নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে

বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮

জলফড়িং-র আমরা


১.)
______জলফড়িংয়ে সূর্যোদয়
                    সুনন্দ মন্ডল

প্রতিদিনই সূর্য ওঠে.....
প্রতিদিনের ঢঙেই সকাল আসে
আলোকরশ্মির পসরা সাজায়।
পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়ে,
ভায়া মাধ্যম মাথার উপর আকাশ!

সূর্য একই আবহে মাতে রোজ
কিন্তু সকালটা সবার এক নয়!
সবার জীবনে আলাদা আলাদা সকাল
আলাদা আলাদা রঙ
কিংবা বেরঙিন জীবন।

জলফড়িং এর জন্মলগ্নে ছিল চোখ আর মুখ
ক্রমশ ডানা ঝাপটানো শুরু দিনে দিনে।
বেড়েছে পরিধি, বেড়েছে পরিচয়
নতুন সকালের মতোই নতুন আপনজন ঘেঁষে।
       
 


২.)
সঞ্চয়ন
জয়দীপ রায়

পাথুরে রাস্তায় মেঘের কুন্ঠাবোধ
রেলিঙের দাড় বেয়ে সারিবদ্ধ বৃষ্টিরেখা
আমি সূর্যদয় দেখিনি
বিপ্রতীপ কোনের সঞ্চিত কুহেলিকায়
প্রহর শেষের বিকেল দেখেছিল রুদ্রছায়া
মহাকালের বিস্তীর্ন পটভূমি বুকে জন্মেছিল
একালের ধ্রুবক
স্বপ্নিল মেঘের মাঝে অবলীলায় বলা যায়
আমি মৃত্যুর চেয়েও বড়
ভস্মীভূতের ছাই মেখে নির্দ্ধিধায় বলতে পারি
আমি হোরিখেলা দেখিনি
তবে হে গৃহবাসী আমি খেলতে চাই
সহজিয়া রত রঙে
ঘনীভূত মেঘে এঁকে দেব পুংলিঙ্গ সুর
বিনম্র জ্ঞাপনে।



৩.)
*The subtle thief of a happy youth*
--------------------William Wss
When my day is of sorrow --- a heavy day!
You are steadily idle to leave me.
You sympathize me? You pity me?
Or you chide me or rejoice at my poor day?
What kind are you of --- you impish?
Whatever:
You cannot be noble enough.
For, when my day is of complacency --- light day!
You steal it on your wing and then disappear
You are the subtle thief of a happy youth.
 
                         


                           
৪.)
জন্মান্তর  ।
অরূপ সরকার।

এক চেনার অনেক জন্মে
ঠাই পেয়েছে পান্ডুলিপী
অনামি রা ভিন্ন থাকে কে যেন তাদের একক করে ।
এই তো চেনা সেদিনের
চলছি সমান্তরাল;
কিছু নামি অনামি কিছু রাখিনি তার আড়াল।
ফড়িং পাখায়  রঙ ধরেছে ,
উড়ছে কেমন বেশ ।
আজ সকলের সঙ্গে আছে জন্মদিনের রেশ।
ছিলাম সবাই ব্যার্থ শ্রমিক ,
তুমিই দিয়েছ দাম ;
জন্মদিনের প্রথম ক্ষণে ,
সবাই একক হলাম
এই যে দেখো হাত ধরেছি
সন্ধি করেছি মনে ,
তোমায় কেবল শুভেচ্ছা জানাই ,
জন্মদিনের ক্ষণে।


৫.)
"বন্ধুর মৃত্যু''
         - সুদীপ্ত দেবনাথ

     লালুকে দেখতে অসংখ্য লোকের ভিড় ৷ লালু কোনো সেলিব্রেটি নয় ৷ লালু একটা কুকুর ৷ আজ তার মৃত্যু হয়েছে ৷ তার মৃত্যুতে অসংখ্য মানুষ কানছে ৷ কিন্তু একটা কুকুরের মৃত্যুতে সবাই কানছে কেন ? বিষয়টা বেশ আশ্চর্যের ৷ তাহলে গল্পটা প্রথম থেকে বলি ৷

    সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠাটা আমার স্বভাব নয় ৷ কিন্তু আজ ঘুম ভেঙে গিয়েছিল ৷ একটা দুঃস্বপ্ন আমাকে জাগিয়ে তুলেছিল ৷ স্বপ্নটা কী ছিল , তা কিছুতেই মনে করতে পারছিলাম না ৷ জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই কিছু একটা বিপদের আভাস পেয়েছিলাম ৷ আমি ছুটে গিয়েছিলাম একটি স্থানে ৷ যেখানে আমার বন্ধু লালু থাকে ৷ কেন জানি না , আমার মন আর অন্য কোথাও নয় , সেখানেই ছুটে চলল ৷
   
    লালু আমার বন্ধু ৷ মানুষ নয় , কুকুর ৷ লালু একদিন আমার তৈরী মাটির একটি মূর্তি ভেঙে দিয়েছিল ৷ সেই রাগে রোজ আমি লালুকে দেখলেই পাথর ছুড়ে মারতাম ৷ কিছুই করত না সে ৷ শুধু পালিয়ে যেতো ৷ একদিন আমার টিউশন থেকে বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যায় ৷ এমন সময় পথে লালু আমার সঙ্গ নেয় ৷ আমি লালুকে তাড়তে থাকি ৷ তবুও সে আমার পেছন পেছন আসতে থাকে ৷ বিরক্ত হয়ে আমি তাকে পাথর ছুড়ে মারি ৷ লালু আঘাত পেয়ে চলে যায় ৷ আমি বাড়ির দিকে রওনা দি ৷ হঠাৎ আমার সামনে হাজির হয় কিছু লম্বা ও ভয়ঙ্কর চেহাড়ার তিনটে মানুষ ৷ আমি তো তাদের দেখা মাত্রই ভয়ে থমকে গিয়েছিলাম ৷ শিতের রাতে আমার শরীর দিয়ে রীতিমত ঘাম ঝরছিল ৷ বয়সটা কম হলে হইত আমার প্যান্টও ভিজে যেত ৷ কারন টাক মাথা লোকগুলোর হাতে ছিল একটি করে ধারালো অস্ত্র ৷ একটি লোক আমার ঘারে হাত দিয়ে জিজ্ঞাসা করল 'কোথায় ?'
আমি কাঁপো কাঁপো শরীরে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলেও ভয়ে গলা দিয়ে স্বর বেড়োলো না ৷
এমন সময় লালুর আওয়াজ ! পেছনে তাকাতেই দেখতে পেলাম , লালু ছুটতে ছুটতে আসছে ৷ লোকগুলো লালুকে তারানোর চেষ্টা করলেও লালু যে পরিমানে তাদের কামরে ছিল , তা তারা জীবনেও ভুলতে পারবে না ৷ লোকগুলো লালুর ভয়ে অস্ত্র ফেলে দিয়ে প্রাণপনে ছুটে পালিয়ে ছিল ৷

    এই ভাবে লালু আমাকে বহু বিপদ থেকে রক্ষা করেছে ৷ তাই লালু আমার খুব কাছের বন্ধু ৷ লালু যেখানে থাকে , জায়গাটা একটা বাগান ৷ আমি সেখানে যেতেই দেখতে পেলাম অনেক লোকজনের ভিড় ৷ ভিড় ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই আমার হৃদয়ে বজ্রপাত হল ৷ কারন আমার চোখ দর্শন করল লালুর মৃতদেহ ৷ কান্নায় ভেঙে পরলাম আমি ৷ আমার কান্না দেখে সেখানে থাকা সকলেই কানতে শুরু করল ৷ আমি আশ্চর্য হয়ে উঠলাম ৷ আমার নাহয় বন্ধু ছিল ,  কিন্তু সবাই কানছে কেন একটা কুকুরের মৃত্যুর জন্য ?
আমি তাদের জিজ্ঞাসা করলাম ৷
তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ উত্তর দিল ''আমি যখন অ্যাক্সিডেন্ট করছিলাম , তখন লালু আমায় বাঁচিয়ে ছিল৷"
কেউ বলল ''আমার চুরি যাওয়া জিনিস লালু ফিরিয়ে দিয়েছিল , আর চোরকেও ধরে ছিল৷"
কেউ আবার বলল ''আমাকে খুনের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল লালু৷"
এই ভাবেই বিভিন্ন লোক সাহায্যের বিভিন্ন বর্ণনা দিতে লাগল ৷ সেখানে মানুষ ছারাও অন্যান্য কুকুর , ছাগল , হাঁস , মুরগি সহ কয়েকটি পশু পাখিও ছিল ৷ তারাও কিছু বলার চেষ্টা করল ৷ কিন্তু তাদের ভাষা আমি বুঝতে পারলাম না ৷ কিন্তু এটুকু বুঝতে পারলাম , তারাও লালুর সাহায্যপার্থি৷
আমি আশ্চর্য হয়ে উঠলাম ৷ কারন আমি ভাবতাম , লালু হইত শুধু আমারই উপকার করত , শুধু আমারই বন্ধু ছিল ৷ কিন্তু লালু তো অসংখ্য মানুষের পাশে থেকেছে , অসংখ্য মানুষকে বিপদ থেকে বাঁচিয়েছে ৷ যা মানুষরাও করে না ৷ কিন্তু লালু একটা পশু হয়েও সবার সাহায্য করেছে ৷ সেই দিন থেকে আমি স্থির করলাম , যদি কেও আমাকে কুকুর বলে ডাকে ৷ তবে সেটাকে আমি অপমান নয় , প্রশংসা মনে করব ৷



৬.)
অপেক্ষা                                  
  -------অমিয়া গড়াই

ক্লান্ত  দুপুরের হাতছানি  পেরিয়ে দূর পথে শব্দরত
ট্রেন ৷
                                           
অবসন্ন  মুখে   গুটিকয়েক   যাত্রী   অপেক্ষারত ৷
                                         
আমরাও   অপেক্ষায়  বসে  সেই    পথে৷

হঠাৎ বিষন্নতা কাটিয়ে  এক করূন শিশুকন্ঠ৷

সেও যেন অবসন্ন  মুখগুলোর প্রতিরূপ ৷

কন্ঠে  তার  একটাই সুর  "বাবু -সকাল থেকে কিছু  খাইনি"

অপেক্ষায় সেও ছিল  অপেক্ষায় আমরাও
কিন্তু   উদ্দেশ্যের অভিমুখ  ভিন্ন৷৷
 
   
                                         
                                               
৭.)
বলো?
---------সুদীপ্ত সেন

যদি অতটা উঁচু হই আকাশ যতটা
যদি ততটা নীচু হই মাটির মতো করে,
তাহলে তোমাকে স্পর্শ করবনা।

স্পর্শ না করে কীভাবে থাকব
আমি তো নিরুপায়, আমি যে ভালোবাসি
তোমার লেখাকে!

তাই এক কাল ঘুমোতে পারিনি,
খুঁজেছি শুধু আমি অনেক তুমি গুলো
যাদের স্পর্শ না করে থাকা যায়?

তাই তো আজ সব জমিয়ে রেখেছি
তোমার সৃষ্টি আর সৃষ্টি শ্রষ্ঠাদের
এবার বলোনা স্পর্শ না করে কীভাবে
থাকা যায়?

EXCLUSIVE INTERVIEW

             || এক্সক্লুসিভ সৌমিত্র ||




সৌমিত্র বাবু জলফড়িং-র পক্ষ থেকে আপনাকে প্রথমেই জানাই নমস্কার।

->> শিল্পীঃ- নমস্কার

১.) বাচিক শিল্পী সৌমিত্র ঘোষ ঠিক কবে থেকে বাচিক শিল্পী হয়েছে মনে আছে?

উঃ-আমি আজও বাচিক শিল্পী হতে পারিনি।



২.) এতো ব্যস্ততা আপনার, যখন তখন ডাক আসে আজ এখানে তো কাল ওখানে অনুষ্ঠানের জন্য। মাঝে নিজের জন্য কতটুকু সময় থাকে?

উঃ-যত ব্যস্ততা থাক না কেন সেই ব্যস্ততা টুকু তো আমার নিজের জন্য


৩.) যে কোনো লেখা কী আবৃত্তি করার যোগ্য?

উঃ-এক কথায় বলা মুশকিল। এটা নির্ভর করে অনেকটাই শিল্পীর ওপর।



৪.) একটি লেখা আবৃত্তির জন্য কতবার পড়ে সৌমিত্র ঘোষ?

উঃ-ওইভাবে ঠিক বলা যায়না।তবে বলতে পারি যত পড়বে ক্রমশ কবিতার ভেতরে ঢোকা যাবে।


৫.) আবৃত্তির জন্য পরিবেশ কতখানি প্রয়োজন? যেমন সব পরিবেশে গান হয়না।

উঃ-যেকোনো শিল্প পরিবেশনার জন্য অবশ্যই শান্ত পরিবেশ হওয়া উচিত।





৬.) শ্রীজাত নাকি সুবোধ সরকার কার লেখা আবৃত্তি করলে ভালো লাগবে আপনার?

উঃ-দুজনের লেখা আবৃত্তি করলে আমার ভালো লাগে।তবে অপেক্ষাকৃত শ্রীজাত'র কবিতা বেশি আবৃত্তি করি।


৭.) এখনকার দিনে ফেসবুক কবির চল খুব, এমন কোনো বেনামী ফেসবুক কবির নাম আপনার তালিকায় আছে কী যার লেখা আবৃত্তি করতে চান?

উঃ-আমি বেশিরভাগ অনামী কবির কবিতা পড়ি।



৮.) কোনো লেখা আবৃত্তি করা হলে কবিরা বলেন ধন্যবাদ আমার লেখার প্রাণ দেওয়ার জন্য। কী মনে হয় এই কথাটার অনুভব কেমন আপনার কাছে?

উঃ-কথাটি আংশিক সত্য কিন্তু সম্পূর্ণ নয়। কারণ আগে তো ভালো লেখা তারপর তো অন্যকিছু।



৯.)  স্কুল জীবনের সবচেয়ে স্বরণীয় মুহূর্ত আপনার কাছে?

উঃ-স্কুল পালিয়ে নদীরঘাটে বসে থাকা( ইচ্ছামতী নদী)



১০.) আপনার চোখে ওয়েব ম্যাগের ভূমিকা কী? আপনার প্রিয় ওয়েব ম্যাগের নাম?

উঃ-ওয়েব ম্যাগের যথেষ্ট ভূমিকা আছে।ওইভাবে বলাটা ঠিক নয়। সব ম্যাগের একটা মূল্য আছে।



১১.)প্রথম পাওয়া পুরস্কার/ সম্মান?  তার উপলব্ধি কেমন ছিল?

উঃ-যেকোনো সম্মান বা পুরস্কার অনেকখানি ভালো লেগে থাকে।প্রথম সম্মান মানে তো চিরদিন স্মৃতি পথে বিরাজ করে থাকে।


১২.) সৌমিত্র ঘোষ পপুলার মানুষ, শিল্পী ব্রততী বন্দোপাধ্যায় তাঁকে এই বছর বিজয়া বৈঠক বারবার দেখা গেল বড়ো পর্দায়, আপনাকে দেখলাম না কেন?

উঃ-বড়ো পর্দা বড়ো মানুষের জন্যে,প্রণাম্য মানুষের জন্য।এইটুকুই থাক আর বলতে চাইনা।







১৩.) যারা আবৃত্তি করছে আজকাল, যারা নতুন তাদের জন্য কিছু বার্তা।

উঃ-কবিতার প্রতি নিবেশিত হওয়া, কবিতাকে ভালোবাসা,কবিতার নান্দনিক দিকটা দেখা,কবিতার বাহ্যিক আরম্ভর থেকে দূরে থাকা।




১৪.)  আবৃত্তি শিক্ষার জন্য স্কুল তৈরী হচ্ছে এ বিষয়ে আপনার মতামত। আবৃত্তির জন্য স্কুল কতখানি দরকারি?

উঃ-অবশ্যই প্রয়োজন কিন্তু সম্পূর্ণ নির্ভর করবে স্টুডেন্টের ওপর,সে নিতে কতটুকু পারবে।


১৫.) একটা বিরহের আবৃত্তি আর একটা প্রেমের আবৃত্তি একজন করছেন তাকে দু'ধরনের আবৃত্তির জন্য আপনার উপদেশ কী?

উঃ-এককথায় বলা মুশকিল, অবশ্যই তো আলাদাভাবে বাচনভঙ্গি এবং ezpretion থাকবে।



১৬.) আপনার খুব আনন্দের দিন আজকে এমন দিনে কোন আবৃত্তিটা করতে চান?

উঃ-অবশ্যই রবীন্দ্রনাথ বলব


১৭.) আপনার চোখ বন্ধ করে দেওয়া হলো আপনার সমানে দুটো চিরকূট রাখ হলো, বলা হলো একটি তুলুন আর বলে দেওয়া হলো একটা চিরকূটে অংশুমান করের লেখা আর অপরটিতে তুষারকান্তি রায়ের লেখা। আপনি তুললেন চোখ খোলা হলো দেখা গেল চিরকূটে তুষারকান্তি রায়ের লেখা, আপনি খুশি হবেন, নাকি মন থেকে ভাবছিলেন অংশুমান করের লেখাটি উঠে এলে ভালো হতো?

