নিজের লেখা কবিতা, নিবন্ধ, গল্প পাঠান হোয়াটসঅ্যাপ করে 7384324180 এই নম্বরে

শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৯

বেশ্যা না দেবী

নতুন স্যালারির মেসেজ টা মোবাইলে ঢুকতেই অর্ঘ্য একটু নড়েচড়ে বসলো। ব্যাঙ্গালোরে চাকরি করতে এসে জীবনের প্রথম স্যালারি । তাও আবার বেশ মোটা টাকা বোনাস । জলদি অফিস টা শেষ করে চলে গেল চার্চ স্ট্রিটের একটি বার কাম রেস্টুরেন্টে। বিয়ারের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে হটাৎ মনে পড়লো রোশনির কথা । নাঃ , মাথাটা ধরে যাচ্ছে । জলদি বিয়ারের গ্লাস টা শেষ করে বেরিয়ে পড়লো রাতের রোশনাই দেয়া কর্ণাটকের সবথেকে অভিজাত রাস্তায় রাতপরী দের ভিড় যেখানে সদাব্যস্তময়। হটাৎ দূর থেকে একজনকে আসতে দেখে একটু চমকে উঠলো অর্ঘ্য। কাছে এসে মেয়েটি বললো "যাবে নাকি ?"....অর্ঘ্যর গলাটা বুজে আসছে। না না বলতে গিয়ে হটাৎ রোশনির কথা, নেশা, ভালোবাসায় ধাক্কা সব মিলিয়ে অন্ধকার দেখে দাঁতে দাঁত চেপে বললো " চলো"।

দুঘন্টা বাদে , কোনো এক তিনতারা হোটেলের এক ঘরে দুজনের নিভৃত কথোপকথন

"তোমার নাম কি গো ?"
"সোফিয়া সাহেব , সোফিয়া পারভীন , তোমার কি ধর্ম গেল নাকি গো দাদা , জাত খোয়ালে তো নাকি একদম ", অট্টহাসি করে উঠলো বিপরীত নারীকণ্ঠ।
"কেন?কি পরিবর্তন দেখলে আমার মধ্যে", দৃঢ়স্বরে বলে উঠলো অর্ঘ্য।
সোফিয়া উত্তর দিল " বিধর্মী বেশ্যার সাথে একটা রাত কাটিয়ে দিলে, আর কিছু পরিবর্তন হয়নি ?"
পোশাক পরিবর্তন করে উঠে দাঁড়ালো অর্ঘ্য, আজকের দিনে থুড়ি রাতটা তাকে অনেক শিক্ষা দিলো , যাওয়ার আগে সোফিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়ে সে বলে উঠলো "যার সাথে সময়ে কাটানোর পর জাত, ধর্ম ,বর্ণ, অফিস, জীবন ও হতাশা চলে যায় তাকে বেশ্যা বলে না ম্যাডাম, তারা তাদের আদর্শ ও নৈতিকতার সাথে আপোষ করে না, বেশ্যা তাদের বলে যারা লোভ ও লালসার ফাঁদে পা দিয়ে নিজের 8 বছরের ভালোবাসা কে দুপায়ে মাড়িয়ে দিয়ে অধিক ক্ষমতা ও টাকার লোভে অফিসে বিবাহিত বসের হাত ধরতে দুবার ভাবে না, আর সেই খবর তার প্রেমিককে জানতে হয়ে তারই কোনো সিনিয়রের থেকে গোপনে । তাই একটু ভেবে নিও নিজেকে বেশ্যা বলবে নাকি বলবে একজন দেবী যে নিজের শরীর কে উৎসর্গ করেছে সমাজের কিছু প্রেমহীন মানুষের নিঃস্বঙ্গতা ও একাকিত্ব মেটাতে।"

সোফিয়ার চোখের কোলেও কি একটু জল এলো না তার ঘর ছাড়ার কারণ টা মনে পড়ে ,যেদিন বিয়ের অছিলায় ইমরান তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে বিক্রি করে দেয় এক নিষিদ্ধপল্লীতে, যেদিন থেকে তার কাছে ভালোবাসা কথাটার অর্থই হয়ে গেছিলো অন্ধকার, সেটা সময় বলুক।

শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৯

"হতে চাওয়া বনলতা"

চঞ্চল ভট্টাচার্য

শুধু তোমার এলো চুল অন্ধকার বিদিশার নিশার মতো করার প্রচেষ্টা এবং তোমার দেহ সৌষ্ঠব, তোমার মুখশ্রীকে শ্রাবস্তীর কারুকার্যের ন্যায় করে তুলে যদি ভাবো তুমি অরণ্যলতা হয়ে যাবে তবে ভুল ভাবছো।

পাখির নীড়ের মত চোখে যেদিন কোনো সুপ্রেমিক আশ্রয় খুঁজে পাবে, একটু শান্তি খুঁজে পাবে,
সেদিন তুমি বনলতা হওয়ার স্বপ্ন দেখো না হয়।

"প্রেমিক হওয়া কি এতই সহজ।

বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৯



আমি নারী
---------------
কলমে # সোনালী নাগ

সেদিন যখন এক মনে আকাশ দেখছিলাম,
তুমি কোথা থেকে মেঘের মাঝে হঠাৎ এলে,
ভেঙে পড়লে ঘন দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে,
আমার বুকে,
আমি দুর্বল, আমি শান্ত ওদের গল্পে,
আমাকে আমার মতো করে দেখে নি কেউ,
তাই আমি আমার যতো অস্থিরতা বুকের ভিতরে আটকে রেখেছি যুগান্ত ধরে,
একটু মাথা তুলেছি ওরা ভয়ে অস্থির, মাপতে চেয়েছে এককে,
নিজের উষ্ণ প্রবাহ তাই নিজেই জমিয়ে রেখেছি বুকের ভিতর,
এও কি গরলের চেয়ে কম?
তবুও তোমাদের গল্পে নীলকন্ঠ পুরুষের সমার্থক,
আকাশের বুক চিরে যখন যখন তুমি অশান্ত,
তখন এই আমিই বুক পেতে তোমাকে দিয়েছি আশ্রয়,
পুরুষকার যদি প্রলয় হয় তোমাকে ওরা অলংকার করেছে আর নাম দিয়েছে বজ্র,
কে আমি?
ধরো না হয় আমি এক অনামি এক নারী,

যদি ডাকতে চাও নিজের মতো একটা নাম দিও,
মেদিনী কিংবা প্রকৃতি ❣️
একটি ফ্লাশব্যাকমুখর কবিতা

• সৌমেন দাস

পুরনো খামের তহবিলে
বস্তাপচা যন্ত্রণা সব নীল হয়ে যায়
সোয়ালোপাখির মতো আনাগোনা করে স্মৃতির আর্কাইভ
মনমেরুদেশে শ্যাওলা জমে গেছে সে তো বহুদিন হল
ঘোর গৃহস্থ বয়সে তবু প্রেম ডানা ঝাপটায়
সবুজ যন্ত্রণা যত ছিল গোলাপি মুগ্ধতায় তারা মাঝে-মাঝেই লাঞ্চটেবিলে কথা কয়
স্মৃতিপিপিলিকার কামড় যে বড়ো মধুর লাগে আজ
মন-অ্যাকোয়ারিয়ামে ভেসে ওঠে,
প্রথম সেই কাছে আসা
প্রথম স্পর্শ আর
প্রথম শীৎকার…
অতি সাধারণ এক পুরুষ প্রেমিক
   ~~ দ্বৈপায়ন চ্যাটার্জী

তুমি সাধারণ,অতি সাধারণ,
গায়ে একটা একঢালা রঙের জামা,বেশ মার্জিত,
লোমশ হাতে অতি পুরোনো মডেল এর একটি ঘড়ি,
মায়ের মতো কেউ আঁচড়িয়ে দিয়েছে এমন চুল,
বেশ সাবলীল তুমি।
একটু লাজুক,মাঝে মাঝে একটু গম্ভীর।
পুরুষত্ব ছুঁয়ে যায় তোমার আনাচে কানাচে।
পূর্ণতা না পেলেও আমি বেশ ভালো আছি।
তোমাতেই ভালো আছি।
তোমার বিশ্বস্ত হাতের আঙ্গুল গুলো ধরে আমি চলতে অভ্যস্ত,
বেশ নিজেকে সর্বাঙ্গীন মনে হয়।
হয়তো তোমার রূপের ঝলক এ হাজার নারীরা ভিড় জমায়না,
হয়তো কেউ অসাধারণত্ব দেখে না তোমার চোখের গভীরে,
তবু আমি বেশ সুখী তোমাতেই,
তোমার জলীয় মননেই এ আত্মার তেজ ঢেলেছি,
মিলেমিশে একা কার হয়ে যাবে।
তুমি এরকম ই থেকো,শুধু আমার পুরুষ হয়ে,
তোমারই মধ্যে আমি নারীত্বের স্বাদ পাই।
কবিতা
    """ একটা ছেলে """
====================
একটা ছেলে--
আপন মনেই
গল্প লেখে
কথার পরে সাজায় কথা
জমানো ব‍্যথা,
টুকরো স্মৃতি
তুফান মাখা,
ডুব দিয়েছে
আনবে তুলে
যন্ত্রণারই শব্দ দিয়ে
অনুভুতির জাল সে বোনে।

একটা ছেলে--
ভীষন আবেগ
সুরেই মাতে
নিশুত রাতে
চাঁদের খোঁজে
রাতজাগা চোখ যায় যে নিয়ে
স্তব্ধ বিলাপ
অন‍্যখানে
আকুতি তার,
ভাঙা গীটার
জ‍্যোৎস্না ছোঁয়া রেলিং জানে ।

একটা ছেলে--
সব অভিমান
জমিয়ে রাখে
অন‍্য কোনো
চশমা কাঁচে,
সময় করে খবর খোঁজে
ঘড়ির কাঁটায়
সময় ছোটায়
তুমুল কাঁদে
অনুভবে তাকেই চেয়ে
পায়নি যাকে জীবনগানে।

