নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে

শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সম্পাদকীয় কলম


সম্পাদকীয় কলম 

নমস্কার, জলফড়িং ওয়েব ম্যাগাজিনের নতুন করে পথ চলার সঙ্গী হতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দে অভিভূত ও কৃতজ্ঞ। সকলের ভালোবাসা ও আশীর্বাদকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের এই ম্যাগাজিন এগিয়ে চলুক অনেক দূর..।

এই পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদনায় আমরা (জয়ীতা চ্যাটার্জী, পাখি পাল) নির্দিষ্ট কোন বিষয় না দিয়ে নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী বিষয়ের উপর লেখাকেই প্রাধান্য দিয়েছি। আমাদের এই ভাবনার উদ্দেশ্য হল এই পরিবারের প্রত্যেক সদস্য যাতে নিজ নিজ ভাবনার বিকাশের মধ্যদিয়ে তাদের লেখনীকে স্বাচ্ছন্দে প্রকাশ করতে পারে এবং আমাদের সকলের প্রিয় জলফড়িং পত্রিকা তাদের লেখনীকে নিয়ে উড়ে যেতে পারে অসংখ্য মানুষের কাছে।।

 ধন্যবাদান্তে,
জয়ীতা চ্যাটার্জী ও পাখি পাল
          (যুগ্ম সম্পাদিকা)

কবিতা


অভিলাষ 
কলমেঃ- শর্বরী চ্যাটার্জী

ভালো লাগে যখন আয়নায় ঠোঁটের ওপর নিজের প্রিয় তিলটা দেখি
ভালো লাগে একলা ছাদে দুষ্টু হাওয়ায় এলো খোঁপার ভেঙে পড়া 
ভালো লাগে একলা কফির কাপ,
দখিনের জানলায় কানে হেডফোনে তোর গাওয়া গান
ভালো লাগে জীবনের বহমানতা

তবু কখনও বড় অভিমান জমে বুকে
কই, তোর চোখ তো আজও ছুঁলো না আমার ঠোঁটের তিল !

সেই প্রত্যেকবার আমি তুলনা টানতে বসি পুরুষ আর প্রেমিকের 
সেই প্রত্যেকবার এক ঘোর লাগা ভালবাসায় দুধ বেসন ঘষি মুখে

ত্বকটা আরও একটু বেশী পরিষ্কার হলে যদি তুই দেখতে পাস আমার ঠোঁটের তিল !

ছোটো গল্প

স্নেহের স্পর্শ
কলমেঃ- অনন্যা কোটাল


অনেক দিন পর বৃষ্টিতে ভিজলো দীপ্তি। দীপ্তির বয়স এখন ১৮ বছর, কলেজ হোস্টেলে থাকে তার রুমমেটের সাথে । রুমমেটের সাথে প্রথম দিকে খুব একটা ভাব জমেনি তার, কিন্তু কিছু দিন পর সে উপলব্ধি করে তার রুমমেট তাকে একটু শাসন করে ঠিকই, কিন্তু আগলে আগলে রাখে....।

       একদিন সন্ধ্যা বেলায় বৃষ্টি হচ্ছিল, এক কাপ কফি নিয়ে দীপ্তি বারান্দায় এসে দাঁড়ালো, পুরানো অনেক কথা মনে পড়ছিল তার, তার সাথে মনে পড়ছিল মায়ের শাসন। এই রকম বৃষ্টিতে যখন ভিজতো সে তখন তার মা তাকে টেনে নিয়ে এসে গা মুছিয়ে দিত, অনেক দিন ভেজেনি সে, মাকে হারানোর পর প্রায় ৮ বছর ভেজেনি সে। আজ খুব ইচ্ছে করছে তার ভিজতে, কেন সে জানে না.....

           তাই সে নেমে পড়লো বৃষ্টিতে ভিজতে, বৃষ্টিতে মেতে উঠতে......কিন্তু তার সেই ভেজা দেখতে পেলো তার রুমমেট অনুরাধা, দৌড়ে গিয়ে তার হাত ধরে টেনে নিয়ে এলো। তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছিয়ে দিল, আর বিভিন্ন ভাবে বকাবকি শুরু করলো.....দীপ্তি নীরব ছিল, শুধু তাকিয়েছিল অনুরাধার দিকে.......।।

কবিতা


বর্ষারাত
কলমেঃ- জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

বর্ষার বাদল মেঘের মতো তুমি
আমি বৃষ্টিতে ভিজে একশা
আড়চোখে ওরা পেরিয়ে যায় আমায়
পেরিয়ে যাচ্ছে শ্রাবণ মাসের শেষটা
রিমঝিম হয়ে ঝরে পড়ে সারা দুপুর
বা কখনো ঝমঝম করে গভীর রাত
ঝড় আসে ভীষণ আশঙ্কায়
কাঁপতে থাকে আমার বুকের ছাদ
বিষাদ কালো মেঘ আর গভীর অন্ধকার
আমার পাশে তুমি আর একটা বর্ষা রাত।।

কবিতা


চারাগাছ
কলমেঃ-গোবিন্দ নস্কর

আমার মা বটবৃক্ষ
আমি বৃক্ষের চারা
মায়ের ছায়া মাথার উপর
আঁচল দিয়ে ঘেরা,
রৌদ্র হলে মা যে আমার
জড়িয়ে ধরে বুকে
মায়ের মনের শীতল ছায়ায়
আছি ভীষণ সুখে।

আমার মা রবিঠাকুরের
প্রাচীন যে ওই বট
বিমল করের জননী মা আমার
চিত্তশালির মঠ।

আজ আমি যা পেয়েছি
সে তো মায়ের দেওয়া সব'ই
আমার জীবনে সঞ্চয়িতা তুমি
রবিঠাকুরের মত কবি।
রক্তকরবীর নন্দিনী তুমি
শেষের কবিতার লাবণ্য
আমার জীবনে তোমার ছোঁয়া
মেঘমল্লারের প্রদ‍্যুম্ন।

পচনশীল এই সমাজের মাঝে
তুমিই আমার ভ‍্যাকসিন
সাতজন্ম নিলেও মাগো
শোধ হবে না তোমার ঋণ।
যে চারাগাছ আজ জন্ম নিল
এই পৃথিবীর বুকে
মৃত্তিকা'তো তুমিই মাগো
সবুজ পৃথিবীর মাঝে,
সৃষ্টির সেই আদিম যুগে
যেখানে ছিলে তুমি
তোমার আদরে রঙিন হয়েছে
আমার মাতৃভূমি।।

জ্ঞান হওয়ার পরেই দেখেছি
তোমার যত ব‍্যথা
বুকের মাঝে লুকিয়ে রেখে
ধরেছো স্নেহের ছাতা।
কষ্টকে তুমি হারিয়েছো মাগো
তোমার মনের জোরে
অমরত্ব তুমি দাও ভগবান
সকল মাতৃজন্ম করে
তাহলে পৃথিবী হবে চিরসুন্দর
থাকবে না কোনো ব‍্যাধি
ওগো ভগবান এই প্রার্থনাটুকু
তোমার তরে সাধি।

চারাগাছের বৃক্ষ যদি 
আজ বটবৃক্ষ হয়
তাহলে সবি মায়ের দেওয়া
গোবিন্দ নস্করে  কয়।।

কবিতা

প্রতিবিম্বের আঁচড়
কলমেঃ- সুনন্দ মন্ডল


ওপারে ঢেউ উঠলে
এপারেও আঁচড় লাগে!
শরীরে তীক্ষ্ণ দাঁত বসানোর মতো,
ফুটে বেরোয় রক্ত।

ওপারে রক্তের খেলা!
এপারে সমর্থক ও অসমর্থকের
মন কষাকষি শিহরন,
চাবুকের মতো লাগে।

নতুন জগৎ কে না চায়?
তুমি, 
আমি
প্রেম অথবা যুদ্ধে।

জীবন টিকিয়ে রাখতে অমানবিকতা
কতখানি সহ্য করা যায়?
অমানুষিক আচরণের প্রতিবিম্ব ফুটে ওঠে এপারে,
যখন ওপারে ওঠে চিলচিৎকার, দুর্দম আওয়াজ।
          

কবিতা


মুশকিল আসান
কলমেঃ- বিশ্বনাথ দাস

ঐ দ্যাখো মা কাঠবিড়ালি 
লুকোচ্ছে কী ঘাসে 
এদিক ওদিক চায় আর 
আপন মনে হাসে

বন্ধু সাথে  খেলছিল কাল
লুকোচুরি খেলা 
ডালে ডালে পাতায় পাতায় 
কাটিয়ে  সারা বেলা 

আজও তেমন হাসিখুশি 
তাল সুপুরি গাছে 
এডাল থেকে ওডালে দ্যাখে 
খাবার কোথায় আছে 

দাদার ক'জন  পাড়ার বন্ধু  
ঢিল মারতে গেলে 
দু হাত তুলে প্রনাম করে 
অবাক হই সক্কলে 

সেই দেখে মা একটা দিনও
মারেনা কেউ ঢিল
বাগান ভর্তি কাঠবিড়ালির
আসান হয়েছে মুশকিল।


কবিতা


পাগলীর মন
কলমেঃ- মহাদেব নস্কর

চোখ মেলে চেয়ে দেখি
সবুজে ঘেরা সবুজ অরণ্য,
প্রাণ চায় শুধু তোমাকেই
পাগলী তুমি যে অনন্য।

মনের মন্দির মাঝে
তুমিই বিরাজমান,
আছো সাঁঝের আলো হয়ে
শুধুই দেখছো অভিমান !

সবুজ মনে ভালোবাসার
অপেক্ষায় এই সবুজ মন,
যদি না চাও দিবো কেমনে
পাগলী আমি যে তোমারই অনুরণন।

সবুজ দিগন্ত আমাকে ডাকে
সবুজে ঘিরেছে মন,
পাগলী চেয়ে দেখো আমাকে,
তোমার চোখে নিজেকেই যে পাই সর্বক্ষন ।।

             