উঃ-☺ মনে মনে ভাবছিলাম অংশুমান দার লেখাটা




১৮.) আনন্দের শ্রীজাত ভালো নাকি সুখের দিনের?

উঃ-দুটোই ভালো




১৯.) আবহ সঙ্গীত কতখানি দরকারি আবৃত্তির জন্য?

উঃ-হলে ভালো হয় অলংকার হিসেবে তো ভালোই



২০.) আমাদের ওয়েব ম্যাগ "জলফড়িং" নিয়ে কি বলবেন?

উঃ-এইরকম কাজের প্রতি আমার শুভ কামনা রইল। ধারাবাহিক ভাবে এগিয়ে চলুক। অনেক শুভেচ্ছা রইল


°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
                    | পছন্দের সবকিছু |
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°


১.) প্রিয় রঙঃ-কালো

২.) প্রিয় খাবারঃ-ভাত,ডাল আলুপোস্ত

৩.) প্রিয় পোশাকঃ-জিন্স আর কুর্তা

৪.)প্রিয় কবিতাঃ-প্রেম

৫.) প্রিয় লেখিকাঃ-মহাশ্বেতা দেবী

৬.) প্রিয় গায়কঃ- শ্রীকান্ত আচার্য্য

৭.) প্রিয় বাংলা সিনেমাঃ-  মনের মানুষ

৮.) প্রিয় গানঃ- গানই প্রিয় সেইভাবে বলা যায়না

৯.) যেটা বহুবার আবৃত্তি করেছেন এমন কবিতার নামঃ-
"ব্যক্তিগত স্মৃতির স্তম্ভের পাশে দাঁড়িয়ে" প্রবাল কুমার বসুর লেখা

১০.) শীত প্রিয় নাকি বর্ষাঃ- শীত

 আপনার কাছে কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়?

---->> কাছ থেকে দেখা, প্রবাদ-প্রতিম মানুষ। আমারও সৌভাগ্য উনার সাথে আমার আলাপ হয়েছে এবং উনার পরশ পেয়েছি। বাড়ির সাথে যাতায়াত আছে। তাঁর সাথে বার্লিনে কবিতা পড়া, জার্মানিতে যাওয়া বিশাল বড়ো পাওনা।
বাংলা সাহিত্য, বাংলা কাব্য, বাংলা  যতদিন থাকবে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় "নীললহিত" এবং নীরা ততদিন থাকবে।


    [ জলফড়িং-র জন্য আপনার বার্তা ]

শিল্পীঃ- একটা ওয়েব ম্যাগ যা প্রযুক্তিকে সহজ ভাবে গ্রহণ করেছে।
জলফড়িং আরও এগিয়ে যাক, পথ আরও সুগম হোক।
আমি পাশে আছি।


বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

ফিনিক্স
-মধুমিতা নস্কর

জ্যোৎস্না ভেজা পথ পেরিয়ে
সত্যিই যদি আবার কখনও
ফিরে আসতে ইচ্ছে হয়,
অলৌকিক রাতের হাত ধরে,
আমাকে পাবে কি খুঁজে,
সেদিনের ফেলে যাওয়া
দগ্ধ নিঃশেষ জতুগৃহে!

অশ্রুপ্রপাতে ভাসমান জীবন্ত আগুন
রেখাচিত্রে আঁকছি
মাখছি কঙ্কালে।
30°মাইনাস শীতে ঘামে ভিজে পুরো শরীর
হাতপাখার খোঁজ অনন্ত বরফে।
অদূরে দাঁড়িয়ে কোন শুভাকাঙ্ক্ষী,
না তুমি নও,এক মলীন আত্মার ছায়া!
অসুখী ফুল ভোর খোঁজে বালিশের ভাঁজে,
হটাৎ জ্যোৎস্নার ফাঁকফোকর পেরিয়ে
উড়ে যায় হলুদ অক্ষয় ফিনিক্সের সাথে।

ভুমিকম্পে ধ্বসছে জতুগৃহের দক্ষিন দেওয়াল,
ধুলোঝড়,উড়ছে ধুমকেতু,নীহারিকার দল।
ওই আসছে হড়পাবাণ,অন্ধকার।
আসতেই,ওইতো দেখা যাচ্ছে,
অন্ধকারের টুঁটি চেপে ধরছে
তোমার অশ্লীল কনীনিকা,
মৃত্যুরা ছারখার!

কর্নিয়াতে আবদ্ধ অন্ধকার,
রেটিনা ঢালছে রক্তজ্যোৎস্না!
পথ ভিজছে!
দূরে ঘনীভূত রহস্য,বুঝতে চাইনা।
শুধু বুঝতে চাই আমায় না পাওয়ার বেদনা,
জ্যোৎস্না,তোমার হৃদয়!!

Review pen

জি কে নাথের কলমে কবি অংশুমান কর

আবেগ,অনুভূতি,বোধ,কল্পনা সর্বোপরি অভিজ্ঞতাকে সফল ভাবে পাঠক সমাজের কাছে তুলে দেওয়াই হলো কবিদের প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য।স্বল্প পরিসরে সময়ের সাথে পরিবর্তিত নানা বিষয়ের বৈচিত্রকে কবি তাঁর ভাবনায় বহতা জীবনের মধ্য দিয়ে গভীর অভিব্যক্তিকে নিংড়ে বের করে আনে।কঠোর বাস্তবের পাথরের চাঁই ভেঙে বয়ে যাওয়া কবিতার স্রোতে ভাসমান পাঠকের চিন্তাকে বহুমুখী খাতে প্রবাহিত করে কবি খুবই সুনিপুণ ভাবে।সেদিক থেকে দেখতে গেলে কবি ও সমাজ দুটো ভিন্ন হলেও কোথাও যেন একসূত্রে গাঁথা কারণ কবি তো সমাজে থেকেই সমাজের বিভিন্ন আঙ্গিক কে তুলে ধরে তাঁর কলমে।
এতো কথা বলছি তার পিছনে কিন্তু এক কবির নিঃশব্দে পদচারণ লক্ষ্য করি ।তিনি আর কেউ নন আমাদের অত্যন্ত প্রিয় কবি অংশুমান কর।কবির কলমে আমরা প্রতিবার চক্রাকার ও ঘূর্ণায়মান সমাজ ও নাগরিক জীবনবৃত্তের একটা সুস্পষ্ট দিককে খুঁজে পাই।তিনি এক অদৃশ্য কবিতার মালা গাঁথার কাজ করে চলেছেন নিরন্তর।তাঁর কবিতার মধ্যে তাঁকে আমরা মানুষের জীবনের টানাপোড়েন, সুখ,দুঃখ, প্রেম,প্রতিবাদ সবকিছুকে এক এক করে গেঁথে পূর্ন জীবনের একটা মালা তৈরি করে পাঠকদের হাতে তুলে দিতে দেখেছি।মুগ্ধ পাঠকগণ সানন্দে ও সাগ্রহে তা গ্রহণ করেছে প্রতিবার।
পরিশেষে বলি,কোনো কিছুকেই সীমাবদ্ধ কিংবা গন্ডিবদ্ধ রাখতে চাননি কবি ।মুক্ত করেছেন প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর ভাবনাকে ওই অনন্ত অসীমের দিকে শুধুমাত্র কবিতার জন্য।
ভালো আছো কবি?
কোটি কোটি বছর অচেনা গ্যালাক্সির পথে পড়ে থাকা বিষয় বৈচিত্রের সম্ভারে
শিকড় ছিন্ন যান্ত্রিক জীবনের অভিযাত্রী ভাবনার তরী ভাসিয়ে
খুব একা অথচ সকলের মাঝে উঠে দাঁড়িয়ে
কখনো বা নিজের কাছে নিজের ধরা দেওয়া কল্পনা অনুভূতি শব্দে
আবার কখনো সৃষ্টির মধ্য দিয়ে যাওয়া অন্ধ দেওয়াল ডিঙিয়ে ভবিষ্য পথের প্রবাহিত বাতাসের তোড়ে
তুমি তো অমর কবি
বেঁচে থাকবে চিরকাল সকল হৃদয়ের আঁকড়ে ধরা খড়কুটো ধরে
ঘুরতে থাকবে অবিরত সৃষ্টিচক্র ,সৃষ্টির ভিতর সমাপ্তিচক্র
জগতের সকল আলো নিভে যাওয়ার পরও তুমি অন্ধকার ভেঙে বেরিয়ে আসবে নবসৃষ্টির আলোর বাতি হাতে ।।

                            জিকে নাথ

আমন্ত্রিত লেখক

তোমাকে –
         সূর্য সেনগুপ্ত

আমি যে ভালবাসি
অনেক, অশেষ
এই তো বেশ –
হৃদয়ের সব কটা জানালা খুলে দিয়ে
উড়িয়ে দাও প্রেয়সীর কেশ।
বাসনার পতাকার মত,
ছুঁড়ে দাও আবেগে সিক্ত চুম্বনের যত –
বকুল ফুলের সুবাসে
ওরা হেসে ফিরিয়ে দেবে সেই চুম্বন প্রিয়তমার ঠোঁটে
তখনই তো চাঁদ ওঠে,
ফুল ফোটে।

তখনই তো কোন এক খাত বুজে যাওয়া নদী
ভেসে যাবে সাঁড়াসাঁড়ি বানে,
তার টানে ভেসে যাবে আর সব কিছু,
যাহা আছে কম কিম্বা অনেক বেশী

শুধু বাকি রবে প্রেয়সীর হাসি
আমি যে ভালবাসি।




আমন্ত্রিত লেখক

হৃদাকাশে ভাসছে যে ওই
সৃষ্টি মেঘের ভেলা
আকুল হয়ে দিলাম জুড়ে
বরষ আনা খেলা
স্রষ্টার কাছে নেই হেমন্ত
সদা বরষ মাস
রেখেছি খোলা বক্ষ আমার
ঝরাও অভিলাষ
দাও ভরিয়ে সকল পাতা
হৃদসাগর দলে
জয়ের মালা আনবো ঠিক পরাবো তব গলে
আঁধার ফুঁড়ে পড়ুক ঝরে
আলোক রাশি রাশি
মিঠে রোদের কিরণ মেখে
হাসুক তৃপ্ত হাসি
নামটি তব পাখির গানে
ছড়াক ঘরে ঘরে
জলফড়িংয়ের আমন্ত্রণ
রইলো সবার পরে

ধীরেন্দ্র নাথ বাঙ্গাল



আমন্ত্রিত লেখক

নতুন বিজ্ঞাপন
তৈমুর খান
🌸
এই ভোরবেলা বিনয়ী হব না বিদ্রোহী?
দূর্বাঘাসের কাছে বসেছি
এখানে আমার বিবাহের ঘ্রাণ লেগে আছে

আকাশ রক্তাক্ত কেন রোজ?
কার তবে রক্তমাখা শাড়ি?
সমস্ত স্নেহের হাতে ঝলসে ওঠে রোদের তরবারি

জলের কল্লোল এসো
আর সব উল্লাসের পাখি
দুর্বার গার্হস্থ্যে নৌকা বাঁধি
ময়ূরেরা পেখম মেলুক
সমস্ত ঈর্ষার দিনে চুম্বন বিছিয়ে বসি চলো
আমাদের বিজ্ঞাপনে গোলাপ ফুটুক….
                

আমন্ত্রিত

কাটুম কুটুম থেকে

 ধুলোর মানুষ
---------হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

ধুলোয় বসে যে মানুষটা ভাত খায়
সে-ই একমাত্র ভাতকে চেনে

ধুলোর মানুষের কাছে দু'টো পা
হাঁটা ছাড়া কোনো রাস্তা নেই

আমাদের হাঁটায় ডাক্তারের নির্দেশ -----
" রোজ সকালে একটু হাঁটুন "
বাকি সময় ইচ্ছাযানে চড়ে
যখন তখন যেখানে খুশি

আমন্ত্রিত

সবুজ সাথি থেকে

ভাবনা // বিধান সাহা

এভাবে ভাবতে চাই নি
তবু ভাবনার উপর
ভর দিয়ে দাঁড়ালো
প্রাণের সৌন্দর্য
নতুন প্রেরণার
আলম্ব বিন্দু হয়ে
চেতনার রঙিন
উচ্ছ্বাস ভেসে গেল
আরও রঙ ছড়িয়ে
জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত
মোহময় হয়ে উঠলো
অতি উৎসাহিত
আবেগের সচল হাত ধরে ......

আমন্ত্রিত

সপ্তাশ্ব পত্রিকা থেকে

1.)
তুমিও বোঝো🌿
     ----নীলমেঘ

নারী, তুমি অবলা নও।
তোমার পরাধীনতা-তোমার অনুভূতি-তোমার আবেগ--- আমি বুঝি।
মানি তোমায়, স্বীকার করি তোমার না বলা কথা।

তিতলির মত তোমার ইচ্ছেগুলো ছুঁতে চায় না ফোটা ফুলের গভীরতা।
জোর করে তা খাঁচায় বন্ধ করব! --- না না তেমন পুরুষ আমি নই।

টুপ টুপ করে ঝরে পড়া সজনে ফুলের মত তোমার দুঃখগুলো---
ভাসিয়ে দেব, --- ওই দূরের নদীটাতে।

সকালের শিশির ধোওয়া শালিকের ডানার মতো তোমার খুশীতে---
গোধূলির বুক চিরে আনা একগুচ্ছ গোলাপের গন্ধ, --- মিশিয়ে দেব।

তোমার পদ্মপাপড়ি বুকে জমে থাকা প্রেমে---
খুঁজে নেব, --- আমার শান্তি, সুখের ঠিকানা।

তোমার ইচ্ছে-তোমার দুঃখ- তোমার খুশী- তোমার প্রেম--একান্তই আমার।

নারী, তুমি মেয়ে- তুমি প্রিয়া- তুমি স্ত্রী-তুমিই মা!
আমি তোমায় বুঝি।
আমি পুরুষ--- তুমিও আমায় বোঝো।
                 -------------
2.)
গনতন্ত্রের গ্রীণল্যান্ড

---- শ্রীনীল


একটা এশিয়া- আমার দুঃখ
একটা প্রশান্ত- আমার স্বপ্ন
একটা কাস্পিয়ান-আমার কান্না

একটাই গ্রীণল্যান্ড ---
পামিরের আকাশ থেকে,
গড়তে গড়তে শত সহস্রবার ভেঙে পড়া চাঁদ
আবারো মুখ তুলে চায়, প্রতিরাত
আবার ভেঙে পড়া ......
হাইড্রোজেন ভালোবাসা নিয়ে
কাস্পিয়ানের বাষ্পায়ন হয় না কোনোদিন,
তাই আমার চাঁদ রঙীন বোতলে ডুব দিয়ে
আকাশে ছড়িয়ে দেয় সুগন্ধি অ্যালকোহল

আমার চাঁদ কঙ্গোর মাটি দিয়ে গড়ে
মানুষ খেকো মনুষ্যত্বের মূর্তি।
আমার চাঁদ মেরু বরফের শাড়ীতে
বাঁচাতে পারে ইয়েতি মেয়ের ইজ্জত।
অ্যাঞ্জেলের জলধারায় পা ভিজিয়ে
কখনো এঁকে দেয় গনতন্ত্রের গ্রীণল্যান্ড।

তাই চাঁদের লোভে, বারবার
টিকটিকি জীবনের প্রসূক্তা আত্মহত্যাই ---
একটা এশিয়া, একটা প্রশান্ত
একটা কাস্পিয়ান  ...


(সপ্তাশ্ব )



আমন্ত্রিত

পদক্ষেপ লিটিল ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে

১.)
পাখিটা
শ্রী আশীষ মুখোপাধ্যায় ।

আমার হৃদয়ের যত খবর রাখে
গোপনবাসী একটি পাখি
নিশুতি সূপ্তিতে ও একা জেগে থাকে
আপন জগতে স্বাধীন সুখী ।
আমার হিয়ার ঝর্ণাধারায় পুষ্টি খোঁজে
পিপাসায় জল ,ক্ষুধার দানা
হৃদয় আকাশে পাখা মেলে দিতে ওড়ে
শেকল খাঁচার নেইকো মানা ।
আমার হৃদয়ের নির্ধুম আকাশ খোলা
ওখানেই বনচ্ছায়ার শীতল ঘর ,
কখনো জাগায় , ঘুমদেশে নিয়ে যায়
শিশে তোলে সুরসঙ্গীতে আসর ।
গোপন পাখিটা আমাকেই দেখে বোঝে
নেয় নাকো অন‍্য কারোর দর্পণ
নিজের আবেগে আবেশে গড়ে পৃথিবী
সে যে তার একান্ত নিজস্ব দর্শন ।
যত সুখ দুঃখের ইতিহাস নখদর্পণে তার
জানে  বুকের স্পন্দন প্রতিটা
কোজাগরী পৃথিবীর খবর এনে দেয় সে
মন্বন্তরের খবর ও দেয় পাখিটা ।।

২.)
যন্ত্রণা সুখ
এস এম দাউদ আলি

যন্ত্রণা গুলো ফাঁসজাল হয়ে
নৌকায় বাঁধা
ফাঁক দিয়ে তার
বয়ে যায় সময় নদী
এ তীরে ভিড়েনা বসন্ত বায়ু
যন্ত্রণা সুখ মেখে
পথ চলা!