একটা ছেলে--
মেঘ ডাকলে
অধীর জানে
আচমকা ঘুম
ভেঙেই কাতর
একটা গোলাপ পাগলপারা
বেড়ায় খুঁজে
খুব চেনা এক
হাতের ছোঁয়া
ইথার কণায়
ভরসা জাগায়
জেগেই থেকে অন‍্যকোনে ।

সেই ছেলেটা---
হাঁটছে শুধুই
নিজের ভেতর
ছবির রঙে বাউন্ডুলে
হলেও ভীষন স্পর্শকাতর।
কবিতার খাতা
অক্ষর যত
বানভাসি হয়,
যন্ত্রণারা গুমরে কাঁদে
হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠতে,
তবুও সে ঘর
আগলে রাখে
ঐ ছেলেটা গোপন হাতে
ওখানেই যে
বসতবাড়ি
ভালোবাসার---নীরবতা শব্দ শোনে ।।
                _________
                           ---- সন্দীপ ©
'বিক্রি'

বিদিশা নাথ

গলিতে গলিতে ক্ষুধার্ত শ্ব-দন্ত বের করে ঘোরে কিছু মানুষ(?)
লাল শাড়ি লিপস্টিকে ওরা পোকার মতো আটকে যায়।
ওদের নিম্নাঙ্গ প্রায়শই ফাঁকা ফানুস,
তবু খামচে ধরে মাংসপিন্ড ওরা দশ ফুট বাই বারো ফুট ঘর থেকে দেহ গিলে খায়।
পসার জমানো বেলফুল আর সন্ধ্যেবেলা খোঁয়াড় ভাঙা রোয়াকে বসে মাঝে মাঝে সত্যকামরূপী ওই সন্তানরা খদ্দের ধরে আনে,
"দুশো টাকায় শুধু ছোঁয়ার টিকিট দেব, পাঁচশো তে সব" এটুকু ওরাও জানে।
কালী ঠাকুরের পট,ফুল ছাপ বেডকভারের ভাঁজে
অসংখ্য কিছু গ্রাম থেকে 'কোলকেতে' ,সেখান থেকে দুবাই-এ বিক্রি হওয়া  স্বপ্নরা এখন ও বেঁচে,
নিষিদ্ধ হয় অক্সিজেন আর নিস্ফল দপদপানির মাঝেও,
লাল বেগুনি রেশমি শাড়ি মানুষ হওয়ার দাবি তোলে চেঁছে।
ভোরের আজান বিশ্ৰী লাগে কানে,
দরজা সপাটে বন্ধ হয় কেবল।
বিক্রিবাটা এরাতের মতো চুকে বুকে গেল,
ভাঙা দেহ টা এবার নিয়ে যেতে হবে টেনে।
আবার আসবে রাতের দোকান খুলে,
উঠবে নেশা নতুন রঙিন জলে।
বিক্রি হবে পোকার মতো মানুষ,
ভদ্রসমাজ কিনবে আগল খুলে ।

বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৯

EXCLUSIVE MADHUMITA















আমরা তো অনেক বিষয় এড়িয়ে যাই ... এটা নতুন বিষয় নয়.....  মধুমিতা চট্টোপাধ্যায় 



জলফড়িং ওয়েব ম্যাগাজিন থেকে আপনাকে প্রথমেই জানাই নমস্কার

মধুমিতা চট্টোপাধ্যায়ঃ- নমস্কার

১.) গান শেখার শুরু কি ছোটো থেকেই?

উঃ- হ্যাঁ প্রথম চার বছর বয়সে। বাড়িতেই আমার দাদুর কাছে  গান শেখা শুরু হয়।

২.) ছোটোবেলায় এরকম হয়েছে ধরো তোমার খুব ইচ্ছে করছে গান করতে অথচ তোমার প্রচুর পড়া(স্কুলের) আছে আজ।

উঃ-আমার যখন যেটা ইচ্ছে করে আমি সেটাই করি। আমার মনে আছে ছোটবেলা একবার অঙ্ক পরীক্ষার আগে আমি ফেলুদার গল্প পড়ছিলাম কিন্ত পড়া শেষ করে তবেই অঙ্ক নিয়ে বসতে পেরেছি। পড়া, কাজ জমে থাকলেও গান করি। ওটা আমার এনার্জি ব্রুস্টার

৩.) ঠিক কখন থেকে মনে হলো যে, না এবার গান লিখব এবং সুর দিয়ে সেটা মানুষকে শোনাতে পারব?

উঃ-আমার গান যে আদৌ কোনওদিন গাইব সেটা ভাবিনি। কিছু ঠিক করিনি মানুষ শুনেছেন, ভালবেসেছেন আমার অনেক প্রাপ্তি।

৪.) মধুমিতা চট্টোপাধ্যায়  একজন লেখিকা কারণ তিনি গান লেখেন আবার অন্য দিকে গানের সুর তৈরী করেন। তুমি কাকে এগিয়ে রাখবে লিখিকা হিসেবে তুমি নাকি কম্পোজার হিসেবে তুমি?

উঃ-গান ছাড়াও আমি লিখি। অনেক ছোট থেকেই। এটা আমার কাছে একটা থেরাপির মতো। কিন্তু আমার কাছে গান লেখা ও সুর করা অনেকটা মালা গাঁথার মতোই। দু'টো একসাথেই ঘটে। যদি আলাদা করে সুর বা অন্য কারোর সুরে লেখার সুযোগ পাই তাহলে ভেবে দেখব কাকে এগিয়ে রাখা যায় 😊

৫.) তোমার প্রথম গান যেটা মানুষ শুনেছিল অর্থাৎ প্রথম কাজ। তার নাম কি? কেমন ফিডব্যাক ছিল?

উঃ-তার ফিডব্যাক মন্দ নয়। যদিও সেটা যারা শুনেছেন তাঁরাই বললে বোঝা যাবে


৬.) "এইবার বুঝেছি সহজে" এখন এটা সবার মুখে মুখে ঘুরছে কমবেশি। এই যে এই পপুলার ব্যাপারটা তোমার কাছে কি রকম লাগে।

উঃ-বোঝ! গান ভাল লেগেছে সেটাই তো সবচেয়ে আনন্দের

৭.) যারা কবিতা লেখেন তারা কিন্তু লিরিক্স হিসেবে একটা গান লিখে দিতে পারবেন। এখন কথা হলো এই লিরিক্সটাকে সুর দিতে গেলে সেক্ষেত্রে লেখককে কিভাবে ভাবতে হয় বলে তোমার মনে হয়।

উঃ-কবিতা আর লিরিক্সের মধ্যে অনেক অমিল আছে সেটা যাঁরা লেখেন তাঁরা জানেন আমার আলাদা করে কিছু বলার নেই।



★[এইবারে তুমি এক দু কথায় উত্তর দেবে
ভাববে না বেশি]

১.) কবির সুমন না সলীল চৌধুরী?

উঃ- কবির সুমনের লিরিক, সলীল চৌধুরীর সুর ( যদি পাশাপাশি দুজনকে বসাতে হয়।)

২.) অঞ্জন দত্ত নাকি শিলাজিৎ মজুমদার?

উঃ- দুজনেই।


★[তোমার কেমন লাগে এক কথায় বলবে]

১.) চন্দ্রবিন্দু

উঃ- চন্দ্রবিন্দু মানে আমার ছোটবেলা স্কুল জীবন। ভীষণ নস্টালজিক

২.) কফিহাউস
উঃ- কফিহাউসের রবীন্দ্রনাথের ছবিটা আমার বরাবর খুব ইন্টারেস্টিং লাগে। বিশেষত সকালের দিকে যখন রোদ এসে পড়ে। আর প্রতিবার বেরোনোর সময় যে দাদু পত্রিকা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন এই দীর্ঘ বছরে উনিও কফি হাউসেরই একটা অঙ্গ হয়ে গেছেন

৩.) লগ্নজিতা
উঃ- লগ্নজিতার গায়কী স্বতন্ত্র । ওঁর গলার টোন আমার বেশ পছন্দের

★ তোমার চোখে কেমন তারা?

১.) অনুপম রায়
উঃ- অনুপম রায় একজন অসামান্য মানুষ নানা ভাবে এ আমার খুব প্রিয় একজন লেখক,
সুরকার ও সঙ্গীতপরিচালক।

২.) দেবদীপ মুখার্জী

উঃ- দেবদীপের সাথে ব্যক্তিগত ভাবে একবারই আলাপ হয়েছিল। তখনই গল্প করতে করতে উনি বলেছিলেন গানের জন্য চাকরি ছেড়েছেন। নিজের কাজের প্রতি ওঁর দৃঢ়তা খুবই উৎসাহ দেয়।

              

৮.) এবছরের তোমার নতুন একটা কাজ আসছে ফেসবুকে দেখতে পাচ্ছি। সেটা নিয়ে যদি একটু বলো।

উঃ- এটা আমার অন্যতম প্রিয় কবি ও সুরকার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গান। তাঁর লেখা ও সুর। সঙ্গীতায়োজন করেছেন মণিদীপা সিংহ। আর গেয়েছি আমি। মজার বিষয় হল আমরা প্রত্যেকেই নিজেরা গান লিখি ও সুর করি। যদিও সুদীপদা অনেক সিনিয়র। কিন্তু এই গানটা কোথাও গিয়ে আমাদের প্রত্যেকেরই গান হয়ে গেছে। বন্ধুরা মিলে একটা কাজ।

৯.) "এড়িয়ে যেতে হয় নিজেরই গরজে"। এইরকম একটা গান তুমি হঠাৎ লিখলে কেন?

উঃ- আমরা তো অনেক বিষয় এড়িয়ে যাই ... এটা নতুন বিষয় নয়। হয়তো গান গেয়ে কেউ বলেনি! আমি সুযোগটা কাজে লাগালাম ...