গল্প


অনুরাগী
কলমেঃ- অরিত্র কাঞ্জিলাল 

কাকতালীয় বা co-incidence মানে, এমন কোন ঘটনা যা আকস্মিক ও সমসাময়িক, এবং তার সাথে অন্য কোনো ঘটনার আশ্চর্য সাদৃশ্য। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে, এরম অনেক ঘটনা ঘটে যার ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে নাজেহাল হতে হয়, এবং হাল ছেড়ে দেওয়ার আগে, সেই ঘটনাকে কাকতালীয় বলে অভিহিত করতে ভুলি না আমরা। তাই যখন প্রণব বাবু সকালে বাজার করে ফেরার পথে, পঞ্চার চায়ের দোকানের সামনে লোকটাকে দেখে ফেললেন রেললাইনের দিকে তাকিয়ে সিগারেট টানতে, একটু ছেলেমানুষী উত্তেজনা অনুভব করলেও, নেহাত ই চোখের ভুল ভেবে পা চালিয়ে বেরিয়ে গেলেন। 
চায়ের দোকান থেকে প্রণব বাবুর বাড়ি প্রায় ৭ মিনিট হাঁটাপথ। রিক্সা নেওয়ার অভ্যাস নেই, এই ৬৪ বছর বয়সেও দিব্যি হেঁটে বাজার করেন, দিনে দুবার করে সিঁড়ি ভেঙে ছাদে গিয়ে টবে লাগানো গাছের পরিচর্যা করেন, এমন কি রোজ বিকেলে, দক্ষিণের রাস্তার ওপারে যে মজে যাওয়া পুকুর টা আছে, তার পাশ দিয়ে প্রায় চল্লিশ মিনিট ইভিনিং ওয়াক, প্রণব বাবুর বার্ধক্য কে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে দেয়নি। স্ত্রী গত হয়েছেন বছর চারেক আগে, ছেলে পরিবার সমেত কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকে। বছরে নিয়ম করে দুবার বাড়ি আসেন, দায়িত্ববান ছেলে। বাবার জন্য একজন সবসময়ের চাকর রেখেছেন গত বছর থেকে, সে ই রান্নাবান্না করে।
বাড়ি ঢুকে, বাজারের থলি টা রান্নাঘরের দরজার সামনে নামিয়ে দিয়ে হাঁক পারলেন প্রণব বাবু, " রাখাল, এক কাপ চা দে তো। আর আজকে চিংড়ি এনেছি, দুপুরে এঁচোর চিংড়ি করবি।" এই বলে, ড্রয়িং রুমে ঢুকে, সোফাতে গা এলিয়ে দিলেন। সকালের আনন্দবাজার টা টেবিলের ওপর রাখা। হাতে তুলে নিয়ে, পাতা উল্টাতে গিয়ে, ৪ নম্বর পাতার বা দিকে নিচের দিকে একটা ছোট্ট হেডলাইন চোখে পড়ল, " কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে চাঁদের হাট, আজই যোগ দিলেন বলিউডের প্রবীণ শিল্পীরা"। খবরটা আরো পড়লেন প্রণব বাবু, "আজই কর্তৃপক্ষের নিমন্ত্রণে, কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে মুম্বই থেকে এলেন মিস মালা, অনুপম শাহ, রমেশ খান্না সহ আরও অনেক বর্ষীয়ান অভিনেতা ও অভিনেত্রী।" চোখটা বিস্ময়ে কপালে উঠল। পঞ্চার চায়ের দোকানের সামনে দেখলেন তো আসার সময়, সেই মাথা ভরা চুল, সেই সোনালী ফ্রেমের চশমা, সেই কোমরে হাত রেখে চিরসবুজ দাঁড়ানোর ভঙ্গি। রমেশ খান্না কলকাতায় এসেছেন আজকে, আর আজকেই তিনি দেখছেন ওনাকে, পঞ্চার চায়ের দোকানের সামনে, রেল লাইন দেখতে দেখতে সিগারেট খেতে! এ যে কাকতালীয় ব্যাপার! 
রমেশ খান্নার চলচ্চিত্র "চাঁদ মেরা দিল" দেখতে একসময় কলেজ  কেটে পাঁচিল টপকেছেন প্রণব বাবু। প্রথম দৃশ্যেই অভিভূত হয়ে গিয়েছিলেন, শেষ সিনে যখন ভিলেন কে পিটিয়ে পাটকেল করে দিচ্ছেন রমেশ খান্না, তখন থেকেই ফ্যান। তারপর থেকে, জামার রং, প্যান্টের সেলাই, জুতোর পালিশ, লম্বা চুলের টেরি, সব কিছুতেই অনুপ্রেরিত হয়েছেন প্রণব বাবু। পেপার কাটিং, পোস্টার জোগাড় থেকে শুরু করে গানের কথা, এমনকি ফিল্ম ম্যাগাজিন ঘেঁটে রমেশ খান্নার নাড়ি নক্ষত্র অবধি মুখস্ত করে ফেলেছেন তিনি। যৌবন কাল অবধি নিজেকে একদম টানটান রেখেছিলেন, শুধু রমেশ খান্নার মত স্বাস্থ্য ও ফ্যাশন করবেন বলে। কিন্তু, বিধি বাম, প্রণব বাবুর ঘাড় অবধি লম্বা চুল, চল্লিশ পেরোনোর আগেই পালিশ করা মার্বেলের মত চকচকে হয়ে গেল। যারা, প্রণব বাবুর এই অনুপ্রেরনার ব্যাপারে জানতেন, তারা সামনে চুক চুক করে সমবেদনা জানালেও, আড়ালে মুখ টিপে হাসতে শুরু করল। প্রণব বাবুর প্রতি সহানভূতিশীল হয়েই বোধ হয় ভগবান, রমেশ খান্নার পর পর ১১ খানা ছবি ফ্লপ করে দিলেন, এবং চলচ্চিত্র জগৎ ও বেশি দেরি না করে নায়কের আসন থেকে তাকে নামিয়েও দিল। প্রণব বাবুও সিনেমা দেখা এক প্রকার ছেড়েই দিয়েছেন তারপর।
সেই রমেশ খান্না! তাও কিনা পাতিপুকুর স্টেশনের ধারে সিগারেট টানছেন, অথচ কেউ তাকে চিনছে না! কেউ সেলফি বা নিদেনপক্ষে অটোগ্রাফের জন্য ঝুলোঝুলি করছে না। এটা কি তবে প্রণব বাবুর মনের ভুল? নাকি, রমেশ খান্না কে আজকাল আর কেউ চেনেই না? মনে মনে হিসেব করলেন প্রণব বাবু, তার নিজের বয়স ৬৪ মানে, রমেশ খান্না ৭০, তার নিজের থেকে ৬ বছর বড়। ভদ্রলোকের শেষ হিট সিনেমা বেরিয়েছিল ১৯৯২ তে, আর তার চার বছরের মধ্যেই ১৯৯৬ সালে পাততাড়ি গুটিয়েছেন শেষবারের মত। তাও ২৪ বছর হল। এই ২৪ বছরে,  খবরের কাগজ বা মিডিয়া উন্নতি করলেও, রমেশ খান্না থেকে গেছেন অন্তরালে। তাই আজকে খবরের কাগজে ওরম ছোট একটা সংবাদ নিছক আকস্মিক ই, এবং চোখে না পড়ার মতই। আর যদিও বা চোখে পড়ে, সেটাকে উপেক্ষা করবে শতকরা নব্বই ভাগ বাঙালি। 
মনস্থির করে ফেললেন প্রণব বাবু, ব্যাপারটা দেখতে হচ্ছে। আর কেউ চিনুক বা না চিনুক, তিনি যে একসময় রমেশ খান্নার একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন, এবং মনে প্রাণে চেয়েছেন কাকতালীয় ভাবেই একবার যদি দেখা হয়ে যায়, আজ সেই পুরনো ছেলেমানুষী ইচ্ছাপূরণ করার একটা সুযোগ এসেছে। পঞ্চার চায়ের দোকানের সামনের লোকটা হয়তো রমেশ খান্না নন, তা বলে খোঁজ নিতে দোষ কি? আর ভাগ্যক্রমে যদি তিনিই হন প্রণব বাবুর সেই পুরনো অনুপ্রেরণা, তাহলে অবশ্যই কোনভাবে ঠিকানা জোগাড় করে একটা সেলফি তুলবেন তিনি। যে গুটিকয়েক বন্ধু বান্ধব আছেন, তাদের দেখাবেন। 
বিকেলের দিকে বেরিয়ে পঞ্চার দোকানে গিয়ে বসলেন প্রণব বাবু, এমনিতে তিনি রাস্তাঘাটে চা বিশেষ খান না, তবুও দুধ চিনি ছাড়া লিকার আর একটা খাস্তা বিস্কুট বললেন। গরম চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন, "হ্যাঁরে পঞ্চা, আজকে সকালে এক বয়স্ক ভদ্রলোককে দেখলাম এখানে দাঁড়িয়ে সিগারেট খেতে, চিনিস লোকটাকে?" পঞ্চা ঘাড় তুলে একবার প্রণব বাবুকে দেখে হেসে বলল, " সারাদিন কত লোক আসে কাকু, অত কি মনে থাকে?" দমে না গিয়ে প্রণব বাবু আবার প্রশ্ন করলেন, "সিগারেট খাচ্ছিল লোকটা, এই আমার মতই লম্বা, মাথা ভর্তি চুল, পায়জামা পাঞ্জাবি পড়া ছিল, মনে করতে পারছিস?" পঞ্চা মাথা চুলকে টুলকে মনে করার চেষ্টা করতে করতে বলল, "কিছু হয়েছে নাকি কাকু? লোকটা কে? চোর টোর নাকি?" প্রণব বাবু হো হো করে হেসে উঠলেন, কি যে বলে ছোকরা! তারপর ভাবলেন, পঞ্চা সেদিনের বাচ্চা ছেলে, ও আর কি করে চিনবে রমেশ খান্না কে। এসব ভাবার  মধ্যেই, হঠাৎ মনে পড়ে গেল কথাটা প্রণব বাবুর, কোন এক পুরনো ফিল্ম ম্যাগাজিনে এক ইন্টারভিউ গোছের লেখাতে পড়েছিলেন। পঞ্চা কে ডেকে বললেন, "মনে কর তো, আজকে সকালে কোন ভদ্রলোক এসে বেনসন হেজেস এর সিগারেট চেয়েছিল কি না?" এবারে চোখ মুখে একটা হাসি খেলে গেল পঞ্চার, বলল, "হ্যাঁ, চাইল তো। আমার দোকানে রাখি না বলাতে, কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক দেখে, পাঁচ মিনিট পর এসে একটা চারমিনার ধরিয়ে নিল।" প্রণব বাবুর উৎসাহ বেড়ে গেল, তিনি যে ঠিকই দেখেছেন, এই বিশ্বাস টা বদ্ধমূল হতে শুরু করল। সঙ্গে আপসোস ও হতে লাগল, যে সকাল বেলাই সাত পাঁচ না ভেবে আলাপ করে নেওয়া উচিত ছিল। 
-"ভদ্রলোক কোনদিকে গেলেন দেখেছিলি?" 
পঞ্চা এবারে একটু অবাক হয়ে বলল, "হ্যাঁ, ওই তো সিগারেট টা খেলেন, টাকা দিয়ে একটা ট্যাক্সি ধরে চলে গেলেন বেলগাছিয়ার দিকে। কি হয়েছে কাকু? কে লোকটা?"
উঠে পড়লেন প্রণব বাবু, চা বিস্কুটের দাম মিটিয়ে, বাড়ির দিকে হাঁটতে হাঁটতে ছেলে কে একটা ফোন করেন।
-"হ্যালো বাবান, শোন না, তোর এক বন্ধু আছে না, টালিগঞ্জ পাড়ায়?"
-"হ্যাঁ, কৌশিক আছে, প্রোডাকশন দেখে। তোমার হঠাৎ টালিগঞ্জ পাড়ার বন্ধুর দরকার কেন?"
-"আরে, আমাদের সময়ের এক হিরো, রমেশ খান্না, তিনি এবারে এসেছেন ফিল্ম ফেস্টভ্যালে। একটু দেখ না, যদি কোন পাস টাস থাকে।"
-"ও! দাঁড়াও, ফোন করে দেখি, পাস জোগাড় হয়ে যাবে, তোমার ফোন নম্বর টা ওকে দিয়ে দিচ্ছি, তোমায় ফোন করে নেবে।"
মনে মনে বেশ একটা উত্তেজনা অনুভব করছেন। বাবানের বন্ধু কৌশিক ফোন করলে একটু যেন তেন প্রকারে খোঁজ নিতে হবে যে বর্ষীয়ান অভিনেতারা কোথায় উঠেছেন। এই পাতিপুকুরে এসে যখন সিগারেট খেয়ে গেছেন, তখন নিশ্চই কাছাকাছি কোথাও ই আছেন। দেখা হলে কিভাবে হাত মেলাবেন, কিভাবে সেলফি তুলবেন ভাবতে ভাবতে বাড়ি পৌঁছলেন প্রণব বাবু। 
কৌশিকের ফোন এল রাত ৯:৩০ টা নাগাদ। প্রণব বাবু, তখন রাখালের হাতে বানানো তার প্রিয় এঁচোর চিংরি স্যোৎসাহে খাচ্ছেন। ফোনটা আসতে দেখে ধড়মড় করে উঠে ধরলেন। উল্টোদিকে গলা শোনা গেল, "হ্যালো, মেসোমশাই। কৌশিক বলছি, আপনার জন্য পাসের ব্যাবস্থা হয়ে যাবে। আপনি কি কাল একবার সল্টলেক সেক্টর ওয়ানে, রূপসী বাংলা হোটেলে আসতে পারবেন? আসলে, আমিই আসতাম আপনার বাড়িতে, কিন্তু এই ডামাডোলে...। " প্রণব বাবু তাকে আশ্বস্ত করে বললেন, "আরে হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি চলে আসব, তুমি বাবা ওখানেই থাকবে তো?"
-"হ্যাঁ কাকু, আসলে অনেক প্রবীণ অভিনেতা অভিনেত্রী এসেছেন এবার, তাদের নিয়েই একটা ইন্টারভিউ হবে, সেটা কালকেই আছে। চলে আসুন, রমেশ খান্নার ফ্যান তো আপনি, বাবান বলেছে আমায়। দেখা করিয়ে দেব।"
ফোন টা কেটে, বেডরুমে গিয়ে বসলেন প্রণব বাবু। একটা যৌবনের উত্তেজনা অনুভব করছেন। মনে হচ্ছে, এক ধাক্কায় বয়স টা চলে গেছে ৩০ বছর আগে। পুরনো আলমারি টা খুলে, ওপরের তাক থেকে একটা ছোট ব্রিফকেস বার করলেন। ব্রিফকেস খুলে বের করে আনলেন, বেশ কিছু পেপার কাটিং। সমুদ্রতটে রমেশ খান্না, চোখে সানগ্লাস, বেল বটম প্যান্ট আর রঙচঙে শার্ট। মাথা ভরে আছে ঢেউ খেলানো চুলে। নিজের পুরনো কিছু ছবিও দেখলেন। মনে মনেই হাসলেন। চল্লিশের আগে অবধি, প্রণব বাবু যাকে বলে খটখটে জোয়ান, তারপরই...। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, নিজের চকচকে মাথায় হাত বোলালেন তিনি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখলেন কিছুক্ষন। মাথায় একরাশ ঢেউ খেলানো চুল কল্পনা করার চেষ্টা করলেন, পারলেন না। আসলে বিগত ২৪ বছর ধরে নিজেকে এরকম ই দেখতে দেখতে, সেই জোয়ান বয়সের প্রণব সামন্ত কে একপ্রকার ভুলেই গেছেন।
পরের দিন, কৌশিক ঠিক যেই সময়ে বলেছিল, ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে বেরিয়ে পারলেন প্রণব বাবু। আজ তিনি পড়েছেন একটি সুন্দর বাটিকের পাঞ্জাবী ও পায়জামা। বেরোনোর মুখে ঘড়ি, মোবাইল, ওয়ালেট সব দেখে নিলেন একবার। আজকে তিনি প্রথমবার নিজের সেই কলেজ জীবনের আইডলের সাথে দেখা করার সুযোগ পাবেন। ট্যাক্সি ধরে চলে গেলেন সল্টলেক সেক্টর ওয়ান, রূপসী বাংলা হোটেল। গাড়ি থেকে নেমে, ভাড়াটা মিটিয়ে কৌশিক কে ফোন করলেন প্রণব বাবু, "হ্যালো কৌশিক, আমি এসে গিয়েছি বাবা। রিসেপশন এর সামনে বসে আছি।" কৌশিক জানাল সে ১০ মিনিটের মধ্যে আসছে। প্রণব বাবু শীততাপ নিয়ন্ত্রিত রিসেপশনে, একটা সোফাতে বসে চারিদিক দেখতে লাগলেন। আর ব্যাপারটা চোখে পড়তেই, শরীরে একটা উত্তেজনা ছড়িয়ে গেল।
রিসেপশনের দরজা দিয়ে হোটেলে ঢুকছেন, আর কেউ নই, স্বয়ং রমেশ খান্না! সেই সুস্বাস্থ্য, সেই সোনালী ফ্রেমের চশমা, সেই ঢেউ খেলানো কাঁচাপাকা চুল, একাত্তর বছর বয়সেও কি ব্যক্তিত্ব! কালকে এনাকেই তো দেখেছেন পঞ্চার চায়ের দোকানের সামনে! "কেন যে সিনেমা করা ছেড়ে দিলেন তিনি?" মনে মনে আপসোস করলেন প্রণব বাবু। কিন্তু, এখন আর আগের বারের মত সুযোগ ছাড়বেন না ঠিক করেই সোফা থেকে উঠে রমেশ খান্নার দিকে এগিয়ে গেলেন প্রণব বাবু। রমেশ খান্না কিছু বোঝার আগেই, আবেগের বশে, ধাই করে একটা প্রণাম ঠুকে বসলেন। রমেশ খান্না, কিছু বুঝে ওঠার আগেই, গড়গড় করে ভাঙা হিন্দি ও বাংলা মিশিয়ে বলতে শুরু করলেন যে প্রণব বাবু কত বড় ফ্যান, বারদুয়েক তো হাতটা করমর্দনের ভঙ্গিতে ধরে ঝাঁকিয়ে ও দিলেন। রমেশ খান্না, অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেও, নিজেকে সামলে নিলেন, এবং কোন কথা না বলে প্রণব বাবুর কথা শুনে যেতে লাগলেন ও মুচকি মুচকি হাসতে লাগলেন।
হঠাৎ, পেছন থেকে কাঁধে টোকা পড়ল। ঘুরে দেখেন কৌশিক।
-"কাকু, এই নিন আপনার ছেলেবেলার অনুপ্রেরণা, রমেশ খান্না।" বলে কৌশিক নিজের পাশে দাঁড়ানো এক ভদ্রলোকের দিকে ইঙ্গিত করলেন। এই প্রবীণ ভদ্রলোক, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ঠিকই, চোখে সোনালী ফ্রেমের চশমা ও আছে, চামড়া সামান্য ঝুলে গেলেও, এখনও সুপুরুষ। কিন্তু, এ কি! ভদ্রলোকের তো মাথায় চকচক করছে তারই মত একটি টাক! ভিরমি খেলেন প্রণব বাবু, তাহলে এতক্ষন কার সাথে কথা বলছিলেন! চমক ভাঙার আগেই, প্রণব বাবুর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই সুপুরুষ, মাথা ভরা লম্বা চুল ওয়ালা ভদ্রলোক, এগিয়ে এসে কৌশিকের পাশে দাঁড়ানো প্রবীণ কে, গদগদ হয়ে প্রণাম করে ভাঙা ভাঙা হিন্দিতে বললেন, "অধমের নাম কানাইলাল সাঁপুই, স্টেজে যাত্রা করতাম। পুরুলিয়া, আসানসোল এসব জায়গায় একসময় আপনার সঙ্গে মুখ ও চেহারার সাদৃশ্য আছে বলে, আপনার নকল করে অভিনয় করে নাম করেছিলাম বেশ। আপনি আপনার গুরু তুল্য।"
প্রণব বাবুর হাঁ হয়ে যাওয়া মুখ টা বন্ধ হতে বেশ কিছুক্ষন সময় লেগেছিল। দেখা সাক্ষাতের পর্বে অপ্রস্তুত হওয়ার পরেও, রমেশ খান্না তার সাথে সেলফি তুলতে কোনরকম আপত্তি করেন নি, এমনকি গোটা চারেক কথাও বলেছেন। বাড়ি ফিরতে ফিরতে ট্যাক্সিতে বসে মনে মনে হাসলেন প্রণব বাবু। এত কাকতালীয় ঘটনা ঘটে গেল আজকে, কিন্তু অনুপ্রেরণা আর অনুপ্রেরিত র এই যোগাযোগ বোধহয় কোন সমীকরনের মধ্যে আসে না। তার কানে তখনও বাজছে তার করা প্রশ্নে রমেশ খান্নার কৌতুক মেশানো উত্তর, " আসলে ১৯৯৬ থেকেই আমার চুল পড়ে টাক হয়ে গেল বুঝলেন, তাই আর রুপোলি পর্দায় আসতে ইচ্ছে হল না। অবসরই নিয়ে নিলাম।"