আমন্ত্রিত

নোঙর ওয়েব ম্যাগ থেকে

প্রভাতকিরণ
আরিফুল ইসলাম সাহাজি

ক্ষুব্ধ প্রশ্নবিদ্ধ হৃদয় নিস্তব্ধ সন্ধ্যা পেরিয়ে

ঘন আঁধার রাতে একগুচ্ছ বুনিত স্বপ্ন হাতড়ায়

ঘুম  আসবে না ! চেতনার গলিত অন্ধকার

খেয়ে নিয়েছে বাঁচার সব রসদ , শরীরী ঘ্রান
গুমরে মরে লাশকাটা ঘরে । আহত প্রজাপতির জবানবন্দীতে বিশুদ্ধ স্বপ্ন দেখবো বলে চৌরাস্তায় এসে দাঁড়ায় । গুপ্তঘাতক ওঁতপেতে ছিল আগেই , ঘুমাতে পারছে না হয়ত সেও । এগিয়ে আসছে  সে ! ভয় পাচ্ছি এবার ।
সময়ের গাঢ় অন্ধকারে হারিয়ে যাবো , কেমন রাক্ষস একটা সময় ! সময়ের পেটে কি ভয়ঙ্কর ক্ষুধা । সাক্ষী থাকুক জোস্না । হাঁটু গেড়ে বসেছি এখন , এই চৌরাস্তায় অভিনীত হোক আমার মৃত্যুপালা ।একটা আলোর কিরণ এসে পড়ল চোখে , দেখলাম কিছু নেই আর  । ।
          ---------

আমন্ত্রিত

উন্মনা লিটিল ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে

১.জলফড়িং এর জন্মদিনে
              ভারতী ধর
জলফড়িং এর প্রথম জন্ম জয়ন্তী বাসরে
    উৎসাহের অভিনন্দন অভিসার,
শেকড়ে শেকড়ে শিরায় শিরায় আত্মীয়বৎ যারা
এনেছে শুশ্রুষার উপহার ।
কেউ বা এনেছে ছন্দে ছন্দে
 কেউ বা আবার গদ্যে আনন্দে,
আশার কমনীয় অনুসন্ধানের পথে
  প্রবল প্রণয়ের আকর্ষণ ।
বিচিত্রগামী সর্বত্রগামী পথের
যতই বৈচিত্র‍্য থাক না
সবই মালিন্য তাড়ানো,অন্তর মেশানো
    অন্তরের নিঃসংকোচ আভরণ ।
চড়াই উৎরাই পথ,গলিপথ হলে হোক না
তক্তাপোষ বিশ্বাসের আখড়ার উপবন,
আস্বাদে ,শ্রদ্ধায়,হৃদ্যতায়, আলিঙ্গনে
মহামিলনের ঐক্যবন্ধন।
 আজ জন্মদিনের শুভলগ্নে জলফড়িং এর
     প্রেরণার ইচ্ছাপূরণ
দিনে দিনে বেড়ে চলুক জলফড়িং এর
স্বপ্নের উৎসের উদ্যান ।

২.)

আরোগ্য  #  বিনয় হাজরা

আমার একটা পুরনো রোগ আছে
                 অনেক দিনের ।
একটা কলম একটু কাগজ
আর মাঝে মাঝে হাফ কাপ চা
এসবই ওষুধ আর কিছু উপাহার ।

আরোগ্যে ভূমিষ্ঠ হয় কবিতা আমার ।

(উন্মনা)

আমন্ত্রিত

আলাপী মন ওয়েব ম্যাগ থেকে

১.)চিলে কোঠার আড়ালে
   অমল দাস

তারা তুই মেঘে ঢেকে গেলি এতই!
আমি নিরালায়, চিলেকোঠার আড়ালে;
একবার দেখার ফুরসত নেই!
মাঠে দূর দিগন্তে আকাশ মিশে যায়,
একরাশ ক্ষোভ উগরে সন্ধ্যা ঘনায়।
পাখিরা ডানা মেলে নিজ ঘরে ফেরে,
আমায় জানায় বিদায়, হয়তো ফের কাল!
ব্যস্ত রাস্তার ভিড়ে, ট্রেনে বাসে, সমাবেশে
নিজেকে খুঁজি মিছে আলেয়ায়।
গ্রামের মেঠো গলিপথে সেই বাঁশঝাড়েরা -
আজও আমায় দেখে অট্টহাসি হাসে।
শতাব্দী প্রাচীন জীর্ণতা ঘিরে আমায়,
এখনো আছি! ইতিহাস হতে বাকি!
সূর্যের মোকাবিলা করে দিনের আলোয় খুঁজি তোকে,
রাতে হারিয়ে যাই অজস্র আলোর ভিড়ে।
উত্তাল সমুদ্রে জাল ফেলি ।
শুনেছি সেখানেও তারামাছ থাকে!
বড্ড ইচ্ছে হয়, জানতে সেও কি তোর মত?
*************************

2.)
স্বপ্নের উজানে
(✍ রুদ্র প্রসাদ ।)

রঙিন, বাহারী কষ্টে কল্পিত সাগরের উপকূলে,
অবদমিত কামনা অকারণে অহরহ ঢেউ তুলে;
ভেতরে দহন জ্বালা ঈর্ষাপরায়ণতার তাড়নায়,
বাইরে? নেহাতই দেখানো, বিনিময় শুভেচ্ছায়।
ভেঙে দোর বেরিয়েছে হিংস্র সব শ্বাপদ ‘আশ’,
সুলুকসন্ধান ছাড়াই ফুঁসছে বিপুল সুখোচ্ছাস!
আশা নিরাশার বৈতরণীর বুকে অলীক ঝাঁজে,
অবচেতনে সংজ্ঞাহীনতা, ফেনিল সুখের মাঝে।
জোটে রোজের নিষ্কাম হতাশায় আঁধার প্রাপ্তি,
নিষ্ফল আক্রোশেই কদর্য নির্ধারিত প্রতিলিপি!
লাভের লোভেই রূপোর কড়িটা সমানে লাফায়,
আলোর সোনায় ক্ষুধার্ত গাঙচিল ডানা মেলায়।
সময়ের আবর্তনে হারিয়ে যায় লক্ষ তারা, চাঁদ,
অরুণালোকে উষ্ণতা ছাড়া যেন সবই বরবাদ!
নিত্য পরিবেষ্টিত, বড়ই নিষ্ঠুর জীবন নাগপাশ,
সকাশে অনাহূত, একাই গুমরে মরে অবকাশ!
অসীমের সীমানার খোঁজে চেয়ে আকাশ পানে,
দিগন্তের সীমারেখা ছুঁয়ে, অস্ফুটে কানে কানে;
অশান্ত নিথরতায় রহস্যাবৃত, অজানার অতলে,
মনের খাঁচায় বন্দী পাখিটা কতই না কথা বলে।
প্রতিকূল পরিবেশেই সঙ্গমের অনুলিপি প্রদান,
সুন্দর কল্পনার প্রতিভাসে নিরন্তর প্রয়াসী প্রাণ;
চড়াই উতরাই পেরিয়ে সাকার হবে প্রতিবেদনে,
মিলন একদিন নিশ্চিত, সেই কাঙ্ক্ষিত উজানে ।।
*************************

 3.)
 আপন খেয়ালে
 রীণা চ্যাটার্জী

পথিক তুমি চলতে পারো খেয়াল খুশীর সাঁঝে,
পথ তোমায় বাঁধবে না  তোমার খেয়াল মাঝে।
জীবন তুমি বইতে পারো প্রশ্ন নদীর গায়ে;
উত্তর তুমি পাবে না জেনো কেউ নেবে না দায়।
মন তুমি সাজতে পারো নিজের খুশীর রঙে,
কেউ দেবে না আবীর জেনো তোমার মনের রঙে।
ভালোবাসার রঙে তুমি রাঙাও নিজের প্রাণ,
মান চেয়ো না, তা পাবে না, দেবে না এই ভূবন।

পৃথিবী আজ বড়ো অসহায় রোদনে ভারাক্রান্ত;
স্বার্থ সিদ্ধি খোঁজের নেশায় দিন যে অতিক্রান্ত।
পথিক তুমি ভাবছো বুঝি কেউ বাড়াবে হাত,
কাছে থেকে তোমার ব্যথায় জাগবে সারারাত?
কে ডাকবে? কে ভাববে? কে বাড়াবে হাত?
ব্যস্ত যে আজ সবাই, দেবে না তো কেউ সাথ,
একলা চলো নীতি যে আজ জীবনেরই মানে;
এই আপ্তবাক্য বরণ করো জীবনের এই ক্ষণে।
*************************

# 'আলাপী মন' দৈনিক ই-ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে "জল ফড়িং"-এর শুভ জন্মক্ষণের শুভেচ্ছা...💐
              -------------





শ্রাবণের রাত
জাফর সাদিক

শ্রাবণের রাত
পথ হারিয়ে পথের সন্ধানে
পথচারী
থেকে থেকে দমকা হাওয়ার তালে
জীর্ণ ছাতাটি
ঝুলন্ত বাদুড়ের মতো নত জানু
মাঝে মাঝে বিদ্যুতের চমকানি
থমকে যেয়ে আবার চলা
কিন্তু কোথে?
গন্তব্যের নাম? """""

আমন্ত্রিত

কবিতার ছন্দ থেকে

১.)

হৈমন্তিক শীতলতায় জন্মদিন এলে
          নেচে ওঠে জলফড়িং।
ছটফটে তারুণ্যের খোঁজে
       নেচে ওঠে তিড়িং বিড়িং।
সদ্য শরৎ পেরোনো দিন গুনে গুনে
        এখন তার মহা আনন্দ
জন্ম মোড়কে স্পন্দিত মুখোশে
            কত না রঙিন ছন্দ!
এভাবেই এগোক, উড়ুক ডানা
                     মেলুক পাখা
দেশ বিদেশের ওয়েবে সহাস্য কলতানে
        বিস্তৃত হোক--তার শাখা।

____শুভ জন্মদিন জলফড়িং_____

                মৌসুমী ভৌমিক
               
সম্পাদক কবিতার ছন্দ ব্লগ
         ------------


২.)অপরাজিতা.
কৌশিক কোনার
................................................

অপরাজিতা....
সব শেষে তুমিই জিতে গেলে।
আমার জন্য হেরে যাওয়াই ঠিক,
এতেই আমি অভ্যস্ত।
হেরে যাওয়ার মাঝেও অনন্য সুখ আছে,
অবশ্য যারা জিতে যায় এই সুখ তাদের জন্য নয়।
অপরাজিতা...
আমি জানি তুমি হারতে ভালবাসোনা,
জয়তিলক তোমার কপালের টিপ হয়ে থাকে আজন্ম।
আর আমি কোনদিন জিততেই পারিনি,
নিন্দুকেরা বলে ব্যর্থ মানুষ।
যদিও আমার আফশোস নেই কনামাত্র,
কিছু মানুষ হেরে যাবার জন্যই জন্ম নেয়।
আর আমি সেই পাড়াতেই থাকি,
যদিও তোমার অন্যপাড়ায় বাড়ি।

অপরাজিতা.....
তোমার বিজয়বানী লোক মুখে শুনি,
আমার হিংসা হয়টা মোটেও।
যা কিছু ভালো তোমার হোক ক্ষিতি কি?
তোমার জন্য ফুল মালা,
আমার জন্য না হয় কাঁটার আঁচড়।
তোমার জন্য কোজাগরী,
আর আমি অমাবস্যার অন্ধকারে সুখ খুঁজি।
তোমার জন্য ঝলমল প্রাচুর্য্যের বৃত্ত্য,
আমি নিতান্ত সমান্তরাল পথে হাঁটি।

অপরাজিতা....
এমন ভাবেই দুজনে ভালো থাকি,
এক জীবনে ভালো থাকাটা জরুরি।
কে কিভাবে ভালো থাকে তার ধ্রুব নিয়ম বোধহয় নেই,
দ্বীপান্তরে কেউ সুখী আবার কেউ মনমরা।
তুমি জয়মাল্যে উচ্ছ্বল,
আর আমি পরাজয়ের কলঙ্কে সাবলীল।

এই ভালো,
 বৈপরীত্যেও  জীবন খুঁজে নেয় নিজের মতন পূর্ণতা,
দূরত্বেই বেঁচে থাকো পরবাশী অপরাজিতা।
                   -----------

৩.)
সময়টা হারিয়ে যায় কত সহজে.....
  রীতা রায়

সময়টা হারিয়ে যায় কত সহজে!

যখন গভীর রাতে হঠাৎ ডেকে ওঠা
অচিন পাখির মতো সুর ভেসে আসতো,  দূরদূরান্তের ছায়াপথ ধরে.

কখনো সন্ধার ঘরফেরা বলাকার    নিভৃতে খসে পড়া একটি পালক,
বুলিয়ে দিয়ে যেত মনের আশপাশ
স্নিগ্ধতার পরশে...

কখনো দ্বৈপ্রহরিক নিঃঝুমতার
ঝাঁঝমাখা রোদ্দুর,দগ্ধ ক্ষত শুকিয়ে
হেঁটে আসা একান্তের অপরাহ্ন...

আবার কখনো, ঊষষীর প্রথম   তির্যক রশ্মিমালা,স্বরের বিচ্ছুরনে
অলক্ষ্যে হয়ে ওঠা হৃদয়ের মানুষী...।

সহস্র মূল্যের সেই আমিকে আজ
হোয়াট্স অ্যাপ,ফেসবুকের সাধারন মেসেন্জারের মতোই দেখাচ্ছে...,
অচেনার আনন্দ খুঁজতে গিয়ে
পথ হারানো বালিকা.....

সময়টা হারিয়ে যায় কত সহজে!
যখন একটা রিংটোনে লেখা হত
রূপকথার  গোটা একটা গল্প,
মিসড্ কলে বাবুই বাসার সুখ....।

 ধূপের ধোঁয়ায় ঘর ছিল পরিপূর্ণ,
উদ্বেলিত একটাই অনুভূতি !
এখন অগুণিত ধূপকাঠির সৌরভে
ক্ষণেকের স্বস্তি...

ঘিয়ে ভাজা লুচির আস্বাদ মুছিয়ে,
হাজারো বনস্পতির ব্র্যান্ডনেমে
ফুটপাতের ফুচকার স্বাদ,
মুখে দিলেই যা মিলিয়ে যায় ...

থেকে থেকে ওঠে টক্ ঝাল মিষ্টির
চোঁয়া ঢেকুর...
ওদিকে,স্মৃতির কিনারে বেজে ওঠে
পুরোনো সেই সব সুর...
একটানা...ফাঁকা ফাঁকা সুর...।

সময়টা হারিয়ে যায় কত সহজে!

*******************************

৪.)স্বপ্নের রঙ _____
দেবার্ঘ্য চ্যাটার্জী
***************
আজও স্বপ্ন জাগে নিদ্রাহীন নয়নে,
বৃষ্টিভেজা প্রাতে স্বপ্নহীন অজানা তৃণে ।
আকাশ রঙিন হয়েছে কালো মেঘে,
যে রঙ শুধু আমাকে ভালোবাসে ।
তাইতো বারবার ধরা দিয়েছো স্বপ্নে,
হয়েছি ম্লান কালো কাজল নয়নে ।
মৃত্যুর আগুন কখনো পারে নি ছুঁতে,
তোমার পরশে ভিজেছি নিশিতে ।
সাগর হয়েছে উচ্ছলিত ভরা বর্ষণে,
নদী মিশেছে পথ ভুলে স্বপ্নের রঙে ।
মাতাল হয়েছি মুক্ত পাখিদের কলহে,
তোমার রঙ উজ্জ্বলিত স্বপ্ন কাননে ।
আজও ভোরকে জাগিয়ে দেয় রবির আলো --
স্বপ্নরা জাগে না, আকাশ আজ নেই কালো ।
তবুও স্বপ্ন জাগ্রত হয় তোমার পরশে,
মৃত্যহীন প্রাণ শিহরিত মলিন হরষে ।
আকাশ ভরা তারার মাঝে আঁকি চিত্র,
স্বপ্নের রঙ করেছে হরণ তোমার চিত্ত ।
              -----------
বিভাগ : কবিতা


আলো হয়ে জ্বলে
-------------------------
-------------------------
@ তপময়

জীবনের বেড়ে চলা বছরের ভিড়ে-
বন্ধুরা আজো ঠিক ছুঁয়ে ছুঁয়ে চলে...
মনে আছে রূপকথা, রোদেলা দুপুর,-
মনে আছে মাঠ আর স্কুলবাড়ি,
আত্মজ আজ সেই ক্লাসরুমে যায়;
মন সেই কৈশোরে দিতে চায় পাড়ি..