১০.) আচ্ছা অনেকের গানই কিন্তু ইউ টিউবে থাকে। যাদের গান বেশ ভালোই তা সত্বেও খুব কম জন পপুলার হয়। কোথাও কি মনে হয় তোমার যে পপুলার হতে লেগে মানে গানটা সবার কাছে ছড়াতে গেলে বিখ্যাত কারো না কারোর হাত দরকার।

উঃ- না সেটা মনে হয় না। অনেকেই ইন্ডিভিজুয়ালি কাজ করেন এবং তারা খুব ভাল করে নিজেদের কাজ প্রচারও করেন ও তাঁদের ভিউ বা লাইক শত সহস্র।


। পছন্দে-গায়িকা |

১.) প্রিয় খাবার
উঃ আলু পোস্ত ও বিরিয়ানি। দুটো এক সাথে নয় কিন্তু

২.) প্রিয় পোশাক
উঃ রাত পোশাক

৩.) প্রিয় ঋতু
উঃ গ্রীষ্ম

৪.) প্রিয় অভিনেতা, গায়ক, গানের নাম
উঃ প্রিয় গান, গায়ক অভিনেতা অনেক আছে

৫.) তোমার কাছে তোমার মা
উঃ মা আমার কাছে আমার প্রিয় বন্ধু

৬.) রাতের তারা প্রিয় নাকি নাইট ল্যাম্পের আলো?
উঃ রাতের তারা ও ল্যাম্পপোস্ট দুটোই প্রিয়

৭.) প্রিয় কবি
উঃ প্রিয় কবি অনেকেই আছেন তবু যদি একটি নাম বেছে নিতে হয় তাহলে ভাস্কর চক্রবর্তী

৮.) প্রিয় ফেসবুক কবি ( যিনি প্রতিষ্ঠিত নন)

উঃ কবি তো কবি তার আবার ফেসবুক কি টুইটার কিসের?
আমার অনেক বন্ধু বা সমসাময়িক আছেন যাঁদের কবিতা নিয়মিত পড়ি। এরকম অনেকেই আছেন। আবার অনেকেই আছেন যাঁরা ফেসবুকে কবিতা দেন না কিন্তু তাদের কবিতা পড়ি।

                   ---------------------------

[ গায়িকা মধুমিতা চট্টোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জলফড়িং ওয়েব ম্যাগাজিনের ইন্টারভিউ সেকশন এডিটর সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন) ]










লোভ:
জয়ীতা চ্যাটার্জী

খাঁটি সোনা দিয়ে নাকি গয়না হয়না, তাই গয়না হওয়ার লোভে রক্তে মেশালাম কিছু খাদ।
নিজের অলঙ্কারে অলঙ্কৃত করবো অন্যদের এই ছিল জীবনের সাধ।
আয়োজন শুরু হল মূল্যহীন থেকে মূল্যবান হয়ে ওঠার, জানা ছিল না কতটা অনুপাত।
যেমন বসন্তে বর্ষা মিশে গেলে হারিয়ে যায় প্রেম,
তেমনি সস্তা আবর্জনা মিশতে মিশতে পরে রইল শুধু খাদ।
দাঁড়িয়ে ছিলাম সোজা অক্ষরের মতো,
 নিমেষে তাকিয়ে দেখি পাল্টেছে শব্দের মানে।
পায়ের তলায় থেকে সরে গেছে হসন্ত
 এখন আর চিনতে পারি না নিজেকে ,
না পারে চিনতে ওরা আমাকে।
তবু তো রক্ত আজও লাল কৃষ্ণচূড়ার রঙে,
মানুষ হয়েই বেঁচে আছি নকল পোশাকের ঢঙে।
মূল্যবান হওয়ার ছলে অমূল্য হওয়া হল না।
তোমার হিংস্র বিশ্বাসকে বাঁচিয়ে রাখি,
 মানুষ আমায় বলো না।।
বেচারা ফেস্টুন
বিকাশ দাস (বিল্টু )
(01-04-19)

ফেস্টুন  আজ গুলি খায়, ফেস্টুন পাথর খায়

গলির মোড়ে, লটারি কাউন্টারে পাশে বড়ো বড়ো লেখা ফেস্টুনের গায়ে ভোট দিন, ভোট দিন....
চোখ তো পড়বেই, পড়বেই বা না  কেন? চোখ তো আছে চোখের উপরে চোখ

ফেস্টুন বৃষ্টিতে ভিজে, লেখা আবছায়া হয়ে প্রতীক বিবর্ন  হয়, মাটিতে মিশে অজৈব উপাদানের তকমা জোটে

বসির বিছানায় হিসু করে, ছোট ছেলে ।বৃষ্টি খুব। তোষক স্যাঁতস্যাতে --
বসিররের উলঙ্গ শরীর ফেস্টুনের  উপরে

মাথা গোঁজার স্থান যাও ছিল তাও নিলো কেড়ে কালবৈশাখীর  ঝরে
নেতাদের প্রতিশ্রুতিতে জল তো বিশুর ঘরে পড়ে না ? বিশু মিছিলে যায়, লাইনে দাঁড়ায়...
নেতা মন্ত্রী হয়ে বস্ত্রদান  শিবিরের  ভাষণ দেয়, ট্রিপলটা  খুব ফুটো আর চলেনা....

বসির হাঁটতে পারে, কথা বলে

বসির ভাষণ শোনে, ফেস্টুন দেখে, নেতার ছবিটা অনেক বড়ো
ওটা যদি ঘরের ছাদ হতো !

ফেস্টুনের কি রমরমা, লোহার বেড়িতে আবৃত
তবুও ফেস্টুন পাথর খায়,আঠাতে  লেপ্টে থেকে চোখ রাঙানি দেখে

   


সবুজ রঙের মেয়ে
অরূপ ।

ছুটির দিনে উদাস মনে কেমন থাকে সে ?
মেঘের পড়ায় ভর দুপুরে গল্প বলে কে?
মন খারাপের রাস্তা ধরে সে কবেই গেছে হেটে,
খূঁজছ নাকি তাকে আবার পুরনো রাস্তা ধরে ?
দামাল সে শান্ত তবু হাওয়ার দিকে ছোটে ,
আছে তার এক আকাশ  প্রতিশ্রুতি;
সে শুকতারা নাকি কালপুরুষ  কেউ কি তা জানে?

সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০১৯

শিল্পী তোমাকে কুর্নিশ



         

প্রেমের খোঁজে একলা যুবক
পেরিয়ে গেছে কলেজ,সময়
এখন শুুধু প্রতীক্ষা রাত বিলম্বিত।

     


এমন সময় হঠাৎ করে
এক অপরিচিত অপরিচিতা
একলা দু'জন, আলাপ হলো।

       
কাটল কদিন,বললো কথা
আজকে তারা ঘুরতে যাবে
বেশ কিছুদূর নির্জনতায়........

         



ক্লান্ত প্রেমিক আরাম খুঁজে
ভরসা কোলে শীতল মাথা নামিয়ে দিল।

       


নামল যখন সন্ধ্যে তারা
এবার তাদের ফিরতে হবে
দু-পাশ থেকে সময় তাদের
দিচ্ছে তাড়া।

           
বলেই দিল আজকে ছেলে
তোমায় ভীষণ ভালোইবাসি
যেমন বাসে জোনাকি পোকা
রাতের বেলা।

       



অনেক দিন আলাপ পরে
এবার তাদের অনেক কাছে
চাইছে তারা-----
চারটে চোখেই একই সময় সন্ধ্যে নামুক।

             
   
আজকে তারা ভীষণ রকম নিজের দু'জন
রাঙিয়ে সিঁথি সাজিয়ে নিল এক-ছাদ-ঘর।

         


   
আজকে দু'জন আত্মগামী
জড়িয়ে ধরা স্বপ্নবিলাস
একজন বউ, ও'জন স্বামী।

               



জ্বরের গায়ে থার্মোমিটার বিফল হলে
কোলেই প্রিয় ঘুমিয়ে পরে শান্ত হয়ে।
ঠিক যতটা মায়ের মতো! তুমিও ভালো!!

           


একটা হেঁসেল, খুনসুটি হয় খুন্তি-কড়াই
তবুও মেয়ে,কম্প্রোমাইজ
গাল টিপে দেয়।

               
এইরকমই কয়েক বছর কাটল তাদের খুনসুটি মন
আজকে শ্যামের বাঁশির আওয়াজ উতাল করে রাধার মনে।

           

অনেক কাছে দু'জন শরীর
চুম্বনেরা শব্দহীনা

                   



থেকে গেছে সেই ঘাম মিশে যাওয়া গন্ধ তোমার চুলের
বালিশ বুঝেও করেনি নালিশ শেষ মিনিটের ভুলের!