কবিতা


নয়'টার ঘন্টা

কলমে - বিশ্বজিৎ মহলদার 

রাত নয়টা......
গাঢ় অন্ধকার
কোথাও বিজলী নেই।
স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি মৃত্যুর  দূত এগিয়ে আসছে,
চারিপাশ শুধু ক্ষীন প্রদীপের  আলোয় আলোকিত ,
সচরাচর মানুষের কন্ঠে উলুধ্বনি,শঙ্খের ধ্বনির উৎকন্ঠা আওয়াজ। 
বোমা - বাজির কোলাকুলি..
যন্ত্রের মত প্রেতরা চোখের সামনে খেলা করছে।
এ কি..! 
আজ এত ভয়াবহতা কেন?
চেনা মুখ অচেনা অন্ধে ঢাকা।
সত্যিই কি কল্পনা
এক মৃতদেহের কঙ্কাল !
তবে আমি নই তো....!!
 
সকালের সূর্য এখনও ওঠে 
পাখিরা সাঁঝে এখনও  নীড়ে ফেরে,
জ্যোৎস্নার রাত এখনও নেভেনি,
এখনও রাজা-প্রজা  ঘুমে বিভোর,
শেষে আমাদের ভুলে....... 
পৃথিবীটা সমস্ত উলটে যাবে !
বাতাসের সাথে বিষ বাষ্পে 
দম ব্ন্ধ হয়ে আসছে,
সব মুহুর্ত শেষ.....
ভাইরাস--ভাইরাস.. 
তবে কী সব শ্মশানে পরিনত হবে..!!

কবিতা


পরাজিত
কলমেঃ- শুভঙ্কর নস্কর

তোমার প্রেমের গল্পটা আজ শুনবো,
আমার প্রেম নবীন ইতিহাস,
তোমার নামের ব্যাখ্যাটা কী বলবে?
আমার'টা তো এমনিই পরিহাস !

তোমার গল্প মানেই সে তো রঙিন,
হাজার রকম রং বাহারি কথা,
আমার গল্প শুনলে তুমি বলবে
বড্ড ক্লিশে, থাক ওসব যা-তা।

তোমার শৈশব যত্ন আদর মাখা,
আমার সে তো এমনি পথের ধুলায়..
কেটেছে দিন, রাত যাপনের মাঝে,
মস্ত কিছু আজগুবি কল্পনায়।

তোমার মাপের বন্ধু পাওয়া মানে..
আমার মনের মস্ত পৃথিবী,
পাহাড় চূড়ো ছুঁতে পাওয়ার আশায়
হারানো পথে দিশা দেখানো রবি।

তোমার জীবন দুরন্ত-দুর্বারে
ছুটছে দেখো স্বপ্নের'ই হাত ধরে,
আমার জীবন রাহু-কেতুর মাঝে,
গিলছে শুধু চক্রব‍্যূহান্তরে ।

তোমার প্রেমের বিজয় কেতন উড়ুক,
আমার সে তো এমনিই পরাহত,
পিটুইটারি'র এই যে মস্ত খেলায়..
বিজিত কেউ, কেউবা পরাজিত ।।

       

কবিতা


এসো  গাছ   লাগাই
কলমে :  নার্গিস   পারভীন


যে  গাছেতে  ফুল  ধরেছে, ফল  ধরেছে  মেলা, 
সেই গাছকে আমরা করি কেন অবহেলা ? 
হোক না ছোটো গুল্মলতা, কিম্বা বনস্পতি 
ওরা ছাড়া হবেই বন্ধু এই পৃথিবীর ক্ষতি।
বুক ভরে নিই শ্বাস-প্রশ্বাস, প্রাণ ভরে নিই বায়ু
বৃক্ষ ছাড়া কিছুই হবে, বাড়বে কি পরমায়ু? 
যে মাটিতে দাপিয়ে বেড়াই, পেট ভরি যে অন্নে
পারি না কি সদয় হতে সেই গাছেদের জন্যে ? 
গাছ ছাড়া পাখিরা যে গাইবে না আর গান,
শান্তির সবুজ ছায়ায় বসে জুড়াবে না প্রাণ;
তাই বন্ধু, এসো গাছ লাগাই আর বাড়িয়ে চলি বন,
গাছ'ই হবে বন্ধু আর গাছ'ই পরিজন। 
কাটবো না গাছ শপথ করি সবুজ করি দেশ,
আমরা বাঁচি, ওরাও বাঁচুক, বেঁচে উঠুক পরিবেশ।।

কবিতা


আমার সবে শুরু..
কলমেঃ- পাখি পাল

ভীষণ তেজে জ্বলতে জ্বলতে
কখন যেন পুড়ে ছাই হয়ে গেছি,
আজ বেলা শেষে সে আগুন নিভে গেছে,
তবু কিছুটা ধোঁয়া পাক খেয়ে খেয়ে উপরে উঠছে,
সেটুকু ধোঁয়াতেই বুঝি কাঙালির স্বর্গ স্বপ্ন,
কিছু পরে বাতাস সে ছাই উড়িয়ে নিয়ে যাবে,
লেশমাত্র আগুনের ছোঁয়া থাকবে না তাতে,
প্রতিটা কণা মিশে যাবে পঞ্চভূতে,
আমাকে তুমি শেষ করতে চেয়েছিলে না..!
অথচ দেখো আমার সবে শুরু..।।


কবিতা


বহুদূরে
কলমেঃ- আমিমোন ইসলাম

যখন শিমুল পলাশ পড়বে ঝরে
তোমার অভিমানের সুরে।
মায়ার খাঁচায় থাকব আমি,
মায়ের কাছে বহুদূরে।

যখন শিউলিরা সব থাকবে পড়ে,
গভীর রাতে গোপন ঝড়ে।
ডাকবে 'কুহু' কোকিলেরা
থাকব আমি বহুদূরে।

যখন জোনাকিরা পড়বে শুয়ে
মৃদু আলোতে মাতিয়ে।
তোমার মুখের আবছা ছবি
আঁকবো বসে বহুদূরে।।

কবিতা

ব্যস্ত একদিন
কলমেঃ- গৌরব চক্রবর্তী 
নিঃস্বার্থ প্রেমের খোঁজ নেয় ব্যস্ত ট্রাম, 
জীবনের মূল্য বুঝতে দরদামে আদর্শ কেনে মহিলা,
কালো ‘ফিঙে’ তার অভিমান জমা রাখে সূর্যাস্তে, 
বেদনার আগুন স্ফুরিত হয় নিলুদার সস্তার ‘বিড়িতে’।
সদ্য পুড়ে যাওয়া অবয়ব, ফিরে আসার দাবি রাখে গঙ্গায়,
অবশেষে ল্যাম্পপোস্টে রাত্রি নামে এক নতুন ভোরের আশায়..।।