মাঝবয়েসের এই হিসেব খাতায়,
চাওয়া-পাওয়া গরমিল সালতামামী,
শুধু সেই বন্ধুতা আজো ডাক দেয়-
ছুটে ফিরি স্কুলঘরে কৈশোর  "আমি"..

ফিরে যেতে চাইলেই ফেরা যায় বুঝি?
কত পথ হাঁটা হল,কত পথ বাকি
শুধু জানি একা নই তোরাও আছিস
ক্যানভাস জুড়ে তাই "বন্ধুতা" আঁকি।

বয়ঃসন্ধির দাগ
কৌশিক চক্রবর্ত্তী

আমি এখনো রাস্তায় শুয়ে আছি
বুকের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে বুলডোজার
আমিও ক্রমশ অন্ধত্ব থেকে ফিরে আসছি আসক্তির কাছে...

যারা চিরকাল মানুষ সেজেছে,
সারা শরীরে আবর্জনা লাগিয়ে
তরতরিয়ে উঠে গেছে মন্দিরের ছাদে...
আমি আর তাদের দলে নেই...

যদি পারো তবে আমার দুচোখে বুলডোজার চালাও
আমিও দেখে নিই ঈশ্বর হতে গেলে আর কত ধুলো মাখতে হয়;

আমি এখনো রাস্তাতেই শুয়ে আছি
বুলডোজার সরে গেছে-
এখন শুধু আমার চওড়া গালে স্পষ্ট লেগে রয়েছে
অক্ষর-চাষি
 (আব্দুল লতিফ মন্ডল)
শব্দ-মদে ডুবে থাকি,
         অজানা এক রোগ।
নাগরিকতা সয়না ধাতে,
চলে নিজেই নিজের খোঁজ।
এ মদে সত্য লাগে চোখে,
          কাটেনা কিছুতেই সে ঘোর।
শব্দ খুঁজে মরি আজ,
           ঝাপসা কুয়াশায়।
সত্য দেখে সব -
           গায়ে মাখব কবিতা।
লাঙল দিয়েছি আজ,
         আমার অক্ষর-ভূমিতে।
বিষ ঝাড়াতে চাই -
            ব্যস্ত  মানুষের।
(০৪.০৬.২০১৮)


অনুসন্ধান
- তপন তরফদার
নিজের যোগ্যতার বেড়া না ডিঙিয়ে
মনের অজ্ঞতার মেগাপিক্সল মোবাইলে ফুটে ওঠে
এক সত্যম শিবম সুন্দরমের চাবির চিহ্ন
বিশুদ্ধ সুন্দরকে ভেদ করে মগজ জানতে চায়
নিত্যদিন অক্ষরমালার কত পিরামিড হয়
হিসাব রাখেনা তার ভবঘুরে বা অর্থনীতিবিদরা।

গুগুল ডট কম জানে না কত পাঠক কবিতা পড়ে
কখন কত পাঠিকা বালিশে বুক রেখে
সিরিয়াল ছেড়ে সৃষ্টি রহস্যে বুঁদ হয়ে থাকে।

তবে কি চাহিদার থেকে যোগান বেশি-
ওএলএক্স বেচেনা, কেউ হিসাব রাখেনা
আবার কবিরা গভীর গোপনেও জানতে পারেনা
মেঘ থেকে বৃষ্টি হল না শুধুই বজ্রপাত দিল
আবার
কোনকোন পিরামিডের অন্তরালে থাকে ক্লিওপেট্রারা
যারা মৃত মমিতেও প্রাণ সঞ্চার করে।।

তপন তরফদার,
প্রেমবাজার (আই আই টি), খড়গপুর - 721306,
ফোন- 9434077490, e-mail: tapan.tarafdar@gmail.com





জন্মে জন্ম এক (কবিতা)


কবিতার  দিন/অমিতাভ দাস

এরপর কলঘরে গিয়ে উদযাপন,কখনও কল খুলে মাথা চেপে ধরে ধারাস্নান,কখনও কান্নার বেগ সামলাতে হাত চেপে ধরে মুখ,রাতজাগা লালচে চোখ আর ক্লান্ত শরীর ভেঙে পড়তে গিয়েও সোজা হয়ে দাঁড়ায় সদ্য লাভ করা মাতৃত্বের গর্বে।

বার বার স্পর্শ সন্তানের পবিত্র শরীর,বুকের নদী ছাপিয়ে যায় দুকুল।আমার সন্তান,আমার নাড়ি ছেঁড়া ধন,ভাবনায় স্নেহসিক্ত হতে হতে মা বুকে তুলে নেন আত্মজকে।
কবি বুকে তুলে নেন কবিতা!
দিনটা তখন কবিতার দিন!


(অমিতাভ দাস
40/এ বাকসাড়া রোড,বাকসাড়া,হাওড়া - 711110
মোবাইল - 9836632743)
এই মেয়ে তুই কি জানিস
তোর স্বপ্ন দেখা মানা
হ্যাঁ জানি দুটো চোখ
       তোরও আছে
কিন্তু ও দুটো শুধু সেগুলো দেখবে
যেটা আমি তোকে দেখাব
বাকি সময় বন্ধ থাকবে
কি বললি তোর মন আছে?
হ্যাঁ জানি, কিন্তু সে তো
জলের মতন, যেখানে রাখব
তার মতই আকার নেবে
আর কি যেন নিয়ে বড়াই
  করছিস চরিত্র?
সে তো আমিই তকমা দেব,
তুই সতী না পতিতা
এখানো চিনতে পারলি না
আমায়, 'আমি কে'?
আমি "সমাজ",
যাকে ডিঙিয়ে যাওয়ার সাধ্য
তোর নেই।
                                           - মৌসুমী চ্যাটার্জী
কবিতা ,বৃষ্টি আর তুমি      
    চিরদিনের প্রেমের পূন্যভূমি।

গল্প, নদী আর তোমার কথা
     প্রতিদিনের আলো ছায়ার ব্যাকুলতা ।

গান,জানালা আর তোমার অভিমান
        আমার না বলা কথার অজস্র পিছুটান ।

#বাবলু_বাউরী
বিমোহন / কান্তিলাল দাস

জলের কিনার ছুঁয়ে উড়ছ অনন্তবার
একবার এদিকে একবার সেদিকে
বিমোহনে পড়ে গেলে নাকি !
কী দেখ ? নিজবিম্ব, না মাছেদের খেলা,
শ্যাওলার অভিষেক
নাকি দেখ  শান্তজলে মেঘেদের  স্তম্ভিত মুখ !

জলপ্রিয় হে ফড়িঙ ! এ তোমার
আজন্ম আশ্চর্য ভালবাসা
তুমি তো ঘাসের তত নও, নও তুমি
প্রসাধনপ্রিয় মানুষের ঘনিষ্ঠতাকামী ।
জল ঘিরে তোমার সাধনা
যেন জেনে গেছ
জীবনের আর নাম জল,- জল ছেড়ে গেলে
সমস্ত বিস্বাদ বুঝি স্বচ্ছ অনুভবে !

গাছেদের ছায়া কি দেখো, বিকেলের রোদ
চোখে পড়ে নাকি
পাণকৌড়ির ডুব কিংবা মাছরাঙাদের
বিশেষ ক্ষমতা ?

শব্দ নেই, ভাষা নেই, নেই কোনো উচ্চাকাঙ্খা তোমার
আশ্চর্য প্রশান্তি নিয়ে উড্ডীন -হে জলফড়িঙ
চাহিদাহীন ক্ষুদ্র জীব এক
জলের কিনারে
বায়ুলাঞ্ছিত কিন্তু ভাবলেশহীন ছন্দ তুলে
একবার হেথা আর একবার হোথা
নিঃশব্দ মন্ত্র জপ করেই চলেছ !

রাত্রি নামে
কোথা থাকো চুপ করে শিশিরে ও হিমে !
সকালে দেখবে বলে জরিপে নেমেছে
ক্লান্তিহীন পাখা তোমার
খোঁজো নাকি ক্লেশ, ক্ষতি জলদুর্গতের ?

হেমন্ত বিকেল বড় দ্রুত ডেকে নেয় সন্ধ্যাকাল
হাঁসেরা ফিরলে ঘরে
তুমি কোথা ফেরো ? ঐ স্তব্ধগাঢ় শরবনে নাকি !
হে জলফড়িঙ ,-
সকালে নরম রোদে
দেখি যেই,স্বভাববশতঃ তোমাকেও বলি সুপ্রভাত, হয়ত শোনো না

তাতে কিবা যায় আসে
তুমি এলে
ভৈরবী বেজে চলে অদৃশ্য সেতারে
তেমন তেমন হলে
মাতায় পূরবী !
...................

