য বলব।

অরূপঃ-নমস্কার দিদি ,আমি অরূপ তোমার সাথে এই প্রথম আড্ডায়
তোমার লেখা গুলো মনস্তাত্বিক বিশ্লেষণ বলবে নাকি শুধুই লেখা?

অনুব্রতা দিঃ-মনের অলিগলি নিয়ে খেলা করাই আমার কাজ।সেটা কখনো কবিতায় কখনো এমনি।মানুষ আর মানুষের চরিত্র,চিন্তাভাবনা,আচরণ এগুলো আমাকে ভাবায়।বিস্মিত করে।



সুদীপ্তঃ-আজাহারুল ইসলাম কম লিখছে, কেন? নাকি
আজাহারুল দা তোমার বই কি আসছে এই বইমেলায়?

আজাহারুলঃ-লিখছি কম, কারণসামনেই একটা পরীক্ষা আর বই প্রকাশের কাজ চলছে।




সুদীপ্তঃ-আচ্ছা অনুব্রতা দিএতো হুমকি, তাতে ভয় পেয়েছ তুমি। আচ্ছা তাদের জন্য একটা লাইন।

অনুব্রতাঃ-তাদেরও ভালো হোক।
মানুষ অকারণে অন্যকে তখনই টার্গেট করে যখন সে নিজের অস্তিত্ব নিয়ে সুখী বা নিশ্চিন্ত নয়।সুস্থতা কামনা করি।আর অবশ্যই চাই সবাই আমার বইটা পড়ুক।

সুদীপ্তঃ-রায়বাবু কবিতাওয়ালার মেয়ে বন্ধু কটা?

রায়বাবুঃ-ফেসবুকে না বাস্তবে?

আমরা সবাইঃ- সবেতেই

রায়বাবুঃ- ফেসবুকে৭০% আর বাস্তবে ১০%

অরূপঃ-দিদি তুমি যেহুতু প্রবাসে থাকো দেশে ফেরার ঘোর টা কতটা উপভোগ কর?

অনুব্রতাঃ-হুম অনুভব আর উপভোগ দুইই করি।দূর থেকে অনেককিছুই বেশি কাছের মনে হয়!


সুদীপ্তঃ-আঞ্চলিক কবিতা তোমাদের চোখে ঠিক কী? ( সবার জন্য প্রশ্ন এটা)

রায়বাবু'র উত্তরঃ-দেখো বর্তমানে আঞ্চলিক কবিতা আমাদের মানুষের কথা বেশী শোনায়।তুলে আনে সমাজের মনস্তত্ত্ব।ফুটিয়ে তোলে দৈনন্দিনের  খুঁটিনাটি।

অনুব্রতা'র উত্তরঃ-খুব ইন্টারেস্টিং লাগে এই ব্যাপারটা।আলাদা আলাদা জায়গার ভাষাশৈলী, সেখানকার সমাজের চিত্র স্বচ্ছ ভাবে তুলে ধরে।

আজহারুল'র উত্তরঃ-কিছুই না একটা দাগ কবিতা তো কবিতাই।

সুদীপ্তঃ-কবি শ্রীজাত  আর কবহ সুবোধ -র মধ্যে কাকে তোমরা ১০০ দেবে? ( এটাও সবার জন্য প্রশ্ন)

রায়বাবুঃ-কঠিন প্রশ্ন।
কোনও কোনও ক্ষেত্রে এমন উত্তর দেওয়া সত্যিই কঠিন।
তবে দুজনের প্রতিভাই আমাকে মুগ্ধ করে।

অনুব্রতাঃ-কাউকেই নয়।কারণ আমি মনে করি কবিতার উৎকর্ষ আকাশের মতো।ছোঁয়া যায় না।

আজাহারুলঃ-কেউ ১০০ পেতে পারেনা ওরা
৮০-৯০,১০০ তো রবীন্দ্রনাথ

★[ একে অপরের কেমন লাগে জানি চলুন  ]★

সুদীপ্তঃ- রায়বাবু'র কাছ থেকে শুনব তার চোখে লেখিকা অনুব্রতা?
রায়বাবুঃ-প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব লেখিকা অনুব্রতা।
(যেটুকু পরিচয় ঘটলো তার সাপেক্ষে)

সুদীপ্ত সেনঃ- অনুব্রতা'র মুখ থেকে শুনব তার কাছে আজাহারুল ইসলাম?
অনুব্রতাঃ-আজাহারুলের বেশ কিছু লেখা মন ছুঁয়ে যায়।বেশ ম্যাচিউর।শুভেচ্ছা অফুরান।

সুদীপ্তঃ- এবার জানতে চাইব আজাহারুল দা তোমার চোখে রায়বাবু কবিতাওয়ালা?
আজাহারুলঃ-অনেকটা ভরসার মতো,আসলে
ওহ খুব প্রতিবাদী,এটাই আমাকে টানে ওর দিকে।


★চলুন জেনে নিই, নতুম দের কী বলতে চাও তোমরা, যারা তোমাদের মতো জনপ্রিয় হওয়ার আশা রাখে।★

আজাহারুলঃ-দেখুনজনপ্রিয়তা অভিনেতাদের দায়বদ্ধতা কবির না, তবে কবিতার জনপ্রিয় হবার দায় রয়েছে। সেটার চেষ্টা ওরা করতে পারে

রায়বাবুঃ-আমি এটুকু বলতে পারি আমি এমন সংগঠন গড়ার জন্য মুখিয়ে আছি,যেখান থেকে নতুন কিছুজনকে তুলে আনা যায়।

অনুব্রতাঃ-জনপ্রিয় হওয়ার জন্য কখনোই কিছু করিনি।জনপ্রিয়তার পিছনে না ছুটে নিজের কাজকে ফোকাস কর।কাজকে ভালোবেসে কাজ করো।সেটাই একমাত্র দায়বদ্ধতা।

অরূপ সরকারঃ- কেমন লাগল আজকে তোমাদের "জলফড়িং-র" এই বিজয়া বৈঠক?

অনুব্রতা দিঃ-বেশ ভালো লাগলো।অন্যরকম।

আজাহারুল দাঃ-সত্যিই খুব ভালো লাগলো,
কিন্তু আমি এমনভাবে এই সময়টা ব্যস্ত হয়ে পড়েছি, তাই খুব একটা খুলে কথা বলতে পারলাম না, ভালো পদক্ষেপ জলফড়িংএর

রায়বাবু দাঃ-বেশ ভালো লাগলো সকলের সাথে সময় কাটাতে পেরে।
ধন্যবাদ ও আগামীর শুভকামনা সকলকে।


সুদীপ্তঃ- একদম শেষ পর্ব আর আমরা জানি যার শেষ ভালো তার সব ভালো। তাই শেষ টাকে আরও ভালো করার জন্য কবিতাওয়ালার গাওয়া একটা ছোট্টো গান শুনব কয়েক লাইন।

[ এখানে গানের ভিডিও টা হবে]


সুদীপ্ত + অরূপ ঃ-বিদায়, সকলে ভালো থাকবে, আরও লিখে চলো, আনন্দ দিয়ে চলো আমাদের মতো শত শত পাঠক দের।



ভিডিও এডিটঃ- মানস খাঁড়া

[ মানস দা ছবি ]

প্রকাশকঃ- অরূপ সরকার

[ অরূপ দার ছবি ]


এডিটর ঃ- সুদীপ্ত সেন

[ সুদীপ্ত'র ছবি ]

     __________সমাপ্ত ____________