কবিতা

আয় ভালোবাসাতে থাকি
কলমেঃ- শ্যামল রায়

আর দহনে পুড়বো না আমরা
আয় ভালোবাসাতে থাকি,
দুহাতে  ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকবো
বেঁধে বেঁধে রাখবো হৃদয় উঠোন,
আয় ভালোবাসাবাসিতে থাকি,
এখানে পাথর সরিয়ে ফুল-বাগান করব,
এখানে ফাটল জমিটায় জল দেবো,
এইখানে সকাল আছে
তাই ভোরবেলা জুঁইফুল কুড়োই,
এখানকার ভাবনাগুলো নতুন গন্ধ দেয়,
এখানকার ভাবনাগুলো তাঁত সিল্ক এর মতো,
আয় ভালোবাসাবাসি তে থাকি,
পাঁচ মিশেলীতে এঁকে দেবো আমাদের চোখ,
ঝকঝক করবে আমাদের চারপাশটা,
কাটা-ছেঁড়া পথ সরিয়ে এগিয়ে যাব,
তুমি যদি ভালোবাসাটা ঠিকঠাক দাও,
আমি দহন নিভিয়ে দিয়ে সুখ কুড়িয়ে নেব,
আয় বেঁধে বেঁধে রাখি ভালোবাসাবাসি তে ।।

কবিতা


তুমি আমার

 কলমেঃ- শুভজিৎ ভট্টাচার্য্য

আজ শিরায় শিরায় উঠেছে ফুটে শুধু তোমার নাম।
কারণ এই হৃদয়ের মাঝে আজ শুধু তুমি আর তুমি।
অলিন্দ নিলয় জুড়ে প্রত্যেকটি প্রবাহ মাঝে আজ ফুটে উঠেছে তুমি।
তুমি জানো যেদিন থেকে তোমার ওই মুখ'খানি এই মস্তিষ্ক মাঝে ছিল, ভালো লাগতো কথা বলতে তোমার সাথে।
প্রত্যেকটি দিন লাগতো বেশ মজার কারণ, হতো অনেক কথা তোমাতে আমাতে।
আজ কথা আছে ভাষা নেই।
শরীরের প্রত্যেকটি লোহিত রক্তকণিকা যেন আরও গাঢ় লাল রঙে রেঙেছে শুধু তোমার ভালবাসার ছোঁয়ায়।
নীল শিরাগুলো আজ পাগলের মত খুঁজে বেড়াচ্ছে তোমাকে।
তুমি একটু চোখের আড়াল হলেই ভালোলাগে না আর।
আজ চোখে চোখে কথা বলতে চাই তোমার সাথে।
চুপ করে বুঝতে চাই সেই ভাষাখানি,
যাতে কিছু না বলেও অনেক কিছু বলে দেওয়া যায়।
তবে কি সত্যি হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে তুমি, যাকে দেখতে আমি পাইনি।
আজ চাওয়ার চাওয়া-পাওয়া গুলো অনেক বড় হয়ে গেছে।
হারিয়ে গেছে তারা, দিগন্ত থেকে দিগন্ত বিস্তৃত তোমার ওই কাজল কালো চোখের ছায়ায়।
এ-কি সুখের প্রদীপ জ্বাললে তুমি ?
তুমি ছাড়া তো কিছু ভাবতেই পারছিনা আর।
যেন শুধুই তোমায় দেখতে চাইছি বারবার।
আজ নিজেকে সার্ধশতবর্ষের থেকেও বেশি তৃষ্ণার্ত বলে মনে হচ্ছে।
শুধু তোমায় দেখার তৃষ্ণা, তোমার ওই চোখ দুটো দেখার তৃষ্ণা, ও গুলো কত কি যে বলে বারবার তা তুমি নিজেও জানো না।
যদি জানতে তবে যে এ দূরত্ব'ও বড় মধুর লাগতো।
চিরতরে তোমায় পেতে চাই,
মনের এই অঙ্গীকারে উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম,
তোমার ঠোঁটের পানে চেয়ে।
আর চোখে চোখে নয়, এবার ভাষায় শুনতে চাই তুমি আমার।।

কবিতা


সময়ের উত্তর
কলমেঃ- সাত্যকি সর্বাধিকারী

দম্ভ একদিন শেষ হবে, পরাজয়ের গ্লানি
এসে অহংকারকে গ্ৰাস করবে,
তুমি দাঁড়িয়ে দেখবে
মাটির প্রতিটা কণা পায়ের নীচ থেকে যেন
ক্ষয়ে যাচ্ছে, সরে যাচ্ছে, ভেসে যাচ্ছে;
ভাসছো তুমিও,
ঔদ্ধত্যের তনুত্রাণ আজ 
হারিয়ে গেছে তোমায় ছেড়ে,
পায়ের নীচে পড়ে থাকা ধুলিকণাও
যেন আজ মাথার ওপরে ভেসে বেড়াচ্ছে;
গাছের শাখা থেকে বিতাড়িত কিছু
শুকনো হলুদ পাতার ন্যায়
তুমি পড়ে আছো,
চোখের সামনে সব আবছা;
সব প্রশ্নের উত্তর তো তোমার জানাই ছিল,
জানতে না শুধু এটাই,
খাঁচার ভিতর পাখিকে আটকে রাখা যায়,
সময়কে নয়।।

কবিতা


আজকের নারী
কলমেঃ- শ্রেয়া রায়

দিনের পর দিন যখন অন্যায়ের যাঁতাকলে আমি পিষে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিলাম...
তখন কোথায় ছিল তোমাদের মুখের তির ?

রাতের পর রাত যখন চোখের জলের রক্তবন্যা বয়ে ভোর হয়েছে...
তখন কোথায় ছিল তোমাদের ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা?

অকারণ অত্যাচারে যখন চোখের জলে দমিয়েছি বুকের ব্যাথা...
তখন কেউ তো আসেনি ঢাল হয়ে রুখে দাঁড়াতে!!!

আজ যখন দেওয়ালের গায়ে পিঠ ঠেকে তলোয়ারে শান দিয়েছি হয়েছি ধারালো...
তখন আমি অপরাধী ???

আজ যে বড়ই ন্যায় অন্যায়ের বিচার বসে,
এতদিন কোথায় ছিল তোমাদের টিকি??

হ্যাঁ, আমি বিংশ শতাব্দীর নারী,
হাতা-খুন্তির সাথে কলমও ধরতে জানি...

আমি জানি শিল্প-কলা,
তবে কুম্ফু-ক্যারাটেতেও হয়েছি নিপুণা...

নরম হাতে গড়তে পাড়ি ভালোবাসা,
আবার শত্রুর বিনাশে হতে পারি ত্রিশূলধারী মা..

নিজের অস্তিত্বকে বাঁচানোর তাগিদে,
যুগের সাথে হয়েছি আজ সর্বগুণ সম্পূর্ণা।।

 

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সম্পাদকীয় কলমে - শোভন অধিকারী

 

সম্পাদকীয় কলম:

শোভন অধিকারী

জন্ম, মৃত্যু, জরা, ব্যাধি এই চারটি প্রকারভেদের বিবর্তনেই ঘুরপাক খাচ্ছে গোটা জীব জগত। চাইলেও আমরা এটাকে এড়াতে পারব না, শেষের তিনটি বাস্তব অনেকটাই রুঢ়  যা ঘড়ির ঘন্টা সেকেন্ডের কাঁটা, হাসি- কান্না, ধনী – গরীব  কোনো পরিস্থিতি ই সে মানে না গর্জাতে না পারলেও নিয়তি মাফিক সে বর্ষাতে জানে। কালের নিয়মে বিনা মেঘে নামিয়ে আনে বজ্রপাতের ঘন্টা না আমরা সমাজের উন্নতম জীব হয়েও তাকে রুখতে পারিনা শত চেষ্টা করেও।তবে যেটা পারি সেটা হলো কম সময়ে রঙ্গ মঞ্চে নিজেকে ভালো রাখা সকলকে ভালোবাসা জীবনের চক্রবূহ্যে একটা পরিপূর্ণতার ছাপ রেখে যাওয়া। 




সাপ্তাহিক কলমে - সুনন্দ মন্ডল



  ত্রিতাপ ক্লেশ

  সুনন্দ মন্ডল


ক্লেশ মানেই জীবনের জাগতিক প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত। 

এক হস্তী শাবক

যার বড় বড় দাঁত, বিশাল দেহ কিংবা ঐ মোটা মোটা পায়ের ছাপ,

তবুও কিছু একটা থেকে বঞ্চিত!

তারও দুঃখ আছে, ক্লেশ আছে।


ভাষা জানি না, তাই ওদের কষ্ট বুঝিও না।

অবশ্য সব প্রাণীদেরই একই অবস্থা।

আসলে কথায় আছে না!

যে যা পায়, তা চায় না! 

আর যে যা চায়, তা পায় না।


আমরা তো নিমিত্ত মানুষ

কেবলই আত্মসুখে মগ্ন

একটু এদিক ওদিক হলেই 

বিস্বাদে ডুবিয়ে রাখি নিজেদের।


আমরা বুঝতেই চায় না, এই সমাজ ও প্রকৃতির সুখ পেতে গেলে স্বল্পতায় আবদ্ধ রাখতে হবে।

কোনোরকম অন্তহীন উচ্চাশা মানেই বঞ্চনা, হতাশা!


প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত দুঃখ হোক,

আর অন্য জীবের দ্বারা প্রাপ্ত অবহেলা

কিংবা নিজস্ব মন ও শরীর জাত কষ্টই হোক!

সবকিছুর মূলে আত্মদর্শন।


এই জরা থেকে মুক্তি পেতে গেলে বিলিয়ে দিতে হবে  সমাজদর্শনে, 

সবার মাঝে বিশ্বপ্রকৃতির সবুজ দোলনায়।

ভালোবাসতে হবে, দুঃখীদেরও আপন করতে হবে!

তখনই ত্রিতাপ ক্লেশ নয়, জাগতিক সুখটুকুই থেকে যাবে আমৃত্যু।

               





সাপ্তাহিক কলমে - পাখি পাল


"দুঃখের কিছু দাগ"

  পাখি পাল


আমি বলি দুঃখ,তুমি বলো কষ্ট,

সে বলে যন্ত্রনা, সত্যি এগুলো

ছাড়া জীবন ভাবাই যায় না,

প্রতিটা দিন মানুষ তো বাঁচতেই চায় নিজের মতো করে, কিন্তু কষ্ট-দুঃখ গুলো

তার পায়ে বেড়ির মতোই 

জড়িয়ে থাকে, পিছুটানে,

শিকলের দাগ যেমন লেগে

থাকে হাতে-পায়ে,ঠিক তেমনি

অদৃশ্যভাবে দুঃখের দাগ গুলো লেগে থাকে স্মৃতির গালিচায়, 

যেন প্রতিবার তারা আঘাত করে আমাদের মনোবল ভাঙতে চায়,

মনের গায়ে শত শত চাবুকের দাগ..দগদগে ক্ষত,

চোখ দুটো বুজে আসে, তবু ফুসফুস শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা চালায় অবিরত,

সাতরঙা রঙধনু ভাসে অল্পের জন্য,

জীবন-আকাশে রোদ-বৃষ্টির খেলায়,

এভাবেই চলে প্রতিনিয়ত বাঁচার লড়াই,

আর একটু..আর একটু..করে মনবলের চেষ্টায় ।





সাপ্তাহিক কলমে - শ্রেয়া রায়

 

অনুগল্প:-

শিরোনাম:-"ফিরে পাওয়া"

শ্রেয়া রায়



চার বছরের একটি ছোট্ট মেয়ে..গীত তার মায়ের সাথে দীঘার সমুদ্রের কাছে একটি ছোট্ট কুটিরে বাস করত। তার মা সমুদ্র থেকে মাছ ধরে তা বাজারে গিয়ে বিক্রি করতো এবং তা দিয়েই কোনো রকমে তাদের  দুজনের পেট চলত। মা আর মেয়ের দুনিয়াটা ছিল ভীষণ ছোট। আপনজন বলতে কেউই ছিল না। মায়ের সাথে সারাদিন গীত থাকতো, মা যেখানে যেখানে যেত গীতও মায়ের সাথে সাথে সেখানে যেত। সারাদিন কাজকর্মের পর সন্ধ্যা বেলা বাড়ি ফিরে আসত এবং রাতে ছোট্ট গীত মায়ের সাথে সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে বিভিন্ন গল্পে মেতে থাকতো। এই ভাবেই কেটে যেত তাদের সময়।