                     

হঠাৎ যখন কষ্ট মেয়ের, কাঁধ পেতে দেয় প্রেমিক শরীর
মনখারাপের সঙ্গী হতে কোল পেতে দেয় সঙ্গীনি যার
সেই দু'জনই আসল বোঝে সম্পর্কের সঠিক মানে
আর কম্প্রোমাইজ টিকিয়ে রাখে বোঝাপড়া নিজস্বতার।
                


===========================
                         বিবরণ
===========================

এখানে ব্যবহৃত সমস্ত ছবি আপনার-আমার সবার প্রিয় শিল্পী রিয়া দাসের আঁকা।
এই অসাধারণ সৃষ্টি গুলিকে যখন রিয়া দেবী নিজের মনে একটা ভাবনা স্থির রেখে ছবিরূপ দেন এবং পরেই তা দর্শকদের জন্য বিলিয়ে দেন ফেসবুকে ঠিক তখনই এই বাস্তব ছবি গুলোকে দর্শক নিজের মতো করে একটা ভাবনায় ডুবিয়ে দেয় বা ডোবানোর চেষ্টা করে।

জলফড়িং ওয়েব ম্যাগাজিন এই প্রোজেক্টে দেখাল যে, কিভাবে শিল্পীর সৃষ্টি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে গিয়ে গেঁথে যাচ্ছে তাদের মনে, যার খোঁজ শিল্পীও সবসময় পাচ্ছে না বা পায় না।
অথচ একজন শিল্পীর সার্থকতা তখনই, যখন তার সৃষ্টিকলা অন্য কোনো মনকে নাড়িয়ে তুলছে।

জলফড়িং ওয়েব ম্যাগাজিন এই ছবিগুলো দিয়ে একটা স্বচ্ছ প্রেম, একটা ছোট্টো সংসার আর কতগুলো নিজস্ব বোঝাপড়া যা একটা সাংসারিক সুস্থতা বজায় রাখতে সচেষ্ট, সেটাকেই তুলে ধরেছে।

আপনাদের কেমন লাগলো সেটা আপনারা মন্তব্য (ব্লগে) করে বলুন।
আর সেই সঙ্গে ভালোবাসার শিল্পী রিয়া দাসকে জানাই কুর্ণিশ।

[ কলমেঃ- জলফড়িং ইন্টারভিউ সেকশন  এডিটর সুদীপ্ত সেন(ডট.পেন) ]



#শেষ_থেকে_শুরু
#মুনমুন_মুখার্জ্জী
সকলের মাঝে একলাটি হয়েও আজও হারাই নি ধৈর্য নিজের,
এখনও দিতে পারি নতুন উপহার, চায় যদি তোমার নাও না খুঁজে--
নদী হতে নাই বা পারি, খাল হয়ে সেচ দেব তোমার মনে,
নতুন রূপে তুমি হবে মোহময়, আমিও মাতবো নতুন সাজে।

ফিরবে আবার ঘাস, লতা, পাতা যদি রাখো তুমি এই হাতে হাত,
আকাশে বাতাসে হবে কলরব, কোকিল গাইবে বসন্তের রাগ।
হয়তো আবার মাথা উঁচু করে সবার মাঝে গাইব গান,
নতুন ছন্দ, নতুন তালে মিলবে আমাদের রাগ অনুরাগ।
//প্রেম_অপ্রেমের গল্প//

ট্রাম লাইন ধরে হেঁটে যাওয়া বিকেল গুলো স্মৃতির পাতায় জমা,
সেই যে আমাদের প্রথম দেখা মনে পরে রমা?
পরনে তোর সাদা সালোয়ার, এলোকেশে অপরূপা,
কুয়াশায় ভিজে যেত আস্তিন,
গলার স্বরে অভিমানী সুর,
বেশ ভালোই মানাতো;
ইচ্ছে হতো হাত ধরবো,
আঙুলে আঙুল ছুঁইয়ে দিয়ে হেঁটে যাবো বহুদূর।
চেনা অচেনার গল্পগুলো থামিয়ে দিয়ে,
ব্যস্ত থাকবো শুধু এক মুঠো অভিমান নিয়ে।
রাঙা চোখে ঠোঁট ফুলিয়ে থাকা মেয়েটা,
কবে যে বদলে গেলি!
পাড়ার মোড়ে ঝালমুড়ি দেখে গলে যাওয়া অভিমানগুলো,
কবে যে লাল হয়েছিল,
টেরই পাইনি!!

তারপর, কত খুঁজেছি
লিখেছি কত-শত কথা তোর ঠিকানায়,
তবে তারাও আজ যাযাবর জানিস, 
খোলা আকাশে আজও উড়ে বেড়ায়,
আর বয়ে নিয়ে যায় আমাদের সেই
প্রেম অপ্রেমের গল্পকে..

প্রাচীন প্রেমের সংকেত আবার পিছুটানে নিয়ে যায়,
অতীত প্রেমের স্মৃতিচারণ করতে করতে
               নতুন করে তোকে আবার যেন খুঁজে পাই।
কল্পনাতে দাঁড়িয়ে থাকি ছ্যাৎলা পরা সেই খেয়াঘাটের পারে,
যে মনে বসন্তের আধিপত্য ছিল,
                       সেই মনে আজ হেমন্ত দোলে অন্ধকারে..

                   সময়ের ডাকে বারে বারে
                   মনের কারবারে
               প্রেম অপ্রেমের গল্প রোজ মনে পড়ে..

                                                    __শিল্পা মন্ডল

স্পর্শ - লেখা
************
অসম্ভবভাবে ছুঁতে চাইছি তোকে
না , দৃষ্টিতে নয় ,নয় স্পর্শের আতিশয্যে
একান্ত অনুভবে ,বিনা বাক্যব্যয়ে।
দুরত্বেও ছুঁয়ে থাকা যায়।

কোনো প্রমাণের সীমারেখা চায়না মন,
অতিরিক্ত প্রকাশের শব্দক্ষরণ আজ অবান্তর।
তোর সাথে বসবাসের জন্য তোর তোকে খুঁজে পাই~
দিনের শুরু কিম্বা শেষের প্রতিটি উত্থান আর অবক্ষয়ে।।

মনের ভেতর যে মনন থাকে !
তার গলা টিপে হত্যা অসম্ভব~
সে জানে প্রতিনিয়ত বাঁচার জন্য ,
আজ তোর স্মৃতিরা ভীষণ আবশ্যিক।।
তাই অযাচিত উপেক্ষাদের জমিয়ে রাখিস !!
একদিন বদলে দেবো ঠিক
সময়ের গৈরিক পদচারণায়
অন্য ভোরের কাঙিক্ষত অধ্যায়ে ।।

.....................................©তন্মনা



যদি ভাবো
------
যদি ভাবো আমায় কষ্ট দিলে,
তোমার ভালো থাকা হবে।
তবে দিও, অনিঃশেষে তাই ই..
বুক ভরে নিয়ে যাবো আমৃত্যু।

যদি ভাবো আমাকে অবহেলে,
তুমি খুঁজে পাবে অপার সুখ।
তবে, তাই কোরো নির্দ্বিধায়..
তবুও, চেয়ে থাকবো তোমার পথেই।

যদি ভাবো, একটুও কথা বলবে না,
তাতে তোমার অনেকটা লাভ হবে।
তবে, চুপ করেই থেকো আজীবন..
 তবুও,  শোনার জন্যই  কান পেতে থাকবো।

যদি ভাবো, তোমার এতো চেষ্টায়,
একদিন আমি চলে যাবো ঠিক।
হ্যাঁ, চলে হয়তো যাবো...
তবে সেই দিনটাই হবে, জীবনের শেষদিন।
     *******
  পাপিয়া মণ্ডল

রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৯

উন্মচন
অরূপ ।

মনের ভেতর কত যে দেরাজ ।
যেনো কোনো হাজার দুয়ার;
কোনটা যে মুখ কোনটা মুখোশ, তা চিনতেই সময় শেষ।
অনেক ই আছে স্মৃতির ফলক,কোথাও আবার  বিস্ফরোক।
কাছের তুমি ভাবছ যাকে , মেপে দেখো সে কতো টা কাছে,

দাঁড়ায় সবাই হাসি মুখে , কার কতো হসি আছে ?
পলি পড়েছে মনের মাঝে,সবাই তো ধোয়া ই দেখে,
মৃতদেহ পড়ে আছে;শহরের ঐ প্রান্ত শেষে;
পোড়া দগদগে ঘা এর গন্ধ আসে।
অন্তর দিয়ে যে সম্পর্ক ভাবে, গল্প শেষে সেই তো ফ্যাকাশে ।

শ্রীজিত্ দাদার  ভিঞ্চি দা সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত

শনিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৯

জন্ম বৃত্তান্ত ।

অরূপ ।

দুটি নদী কবে কার প্রাক যুগে সংগমিত হয়েছিল।
তারপর বয়ে গেছে নীলনদ পৃথিবীর বুক চিরে।
সভ্যতার হয়েছে উত্থান আবার আছে পতন ও
গর্ভে চলে গেছে কত কংক্রিটে কঙ্কাল,
সেই গর্ভে ই শায়িত আছে মহাকাল,

পলি পড়ে পুরু হওয়া গর্ভে কোনো আন্দলন নেই
তবু আছে সম্ভাবনা, সাদা রঙের আলোর আসবে এক সৃষ্টি।
তারায় তারায় স্পর্ধিত  পা ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে সময় ।
জেগে ওঠা আগ্নেয় গীরির মত ফুড়ে বেরবে নবযুগ ।

বুধবার, ২৭ মার্চ, ২০১৯

GOOGLE ISSUE


কবি পাপিয়া মণ্ডল ২১ শে ডিসেম্বর ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বৈবাহিক সূত্রে তিনি বোলপুর শান্তিনিকেতনে বসবাস করেন । তিনি ইংরাজী সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। খুব সাধারণ আর সাধারণ হয়েই থাকতে চান লেখিকা। বিভিন্ন লিটিল ম্যাগাজিনের নিয়মিত লেখেন।
প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ :-- কালো মেয়ের উপাখ্যান। (২০১৯ কোলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা)।

মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০১৯

GOOGLE ISSUE


লেখিকা সুজাতা মিশ্র, সুজান মিঠি নামে লিখতে ভালোবাসেন। 
লেখার শুরু ছোট থেকে হলেও পারিপার্শ্বিক চাপে থমকে গিয়েছিল তা মাঝখানে কিন্তু ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার শুরু করেছেন তিনি।  লেখিকা কবিতা-গল্প-নাটকে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। বর্তমানে বিদেহী প্রেম এবং শততন্ত্রী নামে দুটি গল্প ও কাব্যের বই বেরিয়েছে তাঁর।
সারা বাংলা স্ক্রিনশট ফেস্টিভ্যালে তাঁর লেখা গল্প তৃতীয় স্থান পেয়েছে।
তার লেখা কবিতা-গল্প বেশ কিছু পত্র পত্রিকায় স্থান পেয়েছে এবং পাচ্ছে।

শুক্রবার, ২২ মার্চ, ২০১৯

এখানে বসন্ত নীল

হিরেফুল কানের লতিতে, রাধিকার কদম ভূষণ !
কলাপাতা শাড়িটির পাড় ছুঁয়ে – তিরতিরে নদী। মোহনবাঁশিটি হাতে নীল ছেলে, বাঁধের ওপর
ডাক দিলে ;
ভেসে যাবো আজও !
গুঁড়ো ঢেউ চাঁদের আলোয়,
সাঁতারু স্বপ্ন খেলে যায় ―

যে বসন্ত আসেনি কখনো,
তার নীল রাতমোহনায়...