বিভাগ- গল্প






বসন্তের পলাশ
                     ----মৈনাক চক্রবর্ত্তী
                বাড়ির পলাশ গাছটা বেশ বড় হয়েছে, এবার বোধয় ফুল ফুটবে গাছে। গাছটা আজকের নয়, তা প্রায় বছর দশেক হল, গাছটা বুবু পুতে ছিলো। বুবু আমার পিসততো বোন। বুবু এখন আর আমাদের সাথে থাকেনা। বুবু তখন কলেজে পড়ত, দ্বিতীয় বর্ষ। কলেজে এডুকেশনাল এক্সকার্সনে বুবুদের পুরুলিয়া নিয়ে গেছিল সেবার। সেখান থেকেই ও গাছটা নিয়ে আসে। দিনটা এখনও মনে পড়ে, কী একটা পূজো ছিলো বড়িাতে, বুবু দৌড়ে আমার ঘরে ঢুকে
-দেখ দাভাই তোর জন্য কী এনেছি...
-কী আনলি? কই দেখা?
-কী বলত এটা?
-পলাশ.....,কোথায় পেলি এটা?
-পুরুলিয়া থেকে এনেছি, একজন দিয়ে বলল খুব কাছের কাউকে দিতে।
-ও কাছের কেউ আমি নাকি ....
-তুইতো আমার সোনা দাভাই। তোর জন্যই এটা।
-ন্যাকামো করিস না।  আমি সব জানি, ট্রুরে যাবার আগে কার সাথে হেসে হেসে ঘুরছিলিস সেদিন? আমি দেখিনি ভাবছিস।
-আরে ও নীলান্তন। খুব ভালো ছেলে, আমার খুব ভালো বন্ধু।  আমার সাথে এক কলেজে পড়ে।
-তাইনা রে। তুই ও তো ভালো মেয়ে; একদিন পরিচয় করা।
-তুই পারিস ও দাভাই, ওর একটা প্রেমিকা আছে। তার জন্যই একটা কানের দুল কিনতে গেছিলাম আজ
-যা কি হবে তালে....
-কিসের আবার কি হবে?
-আমি ভাবলাম হেব্বি একটা ব্যাপার চলছে তোদের মধ্যে। সব ভেসতে দিলি....
-শোন দাভাই আমার পিছনে লাগলে আমিও কিন্তু তোর সব কথা বলে দেবো....
-কী আর বলবি?
-তাইনা। কি বলব শুনবি? সৃজিতা নামে একটি মেয়ে আছে। যাকে আমি দিদি বলে ডাকি। তার সাথে আমার এক মাত্র দাভাই গভীর প্রণয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। এটা মামি কে বলে আসি যাই। মামি.... ও মামি....
-এই বুবু কি করছিস দাড়া দাড়া, আচ্ছা আমি আর বলবো না। এই কান মুলছি, নাক মুলছি দাড়া...
-হাহাহাহা কানমোল ভালো করে তাহলে বলবোনা।
-তবেরে দাড়া দেখাচ্ছি তোকে........
            বুবু এক দৌড়ে পালিয়ে গেল। সৃজিতা আমার বান্ধবী, বুবুর থেকে বছর ছয়েকের বড়, ওকে পড়াতে আসত, সেই সূত্রে আমার সাথে পরিচয়। সৃজিতা যে শুধু আমার বান্ধবী তা বললে ভুল হবে। আমার আর সৃজিতার সম্পর্কটা তেমন কেউ জানেনা, এক মাত্র জানে বুবু। দিনকতক হলো ও এতো শয়তান হয়েছে সুযোগ পেলেই আমাকে আর সৃজিতাকে নিয়ে ইয়ার্কী করবে। দুর্ভাগ্যের বসে ও যে কার সাথে প্রেম করে বা কার সাথে ওর মনের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে সেটা জানিনা। সেটা যদি জানতে পারতাম, তাহলে প্রতিদিনের ইয়ার্কীর মধ্যে নিজেকে অসহায় মন হতো না।
             বুবু প্রেম করে কি করেনা তা স্পষ্ট জানা নেই। তবে কারোর প্রতি মনে একটা টানাপোড়েন আছে সেটা বিলক্ষন খেয়াল করি। ওর বয়স এখন কুড়ি, ওর বয়সে জীবন প্রেম আসাটা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু ছেলেটা কে সেটা বুঝে উঠতে পারিনা। বুবু আমার থেকে বছর আটের ছোট, তবুও ওর উপস্থিত বুদ্ধি প্রচুর, ওর বুদ্ধির কাছে এখনও আমাকে মাঝে মাঝে নাস্তানাবুদ হতে হয়। অসলে একটা প্রেমের গল্প শুনতে ভালো লাগে। কার না একটা প্রেমিক প্রেমিকার খুনশুটি দেখতে ভালো লাগেনা। আর সেই তাগিদেই ওর প্রেমিকের অস্তিত্বের সন্ধান করা। এই নিয়ে আমাদের জীবন ভালোই চলে যাচ্ছে। আমরা পিঠপিঠী ভাইবোন না, কিন্তু তাতে আমাদের ইয়ার্কীর কোন ভাটা পড়ত না। সৃজিতা আর আমার সম্পর্কের সূচনায় ছিলো বুবু। আমাদের যখন ঝগড়া হয় তখন সেই ঝগড়া মিটিয়ে মিলমিশ করায় বুবু। আসলে বুবু সৃজিতাকে ভীষণ ভালোবাসে, ভীষণ ভাবে চায় আমার আর সৃজিতার সম্পর্কটা এগিয়ে চলুক। বুবুর মধ্যে একটা অদ্ভুত অনুভূতি আছে, ও মানুষকে সুখী হতে দেখলে এক অকৃত্তিম আনন্দে ওর মনটা নেচে উঠত।
          বেশ কিছু দিন হলো বুবুর দেখা নেই। কী যে করছে বাড়িতে বসে বসে কে জানে। ওকে ফোন করলাম। ফোনটা দু-তিনবার ধরে বেজে গেলো, কেউ ধরলো না। ফলে ওকে একটা মেসেজ পাঠালাম
-তোর দেওয়া চারাটা পুঁতেছিলাম, মন হয় গাছটা বেঁচে গেছে। এসে দেখে যাস গাছটাকে।
সন্ধ্যে হয়ে এলো।  এখনও বুবুর কোন উত্তর পেলামনা। অনেক দিন ধরেই কেমন যেন রহস্যময় হয়ে পড়েছে বুবু। প্রেমে পড়েছে বোধয়, এবার দেখা হোক একবার যেভাবেই হোক জানতে হবে কী ব্যাপার। এত দিন খুব ইয়ার্কী মেরছে এবার আমার পালা।
বেশ কয়েকদিন হয়ে গেল বুবুর ব্যাপারটা কিছুই বুঝতে পারিনা। ব্যাপারটা এবার একটু সিরিয়াস মনে হচ্ছে, একদিন বুবুর সাথে দেখা করতে হবে। দিন দুয়েক পরে বিকেলের দিকে ঠিক করলাম বুবুর বাড়ি যাই। এই ভেবে সবে বাড়ি থেকে বের হয়েছি হঠাৎ দেখি বুবু, আমাদের বাড়ির দিকেই আসছে। আমি অনেকক্ষন বুবুর দিকে হা করে তাকিয়ে থাকলাম। এটা কী বুবু নাকি অন্য কেউ, ফুলের মতো মেয়েটার এ কী অবস্থা হয়েছে; চোখে কালসিটে, মুখ শুকিয়ে গেছে, দেখে মনে হচ্ছে অনেক দিন ধরে ঘুমোয়নি। বুবু তখন ও বাড়ির কাছে আসেনি তখনই আমি উদগ্রীব হয়ে বলে উঠলাম ...
-কিরে বুবু কি হয়েছে তোর? চোখ মুখের এ কি হাল করেছিস?
বুবু কোন উত্তর দিলনা। এতটাই অন্যমনস্ক ভাবে হেটে আসছিলো আমার কথাটা শুনতে পেল কিনা বুঝতে পারলাম না। আমি আর বুবু এক সাথেই বড় হয়েছি; খাওয়া-নাওয়া-ঘোড়া সব ক্ষেত্রেই বুবু আর আমি ছিলাম চির সঙ্গী, ওর প্রতি একটা অসীম স্নেহ কাজ করত আমার। যে মেয়েটা সবার মুখে হাসি ফোটায় তার এই অবস্থা দেখে নিজেকে খুব অসহায় লাগল। বুবু কাছে আসতেই বুবুর হাতটা বেশ জোড়ে নাড়া দিয়ে, বেশ ধমক দিয়েই বললাম...
-কিরে কি হয়েছে? নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিস নাকি?
ওর চোখটা ছলছল করছে আমি বুঝলাম সিরিয়াস কিছু, ওর হাতটা ধরে বললাম
-আয় ঘরে আয়....
ঘরে ঢোকার মুখে ছোট্ট এক টুকরো বাগান আছে, সেখানেই পালাশের চারাটা পুঁতেছিলাম। ঘরে ঢুকতে গিয়ে বুবু অনেক্ষন গাছটার দিকে তাকিয়ে আছে দেখে আমি বলে উঠলাম
-দেখ তোর দেওয়া গাছটা, বেঁচে গেছে, ছোট ছোট দুটো নতুন পাতা গজিয়েছে দেখ।
-হম, যে বেঁচে উঠতে চায় তাকে কী আটকানো যায়....
-মান টা কী? কে আবার বেঁচে উঠল....
-না কেউ না।
কথাটা বলেই বুবু ঘরের দিকে হাটতে হাটতে চলে গেল। আমার ঘরটাতে ঢুকে, আমার বিছানার একটা ধারে বসল বুবু। হতাশা আর অন্য মনস্কতায় মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে আছে। আমি ওর কাছে এসে বললাম
-বলত এবার কি হয়েছে তোর? কিরে চুপ কেন, কি হয়েছে?
-হ্যাঁ দাভাই বল কি বলছিস?
-এই কি হয়েছে রে তোর? তখন থেকে দেখছি অন্যমনস্ক।
-আমিই কেন বলত সব সময় ভুল করি দাভাই, সবাইকে ভালো রাখতে চাই সবাইকে খুশি রাখতে চাই তবুও আমার হাতেই অন্যকেউ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কেন আমার সাথেই এমনটা ঘটে সব সময়। কেন এমন অবস্থার সম্মুখীন হই আমি যার নিয়ত্রন আমার জানা নেই।
এতক্ষন পর বুবুর মনের মেঘ গুলো যেন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পড়ল। আমি এবারে বেশ কিছুটা ভয় পেলাম, কিন্তু বুবুকে বুঝতে দিলাম না। শুধু বললাম
-কেনরে কি করলি তুই আবার? বাড়িতে কিছু হয়েছে? নাকি কলেজের ঝামেলা।
-এই ঝামেলা অনেক দিনের, তোকে বলা হয়ে ওঠেনি। মনের মধ্যে পুষে রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম ঠিক নিজেকে সামলাতে পারবো কিন্তু পারছি নারে। তোর নীলান্তনকে মনে পড়ে?
-নীলান্তন...নীলান্তন...হ্যাঁ মনে পড়েছে। ঐতো সেই ছেলেটা যার সাথে তোকে দেখেছিলাম। হম মনে পড়েছে ওর একটা প্রেমিকা আছেনা..
বুবুর দু চোখ বেয়ে অনবরত জল ঝড়ে পড়ছে। দু হাত দিয়ে চোখের জল মুছে বুবু বলে উঠল,
-হ্যাঁ, আছে, সেই নীলান্তন।
-কেনরে? কি করল সে?
-ঘটনাটা অনেক দিনের, এবার কলেজের এক্সকার্সনে পুরুলিয়া গেলাম মনে পড়ে।
-হ্যাঁ, ওখান থেকেই তো গাছটা এনে দিলি।
বুবু গাছের কথাটা এরিয়ে গিয়ে বলল-
-ওখানে কখনো গেছিস দাভাই।
-না, কেন?
-ওখানের বাতাসে একটা অনৈতিক মাদকতা আছে জানিস। কেমন একটা মতাল করা গন্ধে, মন অনৈতিক আবদারে সারা দয়ে। মন যেন কীসের এক প্রহর গোনে।
-তা সেখানে তোর মন কোন অনৈতিক আবদারে সারা দিলো?
-জানিস দাভাই চাইনি এটা হোক। একটা মেয়েকে ঠকাতে মন সায় দেয়নি।
-মানে? কী বলছিস? কেন মেয়ের কী করলি তুই?
-নীলান্তরের প্রেমিকার কথা বলছি।
-কেন কি হলো ওর? আর তাতে তোর সম্পর্ক কি?
বুবুর মুখটা কেমন শুখনো হয়ে উঠল, মনে হলো সারাটা আকাশ ওর মুখে ভেঙে পড়েছে। নাক টানতে টানতে আবারও বলতে শুরু করল বুবু
-বললাম না ঐ জায়গায় মনটা মাতালের মতো হয়ে পড়ে। কোন স্বাভাবিক জ্ঞান থাকেনা। চারাদিকে শাল মহুয়া আর পলাশের বন। জানিস দাভাই বনটার একটা গন্ধ ছিলো, শাল মহুয়ার গন্ধ। সেই গন্ধে সব ইন্দ্রিয় গুলো প্রখর হয়ে ওঠে। নিজেকে আর আটকাতে পারিনিরে আর তাই নীলান্তনকেও আর বাধা দিতে পারিনি।
-মানে? মানেটা কী? কী বাধা দিতে পারিসনি...
-সেদিন কেন জানিনা ভুলে গেলাম নীলান্তনের অন্যকারোর প্রতি দায়বদ্ধতা আছে।
-শোন বুবু আমার মাথায় কিছু ঢুকছেনা, সোজা কথায় বলবি কি হয়েছে....
-দাভাই তুই আমায় ভুল বুঝবিনাতো। তুই পাশে থাকবিতো আমার।
বুঝলাম প্রচন্ড কোন আঘাত পেয়ে একটা হতাশায় ভুগছে। ওকে ভরসা দেবার জন্য বলে উঠলাম
-আমি আছি, বল কী হয়েছে..
কাঁদতে কাঁদতে বুবু যা বলল-
-একটা পুরুষ আর নারী ঠিক যতটা কাছাকাছি আসতে পারে ঠিক ততটা কাছে এসেছিলাম আমরা। আমি আর নীলান্তন।
-মানে.....কী যা তা বলছিস? তুই জ্ঞানে আছিসতো। মাথা ঠিক আছেতো তোর।
-হ্যারে দা ভাই, জ্ঞানেই আছি। কেন জানিনি সেদিন এমন হলো, তীব্র সর্বনাসের মুহুর্ত ছিলো সেদিন। পঞ্চভূত যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছিলো। চারিদিকে বন আর বন মাঝ খানে আমি আর নীলান্তন, দিনের বেলাতও সেখানে ঝিঁঝিঁ ডাকছিলো। জানিনা কী করে এত কিছু করে বসলাম...
-ওর প্রেমিকা জানে কিছু?
-সেখানেই তো সমস্যা আরো বেড়েছে। নীলান্তন একটা তীব্র অপরাধ বোধে কিছু বলতে পারছে না, সেই এক আবস্থা আমারও। কী বলবে ও মেয়ে টাকে। আর সবে জেনে মেয়েটাইবা ওকে কেন মেনে নেবে।
-দেখ বুবু শান্ত হয়ে আমার কথাটা একটু শোন।
-পারছি নারে দাভাই। নিজের দিকে তাকাতেও ঘেন্না লাগছে। ইচ্ছা করছিলো মরে যাই কিন্তু পারিনি। ভেবেছি তুই বুঝবি আমার মনের আবস্থা। তোর একটা কথা খুব কানে বাজে রে 'মরে গিয়ে কোন লাভ নেই, এই সমাজ তোমার মৃত্যুতে তোমার উপর ফুল ছেটাবে কিন্তু দুদিন পর আবার সব আগের মত হয়ে যাবে'
-কি চাইছিস তুই? তুই কি নীলান্তনকে নিয়ে বাঁচতে চাইছিস...
-তোকে মিথ্যা বলবনা দা ভাই, প্রথম দিকটায় যে তা চাইনি সেটি নয়। তবে পরে অনেক ভাবলাম ঐ মেয়েটিকে কাঁদিয়ে আমি কখনো সুখী হবো নারে দাভাই।
-শোন বুবু তুই যদি মনে করিস এই কথা গুলো জানলে ওর প্রেমিকা কষ্ট পাবে, ওদের সম্পকর্টা ভেঙে যাবে তবে এই স্মৃতি ভুলে যা। অন্যায় করেছিস ঠিকই, তুইও এবং নীলান্তনও, কিন্তু যে ভুল ব্যক্ত হলে তিনটে জীবন নষ্ট হবে তার থেকে সেই ভুল মনে না করাই ভালো। শোন বুবু আমাদের শরীর যন্ত্র নয়। মাথা আর মন দুটো এক সাথে চলেনা। তাই মাথা হয়ত ভুলে সারা দেয়নি কিন্তু মন দিয়েছে। ভুলে যা বুবু...
-কিন্তু দাভাই ভুলতো বেড়েই চলছে...
- কেন আবার কি?
-আমি এখন না পারছি নীলান্তনকে ভুলতে না পারছি ওর কথা ভাবতে। যখন সেই দিনের কথা মনে পড়ছে তখনই ওর প্রেমিকার মুখটা মনে পড়ছে। আবার নীলান্তন যখন ওর প্রেমিকার সাথে দেখা করছে বা সময় কাটাচ্ছে আমি অসম্ভব ঈর্শায় ভুগছি। মনের ভেতরটা কেমন উথাল পাতাল খাচ্ছে...
-দেখ বুবু বাস্তবে ফিরে আয়। কী সব বলছিস পাগলের মতো। তুই শ্রেফ যৌনঈর্শাতে ভুগছিস বুবু। ভুলতো তুই একা করিসনি, ও নিজেও এই ভুলের অংশীদার। তোর জীবের সম্পূর্ণটা পড়ে আছে, কত রঙীন স্বপ্ন দেখবি তুই, কেন এত উল্টোপাল্টা ভাবছিস। শোন বুবু সময় এক মুল্যবান বন্ধু, একটু অপেক্ষা কর সময় সব ঠিক করে দেবে।
-ঠিক কিছুই হবেনা দাভাই...
-সব ঠিক হবে। আমি বলছি, আমাকে ভরসা করিসতো নাকি, আমার উপর একটু ভরসা রাখ।
বুবু খুব ফর্সা কাঁদতে কাঁদতে ওর নাকটা লাল হয়ে গেছে। আবারও কাঁদো গলায় বলল-
-জানিস দাভাই খুব চাইতাম একটা ভালো ছেলো আমাকে প্রপোজ করুক। তার সাথে জমিয়ে প্রেম করব। কিন্তু দেখ প্রেম যেদিন এলো সেদিনই চলে গেল...
-সৃজিতা জানে কিছু..
বুবু বলল-
-না।
-আমি জানাব কিছু..
বুবু কোন উত্তর দিলোনা। দুই হাত দিয়ে চোখটা ডলতে লাগল। আমি এই মুহুর্তে সৃজিতার উপস্থিতি খুব প্রয়োজন মনে করলাম। বুবুর এখন যা অবস্থা তাতে ওর মানষিক বলের প্রয়োজন। তার জন্য একটা মেয়ের উপস্থিতি প্রয়োজন। ফোনটা হাতে নিয়ে সৃজিতাকে ফোন করলাম। বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হলোনা, কয়েকবার রিং হবার পরেই ফোন ধরল সৃজিতা। ওকে সংক্ষেপে যতটা বলা যায় বললাম, সৃজিতা আসবে বলাতে ফোন কেটে দিলাম। আবার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয় কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠল
-ঐ পলাশ গাছটা ও দিয়েছিলো জানিস....
-শোন বুবু আমার মনে হয় এই মুহুর্তে ওর সব চিহ্ন মুছে ফেলা প্রয়োজন। নইলে এই এক চিন্তা তোকে তারা করে বেড়াবে।
-তুই আর সৃজিতা দি কখনও ঘনিষ্ট মুহুর্ত কাটিয়েছিস?
আমি বেশ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়লাম। আমার উত্তরের প্রতীক্ষা না করেই ও বলে উঠল
-তাহলে কখনও ভুলতে পারবিনা। পলাশ যেমন প্রকৃতিকে বসন্তের সাজে সাজায় তোমনি দেখ এই পলাশ আমার সব বসন্ত কেড়ে নিলো
-আমি যদি আগে জানতাম বুবু কোন দিন এই গাছটা পুঁততাম না। ফেলে দিতাম। আমি আজই গাছটা ফেলে দেবো।
-না দাভাই আমাকে ছুঁয়ে কথা দে তুই এটা করবিনা। আমাদের সম্পর্কের প্রথম চিহ্ন ও। ওকে নষ্ট করবিনা তুই।
-কিন্তু বুবু এতে তোর কষ্ট বাড়বে বই কমবে না...
-না দা ভাই এই গাছটা যদি থাকে তালে আমিও ভালো থাকবো...
বুবুর মানসিক অবস্থা খুব খারাপ, সৃজিতা এখনো এলনা, ও আসলে বুবু একটু বল পেত..ওর মানষিক অবস্থা বুঝে  বললাম-
-আচ্ছা কথা দিলাম গাছটার কোন ক্ষতি হতে দেবোনা।
এর মধ্যেই সৃজিতা ঘরে ঢুকলো,
-কি হয়েছে,
-আয় ঘরে আয় বস এখানে..
এখনো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে বুবু। সৃজিতা ওর পাশে বসল, সমস্থটা আমার মুখ থেকে শোনার পর বুবুকে অনেক বোঝাল। সৃজিতার মধ্যে একটা পরিনত সত্তা আছে যা এতদিন চোখে পড়েনি আমার, ও বুবুকে বুকে জাপটে ধরে, চোখের ইশারায় আমাকে শান্ত হতে বলল, আমার উৎকন্ঠা যাতে কিছুটা দুর হয়। উৎকন্ঠা দুর হয়নি তবে সৃজিতা আসাতে বেশ নিশ্চিন্ত হয়েছি। অনেকক্ষন পর বুবু জড়ানো গলায় বলে উঠল
-দাভাই যেদিন পলাশ গাছটায় ফুলফুটবে সেদিন ভাববি আমার নীলান্তন আবার আমার কাছে ফিরে আসবে।
সঙ্গে সঙ্গে সৃজিতা বলে উঠল-
-এখন এসব থাক। চলো বুবু তোমাকে বাড়ি পৌছে আমিও বাড়ি যাই। রাত হচ্ছে চলো..
তারপর অনেকটা সময় কেটে গেছে, বুবু এখন ব্যাঙ্গালুরুতে থাকে, এখনো বিয়ে করেনি। এখনো নীলান্তনের স্বপ্নে ডুবে থাকে। এখনো ভাবে ও ফিরে আসবে। আমার আর সৃজিতার বিয়ে হয়ে গেছে। বুবুর সাথে কথা হয় রোজ, টেলিফোনে। নীলান্তনের কোন খোজ নেই। জানিনা কোথায় আছে; হয়ত বুবুও ওর খবর কিছু জানে না..
           এত বছর হয়ে গেল পলাশ গাছটা অনেক বড় হয়েছে, কিন্তু এক কাকতালীয় ব্যপার গাছটায় ফুল ফোটেনি এখনো। প্রতি শীতের শেষে যখন সব পাতা পড়ে যায় তখন ভাবি এবার হয়ত ফুল ফুটবে গাছে, বুবু হয়ত দৌড়ে এসে বলবে; 'দেখেছিস দাভাই, আমি বলেছিলাম না ও আসবে'। কিন্তু ফুল ফোটেনি কোন বসন্তে। গাছটার বসন্ত যেমন চুরি হয়ে গেছে, তেমনি আমার বুবুর বসন্তও চুরি হয়ে গেছে। কবে ফিরবে বসন্ত বুবুর জীবনে। আবারও এক অধীর প্রতীক্ষা আরো এক বসন্তের। এখন শুধু কিছু মুহুর্তের অপেক্ষা বুবুর জীবনের চুরি হওয়া বসন্ত ফিরিয়ে দেয় কিনা এই পলাশ গাছটা। শুধু প্রতীক্ষা, সেই প্রতীক্ষায় সারাটা দিন গাছটার দিকে চেয়ে থাকি কবে আসবে সেই বসন্ত। 
-----------









লেখক: মৈনাক চক্রবর্ত্তী
ঠিকানা: ১৯১|৪ অশোকনগর, পোষ্ট অশোকনগর, উত্তর ২৪ পরগনা, ডাক সূচক: ৭৪৩২২২
'  শ্রীহিট ' নাকি ' ও!শিট' !