হঠাৎ একদিন এক ঝড় উঠল এবং তছনছ হয়ে গেল তাদের সাজানো জগৎ... স্বপ্নগুলো টুকরো টুকরো হয়ে গেল... বিচ্ছিন্ন করে দিলো তাদের এক দস্যু ঢেউ... ঘরবাড়ি তলিয়ে গেল জলের তলায়। মা আগলে রাখতে পারলেন না তাঁর ছোট্ট সন্তানটিকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেড়ে নিল সন্তানকে মায়ের কাছ থেকে। দিশেহারা মা পাগলের মত ঢেউয়ের সাথে লড়তে লড়তে সন্তানকে খুঁজে বেড়াতে লাগলেন... কিন্তু বারংবার চেষ্টার সত্বেও পেলেন না ছোট্ট শিশুটিকে খুঁজে। অবশেষে জ্ঞান হারিয়ে মা পড়ে রইলেন সমুদ্রের এক পাড়ে। এই ভাবেই কেটে গেল সেই দুর্যোগের দিনটা।


পরের দিন সকাল হতেই প্রথম সূর্যের কিরণে চোখ খুললেন মা.. চোখ খুলতেই সমুদ্রের চারপাশে তাকিয়ে দেখেন, তছনছ হয়ে গেছে সমস্ত কিছু, সবকিছুর ধ্বংসাবশেষ পড়ে রয়েছে সমুদ্রের পাড়ে। তার মধ্যেই মা আবার অক্লান্ত ভাবে খুঁজে চলেছেন তার ছোট্ট শিশুটিকে। হঠাৎ এক পাশে দেখতে পেলেন তার শিশুটি অবচেতন ভাবে পড়ে রয়েছে। মা হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলেন শিশুটিকে দেখে এবং চিৎকার করে ডাকতে থাকলেন..জাগাতে থাকলেন তার সন্তানকে।অবশেষে মায়ের ডাকে চোখ খুলল ছোট্ট গীত এবং মা সন্তানটিকে বুকে আঁকড়ে ধরে হাউ হাউ করে কেঁদে উঠে বললেন...

"শুনেছিলাম সমুদ্র যা কিছু নেয় তা সবই আবার ফিরিয়ে দিয়ে যায়... আজ তা স্বচক্ষে উপলব্ধি করতে পারলাম।"





সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০

কবি নীহার রঞ্জন দাসের কবিতা


 তুমি আদেশ করলে

------------------------নীহার রঞ্জন দাস

(এক)

তুমি আদেশ করলে

দ্রোহকাল ভেঙে দিতে পারি ।

তুমি আদেশ করলে...

(দুই)

তুমি আদেশ করলে

কুঁজো পিঠে এখনো

খোলা অরণ্যের হাওয়া

তোমার ওড়নায় ছোঁয়াতে পারি ।

(তিন)

তুমি আদেশ করলেই

এখনো সাইবেরিয়ার হলুদ পাখি

উপহার দিতে পারি ।

(চার)

তোমার মৌন যাপন ভাঙলে

এখনো আমি মেঘের জলে

আগুন জ্বালতে পারি ।

(পাঁচ)

তুমি চাইলে এখনো আমি

প্রদীপের নীচের অন্ধকারে

সূর্য বসাতে পারি ।

(ছয়)

তুমি চাইলে এখনো আমি

উপোসী রাত ভুলে

প্রেমের গান গাইতে পারি ।

(সাত)

তুমি চাইলে এখনো আমি

নিষিদ্ধ পল্লীর মেয়েকে

কুমারী পুজোয় বসাতে পারি।

(আট)

তুমি নীরবতা ভাঙলে

আমার ভাঙা ঘরে আলো জ্বলে

শুষ্ক হৃদপিন্ডটা আকাশে মুখ তুলে ।

সাপ্তাহিক কলমে - প্রীতম

 

কৃতকর্ম

প্রীতম রায় 


না না ভেবো না 

আজ আমি অভিযোগ জানাতে আসি নি।

বরং স্বস্তি পেয়েছি হুজুরের রায়ে।

জানি আমি দোষ করেছি, 

প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে দেখিয়েছি

বহু নিয়ম কে বুড়ো আঙুল। 

বহু বছরের শয্যা ত্যাগের পর ইচ্ছে হলো 

অন্ধকার টা ছেড়ে এবার একটু আলোর মুখোমুখি হই।

জানি তুমি সেই সুযোগ আমায় দেবে না

বহুদিনেএ আলোর বিপরীতে যাপন করা আমিটা 

এখন ও বোধ হয় যায় নি।

তাই হয়তো এখন ও স্বপ্ন দেখি সেই একদিনের।

আচ্ছা বলতে পারো আমার বয়স টা কত হবে।

বলতে পারো কুঁচকে যাওয়া চামড়ার পিছনে,

আমি কি তরুন না অর্ধমৃত 

এক বয়স্ক রোগ গ্রস্ত কঙ্কাল।

যে তোমার নিকট মৃত্যুর ভিক্ষা চাইছে

আর তুমি পাপ – পূন্যের দাড়ি পাল্লায় মাপছো

কৃতকর্মের দোষ গুন গুলো কে। 






রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২০

সাপ্তাহিক কলমে - জি কে নাথ

 

সন্ধান    

জি কে নাথ 


হলুদ পাখির মুখে ওড়ে জন্ডিসের হলদেটে আকাশ, খুদকুঁড়ো

 তামাটে সবুজ গড়নে আধখানা আর্তনাদ টুপটাপ এক ঢেউয়ে

বুক পেতে শুয়ে আছে মূর্ত শালুকপাতায় নিহিত বিষণ্নতা

 নিজের ভেতরে থৈ থৈ জল


এ মৃদু জলের তরঙ্গশব্দে বাঁধা আজন্ম সেতারভাঙা ছেঁড়া তারে বন্দি চেতনা,

আর্দ্র হয়ে আছে ঘুম

লোহিত সাগর পার হয়ে আসা সমুদ্রস্বর বিষাদ গম্ভীর বিরাট ছায়া ফেলে আলোড়িত নাগরিক সত্তায়

ক্রমে অক্ষর সরে গেলে , ফুরিয়ে যাওয়া খাতার পাশে কলতলার এঁটোবাসনগুলো জেগে ওঠে মৃত শব্দের শাদা জোছনায় 

তলে তলে পোড়ে শহর উল্লাস, তা ধিন ধিন মুখোশ নাচে ,

পুতুলের নিবিড় ছায়া নামে ক্ষেতে

হ্যাজাক জ্বেলে নীল পিকনিক 

আঠাশটা বছর হারিয়ে গেছে, একলা রয়েছি জীবন নির্মাণে 

সদ্য পাতী শীতলার মতন মুখরতায় উৎকীর্ণ পোড়ামাটির মুখ ফেটে গঙ্গা যমুনার মতো কবিতায় মিশে যাচ্ছে স্বদেশ

 এ শরীরের গাঢ় মনস্তাপে ঝলসে ওঠে 

ধিকি ধিকি বেগুনি আঁচে এখন  অন্ধকারের সেলাই করা সুতহীন শয্যা 

চোখের সামনে নামের আড়ালে স্বপ্নপূরণের বেদনামাখা ভাঙা ডানা মেলে ধূসর শব্দ ভেদ করি ক্রমে

নিবিড় বিরহের অভিমুখে ঘুরতে থাকে হাওয়াহীন বাতাসে ভরা ভাদরের পদধ্বনি, 

কুকুরে কুকুরে মৌতাত ,আঁতাত

চিহ্নে ভরে ওঠে ডোবা শরীরের সুলুকসন্ধান, চিহ্নে ডোবে চিহ্ন

এখন অবিরল ছায়ার স্রোত ভেঙে ভেসে পড়তে চায় বৃত্তের চাকভাঙা কথা

নিশ্চুপ আঁধারে বুকের সরীসৃপ বাড়ে সুদীর্ঘ ইতিহাস পরিক্রমার মতো 

 বিড়িপোড়া মুখে ধূসর আস্ট্রে উল্টে গেলে বিবেক হয়ে ওঠে মন্দার বাজারে সস্তার রেশন চাল! ....ফোটে রাতের তারায় তারায় উজ্জ্বল দানায়

শীতে হারিয়ে যাওয়া অস্পষ্ট ঘুমের ভিতর এখন মানুষ খুঁজতে বেরোই ।





                          


সাপ্তাহিক কলমে - রাজা অধিকারী

 


আজ আকাশটা দুঃখের

 রাজা অধিকারী


বৃষ্টি পড়ছে মাটিতে, করছে মৃদু শব্দ।

প্রতিদিন আমার একইরকম কাটছে, 

আমি যে আজও বাড়িতে আবদ্ধ।

চিন্তায় মগ্ন থাকি সারাক্ষণ,

এই জরাজীর্ণ শরীরে জমছে মনের কষ্ট, হচ্ছে রুক্ষ্ম।

সুখের পিছনে দৌড়াতে গিয়ে মিলেছে

শুধু অশেষ দুঃখ।

রাতদিন জেগে জেগে স্বপ্ন দেখি,

বারে বারে ফিরে পেতে চায় ,

সেই ফেলা আসা দিন,

যেখানে রামধনুর মতো মিলিত ছিল সমস্ত স্মৃতিরা।

আজ মনের মধ্যে নেমে আশে দুঃখের ঢেউ।

অক্লান্ত পরিশ্রমের পরেও মুখে ছিল হাসি,

মনে হত মেঘের ভেলায় চড়ে আকাশেই শুধু ভাসি।

কিন্তু আজ সেই আগের আকাশটা নেই,

আজ আকাশটা শুধুই দুঃখের।




সাপ্তাহিক কলমে - জয়ীতা চ্যাটার্জী


 সীমান্তে

জয়ীতা চ্যাটার্জী


আজ বুঝি একা বসে আছি মহাশিলার ওপর, 

শরীরে ভরেছে বাতাস মন যেনো সাদা আস্তরণ কাপড়। 

সমুদ্র ফেনা ঘিরে থাকে বৃত্তাকারে আমায়, 

মনে পড়ে সে পরিচিত ধ্বনি, বারংবার আমাকে কাঁদায়

ভালোবাসি  বলে মুখে তাও এতো দীন ঘরে ঘরে, 

সমস্ত সত্তা জুড়ে সেই স্বর ভর করে

ভুলে গেছি চেনা নাম, যা ভোলার কথা ছিল না কখনো, 

সব ছাপিয়ে জেগে আছে  সেই ধ্বনি সরব এখনো

কে যেনো জিজ্ঞেস করে এ জীবন দিয়ে দিলি কাকে? 

হৃদয় ও হারিয়েছে সন্ন্যাস কি জানি কার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে? 

আজ ছড়িয়ে দিয়েছে পাতা প্রতিটা পথের বাঁকে বাঁকে, 

কে যেনো ডেকে যায় বারোমাস, কার ছবি আঁকে। 

হয়তো শোনে না কেউ তবু সে ডাক ভিতরে জীবিত থাকে, 

বুকের ভেতর হাহুতাশ দেশ কি জানি কাকে একমনে ডাকে?





শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

সাপ্তাহিক কলমে :- সুদীপ নীল তন্তুবায়

 

সম্পর্ক ও শ্রাবন 

সুদীপ তন্তুবায় নীল 


একটা শ্রাবন শেষ হয়ে গেলেই 

অধ্যায় জুড়ে উপসংহার লেখে স্বাস্থ্যবতী বৃষ্টি।

ভাদ্রের মোহময়ী শরীর জুড়ে লেখা হয় 

স্থানান্তরের গল্প। 

পথের বৃত্তে মুখোমুখি দুটো যৌবন 

আবেগের ক্যানভাসে ষোড়শী নদীটির ছবি আঁকে।

এক একটি নিস্তারের লোভ 

অনিহার কচি হাতে তুলে দেয় 

পূর্ণচ্ছেদ ভালোবাসার দলিল।

সম্পর্ক বড্ড সহজাত।

একটা শ্রাবন শেষ হয়ে গেলেই সম্পর্ক শেষ হয় না।






সাপ্তাহিক কলমে : - শ্রেয়া রায়

শ্রাবণের শেষ বেলায় বিষাদের শ্রাবণধারা

শ্রেয়া রায়

সকাল থেকেই অঝোড়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, আকাশে কালো মেঘ ঘিরে চারিদিকে আঁধার নেমে এসেছে। রাস্তা ঘাটে জলে থৈ থৈ। তবুও কাজকর্ম তো আর থেমে থাকলে চলবে না। রোজের মত পেখম বেরিয়ে পড়ল অফিসের উদ্দেশ্যে। মুষলধারার বৃষ্টিতে অর্ধ ভিজে অবস্থায় পৌঁছালো অফিসে। 

অফিসে হাজার কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও পেখমের উদাসীন মন বারে বারে অতীত স্মৃতির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে। মনে পড়ে যাচ্ছে শ্রাবণের শেষ বেলায় হারিয়েছিল অভির চোখের প্রথমবার। 

মন গুনগুন করে উঠেছিল কবি গুরুর গানে..

