শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১
সম্পাদকীয়
প্রথম পুরস্কার
কলমেঃ- শ্রেয়া রায়
ছোট্ট বিনি রোজ দোতলা- তিনতলা বাড়ি গুলোর দিকে তাকিয়ে থাকত একদৃষ্টে। আর শুয়ে শুয়ে মাকে জিজ্ঞাসা করত,"মা, আমাদের এমন বাড়ি কবে হবে?" মা তার ছোট্ট ৫ বছরের শিশুর প্রশ্নে মৃদু হাসি হেসে বলতেন,"ভগবান যে দিন চাইবেন!" এভাবেই প্রত্যেক দিনই মা তার অবুঝ শিশুকে কথায় ভুলিয়ে রাখতেন। কিন্তু শিশু যতই অবুঝ হোক না কেন, সে তার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখত মায়ের কথায়। এভাবে দিনের পর দিন কেটে গেল, পেরিয়ে গেল বেশ কিছু বছর। বিনির এখন বয়স ৮ বছর। পথে ঘাটে ঘুরে ঘুরে এখন বাস্তবটাকে ধীরে ধীরে চিনতে শিখছে। সারাদিন ঘুরে বেড়ানোর পর দিনের শেষে মায়ের সাথে দুটো রুটি কোনক্রমে ভাগ করে নেয় পথের ধারে। পিতৃ পরিচয়হীন কন্যা সন্তানকে নিয়ে পথের ধারেই ঘর বেঁধেছে মা।
ছোটবেলা থেকেই একটি অঙ্গনওয়াড়ি স্কুলে বিনে পয়সায় পড়াশোনা করতো বিনি। পড়াশোনার প্রতি তার আগাগোড়াই বেশ ঝোঁক ছিল। ফুটপাতে খবরের কাগজের দোকানের কাকুর থেকে রোজ সে খবরের কাগজ নিয়ে পড়তো। একদিন বিদ্যালয়ের তরফ থেকে একটি কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সে। সেই ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় সমস্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে বিনি। প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় নগদ ১০ লক্ষ টাকা। এরপর পূরণ হয় এত দিনের স্বপ্ন। মায়ের সাথে রোজ যে স্বপ্নের ঘর বুনতো একটু একটু করে, বিনির সেই স্বপ্নের ঘর আজ বাস্তবে তৈরি হলো।
আমার নবীন কুঁড়ে
কলমেঃ- শুভঙ্কর নস্কর
জীবন নদীর পারাবারে আমরা সবাই একা,
দুরন্ত- দুর্নিবার এই সময়কে পাল্লা দিতে দিতে
অবসন্ন শরীরের ঘামও আজ ক্লান্ত,
পথ চলতি মানুষের ভিড়ের মধ্য থেকে
হঠাৎ অস্পষ্ট স্বর- সাথেই থাকব..
পাশে আছি'র বার্তায় বাড়িয়ে দিলুম হাত।
মুহূর্তে স্বপ্নের ভিড়ে পার করেছি সপ্তসিন্ধু..
শরীরের মলিন পরিধেয়-কে মুহূর্তে করেছি
রত্ন-খচিত রেশমিকা ভূষণ, রাজশাহী আভিজাত্যে।
এক লহমায় সূর্যের তেজস্বিতা আর
জ্যোৎস্নালোকিত চন্দ্রের মায়াকে ,
যেন স্ব-অধীনতায় করে ফেলেছি বন্দি।
কিন্তু হায়! স্বপ্নীল মুহূর্তে-
দুরন্ত ঘূর্ণিপাকে স্বপ্নালোকের ছাদ গেলো উড়ে,
কল্পলোকের মায়াজাল বাস্তবের মাটিতে দিশেহারা।
ভালোবাসার নেশায় মাতন লাগানো মৃগনাভিটি আজ
সুবাস বিতরণে বড়ো-বেশি ক্ষয়িষ্ণুপ্রায়,
তবুও অস্ফুট স্বর, দূর থেকে ভেসে আসে যার প্রতিধ্বনি,
-আমি মারের সাগর পাড়ি দেবো ফিরবো দেশে দেশে ,
বাঁধবো আমার নবীন কুঁড়ে পথের প্রান্তে শেষে।।
শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
সম্পাদকীয় কলম
কবিতা
ছোটো গল্প
কবিতা
কবিতা
কবিতা
কবিতা
কবিতা
গল্প
কবিতা
কবিতা
কবিতা
কবিতা
কবিতা
কবিতা
কবিতা
কবিতা
কবিতা
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
সম্পাদকীয় কলমে - শোভন অধিকারী
সম্পাদকীয় কলম:
শোভন অধিকারী
জন্ম, মৃত্যু, জরা, ব্যাধি এই চারটি প্রকারভেদের বিবর্তনেই ঘুরপাক খাচ্ছে গোটা জীব জগত। চাইলেও আমরা এটাকে এড়াতে পারব না, শেষের তিনটি বাস্তব অনেকটাই রুঢ় যা ঘড়ির ঘন্টা সেকেন্ডের কাঁটা, হাসি- কান্না, ধনী – গরীব কোনো পরিস্থিতি ই সে মানে না গর্জাতে না পারলেও নিয়তি মাফিক সে বর্ষাতে জানে। কালের নিয়মে বিনা মেঘে নামিয়ে আনে বজ্রপাতের ঘন্টা না আমরা সমাজের উন্নতম জীব হয়েও তাকে রুখতে পারিনা শত চেষ্টা করেও।তবে যেটা পারি সেটা হলো কম সময়ে রঙ্গ মঞ্চে নিজেকে ভালো রাখা সকলকে ভালোবাসা জীবনের চক্রবূহ্যে একটা পরিপূর্ণতার ছাপ রেখে যাওয়া।
সাপ্তাহিক কলমে - সুনন্দ মন্ডল
ত্রিতাপ ক্লেশ
সুনন্দ মন্ডল
ক্লেশ মানেই জীবনের জাগতিক প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত।
এক হস্তী শাবক
যার বড় বড় দাঁত, বিশাল দেহ কিংবা ঐ মোটা মোটা পায়ের ছাপ,
তবুও কিছু একটা থেকে বঞ্চিত!
তারও দুঃখ আছে, ক্লেশ আছে।
ভাষা জানি না, তাই ওদের কষ্ট বুঝিও না।
অবশ্য সব প্রাণীদেরই একই অবস্থা।
আসলে কথায় আছে না!
যে যা পায়, তা চায় না!
আর যে যা চায়, তা পায় না।
আমরা তো নিমিত্ত মানুষ
কেবলই আত্মসুখে মগ্ন
একটু এদিক ওদিক হলেই
বিস্বাদে ডুবিয়ে রাখি নিজেদের।
আমরা বুঝতেই চায় না, এই সমাজ ও প্রকৃতির সুখ পেতে গেলে স্বল্পতায় আবদ্ধ রাখতে হবে।
কোনোরকম অন্তহীন উচ্চাশা মানেই বঞ্চনা, হতাশা!
প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত দুঃখ হোক,
আর অন্য জীবের দ্বারা প্রাপ্ত অবহেলা
কিংবা নিজস্ব মন ও শরীর জাত কষ্টই হোক!
সবকিছুর মূলে আত্মদর্শন।
এই জরা থেকে মুক্তি পেতে গেলে বিলিয়ে দিতে হবে সমাজদর্শনে,
সবার মাঝে বিশ্বপ্রকৃতির সবুজ দোলনায়।
ভালোবাসতে হবে, দুঃখীদেরও আপন করতে হবে!
তখনই ত্রিতাপ ক্লেশ নয়, জাগতিক সুখটুকুই থেকে যাবে আমৃত্যু।
সাপ্তাহিক কলমে - পাখি পাল
"দুঃখের কিছু দাগ"
পাখি পাল
আমি বলি দুঃখ,তুমি বলো কষ্ট,
সে বলে যন্ত্রনা, সত্যি এগুলো
ছাড়া জীবন ভাবাই যায় না,
প্রতিটা দিন মানুষ তো বাঁচতেই চায় নিজের মতো করে, কিন্তু কষ্ট-দুঃখ গুলো
তার পায়ে বেড়ির মতোই
জড়িয়ে থাকে, পিছুটানে,
শিকলের দাগ যেমন লেগে
থাকে হাতে-পায়ে,ঠিক তেমনি
অদৃশ্যভাবে দুঃখের দাগ গুলো লেগে থাকে স্মৃতির গালিচায়,
যেন প্রতিবার তারা আঘাত করে আমাদের মনোবল ভাঙতে চায়,
মনের গায়ে শত শত চাবুকের দাগ..দগদগে ক্ষত,