সালটা ২০১০। বুম্বাদার সাথে পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের ঘোষের সম্পর্কে শৈত্য বেড়েছে  বেশ । ঋতুর ছবির এক সময়ের অটোমেটিক চয়েস বুম্বা আজ পুরোপুরি ব্রাত্য । দেব , জিতের ধাক্কায় বাণিজ্যিক সিনেমার বাজারেও বেশ পিছনের সারিতে টলিউডের বাদশা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি ; তবে কি ইন্ডাস্ট্রিতে শেষের দিন আসন্ন ' রাজু আঙ্কেল' -এর !


এমন হাজার দোলাচলের মাঝেই পুজোয় সে বছর ভেঙ্কটেশ ফিল্মস নিয়ে এল একজোড়া নতুন ছবি । একটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে সব থেকে বড় বাজেট , ৫কোটির ছবি ' দুই পৃথিবী ' ; প্রথমবারের জন্য পর্দা ভাগ করে নিলেন দুই সুপারস্টার দেব এবং জিত ;বাংলা ছবি প্রথমবারের জন্য পাড়ি জমালো ইতালিতে  । দ্বিতীয়টি অভিষেককারী চিত্রপরিচালক,  জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালেয়ের অর্থনীতির ছাত্র সৃজিত মুখার্জির  অত্যন্ত অল্প বাজেটের ছবি ' অটোগ্রাফ ' যার মুখ্য চরিত্রে আছেন টলিউডের বুম্বাদা । সবাইকে অবাক করে তথাকথিত অন্য ধারার সিনেমা ' অটোগ্রাফ' কমপ্লিট করল প্লাটিনাম জুবিলি । বছরের সেরা হিট । ততদিনে ছবিতে আরেক অভিষেককারী , অনুপম রায়ের কন্ঠে ' আমাকে আমার মতো থাকতে দাও ' সবার মুখে মুখে । উত্তমকুমার অভিনীত ' নায়ক ' ছবির অনুপ্রেরণায় তৈরি এই ফিল্ম  বক্সঅফিসের পাশাপাশি জিতে নিল সমালোচকদের মনও । সত্যজিতের অসাধারণ কর্মযজ্ঞের হুবুহু কপি এই ছবি কখনই নয় , বরং , পরিচালক পুরোনো সেই থিমকেই আরও নিপুনতার সাথে ফ্রেমে বাস্তবায়িত করলেন এক জনপ্রিয় অভিনেতা অরুণ চ্যাটার্জির বিতর্কিত  জীবনের চিত্রনাট্যে।




ফেলুদা, ব্যোমকেশপ্রেমী বাঙালি মৌলিক চিত্রনাট্যের থ্রিলার মুভির স্বাদ সেভাবে পায়নি তখনও  । ২০১০ এর পুজোয়  দর্শকের সেই অভাব মেটাতে,  প্রসেনজিৎ , আবির , পরমব্রত প্রমুখের মতো সুপারস্টারদের নিয়ে এক জমজমাট রোমাঞ্চকাহিনী উপহার দিলেন পরিচালক সৃজিত । ' বাইশে শ্রাবণ ' ছবিতে সব চেয়ে বড়ো প্রাপ্তি কবি নিবারণের ভূমিকায় গৌতম ঘোষের অনবদ্য অভিনয় । প্রবীর রায়চৌধুরির  চরিত্রে বুম্বাদার আভিজাত্য বুঝিয়ে দিল ' শুক্কুর বারের পর্দায় এখনও তিনিই রাজা । ' ফিল্মরিলিজের আগেই সঙ্গীত পরিচালক অনুপম রায়ের গানে  মাতোয়ারা হল বাঙালি শ্রোতা । পরপর দুটো উৎসব মরসুমে পেজ থ্রিতে রাজ করলো একটাই নাম , সৃজিত মুখার্জি ।



এবার আর পুজো অবধি অপেক্ষা নয় , ২০১২এর জুলাইতে হলে এলো মুখার্জিবাবুর ' হেমলক সোসাইটি ' , যার ট্যাগলাইন ' মরবে , মরো, ছড়িয়ো না । ' আবারও ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের প্রযোজনাতেই সম্পূর্ণ নতুন স্বাদের এক সাইকোলজিক্যাল রোমান্স । সৃজিতের অশ্বমেধ এবারও রাজ করল বক্সঅফিসে । বাণিজ্যিক সিনেমার মেগাস্টার কোয়েলকে দিয়ে জীবনের সেরা অভিনয়টা করিয়ে নিলেন সৃজিত । প্রতিটি পদক্ষেপেই জেতার চিহ্ন রেখে যেতে শুরু করলেন পরিচালক সাহেব  । সাথে রমরমিয়ে কমতে  থাকলো ছবির সঙ্গীত পরিচালক অনুপমের ফাঁকা ডেট ।


ইতিমধ্যে ফেলুদা , ব্যোমকেশ মিলিয়ে প্রায় হাফ ডজন গোয়েন্দা ছবি দেখে ফেলেছে বাংলার  দর্শক । সৃজিত হাত দিলেন সুনীলে। কাকাবাবু টলিউডের শাহেনশা বুম্বাদা । ' মিশর রহস্য' গল্প অবলম্বনে তৈরি এই ছবি ২০১৩ এর পুজোয় কালেকশনে হার মানালো দেবের ' রংবাজ' কে ।


এ যাবৎ ভেঙ্কটেশ প্রযোজিত সৃজিত নির্দেশিত এ সকল চলচ্চিত্রের প্রত্যেকটিই শুধু যে মা লক্ষ্মীর ভাঁড়ারকে সমৃদ্ধ করেছে, তা নয় । সঙ্গীত , চিত্রনাট্যের পাশাপাশি সংলাপ চয়নেও এনেছে এক নতুন রেনেসাঁস । ' হেমলক সোসাইটি ' -তে কোয়েলের প্রেমপ্রস্তাবের প্রত্যুত্তরে পরমব্রতের " গাঁড় মেরেছে। আবার ওসবের কী দরকার ছিল ? " কিংবা ' অটোগ্রাফ'-এর ' লাইট-ক্যামেরা-লাভ ' বাঙালি ' মনে রেখে দেবে'  আজীবন । ' বাইশে শ্রাবণ'-এর সেই বিখ্যাত কথন 'জীবনে ভাত-ডাল আর বিরিয়ানির তফাৎ বুঝতে শেখো, একটা নেসেসিটি আর একটা লাক্সারি । ' অথবা ' কে উন্মাদ আর কে নয় , সেটা ডিপেন্ড করছে, তুমি পাগলাগারদের কোন দিকটায় আছো ।'  ---যেন বাঙালি জীবনের বেদবাক্য ।


এরপর ঘর বদলান সৃজিত । পরপর ৪ টি ব্লকব্লাস্টার ছবির পর তিনি পা রাখলেন ' রিলায়েন্স'-এর রথে । ২০১৪ এর জানুয়ারিতে এল যিশু সেনগুপ্ত, স্বস্তিকা , আবির , বুম্বাদা অভিনীত ছবি ' জাতিস্মর' । ' অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি' -এর অনুপ্রেরণায় তৈরি এই ফিল্মের চোখজুড়ানো সিনেমাটোগ্রাফি মুগ্ধ করে সমালোচকদের । কুশল হাজরা এবং অ্যান্টনির দ্বৈত চরিত্রে টলিউড বাদশার অভিনয় বাংলা ছবির ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক । কিন্তু টলিউডের সর্বাধিক প্রভাবশালী প্রযোজক সংস্থার ছবি না হওয়ায় সিঙ্গেল স্ক্রিনে প্রায় অপ্রদর্শিতই থাকে এই ছবি । ফলে ব্যবসায়িক দিক দিয়ে অসফল ' জাতিস্মর '। শেষ দৃশ্যে অসাধারণ মোচড়ে হৃদয়হরণকারী চিত্রনাট্য আসল ফসল ঘরে তোলে মে মাসে চারটি জাতীয় পুরস্কার জিতে নিয়ে  । সেরা মেকআপ ও পোশাকের পাশাপাশি ' এ তুমি কেমন তুমি' -এর জন্য  সেরা গায়কের পুরস্কার জিতে নেন রূপঙ্কর । সাথে সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কবির সুমন নিখুঁত দক্ষতায় বাংলা সঙ্গীতের বিবর্তনকে তুলে ধরেন পুরস্কার ছিনিয়ে নিতে ।


'চতুষ্কোণ' রিলিজ করে ২০১৪তে,  উৎসবের মরসুমে। গৌতম ঘোষ , পরমব্রত, কৌশিক গাঙ্গুলি , অপর্ণা সেন অভিনীত চলচ্চিত্র আবার সিটে বসে থাকতে বাধ্য করে বিশ্লেষকদের । ছবির সেরা চমক অবশ্যই চিরঞ্জিতের প্রত্যাবর্তন । প্রত্যয়ের সাথে বুঝিয়েছেন যে , কেন তিনি একসময় একার হাতে ইন্ডাস্ট্রি শাসন করতেন । তবে আবারও পুজো মরসুমে হল সংকটে মুখ থুবড়ে পড়ে এই ফিল্ম । কিন্তু  অনুপমের সুরারোপিত এই ছবির মাধ্যমে ' বসন্ত এসে ' যায় সৃজিতের ক্যারিয়ারে  । সেরা চিত্রনাট্যের পাশাপাশি সেরা পরিচালকের জাতীয় মুকুট এবার দখল করেন তিনি ।


এবার ঘরের ছেলের ঘরে ফেরার পালা । ২০১৫ এর মে তে সদ্য জাতীয় পুরষ্কারে ভূষিত সৃজিতের পরিচালনায় নতুন ছবি পর্দায় আনে  শ্রীভেঙ্কটেশ ফিল্মস । নাম ' নির্বাক ' । সিনেমার সংজ্ঞাই বদলে দেয় এই  ছবি। সময়ের চেয়ে কয়েক কদম এগিয়ে থাকা সৃজিতবাবু দৃশ্যায়িত করেন প্রেমের নতুন এক চিত্রপট । চারটি  অব্যক্ত প্রেমকাহিনিকে এক সুতোয় গাঁথেন পরিচালক । অঞ্জনের আত্মসম্মোহন , যিশুর প্রতি তার পোষা ল্যাব্রাডরের নির্বাক প্রেম  বা পার্কে যিশুর প্রেমিকা , বলি দিভা সুস্মিতা সেনের প্রতি গাছের অব্যক্ত অধিকারবোধ --- স্তম্ভিত করে তাবড় সমালোচকদেরও। শেষ গল্পে মর্গে আসা সুস্মিতা সেনের মৃতদেহের প্রতি মর্গকর্মী ঋত্বিকের ভালোবাসা সিনেমাটিকে নিয়ে যায় অন্য উচ্চতায় । এই ছবি হলে হলে  হাউসফুল হওয়ার আশা হয়তো পরিচালক নিজেও করেননি , হওয়ার কথাও নয় , হয়ওনি । কিন্তু বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রথম দশে পাকাপোক্ত জায়গা দাবি করতেই পারে  ' নির্বাক' ।


সাল ২০১৫।আবারও ভেঙ্কটেশের ব্যানার । আবারও সৃজিত । আবারও ব্লকব্লাস্টার । এবার টলিক্যুইন ঋতুপর্ণার নেতৃত্বে প্রিয়াঙ্কা , জয়া এহসান সহ এক ঈর্ষণীয়  মহিলা ব্রিগেডকে সাথে নিয়ে জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক নিয়ে এলেন ' রাজকাহিনি ' । দেশভাগের দগদগে ক্ষতকে আরও একবার উস্কে দিলেন সীমান্তে থাকা এক বেশ্যাবাড়ির গল্প দিয়ে । তাদের লড়াই পুনরুজ্জীবিত করল দর্শকের জাতীয়তাবোধকে । ফল আরেকটি মেগাহিট । বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও প্রশংসা কুড়িয়ে নিলেন সৃজিতবাবু । অভিভূত বলিউড প্রযোজক মহেশ ভাট হিন্দিতে এই ছবিটিই পুনর্নির্মাণ করেন সৃজিতের পরিচালনায়  । নাম  ' বেগমজান ' । মুখ্য চরিত্রে মেগাস্টার বিদ্যা বালান। পটভূমি পাঞ্জাব ।


ফিল্মি বাজারে হঠাৎ এখন বেশ শক্তিশালী থাবা বসিয়েছেন আরেক পরিচালক যুগলবন্দি শিবপ্রসাদ মুখার্জি ও নন্দিতা রায় । 'প্রাক্তন' , ' বেলাশেষে' দিয়ে দর্শক মননে সৃজিতের একছত্র আধিপত্যের অংশীদার হতে শুরু  করেছেন তারা ও । এহেন পরিস্থিতিতে পরিচালক পুজোয় হাজির করলেন তার ক্যারিয়ারের জঘন্যতম কাজ , ' জুলফিকার' । প্রসেনজিৎ, দেব , যিশু , কৌশিক, অন্কুশ  প্রমুখের কাছ থেকে সেরা অভিনয়টা আদায় করে নিলেও, তার দুর্বল চিত্রনাট্য ব্যাপক নিন্দিত হয় সর্বত্র । অভিনেতাদের ব্যক্তিগত ফ্যানবেসে নির্ভর করে  ছবিটি বক্সঅফিসে উতরে গেলেও,  হলফেরত দর্শক ছবি নিয়ে ছিল যথেষ্ট হতাশ । গ্রাফ পড়তে শুরু করলো মহারথীর।


২০১৭ এর পুজোয় নীললোহিতের ' পাহাড়চূড়োয় আতঙ্ক' অবলম্বনে আবারও কাকাবাবু সিরিজের ' ইয়েতি অভিযান' বানাতে গিয়ে কিছু শিশুসুলভ ভুল করে বসলেন  মহাপরিচালক । গল্পকে পর্দায় আকর্ষণীয় করতে গিয়ে গ্রাফিক্সের সাহায্যে গোয়েন্দা গল্পকে পরিণত করলেন রূপকথায় । সুনিপুণ প্রচারকৌশল ও বুম্বাদার অভিনয়ে ভর দিয়ে ব্লকব্লাস্টারের তকমা পেলেও , সিনেমার কিছু সিরিয়াস দৃশ্য কমেডি ছবিকেও হার মানায় ।


সৃজিত বেশ আটঘাট বেঁধে নামলেন পরবর্তী  ছবি ' উমা'য় । কানাডার মারণ রোগাক্রান্ত শিশু  ইভান লেভরসেজের ইচ্ছেকে গুরুত্ব দিতে নভেম্বর মাসে নির্ধারিত সময়ের আগেই তার শহর জুড়ে পালিত হয় ক্রিসমাস । সেই ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত  'উমা'  ছবিতে এন. আর.আই. যিশু , মুমূর্ষু  মেয়ের কলকাতায় দুর্গাপুজো দেখার উৎসাহের দামে দিতে বিপুল ব্যয়ে কল্লোলিনীতে আয়োজন করলেন  মার্চ মাসে দুর্গোৎসব বা অকালবোধন। যিশু , অঞ্জন দত্তের সাথে পাল্লা দিয়ে এই ইমোশনাল গল্পে অভিনয় করেন যিশুর ছোট্ট মেয়ে সারা । বর্ষিত হয় মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ । সৃজিত কিছুটা হলেও দর্শকের মন রাখতে সমর্থ হন এবার  । শ্রবণেনন্দ্রিয়কে স্বস্তি দেয় অনুপম রায়ের সুরে দেওয়া গানগুলি । তবে , আবেগের ওভারডোস দিতে গিয়ে পরিচালক মশায় কোথাও  যেন ছবির কলকাতানিবাসী চরিত্রদের দু-একটি মশলামুভিসূচক অবাস্তব চারিত্রিক পরিবর্তন দেখিয়ে ফেলেন  যা বিস্মিত করে দর্শককুলকে ।

২০১৮ এর পুজোয় সৃজিত নিয়ে এলেন পার্থ চ্যাটার্জির ' আ রয়্যাল ইম্পোস্টর ' নামক  ঐতিহাসিক দলিল অবলম্বনে নির্মিত ' এক যে ছিল রাজা ' যা প্রদর্শিত করল বাংলার বিখ্যাত ভাওয়াল সন্ন্যাসী কোর্টকেসকে । পূর্বে অনুরূপ গল্প নিয়ে তৈরি উত্তমকুমারের ' সন্ন্যাসী রাজা ' এর তুলনায় এ ছবিতে কোর্টরুম ড্রামার ভূমিকা অনেকখানি বেশি , যা বেশ চিত্তাকর্ষক হয়ে ওঠে দর্শকদের কাছে । যিশু রাজার ভূমিকায়  যথাসাধ্য চেষ্টা করে জীবনের সেরা কাজটি উপহার দিতে চাইলেও,  মহানায়কের তুলনায় তা  নেহাতই নগণ্য । জয়া এহসান ছাড়া গল্পের বাকি  চরিত্রদের পূর্ববঙ্গীয় ভাষার প্রয়োগ বড়ই নাটুকে । এটুকু বিচ্যুতি বাদ দিলে সৃজিতবাবু এবারও বেশ সফল, তবে ' চতুষ্কোণ ' বা ' নির্বাক' -এর মতো নির্মেদ ছবি হয়ে ওঠেনি ' এক যে ছিল রাজা । '