"কেবল আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে,

হৃদয় দিয়ে হৃদি অনুভব..."

প্রথম প্রেমের প্রথম অনুভূতি শুরু হয়েছিল এমন শ্রাবণ ধারায়। সেই বৃষ্টিভেজা দিন, একসাথে ভেজার জন্য অভির জোর করা, বৃষ্টিতে ভিজে আইসক্রিম খেয়ে আবার একসাথে দুজনের ঠান্ডা লেগে জ্বরে ভোগা... কতই না পাগলামিতে ভরা ছিল দিনগুলো। সেদিনের শ্রাবণ ধারায় ছিল এক অদ্ভুত প্রেম-আনন্দ-অনুভূতি। পেখমের মনময়ূরী আনন্দে নেচে উঠেছিল..মেতে উঠেছিল গুনগুনিয়ে সেই কবিগুরুর গানেই...

"এমন দিনে তারে বলা যায়,

এমন ঘনঘোর বরিষায়....."

বৃষ্টির সোঁদা গন্ধে ছিল অভি আর পেখমের মিষ্টি প্রেমের ঘ্রাণ।আজ সবই অতীত.. অতীত স্মৃতির পাতায় আজ সবই বন্দি। অভির উপহার দেওয়া মুহূর্ত গুলো পেখম আজও যত্নে সাজিয়ে রেখেছে তার একান্তের হৃদয় কুঠুরিতে। যদিও অভির মনে আজ পেখমের জন্য নেই কোনো অনুভূতি.. নেই কোনো স্থান... কারন সে ঘর বেঁধেছে অন্য মনের মানুষকে নিয়ে.. ভুলে গেছে পেখমকে..

আজ বাইরের শ্রাবণ ধারার সাথে পেখমের আঁখি জুড়ে ঝড়ছে অঝোরে কান্নার বরিষধারা। ব্যর্থ প্রেম আজও খুঁজে যায় সেই অভিকে... অভির স্পর্শকে... ফিরে পেতে চায় সেই অভির মনটাকে.. যেই মনটা একসময় ছিল শুধু পেখমের..।







সাপ্তাহিক কলমে :- জয়ীতা চ্যাটার্জী



শতাব্দী

জয়ীতা চ্যাটার্জী


আজ সে চলে যাচ্ছে দূরে, 

যে ভাবে আমার গান শীত তাড়িয়ে নেয়। 

সে চলে যাচ্ছে দূরে মিশে যাওয়া বিকেলের রোদ্দুরে

সে চলে যাচ্ছে মিলনের সমস্ত অসম্ভব সম্ভবনাকে ফেলে ছুড়ে, 

সে ছোটো হয়ে আসে বুনতে বুনতে উলের গোলার মতো

ঘুমন্ত হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নাতুর যেন কিশোর শরীর চুম্বনরত,

সে চলে যাচ্ছে দূরে গলতে গলতে ছোট হয়ে যাওয়া মোম, 

আগুনের মধ্যে জন্ম নিয়েছে যেমন হোম

মন খারাপ মুছতে মুছতে তার সে চলে যাওয়া

মেঘের দিকে ডুবিয়ে মুখ উড়িয়ে দেয় হাওয়া

সে চলে যাচ্ছে সন্ধের শেষের মতো প্রায়

সমুদ্রশূন্যে শতাব্দী এমন করেই একদিন দূরে চলে যায়।











সাপ্তাহিক কলমে :- শোভন অধিকারী


"শ্রাবণের শতরূপ"

 শোভন অধিকারী


হে শ্রাবণ প্রকৃতির মাঝে তুমি এক অপরূপ সৃষ্টি,

শ্রাবণ মাসে বৃষ্টির জল, মনে বয়ে আনে আনন্দের ঢল 

শ্রাবণ মাসের বৃষ্টিতে ভিজতে লাগে ভালো,

শ্রাবণ মাসের মেঘলা আকাশ হয়ে আসে কালো।

শ্রাবণ মাসে বাইশে শ্রাবণ মনে পড়ায় কবি গুরুর প্রয়ান দিবস।

শ্রাবণ মাসে কদমের ডালে চড়ুই গায় গান।

শ্রাবণ মাসে কদমের গন্ধে ভরে যায় প্রান।

শ্রাবণ মানেই গ্রাম বাংলার গাছে গাছে তালের রব রব।

শ্রাবণ মানেই কত শত ভক্ত ঢালছে জল ভোলানাথের মাথাতে।

শ্রাবণ মানেই ভালোবাসার আকাশ, 

সেই আকাশের নীচে প্রেমিক প্রেমিকা মত্ত 

ভালোবাসার ছোঁয়ায়।

যা সমস্ত চোখে ছড়িয়ে দেয় অন্যরকম মুগ্ধতা।

শ্রাবণ মাসের উদাসী হাওয়া বিকাল বেলায়,

তুমি আমি করবো দেখা নদীর ধারে,

শ্রাবণ মাসের শান্ত পরিবেশ 

তুমি আমি চিরকাল যাবো ভালোবেসে।



সাপ্তাহিক কলমে :- পাখি পাল



'শ্রাবণের বেলাশেষে' 

 পাখি পাল


চাতকের চাওয়ায় আর বৃষ্টি নামলো কই,

ভরা শ্রাবণেও তার গলা শুকিয়ে কাঠ,

এভাবেই বছর আসে বছর যায়,

বুকফাটা কান্নায় আজ চৌচির ধূসর মাঠ,

শ্রাবনের ধারায় আজ যখন সবটা সবুজ,

চারিদিকে প্রকাশ পাচ্ছে প্রকৃতির আকৃষ্ট রূপ,

তখনও শেষের এক দামামা বেজে চলেছে কানের কাছে,

আর ঈশ্বর শত ডাকাডাকিতেও চুপ,

উল্টে-পাল্টে চলে ভাঙা-গড়ার খেলা,

দুমড়ে মুচড়ে আবার হাত চেপে করতে হয় মসৃন,

ডাইরী শেষ হয়ে যাবার পরেও,

কিছু ছেঁড়া পাতা থেকে যায় অমলিন,

অধ্যায়গুলো শেষ হয় একে একে,

তবু উপসংহার টানতে এখনো কিছুটা বাকি,

জানিনা এ জীবনে শ্রাবনের শেষে,

বৃষ্টি কি পারবে হৃদয় ছুঁতে নাকি দেবে ফাঁকি।






সাপ্তাহিক কলমে :- আমিমোন ইসলাম

 

মিথ্যে

আমিমোন ইসলাম


টিপ টিপ জল পড়ে, সারা বিকেল ধরে,

ভেজা ভেজা ছাতায়, কেও এখনও অপেক্ষা করে।

গুমড়ে গুমড়ে মেঘ, প্রেমিকের মনে ক্ষত,

যাচ্ছে যাচ্ছে চলে, গোপন সময় যত।

সামলে সামলে চলো, রাস্তা শ্যাওলাময়

একটু একটু জোরে, আঁটকে রাখতে হয়৷

গুড়ুম গুড়ুম বাজে, সবাই পায় ভয়,

ভয় ভয় পেলে, তাকে জাপটে ধরতে হয়।

সেলাই সেলাই দেওয়াল, শহরজুড়ে বোনে,

নতুন নতুন প্রেমিক, আঙুলে সময় গোনে।

প্রথম প্রথম চুমু, ঠোঁটে রক্ত ঝরে,

আদর আদর চাপে, জামার বোতাম ছেঁড়ে। 

শান্ত শান্ত গাছও, বোশেখের ঝড়ে নড়ে,

ঘুপচি ঘুপচি ঘরেও, প্রেমিকেরা প্রেম করে।

কালো কালো মেঘ জমেছে, শ্রাবণের শেষ বেলায়,

মিথ্যে! মিথ্যে! প্রেম মিথ্যে গরীবের ফাঁকা থালায়।









সাপ্তাহিক কলমে :- সুনন্দ মন্ডল


 শ্রাবণে মঞ্চ সজ্জা

  সুনন্দ মন্ডল


  শ্রাবণ শেষের বেলা

  ভাদুর গানে নাচে মন।

  ঝরঝর বৃষ্টির খেলায়

  উৎফুল্ল হয় এ জীবন।


  রঙিন সূর্যের গলিত আভা

  বেলা শেষের ডাকে মজে।

  প্রকৃতির মঞ্চে মাহেন্দ্রক্ষণের সন্ধ্যা

  শাঁখের ফুঁয়ে আঁচল নামায় লাজে।


  অস্তগত রোজনামচায় জীবন

   নতুন দমে নতুন অধ্যায়ে।

   ভালোবেসে দৃঢ় সম্পর্কে বাঁধতে

   শ্রাবণ শেষের নতুনকে নেয় জড়িয়ে।

   





সম্পাদকীয় কলমে : সুদীপ নীল তন্তুবায়

 

 সম্পাদকীয় কলম :-

সুদীপ নীল তন্তুবায়  

 শ্রাবন শেষের বেলা পার হয়ে ভাদ্রের ভালোবাসা 

 জানালার কাঁচে যৌবন আঁকে। মেঘঢাকা চাঁদের চিবুক থেকে কেড়ে আনে অঝোর অন্তমিলের চুম্বন। ব্যক্তিগত গল্পগুলো স্নানের ঘরে ভিজতে ভিজতে ভুলে যায় অষ্টাদশী বৃষ্টির কথা।

বৃষ্টি ভোলে না। তাই তো ভালো থাকার বৃত্তটা ভালো রাখার কম্পাস দিয়ে বড়ো যত্নে এঁকে দেয়। 

সাপ্তাহিক বৃত্তে আজ শ্রাবন শেষের জলফড়িঙ ভুলে যায় নি ভেজা গন্ধের পূর্ণবৃত্ত।  

 যাঁদের লেখনীতে জলফড়িঙের এই সংখ্যা সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁদের প্রতি আমার এক ভারতবর্ষ ভালোবাসা। অষ্টাদশী বৃষ্টিময় অনন্ত শুভেচ্ছা। 




মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০

আমদের খরচ তুলে ধরা হলো। "সামান্য" ই-বুক বিক্রির

 নমস্কার আমি সুদীপ্ত সেন,জলফড়িং ওয়েব ম্যাগাজিনের ফাউন্ডার৷ আমরা আমফান ঘূর্ণিঝড়ের পর বিপর্যস্ত মানুষদের সাহায্যের জন্যে সামান্য নামে একটি ই-বুক আয়োজন করে ছিলাম আর ই-বুকটি বিক্রি করে যে অর্থ আমাদের হাতে আসে তার পরিমান ছিলো ৩০০০ টাকা।  


এখন সমস্ত খরচের হিসেব দেওয়া হলো। 


১.) কবি অতনু বর্মনের হাত ধরে আমরা সাহস পেয়েছিলাম একটা গঠনমূলক কাজ করার। আমরা তিতলি ভলেন্টিয়ারের কাছে ১৫০০ টাকা দিয়েছিলাম। তিতলির কাজটা হলো মূলত লকডাউন এর ফলে কর্মহীন মানুষ এবং ফুটপাতবাসী ও ভবঘুরেদের দুই বেলা প্রায় শতাধিক মানুষের দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে এরা খাবারের আয়োজন করে চলেছেন।

মূলত সিউড়ি এলাকা জুড়ে এদের কাজ।




২.) বীরভূমের পাইকর নামে একটি গ্রামে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ব্লাস্ট হয়ে পুরো ঘর পুড়ে গিয়ে বাসস্থান এবং খাবারহীন হয়ে যায় একটি বাড়ি। আমরা তাদের কে কিছু খাবার দিয়েছিলাম । ৫০০ টাকা সাহায্য করতে পেরেছিলাম। ১০ কেজি চাল, এক কিলো তেল, সোয়াবিন তিন প্যাকেট আর লবন ১ প্যাকেট।


আলোর টিম বিপর্যয়টি পর্যবেক্ষণ করেছিলো নীচে ভিডিও দেওয়া হলো।



৩.) সৌম্যদীপ দা একটা NGO চালান সেখানে একটি বিশেষ রাখীবন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করে ছিলেন তিনি কোলাঘাটের কিছু বাচ্চাদের নিয়ে।    তাতে ৫০০ টাকা সাহায্য করে সেই কাজের ভাগীদার হতে পেরে আমরা আনন্দিত। বিস্তারিত নীচের  লিঙ্কে ক্লিক করলে জানতে পারবেন।


https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2720162731593947&id=100008007406887