চোখ দুটো বুজে আসে, তবু ফুসফুস শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা চালায় অবিরত,
সাতরঙা রঙধনু ভাসে অল্পের জন্য,
জীবন-আকাশে রোদ-বৃষ্টির খেলায়,
এভাবেই চলে প্রতিনিয়ত বাঁচার লড়াই,
আর একটু..আর একটু..করে মনবলের চেষ্টায় ।
সাপ্তাহিক কলমে - শ্রেয়া রায়
অনুগল্প:-
শিরোনাম:-"ফিরে পাওয়া"
শ্রেয়া রায়
চার বছরের একটি ছোট্ট মেয়ে..গীত তার মায়ের সাথে দীঘার সমুদ্রের কাছে একটি ছোট্ট কুটিরে বাস করত। তার মা সমুদ্র থেকে মাছ ধরে তা বাজারে গিয়ে বিক্রি করতো এবং তা দিয়েই কোনো রকমে তাদের দুজনের পেট চলত। মা আর মেয়ের দুনিয়াটা ছিল ভীষণ ছোট। আপনজন বলতে কেউই ছিল না। মায়ের সাথে সারাদিন গীত থাকতো, মা যেখানে যেখানে যেত গীতও মায়ের সাথে সাথে সেখানে যেত। সারাদিন কাজকর্মের পর সন্ধ্যা বেলা বাড়ি ফিরে আসত এবং রাতে ছোট্ট গীত মায়ের সাথে সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে বিভিন্ন গল্পে মেতে থাকতো। এই ভাবেই কেটে যেত তাদের সময়।
হঠাৎ একদিন এক ঝড় উঠল এবং তছনছ হয়ে গেল তাদের সাজানো জগৎ... স্বপ্নগুলো টুকরো টুকরো হয়ে গেল... বিচ্ছিন্ন করে দিলো তাদের এক দস্যু ঢেউ... ঘরবাড়ি তলিয়ে গেল জলের তলায়। মা আগলে রাখতে পারলেন না তাঁর ছোট্ট সন্তানটিকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেড়ে নিল সন্তানকে মায়ের কাছ থেকে। দিশেহারা মা পাগলের মত ঢেউয়ের সাথে লড়তে লড়তে সন্তানকে খুঁজে বেড়াতে লাগলেন... কিন্তু বারংবার চেষ্টার সত্বেও পেলেন না ছোট্ট শিশুটিকে খুঁজে। অবশেষে জ্ঞান হারিয়ে মা পড়ে রইলেন সমুদ্রের এক পাড়ে। এই ভাবেই কেটে গেল সেই দুর্যোগের দিনটা।
পরের দিন সকাল হতেই প্রথম সূর্যের কিরণে চোখ খুললেন মা.. চোখ খুলতেই সমুদ্রের চারপাশে তাকিয়ে দেখেন, তছনছ হয়ে গেছে সমস্ত কিছু, সবকিছুর ধ্বংসাবশেষ পড়ে রয়েছে সমুদ্রের পাড়ে। তার মধ্যেই মা আবার অক্লান্ত ভাবে খুঁজে চলেছেন তার ছোট্ট শিশুটিকে। হঠাৎ এক পাশে দেখতে পেলেন তার শিশুটি অবচেতন ভাবে পড়ে রয়েছে। মা হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলেন শিশুটিকে দেখে এবং চিৎকার করে ডাকতে থাকলেন..জাগাতে থাকলেন তার সন্তানকে।অবশেষে মায়ের ডাকে চোখ খুলল ছোট্ট গীত এবং মা সন্তানটিকে বুকে আঁকড়ে ধরে হাউ হাউ করে কেঁদে উঠে বললেন...
"শুনেছিলাম সমুদ্র যা কিছু নেয় তা সবই আবার ফিরিয়ে দিয়ে যায়... আজ তা স্বচক্ষে উপলব্ধি করতে পারলাম।"
সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০
কবি নীহার রঞ্জন দাসের কবিতা
তুমি আদেশ করলে
------------------------নীহার রঞ্জন দাস
(এক)
তুমি আদেশ করলে
দ্রোহকাল ভেঙে দিতে পারি ।
তুমি আদেশ করলে...