পারমিতা ভট্টাচার্য ।

রাত্রির তলপেটে
উজান উপাধ্যায়

আমার বৃষ্টির কাছে দাঁড়িও না এসে
আমার দুঃখের কাছে হাঁটু মুড়ে বসোনা কিছুতে
আমার কবরের পাশে বসে তোমার দুচোখে জল এলে
পাক্কা মরে যাবো

মেঘেদের শরীর খুব বেশি খারাপ হলেও
হাওয়াদের ভিতরে গাছের ঋতুস্রাবে
যদি খুব তৃষ্ণার্ত হয় কবরের উপরে ছড়ানো শুকনো অলিভ

যদি খুব বেশি সবুজের ছোঁয়া লেগে ছটফট করে ওঠে শ্মশানের ছাই

নগরের ল্যাম্পপোস্ট বেয়ে রাত্রির তলপেটে গড়িয়েছে কামুক নিয়ন, খুব বেশি নেশাতুর
হয়োনা তখনও

বৃষ্টির খুব কাছে দাঁড়িও না যেন
ঘাসের উপরে নীল সাঁকো বেঁধে
যদি ভাবো ফিরিয়ে আনবে নকল তাজমহল

খবরদার আসলটায় বাদামের খোসা, পুরনো চিঠির খোপকাটা ঘর, উল কাঁটা-
তোমার সমস্ত ভুল আর একটি সিগারেট
তোমার সমস্ত প্রতিজ্ঞা আর নগ্নতার গোপন ফটোগ্রাফ
এদের বেমালুম হাইড্রেনে ফেলে আসবার কথা
ঘোড়সওয়ার রাত্রির কাছে বলতে যেওনা

এখন চুপটি করে নিজেকে স্নান করিয়ে
চন্দন গন্ধ মেখেছো হৃদয়ে

এবার নিশ্চিত দেখো
তোমার বোতাম গুলো পটপট করে খুলে যাচ্ছে

দূরে সঙ্গমের চোখ খোলা আছে নাগরিক একটি রূপসী মেয়ের টসটসে পাহাড়ি মুদ্রায়

মরে যেতে গেলে নাও মানতে পারো
ওপরের একটি নিয়মও


#প্রেম_অপ্রেম
#নম্রতা_নাহা

রূপকথার চিরায়ত সুখে থাকাথেকে

রবিঠাকুরের ছোটো গল্প বেঁয়ে

মন হঠাৎ উদাস যখন

শেষের কবিতার অমিত, লাবণ্যতে.....

ঠিক তখনি প্রেম আসে

সরস্বতী পুজোর প্যান্ডেলে অঞ্জলীর ফাঁকে.....

প্রেম তখন ফ্রক পরা ত্রয়োদশীরমন কাঁপায়....

প্রেম তখন গোলাপি জ্যাকেটে গ্রীসিয়ান ছাঁদের পাড়াতুতো দাদায়,

প্রেম তখন নিছকই মোহময় কিছু ভাবাবেগ

হঠাৎ এসে হঠাৎই চলে যাওয়া যেন শরতের মেঘ,

তারপর ...... আসে সেই কাব্যময় সন্ধ্যে ,

প্রেম এসে দাঁড়ায় লজ্জ্যাহীন

বলে ওঠে তোমার মতো কেউ চোখে পরে নি কোনোদিন

.......আর তারপর ...

আবারও আসে প্রেম পাগল হাওয়ায় দ্বিধাহীন

ওলোট পালট উথাল পাথাল আনন্দময় নিত্যদিন

......সেরমই সে চলেও যায় দীর্ণ হৃদয় ছাওয়া দীর্ঘশ্বাসের ভার ফেলে

প্রেম যেন তখন পাখি , সুদূর আকাশে দেয় ডানা মেলে ...

প্রেম আসে যায় .....নিরুচ্চার তার ভঙ্গি

পথের বাঁকে খুঁজে নেয় পথ চলার সঙ্গী

কখনো প্রেম হাত ধরে হাঁটে নন্দন চত্বরে ...

কখনো গঙ্গার পাড়ে হাওয়া খায় হঠাৎ পাওয়া অবকাশে ..

একই আইসক্রিমে কামড় বসিয়ে আপ্লুত প্রেম বলে ওঠে

“তোমায় দিলাম আমার হৃদয় ”

সেই প্রেমই হাত ছাড়ায় ভীষণ রকম নির্দ্দ্বিধায় ....

প্রেম এরপর ঘরণী হয়ে গড়ে তোলে সংসার ,

বানিয়ে দেয় টিফিন, খুঁজে দেয় রুমাল, বুনে দেয় সোয়েটার...

হাসি, গল্পেই কেটে যায় কিছু দিন ...

ঝগড়া, খুনসুটিতে, প্রেম তখন অনেকটাই সাবলীল

সেই প্রেমও এসে দাঁড়ায় মাসের হিসেবের খাতায়

একই শয্যায় রাত্রি যাপন, কিছু চাওয়া কিছু না পাওয়ায়....

প্রেম তবু চিরায়ত ...এটাই সত্যি

খুঁজতে যেয়ো না তার সত্বা..দেখবে সবটাই অপ্রেমে ভর্তি ...

প্রেমে ভালো থেকো, ভালো রেখো.....সেটাই পরিশেষ

সেটাই বেঁচে থাকা

ভাবো না কেন ?

এই তো আছি বেশ !


অবনী
স্নেহা সরকার
পাহারে এখন শীত কাঁথা মুড়ি দিয়ে মিশে গেছে পাইন বনের ধারে,,, তোমার জন্য নুন জলের স্রোত আমি গুনে রেখেছিলাম ঝড়নার কাছ থেকে ধার করে।,,, বছর ২ এক আগে বসন্তে সিথি রাঙিয়ে দেওয়া আবির এর লাল কালচে ডগায় মুছে গিয়েছে।। পাহারে এখন রোদ্দুর আসার সময় কুয়াশার পাশে মুখ রাখলে তোমাকে আবার  করে মনে করতে ইচ্ছে করে,,
অরনি,,
ভোর বেলার কুরিয়ে দেওয়া পলাশ ফুলের মালাটা খুজে পেয়েছি গতো রাত্রে।।  তুমি চলে যাওয়ার পর ওটা তুলে রেখেছিলাম আজ যেনো তা বসন্তবিলাপ হয়ে ওঠে অভ্যন্তরীণ চাহিদার মতোন।। প্রিয় মানুষের ফেলে যাওয়া স্মৃতি গুলোকে পুড়িয়ে ফেলতে পারলেও চোখের সামনে দিয়ে ছুড়ে ফেলতে কেউ পারেনা।।
পাহারি মেয়ে গুলোর হাত ধরে বসন্তের বিহু আমায় নাচিছে,  কোকিল এর কলরব কিংম্বা, পাহারের গায়ে নুয়ে পরা রোদ্দুর আমি প্রেমে পড়েছিলাম বার বার।।
তবুও জানো
অরনি,,
তোমার মতো করে এমন ভালো কেউ বাসেনি।
তাই হয়তো ছেড়ে যাওয়ার পরে আমার মনে বসন্ত আর আসেনি।।
কাব্যিক হোরিখেলা
জয়দীপ রায়
দূর দেশ হয়ে ফিরে আসা
মেঘ গুলোর বুক চিরে
এক আলসেমি রোদ জেঁকে বসেছে
বহু দিনের আড়ি করে দেওয়া সিঁড়িটার বুকে

এক বিস্তীর্ন ব্যবধান মুছে যাওয়া রঙ
কেঁদে ওঠা মাঝরাতের আয়না
তোমার মনে পড়ে রোদ
মনে পড়ে রঙ যে আমার বারন
নিষেধ সিঁড়ি গুলোতে চড়া
দোতারার সুরে পা মেলাবে সকাল
একলা দুপুর খু্ঁজবে তখন ঘর
খুঁজে নেবে রঙ পৃষ্ঠা নম্বর ঘেঁটে
থাকবে মাঝে রঙ রাঙিয়ে যাওয়া আকাশ
খুঁজে নেবো রঙিন পাঞ্জাবীটাও
কাব্যিক হোরিখেলায়।

বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০১৯




নৈশ উলগুলান ।

অরূপ ।


ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদ ঘোমটা টেনে দাঁড়িয়েছে,

শেষ রাতে পেঁচার ডাক মন খারাপের সুর দিয়ে যায় ।

আধো আলো আধো অন্ধকারে মায়াময় গল্প বলে হাওয়া ।

জেগে ওঠে কবেকার সেই না পাওয়ার হাহাকার,

সীমান্তে কবে থেকে পড়ে থাকা  আবেগ; অবহেলায় পোড়ে থাকে  ধুলো মেখে,

ব্যস্ত সভ্যতার  তির্যক ভঙ্গি সহ্য করে তারা ।

সকলের রোদ লেগে মূর্ত হয় আবেগেরা,

পুরোনো সময়ের জীর্ণতা ঢাকে নতুনের আহ্বাণ

শুরু।
#আলোকলতা'র গর্ভপাতের পর
-------------------সুদীপ্ত সেন

গায়ে তোর নাম লিখে যাবো
ভেবেছিল সেই পিতামাতা।

তাই তারা কাছে আসে রোজ
শরীরে ভালোবাসা পাতা।

তবু তাও গুমরয় মেঘ
দিন গেলে ফিরে যেতে চায়

কি এমন ঘটে গেল তাদের
পাশে নেই ঘুম বিছানায়।

একদিন ফিরে গেল মেয়ে
মন বসে ভাঙা শশ্মানে।

ছেলে বলে কেন গেলে তুমি
উত্তরে ভালো থাকা নেই।

দমকানো হাওয়া এসে বলে
তুমি ছিলে পেয়েছিলে কাকে

ও'তো আগে দুমরানো ছিল
ভালোবেসে ছিল আগে যাকে।

তাই পরে ঠিক হলো তারা
নাম খানা ফেলে পিতামাতা

এটা তো তুমি চেয়েছিলে, আমি চাই--
আলোকের গায়ে দিও লতা।
বিচ্ছিন্ন


বীতশোকগ্রস্থ জীবন.......সবারই
একে 'জীবন ' বলা কেন?
কেন স্থবিরতা নয়?
মৃত মেঘের সাদা পালকের ডানায় ভাসমান জীবন-----
এ কি স্থবির নয়?
বড় নিঃসঙ্গ আর একাকী নয়?
শিশিরস্নাত জোনাকির মত.....