৪.) আলো ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থা এক সদ্যজাত বাচ্চার চোখের অপারেশনের  জন্য ববস্থা গ্রহণ করে। আমরা তাদেরকে দিতে পেরেছিলাম ৩০০ টাকা মতো যা নীচে জানানো হলো।




৫.) ই-বুকটি প্রায় ৯০ পাতার কাছাকাছি  হয়েছিলো তার জন্য শব্দলেখা প্রকাশনীকে আমরা দিয়েছিলাম ৬০০ টাকা।



আমাদের মোট খরচ ৩৪০০ টাকা

"PANI PANI RE" গানটিকে নতুনভাবে অ্যারেঞ্জ করেছে KMJ music Series production house

 



২৫ শে অক্টোবর ১৯৯৬ সালে 'MAACHIS' নামে যে সিনেমা রিলিজ করে সেই সিনেমায়  বিখ্যাত গায়িকা লতা মঙ্গেশকর জি গেয়েছিলেন "PANI PANI RE" নামে একটি গান। গানটির লিরিক্স লিখেছিলেন  অস্কার জয়ী  লিরিসিস্ট স্বয়ং গুলজার সাহেব  এবং মজার ব্যাপার হলো তিনিই সিনেমাটির ডিরেক্টর ছিলেন।

২৪ বছর পর গতকাল সেই গানেরই মিউজিক ভিডিও করছে  KMJ music Series production house যার কর্ণধার হলেন শ্রী প্রবীর জানা।

এখানে গানটি গেয়েছেন জি বাংলার 'সা রে গা মা পা' - ২০১৪ এর গায়িকা স্বর্ণালী বোস।
মিউজিক অ্যারেঞ্জ করেছেন আকাশদীপ ভট্টাচার্য।
গানটির DOP ছিলেন শুভদীপ দে এবং গানটিকে  দৃষ্টিসুন্দর করে তুলেছেন অর্থাৎ ভিডিও এডিট করেছেন শুভদীপ  বাবু এবং গানটি এক অপরূপ দৃষ্টি পেয়েছে দর্শকের কাছে।

গতকাল ছিলো গুলজারের জন্মদিন আর গতকালই রিলিজ করেছে এই গানটি। গানটিতে আকাশদীপকে দেখা যাচ্ছে কখনও গীটার এবং কখনও উকুলেলে হাতে করে। আর গায়িকা স্বর্ণালীর কন্ঠে এক ইউনিক লুক পেয়েছে "PANI PANI RE" যা নির্দ্বিধায় দর্শকের কাছে এক সুন্দর উপস্থাপনা  বলেই আমরা বিশ্বাস করি।

আপনি যদি গানটি না দেখে থাকেন তাহলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করে দেখে আসতে পারেন একবার।
কথা দিচ্ছি ভালো  লাগবেই...

👇👇👇👇👇👇 👇👇👇👇
https://m.youtube.com/watch?feature=youtu.be&v=7z9WJWquZiA

শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০

সম্পাদকীয় কলম

 

সম্পাদকীয় কলম

৭৪তম স্বাধীনতা দিবসে একটা প্রশ্ন বার বার আমাকে বিব্রত করছে আমরা কি সত্যি স্বাধীন। সত্যি কি স্বাধীন হতে পেরেছি বেরোতে  পেরেছে কুসংস্কারচ্ছন্ন শেঁকলের বেড়ি ছেড়ে।এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে বহুবার যেবার শেষবার চড়েছিলাম স্বাধীনতার নৌকা, পুষেছিলাম শখ করে টিয়া পুড়েছিলাম খাঁচায় ওর সম্মতি আছে কিনা না জেনেই।মর্জির মালিক হয়েছিলাম সেইদিনও একই প্রশ্ন এসেছিল ঊড়ে। আমরা কি আদৌ স্বাধীন?  উত্তরে বলবো কোথাও হ্যাঁ আর কোথাও না। আমরা শারীরিক ভাবে হলেও মানসিক ভাবে নই।চিন্তা চিন্তনে বার বার আবদ্ধ হয়ে পড়ি পরনির্ভরশীলতায়।নিজস্ব চিন্তাভাবনার যেদিন সঠিক বিকাশ ঘটবে সেদিন হব স্বাধীন।



কলমে - রৌদ্রাস্য চক্রবর্তী

 কমলার দেশ-দর্শন

রৌদ্রাস্য চক্রবর্তী


ঘনান্ধকার স্থানটি নির্ঝঞ্ঝাট-তুল্য এবং নিরিবিলি দেখিয়া কমলাকান্ত আফিঙ্গ সেবনাবস্থায় প্রসন্ন প্রদত্ত মঙ্গলার দুগ্ধ-পূর্ণ পাত্রটি রাখিয়া উপবেশন পূর্বক কিঞ্চিৎ ঝিমাইতেছিলেন, বলিতে হইলে নির্জনে বিশ্রাম করিবার উপক্রম করিতেছিলেন। কিন্তু আফিঙ্গর নেশাবস্থাতেও তিনি যেন সুস্পষ্ট দেখিতে পাইলেন যে কোনো একটি সজীব বস্তুর স্পর্শে দুগ্ধপাত্র আন্দোলিত হইলো। ক্ষণমাত্র বিলম্ব না করিয়া তিনি দক্ষিণ হস্ত দ্বারা উক্ত সজীব বস্তুটিকে চাপিয়া ধরিতে ধরিতেই বলিলেন, ‘ওহে মার্জারী, তুমি পুনরায় আসিয়াছ? সেদিন আমার ভাগের সম্পূর্ণ দুগ্ধটুকুই নিঃশেষ করিয়াছিলে। সেদিন সমাজধর্মের নিকট নতিস্বীকার করিয়া একপ্রকার নিরস্ত্র হইয়াছিলাম ঠিকই।  তথাপি বারংবার তাহা সওয়া যায়না। পুনরায় অদ্য তোমায় আমি দুগ্ধ ছাড়িব না। কিছুতেই না।’

কিন্তু এমন সময় আফিঙ্গর নেশা অতিক্রম করিয়াও তাঁহার কর্ণে এক কামিনীর ক্রন্দন-স্বর প্রবেশ করিল যেন। তাহার উৎসাভিমুখে দৃষ্টিপাত করিয়া  তিনি দেখিলেন এক সধবার চিহ্নযুক্ত রমণী আলুলাইত কেশে আনত-বদনে বসিয়া রোদন করিতেছে। পরনে একটি রক্তিম-পাড়যুক্ত শুভ্র বস্ত্র বিশেষ, কিন্তু তাহা মলীনতার স্পর্শযুক্ত। দুগ্ধ-পাত্র উপরিস্থিত তাহারই দক্ষিণ হস্তটি কমলাকান্ত স্বহস্তে চাপিয়া ধরিয়া আছেন।  বোধকরি চুরির দায়ে ধরা পড়িয়া সলজ্জ হইয়া ক্রন্দনে রত হইয়াছে। যথারীতি কমলাকান্ত রোদনের কারণ জিজ্ঞাসিলে সে রমণী উত্তর প্রদানে বিরতই থাকে। তথাপি কমলা পরোপকারজনিত মোহাবেশেও তাহাকে দুগ্ধপাত্রের প্রতি অধিকার অর্জন হইতে বিরত রাখিলেন। বেশ কয়েকবার ক্রন্দনের কারণ জানিতে চাহিয়াও উত্তর না পাইয়া কমলাকান্ত একাকিত্বকেই রমণীর দুঃখের কারণ জ্ঞান করিয়া আপন মনেই বলিতে থাকিলেন

- কেহ একা থাকিও না। যদি অন্য কেহ তোমার প্রণয়ভাগী না হইল, তবে তোমার মনুষ্যজন্ম বৃথা।… পুষ্প আপনার জন্য ফুটে না। পরের জন্য তোমার হৃদয়-কুসুমকে প্রস্ফুটিত করিও।…ওহে কামিনী-পুষ্প তুমি পরের জন্য তোমার হৃদয়-কুসুমকে প্রস্ফুটিত করনা কেন?

এইবারে রমণী ক্রন্দন সম্বরণপূর্বক বলিলেন, ‘পরের জন্য ভাবিতে ভাবিতেই তো আমি যে নিঃস্ব হইলাম ঠাকুর! আমার জন্য কে ভাবে! জন্ম-লগ্ন হইতেই যে আমায় মন্দার-পর্বত করিয়া গোষ্ঠীর পর গোষ্ঠী, শক্তির পর শক্তি নিজেদের ভাবনাই, আত্ম-স্বার্থ পূরণ করিয়া চলিতেছে। কিন্তু আমি-’ বক্তব্য অসমাপ্ত রাখিয়াই সে ক্লান্তি জুড়াইয়া লইলেন কিয়ৎক্ষণ। 

এমন সময় কমলাকান্ত নেশার ঘোরে যেন দেখিতে পাইলেন তাঁহার তিন দিক হইতে যথাক্রমে গেরুয়া, সাদা ও সবুজ বস্ত্র পরিহিত তিন মনুষ্য-গোষ্ঠী আসিতেছে। সকলের মুখে সেই কত বৎসর পূর্বে শ্রীযুক্ত বাবু বঙ্কিমচন্দ্র নামক জনৈক ব্যক্তি রচিত একটি অতীব জনপ্রিয় শ্লোক- ‘বন্দেমাতরম, বন্দেমাতরম, বন্দেমাতরম’। 

এবার কমলাকান্ত রমণীর সমস্যা সমাধান করিয়া তাহার ক্রন্দন জনিত উপদ্রব কাটাইতে তৎপর হইয়া বলিলেন, ‘নাও হে, তোমায় দেখিবার নিমিত্ত ত্যাগী, শান্তিকামী ও বীর সন্তান আসিয়াছে। এবার তুমি ক্রন্দনে বিরতি দিয়া আমার বিশ্রামে যথাসাধ্য সাহায্য করো হে বামা।’ বলিয়া কমলাকান্ত রমণীর প্রতি বিদায়-জ্ঞাপন জনিত করজোর করিলেন।

তথাপি রমণী গেরুয়া বসনের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া বলিলেন, ‘উহারা? উহারা আমায় মাধ্যম করিয়া নিজেরাই ক্ষমতার স্বার্থ পূরণ করিতে তৎপর যে। উহারা আমায় কি সঙ্গ দিবে!’ সবুজের দিকে নির্দেশ পূর্বক কহিলেন, ‘ইহারা ও অনুরূপ। আমায় সাক্ষী রাখিয়া নিজেরা যথেচ্ছাচার করে চলে! আর শুভ্র বেশধারী? ইহারা এতটাই শান্তিপ্রিয় যে, কাহারো কিছুতেই কোনো চিন্তা নাই। ইহারা নিজেরা উদরপূর্তি-পূর্বক গ্রাসাচ্ছাদনেই মগ্ন। নিজেদের জন্মদাত্রীর প্রতিও ইহাদের দৃষ্টি-করিবার সময় বোধ করি নাই। ইহার সকলেই যে একা। কেবলমাত্র কিছু লভ্যাংশের স্বার্থে পরস্পর প্রকাশ্যে মিত্রতা বজায় রেখে চলে। দেখিতেছ না ঠাকুর, আজ প্রভাত হইতে আমায় লইয়া কত হাঁক-ডাক, কত ভক্তি, কত উচ্চ-বক্তৃতা, সংগীত, নৃত্য হইবার পরেও আঁধার ঘনাইয়া আসার সঙ্গে সঙ্গেই এখানেই আমায় ফেলিয়া রাখিয়া উহারা ভোঁ-ভাঁ! কল্য হইতে আমার কথা ভাবিতে ইহাদের সময় কই?’

এবার কমলাকান্ত কামিনীর প্রতি বিশেষ মনোযোগ যুক্ত দৃষ্টি প্রেরণ করিয়া জিজ্ঞাসিলেন, ‘তোমার প্রকৃত পরিচয় কি কামিনী?’