(দুই)
তুমি আদেশ করলে
কুঁজো পিঠে এখনো
খোলা অরণ্যের হাওয়া
তোমার ওড়নায় ছোঁয়াতে পারি ।
(তিন)
তুমি আদেশ করলেই
এখনো সাইবেরিয়ার হলুদ পাখি
উপহার দিতে পারি ।
(চার)
তোমার মৌন যাপন ভাঙলে
এখনো আমি মেঘের জলে
আগুন জ্বালতে পারি ।
(পাঁচ)
তুমি চাইলে এখনো আমি
প্রদীপের নীচের অন্ধকারে
সূর্য বসাতে পারি ।
(ছয়)
তুমি চাইলে এখনো আমি
উপোসী রাত ভুলে
প্রেমের গান গাইতে পারি ।
(সাত)
তুমি চাইলে এখনো আমি
নিষিদ্ধ পল্লীর মেয়েকে
কুমারী পুজোয় বসাতে পারি।
(আট)
তুমি নীরবতা ভাঙলে
আমার ভাঙা ঘরে আলো জ্বলে
শুষ্ক হৃদপিন্ডটা আকাশে মুখ তুলে ।
সাপ্তাহিক কলমে - প্রীতম
কৃতকর্ম
প্রীতম রায়
না না ভেবো না
আজ আমি অভিযোগ জানাতে আসি নি।
বরং স্বস্তি পেয়েছি হুজুরের রায়ে।
জানি আমি দোষ করেছি,
প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে দেখিয়েছি
বহু নিয়ম কে বুড়ো আঙুল।
বহু বছরের শয্যা ত্যাগের পর ইচ্ছে হলো
অন্ধকার টা ছেড়ে এবার একটু আলোর মুখোমুখি হই।
জানি তুমি সেই সুযোগ আমায় দেবে না
বহুদিনেএ আলোর বিপরীতে যাপন করা আমিটা
এখন ও বোধ হয় যায় নি।
তাই হয়তো এখন ও স্বপ্ন দেখি সেই একদিনের।
আচ্ছা বলতে পারো আমার বয়স টা কত হবে।
বলতে পারো কুঁচকে যাওয়া চামড়ার পিছনে,
আমি কি তরুন না অর্ধমৃত
এক বয়স্ক রোগ গ্রস্ত কঙ্কাল।
যে তোমার নিকট মৃত্যুর ভিক্ষা চাইছে
আর তুমি পাপ – পূন্যের দাড়ি পাল্লায় মাপছো
কৃতকর্মের দোষ গুন গুলো কে।
রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২০
সাপ্তাহিক কলমে - জি কে নাথ
সন্ধান
জি কে নাথ
হলুদ পাখির মুখে ওড়ে জন্ডিসের হলদেটে আকাশ, খুদকুঁড়ো
তামাটে সবুজ গড়নে আধখানা আর্তনাদ টুপটাপ এক ঢেউয়ে
বুক পেতে শুয়ে আছে মূর্ত শালুকপাতায় নিহিত বিষণ্নতা
নিজের ভেতরে থৈ থৈ জল
এ মৃদু জলের তরঙ্গশব্দে বাঁধা আজন্ম সেতারভাঙা ছেঁড়া তারে বন্দি চেতনা,
আর্দ্র হয়ে আছে ঘুম
লোহিত সাগর পার হয়ে আসা সমুদ্রস্বর বিষাদ গম্ভীর বিরাট ছায়া ফেলে আলোড়িত নাগরিক সত্তায়
ক্রমে অক্ষর সরে গেলে , ফুরিয়ে যাওয়া খাতার পাশে কলতলার এঁটোবাসনগুলো জেগে ওঠে মৃত শব্দের শাদা জোছনায়
তলে তলে পোড়ে শহর উল্লাস, তা ধিন ধিন মুখোশ নাচে ,
পুতুলের নিবিড় ছায়া নামে ক্ষেতে
হ্যাজাক জ্বেলে নীল পিকনিক
আঠাশটা বছর হারিয়ে গেছে, একলা রয়েছি জীবন নির্মাণে
সদ্য পাতী শীতলার মতন মুখরতায় উৎকীর্ণ পোড়ামাটির মুখ ফেটে গঙ্গা যমুনার মতো কবিতায় মিশে যাচ্ছে স্বদেশ
এ শরীরের গাঢ় মনস্তাপে ঝলসে ওঠে
ধিকি ধিকি বেগুনি আঁচে এখন অন্ধকারের সেলাই করা সুতহীন শয্যা
চোখের সামনে নামের আড়ালে স্বপ্নপূরণের বেদনামাখা ভাঙা ডানা মেলে ধূসর শব্দ ভেদ করি ক্রমে
নিবিড় বিরহের অভিমুখে ঘুরতে থাকে হাওয়াহীন বাতাসে ভরা ভাদরের পদধ্বনি,
কুকুরে কুকুরে মৌতাত ,আঁতাত
চিহ্নে ভরে ওঠে ডোবা শরীরের সুলুকসন্ধান, চিহ্নে ডোবে চিহ্ন
এখন অবিরল ছায়ার স্রোত ভেঙে ভেসে পড়তে চায় বৃত্তের চাকভাঙা কথা
নিশ্চুপ আঁধারে বুকের সরীসৃপ বাড়ে সুদীর্ঘ ইতিহাস পরিক্রমার মতো