নাগরিক যন্ত্রণাই তো আসলে বিচ্ছিন্নতা----
ছেঁড়া চিত্রকল্পের মতো,যার কাটা হাত....
একটা কাশ্মীরে তো অন্যটা আন্দামানে
পরস্পর স্পর্শহীন,স্পর্শকাতরতাহীন আর বিচ্ছিন্ন।
বন্ধ্যা হৃদয় তবে কিভাবে বাঁচবে?
কতটা বিষ সেবনে আরো---
আরো---আরো-----আরো----
বিষ ভোক্তা নীলকন্ঠ হবে......
অনন্ত অন্ধকারের কাছে,
নীরবে নীরবে ঢলে পরবে---
চিরকালীন প্রশান্তির কাছে........


 ...............  -------------------- অর্ঘ্য কমল পাত্র
স্ফুলিঙ্গ
স্নেহা সরকার
অনেকটা বিপত্তি পেড়িয়ে একটা চারাগাছ মাটি ফুরে সবে বেড়ল , কেউ যত্ন করে টবে সাজায়নি,বা উচ্চফলনশীলতার আশায় সার দেয় নি গাছে তবুও সে সবার আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ফুটে উঠেছে।  ঠিক তোমার মতোন, যেমন করে প্রতি মুহূর্তে তোমাকে ভেঙে পড়তে হয়, কখনো তোমার কদাকার চেহারার কাছে বা, অর্থ গতির হীনমন্যতায়। তবুও কখনো, বন্ধু বা পরিবার শুধু বেঁচে থাকার সান্তনা দিচ্ছে বা প্রধান প্রামাণ্যে কিছু সংকীর্ণ মনের দয়া।। সকাল বিকেল সমাজ তোমার নিরহতার ওপর পাথর চাপিয়ে চলেছে তুমি মেনে নিচ্ছ তবুও,,,। তোমার মনের প্রতিবাদ থাকলেও মুখে একটা শ্লদ অবুর্দ আছে,, হয়তো সেখানেই প্রতিবাদের বারুদ টা  জলে ডুবে ড্যাম ধরে গেছে।। বার বার তোমার না পারা গুলো দুর্বলতার মতো অসামান্য বা সামান্য কে ছাড়িয়ে হয়েছে নিকৃষ্ট,, ঠিক ওই গাছ টার মতো।।।

তবুও,
  তুমি বেঁচে ওঠো মাটি ফুরে আবার জন্ম নাও,  যেভাবে সবার অমতেও গাছ টা উঠে দাঁড়িয়েছে নিজের জন্য।।  এতো দিনে গাছটাতে অনেক ফুল হয়েছে,,  শক্ত কিছু ডাল পালাও।। আর যারা তোমাকে একদিন নিচু করে তুলতো তারা এখন গাছ টার নিচে বসে থাকে ছায়া পেতে।।।
প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির খতিয়ান
---------------------------------
সোনালী নাগ


যদি বলি ওর কপালে লাল টিপ ছিলো না বলে আমার মন খারাপ হতো কতবার
যদি বলি ঘরের এক কোণে বসে, পাশের খালি চেয়ারটা তে ওর বসার অপেক্ষা করেছি কতো হাজার বার
যদি বলি কিশোর প্রেমের স্বপ্নের নায়িকাকে হটাৎ সহকর্মী হিসাবে মেনে নেওয়া সহজ ছিলো না সেদিন,
যদি বলি তার বৈধব্য সাজ আমাকে তোলপাড় করেছিলো ভিতর থেকে,
আটকে গেছিলাম কোথায় জানো, আমার সহধর্মীণীর কপালের গণগণ লাল আভাতে,
যদি বলি সেদিন রাত জেগেছিলাম, মন আর মস্তিষ্কের বিরোধিতা খুঁজেছিল, ভালোবাসা নাকি বৈধতা,
এগিয়ে এসে হাত টা ধরতে পারি নি বলেই হয়তো ছায়া সঙ্গী হয়ে হেঁটে গেছি করিডোর.
ভাগ্যের হাতে পরাজিত সৈনিক হিসেবে, ভাগ্যের সাথেই লরেছি আপামর.
তোমরা সেদিন ফিসফিস করে বলেছিলে কথা, কতো উপহাস সেদিন, কতো কবিতা,
নিরবতা ভেঙে প্রতিবাদ জেনো তা শুধু তোমাদের পোশাকি প্রেমের বিরুদ্ধে,
বুঝিয়ে দিতে চাই কতটা অসহায় তোমার প্রেম হিসাব নিকাশের খতিয়ান এ, ঠিক কতটা প্রেমিক তুমি ব্যর্থ,
কতটা তোমার সাজানো প্রেমের ব্যর্থতা!!

কাজের ফাঁকে চোখের ইশারায় শুধুই টিফিন বাক্স বিনিময়,
তোমরা কি এটাকে প্রেম বলে মনে নেবে এসময়?
আচ্ছা ধরো বাংলা ক্লাসে ওকে দেখিনি বলে যদি ভুল হয়ে যায় আমার ইতিহাসে?
তুমি কি মানবে বলো , আমার অজান্তে আমার মন তাঁকে ভালোবাসে,
যদি শুধু করিডোর এ পাশাপাশি হেঁটে কাটিয়ে দিই জীবনের চল্লিশটা বছর,
যদি বলি সে আমার জীবনসঙ্গী ছিলো না, আমি সাজাই নিয়ে কোনোদিন তাকে নিয়ে ফুলবাসর,
তোমরা কি ব্যাখ্যা খুঁজতে বসবে, নাকি উন্মুক্ত বাহু তে করবে আলিঙ্গন,
উদাত্ত গলায় বলবে, নিস্বার্থ প্রেমই তো শাশ্বত চিরন্তন!!

আজ গোলাপ ফুলের পাপড়ি সাজানো সে, ধূপ চন্দনে আজও সে অপরূপা,
আজও আমার সাথে কথা হয় রোজ, আজও গল্প গুলো হেঁটে চলে যাই, উল্টো ই স্মৃতির মোড়ক.
ভালোবাসার সমীকরণ এ কে বলেছে পোশাকি প্রাপ্তি আবশ্যক.
বন্ধ খিড়কির দায় (২)

*******************


কখনো মুহূর্ত চুপ !
অন্ধকার, অন্ধকার ভালো লাগে শুধু

বাবলু, তোর চোখে কত ঘুম―
এত ঘুম রাখা ছিল, জানাসনি কেন এতদিন
প্রতিবেশী কালে?
বাবলু তোর মুখ চেয়ে
ছেঁড়া খামে বিবর্ণ কালির নীল,
ওষুধ পাতায় ক্লিন্ন দাগ..

কী হয় অক্ষরবীজে!
কবিতা বাড়ানো কেন অসহ্য রকম!

মিয়োনো মুড়ির মত যন্ত্রণা ঠোঁট, আহ্..

তবু ওই রোদ দেখে,শিকড়ে শিকড়ে আলো
গুচ্ছমূলসমূহ সবুজ..

************************

পারমিতা ভট্টাচার্য, উত্তরপাড়া।
মৃত আমায় 
মৌমন মিত্র 
প্রায় একুশ বছর পর আবার  সোনাঝুরির  সেই জঙ্গলে ;
ভেবেছিলাম জানিস? আর কখনো যাবো না   দূর থেকে তোর আর্তনাদ : আমায় ছেড়ে যাস না লক্ষীটি প্লিজ ; 
এক একটা গাছের বাকল ভেদ করে আমার কানে আসছে ।
আমি অসহায়! তুই বুঝিস নি, বুঝতে চাস ও তো নি 
তোর কাছে পৃথিবীটা ভীষণ সাদা কালো  আমার কাছে ছাইরঙা ;
সেদিন তোর পাঞ্জাবীতে একটা বড় ফুটো করলি? সিগারেটে : ইচ্ছে করে ! এখনো তুই কাঁদতে কাঁদতে ঠোঁটে সিগারেট ধরাস ? তারপর বিষাক্ত তোর জিভের লালায় ভরাট আমার সারা শরীর !
উফ্! আবার সেই মাদল !  যেন তোর সব কটা সেদিনের কষ্ট এক এক করে ঢাক পিটিয়ে আমায় বলে যাচ্ছে! তুই আর ফিরবি না তাই না?
তোর রং তুলির পাশে আমার মৃতদেহ ; বলা না বলা তোর অনেক আক্ষেপ জমানো ওই মৃতদেহটায়
হাটের ওই পাড়ে জংলা মেয়েটা দেখবে কিন্তু ; আমার দেহে সেদিন লাল পেড়ে শাড়ি পড়াবি তো? আর কপালে এক গাদা সিঁদুর ! ঠিক যতটা তোর মন চায়।
সেদিন একশোটা চুমু খেয়েছিলাম নীল আকাশের পেঁজা ভেলায় ; আর আকাশকে বলেছিলাম : নে ,এই একশোটা চুমু ।
আগামী একশো বছরে একটা একটা করে ওকে দিবি  ও মরতে ভয় পায় আকাশ !! ও মরতে ভয় পায়।  বরাবর ভয় পায়।
তাই তুলি দিয়ে আমায় মেরে ফেলে ও হাসছে,
না না কাঁপছে বোধহয়  দুঃখ জ্বরে না হুতাশনের বিদ্বেষে !
অতি ইচ্ছা দুজনার ফের এই নীরব সমীকরণে।
হোমে দেবো , যজ্ঞে দেবো
অমিত পাটোয়ারী