এখন প্রশ্ন হচ্ছে , সমালোচনায় ভীষণভাবে প্রতিক্রিয়াশীল সৃজিতবাবুর গ্রাফ কী পড়ছে ?এই  লেখকের মতে , তার পারফরমেন্স নিম্নগামী । একসময় বছরে একটি  করে কালজয়ী ছবি বানানো পরিচালকের এখন বছরে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির সংখ্যা প্রায় তিন । একটি রিলিজ হতে না হতেই অপরটির শ্যুটিং শুরু  হয়ে যাচ্ছে  । গল্প লেখার সময় মিলছে কম । ফলে জাতীয় পুরস্কারজয়ী চিত্রনাট্যকারের  কমছে নিজস্বতা । সৃজিতের চরিত্র তৈরির বুনোট বা সংলাপের মাধুর্যকে অস্বীকার করতে পারবে না তামাম নিন্দুকও । তবে ' বাইশে শ্রাবণ ' বা ' জাতিস্মর ' প্রসবকারীসূচক  চিত্রনাট্য যেন আর আসছে না সৃজিতের কলমে । কিছুটা অনুপ্রেরণা আর কিছুটা চমকের মকটেল বানিয়ে বক্সঅফিসের মুনাফা লুঠতেই ব্যস্ত তিনি । পরিচালক সৃজিত মুখার্জি বা হবু প্রযোজক সৃজিত মুখার্জি যদি চিত্রনাট্যকার সৃজিত মুখার্জিকে আর একটু বেশি সময় দেন , তবে হয়তো জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে তার নামটা পরিবর্তনহীন অব্যয় হয়ে থেকে  যাবে ।নাহলে ....... ' অটোগ্রাফ' -এ বুম্বাদাকে আঠারোবার একই শট দেওয়ানো লোকটাকে আমরা খুব মিস করি স্যার ।




                   Chiranjit Saha
                   Poramatala Road
                   Mahaprabhu Para More
                   Nabadwip, Nadia
                   Pin 741302
                   Phn 7001383909
কবিতা- সিগারেট
সৌরভ ঘোষ

আমি মুখ পোড়া অ্যাসট্রের কোণ ঘেঁষে,
নিভন্ত প্রায়।
গতর পুড়িয়ে আমেজ দিয়েছি এতক্ষণ
বারবার নিভতে চেয়েও পারিনি
উদ্বাস্তু প্রশ্বাস ঝাঁঝরা করেছে প্রতিবার
শেষে গলা টিপে মারার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা...

আমার রাগ গনগনে লাল, অন্ধকারে দেখা যায়।
আমিও মানুষ দেখি
বৃষ্টি দেখি, পাহাড় দেখি, জঙ্গল দেখি,
দেখি ভয়ঙ্কর অন্ধকার,মৃত্যু ...
নির্ভয়ে নিকোটিন বীজ বুনি গোলাপি ফুসফুসের জমিতে।
প্রতিহিংসার ধোঁয়া ছড়াই আমেজে
প্রতিবেশীর ঘড় পুড়িয়ে উল্লাসে হাসি,বিদ্রোহী...

একদিন,তোমরাও খুন হবে
আমার হাতে ক্যান্সারের ধারালো ছুড়ি...

কবিতার নাম--" কে বলেছে এটা অনিয়ম "/ বলাই দাস, কুয়েত।
                            ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
বহুদিন পরে শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে এলাম
সেদিন মহা অষ্টমীর বড় পূজো চলছে খুব ধুমধাম
মা মাসী পিসি কাকিমা জেঠিমা সকলের সেকি আনন্দ
ভাইবোনেদের তো কোন কথাই নেই, বন্ধু-বান্ধব সকলে
আমায় পেয়ে আনন্দের জোয়ারে গা- ভাসিয়ে দিলো
বাবা মেসো পিসে মশায় কাকা মামা মামিদের মুখটা
একটু কেমন যেন অন্যরকম ভাব দেখালো -!
মনটা একটু বিষাদে ভরেগেল, ফাঁকে পেয়ে মাকে বললাম- মা যা বলল এই মোটা মাথায় পুরোটা ঠিকমতো ঠুকলো না, চিন্তায় মাথাভারাক্রান্ত !  অষ্টমী নবমী কোনরকমে কেটে গেল
বিজয়াদশমীতে ঝেড়ে উঠে দাঁড়ালাম আগের মতো বেপরোয়া মন নিয়ে বিকেলেরদিকে মণ্ডপে গেলাম ভাঙ খেয়ে খুব নেচেছিলাম
মনে একটা ভয় ভাব ছিল,পঞ্চায়েতে সালিশি সভা হয়েছিল
সেই থেকে আমি গ্রাম ছাড়া হয়েছিলাম।
তখন গোধূলি,তুই দাঁড়িয়ে আছিস একটু দূরে পরনে সাদা কামিজ- কুর্তা, নজর পড়তেই দৌড়ে গেলাম ডান হাতে একমুঠো সিঁদুর
কোন কথা না বলে তোর অজান্তেই জড়িয়ে ধরে মাখিয়ে দিলাম সিঁদুর। সারা মুখ কপাল সিঁথি বরাবর মাথা অব্দি.....তুই আমায় কেবল বাধা দিয়ে  বললি-- ইস্-- একি করলে তুমি !
কে যেন পেছন থেকে বলল-- এ কি করলি ? হায়, হায়!  ওযে বিধবা ! বিধবার গায়ে সিঁদুর!   
আমি তো অবাক!  এ সধবা হলোই বা কবে, আবার বিধবা হলোই  বা কবে ??   কে বলেছে এটা অনিয়ম ??
এই দু'বছরে এতকিছু ঘটলো কবে ?
সেবার বেঁচে গিয়েছিলিস হতভাগা দেশ ছেড়ে শহরে গিয়ে, ফিরে এসে আবার অঘটন ! এবার আর নয়, ওকে বিয়ে করতেই হবে তোকে ?
বিসর্জনে বোধন !  এতো দেবী মায়ের আশীর্বাদ । যে রঙ ওর জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছে আমি সে রঙ ওকে ফেরত দিলাম। 
আকাশে তারাদের হাসি, জোছনার উথালিপনা  উতল হাওয়ার আশীষ।  সব মিলিয়ে এই কুলাঙ্গার কৃপাপ্রার্থি। আমি রাজি। বাল্যবিধবা সধবা হোক এই সমাজের কু- নজর থেকে......
               ==============
কবিতার নাম--" কে বলেছে এটা অনিয়ম "/ বলাই দাস, কুয়েত।
                            ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
বহুদিন পরে শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে এলাম
সেদিন মহা অষ্টমীর বড় পূজো চলছে খুব ধুমধাম
মা মাসী পিসি কাকিমা জেঠিমা সকলের সেকি আনন্দ
ভাইবোনেদের তো কোন কথাই নেই, বন্ধু-বান্ধব সকলে
আমায় পেয়ে আনন্দের জোয়ারে গা- ভাসিয়ে দিলো
বাবা মেসো পিসে মশায় কাকা মামা মামিদের মুখটা
একটু কেমন যেন অন্যরকম ভাব দেখালো -!
মনটা একটু বিষাদে ভরেগেল, ফাঁকে পেয়ে মাকে বললাম- মা যা বলল এই মোটা মাথায় পুরোটা ঠিকমতো ঠুকলো না, চিন্তায় মাথাভারাক্রান্ত !  অষ্টমী নবমী কোনরকমে কেটে গেল
বিজয়াদশমীতে ঝেড়ে উঠে দাঁড়ালাম আগের মতো বেপরোয়া মন নিয়ে বিকেলেরদিকে মণ্ডপে গেলাম ভাঙ খেয়ে খুব নেচেছিলাম
মনে একটা ভয় ভাব ছিল,পঞ্চায়েতে সালিশি সভা হয়েছিল
সেই থেকে আমি গ্রাম ছাড়া হয়েছিলাম।
তখন গোধূলি,তুই দাঁড়িয়ে আছিস একটু দূরে পরনে সাদা কামিজ- কুর্তা, নজর পড়তেই দৌড়ে গেলাম ডান হাতে একমুঠো সিঁদুর
কোন কথা না বলে তোর অজান্তেই জড়িয়ে ধরে মাখিয়ে দিলাম সিঁদুর। সারা মুখ কপাল সিঁথি বরাবর মাথা অব্দি.....তুই আমায় কেবল বাধা দিয়ে  বললি-- ইস্-- একি করলে তুমি !
কে যেন পেছন থেকে বলল-- এ কি করলি ? হায়, হায়!  ওযে বিধবা ! বিধবার গায়ে সিঁদুর!   
আমি তো অবাক!  এ সধবা হলোই বা কবে, আবার বিধবা হলোই  বা কবে ??   কে বলেছে এটা অনিয়ম ??
এই দু'বছরে এতকিছু ঘটলো কবে ?
সেবার বেঁচে গিয়েছিলিস হতভাগা দেশ ছেড়ে শহরে গিয়ে, ফিরে এসে আবার অঘটন ! এবার আর নয়, ওকে বিয়ে করতেই হবে তোকে ?
বিসর্জনে বোধন !  এতো দেবী মায়ের আশীর্বাদ । যে রঙ ওর জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছে আমি সে রঙ ওকে ফেরত দিলাম। 
আকাশে তারাদের হাসি, জোছনার উথালিপনা  উতল হাওয়ার আশীষ।  সব মিলিয়ে এই কুলাঙ্গার কৃপাপ্রার্থি। আমি রাজি। বাল্যবিধবা সধবা হোক এই সমাজের কু- নজর থেকে......
               ==============
বিভাগ -- কবিতা
শিরোনাম -- সামনের পথ
কলমে-- পারমিতা চ্যাটার্জী

পথ চলেছিলাম একা--
পথেই দেখা তোমার সাথে --
পরিচয় হয়েছিল বাসস্ট্যান্ডে
তারপর রোজ হত দেখা--।
শুরু হল আলাপচারিতা --
তার থেকে বন্ধুত্ব --
বন্ধুত্ব গভীর থেকে গভীরতম --
একসময় বললে ভালোবেসে ফেলেছি হাত ধরেছিলে- সেদিন সাঁঝের বেলায়--
নীরবে নিভৃতে এক নির্মল ভালোবাসার স্পর্শ
ছড়িয়ে দিয়েছিলে আমার না পাওয়া অন্তরে--
সাঁঝেরবেলায় বুঝিনি এ স্পর্শ শুধু বেদনার রঙ--।ভালোবাসা শব্দটা হয়তো না বুঝেই বলেছিলে--তাই বন্ধন টা কেটে দিতে বেশি সময় লাগেনি--।
আজও আমি বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে --
বাসের অপেক্ষায় --
শুধু কারও সাথে আর মিথ্যে বন্ধুত্বে জড়াইনা--
নিঃশব্দে চলে যাই নিজের কর্মস্থলে --
রাতে ঘুমোবার সময় লাগে ডিপ্রেশনের ওষুধ --
পুরানো কিছু মিথ্যে স্মৃতিকে মুছে ফেলার জন্য --
আমি ভালোই আছি- চলছি জীবন পথের না না বাঁক ধরে--
এগিয়ে যাই শুধু এগিয়ে যাই -- পা দুটো থামতে শেখেনি --।।
উমা আর মেনকা
04, 11, 2018
© অঞ্জলি দেনন্দী, মম
যুগ বদলতে রয়।
উমা আর পূজোর সময়,
আসে না মেনকার বাড়ী।
পড়ে না নতূন শাড়ী।
বিদেশী পোশাক পড়ে,
আকাশ পথে দেয় পাড়ি।
এরোপ্লেনে চড়ে,
সে,
ওড়ে .......
মেনকা পথ পানে চেয়ে রয়।
উড়ে যায় বিদেশে।
সেখানে প্রোগ্রাম করে সে।
একমাস পরে ফিরে এসে,
দেশে,
হোয়াটস্যাপে মেসেজ সেন্ড করে মাকে।
হেল! মাই ডিয়ার মম!
রিয়েলি, আই মিসড ইওর হোম!
বিদেশে প্রোগ্রাম করে,
রূপীয়া পেলাম, লাখে লাখে লাখে...
ব্যাংক একাউন্ট গেছে ভরে।
মায়ের অশ্রু গাল বেয়ে নামতেই থাকে...
মেয়ে যে আধুনিকা আজ!
মায়ের চেয়েও মূল্যবান আজ,
তার কাজ!
মাও মেসেজ সেন্ড করে,
সুখে থাকিস, আপন ঘরে!
কর্ম সফল হোক, ঈশ্বরের বরে!
বড় মন ক্যামন করে,
তোদের সকলের তরে!
তুমি ও আমি
শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়

দুচোখে অসংখ্য ট্রেন, বাস, গাড়ি
অনেক সুখের উপাদানগুলি
এক কালবৈশাখীর ঝড়ে স্মৃতির মগডালে
উড়ে এসে বসেছে।
কত ড্রপ, জলের ঝাপটা
না- না আর রেহাই নেই।
হাজার টাকার বান্ডিলগুলি উপহাস করছে।
হীরের আংটিটা আঙুলে না পরে চোখে পরেছি কেন?
"আমি" কে খুঁজতে খুঁজতে গবেষকরা বোধহয়
"তুমি" শব্দটাকে ঠোকরাতে ভুলে গেছে।
তবু 'তুমি' বেঁচে আছে- বেঁচে থাকবে
ছড়া, গান, কবিতা ও কল্পনায়।
তুমি ছাড়া তো ছড়াই হয়না।
মালবিকা ভয়ঙ্কর কষ্টের দিনে আমরা পাশাপাশি
"তুমি" ও "আমি" দের তুলনাই হয়না।

এই ছেলেটা
বটু কৃষ্ণ হালদার (কবর ডাঙ্গা)
এই ছেলেটা ভেলভেলে আমাদের বাড়ি যাবি
থালা ভরে ভাত দেবো মন ভরে খাবি "
মেলার দিনে বন্ধু নতুন পরবো নতুন জামা
গায়ে তোর সেই ছেঁড়া টা আপন চাঁদ মামা"
কংক্রিটের ইমারতে কাটাই যে দিন রাত
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীতে তোর আপন যে ফুটপাত "
চাঁদে বসে চরকা কাটে মনের দুঃখে বুড়ি
স্কুলছুট সেই ছেলেটার মাথায় শ্রমের ঝুড়ি"
বিভাগঃকবিতা

জন্মদিন
অমরেশ বিশ্বাস

জীবন থাকতে জন্মদিনের
কথা কি কেউ ভোলে
আনন্দে মন নেচে ওঠে
সেই দিনের কথা হলে।

যে দিন প্রথম এসেছিলাম
আমি মায়ের কোলে
প্রতি বছর সেদিন ঘরে
রঙীন বেলুন ঝোলে।

জন্মদিনে মায়ের হাতে
স্নেহের পায়েস খাওয়া
থাকতে জীবন কখনো তা
যায় কি ভুলে যাওয়া।

মাথায় বাবার হাত রাখাটা
পরম আশীর্বাদ
অভাগা সে জীবনে যার
জোটেনি সেই স্বাদ।

জন্মদিনে আসত পাড়ার
সকল ছেলেপুলে
বড় হলেও সে কথা যাই
কেমন করে ভুলে।

জন্মদিনে শপথ নিয়ে
চলার শুরু হয়
জন্মদিন যে খুবই প্রিয়
সে দিন ভোলার নয়।
****         ***
বিভাগ - কবিতা

*আবার আসব ফিরে*
     অপূর্ব কর্মকার

ভেবেছো কী !
টের পাইনি কিছু ?