বিড়িপোড়া মুখে ধূসর আস্ট্রে উল্টে গেলে বিবেক হয়ে ওঠে মন্দার বাজারে সস্তার রেশন চাল! ....ফোটে রাতের তারায় তারায় উজ্জ্বল দানায়
শীতে হারিয়ে যাওয়া অস্পষ্ট ঘুমের ভিতর এখন মানুষ খুঁজতে বেরোই ।
সাপ্তাহিক কলমে - রাজা অধিকারী
আজ আকাশটা দুঃখের
রাজা অধিকারী
বৃষ্টি পড়ছে মাটিতে, করছে মৃদু শব্দ।
প্রতিদিন আমার একইরকম কাটছে,
আমি যে আজও বাড়িতে আবদ্ধ।
চিন্তায় মগ্ন থাকি সারাক্ষণ,
এই জরাজীর্ণ শরীরে জমছে মনের কষ্ট, হচ্ছে রুক্ষ্ম।
সুখের পিছনে দৌড়াতে গিয়ে মিলেছে
শুধু অশেষ দুঃখ।
রাতদিন জেগে জেগে স্বপ্ন দেখি,
বারে বারে ফিরে পেতে চায় ,
সেই ফেলা আসা দিন,
যেখানে রামধনুর মতো মিলিত ছিল সমস্ত স্মৃতিরা।
আজ মনের মধ্যে নেমে আশে দুঃখের ঢেউ।
অক্লান্ত পরিশ্রমের পরেও মুখে ছিল হাসি,
মনে হত মেঘের ভেলায় চড়ে আকাশেই শুধু ভাসি।
কিন্তু আজ সেই আগের আকাশটা নেই,
আজ আকাশটা শুধুই দুঃখের।
সাপ্তাহিক কলমে - জয়ীতা চ্যাটার্জী
সীমান্তে
জয়ীতা চ্যাটার্জী
আজ বুঝি একা বসে আছি মহাশিলার ওপর,
শরীরে ভরেছে বাতাস মন যেনো সাদা আস্তরণ কাপড়।
সমুদ্র ফেনা ঘিরে থাকে বৃত্তাকারে আমায়,
মনে পড়ে সে পরিচিত ধ্বনি, বারংবার আমাকে কাঁদায়
ভালোবাসি বলে মুখে তাও এতো দীন ঘরে ঘরে,
সমস্ত সত্তা জুড়ে সেই স্বর ভর করে
ভুলে গেছি চেনা নাম, যা ভোলার কথা ছিল না কখনো,
সব ছাপিয়ে জেগে আছে সেই ধ্বনি সরব এখনো
কে যেনো জিজ্ঞেস করে এ জীবন দিয়ে দিলি কাকে?
হৃদয় ও হারিয়েছে সন্ন্যাস কি জানি কার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে?
আজ ছড়িয়ে দিয়েছে পাতা প্রতিটা পথের বাঁকে বাঁকে,
কে যেনো ডেকে যায় বারোমাস, কার ছবি আঁকে।
হয়তো শোনে না কেউ তবু সে ডাক ভিতরে জীবিত থাকে,
বুকের ভেতর হাহুতাশ দেশ কি জানি কাকে একমনে ডাকে?
শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০
সাপ্তাহিক কলমে :- সুদীপ নীল তন্তুবায়
সম্পর্ক ও শ্রাবন
সুদীপ তন্তুবায় নীল
একটা শ্রাবন শেষ হয়ে গেলেই
অধ্যায় জুড়ে উপসংহার লেখে স্বাস্থ্যবতী বৃষ্টি।
ভাদ্রের মোহময়ী শরীর জুড়ে লেখা হয়
স্থানান্তরের গল্প।
পথের বৃত্তে মুখোমুখি দুটো যৌবন
আবেগের ক্যানভাসে ষোড়শী নদীটির ছবি আঁকে।
এক একটি নিস্তারের লোভ
অনিহার কচি হাতে তুলে দেয়
পূর্ণচ্ছেদ ভালোবাসার দলিল।
সম্পর্ক বড্ড সহজাত।
একটা শ্রাবন শেষ হয়ে গেলেই সম্পর্ক শেষ হয় না।
সাপ্তাহিক কলমে : - শ্রেয়া রায়
শ্রাবণের শেষ বেলায় বিষাদের শ্রাবণধারা
শ্রেয়া রায়
সকাল থেকেই অঝোড়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, আকাশে কালো মেঘ ঘিরে চারিদিকে আঁধার নেমে এসেছে। রাস্তা ঘাটে জলে থৈ থৈ। তবুও কাজকর্ম তো আর থেমে থাকলে চলবে না। রোজের মত পেখম বেরিয়ে পড়ল অফিসের উদ্দেশ্যে। মুষলধারার বৃষ্টিতে অর্ধ ভিজে অবস্থায় পৌঁছালো অফিসে।
অফিসে হাজার কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও পেখমের উদাসীন মন বারে বারে অতীত স্মৃতির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে। মনে পড়ে যাচ্ছে শ্রাবণের শেষ বেলায় হারিয়েছিল অভির চোখের প্রথমবার।
মন গুনগুন করে উঠেছিল কবি গুরুর গানে..