আমরা যেসব বালিকার শীতঘুমে আটকে গেছি
আমরা যেসব বিনুনি , কমলা আর নীল রঙের স্কার্ট
আমরা যেসব সাইকেল আর রিকশার যুদ্ধে মেতেছি বিকেলে
সবটুকু হোমে দেবো , সবটুকু যজ্ঞে দেবো।

চাদরের সঙ্গে আদর আর বালিশের সঙ্গে নালিশ
মেলাতে মেলাতে আমরা যেসব কবিতা লিখিনি
বেঞ্চের নিচে মন – ঠাকুর সইবে কতক্ষন , ভাবিনি
বেঞ্চটাকে হোমে দেবো , বেঞ্চটাকে যজ্ঞে দেবো।

আমরা যেসব ভুল মানুষের মিছিল করেছি , করবো ব’লে
ভুলের পাহাড়ের নাম দিয়েছি ছোটনাগপুর
মানুষকে মানুষ আর গোরুকে গোরু বলেছি সযত্নে
মানুষটাকে হোমে দেবো , গোরুটাকে বাঁচিয়ে দেবো।

সুমনের গান আর সুনীলের সুনীল পড়ে আমরা যেসব
রক্তের পি.এইচ. , প্লাজ়মা আর কণিকা নিয়েছি বদলে
বন্ধুনিকে বলেছি , দাঁড়ালে দাঁড়াও – দেরি হবে
গানগুলো হোমে দেবো , পাগলামি যজ্ঞে দেবো।

আমরা যেসব আমি আমরা, কেউ নয় , আমি আমরা
তেইশোর্ধের প্রেমে পড়েছি বিষ্ফারিত স্বপ্নে
নাহিদা আর একবিংশেই থেমে পড়েছি স্বপ্নে
প্রেমটাকে হোমে দেবো , স্বপ্নটাকে যজ্ঞে দেবো।

ব্যবধান
------------
হৃদয়ের ডাকবাক্সটায়  ধুলোর আস্তরণ।
মন-পিওন বহুদিন খোঁজ করে নি চিঠির!
সে জানে, রঙীন আবেগে মুড়ে,
ভালোবাসার বার্তারা  আর আসবে না।

মৃত সম্পর্কের স্মৃতিস্তম্ভরা প্রশ্নচিহ্নখচিত।
কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তর তুমি জানতে।
আবার কিছু প্রশ্নেরা, প্রশ্ন হতে চায় নি!
যেমন কোনো উত্তরও অন্তরালেই স্বস্তি খোঁজে।

নির্ঘুম রাতের আকাশে তাকিয়ে দেখি,
নক্ষত্ররা উত্থান-পতনের কাহিনি বোনে।
তারাখসা জীবনের মতোই  ভালো আছি,
তোমার আমার ভালো থাকার ব্যবধানে!
                 ********
           পাপিয়া মণ্ডল
মৃত‍্যুঞ্জয়ী মহানায়ক

                       বিপ্লব গোস্বামী
                       ৮ মাঘ ১৪২৫

মৃত‍্যুতো মানুষের হয়
দেবতার নয় ,
মানব হয়ে তুমিই কেবল
মৃত‍্যু করিলে জয়।
প্রণাম মৃত‍্যুঞ্জয়।।

এক নয়, এগারো বার
করলে কারাবাস ;
আপোস বিহীন করলে লড়াই
হয়নি কভু দাস।

বলেছিলে স্বাধীনতা দেব
আমায় দাও রক্ত ;
স্বার্থান্বেষী সব দেয়নি সাড়া
ফিরিঙ্গীর যত ভক্ত।

অকুতোভয়ে গড়লে তুমি
আজাদ সেনার দল ;
অস্ত্র হাতে বজ্র নাদে
চলরে দিল্লী চল।

তোমার ভয়ে ফিরিঙ্গী সব
ছাড়লো ভারত ভূমি ;
তুমি কেবল ফিরলে না আর
বড্ড অভিমানী।

তিন খণ্ড আজ ভারত ভূমি
এই অভিমান মনে ;
আড়াল হতে দেখছো সবই
ঘরে না ফিরার পণে।


শ্রেষ্ঠচুম্বন

একটা দৃশ্যয়মান ঘুম
তারপর...
স্বপ্নে জাবর কাটতে থাকা...
তুমি বহুদিন ভেবেছ ,
ঠিক আমারই মতো।
তন্দ্রাচ্ছন্ন শান্ত শরীর
কতবার অজ্ঞানে আঁকড়ে ধরেছ,
আলতো করে ছাড়িয়ে দিতে গিয়ে
আটকে গেছে হাত।
শান্ত শিশুর মতোই সরল
দু'টো ঠোঁট ছুঁয়ে গেছে কপাল
যেন পরমপুরুষ
উন্মাদ করেনি তো তারা।
জানান দেয়নি, দিতে নেই যে
আগলে রাখা শুধুই
মোহময়, কী নিবিড় করে তোলে
বারবার...
তাই গুনে দেখিনি আজও
আজও আমাদের শ্রেষ্ঠ চুম্বনগুলি!

------------বৈশাখী গোস্বামী
*মুখোমুখি বনলতা*
একটা শীতের সন্ধ্যায় ভেবেছিলাম মুখোমুখি বসা যায়...
যদি ভালোবাসা ভারী হয় 
তবে আর শীত করবে না বোধয় 
কিন্তু যদি অভিমানের পাল্লা ঝুলে যায়
তবে একহাতের দূরত্বে বরফ পড়বে ঠিকই.......
বুকের ভিতর টা ঠান্ডা প্রদেশ বলে গণ্য  হতেই হবে....
কেউ কারো হাত ধরবো না
চোখে চোখ রাখবো না....
     চোখের জল ও বরফ হবে বটে

ওই যে ছেলেটা সে তো তোমার উপযুক্ত আছে
মা এর সোনার চাঁদের কণা
 তবে  যাও না কেন চলে
যাও ....
ওঠো ....
উঠতে পারছো না কেনো?
 ও
 আমার প্রতি বেশি ভালোবাসার দয়া 
নাকি ওই ছেলেকে ঠিক বুঝে উঠোনি?

আসলে তুমি তুষার পাত এ অভ্যস্ত নও.....
আসলে আমার ভিতরের ফকিরিকে ভালোবাসো নি, 
বাসনি অসমাপ্ত খাপছাড়া কবিতা
তারপর কিছু পর্ণমোচী সকালে
শহরের তলপেট চুঁইয়ে পড়েছিলো লক্ষ লক্ষ কুয়াশা ঘাম......

স্টেশনের কয়েকটা ভোরের ট্রেন ছাড়ার পর 
ওপাশ ফিরে শুয়েছে চাঁদ--
বিচ্ছেদ এর আসল কারণ কি জানো?
আসলে
তুমি বেহেস্তের গানের সুর চেনো না
কবরের আজানকেই ভীষণ ভালোবাসো....
© তমোঘ্ন
আলো-অবকাশে

তোমার শরীরী ভাঁজ কবিতা হয়ে ধরা দেয়
আঁচলের ইতিহাস স্নিগ্ধতা মাখে
চোখ দুটো যেন গভীর , খুব গভীর
রাতও দুঃসাহসীক হয়
গভীরতাকে খণ্ডাতে ।

চোখের স্থিরতায় শব্দ  চঞ্চল
দমকা হাওয়ায়  ছারখার 
সর্বনাশের আগুন অবিরাম জ্বলছে  দাউ দাউ...

যৌবন উপন্যাসের অপ্রেমিক
ঠোঁটের নিস্তব্ধতা ভাঙার চেষ্টাই  ,

যেন আগ্নেয়গিরির জ্বলন্ত লাভা
জ্যোৎস্নার আলো ছড়িয়ে
উপত্যকার  উপর প্রেম রচনা করছে
বয়ে চলা অক্লান্ত নদীর মতো ।

প্রশ্বাসে শল্কমোচনের মত ভাঙছে স্থিরতা
আমি ঝড় দেখতে চাই ,
আকাশের এক প্রান্তে বিদ্যুতের ঝলকানি
অন্য প্রান্তে নিম্নচাপের মেঘ সরিয়ে
বাঁকা চাঁদের মৃদু আলো-অবকাশে...

#স্নেহা ঘোষ
                          মিলন


তোমার সৃষ্টির নির্যাসের প্রতিটি ফোঁটা
হোক
আমার সৃষ্টি রসের উল্লাস!
তুমি আমি এক,
আর
এই একের মাঝে আছে
আমাদের সৃষ্টি--
সারা পৃথিবীর রহস্য।
তোমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশুক
আমার নিগূঢ় অস্তিত্ব,
আমার নির্ভেদ্য ঘরের দেওয়ালে আসুক
অসংখ্য ফাটল,
আমার রক্তে মিশুক তোমার
অসংখ্য সৃষ্টি বীজ— তোমার
এ সৃষ্টি অনাদিকালের,
সময়ের আগে, সময়ের পরে
ছায়াপথ ধরে হেঁটেছে
অনন্তকাল!


আমি ভাঙতে চাই
তোমার সৃষ্টির প্রখরতার কাছে।
আমাকে বন্দি রাখো
সেই আদিম মুক্তোর মতো
তোমার নীল পানীয়ের কাপে, কিংবা
নীল নদের বুকে অন্ধকারে আটকে থাকা
তারার ঝাঁকের মতো!
তুমি আর আমি মিশে যেতে পারি —
তোমার সৃষ্টির আনন্দ
আমাকে ভেঙে আনুক
নতুন নক্ষত্র.....