সব শেষ হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে ;
চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি-
পরিচিত মুখগুলো কেমন যেন বদলে যাচ্ছে ;
কাঁধের উপরে যে হাতগুলো সাহস জোগাচ্ছিল -
তারাও আজ বিলুপ্তপ্রায় ।

তোমরা ভাবো-পরাজিত 'আমি' ,
আমার মধ্যে কিছুই নেই বাকি ।
অবজ্ঞা-ভরা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে-
এড়িয়ে চলো আমাকে ।
বটতলায়,নদীর পাড়ে,পাড়ার মোড়ে চায়ের দোকানে,সন্ধ্যাবেলার আড্ডায় -
আলোচনার বিষয়বস্তু হয়েছি 'আমি' ।

তবুও কিছু বলিনি ;
সহ্য করেছি সবটা মুখ বুঁজে।
আহত হয়েছি তোমাদের  আচারে,ব্যবহারে,কথাবার্তায়,রসিকতায় ।
প্রতিরোধ করার শক্তি হারিয়েছি আজ ,
জাদুকর যেমন ইন্দ্রজালে সম্মোহন করেন ;
ঠিক তেমনটা হয়েছি 'আমি' ।

ভেবেছিলাম মুখ খুলব না ;
কিন্তু পারলাম না,ক্ষমাপ্রার্থী 'আমি'।
কানে বড্ড বাজছে-"ও এখন 'হিরো' থেকে 'জিরো'।"
হুঁশিয়ার! আর নয় ।
তোমাদের 'চ্যালেঞ্জ'-কে স্বাগত, বন্ধু ।
প্রস্তুত থেকো,প্রত্যাঘাত-টা হবে ভীষণ ভয়ানক ।
কথা দিচ্ছি-আবার আসব ফিরে তোমাদের 'হিরো' হয়ে ।

*****জন্মদিনের চিঠি ******

*******  পিনাকী বোস********
                     
আজ তোমার জন্মদিন,
আরো একবার
নিজেরই কক্ষপথে
পরিক্রমা পূর্ণ হল তোমার |
রূপে , রসে, বর্ণে, গন্ধে
সমুজ্জ্বল আরো কিছুটা পথ |
আরো অনেক ভালোবাসা
করেছো সঞ্চয় -নিশ্চয়
পরিপূর্ণতার লক্ষ্যে
এগিয়েছে আরও কয় ধাপ |
বেড়েছে প্রতিপত্তি-,বেড়েছে প্রতাপ |
কিন্তু তোমার প্রথম দিনে ,
আমি ছিলাম অন্য কোনোখানে ,
অন্য কোনো কাজে ,
তবু তোমার আলোকরেখা
এসে পড়লো আমার জীবনে
পূর্বনির্দিষ্টের মতো ,
আমার"গ্রহণ"হল তোমার ছায়ায় |
আমার আমিকে দখল নিলে তুমি ,
তোমার গুণমুগ্ধের ভিড়ে ,
একটুখানি জায়গা হল আমার
আমি ধন্য হলাম ,
মনে হল- এটাই  অনেক পাওয়া |
তাই ফিরে ফিরে আসা সেই
জন্মের  দিনে
কি হবে কৃতজ্ঞের উপহার ?
নিষ্প্রাণ নির্জীব কোনো দান?
নির্বাক সে তো ,
আমার মনের ভাব
পৌঁছবে না কোনোদিন তার হাত ধরে |
ফুল যদিও বা বাঙময় বটে ,
কিন্তু ফুলের জলসায় ,
সেও তো হারিয়ে যাবে
পরে থাকবে এককোণে অবহেলায় ,
অনাদরের লজ্জায়  মূর্ছা  যাবে
পরদিন সকালে |
তাই এই চিঠি -
যা তোমার জীবন থেকে
চেয়ে নেবে একটু সময়  ,
তোমার ব্যস্ততা থেকে,   
তারপর এই চিঠি পড়তে পড়তে
তোমার ঠোঁটের কোণে
খেলে যাবে ছোট্ট একটা ঢেউ ,
হতে পারে একবার -
তবুও সেই এক  চিলতে হাসিটাই হবে ,
তোমার জন্মদিনে আমার সেরা উপহার ||


প্রতিশ্রুতি
.................  লিটন দাস

তুমি আমায় দাওনি তো প্রেম
        কেন আঘাত দিলে মোরে.।
তোমার তো কোনো করিনি ক্ষতি
      কেন সর্বস্ব নিলে কেড়ে...।।

মোর ভালবাসায় স্নাত হয়ে
               তৃপ্ত হয়েছ তুমি...।
মিলন আবিরে রাঙ্গিয়ে তোমায়
           শুধুই দিয়েছি আমি...।।

আমার অঙ্গে ভর করে তুমি
            মেলেছো ডানা সংসারে...।
আমার পালের হাওয়ায় তুমি
          ভাসিয়েছো ভেলা সাগরে..।।

হাতে হাত রেখে বলেছিলে মোরে
              ভালবাসবে আজীবন...।
মোদের মিলনে হাসবে আবার
                     চৈতি চন্দ্র কিরন ......।।

আজ কেন  বিস্মৃত  তুমি
             সেদিনের প্রতিশ্রুতি...।
সময়ের স্রোতে কেন ভেসে গেল
                প্রথম দিনের স্মৃতি....।।

প্রথম দফা



সুদীপ্ত + অরূপঃ- শুভ বিজয়া সক্কলকে
আজ আমাদের সঙ্গে আছে তিন জন পরিচিত নতুন মুখ

রায়বাবু কবিতাওয়ালা, আজাহারুল ইসলাম, আর অনুব্রতা গুপ্ত

প্রথমেই তোমাদের শুভ বিজয়া জানাই

রায়বাবুঃ-প্রথমেই সকলকে বিজয়ার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
ও কোজাগরী লক্ষী পূজার শুভেচ্ছা।।

অনুব্রতাঃ-শুভ বিজয়া সবাইকে 😊

সুদীপ্তঃ-এখনও আমাদের মধ্যে এসে পৌঁছায়নি আজাহারুল ইসলাম


যাই হোক আমি সুদীপ্ত আর আমার সাথে আছে জলফড়িং-র  দৈনিক সম্পাদক অরূপ সরকার।

অরূপঃ- নমস্কার, শুভ বিজয়া

সুদীপ্তঃ-আজ কবিতা পাঠ, আড্ডা, আলোচনা করব এখানে তাই আমরা সামিল হয়েছে এই তিনজন মানুষকে নিয়ে।

প্রথমেই চলে যাবো সেই ব্যক্তির কাছে যে চারলাইনে মুগ্ধ করে রেখেছে মানুষকে।
তার লেখায় খুব ভালো করে সমাজের বুকে চাবুক লেগে থাকে।
বুঝতেই পারছেন কার কথা বলছি হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন রায়বাবু কবিতাওয়ালা।

দাদা কেমন কাটলো পুজো?

রায়বাবুঃ-খারাপ নয়,তবে ভালোও নয়।
কারন পুজোতে হঠাৎ করে চারটে পোগ্রাম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মনটা একটু ভেঙেি গেছে।


সুদীপ্তঃ-দাদা ওই ছোটো করে ৪-৮ লাইন একটা লেখা পাঠ করো তোমার।

রায়বাবুঃ- আলোচনায় আছি আজ,
কবিতাতে নেই।
সুদীপ্ত ঃ- না দাদা একটা কবিতা তো শুনবই



অরূপঃ-বাহ্ মুগ্ধ আমরা।( জানাবেন কেমন লাগলো আপনাদের)



সুদীপ্তঃ- এবারে সেই মেয়েটি যে মেসবালক লিখেছিল, লিখে থাকে মনের কথা, লিখে লিখে বুঝতে শেখায় শরীর দেওয়া কত্ত সোজা।
হুম সে আর কেউ নয় অনুব্রতা গুপ্ত।

সুদীপ্তঃ- দিদি কেমন কাটলো পুজো?

অনুব্রতাঃ-পুজো এবার একদম আলাদা ছিলো কারণ দেশে ফেরা ছিলো।দেশে ফেরার টানে পুজো শুধু পুজো নয় একটা টাইমফ্রেম হয়ে গেছিলো।

সুদীপ্ত ঃ-এবার পুজোর স্পেশাল কোনদিনটা ছিল তোমার কাছে?

অনুব্রতাঃ-সপ্তমী।আমার প্রথম ক্যামেরার সামনে অভিনয় ছিলো।একটা সর্ট ফিল্মে।নামটাও "অকাল বোধন"!

সুদীপ্তঃ- কবে বেরচ্ছে সর্ট ফ্লিমটা?

অনুব্রতাঃ-হয়তো ডিসেম্বরে।এখনো শিওর নই।

অরূপঃ-দিদি ওই ছোটো করে ৪-৮ লাইন একটা লেখা পাঠ করো তোমার

অনুব্রতাঃ-পুজো সংক্রান্তই করছি।তবে কবিতা নয়।




সুদীপ্তঃ-দারুণ লাগল ( তোমাদের কেমন লাগল জানাবে দর্শক বন্ধুরা)


সুদীপ্তঃ-এবার যার কাছে যাবো বুঝতেই পারছেন আপনারা সেই মানুষটি যে তার মেয়ের নাম রাখবে আয়েশা আর ডাকবে দুর্গা বলে, যে কোনো ভাবেই প্রেমিকা অভাবে একলা নয় নিজেই নিজের সাথে ঘুরে পুজো কাটাতে পারে এবং সেরকমই বার্তা দেয়েছি,যদিও তার প্রেমিকার অভাব নেই সেই বিষয়ে পরে বলছি। হ্যাঁ এবারে আসছি আজাহারুল ইসলামের কাছে।


দাদা কেমন কাটলো পুজো?

আজাহারুলঃ-খুব খুব ভালো,ঈদ ঈদ অনুভূতি পেয়েছি


সুদীপ্তঃ-দাদা ছোটো করে ৪-৮ লাইন একটা লেখা পাঠ করো তোমার


[ আজাহারুলের ভিডিও হবে এখানে ]

অরূপ+সুদীপ্তঃ-আহা ( আপনাদের কেমন লাগল জানাবেন)


সুদীপ্ত ঃ-আচ্ছা রায়বাবুর আসল নাম কি জানাটা খুব দরকার নাকি না জানলেও চলবে?

রায়বাবুঃ- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
তোমাদের ভালোবাসায় বেঁচে থাকুক রায়বাবু নামটি।

সুদীপ্তঃ-আচ্ছা দাদা নতুন কিছু পদক্ষেপ তোমার?

রায়বাবুঃ-এখন কিছু ভাবছিনা লেখালিখি-পড়াশোনা ও গান ছাড়া।

সুদীপ্তঃ- দাদা বই নিয়ে কিছু ভাবছো না?

রায়বাবুঃ-নাহ্ বইয়ের পিছনে ছুটবো,আরেকটু সময় পর।


সুদীপ্তঃ- আচ্ছা এবার আমি আমাদের সম্পাদক স্যার অরূপ সরকারকে অনুব্রতাদি'কে কিছু বলার জন্য বলব।

অরূপঃ-নমস্কার দিদি ,আমি অরূপ তোমার সাথে এই প্রথম আড্ডায়
তোমার লেখা গুলো মনস্তাত্বিক বিশ্লেষণ বলবে নাকি শুধুই লেখা?

অনুব্রতা দিঃ-মনের অলিগলি নিয়ে খেলা করাই আমার কাজ।সেটা কখনো কবিতায় কখনো এমনি।মানুষ আর মানুষের চরিত্র,চিন্তাভাবনা,আচরণ এগুলো আমাকে ভাবায়।বিস্মিত করে।



সুদীপ্তঃ-আজাহারুল ইসলাম কম লিখছে, কেন? নাকি
আজাহারুল দা তোমার বই কি আসছে এই বইমেলায়?

আজাহারুলঃ-লিখছি কম, কারণসামনেই একটা পরীক্ষা আর বই প্রকাশের কাজ চলছে।




সুদীপ্তঃ-আচ্ছা অনুব্রতা দিএতো হুমকি, তাতে ভয় পেয়েছ তুমি। আচ্ছা তাদের জন্য একটা লাইন।

অনুব্রতাঃ-তাদেরও ভালো হোক।
মানুষ অকারণে অন্যকে তখনই টার্গেট করে যখন সে নিজের অস্তিত্ব নিয়ে সুখী বা নিশ্চিন্ত নয়।সুস্থতা কামনা করি।আর অবশ্যই চাই সবাই আমার বইটা পড়ুক।

সুদীপ্তঃ-রায়বাবু কবিতাওয়ালার মেয়ে বন্ধু কটা?

রায়বাবুঃ-ফেসবুকে না বাস্তবে?

আমরা সবাইঃ- সবেতেই

রায়বাবুঃ- ফেসবুকে৭০% আর বাস্তবে ১০%

অরূপঃ-দিদি তুমি যেহুতু প্রবাসে থাকো দেশে ফেরার ঘোর টা কতটা উপভোগ কর?

অনুব্রতাঃ-হুম অনুভব আর উপভোগ দুইই করি।দূর থেকে অনেককিছুই বেশি কাছের মনে হয়!


সুদীপ্তঃ-আঞ্চলিক কবিতা তোমাদের চোখে ঠিক কী? ( সবার জন্য প্রশ্ন এটা)

রায়বাবু'র উত্তরঃ-দেখো বর্তমানে আঞ্চলিক কবিতা আমাদের মানুষের কথা বেশী শোনায়।তুলে আনে সমাজের মনস্তত্ত্ব।ফুটিয়ে তোলে দৈনন্দিনের  খুঁটিনাটি।

অনুব্রতা'র উত্তরঃ-খুব ইন্টারেস্টিং লাগে এই ব্যাপারটা।আলাদা আলাদা জায়গার ভাষাশৈলী, সেখানকার সমাজের চিত্র স্বচ্ছ ভাবে তুলে ধরে।

আজহারুল'র উত্তরঃ-কিছুই না একটা দাগ কবিতা তো কবিতাই।

সুদীপ্তঃ-কবি শ্রীজাত  আর কবহ সুবোধ -র মধ্যে কাকে তোমরা ১০০ দেবে? ( এটাও সবার জন্য প্রশ্ন)

রায়বাবুঃ-কঠিন প্রশ্ন।
কোনও কোনও ক্ষেত্রে এমন উত্তর দেওয়া সত্যিই কঠিন।
তবে দুজনের প্রতিভাই আমাকে মুগ্ধ করে।

অনুব্রতাঃ-কাউকেই নয়।কারণ আমি মনে করি কবিতার উৎকর্ষ আকাশের মতো।ছোঁয়া যায় না।

আজাহারুলঃ-কেউ ১০০ পেতে পারেনা ওরা
৮০-৯০,১০০ তো রবীন্দ্রনাথ

★[ একে অপরের কেমন লাগে জানি চলুন  ]★

সুদীপ্তঃ- রায়বাবু'র কাছ থেকে শুনব তার চোখে লেখিকা অনুব্রতা?
রায়বাবুঃ-প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব লেখিকা অনুব্রতা।
(যেটুকু পরিচয় ঘটলো তার সাপেক্ষে)

সুদীপ্ত সেনঃ- অনুব্রতা'র মুখ থেকে শুনব তার কাছে আজাহারুল ইসলাম?
অনুব্রতাঃ-আজাহারুলের বেশ কিছু লেখা মন ছুঁয়ে যায়।বেশ ম্যাচিউর।শুভেচ্ছা অফুরান।

সুদীপ্তঃ- এবার জানতে চাইব আজাহারুল দা তোমার চোখে রায়বাবু কবিতাওয়ালা?
আজাহারুলঃ-অনেকটা ভরসার মতো,আসলে
ওহ খুব প্রতিবাদী,এটাই আমাকে টানে ওর দিকে।


★চলুন জেনে নিই, নতুম দের কী বলতে চাও তোমরা, যারা তোমাদের মতো জনপ্রিয় হওয়ার আশা রাখে।★

আজাহারুলঃ-দেখুনজনপ্রিয়তা অভিনেতাদের দায়বদ্ধতা কবির না, তবে কবিতার জনপ্রিয় হবার দায় রয়েছে। সেটার চেষ্টা ওরা করতে পারে

রায়বাবুঃ-আমি এটুকু বলতে পারি আমি এমন সংগঠন গড়ার জন্য মুখিয়ে আছি,যেখান থেকে নতুন কিছুজনকে তুলে আনা যায়।

অনুব্রতাঃ-জনপ্রিয় হওয়ার জন্য কখনোই কিছু করিনি।জনপ্রিয়তার পিছনে না ছুটে নিজের কাজকে ফোকাস কর।কাজকে ভালোবেসে কাজ করো।সেটাই একমাত্র দায়বদ্ধতা।

অরূপ সরকারঃ- কেমন লাগল আজকে তোমাদের "জলফড়িং-র" এই বিজয়া বৈঠক?

অনুব্রতা দিঃ-বেশ ভালো লাগলো।অন্যরকম।

আজাহারুল দাঃ-সত্যিই খুব ভালো লাগলো,
কিন্তু আমি এমনভাবে এই সময়টা ব্যস্ত হয়ে পড়েছি, তাই খুব একটা খুলে কথা বলতে পারলাম না, ভালো পদক্ষেপ জলফড়িংএর

রায়বাবু দাঃ-বেশ ভালো লাগলো সকলের সাথে সময় কাটাতে পেরে।
ধন্যবাদ ও আগামীর শুভকামনা সকলকে।


সুদীপ্তঃ- একদম শেষ পর্ব আর আমরা জানি যার শেষ ভালো তার সব ভালো। তাই শেষ টাকে আরও ভালো করার জন্য কবিতাওয়ালার গাওয়া একটা ছোট্টো গান শুনব কয়েক লাইন।




সুদীপ্ত + অরূপ ঃ-বিদায়, সকলে ভালো থাকবে, আরও লিখে চলো, আনন্দ দিয়ে চলো আমাদের মতো শত শত পাঠক দের।



ভিডিও এডিটঃ- মানস খাঁড়া



প্রকাশকঃ- অরূপ সরকার




এডিটর ঃ- সুদীপ্ত সেন



     __________সমাপ্ত ____________