"কেবল আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে,
হৃদয় দিয়ে হৃদি অনুভব..."
প্রথম প্রেমের প্রথম অনুভূতি শুরু হয়েছিল এমন শ্রাবণ ধারায়। সেই বৃষ্টিভেজা দিন, একসাথে ভেজার জন্য অভির জোর করা, বৃষ্টিতে ভিজে আইসক্রিম খেয়ে আবার একসাথে দুজনের ঠান্ডা লেগে জ্বরে ভোগা... কতই না পাগলামিতে ভরা ছিল দিনগুলো। সেদিনের শ্রাবণ ধারায় ছিল এক অদ্ভুত প্রেম-আনন্দ-অনুভূতি। পেখমের মনময়ূরী আনন্দে নেচে উঠেছিল..মেতে উঠেছিল গুনগুনিয়ে সেই কবিগুরুর গানেই...
"এমন দিনে তারে বলা যায়,
এমন ঘনঘোর বরিষায়....."
বৃষ্টির সোঁদা গন্ধে ছিল অভি আর পেখমের মিষ্টি প্রেমের ঘ্রাণ।আজ সবই অতীত.. অতীত স্মৃতির পাতায় আজ সবই বন্দি। অভির উপহার দেওয়া মুহূর্ত গুলো পেখম আজও যত্নে সাজিয়ে রেখেছে তার একান্তের হৃদয় কুঠুরিতে। যদিও অভির মনে আজ পেখমের জন্য নেই কোনো অনুভূতি.. নেই কোনো স্থান... কারন সে ঘর বেঁধেছে অন্য মনের মানুষকে নিয়ে.. ভুলে গেছে পেখমকে..
আজ বাইরের শ্রাবণ ধারার সাথে পেখমের আঁখি জুড়ে ঝড়ছে অঝোরে কান্নার বরিষধারা। ব্যর্থ প্রেম আজও খুঁজে যায় সেই অভিকে... অভির স্পর্শকে... ফিরে পেতে চায় সেই অভির মনটাকে.. যেই মনটা একসময় ছিল শুধু পেখমের..।
সাপ্তাহিক কলমে :- জয়ীতা চ্যাটার্জী
শতাব্দী
জয়ীতা চ্যাটার্জী
আজ সে চলে যাচ্ছে দূরে,
যে ভাবে আমার গান শীত তাড়িয়ে নেয়।
সে চলে যাচ্ছে দূরে মিশে যাওয়া বিকেলের রোদ্দুরে
সে চলে যাচ্ছে মিলনের সমস্ত অসম্ভব সম্ভবনাকে ফেলে ছুড়ে,
সে ছোটো হয়ে আসে বুনতে বুনতে উলের গোলার মতো
ঘুমন্ত হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নাতুর যেন কিশোর শরীর চুম্বনরত,
সে চলে যাচ্ছে দূরে গলতে গলতে ছোট হয়ে যাওয়া মোম,
আগুনের মধ্যে জন্ম নিয়েছে যেমন হোম
মন খারাপ মুছতে মুছতে তার সে চলে যাওয়া
মেঘের দিকে ডুবিয়ে মুখ উড়িয়ে দেয় হাওয়া
সে চলে যাচ্ছে সন্ধের শেষের মতো প্রায়
সমুদ্রশূন্যে শতাব্দী এমন করেই একদিন দূরে চলে যায়।
সাপ্তাহিক কলমে :- শোভন অধিকারী
"শ্রাবণের শতরূপ"
শোভন অধিকারী
হে শ্রাবণ প্রকৃতির মাঝে তুমি এক অপরূপ সৃষ্টি,
শ্রাবণ মাসে বৃষ্টির জল, মনে বয়ে আনে আনন্দের ঢল
শ্রাবণ মাসের বৃষ্টিতে ভিজতে লাগে ভালো,
শ্রাবণ মাসের মেঘলা আকাশ হয়ে আসে কালো।
শ্রাবণ মাসে বাইশে শ্রাবণ মনে পড়ায় কবি গুরুর প্রয়ান দিবস।
শ্রাবণ মাসে কদমের ডালে চড়ুই গায় গান।
শ্রাবণ মাসে কদমের গন্ধে ভরে যায় প্রান।
শ্রাবণ মানেই গ্রাম বাংলার গাছে গাছে তালের রব রব।
শ্রাবণ মানেই কত শত ভক্ত ঢালছে জল ভোলানাথের মাথাতে।