           কস্তুরী
নদী প্রেমিক
দীপশিখা চক্রবর্তী

সে ভীষণ নদী প্রেমিক,

জলের স্পর্শকাতর ভাষায় তাকে অস্থির হতে দেখেছি বহুবার;

চোখে বন্দী করতে দেখেছি পরিযায়ী পাখিদের স্বস্তির নিঃশ্বাস,

হারিয়ে যাই-
নীল-সাদা রঙের বর্ণমালায় আঁকা ক্যানভাসে,

ছুঁতে চাই দূর থেকেই,

কখনো জল শব্দ ঝরিয়ে চলে একমনে;

শিউরে ওঠে সংযম;

হঠাৎ অনভ্যস্ত বাতাসের মাত্রাহীন নেশা ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়,

বেশি কিছুই বুঝি না,

শুধু এক নীরব আচ্ছন্নতা হস্তাক্ষর করে যায় আমার চিলেকোঠার একলাঘরে;

আর আমি,

আনমনা হয়ে লিখে যাই -

কলম আর ছবির রোদ-ঝরানো জলকাব্য।

আমার আমি

লেখিকাঃ-মুনমুন মুখার্জ্জী


আমি স্বাধীন, আমি মুক্ত,
      কিন্তু লোহার মত অতি শক্ত।
               আমি সহজ, আমি মি‌শুকে,
                      কিন্তু সুযোগ দিই না কাউকে।
               আমি চঞ্চল, আমি হাসিমুখ,
      কিন্তু ভুলি না অপমানের দুখ।
আমি দুর্জয়, আমি দুর্বার,
      কিন্তু ভুল স্বীকার করি শ'বার।
               আমি খোলা পাতা, বলি কত কথা,
                       কিন্তু লুকাবো যত মনের ব্যথা।
               আমি দিলখোলা, আমি মনভোলা,
       কিন্তু মনের সাথে করি না খেলা।
আমি ভালোবাসি, নেই সংশয়,
       কিন্তু হতে পারি আমি নির্দয়।
               আমি ধীর, আমি শান্ত,
                       কিন্তু বিপদে আমি অশান্ত।
               আমি বিনয়ী, আমি ভদ্র
        কিন্তু অন্যায় দেখলে অভদ্র।
আমি হাসি, আবার হাসাই,
        কিন্তু আমাকে কাঁদালে কাঁদাই।
               আমি বুঝি, অন্যকে বোঝাই
                        কিন্তু নিজেই ধৈর্য্য হারাই।


অবনী  বাড়ি নেই
-শ্রেয়া স্বপ্ননীল মুখার্জী

দুয়ার এঁটে ঘুমিয়ে আছে পাড়া
কারন মানুষ হারিয়েছে বিবেকবোধ
রাতে যতই কড়া নাড়ো কেউ দেবেনা সাড়া
পাশের বাড়ির কেউ জানেনা কোথায় সে
রাতদুপুরে কাজ নেই কড়া নেড়ে
অবনী বাড়ি নেই

এখানে বৃষ্টি পরে বারোমাস
এখানে মানে বালিশে
মেঘ আজ আকাশে নয় জমে চোখে
সত্যি অবনী দুয়ার ধরে নেই
ওই দুয়ার আর খুলবেনা কোনোদিন
তাই কড়া নেড়ে কেঁদোনা
অবনী বাড়ি নেই

তোমার হৃদয় দূরগামী
ব্যাথা শুধু তোমার বুকে না, ছিল অবনীর বুকেও
ও ভালোবেসেছিল তোমাকে
কিন্তু তখন তুমি অন্য কারোর সাথে
তাই পৃথিবী থেকে অনেক দূরে সে
সহসা আর যেন না শুনি রাতের  কড়া নাড়া
অবনী বাড়ি নেই।।

তুমি আছো !

তুমি আছো ! দেখি কিন্তু অনুভব করতে পারি না।
আমি তোমাকে অক্সিজেনের মতো চাই, যেন প্রতিটা মূহুর্ত তোমার অনুভূতি আমার শরীরের শিরায় উপশিরায় উত্তেজনার সৃষ্টি করে।

তুমি আছো ! তোমায় ছুঁতে পারি, কিন্তু অনুভব করতে পারি না।
আমি তোমার বুকে মাথা রেখে তোমার প্রতিটা হৃদস্পন্দনের ধ্বনিতে কার নাম উচ্চারিত হয় সেটা শুনতে চাই।

তুমি আছো ! তোমায় খুঁজে পাই, কিন্তু ফিরে পাইনা।
আমি তোমাকে বসন্তের বিকেলে হলুদ শাড়ি আর খোলা চুলে কৃষ্ণচূড়ার নীচে একাকী ফিরে পেতে চাই।

তুমি আছো ! তোমাকে দেখে, শুনে, খুঁজে প্রতিনিয়তই পাই ঠিকই,
কিন্তু একান্তই নিজের করে, শিরায়-উপশিরায়, হৃদয়ের হৃদস্পন্দনে, বসন্তের হলুদ শাড়িতে আজও ফিরে পেলাম না তোমায়।

 _জাহাঙ্গীর হোসেন_

বসন্তউৎসব

রঙ মাখো ছাদ কার্নিশ,
মাখো রঙ আমার দেওয়াল
রঙ দেবো সাইকেল কাকু-
দেবো রঙ বসন্তকাল।

রঙ দেবো চুপিচুপি তাকে
লুকিয়ে রাঙাবো তার গাল
চিনবে না কেউ আজ তোকে-
ওড়ে রঙ বসন্তকাল।

রঙ দেবো রাস্তার ধুলো
ভেঙে যাক নিয়মের জাল
কচিঘাস মুখ হাতে হাত-
রঙ দিক বসন্তকাল।

দেবো রঙ একলা যে বসে
রঙ দাও ছোট-বড় গাল
রঙ দেবো বোন-মাসি-পিসি-
মাখো রঙ বসন্তকাল।

©সৌরভ চক্রবর্ত্তী

বন্ধ খিড়কির দায়

*******************


কখনো মুহূর্ত চুপ !
অন্ধকার, অন্ধকার ভালো লাগে শুধু

বাবলু, তোর চোখে কত ঘুম―
এত ঘুম রাখা ছিল, জানাসনি কেন এতদিন
প্রতিবেশী কালে?
বাবলু তোর মুখ চেয়ে
ছেঁড়া খামে বিবর্ণ কালির নীল,
ওষুধ পাতায় ক্লিন্ন দাগ..

কী হয় অক্ষরবীজে!
কবিতা বাড়ানো কেন অসহ্য রকম!

মিয়োনো মুড়ির মত যন্ত্রণা ঠোঁট, আহ্..

তবু ওই রোদ দেখে,শিকড়ে শিকড়ে আলো
গুচ্ছমূলসমূহ সবুজ..

************************

পারমিতা ভট্টাচার্য, উত্তরপাড়া।

মৃত আমায় 

লেখিকাঃ- মৌমন মিত্র 

প্রায় একুশ বছর পর আবার  সোনাঝুরির  সেই জঙ্গলে ;
ভেবেছিলাম জানিস? আর কখনো যাবো না   দূর থেকে তোর আর্তনাদ : আমায় ছেড়ে যাস না লক্ষীটি প্লিজ ; 
এক একটা গাছের বাকল ভেদ করে আমার কানে আসছে ।
আমি অসহায়! তুই বুঝিস নি, বুঝতে চাস ও তো নি 
তোর কাছে পৃথিবীটা ভীষণ সাদা কালো  আমার কাছে ছাইরঙা ;
সেদিন তোর পাঞ্জাবীতে একটা বড় ফুটো করলি? সিগারেটে : ইচ্ছে করে ! এখনো তুই কাঁদতে কাঁদতে ঠোঁটে সিগারেট ধরাস ? তারপর বিষাক্ত তোর জিভের লালায় ভরাট আমার সারা শরীর !
উফ্! আবার সেই মাদল !  যেন তোর সব কটা সেদিনের কষ্ট এক এক করে ঢাক পিটিয়ে আমায় বলে যাচ্ছে! তুই আর ফিরবি না তাই না?
তোর রং তুলির পাশে আমার মৃতদেহ ; বলা না বলা তোর অনেক আক্ষেপ জমানো ওই মৃতদেহটায়
হাটের ওই পাড়ে জংলা মেয়েটা দেখবে কিন্তু ; আমার দেহে সেদিন লাল পেড়ে শাড়ি পড়াবি তো? আর কপালে এক গাদা সিঁদুর ! ঠিক যতটা তোর মন চায়।
সেদিন একশোটা চুমু খেয়েছিলাম নীল আকাশের পেঁজা ভেলায় ; আর আকাশকে বলেছিলাম : নে ,এই একশোটা চুমু ।
আগামী একশো বছরে একটা একটা করে ওকে দিবি  ও মরতে ভয় পায় আকাশ !! ও মরতে ভয় পায়।  বরাবর ভয় পায়।
তাই তুলি দিয়ে আমায় মেরে ফেলে ও হাসছে,
না না কাঁপছে বোধহয়  দুঃখ জ্বরে না হুতাশনের বিদ্বেষে !
অতি ইচ্ছা দুজনার ফের এই নীরব সমীকরণে।

বুধবার, ২০ মার্চ, ২০১৯



______এই বসন্তে
                  সুনন্দ মন্ডল

শেষ বিকেলের পাখিটা
পথ ভুলে কিছুক্ষন শুকনো গাছের ডালে বসেছিল
বাড়ির পশ্চিম প্রান্তে তখনো হলুদ আভা ছিল সূর্যের

তুমি পথ চেয়ে আছো বুঝি
বসন্তে প্রতি খাম খুলে দেখি ডাকচিঠি
সেই বসন্ত আজ আর নেই
তবু জানি মনে গাঁথা আছে সেই রঙিন

চাঁদ ওঠে আকাশে
সময় পেরিয়ে ওই ছোট্ট তারাটাও
সাথী খুঁজে নিয়ে পাশেই বসিয়েছে
তারাখসার গল্পে রাত জেগে থাকে দুজনে

শুধু আমি একা
এই বসন্তে,
বসন্তের ফল্গুধারায় স্নাত হতে চেয়েও.....
                  -------------
কাঠিয়া, পাইকর, বীরভূম