   -আমি? আমি ভারতী।

রমণীর পরিচয় জানিয়া ইস্তক কমলাকান্ত নেশার ঝিমুনিতে বুঁদ হয়ে আফিঙ্গের কৃপা উপভোগ করিতে লাগিলেন। কিছুকাল এইরূপে অতিবাহিত হইবার পরে স্বপার্শ ও পশ্চাৎআদি চারিদিকে চাহিয়া দেখিলেন কিছু ত্রিবর্ণ রঞ্জিত ধ্বজা বিশেষ ছিন্নবস্থায় ভূলুণ্ঠিত, তাঁহার পার্শেই একটি উল্লম্ব দণ্ডাগ্রে বৃহদাকার অনুরূপ একটি ধ্বজা বিশেষ এবং কিঞ্চিৎ দূরত্বে কোন এক প্রতিকৃতি অযত্নে পড়িয়া আছে। প্রতিকৃতিটির প্রতি প্রবলভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করিয়া বার কয়েক ‘ভারতী’ শব্দটি মৃদু স্বরে আবৃত্তি করিতে করিতেই কি জানি কি মনে করিয়া কমলাকান্ত রমণীর প্রতি শ্রদ্ধাবনত হইলেন।

সম্মুখে স্বয়ং দেশমাতৃকা-দর্শনের সৌভাগ্য বিষয়ে কমলাকান্ত বিশেষ আবেগবিহ্বল। ক্ষণকালের মধ্যে করজোড়ে ‘সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে, শিবে, আমার সর্বার্থসাধিকে! অসংখ্যসন্তানকুলপালিকে! ধর্ম, অর্থ, সুখ, দুঃখদায়িকে! আমার পুষ্পাঞ্জলি গ্রহণ কর।’ বলিতে বলিতে মাতৃ-চরণে প্রণত হইলেন।

এরপর দেশ-মাতৃকাকে প্রত্যয় প্রদান-পূর্বক বলিলেন, ‘যাঁহার প্রায় একশত আটত্রিশ কোটি সন্তান- তাঁহার ভাবনা কি?’

- ভাবনা নয় বাবা। ভাবনা নয়। ক্ষুধা। এই একশত আটত্রিশ কোটিই বৎসরে প্রায় বার তিনেক এমনি করিয়া কতনা পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করে, টানা-হ্যাঁচড়া করে, কতনা উচ্চাদর্শের বাণী আওড়ায়! কিন্তু আত্ম-স্বার্থ মিটিলেই সমাপ্তি। আমায় যে কেউই খাইতে দেয় না, আমার হিতার্থে কাহারো বিন্দুমাত্র ভাবনা নাই! আমার প্রতি ভাবনার মুখোশে ইহারা আপনাদের ভাবনাই পূর্ণ করে। তাই এই ক্ষুধার্ত-দুঃখী মা ভাবিয়াছিল তাঁর এক সন্তানের সম্মুখে রক্ষিত এই দুগ্ধটুকু দিয়া যদি সাময়িক ক্ষুধা টুকুও নিবৃত্তি করিয়া সন্তানকে পরোপকারের পুণ্যার্জনের সুযোগ করিয়া দিই! কিন্তু বাবা, এই সন্তানটিও ব্যতিক্রম নয় দেখিলাম-’ মা কে আর বাক্যব্যায় করিবার সুযোগ না দিয়া কমলাকান্ত অবশ্য কর্তব্য বোধে

- লও মা। গ্রহণ করো। সবল হও। 

বলিয়া দুগ্ধ-পাত্র দেশমাতৃকার হস্তে অর্পণ করিয়া আফিঙ্গের নেশায় কিঞ্চিৎ ঝিমাইয়া পরিলেন। পুনরায় মুখ তুলিয়া তিনি দেখিলেন কোথায় দেশ-মা! এ যে এক অস্থি-সার বিশিষ্ট অভুক্ত ও অপুষ্ট শিশু তাহার দুগ্ধ-পাত্র হস্তে দুগ্ধপান করিতেছে। 

সমাপ্ত

(বঙ্কিমচন্দ্র সৃষ্ট ‘কমলাকান্ত’ চরিত্রাবলম্বনে)

২৮/৪/১৪২৭




কলমে - ব্রতীন বসু

 

স্বাধীনতা দিবস 

 ব্রতীন বসু


কোন এক জন্মে আমি

তোমার মত মুক্ত হতে চাই

তোমার মত  হাসতে চাই

ছুটে যেতে চাই

রোজ 

জন্মদিন,

সামার ভেকেসান

পুজো,ক্রিসমাস,

তুমি যেভাবে 

সেভাবে কাটাতে চাই

কোন এক জন্মে

সকাল বিকেল গোলাপ ফুল খেলনা টুকিটাকি

আর স্বাধীনতার আগে কাগজের তেরঙা নিয়ে যেভাবে গাড়িতে গাড়িতে বিক্রি কর

হাসিতে খিদেতে,

হতে চাই তোমার মত 

আমি স্বাধীনতা দিবস

তুমি স্কুলে যাবে

আমি মুক্তি পাবো পনেরোই অগাস্টের বেড়াজাল থেকে।



কলমে - শোভন অধিকারী

ভারত আমার দেশ

শোভন অধিকারী


শত শত শহীদের রক্তে গড়া মোর ভারতভূমি!

বিন্দু বিন্দু গড়া শহীদভূমি।

শান্তি এই ভারতের বাণী,

অহিংসা যার মূল মহামন্ত্র ধ্বনি।

হিন্দু,মুসলিম,বৌদ্ধ,জৈনের বাসভূমি মোদের ভারতভূমি।

হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী ,

বৈচিত্র্যের দেশ এই ভারতভূমি,

নদী নালা, মাঠ ঘাট, পথ প্রান্তর, বন জঙ্গল, পর্বত ও মালভূমি এসব নিয়েই মোদের মাতৃভূমি।অতীতের পরাধীনতার ভারতবর্ষ আজ বন্ধন মুক্ত।

ভারতে আজ নেই ইংরেজ মোঘল, শক ও পাঠান।

নেতাজী, ক্ষুদিরাম,গান্ধীজী ও ভগৎ সিং আজ হয়ে গেছে ইতিহাস।

বর্তমান ভারত আজ পরিচিত দেশ।

জ্ঞান বিজ্ঞানে, শিল্পে ও প্রযুক্তিতে ভারতের ঘটছে উন্নতি।

খাঁ খাঁ মাঠ,ধূ-ধূ প্রান্তরে আজ শোনা যায়

কলের শব্দ,দেখা যায় চিমনির কালো ধোঁয়া।

উন্নত বীজ,সার,কীটনাশক প্রয়োগে কৃষি হচ্ছে সমৃদ্ধ।

অট্টালিকা,ট্রেন, বিমান শহরে হয়েছে উদ্ভব।

অতীতের ভারত আজ অলংঙ্কারে সুসজ্জিত।

ভারত তুমি ধন্য! লুন্ঠন ও উৎপাতের মধ্যে দিয়েও বিদ্যমান তোমার ঐতিহ্য।

গরীব হলেও আমরা সবাই ভারতবাসী,

আমাদের মধ্যে মিশে আছে,

ভারতীয় ঐক্যে ভারতের জয় কামনা,ভারতীয় রক্তের টান। 

তাই ঈশ্বরের কাছে মোর প্রার্থনা--

নদী নালা,পথ ঘাট,বন জঙ্গল,পর্বত ও মালভূমি,

ভারতের একবিন্দু মাটিতে 

যেন আবার জন্মগ্রহণ করি।



চিঠি ও কলমে - অর্পণ বসাক

 

নেতাজী কে চিঠি 

অর্পণ বসাক 


প্রিয় নেতাজী,

              অনেকদিন ধরেই তোমায় লিখবো লিখবো করেছিলাম।কিন্তু লেখাটা আর হয়ে ওঠে নি। কি করেই বা লিখতাম বলো,আজ যখন তোমায় লিখবো বলে স্থির করলাম,হঠাৎ ই মনে হলো তোমায় লিখব কোন ঠিকানায়? কটকের সেই বাড়িতে তো তুমি আর ফেরো নি। তাই আমার এই চিঠি বাতাস কে দিয়ে পাঠালাম।ও হয়ত নিশ্চয় কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী যেখানেই থাকো তোমায় নিশ্চয় পৌঁছে দেবে,নিশ্চয়।

       জানতো দেখতে দেখতে স্বাধীনতার সত্তর টা বছর পার করে এলাম।তুমি যে ভারত দেখতে চেয়েছিলে সেই ভারতে আজ ব্রিটিশ রা নেই,পরাধীনতার নাগপাশ নেই, ইংরেজ বাবুদের অত্যাচার নেই।তোমার ভারত স্বাধীন!

      তোমার স্বপ্নের ভারতের লোকেরা আজকেও খুব সকাল করে ওঠে ,পতাকায় মালা চড়ায়, তোমার ছবি রাখে ।দেশাত্ববোধক গায়।আর একটা ছুটির দিন কাটায়।

        না !এসব বলতে তোমায় লিখছি না। যেটা বলার ছিল, জানো নেতাজী, তোমার স্বাদের ভারতবর্ষের মাটিতেই আজ কাঁটাতার পড়েছে হিন্দু আর মুসলিমের মাঝে। যে মেয়েটা মা কে বলে গেছিলো মা !এবার তুমি দেখে নিও, আমি মস্ত বড় টিচার হবো। আর আমার দেশ কে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করব।সন্ধ্যার পরে সে আর ফেরেনি টিউশন ক্লাস থেকে। পরদিন খবরের কাগজে তার রক্তাক্ত দেহের ছবি  খুঁজে পেয়েছি আমরা।

        একটা রুটির জন্য ছেলেটার খিচুড়ির স্কুল দেখা হয় নি। দুদিন পরেই সমাজ যাদের গড়ার কথা তারাই আজ গড়ার বদলে শুধু ভেঙেই চলেছে ইটের স্তূপ,একেকটা সভ্যতার স্তুপ। ওরা হয়ত সত্যি জানে না স্বাধীনতা আর স্ব-দীনতার তফাৎ টা।

        মানবতার মাঝে কাঁটাতার টেনে তোমার প্রিয় মাতৃভূমি টা কে কতটা মানচিত্রের স্কেল ঠিক রাখা হয়েছে আমার জানা নেই। তবে এ দেশের মানুষ তোমার মত করে প্রতিবাদ করা টা ভুলে যাচ্ছে,ভুলে যাচ্ছে উলঙ্গ রাজা কবিতার সেই শিশুর মত বলতে-"এই রাজা তোর কাপড় কোথায়?" কাঁটাতারের ওপারে থাকা শয়তান গুলোকে  জওয়ানরা দেখে নেয় জীবনের বিনিময়ে কিন্তু কাঁটাতারের মধ্যে থাকা মুখোশধারী মীরজাফর দের কে পাহারা দেয় বলতো? 

     নেতাজী এবার তোমার ফেরার সময় এসেছে, তুমি এবারটি ফিরে এসো। আবার তুমি তোমার দীপ্ত কণ্ঠে বলে উঠবে "তোমরা আমায় রক্ত দাও,আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব" এবারে পরাধীনতার অধীন থেকে স্বাধীন করতে নয়। এবার না হয় তুমি ডাক দিও একটা মুক্তমনা স্বাধীনতার, একটা মানবতার স্বাধীনতার, একটা সত্যি বলার সাহসের স্বাধীনতার।

        আর বেশি  কিছু লিখলাম না। সবশেষে আমার প্রণাম নিও নেতাজী।

©অর্পণ বসাক 



                           


কলমে - আমিমোন ইসলাম

 

শুভেচ্ছা

আমিমোন ইসলাম

একমাত্র মেয়ের কোনো স্বাধীনতা নেই

বিয়ে না পড়াশোনা ঠিক করার।

ছোটো ছেলের কোনো স্বাধীনতা নেই

সাইন্স না আর্টস পড়বে, বলার।

আমাদের কোনো স্বাধীনতা নেই,

চায়ের দোকানে মনের কথা খোলার।


এখনও ভারতবর্ষে, অর্ধেক মানুষ,

দুবেলা আধপেটা খায়।

এখনও নেতাজি মোড়ে, দিনদাহারে

গুলি চলে রক্ত বয়ে যায়।

স্বাধীন শুধু বইয়ের পাতায়,

আসলে আমরা পরাধীন সবাই।

তবুও, ভারতবর্ষ তোমাকে

জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই।



কলমে - জয়ীতা চ্যাটার্জী

হত্যা:

জয়ীতা চ্যাটার্জী

দেখিনি এমন কোনো আশ্চর্য সকাল , 

যেখানে কোনো হত্যা হয়নি গতকাল। 

দেখিনি এমন কোনো নিস্পাপ মুখ, 

 হত্যাকাণ্ড লুকোয়নি যেখানে মিথ্যে সুখ। 

তন্নতন্ন করে খুঁজেছি নিজের ভেতর, 

একটা একটা করে খুন হয়েছে খুনের ওপর। 

শেষ মুহূর্তে মনে পড়ে আমার টিকিট নেই, 

যে শহর থেকে জঙ্গলে আমায় ফেরাবেই।