শ্রাবণ মানেই ভালোবাসার আকাশ,
সেই আকাশের নীচে প্রেমিক প্রেমিকা মত্ত
ভালোবাসার ছোঁয়ায়।
যা সমস্ত চোখে ছড়িয়ে দেয় অন্যরকম মুগ্ধতা।
শ্রাবণ মাসের উদাসী হাওয়া বিকাল বেলায়,
তুমি আমি করবো দেখা নদীর ধারে,
শ্রাবণ মাসের শান্ত পরিবেশ
তুমি আমি চিরকাল যাবো ভালোবেসে।
সাপ্তাহিক কলমে :- পাখি পাল
'শ্রাবণের বেলাশেষে'
পাখি পাল
চাতকের চাওয়ায় আর বৃষ্টি নামলো কই,
ভরা শ্রাবণেও তার গলা শুকিয়ে কাঠ,
এভাবেই বছর আসে বছর যায়,
বুকফাটা কান্নায় আজ চৌচির ধূসর মাঠ,
শ্রাবনের ধারায় আজ যখন সবটা সবুজ,
চারিদিকে প্রকাশ পাচ্ছে প্রকৃতির আকৃষ্ট রূপ,
তখনও শেষের এক দামামা বেজে চলেছে কানের কাছে,
আর ঈশ্বর শত ডাকাডাকিতেও চুপ,
উল্টে-পাল্টে চলে ভাঙা-গড়ার খেলা,
দুমড়ে মুচড়ে আবার হাত চেপে করতে হয় মসৃন,
ডাইরী শেষ হয়ে যাবার পরেও,
কিছু ছেঁড়া পাতা থেকে যায় অমলিন,
অধ্যায়গুলো শেষ হয় একে একে,
তবু উপসংহার টানতে এখনো কিছুটা বাকি,
জানিনা এ জীবনে শ্রাবনের শেষে,
বৃষ্টি কি পারবে হৃদয় ছুঁতে নাকি দেবে ফাঁকি।
সাপ্তাহিক কলমে :- আমিমোন ইসলাম
মিথ্যে
আমিমোন ইসলাম
টিপ টিপ জল পড়ে, সারা বিকেল ধরে,
ভেজা ভেজা ছাতায়, কেও এখনও অপেক্ষা করে।
গুমড়ে গুমড়ে মেঘ, প্রেমিকের মনে ক্ষত,
যাচ্ছে যাচ্ছে চলে, গোপন সময় যত।
সামলে সামলে চলো, রাস্তা শ্যাওলাময়
একটু একটু জোরে, আঁটকে রাখতে হয়৷
গুড়ুম গুড়ুম বাজে, সবাই পায় ভয়,
ভয় ভয় পেলে, তাকে জাপটে ধরতে হয়।
সেলাই সেলাই দেওয়াল, শহরজুড়ে বোনে,
নতুন নতুন প্রেমিক, আঙুলে সময় গোনে।
প্রথম প্রথম চুমু, ঠোঁটে রক্ত ঝরে,
আদর আদর চাপে, জামার বোতাম ছেঁড়ে।
শান্ত শান্ত গাছও, বোশেখের ঝড়ে নড়ে,
ঘুপচি ঘুপচি ঘরেও, প্রেমিকেরা প্রেম করে।
কালো কালো মেঘ জমেছে, শ্রাবণের শেষ বেলায়,
মিথ্যে! মিথ্যে! প্রেম মিথ্যে গরীবের ফাঁকা থালায়।
সাপ্তাহিক কলমে :- সুনন্দ মন্ডল
শ্রাবণে মঞ্চ সজ্জা
সুনন্দ মন্ডল
শ্রাবণ শেষের বেলা
ভাদুর গানে নাচে মন।
ঝরঝর বৃষ্টির খেলায়
উৎফুল্ল হয় এ জীবন।
রঙিন সূর্যের গলিত আভা
বেলা শেষের ডাকে মজে।
প্রকৃতির মঞ্চে মাহেন্দ্রক্ষণের সন্ধ্যা
শাঁখের ফুঁয়ে আঁচল নামায় লাজে।
অস্তগত রোজনামচায় জীবন
নতুন দমে নতুন অধ্যায়ে।
ভালোবেসে দৃঢ় সম্পর্কে বাঁধতে
শ্রাবণ শেষের নতুনকে নেয় জড়িয়ে।
সম্পাদকীয় কলমে : সুদীপ নীল তন্তুবায়
সম্পাদকীয় কলম :-
সুদীপ নীল তন্তুবায়
শ্রাবন শেষের বেলা পার হয়ে ভাদ্রের ভালোবাসা
জানালার কাঁচে যৌবন আঁকে। মেঘঢাকা চাঁদের চিবুক থেকে কেড়ে আনে অঝোর অন্তমিলের চুম্বন। ব্যক্তিগত গল্পগুলো স্নানের ঘরে ভিজতে ভিজতে ভুলে যায় অষ্টাদশী বৃষ্টির কথা।
বৃষ্টি ভোলে না। তাই তো ভালো থাকার বৃত্তটা ভালো রাখার কম্পাস দিয়ে বড়ো যত্নে এঁকে দেয়।
সাপ্তাহিক বৃত্তে আজ শ্রাবন শেষের জলফড়িঙ ভুলে যায় নি ভেজা গন্ধের পূর্ণবৃত্ত।
যাঁদের লেখনীতে জলফড়িঙের এই সংখ্যা সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁদের প্রতি আমার এক ভারতবর্ষ ভালোবাসা। অষ্টাদশী বৃষ্টিময় অনন্ত শুভেচ্ছা।
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০
আমদের খরচ তুলে ধরা হলো। "সামান্য" ই-বুক বিক্রির
নমস্কার আমি সুদীপ্ত সেন,জলফড়িং ওয়েব ম্যাগাজিনের ফাউন্ডার৷ আমরা আমফান ঘূর্ণিঝড়ের পর বিপর্যস্ত মানুষদের সাহায্যের জন্যে সামান্য নামে একটি ই-বুক আয়োজন করে ছিলাম আর ই-বুকটি বিক্রি করে যে অর্থ আমাদের হাতে আসে তার পরিমান ছিলো ৩০০০ টাকা।
এখন সমস্ত খরচের হিসেব দেওয়া হলো।
১.) কবি অতনু বর্মনের হাত ধরে আমরা সাহস পেয়েছিলাম একটা গঠনমূলক কাজ করার। আমরা তিতলি ভলেন্টিয়ারের কাছে ১৫০০ টাকা দিয়েছিলাম। তিতলির কাজটা হলো মূলত লকডাউন এর ফলে কর্মহীন মানুষ এবং ফুটপাতবাসী ও ভবঘুরেদের দুই বেলা প্রায় শতাধিক মানুষের দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে এরা খাবারের আয়োজন করে চলেছেন।
মূলত সিউড়ি এলাকা জুড়ে এদের কাজ।
২.) বীরভূমের পাইকর নামে একটি গ্রামে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ব্লাস্ট হয়ে পুরো ঘর পুড়ে গিয়ে বাসস্থান এবং খাবারহীন হয়ে যায় একটি বাড়ি। আমরা তাদের কে কিছু খাবার দিয়েছিলাম । ৫০০ টাকা সাহায্য করতে পেরেছিলাম। ১০ কেজি চাল, এক কিলো তেল, সোয়াবিন তিন প্যাকেট আর লবন ১ প্যাকেট।
আলোর টিম বিপর্যয়টি পর্যবেক্ষণ করেছিলো নীচে ভিডিও দেওয়া হলো।
৩.) সৌম্যদীপ দা একটা NGO চালান সেখানে একটি বিশেষ রাখীবন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করে ছিলেন তিনি কোলাঘাটের কিছু বাচ্চাদের নিয়ে। তাতে ৫০০ টাকা সাহায্য করে সেই কাজের ভাগীদার হতে পেরে আমরা আনন্দিত। বিস্তারিত নীচের লিঙ্কে ক্লিক করলে জানতে পারবেন।
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2720162731593947&id=100008007406887
৪.) আলো ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থা এক সদ্যজাত বাচ্চার চোখের অপারেশনের জন্য ববস্থা গ্রহণ করে। আমরা তাদেরকে দিতে পেরেছিলাম ৩০০ টাকা মতো যা নীচে জানানো হলো।
৫.) ই-বুকটি প্রায় ৯০ পাতার কাছাকাছি হয়েছিলো তার জন্য শব্দলেখা প্রকাশনীকে আমরা দিয়েছিলাম ৬০০ টাকা।
আমাদের মোট খরচ ৩৪০০ টাকা























